Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ঐতিহাসিক নভেম্বর বিপ্লব: ফিরে দেখা
জিষ্ণু বসু

রুশ বিপ্লবের গৌরবগাথা শুনেই আজকের বাঙালি বড় হয়েছে। জারের অত্যাচার থেকে রাশিয়ার মানুষকে বাঁচানোর জন্য বিপ্লব হয়েছিল কমরেড লেনিনের নেতৃত্বে। আশির দশক পর্যন্ত বাঙালির ঘরে ঘরে ‘সোভিয়েত দেশ’ পত্রিকা আসত। ওইসব পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে আর দেশের বর্ণনা পড়ে মনে হতো পৃথিবীতে যদি স্বর্গ কোথাও থেকে থাকে তো সেটা সোভিয়েত রাশিয়া। আর এই স্বর্গের যিনি নির্মাতা তিনি কমরেড জোসেফ স্তালিন।
১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন ভেঙে গেল কেবল তখনই বাইরের সংবাদমাধ্যম রাশিয়ার ভেতরটা দেখতে পেল। দেখা গেল স্বর্গ তো দূরের কথা, দারিদ্র্য, অপুষ্টি, দুর্নীতিতে জর্জরিত দেশটার অবস্থা নরকের থেকেও খারাপ। ক্ষুধা এতটাই ভীষণ যে একটি ১৭ বছরের মেয়ে একবেলা পেট ভরে খেতে পাওয়ার বিনিময়ে জীবনের সবটুকু দিতেও রাজি আছে! সবকিছুই লুকিয়ে রাখা হতো। চেরনোবিল-এর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভয়ানক ঘটনাও কমিউনিস্ট সরকার প্রথমে লুকাবার চেষ্টা করেছিল।
সোভিয়েতের পতনের পরে ধীরে ধীরে সব সত্য সামনে এসে গেল। এমনকী রুশ গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি’র অতি গোপন ফাইলও সারা পৃথিবীর মানুষ দেখতে পেল। আজকের গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিস্তৃত বর্ণনা, বৈজ্ঞানিক যুক্তিবোধ এসবের নিরিখে নভেম্বর বিপ্লবের পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। কেবল কমিউনিজমের প্রতি ভক্তিভাব নিয়ে এই ঐতিহাসিক ঘটনার বিশ্লেষণ করা এক ধরনের ধর্মান্ধতা। আধুনিক যুক্তির আলোকে রুশ বিপ্লবের ঘটনাকে ফিরে দেখা প্রয়োজন।
প্রথমেই বলা দরকার যে, ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসের ৭ তারিখে মস্কোতে জারের শাসনের পতন হয়নি। সে বছর ফেব্রুয়ারি মাসেই জারের সাম্রাজ্য শেষ হয়ে গিয়েছিল। দেশে একটি গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা শুরু হয়েছিল। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার, কিয়েরেনস্কির নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা আর দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধরে রাখার জন্য একটি সংসদও গঠিত হয়েছিল, রুশ ভাষায় যাকে ‘ডুমা’ বলা হতো। ৭ নভেম্বর মধ্যরাত্রে বলশেভিকরা এই ডুমার সদস্যদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে। ত্রোৎস্কির নেতৃত্বে বলশেভিকদের এই অভিযানে সহায়তা করেছিলেন ‘জার্মান গোল্ড’ দিয়ে কেনা সরকারি আধিকারিক ও সৈনিকদের একাংশ। গণতন্ত্র সমাপ্ত হওয়ার পরে, ৮ নভেম্বর অজ্ঞাতবাস থেকে আত্মপ্রকাশ করেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিওনভ ওরফে লেনিন। পেত্রোগার্দ, মানে আজকের সেন্ট পিটার্সবাগে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন লেনিন।
৫ মে ১৯২০ আরও একটি বিখ্যাত ভাষণ দেন লেনিন। মস্কোর শ্রেদলোফ স্কোয়ারে সেই বক্তৃতাস্তম্ভের ঠিক নীচে দাঁড়িয়েছিলেন লিঁওফ ত্রোৎস্কি। যাঁর আসল নাম ছিল লেভ ডাভিডোভিচ ব্রণস্টেইন। পরে অবশ্য স্তালিন সেই ছবিটিকে বিকৃত করে বিশ্বের দরবারে পেশ করেন। ত্রোৎস্কিকে সরিয়ে সেখানে কয়েকটি কাঠের তক্তা রাখা হয়। সেটা ফটোশপের যুগ ছিল না, তবু রুশ শিল্পীরা ভালোই কাজ করেছিলেন কমরেড স্তালিনের আদেশে। ঐতিহাসিক ওই দিনগুলির কথা বিস্তৃতভাবে লিখেছিলেন এক তরুণ মার্কিন সাংবাদিক জন রিড। ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’ পুস্তকে ত্রোৎস্কির বীরত্বের কথাই বলা আছে। ১৯১৯ সালে লেনিন এই বইটি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর শ্রমিকদের কাছে এই বইটি পড়ার জন্য আমি সুপারিশ করছি। আমি চাই পৃথিবীর সব ভাষায় এই সত্যনিষ্ঠ বইটির কোটি কোটি কপি ছাপা হোক’। ১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর জনের মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মৃত্যু হওয়ার পর তাঁকে অত্যন্ত সম্মানের সঙ্গে ক্রেমলিন ওয়াল নেক্রোপলিস প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়। কিন্তু লেনিনের মৃত্যুর পরে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। যেহেতু জন রিড তাঁর গ্রন্থে স্তালিনের ভূমিকা বিশেষ বর্ণনা করেননি, তাই খোদ রাশিয়াতেই নিষিদ্ধ হয়ে গেল ‘দুনিয়া কাঁপানো দশ দিন’।
শুরু হল ত্রোৎস্কিকে মুছে ফেলার পালা। ত্রোৎস্কি ১৯১৮ সালের বসন্তে ‘রেড আর্মির’ প্রধান হয়েছিলেন। সেই বীরকেই নিজের দেশ ছেড়ে যেতে হল প্রাণ বাঁচাতে, স্ত্রী আর পুত্রকে নিয়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। প্রথমে তুরস্কে, তারপর ফ্রান্সে, এরকম হতে হতে তাঁর শেষ ঠিকানা হয়েছিল মেক্সিকো। কিন্তু ১৯৩৯ সালের শেষের দিকে স্তালিন ত্রোৎস্কিকে মারার জন্য এন কে ভি ডি’র আধিকারিক পাভেল সুডোপলাটভকে নিয়োগ করলেন। তাঁরা মেক্সিকোর স্থানীয় দু-একজন পেশাদার খুনিকেও ভাড়া করেন। ১৯৪০ সালের ২৪ মে এই দল ত্রোৎস্কির বাড়ি আক্রমণ করে, তাঁর ১৪ বছরের নাতিকে গুলি করে আততায়ীরা। সেই বছর ৮ জুন ত্রোৎস্কি লিখলেন, ‘স্তালিন আমার মৃত্যু চান।’ তারপর শেষের সেই দিন এসে গেল। ১৯৪০ সালের ২০ আগস্ট বরফ কাটার কুড়ুল দিয়ে মাথার পিছনে আঘাত করা হল তাঁকে। একদিন পরেই মৃত্যু হল লেনিনের মূল সহযোগী ত্রোৎস্কির, হত্যার মূল যন্ত্রী ছিলেন জোসেফ স্তালিন।
রোমানভ পরিবারের হত্যাকাণ্ডও পৃথিবীর নির্মমতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। জার দ্বিতীয় নিকোলাস তো বহুদিন ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন। তার পর থেকে ওই পরিবারকে জবাই করতে
আনা পশুর মতো এক স্থান থেকে অন্য স্থানে
নেওয়া হতে থাকে।
পরিবারের সদস্যরা; জার, জারিনা আলেকজান্দ্রা, চার মেয়ে ওলগা, মারিয়া, তাতিয়ানা, আনাস্তাসিয়া, একটি মাত্র ছোট ছেলে অ্যালেক্সি। ইকাটেরিনবুর্গের এক ইঞ্জিনিয়ারকে হত্যা করেছিল বলশেভিকরা। শেষে সেই বাড়িটাতেই রোমানভদের রাখা হয়েছিল। বাড়ির কোনও দরজায় ছিটকানি ছিল না। চার-চারটি প্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে নিয়ে জারিনার জীবন মৃত্যুর সমান হয়ে গিয়েছিলেন। বাইরের যে কোনও লোক তাঁদের শয়ন কক্ষে, স্নানঘরে ঢুকে পড়ত। এত অত্যাচার করেও ওই পরিবারের সদস্যদের নিস্তার দেওয়া হয়নি। ১৯১৮ সালের ১৭ জুলাই ওই পরিবারের সব সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুটি মেয়ে গুলি লাগার পরেও নড়ছিল। তাই বলশেভিকরা তাদের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
ইউরোভস্কি নামে চেকার এক অফিসার এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনিই জারকে এক লাইনের বিচার শুনিয়েছিলেন, ‘নিকোলাই আলেকজান্দ্রোভিচ, যেহেতু তোমার আত্মীয়রা এখনও সোভিয়েত রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে, তাই ইউরাল এক্সিকিউটিভ কমিটি তোমাদের হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ জার বাচ্চাদের দেখছিলেন, একবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কী? কী বললে?’ ইউরোভস্কি ঝটপট রায়টি আরেকবার পড়েই নিজের কোল্ট রিভলভার বের করে গুলি চালানো শুরু করলেন। মারিয়া, ওলগা পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মিলিটারি অফিসার পিটার ইরমাকভের বন্দুক গর্জে উঠল। এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তৃত বর্ণনা ইউরোভস্কি শ্রদ্ধাভরে মস্কোতে পাঠিয়েছিলেন।
