Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

আমরা সবাই তো আর সকাল বিকেল পড়াশোনা করি না। তাই জেইই মেনস খায় না মাথায় দেয় সেটা প্রথমে একটু বুঝে নিলে আলোচনাটা এগনো সহজ হবে। দেশের বিভিন্ন প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতকস্তরে পড়াশোনা করার জন্যে এই পরীক্ষা। আমাদের দেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এখনও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বেশি শ্রদ্ধা করা হয়। কয়েকটি মাত্র ভালো বেসরকারি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আছে এদেশে, বাকি বেশিরভাগেরই অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তাই সব থেকে বেশি লড়াই সরকারি কলেজে জায়গা পাওয়ার জন্যে। কেমন সেই লড়াই? দশ থেকে পনেরো লক্ষের মধ্যে লড়াই করে প্রথম তিরিশ হাজার জনের তালিকায় স্থান পেলে তবেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ থাকে। আমাদের রাজ্যে এই ধরনের জায়গা শিবপুরের আইআইইএসটি (ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) আর দুর্গাপুরের এনআইটি। সারা দেশে এরকম বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। এগুলোতে ভর্তি হওয়ার জন্যে যে পরীক্ষা, তার নাম জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন বা ইংরেজিতে প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে জেইই। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের একটা আলাদা জয়েন্ট এন্ট্রান্স আছে, তবে সেটা যাদবপুর, কল্যাণী, উত্তরবঙ্গ—এরকম কয়েকটি জায়গায় পড়ার জন্য। এবার বোঝা যাক কেন এই সর্বভারতীয় পরীক্ষার নাম জেইই মেনস। তার কারণ এই পরীক্ষা থেকে প্রথম দু’লক্ষের মতো সফল প্রার্থীকে নিয়ে আর একটি পরীক্ষায় বসানো হয়, যার নাম জেইই অ্যাডভান্সড। সেখান থেকে বানানো হয় দেশের বিভিন্ন আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি)-তে ভর্তির তালিকা। আমাদের রাজ্যে যেমন খড়গপুর আইআইটি-র কথা অনেকেই জানেন। এখানে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র। নামকরা আইআইটিগুলোতে সুযোগ পেতে গেলে হাজার দুইয়ের মধ্যে থাকতে হয়, আর দেশে নতুন তৈরি হওয়া জায়গাগুলোকে ধরলেও (যেমন আইআইটি জম্মু) হাজার দশের মধ্যে থাকতে পারলে তবেই কিছুটা সুযোগ থাকে। এইসব প্রবেশিকায় প্রতিযোগিতার তীব্রতা নিয়ে এখানে আর বেশি লিখছি না, তার সঙ্গে আছে কোচিং সেন্টারের ব্যবসা। ষোল থেকে আঠারো বছর বয়সি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান পড়ুয়াদের যে কী সাংঘাতিক বিপদের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তা ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন।
সাম্প্রতিক যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তা হল এই পরীক্ষার ভাষা নিয়ে। অর্থাৎ প্রশ্ন কোন ভাষায় হবে? এই পরীক্ষাগুলোর উত্তর সাধারণভাবে লিখতে হয় না, চারটে বিকল্পের মধ্যে টিক মেরে নিজের মত জানাতে হয়। অল্প কিছু ক্ষেত্রে শুধু একটি দুটি শব্দে উত্তর লিখতে হবে। আর মোটের উপর এখন সব পরীক্ষাই কম্পিউটারে, আর তাই ইংরেজিতে বোতাম টেপাই দস্তুর। মূল গোলমাল প্রশ্নের ভাষা নিয়ে। আগে সাধারণভাবে ইংরেজি আর হিন্দিতে প্রশ্ন করা হতো। যারা আজকাল এই ধরনের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান, অর্থাৎ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), তাঁরা