Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। ওনাদের উপস্থিতিতে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের (সিপিএম) সদর দপ্তর নানা আলোচনা আর বিতর্কে মশগুল হয়ে ওঠে। মর্ত্যলোকের কমরেটদের কাজ নিয়ে প্রতিদিনই চুলচেরা আলোচনা হয়। কখনও কখনও তা প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে গিয়ে পড়ে।
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘কী মনে হচ্ছে কমরেট, আপনার চান্স আসবে?’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘ক্ষমতা হল আমার হাতের এই চুরুটের মতো, এলেও জ্বলন, না এলেও জ্বলন।’
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘বড় তাত্ত্বিক কথা।’
বলতে বলতেই ঘোষণা হয়ে গেল। টিভির সংবাদ পাঠক পড়লেন ‘এবছরের নভেম্বর বিপ্লব উদযাপন কমিটির প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন কমরেট প্রমোদিয়েভ।...।’ জ্যোতোভস্কি উঠে গিয়ে বললেন, ‘অভিনন্দন কমরেট প্রমোদিয়েভ।’ তারপরই ওদিক পরপর ফোন আসতে শুরু করল। লেনিন, স্তালিন, ট্রটস্কি, বিনয়স্কি, হরেকৃস্তভ প্রমুখের ফোন ধরতে ধরতে যেন হাঁপিয়ে উঠলেন প্রমোদিয়েভ। ‘ধ্যুত্তেরি’ বলে তাঁর মোবাইলের স্যুইচ অফ করে দিলেন।
এর মধ্যেই ছুটতে ছুটতে পার্টি অফিসে ঢুকলেন কমরেট সুভনোৎসিন। হাতের ফুলের গোছা। সেটা প্রমোদিয়েভের হাতে দিয়ে মাথা থেকে স্পোর্টস হ্যাটটা টেবিলে রেখে টাকের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন ‘অভিনন্দন কমরেট, আপনার এই সম্মান আমাদের গর্বিত করল।’
প্রমোদিয়েভ চুরুটে টান দিয়ে বললেন, ‘এই নভেম্বর বিপ্লবই একদিন সারা বিশ্বে কমনিষ্ঠদের ক্ষমতা দখলের পথ প্রশস্ত করেছিল। আমরাও একসময় আমাদের রাজ্যে ক্ষমতার এক মসৃণ অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু কয়েকজন অর্বাচীনের জন্য সেখানে আজ আমাদের সাজানো বাগান শুকিয়ে গিয়েছে।’
জ্যোতোভস্কি একটা হুম শব্দ করে বললেন, ‘আঙুরের জমিতে শিল্প করতে যাওয়া আর ভৃঙ্গীগ্রামে জমি দখলের ভুলের মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে। মানুষ টিভিতে দেখেছে সেই অত্যাচারের দৃশ্য। কমরেটরা পুলিশের পোশাক পরে কীভাবে গুলি চালিয়ে মানুষ মেরেছে, কীভাবে মানুষের ঘরে আগুন দিয়েছে। তার পাল্টা রিঅ্যাকশন হবেই।’
সুভনোৎসিন বললেন, ‘এখানে একটা কথা আমার বলা দরকার। সেটা হল এর থেকে অনেক বড় হত্যাকাণ্ড রাশিয়ায় লেনিনবাবু আর স্তালিনবাবুরা করেছিলেন। মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গে যে গণহত্যা হয়েছিল সেটা হিটলারের থেকে কোনও অংশে কম ছিল না। তাও ওঁরা ক্ষমতা হারাননি। ওনাদের গণহত্যার তুলনায় আঙুর আর ভৃঙ্গীগ্রামের হত্যাকাণ্ড ছেলেমানুষ।’
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘চুপ করে বোস। তোমার এই এক মাথা গরম। আমরা এখান থেকে সব নজর রাখছি। প্রতিটা ভোটের ফল বিশ্লেষণ করে দেখেছি। প্রতিদিন ওখানে আমাদের ভোট কমে যাচ্ছে। আমরা শুধু মানুষের কথা বলতাম। আর ওরা মা মাটি মানুষের কথা বলে সব ভোট ছিনিয়ে নিয়ে গেল। এখন তো আবার শুনছি গোমূত্র, গোময় নিয়েও কেউ কেউ ভোটের আসরে অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের নেতারা বসে ঝিমোচ্ছেন।’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘তোমাদেরই তো দোষ। নিজেরাই ক্ষমতা ভোগ করেছ। কখনও ইয়ং জেনারেশনকে পাত্তাই দাওনি। ফলে দল এখন তরুণ শূন্য। তোমাদের সব কথা জানতে পারলে কমরেট স্তালিনরা ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করিয়ে সবাইকে গুলি করে মারতেন।’
