Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ঘরে ঘরে হানাদার 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

উওটার স্লটবুম আমস্টারডামের একটি কাফেতে ঢুকলেন। সঙ্গে একজন ডাচ সাংবাদিক। কাফেতে ওয়াই-ফাই চলছে। স্লটবুম একটি চেয়ার টেনে বসে তাঁর ল্যাপটপটা খুললেন। পাশে ছোট কালো রঙের একটা ডিভাইস। সবকিছু সেট করে নিয়ে কাফের ওয়াই-ফাইয়ের সঙ্গে নিজের ল্যাপটপটাকে কানেক্ট করলেন। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল, ল্যাপটপে অন্য বহু ডিভাইসের আলাদা আলাদা উইন্ডো খুলে ফেলেছেন তিনি। কোন ডিভাইস? ওই কাফের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে যাঁরা কাজ করছিলেন, তাঁদেরই মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ... কেউ হয়তো গুগলে ঢুকে কিছু সার্চ করছেন, কেউ আবার ই-মেল করছেন... সবটাই দেখা যাচ্ছে স্লটবুমের ল্যাপটপে। আপনার ফোনে কোন কোন অ্যাপ ইনস্টল করা রয়েছে, আপনার ই-মেলের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড, গুগলে কী কী সার্চ করা হয়েছে এবং আরও অনেক কিছু। স্লটবুম একজন এথিক্যাল হ্যাকার। শুনতে ভালো না লাগলে গালভরা অন্য নামও আছে—তথ্য প্রযুক্তির নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে তাঁর কাজ। স্লটবুমের দাবি, ৮০-৯০ ডলার খরচ করে একটা সফ্‌টওয়্যার লাগিয়ে নিলেই হবে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ডজন ডজন ব্যক্তিগত তথ্য হাতের নাগালে। এমনকী, ই-মেলের সঙ্গে যে যে অ্যাকাউন্টের সংযোগ রয়েছে, সেই সবও হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। ওই একটি কালো ডিভাইস দিয়ে। অনায়াসে তথ্যপাচার।
হ্যাকিং বিষয়টা এখন এমনই জলভাত। কিছু বিদ্যাবুদ্ধি যদি থাকে, তার সঙ্গে ঠিকঠাক সফ্‌টওয়্যার লাগিয়ে নিলেই হল। সাধারণ মানুষও অন্যের মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের আইপি হ্যাক করে নিতে পারে। সামান্য সামর্থ্য নিয়েই। আর যদি এটাই কোনও রাষ্ট্র করতে চায়? তার কিন্তু ক্ষমতা, প্রযুক্তি এবং দক্ষ কর্মী... সবই বেশি। ইচ্ছেমতো।
সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম ধরা হয় হোয়াটসঅ্যাপকে। কারণ, এই মিডিয়াম দিয়ে কোনও মেসেজ বা কল করলে সেটা ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপটেড’ হয়। অর্থাৎ যে মেসেজ পাঠাচ্ছে, আর যার কাছে পৌঁছচ্ছে, এই দু’জন ছাড়া আর কেউ তা দেখতে বা বুঝতে পারবে না। শুধু একটি উপায়ে সেই লোহার সিন্দুকে ফুটো করা সম্ভব। যদি ডিভাইসে বিশেষ একটা ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। তার নাম পেগাসাস। কী হয় এতে? পেগাসাসের অপারেটর আপনাকে একটা লিঙ্ক পাঠাবে, যাকে বলা হয় ‘এক্সপ্লয়েট লিঙ্ক’। তাতে ক্লিক করা মাত্রই চিচিং ফাঁকের মতো আপনার ফোন বা কম্পিউটারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সেই হ্যাকারের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। কারণ ততক্ষণে আপনার অজান্তেই ওই ডিভাইসে পেগাসাস ইনস্টল হয়ে গিয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে ঢুকে পড়েছে ‘ক্রাইসাওর’ ম্যালওয়্যার। কোনও অ্যাপ ইনস্টল করার সময় ডিভাইস ব্যবহারকারীর থেকে যে অনুমতি চাওয়া হয়, সেটাও কিন্তু এই পেগাসাস চাইবে না। আপনার ফোন বা ল্যাপটপটি সরাসরি চলে যাবে সেই অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে। আর তার নির্দেশ মতো আপনার ডিভাইসের কনট্যাক্ট, ই-মেল, পাসওয়ার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ যাবতীয় তথ্য চুরি করে নেবে পেগাসাস। শুধু তাই নয়, আপনার মেসেজ দেখা এবং ভয়েস কল শোনার