Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বন্ধ হোক মৃত্যুকে রাজনীতির পণ্য বানানো
তন্ময় মল্লিক

জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে। মাইকেল মধুসূদন দত্ত। শৈশবের গণ্ডি ছাড়াতে না ছাড়াতেই অমর কবির এই কবিতা প্রথম শিখিয়েছিল, জন্ম আর মৃত্যু এক সুতোয় বাঁধা। ভাবসম্প্রসারণ লিখতে গিয়ে শিখেছিলাম, জীবনের অবশ্যম্ভাবী পরিণতিই হল মৃত্যু। আধ্যাত্মিক মনোভাবাপন্ন মানুষের মতে, আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার মিলন। জাগতিক জীবন থেকে মুক্ত হয়ে চিরশান্তির জগতে পাড়ি দেওয়ার নামই মৃত্যু, মহাপ্রস্থান। মৃত্যু মানে তো মুক্তি। কিন্তু, সেই মৃত্যু যখন পণ্য হয়, তখন তা হয়ে ওঠে ভয়ঙ্কর যন্ত্রণার। মৃত্যুকে পণ্যে পরিণত করার কৌশল চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন রাজনীতির কারবারিরা। মৃত্যু অস্বাভাবিক হলেই চোখ জ্বলজ্বল করে। আর খুন হলে তো কথাই নেই। মৃতদেহের দখল নেওয়ার জন্য রাজনীতির কারবারিদের কাড়াকাড়ি দেখে ভাগাড়ের শকুনও বোধ করি লজ্জা পায়।
মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের বন্ধুপ্রকাশ পালকে আমরা আগে কেউ চিনতাম না। না চেনারই কথা। হাজার হাজার শিক্ষকের মতো বন্ধুপ্রকাশবাবুও একজন শিক্ষক। কোটি কোটি মানুষের ভিড়ে সাধারণ মানুষ যেমন মিশে থাকে, বন্ধুপ্রকাশও তেমনই ছিলেন। কিন্তু, দশমীর দুপুরে পুত্র ও স্ত্রী সহ তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজ্যে ঝড় তুলে দিল। যতটা না মর্মান্তিকতার নিরিখে, তার চেয়ে অনেক বেশি করে রাজ্য তোলপাড় হয়ে গেল রাজনীতির কারবারিদের সৌজন্যে। আকস্মিক এই ঘটনায় তাঁদের আত্মীয়রা শোকে পাথর। ভেবে পাচ্ছিলেন না, কেন এমন দুধের শিশু সহ তিনজনকে নৃশংসভাবে খুন করা হল। প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণায় আত্মীয়রা যখন দিশাহারা, ঠিক তখনই দাবি উঠে গেল, আরএসএস করার জন্যই পুরো পরিবারটাকে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এই দাবি শুনে চমকে উঠলেন মৃতদের আত্মীয়রা। তাঁরা বারংবার বলার চেষ্টা করলেন, রাজনীতির সঙ্গে বন্ধুপ্রকাশের তেমন কোনও সংস্রব ছিল না। কিন্তু কে শোনে কার কথা! রাজনীতির কারবারিরা তখন জাল হাতে কোমর জলে। ঘোলা জলে মাছ ধরার লোভ সামলে পাড়ে উঠে আসা বড়ই কঠিন। তাই পরিবারের লোকজনকে পাশে না পেলেও রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালিয়ে গেলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘রক্তকরবী’তে দেখিয়েছিলেন, লোভ কীভাবে জীবনের সব সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক অধিকারকে অস্বীকার করে মানুষকে যন্ত্র ও উপাদানে পরিণত করে। যক্ষপুরীতে রাজার লোভের আগুনে পুড়ে মরত সোনাখনির কুলিরা। রাজার চোখে সোনাখনির কুলিরা কেউ মানুষ ছিলেন না, হয়ে উঠেছিলেন সংখ্যামাত্র। কেউ ছিলেন ৪৭ক, কেউ ছিলেন ৬৯ফ।
যুগ বদলেছে, বদলেছে সময়ও। রাজনীতির কারবারিদের কাছে মৃতদেহটাও একটা সংখ্যামাত্র। এই সংখ্যার কলেবর যত বাড়ে রাজনীতিতে বিরোধিতার জোশ ততই টগবগ করে ফোটে। ১০দিনে ন’জনের মৃত্যু। সংখ্যাটা নেহাত মন্দ নয়। সুতরাং ‘দিল্লি চলো’। জিয়াগঞ্জ ইস্যু রাষ্ট্রপতির কানে তুলতে বিজেপির একঝাঁক নেতা ছুটলেন দিল্লি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীর নেতৃত্বে দেখা করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা হল, পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলের রাজত্ব চলছে। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণেই জিয়াগঞ্জে নারকীয় হত্যাকাণ্ড। ১০দিনে তাঁদের ন’জন বিজেপি কর্মী খুন হয়েছেন। রাজ্যপাল এই ইস্যুতে মন্তব্য করায় জিয়াগঞ্জ হত্যাকাণ্ড এক নতুন মাত্রা পেল। উঠল অতিসক্রিয়তার অভিযোগ।