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘লেটেস্ট রিপোর্টে দেখলাম সারাদেশে আমাদের পার্টি সদস্যের সংখ্যা দশকোটি ছড়িয়ে গিয়েছে।’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘ওসব জল মেশানো রিপোর্ট। তুমি ওই রিপোর্টকে অথেন্টিক বলে মনে কর? আমাদের দুর্ভাগ্য হল আমরা সব কাজের লোকগুলো একে একে মৃত্যুলোকে চলে এলাম আর পড়ে রইলেন শুধু বাক্যবাগীশগুলো। দু’একজন বাদে কারও সঙ্গে মানুষের কোনও যোগ নেই। এদের দেখে মানুষ আমাদের ভোট দেবে? ফুঃ!’
এর মধ্যে একজন বেয়ারা এসে একটা স্লিপ দিয়ে গেলেন। প্রমোদিয়েভ সেটা পড়লেন। ‘মিঃ ঝংকারিয়া। ইনি আবার কে? আমার সঙ্গে দেখা করতেই বা চাইছেন কেন?’
সুভনোৎসিন বললেন, ‘উনি আমার সঙ্গে এসেছেন। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে চান। মর্ত্যলোকে বড় শিল্পপতি ছিলেন। ওখানেই আমাদের পরিচয়। এখন এখানে এসেও সেই ধান্দা করতে চান।’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘না, কোনও বুর্জোয়া শিল্পপতিকে আমি কাছে ঘেঁষতে দেব না।’
সুভনোৎসিন বললেন, ‘আজ্ঞে উনি মর্ত্যলোকেও আমাদের অনেক সেবা করেছেন। আপনি কি মনে করেন, শুধু কৌটো নাড়িয়ে পার্টির এত কোটি টাকার সম্পত্তি হয়েছে?’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘দেখুন কমরেট জ্যোতোভস্কি, আপনার শিষ্যের কথাবার্তা শুনুন।’
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘হ্যাঁ, চিরকালই ও একটু একগুঁয়ে। পার্টিতে থেকেও অনেক সময় পার্টিলাইন মানেনি। তাতে অবশ্য অনেক সময় পার্টির উপকারই হয়েছে। আপনি একবার কথা বলে দেখতে পারেন।’
প্রমোদিয়েভের সঙ্কেত পেয়ে উঠে বাইরে গেলেন সুভনোৎসিন। একটু পরে এক ব্যক্তিকে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ইনিই মিঃ ঝংকারিয়া।’
ঝংকারিয়া সবাইকে প্রণাম করে একটা প্যাকেট টেবিলে রাখলেন। সেটা দেখে প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘এটা কী?’
মিঃ ঝংকারিয়া বললেন, ‘আজ্ঞে পরনামি। মন্দিরে দেওতা দরশন করতে যাব, আর থালায় পরনামি দেব না! ই কালচার হামার নেই স্যার।’
প্রমোদিয়েভ: ‘না, না ওটা নিয়ে যান। ওসব দেবতা টেবতার কথা আমাদের বলবেন না।’ সুভনোৎসিন বললেন, ‘মিঃ ঝংকারিয়ার একটা ইচ্ছে আছে। সেটা হল আমাদের নভেম্বর বিপ্লবের যে উৎসব হবে, তার খরচ সবটাই উনি বহন করতে চান। আমার ইচ্ছে এই সুযোগটা দিয়ে ওনাকে সম্মানিত করা হোক।’
হাতের নেভা চুরুটটা অ্যাসট্টেতে রাখতে রাখতে প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘বেশ তাই।’
মিঃ ঝংকারিয়া বললেন, ‘হামার একটা নিবেদন আছে। এটা ওবশ্য মোরতোলোকের কেস আছে।’
প্রমোদিয়েভ তাঁর পাকা ভুরু দুটো বাঁকিয়ে বললেন, ‘বলুন।’
মিঃ ঝংকারিয়া গদগদ হয়ে বললেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার। হামার লেড়কা আভি মরতোলোকে রিয়্যাল ইসটেটের বেওসা করে। তাই উস লোক মে একটা বড়া জমি চাই।
জ্যোতোভস্কি চটে গিয়ে বললেন, ‘আমরা কি জমি লেনদেনের ব্যবসা খুলেছি নাকি? আপনি অন্য কোথাও যান।’
মিঃ ঝংকারিয়া হাত দুটো জোড় করে বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ‘চটে যাবেন না স্যার। আপনারা চাইলেই হোবে।’
