Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

আমরা সবাই তো আর সকাল বিকেল পড়াশোনা করি না। তাই জেইই মেনস খায় না মাথায় দেয় সেটা প্রথমে একটু বুঝে নিলে আলোচনাটা এগনো সহজ হবে। দেশের বিভিন্ন প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতকস্তরে পড়াশোনা করার জন্যে এই পরীক্ষা। আমাদের দেশে পড়াশোনার ক্ষেত্রে এখনও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বেশি শ্রদ্ধা করা হয়। কয়েকটি মাত্র ভালো বেসরকারি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আছে এদেশে, বাকি বেশিরভাগেরই অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। তাই সব থেকে বেশি লড়াই সরকারি কলেজে জায়গা পাওয়ার জন্যে। কেমন সেই লড়াই? দশ থেকে পনেরো লক্ষের মধ্যে লড়াই করে প্রথম তিরিশ হাজার জনের তালিকায় স্থান পেলে তবেই সরকারি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ থাকে। আমাদের রাজ্যে এই ধরনের জায়গা শিবপুরের আইআইইএসটি (ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি) আর দুর্গাপুরের এনআইটি। সারা দেশে এরকম বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আছে। এগুলোতে ভর্তি হওয়ার জন্যে যে পরীক্ষা, তার নাম জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন বা ইংরেজিতে প্রথম অক্ষরগুলো নিয়ে জেইই। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের একটা আলাদা জয়েন্ট এন্ট্রান্স আছে, তবে সেটা যাদবপুর, কল্যাণী, উত্তরবঙ্গ—এরকম কয়েকটি জায়গায় পড়ার জন্য। এবার বোঝা যাক কেন এই সর্বভারতীয় পরীক্ষার নাম জেইই মেনস। তার কারণ এই পরীক্ষা থেকে প্রথম দু’লক্ষের মতো সফল প্রার্থীকে নিয়ে আর একটি পরীক্ষায় বসানো হয়, যার নাম জেইই অ্যাডভান্সড। সেখান থেকে বানানো হয় দেশের বিভিন্ন আইআইটি (ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি)-তে ভর্তির তালিকা। আমাদের রাজ্যে যেমন খড়গপুর আইআইটি-র কথা অনেকেই জানেন। এখানে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র। নামকরা আইআইটিগুলোতে সুযোগ পেতে গেলে হাজার দুইয়ের মধ্যে থাকতে হয়, আর দেশে নতুন তৈরি হওয়া জায়গাগুলোকে ধরলেও (যেমন আইআইটি জম্মু) হাজার দশের মধ্যে থাকতে পারলে তবেই কিছুটা সুযোগ থাকে। এইসব প্রবেশিকায় প্রতিযোগিতার তীব্রতা নিয়ে এখানে আর বেশি লিখছি না, তার সঙ্গে আছে কোচিং সেন্টারের ব্যবসা। ষোল থেকে আঠারো বছর বয়সি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান পড়ুয়াদের যে কী সাংঘাতিক বিপদের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে তা ভুক্তভোগী মাত্রেই জানেন।
সাম্প্রতিক যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তা হল এই পরীক্ষার ভাষা নিয়ে। অর্থাৎ প্রশ্ন কোন ভাষায় হবে? এই পরীক্ষাগুলোর উত্তর সাধারণভাবে লিখতে হয় না, চারটে বিকল্পের মধ্যে টিক মেরে নিজের মত জানাতে হয়। অল্প কিছু ক্ষেত্রে শুধু একটি দুটি শব্দে উত্তর লিখতে হবে। আর মোটের উপর এখন সব পরীক্ষাই কম্পিউটারে, আর তাই ইংরেজিতে বোতাম টেপাই দস্তুর। মূল গোলমাল প্রশ্নের ভাষা নিয়ে। আগে সাধারণভাবে ইংরেজি আর হিন্দিতে প্রশ্ন করা হতো। যারা আজকাল এই ধরনের পরীক্ষার প্রশ্ন বানান, অর্থাৎ ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ), তাঁরা এবার গুজরাতিতেও প্রশ্ন বানাচ্ছেন। এখানেই চটে গেছেন আমাদের রাজ্যের শাসক