এতকিছুর পরেও যে শাসন ব্যবস্থা রাশিয়াতে এসেছিল, তা যে কত নিষ্ঠুর ছিল সেটাও আলোচনা প্রয়োজন। সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরে মানুষ কেমন ছিলেন? সে স্বপ্নের কথা শুনে বাংলার দুই প্রজন্ম বড় হয়েছে। সেই শ্রেণীহীন সমাজ বা সমগ্র সমাজে শ্রেণীচেতনার বিকাশ কেমন হয়েছিল? ১৯৯১ সালে সাত দশকের সোভিয়েত শাসনের পরে যখন ইউনিয়ন ভেঙে গেল তখন তার থেকে চারটি ইসলামিক রাষ্ট্র আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান, কাজাকিস্তান আর উজবেকিস্তানের জন্ম হয়েছে। এত বছরের কমিউনিস্ট শাসনেও এইসব জায়গায় একবিন্দুও শ্রেণীচেতনা বাড়েনি আর মৌলবাদের প্রভাবও কমেনি।
কমিউনিস্ট শাসকরা এক একটি প্রাচীন জাতির উপর নিজেদের মত চাপিয়েছিলেন। যেসব জনগোষ্ঠী তা মানতে চায়নি তাদের উপর নির্দয় অত্যাচার নেমে এসেছে। এই রকম শত শত মর্মন্তুদ ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ছিল ইউক্রেনের ‘হলোডোমার’। হলোডোমার অপারেশন স্তালিন চালিয়েছিলেন ১৯৩১-৩২ সালে। কেবল খাদ্যশস্য বন্ধ করে দিয়ে স্তালিন এক বছরের কিছু বেশি সময় প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার সাধারণ ইউক্রেনবাসীকে হত্যা করেছিলেন।
যতদিন পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অস্তিত্ব ছিল ততদিন সারা পৃথিবীতে কমিউনিজমের নামে এই নিষ্ঠুরতাকে নির্লজ্জভাবে চালানো হয়েছে। শিক্ষিত রুচিশীল বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের একাংশ বৃহত্তর মানবিক স্বার্থের নামে এইসব অমানবিক কাজের সমর্থন করতেন। ডুমা সদস্যদের হত্যা এক অর্থে গণতন্ত্রের হত্যাই ছিল। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমাপ্তি না ঘটালে সর্বহারার একনায়কতন্ত্র সম্ভব নয়। তাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সঙ্গে যারাই যুক্ত, তাদেরকে শেষ করলেই বিশ্বজুড়ে যৌথ খামার হবে। এই আকাশকুসুম কল্পনাতে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষের প্রাণ গেছে।
এই বছরই এপ্রিল মাসে ওড়িশার কান্দামাল জেলায় লোকসভা ভোটের সময় সংযুক্তা দিগলের হত্যায় আবার এক প্রশ্ন সামনে উঠে এল। ৩১ বছরের তফসিলি জাতির দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সংযুক্তা ছিলেন প্রথম প্রজন্মের শিক্ষিত। সরকারি আধিকারিকের চাকরি পেয়েছিলেন নিজের যোগ্যতায়। গত বছরই বিয়ে হয়েছিল সংযুক্তার। কিন্তু অতিবিপ্লবীরা ভোট নিতে যাওয়ার অপরাধে তাঁর সব স্বপ্ন শেষ করে দিল। নভেম্বর বিপ্লবের শতবর্ষে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে’ ডেভিড স্যাটারের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছিল, ‘হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ কমিউনিজম অ্যান্ড হান্ড্রেড মিলিয়ন ডেড’। লেখায় উঠে এসেছে গত ১০০ বছরে বিপ্লবের নামে কীভাবে ১০ কোটি মানুষের প্রাণ গিয়েছে।
এই তালিকায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেন বা কান্দামালের সংযুক্তা দিগলের মতো নিরপরাধ মানুষের নামও যুক্ত হওয়া উচিত। ঐতিহাসিক নভেম্বর বিপ্লবের দিবস সেই সব মানুষের বলিদানেরও স্মরণের দিন।
 লেখক কলকাতায় সাহা ইনস্টিটিউট অফ
নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এ কর্মরত।
07th  November, 2019
সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
একনজরে
জুরিখ, ৩১ মে: করোনা ভাইরাসের ওষুধ, ভ্যাকসিন ও পরীক্ষা করার কিট পাওয়া নিয়ে যাতে বৈষম্য তৈরি না হয়, তার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে একযোগে আর্জি জানাল ৩৭টি দেশ। মারণ এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে চলে এলে তার পেটেন্ট নিয়ে লড়াই ...

