Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। ওনাদের উপস্থিতিতে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের (সিপিএম) সদর দপ্তর নানা আলোচনা আর বিতর্কে মশগুল হয়ে ওঠে। মর্ত্যলোকের কমরেটদের কাজ নিয়ে প্রতিদিনই চুলচেরা আলোচনা হয়। কখনও কখনও তা প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে গিয়ে পড়ে।
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘কী মনে হচ্ছে কমরেট, আপনার চান্স আসবে?’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘ক্ষমতা হল আমার হাতের এই চুরুটের মতো, এলেও জ্বলন, না এলেও জ্বলন।’
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘বড় তাত্ত্বিক কথা।’
বলতে বলতেই ঘোষণা হয়ে গেল। টিভির সংবাদ পাঠক পড়লেন ‘এবছরের নভেম্বর বিপ্লব উদযাপন কমিটির প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন কমরেট প্রমোদিয়েভ।...।’ জ্যোতোভস্কি উঠে গিয়ে বললেন, ‘অভিনন্দন কমরেট প্রমোদিয়েভ।’ তারপরই ওদিক পরপর ফোন আসতে শুরু করল। লেনিন, স্তালিন, ট্রটস্কি, বিনয়স্কি, হরেকৃস্তভ প্রমুখের ফোন ধরতে ধরতে যেন হাঁপিয়ে উঠলেন প্রমোদিয়েভ। ‘ধ্যুত্তেরি’ বলে তাঁর মোবাইলের স্যুইচ অফ করে দিলেন।
এর মধ্যেই ছুটতে ছুটতে পার্টি অফিসে ঢুকলেন কমরেট সুভনোৎসিন। হাতের ফুলের গোছা। সেটা প্রমোদিয়েভের হাতে দিয়ে মাথা থেকে স্পোর্টস হ্যাটটা টেবিলে রেখে টাকের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন ‘অভিনন্দন কমরেট, আপনার এই সম্মান আমাদের গর্বিত করল।’
প্রমোদিয়েভ চুরুটে টান দিয়ে বললেন, ‘এই নভেম্বর বিপ্লবই একদিন সারা বিশ্বে কমনিষ্ঠদের ক্ষমতা দখলের পথ প্রশস্ত করেছিল। আমরাও একসময় আমাদের রাজ্যে ক্ষমতার এক মসৃণ অবস্থানে ছিলাম। কিন্তু কয়েকজন অর্বাচীনের জন্য সেখানে আজ আমাদের সাজানো বাগান শুকিয়ে গিয়েছে।’
জ্যোতোভস্কি একটা হুম শব্দ করে বললেন, ‘আঙুরের জমিতে শিল্প করতে যাওয়া আর ভৃঙ্গীগ্রামে জমি দখলের ভুলের মাশুল আমাদের দিতে হচ্ছে। মানুষ টিভিতে দেখেছে সেই অত্যাচারের দৃশ্য। কমরেটরা পুলিশের পোশাক পরে কীভাবে গুলি চালিয়ে মানুষ মেরেছে, কীভাবে মানুষের ঘরে আগুন দিয়েছে। তার পাল্টা রিঅ্যাকশন হবেই।’
সুভনোৎসিন বললেন, ‘এখানে একটা কথা আমার বলা দরকার। সেটা হল এর থেকে অনেক বড় হত্যাকাণ্ড রাশিয়ায় লেনিনবাবু আর স্তালিনবাবুরা করেছিলেন। মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গে যে গণহত্যা হয়েছিল সেটা হিটলারের থেকে কোনও অংশে কম ছিল না। তাও ওঁরা ক্ষমতা হারাননি। ওনাদের গণহত্যার তুলনায় আঙুর আর ভৃঙ্গীগ্রামের হত্যাকাণ্ড ছেলেমানুষ।’
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘চুপ করে বোস। তোমার এই এক মাথা গরম। আমরা এখান থেকে সব নজর রাখছি। প্রতিটা ভোটের ফল বিশ্লেষণ করে দেখেছি। প্রতিদিন ওখানে আমাদের ভোট কমে যাচ্ছে। আমরা শুধু মানুষের কথা বলতাম। আর ওরা মা মাটি মানুষের কথা বলে সব ভোট ছিনিয়ে নিয়ে গেল। এখন তো আবার শুনছি গোমূত্র, গোময় নিয়েও কেউ কেউ ভোটের আসরে অবতীর্ণ হচ্ছে। কিন্তু আমাদের নেতারা বসে ঝিমোচ্ছেন।’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘তোমাদেরই তো দোষ। নিজেরাই ক্ষমতা ভোগ করেছ। কখনও ইয়ং জেনারেশনকে পাত্তাই দাওনি। ফলে দল এখন তরুণ শূন্য। তোমাদের সব কথা জানতে পারলে কমরেট স্তালিনরা ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করিয়ে সবাইকে গুলি করে মারতেন।’