দল। গুজরাতে বিজেপির দাপট বেশি। সেই হিসেবে তৃণমূলের বক্তব্য যে, সেই ভাষায় প্রশ্ন হলে বাংলায় নয় কেন? আর বিজেপি বলছে যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্য সরকার আদৌ কোন উদ্যোগ নেয় নি। পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা এনআইটি দাবি করেছে যে যেকোনও রাজ্য সরকার তাদের কাছে বিশেষ ভাষায় প্রশ্নপত্র বানাতে বললে তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন। গুজরাত সময়মত তাদের দাবি তুলেছিল, আর অন্য কোন রাজ্য কিছুই জানায় নি। গুজরাত সরকারের দাবি মেনে নিয়ে এবার তাই প্রশ্ন হবে গুজরাতিতে, ইংরেজি আর হিন্দি ছাড়াও। বিষয়টা এখন পড়াশোনার বাইরে বেরিয়ে পুরোপুরি রাজনীতির আঙিনায় পৌঁছে গেছে।
পড়াশোনা যে সবাইকেই করতে হবে এমনটা নয়। মেসি কিংবা রোনাল্ডো কলনবিদ্যার অঙ্ক কষতে পারেন কিনা তাই দিয়ে তাঁদের বিচার হয় না। তাঁদের ক্ষেত্রে তাঁরা মহান। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের ক্ষেত্রেও সেকথা প্রযোজ্য। অসাধারণ ব্যুৎপত্তির সঙ্গে তাঁরা ভারতবর্ষের যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধরে রেখেছেন। কিন্তু রাজনীতিবিদদের প্রিয়জনেরাও বলবেন না তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগ পড়াশোনায় ভালো। অবশ্যই আমাদের রাজ্যে এবং দেশে উচ্চশিক্ষিত রাজনীতিবিদ কয়েকজন আছেন, তবে তার বাইরে বেশিভাগেরই মাধ্যমিকের অঙ্ক কষতে গেলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ঠিক যেমন অঙ্কের গবেষক রাগবি খেলতে গেলে হাড়গোড় ভাঙার সম্ভাবনা প্রবল। অর্থাৎ যার কাজ তারই করা সাজে। এবার এই ভাষা বিতর্কে পাড়ায় পাড়ায় যদি মিটিং মিছিল শুরু হয়, সেক্ষেত্রে পড়ুয়াদের উপর তা যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে। দেশ বা রাজ্যে যে সমস্ত বিপুল অর্থনৈতিক দুর্নীতি হয়ে থাকে তাতে একটা বড় অবদান থাকে রাজনীতিবিদদের। রাজনীতির বড় মাপের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থার মালিকেরা, আর রাজনৈতিক কর্মীরা হয়ে যান অর্থসংগ্রহের এজেন্ট। তাঁরাই জনগণকে বোঝান যে ব্যাঙ্ক কিংবা পোস্ট অফিসে টাকা না রেখে বেসরকারি ব্যাঙ্ক বা শেয়ার মার্কেটে টাকা খাটাও। সাময়িকভাবে কিছু কাজের ক্ষেত্র হয়তো তৈরি হয়, কিন্তু শেষমেশ আমজনতা বিপদে পড়ে। ঠিক একই কথা সত্যি জেইই মেনস দিতে যাওয়া ছাত্রছাত্রীদের। পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। তাঁরা ইংরেজিতে প্রশ্ন পড়েই পরীক্ষা দেন, এ রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ইংরেজিতে বিজ্ঞান বোঝার মত পরিকাঠামো আছে, আর যাঁরা এই ধরনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সত্যি সফল হন তাঁদের ইংরেজিতে প্রশ্ন বুঝতে এতটুকু অসুবিধে হয় না।
আসলে বিজ্ঞানের কোনও ভাষা নেই। পুরোটাই যুক্তির খেলা। বিজ্ঞান বা অঙ্ক যেখানে যুক্তি দিয়ে কোনও কিছুর সমাধান করতে পারে না, সেখানে সে নিজের অসম্পূর্ণতার কথা স্বীকার করে নেয়। যুগে যুগে বিবর্তিত হয় বিজ্ঞান। গে লুসাকের পরমাণু সংক্রান্ত তত্ত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ডালটন। আবার তার পরে ডালটনের পরমাণুবাদ ভুল প্রমাণিত হয় অ্যাভোগ্রাডোর তত্ত্বের মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে বিজ্ঞান উন্নততর হয়, মানুষ শেখেন সঠিক উত্তর। ধর্ম আর রাজনীতি সেখানে পুরো চড়াই