কাজটাও সেই অপারেটর বিনা বাধায় করতে পারবে। ধরুন আপনি কোনও গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে আছেন, সেই অপারেটর তখন আপনার ফোনের ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোন অন করে সব কিছু রেকর্ড করে নিতে পারে। আপনি জানতেও পারবেন না। আর এর নবতম সংযোজন? ‘এক্সপ্লয়েট লিঙ্ক’-এও দরকার নেই। হোয়াটসঅ্যাপে একটা মিসড ভিডিও কলই এখন যথেষ্ট। ২০১৬ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে মেক্সিকোর এক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের উপর পেগাসাস ‘হামলা’ হয়। একের পর এক মেসেজ... কোথাও লেখা, আপনার মেয়ের ভয়াবহ অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। নীচের লিঙ্কে ক্লিক করুন, তাহলে বিস্তারিত জানতে পারবেন। কয়েকদিন পরই আরও একটা মেসেজ... আপনার স্ত্রী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছে। লিঙ্কে ক্লিক করলেই ছবি দেখতে পাবেন। মেক্সিকোর সেই ব্যক্তি অবশ্য একটি ফাঁদেও পা দেননি। বুঝেছিলেন, সবই এক্সপ্লয়েট লিঙ্ক। যদি একটিতেও তিনি ক্লিক করতেন, সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মোবাইলে পেগাসাস ইনস্টল হয়ে যেত। আর তাহলেই... খেল খতম।
এই ‘পেগাসাস’-এর প্রস্তুতকারক ইজরায়েলের এনএসও গ্রুপ। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সান ফ্রান্সিসকোর মার্কিন ফেডেরাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। তারা জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ১ হাজার ৪০০ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে টার্গেট করেছে এনএসও। যার মধ্যে বেশ কিছু নম্বর ভারতেরও। সঠিক সংখ্যা? জানায়নি হোয়াটসঅ্যাপ। তবে নেহাৎ কম নয়! শোনা যাচ্ছে ১২১ জন। আক্রান্তদের নাম কিন্তু সংস্থা জানাতে চায়নি। তবে হ্যাঁ, হোয়াটসঅ্যাপ স্বীকার করেছে, ভারতে যাদের নিশানা করা হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, আইনজীবী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের দাবি, সেই প্রত্যেক ব্যক্তির সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে এবং পেগাসাস থেকে বাঁচতে কী করতে হবে, সেটাও জানিয়েছে। এনএসও গ্রুপের একটি চুক্তি হয়েছিল সৌদি আরবের সঙ্গে... সাংবাদিক জামাল খাসোগি খুনের আগে। খাসোগি কোথায় আছেন, কী করছেন সব জানার জন্য ‘এক্সপ্লয়েট লিঙ্ক’-এর মাধ্যমে একটি স্পাইওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁর ডিভাইসে। ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক ছিলেন জামাল খাসোগি। সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ... তারপর সেই রাজতন্ত্রেরই সমালোচক। ইস্তানবুলে সৌদির দূতাবাসে খুন হতে হয় তাঁকে। বাকিটা ইতিহাস এবং বর্তমানও বটে। কারণ, খাসোগি খুনের ঝাপটা এখনও খেতে হচ্ছে সৌদি আরবকে। যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনও স্বীকার করে নিয়েছেন, দায় তিনি এড়িয়ে যেতে পারেন না।
এ পর্যন্ত ৪৫টি দেশে পেগাসাস আঘাত হেনেছে বলে খবর। যার মধ্যে ভারতও আছে। পাঁচটি অপারেটর কাজ করছে এশিয়ায়। বিভিন্ন সূত্র মারফত পাওয়া খবর, একটি রাজনৈতিক ডোমেনের নামে পর্যন্ত এদেশে পেগাসাস অপারেটর কাজ চালাচ্ছে। তাহলে কি এর নেপথ্যে কোনও সরকার বা রাজনৈতিক দল আছে? বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। সরব হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কংগ্রেস আবার দাবি করেছে, স্বয়ং প্রিয়াঙ্কার ফোনও নাকি হ্যাক হয়েছে। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের থেকে মেসেজ পাচ্ছেন। হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ বলছে, আগেই কেন্দ্রীয় সরকারকে তারা সতর্ক করেছিল। একবার মে মাসে, আর একবার সেপ্টেম্বরে। আর কেন্দ্র বলছে, সে সময় এমন একটা আপাদমস্তক টেকনিক্যাল আর তালগোল পাকানো বার্তা তারা পাঠিয়েছিল, যার কিছুই বোঝা যায়নি। খুব স্বাভাবিক। এমনটা হতেই পারে। বুঝতে না পারার পর নতুন করে তার বিস্তারিত কি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল? তাহলে এখন বিষয়টার ব্যাখ্যা চেয়ে হম্বিতম্বি করে কী লাভ?