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘লেটেস্ট রিপোর্টে দেখলাম সারাদেশে আমাদের পার্টি সদস্যের সংখ্যা দশকোটি ছড়িয়ে গিয়েছে।’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘ওসব জল মেশানো রিপোর্ট। তুমি ওই রিপোর্টকে অথেন্টিক বলে মনে কর? আমাদের দুর্ভাগ্য হল আমরা সব কাজের লোকগুলো একে একে মৃত্যুলোকে চলে এলাম আর পড়ে রইলেন শুধু বাক্যবাগীশগুলো। দু’একজন বাদে কারও সঙ্গে মানুষের কোনও যোগ নেই। এদের দেখে মানুষ আমাদের ভোট দেবে? ফুঃ!’
এর মধ্যে একজন বেয়ারা এসে একটা স্লিপ দিয়ে গেলেন। প্রমোদিয়েভ সেটা পড়লেন। ‘মিঃ ঝংকারিয়া। ইনি আবার কে? আমার সঙ্গে দেখা করতেই বা চাইছেন কেন?’
সুভনোৎসিন বললেন, ‘উনি আমার সঙ্গে এসেছেন। আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে চান। মর্ত্যলোকে বড় শিল্পপতি ছিলেন। ওখানেই আমাদের পরিচয়। এখন এখানে এসেও সেই ধান্দা করতে চান।’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘না, কোনও বুর্জোয়া শিল্পপতিকে আমি কাছে ঘেঁষতে দেব না।’
সুভনোৎসিন বললেন, ‘আজ্ঞে উনি মর্ত্যলোকেও আমাদের অনেক সেবা করেছেন। আপনি কি মনে করেন, শুধু কৌটো নাড়িয়ে পার্টির এত কোটি টাকার সম্পত্তি হয়েছে?’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘দেখুন কমরেট জ্যোতোভস্কি, আপনার শিষ্যের কথাবার্তা শুনুন।’
জ্যোতোভস্কি বললেন, ‘হ্যাঁ, চিরকালই ও একটু একগুঁয়ে। পার্টিতে থেকেও অনেক সময় পার্টিলাইন মানেনি। তাতে অবশ্য অনেক সময় পার্টির উপকারই হয়েছে। আপনি একবার কথা বলে দেখতে পারেন।’
প্রমোদিয়েভের সঙ্কেত পেয়ে উঠে বাইরে গেলেন সুভনোৎসিন। একটু পরে এক ব্যক্তিকে নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ইনিই মিঃ ঝংকারিয়া।’
ঝংকারিয়া সবাইকে প্রণাম করে একটা প্যাকেট টেবিলে রাখলেন। সেটা দেখে প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘এটা কী?’
মিঃ ঝংকারিয়া বললেন, ‘আজ্ঞে পরনামি। মন্দিরে দেওতা দরশন করতে যাব, আর থালায় পরনামি দেব না! ই কালচার হামার নেই স্যার।’
প্রমোদিয়েভ: ‘না, না ওটা নিয়ে যান। ওসব দেবতা টেবতার কথা আমাদের বলবেন না।’ সুভনোৎসিন বললেন, ‘মিঃ ঝংকারিয়ার একটা ইচ্ছে আছে। সেটা হল আমাদের নভেম্বর বিপ্লবের যে উৎসব হবে, তার খরচ সবটাই উনি বহন করতে চান। আমার ইচ্ছে এই সুযোগটা দিয়ে ওনাকে সম্মানিত করা হোক।’
হাতের নেভা চুরুটটা অ্যাসট্টেতে রাখতে রাখতে প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘বেশ তাই।’
মিঃ ঝংকারিয়া বললেন, ‘হামার একটা নিবেদন আছে। এটা ওবশ্য মোরতোলোকের কেস আছে।’
প্রমোদিয়েভ তাঁর পাকা ভুরু দুটো বাঁকিয়ে বললেন, ‘বলুন।’
মিঃ ঝংকারিয়া গদগদ হয়ে বললেন, ‘থ্যাঙ্ক ইউ স্যার। হামার লেড়কা আভি মরতোলোকে রিয়্যাল ইসটেটের বেওসা করে। তাই উস লোক মে একটা বড়া জমি চাই।
জ্যোতোভস্কি চটে গিয়ে বললেন, ‘আমরা কি জমি লেনদেনের ব্যবসা খুলেছি নাকি? আপনি অন্য কোথাও যান।’
মিঃ ঝংকারিয়া হাত দুটো জোড় করে বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ‘চটে যাবেন না স্যার। আপনারা চাইলেই হোবে।’