যে কোনও মৃত্যুই অত্যন্ত মর্মান্তিক। আর বন্ধুপ্রকাশবাবুর পরিবারে যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে তার নিন্দার কোনও ভাষা নেই। যে কোনও সুস্থ মানুষ এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের তীব্র ধিক্কার জানাতে বাধ্য। এমনকী, এই খুনের ব্যাপারে পুলিস যাকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে, সেই উৎপল বেহেরাও পুলিসি জেরায় জানিয়েছে, বন্ধুপ্রকাশ পালের স্ত্রী এবং তাঁর শিশুসন্তানকে খুন করে তার অনুতাপ হচ্ছিল। তার নাকি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আত্মহত্যা করার ইচ্ছাও হয়েছিল।
পুলিস এখনও পর্যন্ত তদন্ত করে যা জানতে পেরেছে তাতে খুনের পিছনে রয়েছে আর্থিক কারণ। বন্ধুপ্রকাশবাবু জীবনবিমার টাকা নিয়ে তা জমা দেননি। আর সেই কারণেই নাকি তাঁকে সপরিবারে খুন করেছে উৎপল। অর্থাৎ এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু, বিজেপি নেতৃত্ব এই খুনের সঙ্গে রাজনীতিকে জড়িয়ে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চালাল।
এরাজ্যে বিজেপি একটা বিশেষ শক্তি হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীদের দাম্ভিকতা, দুর্নীতি, জনবিচ্ছিন্নতা সহ নানা কারণেই বিজেপি পায়ের তলায় মাটি পেয়েছে। যথেষ্ট শক্তপোক্ত সেই মাটি। স্রেফ তৃণমূল সম্পর্কে মানুষের হতাশা ও বিরক্তিই তাদের অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু, সেই বিজেপিও যদি মৃত্যু নিয়ে সস্তার রাজনীতিতে জড়িয়ে যায় তাহলে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতায় চিড় খাবে না, এমনটা বলা যায় না। মনে রাখতে হবে, রাজনীতিতে বিশ্বাসযোগ্যতা একটা বড় সম্পদ। মানুষ বিশ্বাস করেছিল, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বই দেশকে মজবুত করতে পারবে। সেই বিশ্বাসে ভর করেই তিনি আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
শুধু বিজেপি নয়, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা এর আগেও প্রায় সব রাজনৈতিক দলই করেছে। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল সকলেই একই পথের পথিক। মৃত্যু নিয়ে সস্তার রাজনীতি করতে গিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের অনেকবার প্রবল সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছে। তবুও ছাড়েনি এই রাস্তা। তবে, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে সম্ভবত সবচেয়ে বেশি নাকানি চোবানি খেয়েছিল কংগ্রেস।
উত্তরদিনাজপুরের গোয়ালপুকুরের ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক রমজান আলির কথা মনে আছে? কলকাতায় এমএলএ হস্টেলে রহস্যজনকভাবে খুন হয়েছিলেন রমজান সাহেব। তখন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র। রমজান আলি খুনের ঘটনায় রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলে আচমকা বাংলা বন্‌঩ধের ডাক দিয়েছিলেন সোমেনবাবু। কিন্তু, তদন্ত এগতে কী দেখা গেল? দেখা গেল, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে খুন হয়েছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক। গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। খুন নিয়ে সস্তার রাজনীতি করতে গিয়ে মুখ পুড়েছিল কংগ্রেসের।