এনএসও গ্রুপের দাবি আরও মারাত্মক... পেগাসাস শুধু সরকার এবং সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে বিক্রির জন্য। ব্যক্তিবিশেষকে নয়! সেটাও সন্ত্রাসবাদ এবং ভয়াবহ অপরাধ ঠেকানোর জন্য। এই দাবি সত্যিই নড়েচড়ে বসার মতো। জানা যাচ্ছে, পেগাসাসের জন্য ২০১৫ সালে ঘানার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে এনএসও এবং স্থানীয় এক মধ্যস্থতাকারীর চুক্তি হয়েছিল ৮০ লক্ষ মার্কিন ডলারের। একইভাবে মেক্সিকোর ফেডেরাল এজেন্সিগুলি ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের জন্য এনএসও থেকে এই স্পাইওয়্যার কিনেছিল ৮ কোটি মার্কিন ডলারে। কোনও সাধারণ মানুষের কি এত দাম দিয়ে পেগাসাস কেনার ক্ষমতা আছে? তাহলে কি সরকারের এখনই বিষয়টা নিয়ে একটু সিরিয়াস হওয়া উচিত নয়? ভারতে এমন কে আছে, যে এত টাকা দিয়ে পেগাসাস কিনতে পারে? অবশ্যই এর তদন্ত দরকার? সরকার এই নজরদারি না চালিয়ে থাকলে এটা পরিষ্কার, যেই একাজ করে থাকুক না কেন, মুখ পুড়ছে রাষ্ট্রের। কেন্দ্রীয় সরকারের। এই প্রবণতা ভয়ঙ্কর। রাজনৈতিক দিক থেকে সরকার বিরোধিতা এক, আর সেটাই যদি জাতীয় নিরাপত্তার উপর আঘাত হানে, তার থেকে খারাপ কিছু হতে পারে না। সরকার যদি এর যথাযথ তদন্ত না করে, মানুষের মনেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করবে... রাষ্ট্রই এর নেপথ্যে নেই তো? তাই সত্যিটা সামনে আসা খুব জরুরি। এক সময় বাজারে গুজব ছড়িয়েছিল, একজন আইপিএস অফিসারের হাতে নাকি ইজরায়েলে তৈরি এমনই একটা সফ্‌টওয়্যার আছে। যার মাধ্যমে ফোনে আড়ি পাতা যায়। রাষ্ট্র যদি শুধু সন্ত্রাসবাদ বা অন্যান্য বড় অপরাধ দমনে এর ব্যবহার করে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলাটা অর্বাচীনের কাজ। কিন্তু সাধারণ মানুষকে অসহায় করে তাঁর সর্বস্ব কেড়ে নেওয়াটা গণতান্ত্রিক দেশের শাসকের কাজ হতে পারে না। কারণ এ শুধু আড়ি পাতা নয়, পেগাসাস ব্যবহার মানে ঘরের ভিতর ঢুকে পড়া। হানা দেওয়া গোপনীয়তার অধিকার রক্ষায়। রাষ্ট্র ছাড়া এই পরিমাণ অর্থ জোগাতে পারে জঙ্গি সংগঠন। তাও শত্রু কোনও দেশের সাহায্যে। সেটা হলে সাধারণ হ্যাকারদের কাছেও খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাবে পেগাসাস। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার সাইবার সিস্টেম ধ্বংস হতে তখন কিন্তু বেশি সময় লাগবে না! এ হবে আর এক ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলা।
সাধারণ মানুষ কী করতে পারেন? খুব বেশি হলে তাঁর ফোনের সিস্টেম এবং যাবতীয় অ্যাপ সবসময় আপডেট রাখা। ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ হলে অপারেটিং সিস্টেম। ব্যাস।
বাকিটা রাম ভরোসে।  
05th  November, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
একনজরে
সিওল, ৮ ডিসেম্বর (এএফপি): পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে আমেরিকার উপর চাপ বাড়াল উত্তর কোরিয়া। ফের শক্তিশালী অস্ত্রের পরীক্ষা করল কিম জং উনের দেশ। শনিবার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ এই পরীক্ষাটি চালায় পিয়ংইয়ং।  ...