এবার গুজরাতিতেও প্রশ্ন বানাচ্ছেন। এখানেই চটে গেছেন আমাদের রাজ্যের শাসক দল। গুজরাতে বিজেপির দাপট বেশি। সেই হিসেবে তৃণমূলের বক্তব্য যে, সেই ভাষায় প্রশ্ন হলে বাংলায় নয় কেন? আর বিজেপি বলছে যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্য সরকার আদৌ কোন উদ্যোগ নেয় নি। পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা এনআইটি দাবি করেছে যে যেকোনও রাজ্য সরকার তাদের কাছে বিশেষ ভাষায় প্রশ্নপত্র বানাতে বললে তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। গুজরাত সময়মত তাদের দাবি তুলেছিল, আর অন্য কোন রাজ্য কিছুই জানায় নি। গুজরাত সরকারের দাবি মেনে নিয়ে এবার তাই প্রশ্ন হবে গুজরাতিতে, ইংরেজি আর হিন্দি ছাড়াও। বিষয়টা এখন পড়াশোনার বাইরে বেরিয়ে পুরোপুরি রাজনীতির আঙিনায় পৌঁছে গেছে।
পড়াশোনা যে সবাইকেই করতে হবে এমনটা নয়। মেসি কিংবা রোনাল্ডো কলনবিদ্যার অঙ্ক কষতে পারেন কিনা তাই দিয়ে তাঁদের বিচার হয় না। তাঁদের ক্ষেত্রে তাঁরা মহান। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রেও সেকথা প্রযোজ্য। অসাধারণ ব্যুৎপত্তির সঙ্গে তাঁরা ভারতবর্ষের যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধরে রেখেছেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের প্রিয়জনেরাও বলবেন না তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ পড়াশোনায় ভালো। অবশ্যই আমাদের রাজ্যে এবং দেশে উচ্চশিক্ষিত রাজনীতিবিদ কয়েকজন আছেন, তবে তার বাইরে বেশিভাগেরই মাধ্যমিকের অঙ্ক কষতে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ঠিক যেমন অঙ্কের গবেষক রাগবি খেলতে গেলে হাড়গোড় ভাঙার সম্ভাবনা প্রবল। অর্থাৎ যার কাজ তারই করা সাজে। এবার এই ভাষা বিতর্কে পাড়ায় পাড়ায় যদি মিটিং মিছিল শুরু হয়, সেক্ষেত্রে পড়ুয়াদের উপর তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে। দেশ বা রাজ্যে যে সমস্ত বিপুল অর্থনৈতিক দুর্নীতি হয়ে থাকে তাতে একটা বড় অবদান থাকে রাজনীতিবিদদের। রাজনীতির বড় মাপের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার মালিকেরা, আর রাজনৈতিক কর্মীরা হয়ে যান অর্থসংগ্রহের এজেন্ট। তাঁরাই জনগণকে বোঝান যে ব্যাঙ্ক কিংবা পোস্ট অফিসে টাকা না রেখে বেসরকারি ব্যাঙ্ক বা শেয়ার মার্কেটে টাকা খাটাও। সাময়িকভাবে কিছু কাজের ক্ষেত্র হয়তো তৈরি হয়, কিন্তু শেষমেশ আমজনতা বিপদে পড়ে। ঠিক একই কথা সত্যি জেইই মেনস দিতে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের। পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। তাঁরা ইংরেজিতে প্রশ্ন পড়েই পরীক্ষা দেন, এ রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ইংরেজিতে বিজ্ঞান বোঝার মত পরিকাঠামো আছে, আর যাঁরা এই ধরনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সত্যি সফল হন তাঁদের ইংরেজিতে প্রশ্ন বুঝতে এতটুকু অসুবিধে হয় না।