সুভনোৎসিন তাঁকে থামিয়ে বললেন, ‘মিঃ ঝংকারিয়া। আপনার যা বলার তাড়াতাড়ি বলুন। একটু পরেই অন্য কমরেডরা চলে আসবেন। আজ পলিতবুড়োর মিটিং আছে।’
মিঃ ঝংকারিয়া বললেন, ‘হাঁ হাঁ, ঠিকই বলিয়েছেন। হামি চাইছিলাম আলুমুদুয়েভ স্ট্রিটের পার্টি অফিসটা হামাকে দিয়ে দিন। হামার লেড়কা ওখানে একটা মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিং আউর শপিং কমপেলেক্স বনাবে। উও ইমন বিল্ডিং বনাবে যে লোকে আঁখ ফিরাতে পারবে না। হামার লেড়কা উধারকা নেতাকো সাথ বাতচিৎ করতা। লেকিন উও লোগ নেহি মানতা।’
প্রমোদিয়েভ বললেন, ‘কেন মানবে? আমাদের পার্টি কি মরে গেছে নাকি যে আপনাকে বাড়িটা দিয়ে দেবে?’ মিঃ ঝংকারিয়া এবার বললেন, ‘আপনি বোলেন স্যার, পার্টি ইখন ইত্তটুকুন হয়ে গ্যাছে। বড়া বড়া বাড়ি কী কামে লাগবে? হামি ওখানে ফ্ল্যাট বানানোর পর পাঁচ হাজার স্কোয়্যার ফিটের একটা ফ্ল্যাট পার্টিকে ভেট দিব। আউর আভি একশো করোড় রুপেয়া ক্যাশ দিয়ে দিব। ছোটা পার্টি ছোটা ঘর। ইয়ে হুয়ি না বাত। ইসি কা সাথ হামার লেড়কা ডিস্ট্রিক্ট পার্টি অফিস ভি খরিদ লেনা চাহতা হ্যায়। ঝংকারিয়া ডেভেলপার্স লাল পার্টিকো এক নয়া জিন্দেগি দে সকতা হ্যায়।’
প্রমোদিয়েভ বুঝলেন পার্টির বেঁচে থাকাটা খুব জরুরি। মুমুর্ষু রোগীর জন্য নতুন পথ্য দরকার। স্ট্রাগল ফর এগজিস্টেন্ট। তাই তিনি বললেন, ‘সবই তো শুনলাম। কিন্তু আমরা এখান থেকে কীই বা করতে পারি?’
মিঃ ঝংকারিয়া বললেন, ‘আপনারা সোব পারেন। হামি ইখান থেকে আমার লেড়কাকে প্ল্যনচেটে প্ল্যান দিচ্ছি আর আপনারা প্ল্যানচেটে সোব চ্যাট করে বাতিয়ে দিন।’
সুভনোৎসিন বললেন, ‘আমার মনে হয় মিঃ ঝংকারিয়ার প্রস্তাব আমাদের মেনে নেওয়া উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে সেই অনাগত ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি। এখন অনেকেই পার্টি ছেড়ে পালাচ্ছে। লাল আর সেভ নয়। লড়াই এখন সবুজে-গেরুয়ায়। আর আমরা করছি হায় হায়। আর কিছুদিন পরে ওটা হানাবাড়ি হয়ে যাবে। ভূতেদের বাসা হবে ওটা। পার্টি এখন কলসির তলানি জল। কয়েকজন নেতা পনেরো মিনিটের মিছিল করে এক ঘণ্টা হাঁফায়। এই সময় ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ দরকার। লেভি কমেছে। পার্টি সদস্য কমেছে। চাঁদা কম, কৌটো নাড়া বন্ধ। আমদানিটা হবে কোথা থেকে? এখন পার্টির ভরসা মিঃ ঝংকারিয়ার মতো মানুষজন। ওনারাই আমাদের অ্যাসেট। ওনাদের ভরসাতেই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে হবে। এনিয়ে আমি একটা কবিতা লিখেছি। দিবে আর নিবে মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে/ পার্টি আবার বেঁচে উঠুক ক্ষমতার দুধে-ক্ষীরে। পার্টি ক্ষমতায় এলে অমন বাড়ি আবার বানিয়ে নেওয়া সম্ভব। শুধু স্মৃতি আঁকড়ে পড়ে থাকলে পার্টির কোনও লাভ নেই।’
প্রমোদিয়েভ গম্ভীর মুখে সব কথা শুনলেন। তারপর বললেন, ‘মিঃ ঝংকারিয়া, আপনি আজ আসুন। আমরা পলিতবুড়োর মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। তারপর মর্ত্যলোকের কমরেডদের সঙ্গে প্ল্যানচেটে চ্যাট করব। তারপর আবার যা হওয়ার হবে।’
কমরেট জ্যোতোভস্কি সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘শূন্য থেকে শুরু। হায়রে শূন্য থেকে শুরু।’
11th  November, 2019
রাজনৈতিক স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গে
আগুন নিয়ে খেলা বন্ধ হোক
হিমাংশু সিংহ

