Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। আপনি শুধু একবার বলে দেখুন... নাম-নিশান মুছে দেব।’ বিজেপি নেতা বললেন, ‘তাহলে অপেক্ষা কীসের? দাসত্বের চিহ্ন আর কতদিন বয়ে বেড়াব আমরা...?’ এম এস লিবারহান কমিশনে এক প্রত্যক্ষদর্শী এই বয়ান দিয়েছিলেন। আবার তারপর তুলেও নিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এর মধ্যে জড়াতে চান না। তিনি যা দেখেছিলেন, তা বয়ান আকারে লিবারহান কমিশনের খাতায় থেকে গেলে এই মামলা কোনদিকে গড়াত, তা অনুমান করা যায় না। তবে হ্যাঁ, একটা বিষয় পরিষ্কার... অযোধ্যায় তারপর যা হয়েছিল, তার অনেকটা দায়িত্ব বহন করে ওই কথপোকথন। মামলার রায় প্রকাশিত। কোন মামলা? জমি কার... এই একটি প্রশ্নের বহু প্রতীক্ষিত উত্তর অবশেষে মিলেছে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ‘জমি রামলালার’। অর্থাৎ সেখানে রামমন্দিরই হবে। বাবরি মসজিদ যে জায়গায় ছিল, সেখানেই। কারণ, আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট, রামায়ণ ও স্কন্দপুরাণের থেকে শ্লোক উল্লেখ করে শীর্ষ আদালতের পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, ১৫২৮ সালে বাবরি মসজিদ নির্মাণের আগে সেখানে অন্য কিছু ছিল। অ-মুসলিম কোনও স্থাপত্য। যার জায়গায় বাবর ওই মসজিদ বানিয়েছিলেন। এবং জমিটিতে কখনওই মুসলিম সমাজের একচ্ছত্র অধিকার ছিল না। অর্থাৎ শতকের পর শতক ধরে এই জমির উপর হিন্দুরা অধিকার জানিয়ে এসেছেন। রামের জন্মস্থলে পৌঁছে মানুষ মাথা নিচু করেছে। পড়াশোনা নেই, দেশের রাষ্ট্রপতির নাম জিজ্ঞেস করলেও হয়তো তাঁরা বলতে পারবেন না সুপ্রিম কোর্টে কী নিয়ে মামলা চলছে... তাঁরা যে শুধুই তীর্থ করতে এসেছেন! রামলালাকে দেখতে এসেছেন। তাঁর জন্মভূমিতে একবার পা রাখতে।
এই বিশ্বাসের নামই যে অযোধ্যা! আর এই বিশ্বাসেরই মর্যাদা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘১৫২৮ খ্রিস্টাব্দের শত শত বছর আগে থেকে শাস্ত্র রয়েছে। যা হিন্দুত্বের মূল উৎস। তার উপরেই হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বাস গড়ে উঠেছে তিলে তিলে। বাল্মীকি রামায়ণ এদের মধ্যে অন্যতম, যার দশম শ্লোক থেকে আমরা জানতে পারি শ্রীরাম সম্পর্কে। তাঁর জন্মের সময় এই বিশ্বের আবহ যেমন হয়েছিল, তা দেখা যায় না। বোঝা গিয়েছিলে, এই শিশু সাধারণ নয়। গোটা বিশ্বের পালক। অযোধ্যা তাঁর জন্মে আশীর্বাদধন্য হয়ে উঠেছিল।’ যদিও আদালত আরও জানিয়েছে, অযোধ্যার উল্লেখ থাকলেও রামায়ণে কিন্তু বলা নেই যে শহরের ঠিক কোথায় ভগবান রাম জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জন্মভূমি বলতে গোটা অযোধ্যাকেই বোঝানো হয়েছে। নিশ্চিতভাবে কোনও জায়গার কথা বলা হয়নি।’ পাশাপাশি স্কন্দপুরাণের প্রসঙ্গ টেনে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, রামায়ণের মতো স্কন্দপুরাণেও কিন্তু বিশ্বাস করেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। যা কি না খ্রিস্টপূর্ব ৮ শতাব্দীর বলে বিশ্বাস করা হয়। সেখানে কিন্তু বলা আছে, ‘ওই উত্তর-পশ্চিমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন রাম। বিঘ্নেশ্বরের পূর্বে, বশিষ্ঠের উত্তরে...। অর্থাৎ এটা দেখাই যাচ্ছে ১৫২৮ খ্রিস্টাব্দের আগের বহু হিন্দু লেখা আছে, যা প্রমাণ করে অযোধ্যার ওই স্থানে রামের জন্ম হয়েছিল।’