উৎরাইয়ের রাস্তায় চলে। সেখানে আজ যেটা সত্যি তা পরের মূহূর্তেই মিথ্যে হয়ে যায়। বিজ্ঞানের নাম করে মাটির তলায় মন্দির ছিল নাকি বৌদ্ধিক স্তূপ, তাই নিয়ে অগভীর বিশ্লেষণ ডানা মেলে। গ্যালিলিওকে থামিয়ে রাখা হয় ধমকে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গের বাম আমলে ঘোষিত হয় “মার্কসবাদ সর্বশক্তিমান, কারণ এটাই সত্য”। এটা যে চরম সত্য নয় সেকথা মার্কস সাহেবই বলে গিয়েছিলেন, বাংলার বাম বুঝলো উল্টো। ঠিক সেই রকমই ধর্ম, রাজনীতি এবং ভাষার সরবত বানানো নিয়ে রাজ্যে লড়াই করছে বিজেপি আর তৃণমূল। কেন্দ্রীয় পরিসরে কংগ্রেস ধান্দা করছে কীভাবে নরম হিন্দুত্বের কথা বলে দুদিকই সামলানো যায়। মুশকিল হল রাজনীতির কারবারিরা সবসময় দাবি করেন যে তাঁরা সত্যি কথা বলছেন। এইখানেই সবথেকে বড় মিথ্যে। ঠিক সেইরকমই গুজরাতি বা বাংলায় প্রযুক্তিবিদ্যার প্রবেশিকা পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টিতে পরীক্ষার্থীদের কোনও সুবিধে নেই। পুরোটাই আপাতত বিজেপি আর তৃণমূলের ভাষাভিত্তিক লড়াই। এখানে বিজ্ঞানের ভাষা বিপর্যয়ের প্রশ্নই নেই। শুধু বাংলায় কেন, গুজরাতের পরীক্ষার্থীদেরও বুঝতে হবে যে বিজ্ঞানের বেশিরভাগ ভালো বই-ই ইংরেজিতে লেখা। সেগুলো মন দিয়ে পড়লে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। আর কয়েকমাসের মধ্যেই জেইই মেনস। এই সময় ছাত্রছাত্রীদের চিত্তবিক্ষিপ্ত না হওয়াই ভালো।
সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, রাজনীতিতে যে শিক্ষিত মানুষজন আছেন তাঁদের তো আর সোনা মেশানো দুধ গণেশকে খাইয়ে দিন চলবে না। তাঁরা দায়িত্ব নিন সারা দেশে যেন ভালো করে ইংরেজি পড়ানো হয়। তাতেই নেওয়া হোক উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিজ্ঞানের সব পরীক্ষা। অঙ্কে অসমীকরণের সমাধান করতে কয়েকটা চিহ্ন লাগে মাত্র। সেখানে অজানা চলরাশি ইংরেজির এক্স ধরা হয়, বাংলার ক-এ মধ্যন্য-শয়ে ক্ষিও নয়। যেভাবে বিজ্ঞান এগিয়েছে তাকে বাম কিংবা দক্ষিণপন্থার সমাজনীতি, কিংবা ভাষার সুড়সুড়ি দিয়ে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। বাংলা ভাষা নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিবিদদের বেশি না ভাবাই মঙ্গল। সেক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের আত্মা ভয় পেয়ে বাংলা ছেড়ে অযোধ্যার রামমন্দিরের তলায় গিয়ে সেঁধোবে। উপসংহারে সারা দেশের সমস্ত উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়াদের শুভেচ্ছা, আর অনুসিদ্ধান্ত হল আমাদের দেশের আর্থসামাজিক পরিস্থিতিতে ইঁরেজিতে বিজ্ঞান শেখাটাই সাফল্যের এক প্রাথমিক ধাপ। জেইই মেনসে আর সব ভাষায় প্রশ্ন করা বন্ধ করে শুধু রাখা হোক ইংরেজি। দু-একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ দিতে গেলে শুধু তামিল, তেলুগু, ওড়িয়া, অসমীয়া নয়, কোনও এক দিন অলচিকি-তেও জেইই মেনসের প্রশ্ন করার দাবি উঠবে!
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক, মতামত ব্যক্তিগত
13th  November, 2019
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
একনজরে
 নয়াদিল্লি, ২১ জানুয়ারি (পিটিআই): শিরোমণি অকালি দল সরে গেলেও দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট বেঁধেছে জেডিইউ। সোমবারই সেই ঘোষণা হয়েছে। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, এনআরসি ...