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: গঙ্গারামপুর পুরসভায় প্রশাসক বোর্ড দায়িত্ব নিয়েই শহরের জল প্রকল্প ও নিকাশি নালার কাজের উপর জোর দিল। গত ২০ মে পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর রাজ্যের নির্দেশে পাঁচ জনের প্রশাসক বোর্ড ২৩ মে দায়িত্ব নিয়েছে।  ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ থেকে বোমাবাজির জেরে জখম হয়েছেন কয়েকজন। আহতরা সকলে যুব শিবিরের অনুগত। প্রতিবাদে যুব গোষ্ঠী রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে। ...

মৃণালকান্তি দাস, কলকাতা: চার্লস মিলারের গল্পটা জানেন তো? স্কটল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে চার্লস ব্রাজিলে ফিরেছিলেনএকটি ফুটবল হাতে নিয়ে। সবাই জানতে চেয়েছিল, ‘ওই গোল জিনিসটা কী?’ উত্তর ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস
১৮৭৪ - ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়।
১৯২৬- আমেরিকার মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা মেরিলিন মনরোর জন্ম
১৯২৯- অভিনেত্রী নার্গিসের জন্ম
১৯৩৪ - কবি, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৬৪- সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের জন্ম
১৯৬৮- মার্কিন লেখিকা ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের মৃত্যু
১৯৭০- অভিনেতা আর মাধবনের জন্ম
১৯৮৫ - ভারতীয় ক্রিকেটার দিনেশ কার্তিকের জন্ম।
১৯৯৬-ভারতের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডির মৃত্যু
২০০১- নেপাল রাজপরিবারে হত্যাকাণ্ড। যুবরাজ দীপেন্দ্র গুলি করে হত্যা করে বাবা, মা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র এবং রানি ঐশ্বর্যসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
২০০২ - দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হানসি ক্রোনিয়ের মৃত্যু,
২০০৯- রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিস আসার পথে অতলান্তিক মহাসাগরে ভেঙে পড়ল এয়ার ফ্রান্সের এয়ারবাস এ ৪৪৭। মৃত ২২৮ আরোহী।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
31st  May, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী ২৫/৫ দিবা ২/৫৮। হস্তা নক্ষত্র ৫০/১৮ রাত্রি ১/৩। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৬, সূর্যাস্ত ৬/১২/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/২৮ গতে ১০/১৪ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫ গতে ১১/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/২১ গতে ২/৪৭ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৫ মধ্যে পুনঃ ২/৫৩ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৩ গতে ১১/৩৪ মধ্যে।
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী দিবা ১২/১৪। হস্তানক্ষত্র রাত্রি ১১/১। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০ গতে ১০/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৮ গতে ১১/৫৮ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৫০ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ২/৫৫ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে।
৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উত্তর প্রদেশে করোনা আক্রান্ত আরও ২৯৬, মৃত ৫ 
উত্তর প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ২৯৬ জন। ...বিশদ

09:21:40 PM

মুম্বইয়ে করোনা আক্রান্ত আরও ১৪১৩, মৃত ৪০ 
মুম্বইয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৪১৩ জন। মৃত ...বিশদ

09:12:55 PM

গুজরাটে করোনা আক্রান্ত আরও ৪২৩, মৃত ২৫ 
গুজরাটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪২৩ জন করোনা আক্রান্ত ...বিশদ

08:55:01 PM

বন্ধ কামাক্ষ্যা মন্দির, হচ্ছে না অম্বুবাচী মেলাও 
আগামী ৩০ জুন অবধি বন্ধ থাকছে কামাক্ষ্যা মন্দির। এজন্য এবছর ...বিশদ

08:46:05 PM

দিল্লিতে করোনা রোগীর আত্মহত্যা 
দিল্লির বাটরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধ আত্মঘাতী। ৬৩ বছর ...বিশদ

08:33:43 PM

দিল্লিতে আরও ৯৯০ জন করোনা আক্রান্ত 
দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৯০ জন করোনা আক্রান্ত ...বিশদ

08:22:23 PM