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ : যে আমবাগান থেকে দিন তিনেক আগে উদ্ধার করা হয়েছে দগ্ধ মহিলার দেহ, তার এক প্রান্তে রয়েছে আড়াপুর জোত টিপাজানি আহ্লাদমণি ঘোষ ...

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর নতুন বাসস্ট্যান্ডে নির্মিত পুরসভার প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাগার বেসরকারিকরণ হতে চলেছে। ‌বোর্ড মিটিংয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গেছে। এই বিষয়ে ...

বিএনএ, সিউড়ি ও সংবাদদাতা, শান্তিনিকেতন: লাভপুরে একই পরিবারের তিন ভাইয়ের হত্যা মামলায় নতুন করে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিল পুলিস। নতুন করে চার্জশিটে নাম জুড়ল বিজেপি নেতা মনিরুল ইসলামের।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

মাঝে মধ্যে মানসিক উদ্বেগের জন্য শিক্ষায় অমনোযোগী হয়ে পড়বে। গবেষণায় আগ্রহ বাড়বে। কর্মপ্রার্থীদের নানা সুযো ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৪৮৩: অন্ধকবি সুরদাসের জন্ম
১৮৯৮: বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠিত হল
১৬০৮: ইংরেজ কবি জন মিলটনের জন্ম
১৯৪৬: কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর জন্ম
১৯৪৬: অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার জন্ম
২০১১: আমরি হাসপাতালে আগুন 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
08th  December, 2019

দিন পঞ্জিকা

২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৯/২৩ দিবা ৯/৫৪। ভরণী ৫৭/৯ শেষ রাত্রি ৫/০। সূ উ ৬/৮/৫৩, অ ৪/৪৮/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৮ গতে ১১/৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ১১/২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে ৩/৩০ মধ্যে, বারবেলা ৭/২৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ২/৮ গতে ৩/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৮ গতে ১১/২৮ মধ্যে। 
২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৭/১০/১১ দিবা ৯/২/২২। ভরণী ৫৭/৩১/১০ শেষরাত্রি ৫/১০/২৬, সূ উ ৬/১০/১৮, অ ৪/৪৯/১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৯ মধ্যে ও ৯/৪ গতে ১১/১১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩১ গতে ১১/৫ মধ্যে ও ২/৪০ গতে ৩/৩৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩০/৮ গতে ৮/৪৯/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৯/৩০ গতে ১১/২৯/৪০ মধ্যে।
১১ রবিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় দিল্লিতে গ্রেপ্তার রোমান নাগরিক 

06:22:00 PM

ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে জেএনইউ পড়ুয়াদের মিছিলে লাঠিচার্জ করল পুলিস 

04:29:13 PM

ডোপিংয়ের অভিযোগে ওলিম্পিক থেকে চার বছরের জন্য নির্বাসিত রাশিয়া 

04:12:10 PM

কর্ণাটক বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হার, পরিষদীয় দলনেতার পদ থেকে পদত্যাগ সিদ্দারামাইয়ার

03:56:19 PM

৪২ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

03:50:07 PM

পানিপথ: জয়পুরে সিনেমা হলে ভাঙচুর 
হিন্দি ছবি পানিপথে মহারাজ সূরজমলের চরিত্র বিকৃত করা হয়েছে, এই ...বিশদ

03:32:17 PM