সুভনোৎসিন তাঁকে থামিয়ে বললেন, ‘মিঃ ঝংকারিয়া। আপনার যা বলার তাড়াতাড়ি বলুন। একটু পরেই অন্য কমরেডরা চলে আসবেন। আজ পলিতবুড়োর মিটিং আছে।’
মিঃ ঝংকারিয়া বললেন, ‘হাঁ হাঁ, ঠিকই বলিয়েছেন। হামি চাইছিলাম আলুমুদুয়েভ স্ট্রিটের পার্টি অফিসটা হামাকে দিয়ে দিন। হামার লেড়কা ওখানে একটা মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং আউর শপিং কমপেলেক্স বনাবে। উও ইমন বিল্ডিং বনাবে যে লোকে আঁখ ফিরাতে পারবে না। হামার লেড়কা উধারকা নেতাকো সাথ বাতচিৎ করতা। লেকিন উও লোগ নেহি মানতা।’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘কেন মানবে? আমাদের পার্টি কি মরে গেছে নাকি যে আপনাকে বাড়িটা দিয়ে দেবে?’ মিঃ ঝংকারিয়া এবার বললেন, ‘আপনি বোলেন স্যার, পার্টি ইখন ইত্তটুকুন হয়ে গ্যাছে। বড়া বড়া বাড়ি কী কামে লাগবে? হামি ওখানে ফ্ল্যাট বানানোর পর পাঁচ হাজার স্কোয়্যার ফিটের একটা ফ্ল্যাট পার্টিকে ভেট দিব। আউর আভি একশো করোড় রুপেয়া ক্যাশ দিয়ে দিব। ছোটা পার্টি ছোটা ঘর। ইয়ে হুয়ি না বাত। ইসি কা সাথ হামার লেড়কা ডিস্ট্রিক্ট পার্টি অফিস ভি খরিদ লেনা চাহতা হ্যায়। ঝংকারিয়া ডেভেলপার্স লাল পার্টিকো এক নয়া জিন্দেগি দে সকতা হ্যায়।’
প্রমোদিয়েভ বুঝলেন পার্টির বেঁচে থাকাটা খুব জরুরি। মুমুর্ষু রোগীর জন্য নতুন পথ্য দরকার। স্ট্রাগল ফর এগজিস্টেন্ট। তাই তিনি বললেন, ‘সবই তো শুনলাম। কিন্তু আমরা এখান থেকে কীই বা করতে পারি?’
মিঃ ঝংকারিয়া বললেন, ‘আপনারা সোব পারেন। হামি ইখান থেকে আমার লেড়কাকে প্ল্যনচেটে প্ল্যান দিচ্ছি আর আপনারা প্ল্যানচেটে সোব চ্যাট করে বাতিয়ে দিন।’
সুভনোৎসিন বললেন, ‘আমার মনে হয় মিঃ ঝংকারিয়ার প্রস্তাব আমাদের মেনে নেওয়া উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই অনাগত ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি। এখন অনেকেই পার্টি ছেড়ে পালাচ্ছে। লাল আর সেভ নয়। লড়াই এখন সবুজে-গেরুয়ায়। আর আমরা করছি হায় হায়। আর কিছুদিন পরে ওটা হানাবাড়ি হয়ে যাবে। ভূতেদের বাসা হবে ওটা। পার্টি এখন কলসির তলানি জল। কয়েকজন নেতা পনেরো মিনিটের মিছিল করে এক ঘণ্টা হাঁফায়। এই সময় ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ দরকার। লেভি কমেছে। পার্টি সদস্য কমেছে। চাঁদা কম, কৌটো নাড়া বন্ধ। আমদানিটা হবে কোথা থেকে? এখন পার্টির ভরসা মিঃ ঝংকারিয়ার মতো মানুষজন। ওনারাই আমাদের অ্যাসেট। ওনাদের ভরসাতেই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে হবে। এনিয়ে আমি একটা কবিতা লিখেছি। দিবে আর নিবে মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে/ পার্টি আবার বেঁচে উঠুক ক্ষমতার দুধে-ক্ষীরে। পার্টি ক্ষমতায় এলে অমন বাড়ি আবার বানিয়ে নেওয়া সম্ভব। শুধু স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকলে পার্টির কোনও লাভ নেই।’
প্রমোদিয়েভ গম্ভীর মুখে সব কথা শুনলেন। তারপর বললেন, ‘মিঃ ঝংকারিয়া, আপনি আজ আসুন। আমরা পলিতবুড়োর মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। তারপর মর্ত্যলোকের কমরেডদের সঙ্গে প্ল্যানচেটে চ্যাট করব। তারপর আবার যা হওয়ার হবে।’
কমরেট জ্যোতোভস্কি সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘শূন্য থেকে শুরু। হায়রে শূন্য থেকে শুরু।’
11th  November, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ।
বিশদ