নয়াদিল্লি, ২১ জানুয়ারি: আগামী শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ শুরু করছে ভারত। গ্লেন টার্নার-রিচার্ড হ্যাডলিদের দেশে পাঁচটি টি-২০, তিনটি একদিনের ম্যাচ এবং দু’টি টেস্ট খেলবে বিরাট ...

 বিএনএ, বারাকপুর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে আরও একটি জুট মিল বন্ধ হয়ে গেল। মঙ্গলবার সকালে টিটাগড়ের এম্পায়ার জুট মিল কর্তৃপক্ষ সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিস ঝুলিয়ে দেয়। এতে কাজ হারালেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। মিল বন্ধের প্রতিবাদে এদিন বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। ...

সংবাদদাতা, ইংলিশবাজার: রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি নিয়ে প্রচারের হাতিয়ার এখন ছাত্র-যুব উৎসব। জনস্বার্থে রাজ্য সরকার যেসব কর্মসূচি নিয়েছে সেসব নিয়ে অনুষ্ঠান পরিবেশন করে এই উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা। মালদহ জেলাও তার ব্যতিক্রম নয়।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মরতদের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা ও ব্যবহারে সংযত থাকা দরকার। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৬৬: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যু
১৯০০ - টেলিপ্রিন্টার ও মাইক্রোফেনের উদ্ভাবক ডেভিট এ্যাডওয়ার্ড হিউজ।
১৯০১: রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু
১৯২৭ - প্রথমবারের মতো বেতারে ফুটবল খেলার ধারাবিবরণী প্রচার।
১৯৭২: অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকরের জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৩৬ টাকা ৭২.০৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.৯৮ টাকা ৯৪.২৫ টাকা
ইউরো ৭৭.৫৪ টাকা ৮০.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৪৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ত্রয়োদশী ৪৮/৩৬ রাত্রি ১/৪৯। মূলা ৪৪/৫৩ রাত্রি ১২/২০। সূ উ ৬/২২/৩৮, অ ৫/১৩/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ মধ্যে পুনঃ ১০/০ গতে ১১/২৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২ গতে ৪/২৮ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫ গতে ৮/৪৩ মধ্যে পুনঃ ২/০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৯/৫ গতে ১০/২৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ১/৯ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৬ গতে ৪/৪৪ মধ্যে।
৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ত্রয়োদশী ৮৯/২৭/৪৪ রাত্রী ২/১৩/৯। মূলা ৪৬/৪২/৪৪ রাত্রি ১/৭/৯। সূ উ ৬/২৬/৩, অ ৫/১১/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১০/০ গতে ৪/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৫ গতে ৮/৫০ মধ্যে ও ২/০ গতে ৬/২৬ মধ্যে। কালবেলা ৯/৭/২৭ গতে ১০/২৮/৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৩/৭/২৭ গতে ৪/৪৬/৪৫ মধ্যে।
 ২৬ জমাদিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
 তানাজি ছবির ভাইরাল ভিডিওয় শিবাজি হলেন মোদি, বিতর্ক
বলিউড সিনেমা ‘তানাজি: দ্য আনসাং ওয়ারিয়র’ ছবির একটি ক্লিপিং এখন ...বিশদ

09:03:27 AM

ধুঁকছে সুদানের পাঁচ সিংহ, বাঁচাতে তৎপরতা
খাবার আর ওষুধের অভাবে ধুঁকছে গোটা পাঁচেক পশুরাজ। একেবারে কঙ্কালসার ...বিশদ

09:00:00 AM

 দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে পুরস্কৃত করবে নির্বাচন কমিশন
ভোটার তালিকা তৈরি এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের ভোটদানে সহায়তা বা ‘অ্যাকসেসবল ...বিশদ

08:47:10 AM

  প্রধান শিক্ষকদের বাড়তি ভাতার দাবি পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সমিতির
৪১০০ টাকা পর্যন্ত গ্রেড পে প্রাপক শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের ১৮ ...বিশদ

08:41:41 AM

নিলামে উঠছে নীরব মোদির সংগ্রহে থাকা
শেরগিল, হুসেনের মাস্টারপিস, দামি ঘড়ি

পিএনবিকাণ্ডে এখনও পলাতক শিল্পপতি নীরব মোদি। বন্দি রয়েছেন লন্ডনের জেলে। ...বিশদ

08:40:00 AM

  ২৮টি স্কুলকে কম্পিউটার দেবে ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়ন নিগম
কর্পোরেট সংস্থার সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিল থেকে ২৮টি স্কুলকে ...বিশদ

08:35:00 AM