 শনিবার যখন এই লেখা লিখছি তখনও চারদিক থেকে গণ্ডগোল, অবরোধ, আগুন লাগানোর খবর আসছে। নাগরিক বিল নিয়ে এককথায় রাজ্য উত্তাল। কিন্তু এই অশান্তি কোনওমতেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে তাই মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন মেনে হাঙ্গামায় প্ররোচনা দেওয়া বন্ধ হোক।
বিশদ

এনআরসি দেশ গড়ার পথ, নাকি ক্ষমতায় পৌঁছনোর ইস্যু
তন্ময় মল্লিক

পরিবর্তনই জীবনের বৈশিষ্ট্য। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় সবকিছুই। কিন্তু পরিবর্তনের এই ধারায় সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে রাজনীতির অভিমুখ ও উপাদান। একটা সময় রাজনীতিতে সাফল্য লাভের প্রধান উপাদান ছিল উন্নয়ন। এখন রাজনীতিতে সাফল্য লাভের উপাদান জবরদস্ত ইস্যু। ইস্যু তৈরি করতে পারলেই কেল্লা ফতে। 
বিশদ

14th  December, 2019
বৈধ-অবৈধ নাগরিক কথা
সমৃদ্ধ দত্ত

পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসার পর মানুষদের কী অবস্থা সে সব আমরা খুব বেশি জানি না। আমরা বাঙালিরা জানি বাংলাদেশ সম্পর্কে। কারণ, বাংলাদেশ আমাদের পাশের দেশ। সুতরাং নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যে প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া দরকার সেগুলি বাংলাদেশ সংক্রান্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়।  
বিশদ

13th  December, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নোটবন্দির ফাঁদে রাজ্যের বহু আদালত। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আদালতে জমা থাকা পুরনো ৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট ব্যাঙ্কে জমা না করায় এমনই জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সমস্যার সমাধানে কলকাতা হাইকোর্ট প্রশাসন এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার ...

