Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ঘরে ঘরে হানাদার 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

উওটার স্লটবুম আমস্টারডামের একটি কাফেতে ঢুকলেন। সঙ্গে একজন ডাচ সাংবাদিক। কাফেতে ওয়াই-ফাই চলছে। স্লটবুম একটি চেয়ার টেনে বসে তাঁর ল্যাপটপটা খুললেন। পাশে ছোট কালো রঙের একটা ডিভাইস। সবকিছু সেট করে নিয়ে কাফের ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে নিজের ল্যাপটপটাকে কানেক্ট করলেন। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, ল্যাপটপে অন্য বহু ডিভাইসের আলাদা আলাদা উইন্ডো খুলে ফেলেছেন তিনি। কোন ডিভাইস? ওই কাফের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে যাঁরা কাজ করছিলেন, তাঁদেরই মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ... কেউ হয়তো গুগলে ঢুকে কিছু সার্চ করছেন, কেউ আবার ই-মেল করছেন... সবটাই দেখা যাচ্ছে স্লটবুমের ল্যাপটপে। আপনার ফোনে কোন কোন অ্যাপ ইনস্টল করা রয়েছে, আপনার ই-মেলের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড, গুগলে কী কী সার্চ করা হয়েছে এবং আরও অনেক কিছু। স্লটবুম একজন এথিক্যাল হ্যাকার। শুনতে ভালো না লাগলে গালভরা অন্য নামও আছে—তথ্য প্রযুক্তির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে তাঁর কাজ। স্লটবুমের দাবি, ৮০-৯০ ডলার খরচ করে একটা সফ্‌টওয়্যার লাগিয়ে নিলেই হবে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ডজন ডজন ব্যক্তিগত তথ্য হাতের নাগালে। এমনকী, ই-মেলের সঙ্গে যে যে অ্যাকাউন্টের সংযোগ রয়েছে, সেই সবও হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। ওই একটি কালো ডিভাইস দিয়ে। অনায়াসে তথ্যপাচার।
হ্যাকিং বিষয়টা এখন এমনই জলভাত। কিছু বিদ্যাবুদ্ধি যদি থাকে, তার সঙ্গে ঠিকঠাক সফ্‌টওয়্যার লাগিয়ে নিলেই হল। সাধারণ মানুষও অন্যের মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের আইপি হ্যাক করে নিতে পারে। সামান্য সামর্থ্য নিয়েই। আর যদি এটাই কোনও রাষ্ট্র করতে চায়? তার কিন্তু ক্ষমতা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ কর্মী... সবই বেশি। ইচ্ছেমতো।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম ধরা হয় হোয়াটসঅ্যাপকে। কারণ, এই মিডিয়াম দিয়ে কোনও মেসেজ বা কল করলে সেটা ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড’ হয়। অর্থাৎ যে মেসেজ পাঠাচ্ছে, আর যার কাছে পৌঁছচ্ছে, এই দু’জন ছাড়া আর কেউ তা দেখতে বা বুঝতে পারবে না। শুধু একটি উপায়ে সেই লোহার সিন্দুকে ফুটো করা সম্ভব। যদি ডিভাইসে বিশেষ একটা ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। তার নাম পেগাসাস। কী হয় এতে? পেগাসাসের অপারেটর আপনাকে একটা লিঙ্ক পাঠাবে, যাকে বলা হয় ‘এক্সপ্লয়েট লিঙ্ক’। তাতে ক্লিক করা মাত্রই চিচিং ফাঁকের মতো আপনার ফোন বা কম্পিউটারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই হ্যাকারের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। কারণ ততক্ষণে আপনার অজান্তেই ওই ডিভাইসে পেগাসাস ইনস্টল হয়ে গিয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ঢুকে পড়েছে ‘ক্রাইসাওর’ ম্যালওয়্যার। কোনও অ্যাপ ইনস্টল করার সময় ডিভাইস ব্যবহারকারীর থেকে যে অনুমতি চাওয়া হয়, সেটাও কিন্তু এই পেগাসাস চাইবে না। আপনার ফোন বা ল্যাপটপটি সরাসরি চলে যাবে সেই অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে। আর তার নির্দেশ মতো আপনার ডিভাইসের কনট্যাক্ট, ই-মেল, পাসওয়ার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ যাবতীয় তথ্য চুরি করে নেবে পেগাসাস। শুধু তাই নয়, আপনার