ঐতিহাসিক রায়। লালকৃষ্ণ আদবানি আজ খুশি। আর বিতর্কের অবকাশ নেই। অযোধ্যার সেই ২.৭৭ একর জমিতেই রামমন্দির হবে। তাই খুশি আদবানি। ৯৩ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। ৮ নভেম্বর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের থেকে শুভেচ্ছা নেওয়ার পর রাতেই তিনি জেনেছিলেন, রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। পরদিনই। কিন্তু আদবানি কি মনে রেখেছেন...? ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের সেই হাড় হিম করে দেওয়া দিনটির আগে তিনি নিজে কী বলেছিলেন? তাঁর সাফ কথাই ছিল, ‘এই ধরনের বিতর্কের ফয়সালা করা আদালতের কাজ নয়। কোর্ট ঠিক করতে পারে না শ্রীরাম এখানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, নাকি অন্য কোথাও?’ অথচ সেই আদালতই নির্ধারণ করল শ্রীরামের জন্মস্থান। অযোধ্যা। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট, মানুষের বিশ্বাস, আর মামলার পক্ষে পেশ হওয়া বাদী-বিবাদীর তথ্য-প্রমাণ-যুক্তির ভিত্তিতে।
অবশেষে সফল আদবানি। বিজেপির লৌহপুরুষ তিনি। হিন্দুত্ব, রথযাত্রা, রামজন্মভূমি... অটলবিহারী বাজপেয়ি যদি দলের প্রশাসনিক দক্ষতা, শান্তি, বাগ্মিতার প্রতীক হন, আদবানি তাহলে হিন্দুত্বের এজেন্ডাকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার। সমান্তরালভাবে। তিনি ছিলেন কট্টরপন্থায় বিশ্বাসী। আর নরেন্দ্র মোদি অর্গানাইজড পদক্ষেপে। তাই আদবানি সফল, আর মোদি জয়ী। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় অবশ্যই কোনও সম্প্রদায়ের জয়-পরাজয় চিহ্নিত করেনি। এই রায় প্রয়োজন ছিল কারণ, এই সংক্রান্ত দীর্ঘ বিবাদ, হিংসা, খুনোখুনি, দ্বিধাবিভক্ত ভারতীয় সমাজকে আরও একবার সবকিছু ভুলে এক হওয়ার বার্তা দেওয়ার ছিল। হিন্দুদের রামমন্দিরের জন্য অন্যত্র জমি দিয়ে যদি মুসলিম সমাজ অযোধ্যার ওই জমিতে ফের বাবরি মসজিদ বানানোর অনুমতি পেতেন, তাহলেও দেশের শান্তি এতটুকু বিঘ্নিত হতো না। দোকানপাট এভাবেই খুলত। আমাদের ছেলেমেয়েরা এভাবেই স্কুলে যেত। রায় যাই হোক না কেন... এটাই নিশ্চিত করেছিলেন মোদি। চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর। কেন্দ্রে তিনি ক্ষমতায়। রাজ্যেও তিনি। নামেই বিজেপি সরকার। এই শিবিরের চালিকাশক্তি যে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, তা বোঝার জন্য কোনও পুরস্কার নেই। তাই লোকসভা ভোট গত এক বছরে ব্যতিক্রম হয়েই এই সত্যিটাকে প্রমাণ করেছে। একের পর এক বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাকফুটে যেতে থাকা বিজেপি লোকসভা ভোটে কিন্তু মারকাটারি ফল করেছে। মানুষ দেখেছে, কুর্সিতে বসবেন উনি... নরেন্দ্র মোদি। বাকি সব রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাওয়ার যাঁর ক্ষমতা নেই। কিন্তু শান্তিরক্ষায় তাঁর আবেদনের দাম আছে। সেটাই রেখেছে ভারত। তাই তিনি জয়ী। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই এই রায় মেনেছে... তাই মোদি জয়ী। ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। সেটা ইতিউতি রয়েওছে। তার মানে সেই ক্ষোভ আগুন হয়ে ঝরে পড়াটা কখনওই সমাজতন্ত্রের, গণতন্ত্রের বিজ্ঞাপন নয়। এই ভারত সেটা জানে। তাই মোদি জয়ী। কিন্তু পরবর্তী যত বিধানসভা ভোট আছে, সেই সবেও কি নরেন্দ্র মোদি একইভাবে জয়লাভ করবেন? রামমন্দির কি তাঁকে ভোটযন্ত্রে আশীর্বাদের ফুল ছড়িয়ে দেবে?
