Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। মাঝে নরেন্দ্র মোদির অভূতপূর্ব জয় ও ২০২৪ সাল পর্যন্ত গেরুয়া বাহিনীর দেশ শাসনের ছাড়পত্র পাওয়া নিয়ে মজে থাকা। তারপর নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশনেই তিন তালাকের মতো বর্বর প্রথা বন্ধে আইন প্রণয়ন ও কাশ্মীরের ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি ঘিরে ব্যাপক প্রচার মোদি সরকারের সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িকভাবে দেশবাসীর সমীহ আদায় করে নিয়েছিল। আর বছরের শেষ পর্বে শুরু হল দীর্ঘ ২৭ বছর পর অযোধ্যার মন্দির-মসজিদ রাজনীতির সমাধানের নয়া অধ্যায়। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার দেশের মহামান্য প্রধান বিচারপতি এক ঐতিহাসিক রায়ে অযোধ্যার বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমির উপর রামলালার অধিকারকেই আইনি স্বীকৃতি দিয়েছেন। আদালতের রায়ে ওই জমির মালিকানা যাচ্ছে রামজন্মভূমি ন্যাসের হাতে। আগামী তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে ট্রাস্ট তৈরি করে সেখানে দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষিত রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরুর নির্দেশও দিয়েছে ৫ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ। একইসঙ্গে মসজিদ নির্মাণের জন্য মুসলিমদের অন্যত্র সরকারকে ৫ একর জমি দিতেও বলা হয়েছে। অর্থাৎ এই রায়ে একইসঙ্গে মন্দির ও মসজিদ নির্মাণের পথই সুগম হল। নিঃসন্দেহে এরকম দশকের পর দশক চলে আসা একটি সংবেদনশীল মামলায় দুই সম্প্রদায়কে যতটা সম্ভব খুশি রেখে ভারসাম্যের রায় স্বাগত। তার উপর বেঞ্চের ৫ সদস্যই সর্বসম্মত রায় দিয়েছেন। অর্থাৎ রায় নিয়ে মহামান্য বিচারপতিদের মধ্যে কোনও দ্বিমত ছিল না। একমত হয়েই স্বাধীন ভারতের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে পাঁচ মহামান্য বিচারপতি সই করেছেন। প্রাথমিকভাবে সবপক্ষ রায়কে স্বাগত জানালেও দেশজুড়ে আগাম সতর্কতা জারি হয়েছে। বহু জায়গায় আধাসেনা নেমেছে। সংঘাত-সংঘর্ষ এড়িয়ে শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখাই এই মুহূর্তে প্রতিটি নাগরিকের এবং ক্ষমতাসীন সরকারের একান্ত কর্তব্য হওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রতিটি রাজনৈতিক দলের উচিত, রায় নিয়ে জয়-পরাজয়ের সঙ্কীর্ণ রাজনীতি না করা। ফায়দা লুটতে গিয়ে অযথা উত্তেজনায় ইন্ধন দিলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। যে কোনও মূল্যে তাই মানুষে মানুষে সম্প্রীতি রক্ষা জরুরি। বিশেষ করে অর্থনীতির অবস্থা যখন একেবারে তলানিতে, তখন এ ধরনের সংবেদনশীল ইস্যুতে অশান্তি কোনওমতেই বরদাস্ত করা যায় না। আর্থিক মন্দার বাজারে এমনিতেই বর্তমানে কর্মসংস্থানের অবস্থা তথৈবচ। নোটবন্দির পর তিনবছর কেটে গেলেও সেই দগদগে ক্ষত সারিয়ে এখনও বিধ্বস্ত আর্থিক কাঠামোর সুস্থ হওয়ার যেন লক্ষণই নেই, তার প্রমাণ ছড়িয়ে রয়েছে সর্বত্র। বেশি খোঁজার দরকার নেই। সরকার প্রথমটায় না মানলেও, এখন ধীরে ধীরে নিজের অজান্তেই তা স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর ঘনঘন উদ্বিগ্ন সাংবাদিক সম্মেলন ও কিছু বেপরোয়া ঘোষণা তারই অকাট্য প্রমাণ বহন করছে। সাধারণ মানুষের হাতে কাজ না থাকলে, মানুষ আর্থিকভাবে বিপন্ন হলে মন্দির মসজিদ দিয়ে ভুলিয়ে রাখা কি সম্ভব?
তিনবছর আগে প্রথমে নোটবন্দির ধাক্কা, আর তার পরে জিএসটির সাঁড়াশি চাপে সেই যে বাজার ঘুমিয়ে পড়েছে, তা আজও কাটেনি। সব হাতে কাজ নেই। সদ্যসমাপ্ত অক্টোবর মাসের বেকারত্বের হার রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৫ শতাংশে। ঠিক তার আগের মাসে এই হার ছিল ৭.২ শতাংশ। নোটবন্দির পর ২০১৭ সাল থেকেই দেশে বেকারত্বের হার ক্রমে বাড়তে থাকে। ওই বছর হার ছিল ৬.১ শতাংশ। একটি পরিসংখ্যান বলছে ৪৫ বছরে দেশে এমন বেকারত্ব দেখা যায়নি। এমনকী, জিএসটি থেকে আদায় প্রথম দিকে কিছু বাড়লেও এই উৎসবের মাসে সেটাও ৫.৩ শতাংশে নেমে এসেছে। আর এইখানেই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। অথচ, সরকারটা কিন্তু বেমালুম চলছে বিরোধীদের সবক্ষেত্রে কোণঠাসা করে। এমনকী, খোদ গান্ধী পরিবারের এসপিজি নিরাপত্তা পর্যন্ত পত্রপাঠ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক কিছু কম হচ্ছে না। বিরোধীদের অসম্মান করে, কোণঠাসা করে প্রকৃত গণতন্ত্র