মেসেজ দেখা এবং ভয়েস কল শোনার কাজটাও সেই অপারেটর বিনা বাধায় করতে পারবে। ধরুন আপনি কোনও গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে আছেন, সেই অপারেটর তখন আপনার ফোনের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন অন করে সব কিছু রেকর্ড করে নিতে পারে। আপনি জানতেও পারবেন না। আর এর নবতম সংযোজন? ‘এক্সপ্লয়েট লিঙ্ক’-এও দরকার নেই। হোয়াটসঅ্যাপে একটা মিসড ভিডিও কলই এখন যথেষ্ট। ২০১৬ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মেক্সিকোর এক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের উপর পেগাসাস ‘হামলা’ হয়। একের পর এক মেসেজ... কোথাও লেখা, আপনার মেয়ের ভয়াবহ অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন, তাহলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। কয়েকদিন পরই আরও একটা মেসেজ... আপনার স্ত্রী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছে। লিঙ্কে ক্লিক করলেই ছবি দেখতে পাবেন। মেক্সিকোর সেই ব্যক্তি অবশ্য একটি ফাঁদেও পা দেননি। বুঝেছিলেন, সবই এক্সপ্লয়েট লিঙ্ক। যদি একটিতেও তিনি ক্লিক করতেন, সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মোবাইলে পেগাসাস ইনস্টল হয়ে যেত। আর তাহলেই... খেল খতম।
এই ‘পেগাসাস’-এর প্রস্তুতকারক ইজরায়েলের এনএসও গ্রুপ। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সান ফ্রান্সিসকোর মার্কিন ফেডেরাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। তারা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৪০০ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে টার্গেট করেছে এনএসও। যার মধ্যে বেশ কিছু নম্বর ভারতেরও। সঠিক সংখ্যা? জানায়নি হোয়াটসঅ্যাপ। তবে নেহাৎ কম নয়! শোনা যাচ্ছে ১২১ জন। আক্রান্তদের নাম কিন্তু সংস্থা জানাতে চায়নি। তবে হ্যাঁ, হোয়াটসঅ্যাপ স্বীকার করেছে, ভারতে যাদের নিশানা করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের দাবি, সেই প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে এবং পেগাসাস থেকে বাঁচতে কী করতে হবে, সেটাও জানিয়েছে। এনএসও গ্রুপের একটি চুক্তি হয়েছিল সৌদি আরবের সঙ্গে... সাংবাদিক জামাল খাসোগি খুনের আগে। খাসোগি কোথায় আছেন, কী করছেন সব জানার জন্য ‘এক্সপ্লয়েট লিঙ্ক’-এর মাধ্যমে একটি স্পাইওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর ডিভাইসে। ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক ছিলেন জামাল খাসোগি। সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ... তারপর সেই রাজতন্ত্রেরই সমালোচক। ইস্তানবুলে সৌদির দূতাবাসে খুন হতে হয় তাঁকে। বাকিটা ইতিহাস এবং বর্তমানও বটে। কারণ, খাসোগি খুনের ঝাপটা এখনও খেতে হচ্ছে সৌদি আরবকে। যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনও স্বীকার করে নিয়েছেন, দায় তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না।
এ পর্যন্ত ৪৫টি দেশে পেগাসাস আঘাত হেনেছে বলে খবর। যার মধ্যে ভারতও আছে। পাঁচটি অপারেটর কাজ করছে এশিয়ায়। বিভিন্ন সূত্র মারফত পাওয়া খবর, একটি রাজনৈতিক ডোমেনের নামে পর্যন্ত এদেশে পেগাসাস অপারেটর কাজ চালাচ্ছে। তাহলে কি এর নেপথ্যে কোনও সরকার বা রাজনৈতিক দল আছে? বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস আবার দাবি করেছে, স্বয়ং প্রিয়াঙ্কার ফোনও নাকি হ্যাক হয়েছে। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের থেকে মেসেজ পাচ্ছেন। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ বলছে, আগেই কেন্দ্রীয় সরকারকে তারা সতর্ক করেছিল। একবার মে মাসে, আর একবার সেপ্টেম্বরে। আর কেন্দ্র বলছে, সে সময় এমন একটা আপাদমস্তক টেকনিক্যাল আর তালগোল পাকানো বার্তা তারা পাঠিয়েছিল, যার কিছুই বোঝা যায়নি। খুব স্বাভাবিক। এমনটা হতেই পারে। বুঝতে না পারার পর নতুন করে তার বিস্তারিত কি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল? তাহলে এখন বিষয়টার ব্যাখ্যা চেয়ে হম্বিতম্বি করে কী লাভ?