 ওয়াশিংটন, ১৪ ডিসেম্বর (পিটিআই): ‘আমার কোনও দোষ নেই। তবু আমাকে ইমপিচ করা হচ্ছে। এটা অন্যায়।’ শুক্রবার ট্যুইটারে এভাবেই ইমপিচমেন্ট বিতর্কে ক্ষোভ উগরে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কংগ্রেসের জুডিশিয়ারি কমিটি ট্রাম্পের ‘অপসারণ’ অনুমোদন করে দেওয়ায় তা এখন হাউস অব ...

সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: আগামী ২৭-২৯ ডিসেম্বর তুফানগঞ্জ-১ ব্লক কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে এবং ব্লক প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি কৃষি মেলা আয়োজিত হবে। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের চিলাখানা ফুটবল মাঠে এই মেলা হবে।   ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: জমির রেকর্ড নিজের নামে না থাকায় চাষিদের অনেকেই বুলবুলের ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এনিয়ে কৃষক মহলে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কৃষক সংগ্রাম পরিষদ।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

পিতার স্বাস্থ্যহানী হতে পারে। আর্থিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব হবে না। পঠন-পাঠনে পরিশ্রমী হলে সফলতা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক চা দিবস
১৮৭৭- টমাস এডিসন ফোনোগ্রাফের পেটেন্ট নিলেন,
১৯০৮- রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী রঙ্গনাথানন্দের জন্ম,
১৯৫০- সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মৃত্যু,
১৯৭৬- ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়ার জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৮০ টাকা ৭১.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৪৩ টাকা ৯৬.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.৪৪ টাকা ৮০.৪৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
14th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৪৫৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭, ০৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪, ০০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪, ১০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, তৃতীয়া ২/৪৫ দিবা ৭/১৮ পরে চতুর্থী ৫৮/২৫ শেষরাত্রি ৫/৩৫। পুষ্যা ৫৪/৩০ রাত্রি ৪/১। সূ উ ৬/১২/৩৫, অ ৪/৫০/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৪ গতে ৯/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে। রাত্রি ৭/৩০ গতে ৯/১৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ১/৪৪ মধ্যে পুনঃ ২/৩৮ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/১২ গতে ১২/৫১ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১১ গতে ২/৫১ মধ্যে। 
২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, তৃতীয়া ৫/৩৫/৫৭ দিবা ৮/২৮/৫০। পুনর্বসু ১/১৯/৩২ প্রাতঃ ৬/৪৬/১৬ পরে পুষ্যা ৫৮/৫৩/৩৭ শেষরাত্রি ৫/৪৭/৫৪, সূ উ ৬/১৪/২৭, অ ৪/৫০/২৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১২/১ গতে ২/৫১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৯ গতে ৯/২৬ মধ্যে ও ১২/৭ গতে ১/৫৪ মধ্যে ও ২/৪৭ গতে ৬/১৫ মধ্যে, কালবেলা ১১/৩২/২৬ গতে ১২/৫১/৫৫ মধ্যে, কালরাত্রি ১/১১/৫৬ গতে ২/৫৩/২৬ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৭ রবিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
প্রথম ওয়ান ডে: ভারত ৩৩/২ (১০ ওভার) 

02:23:55 PM

রাজ্যের ৫টি জেলায় বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা 
গুজব আর উস্কানি ছড়ানো রুখতে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা ...বিশদ

02:22:25 PM

কোচবিহারের রানিরহাটে পথ দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু
 

রবিবার সকালে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল এক যুবকের। আহত হয়েছেন ...বিশদ

01:57:24 PM

এনআরসি প্রতিবাদে মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে শুরু হল মিছিল

01:48:00 PM

বারুইপুর, ডায়মন্ডহারবার, লক্ষ্মীকান্তপুর লাইনে বন্ধ ট্রেন চলাচল
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মল্লিকপুরে এনআরসির প্রতিবাদে অবরোধ। রবিবার সকাল থেকেই ...বিশদ

01:47:00 PM

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য, আটক বলিউড অভিনেত্রী
দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ...বিশদ

01:36:38 PM