ঝাড়খণ্ডের ভোটে এর উত্তর মিলবে না। ছোট রাজ্য। বিজেপি এখানে যথেষ্ট শক্তিশালী। তাই পশ্চিমবঙ্গের পড়শি এই রাজ্য নিয়ে কারও তেমন মাথাব্যথা নেই। ব্যাপারটা কতক এমন যে, এখানে বিজেপি তো জিতেই রয়েছে। কিন্তু তারপর যে আরও অনেক পথ যাওয়া বাকি! এবং সেক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির হাতে আর কোনও ধর্মীয়-রাজনৈতিক তুরুপের তাস নেই। অযোধ্যা ইস্যুর উপর ভর করে সেই জন্মলগ্ন থেকেই ভারতের বুকে গেরুয়া আবির ছড়িয়েছে বিজেপি। একের পর এক ভোট এসেছে... গিয়েছে। রামমন্দির নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু বিষয়টিকে উস্কে ভোটের ঝুলি ভরিয়েছে বিজেপি। নরেন্দ্র মোদি নিজে অবশ্য হিন্দুত্বের কথা বেশি বলেন না। তিনি বিকাশে বিশ্বাসী। সবকা সাথ, সবকা বিকাশ। স্বপ্নের সওদাগর তিনি। তাই এখনও তাঁর ভোটাররা বিশ্বাস করে, আচ্ছে দিন সত্যি আসবে। আর সেক্ষেত্রে মোদি যে চেষ্টার ত্রুটি রাখেন না, সে নিয়েও সন্দেহ নেই। তিনি আত্মবিশ্বাসী, অযোধ্যা ইস্যু না থাকলেও ভোটে জিততে তাঁর অসুবিধা হবে না। তাঁর কাজ দেখেই ভারত তাঁকে ভোট দেবে। জেতাবে। আর যদি ২০২৪ সালের মধ্যে সত্যিই রামমন্দির হয়ে যায় তার ডিভিডেন্ড তো কিছু আছেই! তবে এর মধ্যেও প্রশ্ন আছে... অযোধ্যার ফৌজদারি মামলাটির কী হল? ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯২... বাবরি সৌধ ধ্বংসের কয়েক মিনিটের মধ্যে অজ্ঞাতপরিচয় করসেবকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ধারায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল অযোধ্যার রামজন্মভূমি থানায়। তার ঠিক ১০ মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আর একটি এফআইআর হয়। তাতে নাম ছিল, লালকৃষ্ণ আদবানি, মুরলিমনোহর যোশি, উমা ভারতী, অশোক সিঙ্ঘল, গিরিরাজ কিশোর, বিনয় কাটিয়ার, বিষ্ণু হরি ডালমিয়া এবং সাধ্বী ঋতাম্ভরার। এর পাশাপাশি আরও ৪৭টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। ৩০০ প্রত্যক্ষদর্শী... ৪৯ জন অভিযুক্ত মারা গিয়েছেন। তারপরও মামলা চলছে ২৭ বছর ধরে। লখনউয়ের বিশেষ সিবিআই আদালতে। সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু বলেছে, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি সৌধ ওইভাবে ভেঙে ফেলাটা অপরাধ। সেটা মোটেই ঠিক কাজ হয়নি। সিবিআই আদালতে শুনানিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবার সেই রায় যদি বিজেপি ও আরএসএসের হাইপ্রোফাইল সব নেতানেত্রীর বিপক্ষে যায়? সুপ্রিম কোর্ট যে ইঙ্গিত দিয়েছে, তাতে তেমন কিছু হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। বিভিন্ন মহল মনে করছে, সেটা কিন্তু বিজেপির জন্য মোটেই সুখকর হবে না। এখানেও যে একটা অন্য সমীকরণ আছে! সেটা মোদির। অমিত শাহের। হিন্দুত্ব এজেন্ডা বিজেপিতে আছে। থাকবে। কিন্তু মোদি-অমিত শাহের জমানায় তারও যে অভিযোজন হয়েছে! সে আর উন্মুক্ত তরবারি নয়। বিজেপির এখনকার হিন্দুত্ব অর্গানাইজড। তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরাফেরা করে। হিন্দুত্বের নিশান উড়িয়ে বিজেপিকে ধর্মীয় মেরুকরণের ঘোষণা আজ না করলেও চলে। এই এজেন্ডা চোরাস্রোতের মতো ঢুকে পড়ে ভোটারের ঘরে। ভক্তের ঘরে। এর বিস্তার অসীম। কিন্তু চিরন্তন নয়। ছাপোষা মধ্যবিত্তের ঘরে ধর্ম ততক্ষণই ভালো লাগে, যতক্ষণ পেটে ভাত আছে। চাকরি না থাকলে, দু’বেলা দু’মুঠো খেতে না পেলে ধর্মীয় ভাবাবেগ, মন্দির রাজনীতি জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাই রাম-রাজনীতি আর নয়, মোদিকে আগে নিশ্চিত করতে হবে দেশের আর্থিক বৃদ্ধি, মানুষের কর্মসংস্থান, গরিব মানুষের পেটের ভাত। ওই যে তিনি বলেন না... ‘আমি রাষ্ট্রভক্ত’। রাষ্ট্র মানেই তো মানুষ। ভারত মানে ভারতবাসী। পেটে খেলেই যে পিঠে সইবে... এ আজও মিছে কথা নয়! 
12th  November, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
মঙ্গল ঘোষ, গাজোল, সংবাদদাতা: দেশলাইয়ের বিভিন্ন মার্কা ও কাঠি দিয়ে নানা শিল্পকর্ম করে সাড়া ফেলে দিয়েছেন ইংলিশবাজার শহরের বাসিন্দা সুবীর কুমার সাহা। কখনও আর্ট পেপারে ...