এনএসও গ্রুপের দাবি আরও মারাত্মক... পেগাসাস শুধু সরকার এবং সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে বিক্রির জন্য। ব্যক্তিবিশেষকে নয়! সেটাও সন্ত্রাসবাদ এবং ভয়াবহ অপরাধ ঠেকানোর জন্য। এই দাবি সত্যিই নড়েচড়ে বসার মতো। জানা যাচ্ছে, পেগাসাসের জন্য ২০১৫ সালে ঘানার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে এনএসও এবং স্থানীয় এক মধ্যস্থতাকারীর চুক্তি হয়েছিল ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলারের। একইভাবে মেক্সিকোর ফেডেরাল এজেন্সিগুলি ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের জন্য এনএসও থেকে এই স্পাইওয়্যার কিনেছিল ৮ কোটি মার্কিন ডলারে। কোনও সাধারণ মানুষের কি এত দাম দিয়ে পেগাসাস কেনার ক্ষমতা আছে? তাহলে কি সরকারের এখনই বিষয়টা নিয়ে একটু সিরিয়াস হওয়া উচিত নয়? ভারতে এমন কে আছে, যে এত টাকা দিয়ে পেগাসাস কিনতে পারে? অবশ্যই এর তদন্ত দরকার? সরকার এই নজরদারি না চালিয়ে থাকলে এটা পরিষ্কার, যেই একাজ করে থাকুক না কেন, মুখ পুড়ছে রাষ্ট্রের। কেন্দ্রীয় সরকারের। এই প্রবণতা ভয়ঙ্কর। রাজনৈতিক দিক থেকে সরকার বিরোধিতা এক, আর সেটাই যদি জাতীয় নিরাপত্তার উপর আঘাত হানে, তার থেকে খারাপ কিছু হতে পারে না। সরকার যদি এর যথাযথ তদন্ত না করে, মানুষের মনেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করবে... রাষ্ট্রই এর নেপথ্যে নেই তো? তাই সত্যিটা সামনে আসা খুব জরুরি। এক সময় বাজারে গুজব ছড়িয়েছিল, একজন আইপিএস অফিসারের হাতে নাকি ইজরায়েলে তৈরি এমনই একটা সফ্‌টওয়্যার আছে। যার মাধ্যমে ফোনে আড়ি পাতা যায়। রাষ্ট্র যদি শুধু সন্ত্রাসবাদ বা অন্যান্য বড় অপরাধ দমনে এর ব্যবহার করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অর্বাচীনের কাজ। কিন্তু সাধারণ মানুষকে অসহায় করে তাঁর সর্বস্ব কেড়ে নেওয়াটা গণতান্ত্রিক দেশের শাসকের কাজ হতে পারে না। কারণ এ শুধু আড়ি পাতা নয়, পেগাসাস ব্যবহার মানে ঘরের ভিতর ঢুকে পড়া। হানা দেওয়া গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায়। রাষ্ট্র ছাড়া এই পরিমাণ অর্থ জোগাতে পারে জঙ্গি সংগঠন। তাও শত্রু কোনও দেশের সাহায্যে। সেটা হলে সাধারণ হ্যাকারদের কাছেও খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবে পেগাসাস। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সাইবার সিস্টেম ধ্বংস হতে তখন কিন্তু বেশি সময় লাগবে না! এ হবে আর এক ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলা।
সাধারণ মানুষ কী করতে পারেন? খুব বেশি হলে তাঁর ফোনের সিস্টেম এবং যাবতীয় অ্যাপ সবসময় আপডেট রাখা। ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ হলে অপারেটিং সিস্টেম। ব্যাস।
বাকিটা রাম ভরোসে।  
05th  November, 2019
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
একনজরে
বিএনএ, বহরমপুর: কান্দিতে তৃণমূলের দক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নেতার অভাবে নতুন করে ঘর গোছাচ্ছে কংগ্রেস। মঙ্গলবার ফের কান্দি এলাকার ৩০ জন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা এবং কর্মী কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ২০১০ সাল থেকে রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ...

 রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ২১ জানুয়ারি (পিটিআই): শুধু ভারত নয়, বেকারত্ব বাড়ছে গোটা বিশ্বেই। এদেশে বেকারত্বের হার বৃদ্ধির অভিযোগকে মান্যতা দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বিশ্বে বেকারদের সংখ্যা যে ...

 বিএনএ, বারাকপুর: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে আরও একটি জুট মিল বন্ধ হয়ে গেল। মঙ্গলবার সকালে টিটাগড়ের এম্পায়ার জুট মিল কর্তৃপক্ষ সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিস ঝুলিয়ে দেয়। এতে কাজ হারালেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক। মিল বন্ধের প্রতিবাদে এদিন বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। ...

 পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: মানবধর্ম সবথেকে বড় ধর্ম। আপনারা যদি মানুষকে সঠিকভাবে সেবা করতে পারেন, তাহলে এর থেকে বড় কাজ আর হবে না। মঙ্গলবার সকালে উলুবেড়িয়া ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মরতদের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো থাকবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা ও ব্যবহারে সংযত থাকা দরকার। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৬৬: মুঘল সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যু
১৯০০ - টেলিপ্রিন্টার ও মাইক্রোফেনের উদ্ভাবক ডেভিট এ্যাডওয়ার্ড হিউজ।
১৯০১: রানি ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু
১৯২৭ - প্রথমবারের মতো বেতারে ফুটবল খেলার ধারাবিবরণী প্রচার।
১৯৭২: অভিনেত্রী নম্রতা শিরোদকরের জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৩৬ টাকা ৭২.০৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.৯৮ টাকা ৯৪.২৫ টাকা
ইউরো ৭৭.৫৪ টাকা ৮০.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৪৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৬৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৭৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ত্রয়োদশী ৪৮/৩৬ রাত্রি ১/৪৯। মূলা ৪৪/৫৩ রাত্রি ১২/২০। সূ উ ৬/২২/৩৮, অ ৫/১৩/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ মধ্যে পুনঃ ১০/০ গতে ১১/২৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২ গতে ৪/২৮ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫ গতে ৮/৪৩ মধ্যে পুনঃ ২/০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৯/৫ গতে ১০/২৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ১/৯ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৬ গতে ৪/৪৪ মধ্যে।
৭ মাঘ ১৪২৬, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, ত্রয়োদশী ৮৯/২৭/৪৪ রাত্রী ২/১৩/৯। মূলা ৪৬/৪২/৪৪ রাত্রি ১/৭/৯। সূ উ ৬/২৬/৩, অ ৫/১১/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১০/০ গতে ৪/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৫ গতে ৮/৫০ মধ্যে ও ২/০ গতে ৬/২৬ মধ্যে। কালবেলা ৯/৭/২৭ গতে ১০/২৮/৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৩/৭/২৭ গতে ৪/৪৬/৪৫ মধ্যে।
 ২৬ জমাদিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আজ চেতলা সদনে হুগলির একাধিক সিপিএম, বিজেপি কর্মীরা যোগ দিলেন তৃণমূলে 

01:57:00 PM

গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা, অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন লাগালেন এলাকার বাসিন্দারা
হালিশহরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা। অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ...বিশদ

01:02:00 PM

আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার থেকে গ্রেপ্তার ১ 
উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার সালেমপুর থানার পুলিস আজ, বুধবার দুর্গাপুরের সিটি ...বিশদ

12:53:11 PM

ময়দান এলাকায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকার জালনোট সহ গ্রেপ্তার দুই 

12:52:58 PM

কেন্দ্রের বক্তব্য না শোনা পর্যন্ত সিএএ নিয়ে স্থগিতাদেশ নয়, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

12:31:51 PM

এনআরসি আতঙ্কের জেরে বীরভূমে গোলমাল, বাড়িতে আগুন
 

বীরভূমের মল্লারপুর এলাকার গৌরবাজারে এনআরসি আতঙ্কের জেরে ইন্টারনেট সাথীর বাড়ি ...বিশদ

12:31:00 PM