Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিদেশিদের সফর, রহস্যময়ী
ম্যাডি শর্মা ও পাঁচ বাঙালির নৃশংস হত্যা 
হিমাংশু সিংহ

কাকতালীয় ঘটনা হলেও সত্যি! বাংলার পাঁচ শ্রমিককে অপহরণ করে নৃশংসভাবে খুন করার দিনেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের সৌজন্যে অবরুদ্ধ কাশ্মীর সফর করেছেন একঝাঁক বিদেশি প্রতিনিধি। আমাদের দেশের নেতানেত্রীরা যখন ব্রাত্য তখনই আর্ন্তজাতিক ‘বিজনেস ব্রোকার’ রহস্যময়ী ম্যাডি শর্মার ব্যবস্থাপনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের আঠাশজন প্রতিনিধি তিনদিনের ভারত সফরে এসেছিলেন। কাশ্মীরে গিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ২৩ জন। বাকি পাঁচজন কেন দিল্লি এসেও কাশ্মীরে সরকারি কন্ডাকটেড ট্যুরে গেলেন না তা অজ্ঞাত। মূলত দুটো উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা এদেশে এসেছিলেন। এক নম্বর উদ্দেশ্য, যখন কাশ্মীরে দেশের তাবড় নেতানেত্রী, সাধারণ মানুষই যাওয়ার ছাড়পত্র পাচ্ছেন না, তখন সেখানে গিয়ে কেন্দ্রের সমর্থনে সব ঠিক হ্যায় সার্টিফিকেট দেওয়া ও বিরোধীদের অভিযোগকে নস্যাৎ করা। এবং এভাবেই তাদের দেওয়া সেই শংসাপত্রের জোরে দেশে বিদেশে সরকারের মুখ উজ্জ্বল করা। আর দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, সেই ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করা। কথা বলা। সে রাজনীতি নিয়েও হতে পারে অথবা বাণিজ্যিক আদানপ্রদান। এককথায় ‘গিভ অ্যান্ড টেক’। কিছু দাও বদলে কিছু নাও। অর্থাৎ যে কাশ্মীর ভারতের একান্ত সার্বভৌম অংশ, যেখানে কোনও বিদেশি শক্তির দৌত্য কিম্বা হস্তক্ষেপ আমরা মানব না বলে বারংবার বিশ্বমঞ্চে জানিয়ে দিয়েছি, হঠাত্ই বিশেষ উদ্দেশ্যপূরণের জন্য তা লঙ্ঘন করে পুরো বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে কাশ্মীরের দরজা হাট করে খুলে দেওয়া। সবচেয়ে আশ্চর্যের, সবটাই হল ভারত সরকারের নিজের উদ্যোগে ও ব্যবস্থাপনায়। যার সুযোগ নিল কিছু বিদেশি প্রতিনিধি এবং ইউরোপের একটি এনজিও।
কিন্তু এত করেও কি শান্ত স্বাভাবিক কাশ্মীরের সর্বাঙ্গ সুন্দর ছবিটা দুনিয়ার সামনে তুলে ধরা গেল? প্রমাণ কি দেওয়া গেল যে দেখে যাও, ৩৭০ ধারা হটিয়ে সন্ত্রাসকে পুরোপুরি জব্দ করা গিয়েছে? পরখ করো, সন্ত্রাসহীন কাশ্মীরকে। উল্টে সামনে এল নতুন সমস্যা। কাশ্মীরি-অকাশ্মীরি বিরোধ। বিদ্বেষ। ভিনরাজ্য থেকে কাজের টানে যেসব শ্রমিক কর্মচারী কাশ্মীরে আছেন তাদের উপর একটা আক্রোশ। আর সেই বিদ্বেষের মূল কারণ, ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি। বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর একটা ধারণার সৃষ্টি হয় যে ভিনরাজ্যের লোকজন এবার কাশ্মীরের স্থাবর সম্পত্তি কিনে তার মালিক হতে পারবেন। এতদিন তা হতো না। কিন্তু নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার পর উপত্যকার জমি কেনায় আর কোনও বাধা রইল না। এতে সাধারণ কাশ্মীরিরা গোটা উপত্যকার জনসংখ্যা ও জনভিত্তির পরিবর্তনের আশঙ্কায় ভীত হয়ে উঠছে। তারই জেরে বিগত ১৪ অক্টোবর থেকে একের পর এক কাশ্মীরের বুকে ভিনরাজ্যের শ্রমিকদের উপর বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে। ষষ্ঠ ঘটনাটি ঘটল গত মঙ্গলবার। শেষটায় বাঙালিদের উপর। এই নিয়ে গত আড়াই সপ্তাহে মোট ১১ জন অসহায় শ্রমিক ও ট্রাক ড্রাইভার প্রাণ হারালেন। গত ১৪ অক্টোবর প্রথম ঘটনাটি ঘটে এক নিরীহ ট্রাক ড্রাইভারের হত্যা দিয়ে। তাঁর নাম ছিল মহম্মদ শরিফ। শরিফ রাজস্থানের লোক, কাজের আশায় কাশ্মীরে ডেরা বেঁধেছিলেন। এরপর ১৬ অক্টোবর পাঞ্জাবের চিরঞ্জিত সিং ও চণ্ডীগড়ের শেঠি কুমার সাগর জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান। ২৩ অক্টোবর হত্যা করা হয় মহম্মদ ইলিয়াস ও জাহিদকে। দু’জনেই রাজস্থান থেকে কাশ্মীরে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এরপর গত সোম ও মঙ্গলবার ফের ভিনরাজ্যের শ্রমিকরা প্রাণঘাতী হামলার শিকার হলেন। এই ঘটনা ঘটল ইউরোপীয় প্রতিনিধিদলের সফরের মধ্যেই। সব মিলিয়ে এপর্যন্ত ভিনরাজ্যের শ্রমিক হত্যার ঘটনা সংক্রামিত হতে শুরু করেছে। আর ভয়টা সেখানেই। এর থেকেই স্পষ্ট, ৩৭০ ধারার অবলুপ্তির পর কাশ্মীরে জঙ্গিরা নতুন পথ বেছে নিয়েছে। জন্ম নিয়েছে নতুন ধরনের ঘৃণা ও আক্রোশের। যার সবচেয়ে খারাপ দৃষ্টান্ত অপহরণ করে নৃশংসভাবে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ অসহায় শ্রমিকের নির্মম হত্যা। এই ঘটনা আরও একবার জানান দিল ৩৭০ ধারার অবলুপ্তি কাশ্মীর সমস্যার প্রকৃত সমাধান হতে পারে না। উল্টে তা আরও বড় সমস্যার জন্ম দিতে বাধ্য। আর তা ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। কাজে যাওয়া অসহায় পরিবারগুলোর কী দোষ? পেটের দায়ে এদেশের যেকোনও স্থানে একজন নাগরিক যেতে পারেন। কাজ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গেও ভিনরাজ্যের বহু শ্রমিক কাজ করছেন। সংবিধানই দেশের প্রত্যেক নাগরিককে এই অধিকার দিয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের এই নয়া সাংবিধানিক পরিবর্তন সেখানকার অসহায় শ্রমিকদের সেই অধিকারই কি কেড়ে নিতে চলেছে?
এক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ভিনরাজ্যের প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক কাশ্মীরে এই মুহূর্তে কর্মরত। মূলত পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও রাজস্থানের শ্রমিকরা কাশ্মীরে কর্মরত। অথচ পরিবারগুলো ভয়ঙ্কর এক বিপন্নতা ও আশঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কখন কার উপর আক্রমণ নেমে আসে কেউ জানে না। ৩৭০ ধারার অবলুপ্তির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বার বার বলছেন, এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের অর্থই না কি কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এক কথায় খতম করা। এবার ভূস্বর্গে শুধুই উন্নয়ন শুরু হবে। আপাতত মোদি সরকারের সেটাই লক্ষ্য। সেই মতো গত ১ নভেম্বর সরকারিভাবে পূর্ণরাজ্য জম্মু ও কাশ্মীর ভেঙে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্মও হয়ে গিয়েছে। দুজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর শপথ নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু কাশ্মীর কি স্বাভাবিক হয়েছে। সেখানকার সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ কি ভালো আছে? অজানা আশঙ্কা ও আতঙ্ক মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করে। আর নিরাপত্তাহীন বিপন্ন জীবন তাকে বিপথে যেতে বাধ্য করে। কাশ্মীরে নতুন করে সেই অধ্যায়ই শুরু হচ্ছে না তো?
মোদি ও অমিত শাহের বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের ফলশ্রুতিতেই গত ৫ আগস্ট সংসদে ঐতিহাসিক কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলটি পাশ হয়। আর মাত্র গত শুক্রবারই পূর্ণ রাজ্যের তকমা হারিয়ে গোটা জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে। শুরু হয়েছে নতুন পথচলা। কিন্তু এখনও দেশের সাধারণ মানুষ বিনা বাধায় কাশ্মীরে যাওয়ার ছাড়পত্র পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। নেতানেত্রীদের সুপ্রিম কোর্টের ছাড়পত্র জোগাড় করতে হচ্ছে। পরিস্থিতিটা এতই খারাপ যে আগস্টের পর থেকে বহু এলাকায় দোকানপাট, স্কুল কলেজ, অফিস কাছারি আজও স্বাভাবিক হয়নি। স্কুল খুললেও অজানা আশঙ্কায় কেউ ছেলে মেয়েদের পাঠাচ্ছেন না। দোকানপাট সকালে খুব অল্প সময়ের জন্য খুলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক দোকানে আবার স্থানীয় লোকজন ছাড়া অন্যদের জিনিসপত্রই বিক্রি করা হচ্ছে না। আর এই অন্যায় ও আশঙ্কার কারণেই উৎসব মরশুমেও ভূস্বর্গ কার্যত পর্যটকশূন্য হয়েই থেকে গিয়েছে। একেই বোধহয় বলে অঘোষিত জনতা কার্ফু। যেখানে সাধারণ মানুষ নিজে থেকেই নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখে প্রতিবাদ জানায়। সরকারি নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখানো তথা পত্রপাঠ প্রত্যাখ্যান করার এ এক অভিনব উপায়, সন্দেহ নেই। গত তিন মাসে শ্রীনগর বিমানবন্দরে নেমেই ফিরতে হয়েছে অনেককে। পরে অবশ্য দু’একজন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে উপত্যকায় ঢুকেছেন। কিন্তু রাজ্যের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা, পুত্র ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতি এখনও কার্যত অন্তরালেই। বহু ছোট ব্যবসায়ী কাজ হারিয়ে রোজগার হারিয়ে অসহায় দিনযাপন করছেন। সেই আগস্ট মাস থেকে পর্যটন শিল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে কৃষি ও হস্তশিল্পও। এই সব কাজে নিযুক্ত কৃষক, শ্রমিক, হস্তশিল্পী, রাজমিস্ত্রিরা দলে দলে এসেছে ভিনরাজ্য থেকে। এতদিন তাদের সঙ্গে কাশ্মীরের মানুষের শত্রুতা তৈরি হয়নি। কিন্তু এবার বাইরের রাজ্যের লোকেরা জমি বাড়ি সম্পত্তি কেনার আইনি অধিকার পেতে চলেছেন বলে যেই রটছে, তখনই বিদ্বেষের সৃষ্টি হচ্ছে। এই কাশ্মীরি আর অকাশ্মীরি বিভেদ ও দূরত্ব আগামী দিনে আরও বাড়তে বাধ্য। কিন্তু এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সুদূর ব্রাসেলসের একটি এনজিও ও তার প্রধান অখ্যাত ম্যাডি শর্মার আমন্ত্রণে কাশ্মীর দেখতে আসছেন একদল ইউরোপীয় প্রতিনিধি, এটাই অবাক করা ঘটনা। ব্যাপারটা মোটেই সহজবোধ্য নয়। আবার বলা হচ্ছে এটা না কি তাঁদের ব্যক্তিগত সফর! বিরোধীরা স্বভাবতই জোরালো ভাষায় প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। যদি সরকার এর সঙ্গে যুক্ত নাই থাকে তবে কার অঙ্গুলিহেলনে ‘ওয়েস্ট’ নামে ওই সংস্থার পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দেওয়া হল, তা চরম রহস্যাবৃত। দেশের লোকের যাওয়ার অনুমতি নেই অথচ বেমালুম কিছু বিদেশি শুধু শ্রীনগর ঘুরে সর্বত্র শান্তি বিরাজ করছে বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন, এ বড়ই বেমানান। তার উপর একজন বিদেশি মহিলা সেই সফরের মূল আয়োজক এটাই নানা সন্দেহেরও জন্ম দিতে বাধ্য। যার পরিষ্কার উত্তর সরকারি তরফেও এখনও দেওয়া হয়নি। তবে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে যতই ঢাক ঢোল পেটানো হোক, উপত্যকায় এখনই জঙ্গি কার্যকলাপ বন্ধ হওয়া দূরঅস্ত! আগামী দিনে ভূস্বর্গে সন্ত্রাস নতুন চেহারায় সামনে আসবে এবং ক্রমাগত সাধারণ মানুষকে বিপন্ন করবে, এই আশঙ্কাই বদ্ধমূল হচ্ছে।  
03rd  November, 2019
সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, বর্ধমান: টেস্ট ক্রিকেটের আকর্ষণ ফিরিয়ে আনার জন্য উদ্যোগ আইসিসিকেই নিতে হবে। তা চারদিনের হোক বা পাঁচদিনের টেস্ট হোক। মানুষ টেস্টে ফল দেখতে চায়। নিস্ফলা ড্র দেখতে মানুষ মাঠে আসবে না। ফলটাই হল আসল। সেই জন্য চারদিন হোক বা পাঁচদিনের ...