আসলে বিজ্ঞানের কোনও ভাষা নেই। পুরোটাই যুক্তির খেলা। বিজ্ঞান বা অঙ্ক যেখানে যুক্তি দিয়ে কোনও কিছুর সমাধান করতে পারে না, সেখানে সে নিজের অসম্পূর্ণতার কথা স্বীকার করে নেয়। যুগে যুগে বিবর্তিত হয় বিজ্ঞান। গে লুসাকের পরমাণু সংক্রান্ত তত্ত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ডালটন। আবার তার পরে ডালটনের পরমাণুবাদ ভুল প্রমাণিত হয় অ্যাভোগ্রাডোর তত্ত্বের মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে বিজ্ঞান উন্নততর হয়, মানুষ শেখেন সঠিক উত্তর। ধর্ম আর রাজনীতি সেখানে পুরো চড়াই উৎরাইয়ের রাস্তায় চলে। সেখানে আজ যেটা সত্যি তা পরের মূহূর্তেই মিথ্যে হয়ে যায়। বিজ্ঞানের নাম করে মাটির তলায় মন্দির ছিল নাকি বৌদ্ধিক স্তূপ, তাই নিয়ে অগভীর বিশ্লেষণ ডানা মেলে। গ্যালিলিওকে থামিয়ে রাখা হয় ধমকে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বাম আমলে ঘোষিত হয় “মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান, কারণ এটাই সত্য”। এটা যে চরম সত্য নয় সেকথা মার্কস সাহেবই বলে গিয়েছিলেন, বাংলার বাম বুঝলো উল্টো। ঠিক সেই রকমই ধর্ম, রাজনীতি এবং ভাষার সরবত বানানো নিয়ে রাজ্যে লড়াই করছে বিজেপি আর তৃণমূল। কেন্দ্রীয় পরিসরে কংগ্রেস ধান্দা করছে কীভাবে নরম হিন্দুত্বের কথা বলে দুদিকই সামলানো যায়। মুশকিল হল রাজনীতির কারবারিরা সবসময় দাবি করেন যে তাঁরা সত্যি কথা বলছেন। এইখানেই সবথেকে বড় মিথ্যে। ঠিক সেইরকমই গুজরাতি বা বাংলায় প্রযুক্তিবিদ্যার প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিতে পরীক্ষার্থীদের কোনও সুবিধে নেই। পুরোটাই আপাতত বিজেপি আর তৃণমূলের ভাষাভিত্তিক লড়াই। এখানে বিজ্ঞানের ভাষা বিপর্যয়ের প্রশ্নই নেই। শুধু বাংলায় কেন, গুজরাতের পরীক্ষার্থীদেরও বুঝতে হবে যে বিজ্ঞানের বেশিরভাগ ভালো বই-ই ইংরেজিতে লেখা। সেগুলো মন দিয়ে পড়লে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। আর কয়েকমাসের মধ্যেই জেইই মেনস। এই সময় ছাত্রছাত্রীদের চিত্তবিক্ষিপ্ত না হওয়াই ভালো।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রাজনীতিতে যে শিক্ষিত মানুষজন আছেন তাঁদের তো আর সোনা মেশানো দুধ গণেশকে খাইয়ে দিন চলবে না। তাঁরা দায়িত্ব নিন সারা দেশে যেন ভালো করে ইংরেজি পড়ানো হয়। তাতেই নেওয়া হোক উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞানের সব পরীক্ষা। অঙ্কে অসমীকরণের সমাধান করতে কয়েকটা চিহ্ন লাগে মাত্র। সেখানে অজানা চলরাশি ইংরেজির এক্স ধরা হয়, বাংলার ক-এ মধ্যন্য-শয়ে ক্ষিও নয়। যেভাবে বিজ্ঞান এগিয়েছে তাকে বাম কিংবা দক্ষিণপন্থার সমাজনীতি, কিংবা ভাষার সুড়সুড়ি দিয়ে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। বাংলা ভাষা নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিবিদদের বেশি না ভাবাই মঙ্গল। সেক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের আত্মা ভয় পেয়ে বাংলা ছেড়ে অযোধ্যার রামমন্দিরের তলায় গিয়ে সেঁধোবে। উপসংহারে সারা দেশের সমস্ত উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের শুভেচ্ছা, আর অনুসিদ্ধান্ত হল আমাদের দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে ইঁরেজিতে বিজ্ঞান শেখাটাই সাফল্যের এক প্রাথমিক ধাপ। জেইই মেনসে আর সব ভাষায় প্রশ্ন করা বন্ধ করে শুধু রাখা হোক ইংরেজি। দু-একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ দিতে গেলে শুধু তামিল, তেলুগু, ওড়িয়া, অসমীয়া নয়, কোনও এক দিন অলচিকি-তেও জেইই মেনসের প্রশ্ন করার দাবি উঠবে!
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক, মতামত ব্যক্তিগত
13th  November, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ।
বিশদ