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল।  ...

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: মঙ্গলবার সকালে চীনা মাঞ্জায় গলা কেটে খড়্গপুর শহরে এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হল। তার নাম মহম্মদ সাদেক(১৫)। বাড়ি পাঁচবেড়িয়া কাজি মহল্লায়। সে সাউথ সাইড হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্ট্রারের সই ও লেটারহেড জাল করে ভুয়ো নার্সিং স্কুল খুলে প্রতারণা ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে কিছুদিন আগেই অভিযোগ করা হয়েছিল বিধাননগর উত্তর থানায়। এবার রানিগঞ্জ থানায়ও একই অভিযোগ জানিয়ে অবিলম্বে লোক ঠকানোর এই ব্যবসা ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

মানসিক অস্থিরতার জন্য পঠন-পাঠনে আগ্রহ কমবে। কর্মপ্রার্থীদের যোগাযোগ থেকে উপকৃত হবেন। ব্যবসায় যুক্ত হলে শুভ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২২: অভিনেতা দিলীপকুমারের জন্ম
১৯২৪: সাহিত্যিক সমরেশ বসুর জন্ম
১৯৩৫: প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৪২: সঙ্গীত পরিচালক আনন্দ শংকরের জন্ম
১৯৬১: অভিনেতা তুলসী চক্রবর্তীর মৃত্যু
১৯৬৯: ভারতীয় দাবাড়ু বিশ্বনাথন আনন্দের জন্ম
২০০৪: সঙ্গীতশিল্পী এম এস শুভলক্ষ্মীর মৃত্যু
২০১২: সেতারশিল্পী রবিশঙ্করের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৪২ টাকা ৭২.৫৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.১৯ টাকা ৯৫.৫৯ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৫ টাকা ৮০.৪৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,২৭৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১২/৩ দিবা ১০/৫৯। রোহিণী অহোরাত্র। সূ উ ৬/১০/১৮, অ ৪/৪৯/০, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫২ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৫ গতে ৮/১৮ মধ্যে পুনঃ ১০/২৫ গতে ১২/৩৩ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৬/৩৫ মধ্যে পুনঃ ৮/২২ গতে ৩/৩০ মধ্যে, বারবেলা ৮/৫০ গতে ১০/১০ মধ্যে পুনঃ ১১/৩০ গতে ১২/৫০ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪৯ গতে ৪/৩০ মধ্যে।
২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্দশী ১১/৩৯/৪১ দিবা ১০/৫১/২৭। কৃত্তিকা ০/৪১/৪৪ প্রাতঃ ৬/২৮/১৭, সূ উ ৬/১১/৩৫, অ ৪/১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৭/৪৪ গতে ৮/৩২ মধ্যে ও ১০/৩৩ গতে ১২/৪০ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৬/৪১ মধ্যে ও ৮/২৯ গতে ৩/৩৯ মধ্যে, কালবেলা ৮/৫১/২ গতে ১০/১০/৪৫ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৫১/২ গতে ৪/৩১/১৯ মধ্যে।
১৩ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কোচবিহারের শীতলকুচির ডাকঘড়া বাজারে ৩টি বোমা উদ্ধার 

10:46:00 AM

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল: উত্তর-পূর্বে বনধ, বাতিল একাধিক ট্রেন 
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে ঘিরে উত্তপ্ত উত্তর-পূর্বের তিন রাজ্য। অসম, ত্রিপুরাজুড়ে ...বিশদ

10:39:02 AM

বাগুইআটিতে যুবক খুন 
বাগুইআটির দেশবন্ধুনগরে ড্রেন থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের দেহ। মৃতের ...বিশদ

10:22:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল 
আজ, বুধবার সকালে শহরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে অফিস টাইমের ...বিশদ

10:06:24 AM

কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রীর
‘বুড়োদের থেকে পরামর্শ নেওয়া ভালো।’ মঙ্গলবার, বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে এই ...বিশদ

09:40:00 AM

 মুম্বই মেলে অত্যাধুনিক রেক
যাত্রীদের সফর আরও সুরক্ষিত এবং অধিক স্বাচ্ছন্দ্যযুক্ত করতে হাওড়া-মুম্বই সিএসএমটি-হাওড়া ...বিশদ

09:30:00 AM