সংবাদদাতা, ইংলিশবাজার: সারা দেশের সঙ্গে আজ শনিবার মালদহ জেলায় পালিত হল জাতীয় ভোটার দিবস। নতুন ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করার জন্য ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: এসপি১২৫, বিএস-VI এবং অ্যাকটিভা বিএস-VI নামে নতুন বাইক ও স্কুটির মডেল বাজারে নিয়ে এল হোন্ডা। ২৩ জানুয়ারি কাঁথি প্রভাত কুমার কলেজ ফুটবল গ্রাউন্ডে পিএমপি হোন্ডা ও প্রশান্ত হোন্ডার যৌথ উদ্যোগে ‘অ্যাডভান্সড ফেস্ট’ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই দুটি মডেলের ...

 সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: যেসব শর্তে জলজীবন মিশন শুরু করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার, তাতে আপত্তি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। এদিকে, কেন জলজীবন মিশন, তা বোঝাতে কেন্দ্রীয় সরকারের জলশক্তি মন্ত্রকের একটি বড় টিম রাজ্যে আসতে চাইছে। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সিনিয়র অফিসারদের ওই টিম ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কোনও কিছুতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাববেন। শত্রুতার অবসান হবে। গুরুজনদের কথা মানা দরকার। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সুফল ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

সাধারণতন্ত্র দিবস
১৮৪১: আনুষ্ঠানিকভাবে হংকং দখল করল ব্রিটিশরা
১৯৩০: পরাধীন ভারতে এই দিনটিকে ‘পূর্ণ স্বরাজ দিবস’ বা ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসাবে ঘোষণা করল জাতীয় কংগ্রেস
১৯৫০: লাগু হল ভারতের সংবিধান। রাষ্ট্রপতি পদে রাজেন্দ্র প্রসাদ দায়িত্ব গ্রহণ করে সূচনা করলেন গণতন্ত্রের।
১৯৫৪: রাজনীতিবিদ মানবেন্দ্রনাথ রায়ের মৃত্যু
১৯৬৫- হিন্দিকে সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিল কেন্দ্র
১৯৯২: পরমাণু অস্ত্রের মাধ্যমে আমেরিকার বিভিন্ন শহরকে নিশানা করা থেকে রাশিয়া বিরত হবে বলে জানালেন বরিস ইয়েলৎসেন
২০০১: গুজরাতের ভুজে বিধ্বংসী ভূমিকম্পে মৃত্যু হল প্রায় ২০ হাজার মানুষের
২০০৪: আফগানিস্তানের নয়া সংবিধানে স্বাক্ষর করলেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫১ টাকা ৭২.২১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৮ টাকা ৯৫.৩২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৮ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
25th  January, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৯৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৮৮৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৪৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) দ্বিতীয়া ৫৯/৪৫ শেষ রাত্রি ৬/১৬। ধনিষ্ঠা অহোরাত্র। সূ উ ৬/২১/৫৩, অ ৫/১৬/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৫ গতে ১০/০ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৮/৪৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৭ গতে ১/১০ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
১১ মাঘ ১৪২৬, ২৬ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দ্বিতীয়া ৫৬/১৭/৫২ শেষরাত্রি ৪/৫৬/৫। ধনিষ্ঠা ৫৮/৫৪/২৯ শেষরাত্রি ৫/৫৮/৪৪। সূ উ ৬/২৪/৫৬, অ ৫/১৪/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৫৯ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৯/৫৬ গতে ১/১১/১১ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৮/৪১ গতে ৩/৭/২৬ মধ্যে।
৩০ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শুভেচ্ছা ও ছুটি

আজ রবিবার দেশের ৭১তম সাধারণতন্ত্র দিবস। এই উপলক্ষে বর্তমান পত্রিকার ...বিশদ

08:00:00 AM

পদ্মভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনহর পারিক্কর, ব্যবসায়ী আনন্দ মহিন্দ্রা ও ভেনু শ্রীনিবাসন, ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু, নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস সি জমির এবং জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুজাফ্ফর হোসেন বেগ 

25-01-2020 - 09:18:00 PM

পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি, স্বরাজ, জর্জ ফার্ণান্ডেজ, বক্সার মেরি কম, মরিশাসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অনিরুদ্ধ জগন্নাথ 

25-01-2020 - 09:13:00 PM

 পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কঙ্গনা রানউত, একতা কাপুর, আদনান সামি এবং করণ জোহর

25-01-2020 - 09:07:04 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
জোহানেসবার্গ টেস্ট চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অপরাধে ইংল্যান্ডের খেলোয়ার বেন ...বিশদ

25-01-2020 - 08:05:00 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
আজ সিএএ, এনআরসি ইস্যু নিয়ে দলীয় বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ...বিশদ

25-01-2020 - 06:32:00 PM