বাঁচতে পারে না। একদা কংগ্রেসও এই একই ভুল করেছে। আজও সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। সেটাই একান্ত দুঃখের।
তবে ধুরন্ধর শাসক যতই ফন্দি ফিকির করুন না কেন রাজনীতির সাফল্য তখনই সম্ভব হয় যখন অর্থনীতি চাঙ্গা থাকে। মরা, এমনকী ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিও দেশকে, দেশের মানুষকে কোনওদিন ভালো রাখতে পারে না। দেশকে ভালো রাখতে শিল্পোৎপাদন বাড়ানো তাই একান্ত জরুরি। আর সামগ্রিক চাহিদা বাড়লে তবেই উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। একমাত্র তখনই নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হন লগ্নিকারীরা। লগ্নি বাড়লে কর্মসংস্থানের পরিবেশও সুগম হয়। কিন্তু, নোটবন্দি ও জিএসটির জোড়া সঙ্কটে শিল্পের পরিবেশ ক্রমেই সঙ্কটজনক হয়ে দাঁড়াচ্ছে। শিল্পোৎপাদন কমছে। চাহিদা কমছে। এর ফলে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন আর বৃদ্ধির জায়গায় নেই। শিল্প ও উৎপাদন মার খেলে দেশের খেটে-খাওয়া শ্রমিক-কর্মচারীরা কোনওভাবেই ভালো থাকতে পারে না। অর্থনীতির এটাই সহজ পাঠ। তাই বিশ্বব্যাঙ্ক, আইএমএফ, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কেউই এই কঠিন সময়ে কোনও স্বস্তি দিতে পারছে না। হঠাৎই গাড়ি শিল্পে এক ভয়ঙ্কর মন্দা নেমে এসেছে। কয়েক লক্ষ লোক এই উৎসবের মরশুমেই কাজ হারিয়ে বেকার। একই অবস্থা নির্মাণ ও আবাসন শিল্পেও। সেখানেও হাজার হাজার অসমাপ্ত প্রকল্প শত শত শ্রমিক কর্মচারীর মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়েছে। বোনাস পাওয়া তো দূর অস্ত, প্রতি মাসে তাঁরা বেতনটুকুও পাচ্ছেন না। বিরোধীদের অভিযোগ, আসল সমস্যার সমাধান করতে না পেরেই ক্রমাগত অন্যদিকে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এবারও একদিকে যখন কাশ্মীরি ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি ঘিরে মোদি সরকার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে, তখনই আবাসন শিল্পের এই মন্দা হাজার হাজার শ্রমিককে বেকারত্বের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বহু প্রথম সারির কর্পোরেট সংস্থায় ব্যাপক ছাঁটাই পর্যন্ত শুরু হয়ে গিয়েছে।
মাঝেমধ্যে শেয়ার বাজার চাঙ্গা হওয়ার খবরে একশ্রেণীর বড়লোক খুশি হলেও এর কোনও প্রভাব খেটে খাওয়া আম জনতার কাছে পৌঁছয় না। গাড়ি শিল্পে যেমন ব্যাপক কর্মচ্যুতির সঙ্কট নেমে এসেছে, তেমনি নির্মাণ ও আবাসনের মতো অসংগঠিত ক্ষেত্রেও অবস্থা তথৈবচ। এমএ, পিএইচডি করেও বহু কৃতী ছেলেমেয়ে কম বেতনে অল্প যোগ্যতার চাকরিতে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল তৈরি করছে নির্মাণ ও আবাসন শিল্পকে কিছুটা চাঙ্গা করতে। এই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি দেবে ১০ হাজার কোটি টাকা। আর স্টেট ব্যাঙ্ক ও এলআইসি দেবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সারা দেশে আটকে থাকা বা অসমাপ্ত ১৬০০টি আবাসন প্রকল্পে প্রায় সাড়ে চার লক্ষ ফ্ল্যাট এই নয়া প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ হতে পারবে। কিন্তু, এনপিএ বা দেউলিয়া হয়ে যাওয়া আবাসন প্রকল্পে টাকা ঢেলে নতুন করে কি কোনও সুরাহা মিলবে, নাকি ফের ওই টাকাও জলে যাবে—তা নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। এর উপর বেসরকারি ক্ষেত্রে যখন পরিস্থিতি সঙ্কটজনক তখনই বিএসএনএল-কে বাঁচাতে কেন্দ্রীয় সরকার এক স্বেচ্ছাবসর কর্মসূচি চালু করেছে। এটা একদা সরকারের অত্যন্ত লাভজনক সংস্থা বিএসএনএল-কে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা। এই পদক্ষেপ যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সামগ্রিকভাবে সরকারের মুখ পুড়তে বাধ্য। সব হাতে কাজ না-থাকলে সবার বিকাশ সম্ভব নয়। কাশ্মীর, ৩৭০ ধারা ও ৩৫এ ধারার অবলুপ্তি গত আগস্ট মাস থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিঃসন্দেহে একটা গতি দিয়েছে, তার সংস্কারমুখী ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে। যদিও ব্যাপক প্রচার চললেও তার কোনও প্রতিফলন আমরা মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার নির্বাচনের ফলে দেখিনি। এখন আবার অযোধ্যার রায় এসে গিয়েছে। আগামী কিছুদিন তাই অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ই জাতীয় রাজনীতির মূল চালিকা শক্তি হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ ভুলে যাবে অর্থনীতির সঙ্কটের কথা। ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির কথা। পেঁয়াজের দাম যে কোন জাদুতে ৮০ টাকা কেজি হল, সেই রহস্যের কথা। বেকারত্ব, কাজহারা মানুষের বিলাপ, আর্তনাদ
এসব ছাপিয়ে আবার মন্দির-মসজিদ নিয়ে আমরা মেতে উঠব! রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরাও তার ফায়দা তুলতে কসুর করবেন না। কিন্তু, সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ যে তিমিরে সেই তিমিরেই দিন কাটাবে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতি আগামী তিন-চার মাস কোন পথে চলে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক প্রতীক্ষা।
নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি মুখে যাই বলুন, বেকারত্ব বৃদ্ধি নিয়ে তাঁরাও যে উদ্বিগ্ন তার হাতে গরম প্রমাণ ইতিমধ্যেই মিলেছে। আর সেই উদ্বেগের ধাক্কাতেই চাকরি ও কর্মসংস্থান নিয়ে মোদি সরকার সম্প্রতি ব্যাংককে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে সই করা থেকে পিছু হটেছে।
১৬টি দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত হয়েও শেষ পর্যন্ত ওই চুক্তিতে সই করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। সবাইকে অবাক করেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, অন্তরাত্মার ডাকেই একাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী যতই জাহির করুন না কেন, বিরোধীদের চাপ এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণেই তিনি যে শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়েছেন, তা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার। অন্যথায় চীনাসহ অন্যসব বিদেশি সামগ্রীতে বাজার আরও ছেয়ে যেত। ভারতীয় জিনিস কেনার আর কেউ থাকত না। কাজ হারাত এ দেশেরই অসহায় শ্রমিকরা। যে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র ডাক দিয়ে নরেন্দ্র মোদি দেশীয় শিল্পকে নতুন করে উৎসাহ দেওয়ার কৌশল নিয়েছিলেন তা মাঠে মারা যেত। তবে আগামী দিন যে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হতে চলেছে তার ইঙ্গিত দেশের আম জনতা, খেটে-খাওয়া মানুষ ইতিমধ্যেই পেতে শুরু করে দিয়েছে। অযোধ্যা বা মন্দির-মসজিদ দিয়ে ভোটের আসর সাময়িক মাত করা যায়, কিন্তু তা দিয়ে গরিবের পেট ভরে না। এই আপ্তবাক্য আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতারা কবে বুঝতে পারবেন? ভোটের নাগপাশ থেকে বেরিয়ে কবে তাঁরা মানুষের স্বার্থে উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করবেন, তা ঈশ্বরই জানেন।  
10th  November, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
ফতেপুর, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): উত্তরপ্রদেশে একের পর এক ধর্ষণ এবং সেই সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবার সেই রাজ্যের ফতেপুর জেলার জাফরগঞ্জে ১৬ বছরের এক ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিল অভিযুক্তদের পরিবার। শীর্ষস্থানীয় পুলিস অফিসারদের কাছে ওই নাবালিকা এমনটাই অভিযোগ ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া হতে দেরি হওয়ার অভিযোগে বুধবার বিকেলে ফুলেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর চালাল রোগীর আত্মীয়রা। এই ঘটনাকে ...