30th  November, 2019
ওভার কনফিডেন্স
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সব থেকে প্রিয় হবি হল পরিবর্তন। তাঁরা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বদলের বন্দনাকারী। পরিবর্তন কি খারাপ জিনিস? মোটেই নয়। বরং পরিবর্তনই তো সভ্যতার স্থাণু হয়ে না থেকে এগিয়ে চলার প্রতীক।   বিশদ

29th  November, 2019
একনজরে
 দোহা, ৭ ডিসেম্বর (এএফপি): আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে তালিবানদের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করল আমেরিকা। শনিবার, কাতারে দু’পক্ষের মধ্যে এক দফা আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মাস তিনেক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাত্ করেই তালিবানদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করে দিয়েছিলেন। ...

 উন্নাও ও নয়াদিল্লি, ৭ ডিসেম্বর (পিটিআই): শুক্রবার রাতে দিল্লির হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে উন্নাওয়ের নির্যাতিতার। শনিবার উন্নাওয়ে নির্যাতিতার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। উত্তরপ্রদেশে একের পর এক বর্বরোচিত ঘটনার প্রেক্ষিতে তোপ দাগলেন রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। ...

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: শনিবার দুপুরে চাকুলিয়া থানার শিকারপুরে পাটবোঝাই একটি চলন্ত ট্রাক্টরে হঠাৎ আগুন লেগে প্রায় তিন লক্ষ টাকার পাট ভস্মীভূত হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চাকুলিয়া হাট থেকে এক ব্যবসায়ী পাট কিনে ট্রাক্টরে চাপিয়ে নিয়ে বিহারের কিষাণগঞ্জে ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শর্তে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালানোর জন্য দ্বিতীয়বার টেন্ডার ডেকেও তেমন সাড়া মিলল না। রাজ্যের নানা জায়গায় চালাতে ১৫০টি ইলেকট্রিক বাসের জন্য ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা। গুপ্ত শত্রুতার মোকাবিলায় সতর্কতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় বিলম্বিত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৫- অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর জন্ম
১৯৭১- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় করাচি বন্দরে হানা দিল ভারতীয় নৌবাহিনী
১৯৭৪- গণভোটের মাধ্যমে গ্রিসে রাজতন্ত্রের অবসান
১৯৮০- নিউইয়র্কে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ভক্তের হাতে খুন হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পপ গায়ক জন লেনন
১৯৯১- রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রনেতারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে কমনওয়েলথ গঠন করলেন
২০০৯- বাগদাদে বোমা হামলায় নিহত ১২৭ এবং আহত ৪৪৮ জন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৫/৫৩ দিবা ৮/৩০। অশ্বিনী ৫৩/২৫ রাত্রি ৩/৩০। সূ উ ৬/৮/১৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫১ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ মধ্যে পুনঃ ২/৪০ গতে ২/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ৯/১৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/৪২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/৮ গতে ১২/৪৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৮ গতে ২/৪৮ মধ্যে।
২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৩/১৫/৫২ দিবা ৭/২৭/৫৯। অশ্বিনী ৫৩/১০/৩০ রাত্রি ৩/২৫/৫০, সূ উ ৬/৯/৩৮, অ ৪/৪৮/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৬ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৩ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/৫০ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৬/১০ মধ্যে, কালবেলা ১১/২৯/১৪ গতে ১২/৪৯/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৯/২০ গতে ২/৪৯/২৭ মধ্যে।
১০ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দিল্লির কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ 

11:59:09 AM

বেহালায় ৮৫ লক্ষ টাকার নিষিদ্ধ মাদক সহ গ্রেপ্তার ১

11:32:00 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল
 

আজ, রবিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল মোটের উপর স্বাভাবিক। ...বিশদ

10:18:00 AM

 তাপমাত্রা বাড়ল ২ ডিগ্রি, উধাও শীত
আরব সাগরে ঘনীভূত ঘূর্ণিঝড় ‘পবন’ এবং নিম্নচাপের জেরে উত্তর-পশ্চিমের শীতল ...বিশদ

09:54:29 AM

 বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ১৩০০ কোটি বরাদ্দ করল রাজ্য
বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার পর্যন্ত কোনও টাকা ...বিশদ

09:46:35 AM

ধর্ষকদের জন্য মৃত্যুদণ্ডই সবথেকে কঠিন সাজা: ইরানি
ধর্ষকদের জন্য ফাঁসির থেকে আর কোনও কঠোর শাস্তি হতে পারে ...বিশদ

09:40:00 AM