30th  November, 2019
ওভার কনফিডেন্স
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সব থেকে প্রিয় হবি হল পরিবর্তন। তাঁরা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বদলের বন্দনাকারী। পরিবর্তন কি খারাপ জিনিস? মোটেই নয়। বরং পরিবর্তনই তো সভ্যতার স্থাণু হয়ে না থেকে এগিয়ে চলার প্রতীক।   বিশদ

29th  November, 2019
উপনির্বাচনী ফল: বঙ্গজুড়ে পারদ চড়ছে কৌতূহলের
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ রাজ্যের তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনী ফল বেরচ্ছে। কথায় বলে, ফলেই পরিচয়। ফলেন পরিচীয়তে। আজ সেই ফলের জন্য উদ্‌গ্রীব বাংলা, বাংলার রাজনৈতিকমহল। নানান জনের নানা প্রত্যাশা চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অবশ্য সেজন্য আসমুদ্রহিমাচল বাংলা টানটান উত্তেজনায় কাঁপছে বললে হয়তো অত্যুক্তি হবে। বিশদ

28th  November, 2019
পাওয়ারের শক্তিপরীক্ষা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এখন সত্যিই জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, বালাসাহেব থ্যাকারে বেঁচে থাকলে কী করতেন! আগের রাতে শুনে ঘুমাতে গেলেন, শিবসেনার জোট সরকার হচ্ছে এবং ছেলে উদ্ধব সেখানে মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু পরদিন সাতসকালে ঘুম ভেঙে দেখলেন, দেবেন্দ্র ফড়নবিশ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ফেলেছেন।
বিশদ

26th  November, 2019
মহারাষ্ট্রে টানটান সিরিয়ালের নায়ক কে
সন্দীপন বিশ্বাস

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের অবসান হয়েছে। যুধিষ্টিরের অভিষেক পর্বও হয়ে গিয়েছে। রাজনীতি, রাজধর্ম নিয়ে শিক্ষা নিতে তিনি গেলেন শরশয্যায় শায়িত ভীষ্মের কাছে। ভীষ্ম তাঁকে সেদিন যে উপদেশ দিয়েছিলেন তা আদর্শ রাজধর্ম এবং রাজনীতি বলেই বিবেচিত হয়। কিন্তু আজকের যুগের স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতি দেখলে মনে হয় এই রাজনীতি যেমন নীতির রাজা নয়, তেমনই রাজার নীতিও নয়। 
বিশদ

25th  November, 2019
একনজরে
 ইসলামাবাদ, ৫ ডিসেম্বর (পিটিআই): পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিল পাকিস্তানের আদালত। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের এক রিপোর্টে এমনটাই জানা গিয়েছে। ...