বিএনএ, আসানসোল: ডিসেম্বরের শুরুতে জাঁকিয়ে শীত না পড়লেও দুর্গাপুর ব্যারেজ সহ চিত্তরঞ্জনের নানা ঝিল ও মাইথন জলাধারে পরিযায়ী পাখির দল ভিড় জমাতে শুরু করেছে। বেশ কয়েক বছর আগে পরিযায়ী পাখির আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও ফের তাদের সংখ্যা বাড়ছে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১১: রদ হল বঙ্গভঙ্গ
১৯১১: নতুন রাজ্য হল বিহার ও ওড়িশা
১৯১১: কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল দিল্লিতে
১৯৫০: অভিনেতা রজনীকান্তের জন্ম
১৯৫৭: পূর্ব রেলে ইএমইউ ট্রেনযাত্রা চালু
২০০৫: পরিচালক রামানন্দ সাগরের মূত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৪ টাকা ৭১.৭৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৭ টাকা ৯৪.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৫ টাকা ৮০.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/১৯ দিবা ১০/৪২। রোহিণী ০/২৮ দিবা ৬/২২। সূ উ ৬/১০/৪৫, অ ৪/৪৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪১ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৯ গতে ১/৯ মধ্যে।
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/৫৬/৫১ দিবা ১০/৫৯/৫। রোহিণী ২/৩৮/১৪ দিবা ৭/১৫/৩৯, সূ উ ৬/১২/২১, অ ৪/৪৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/২৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৪/৩৩ গতে ৬/১৩ মধ্যে, কালবেলা ২/১০/২১ গতে ৩/৩০/১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/১ গতে ১/১১/২১ মধ্যে।
১৪ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গড়িয়াহাটের গড়চায় মহিলার দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য
গড়িয়াহাটের গড়চায় মহিলার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য। পুলিস সূত্রে ...বিশদ

02:05:47 PM

বাগুইআটি খুনের ঘটনায় ডগ স্কোয়াড নিয়ে অকুস্থলে এল পুলিস

01:54:41 PM

এনআরসি, ক্যাব নিয়ে আগামী ২০ ডিসেম্বর তৃণমূলের জরুরি বৈঠক
এনআরসি এবং ক্যাব নিয়ে দলের রণকৌশল নির্ধারণে আগামী ২০ ডিসেম্বর ...বিশদ

01:34:00 PM

মালদহের বৈষ্ণবনগরে জালনোট সহ ধৃত ১
মালদহের বৈষ্ণবনগরে জালনোট সহ ধৃত এক। ধৃতের নাম আনারুল ইসলাম। ...বিশদ

12:55:00 PM

বিধায়ককে গ্রেপ্তারের দাবিতে রায়দিঘিতে সড়ক অবরোধ
বিধায়ক দেবশ্রী রায়কে গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ দক্ষিণ ২৪ ...বিশদ

12:50:00 PM

মালদহের চাঁচলে অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার
 

মালদহের চাঁচল এলাকার মালতিপুরে অজ্ঞাতপরিচয় এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধারকে ঘিরে ...বিশদ

12:49:01 PM