 নয়াদিল্লি, ৫ ডিসেম্বর (পিটিআই): আইনজীবীদের আদালত অবমাননার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর করজোড়ে ক্ষমা চাইলেন বিচারপতি অরুণ মিশ্র। মঙ্গলবার বিচারপতি মিশ্রর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে এক জমি অধিগ্রহণ মামলার শুনানি চলছিল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা। স্থান সল্টলেক স্টেডিয়াম। যুবভারতীর বাঁ দিকে পাশাপাশি দু’টি প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড। এটিকে’র প্র্যাকটিসের জন্য প্রথম মাঠটির ফ্লাড লাইট জ্বলে ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: খেজুরি-১ বিডিওর উদ্যোগে বিবাহিতা এক নাবালিকাকে উদ্ধার করা হল। পাশাপাশি নাবালিকার পরিবারের লোকজন পুলিস¬-প্রশাসনের কাছে মুচলেকা দিয়ে জানিয়েছেন, মেয়ে ১৮বছর হলেই তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হবে। ততদিন পর্যন্ত বাপেরবাড়ির হেফাজতেই থেকে পড়াশোনা করবে সে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ক্লান্তি। প্রিয়জনের বিপদগামিতায় অশান্তি ও মানহানির আশঙ্কা। সাংসারিক ক্ষেত্রে মতানৈক্য এড়িয়ে চলা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৩: জার্মান দার্শনিক ম্যাক্সমুলারের জন্ম
১৮৫৩: ঐতিহাসিক ও শিক্ষাবিদ হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর জন্ম
১৯৫৬: দলিত আন্দোলনের নেতা ভীমরাওজি রামাজি আম্বেদকরের মৃত্যু
১৯৮৫: ক্রিকেটার আর পি সিংয়ের জন্ম
১৯৯২: অযোধ্যার বিতর্কিত সৌধ ধ্বংস
২০১৬ - তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৯২ টাকা ৭৩.০৯ টাকা
পাউন্ড ৯১.৬২ টাকা ৯৬.০৫ টাকা
ইউরো ৭৭.৪২ টাকা ৮১.১৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৪০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,২৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, দশমী অহোরাত্র। উত্তরভাদ্রপদ ৪২/৬ রাত্রি ১০/৫৭। সূ উ ৬/৬/৫৩, অ ৪/৪৭/৫৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৭/৩২ গতে ৯/৪০ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৮ গতে ২/৩৯ মধ্যে পুনঃ ৩/২৩ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৪১ গতে ৯/১৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/২৭ মধ্যে পুনঃ ৪/২০ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৪৭ গতে ১১/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৭ গতে ৯/৪৭ মধ্যে।
১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৬ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, দশমী ৫৮/২৮/৪৯ শেষরাত্রি ৫/৩১/৫০। উত্তরভাদ্রপদ ৪১/৪৫/৪১ রাত্রি ১০/৫০/৩৪, সূ উ ৬/৮/১৮, অ ৪/৪৮/২৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৭/৪৪ গতে ৯/৫০ মধ্যে ও ১১/৫৭ গতে ২/৫১ মধ্যে ও ৩/২৭ গতে ৪/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৫ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১২/৩ গতে ৩/৩৮ মধ্যে ও ৪/৩২ গতে ৬/৯ মধ্যে, কালবেলা ১০/৮/২০ গতে ১১/২৮/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৮/২২ গতে ৯/৪৮/২১ মধ্যে।
৮ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ঝাড়গ্রামে লরির ধাক্কায় মৃত্যু যুবকের, গাড়িতে আগুন

 বালিবোঝাই লরির ধাক্কায় মৃত্যু হল এক যুবকের। বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাটি ...বিশদ

05-12-2019 - 05:35:14 PM

কলকাতায় গ্রেপ্তার মাওবাদী!
গতকাল রাতে কলকাতার স্ট্যান্ড রোড এলাকা থেকে সুনীল কুমার(৩৭) নামক ...বিশদ

05-12-2019 - 04:32:00 PM

বহরমপুরে স্ক্রাব টাইফাসে মৃত ২
ফের রাজ্যে স্ক্রাব টাইফাসের বলি। এবার বহরমপুরে। মৃত্যু হল দু’জনের। ...বিশদ

05-12-2019 - 04:24:00 PM

সোমবার থেকে কয়েকটি রুটের বাস-মিনি বন্ধ
টালা ব্রিজ বন্ধ। বিকল্প রুটে বাস চালাতে নারাজ অধিকাংশ বাস ...বিশদ

05-12-2019 - 04:11:13 PM

কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ২ ব্লকে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ, বোমাবাজি, পুলিসের গাড়ি ভাঙচুর 

05-12-2019 - 04:06:00 PM

৯ মাসের শিশুকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তার জ্যাঠার বিরুদ্ধে 
মধ্যযুগীয় যৌন বর্বরতার শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নয় মাসের ...বিশদ

05-12-2019 - 03:13:00 PM