তবে, মৃতদেহ সামনে রেখে রাজনীতি করার ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসও কম যায়নি। সিপিএমের সঙ্গে সংঘর্ষে খুন হওয়া একের পর এক তৃণমূল কর্মীর মৃতদেহ কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, রাজ্যজুড়ে প্রচার পাওয়া। গ্রামের মৃতদেহ কলকাতায় নিয়ে গিয়ে আলোড়ন সৃষ্টির সমালোচনা করেছিল সিপিএম। কিন্তু, তৃণমূলের সেই উদ্দেশ্য কিছুটা সফল হতেই সিপিএমও কয়েকবার সেই রাস্তায় হাঁটার চেষ্টাও করেছিল।
তবে, কৌশলী সিপিএমের মুন্সিয়ানা ছিল মৃতদেহ সামনে আনার চেয়ে তা গায়েব করায়। ছোট আঙারিয়া, বেনাচাপড়া প্রভৃতি এলাকায় একের পর এক গণহত্যা কাণ্ড ঘটিয়েও মৃতদেহ লোপাট করে দিয়েছিল। যে সিবিআইয়ের নামে গোটা ভারত থরহরিকম্প, সেই সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তাবড় তাবড় অফিসারকে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিল সিপিএম। তদন্তভার হাতে নিয়েও ছোট আঙারিয়া গণহত্যার কিনারা করতে পারেনি তারা। উদ্ধার করতে পারেনি একটি মৃতদেহও। রাজ্যের ক্ষমতা বদল না হলে মানুষ জানতেও পারত না কী করে পাঁচজন মানুষকে খুন করেও হাত ধুয়ে ফেলা যায়।
পৃথিবী যতই হিংসায় উন্মত্ত হোক না কেন, আজও রক্ত দেখে, মৃতদেহ দেখে মানুষ বিচলিত হয়। মৃতদেহ এখনও মানুষের মনে সহানুভূতি জাগায়। মৃত্যুর ভয়াবহতা যে শাসক দলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, বর্ধমানের সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট সরকারের কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়েছিল। ঠিক একইভাবে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঢুকে দিয়েছিল নেতাই গণহত্যা কাণ্ড। মৃত্যু, বর্বরতা যে কোনও শাসন ক্ষমতা বদলের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে কাজ করে। আর সেটা সব চেয়ে ভালো জানে রাজনীতির কারবারিরা।
সেই কারণেই খুন হলেই রাজনীতির কারবারিরাই তার দখল নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু, একবারও ভেবে দেখে না, মৃতদেহকে রাজনীতির পণ্য হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা শোকার্ত পরিবারের প্রতি কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করায়। মৃতকে নিজের দলের কর্মী বা সমর্থক প্রমাণের জন্য শুরু হয় তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টানাটানি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মৃতদেহ রাস্তায় ফেলে বিক্ষোভের নামে চলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা। প্রাকৃতিক নিয়মে মৃতদেহে পচন ধরে। ফুলতে শুরু করে। বিকৃত হয় মুখমণ্ডল। চেনা মানুষটা আপনজনের কাছেও কেমন যেন অচেনা হয়ে যায়। শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদার সুযোগটাও কেড়ে নেওয়া হয়। স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য।
মৃতদেহ কাড়াকাড়ির লড়াই কখনও কখনও শোকস্তব্ধ পরিবারে ভাঙন ধরায়। স্ত্রীকে যে দল কব্জা করে, তার বিরোধী দল তখন হামলে পড়ে মৃতের বাবা, মায়ের দখল নিতে। কাউকে না পেলেও নিদেনপক্ষে ভাই। চাপ ও প্রলোভনে ব্যতিব্যস্ত মৃতের পরিবার তখন হয়তো শোক ভুলে অঙ্ক কষে। লাভ ক্ষতির অঙ্ক। কার সঙ্গে গেলে লাভ বেশি। সেই অঙ্কে বদলায় বিবৃতি, বদলায় এফআইআরের বয়ান। সকালে মৃত স্বামীকে যে দলের সমর্থক হিসেবে দাবি করে, বিকালে ঠিক তার বিরোধী দলের নেতার পাশে বসে সম্পূর্ণ উল্টো কথা বলেন। রাজনীতির কারবারিদের ফাঁদে পড়ে মৃতের পরিবার সহনুভূতি পাওয়ার বদলে আমজনতার কাছে অনেকসময় হয়ে ওঠে হাসির খোরাক।
মৃতদেহকে পণ্য করে রাজনীতির কারবারিরা ফায়দা লোটার চেষ্টা করেন ঠিকই। কিন্তু, সেই লাভ বড়ই ক্ষণস্থায়ী। এই তাপসী মালিকের পরিবারের কথাই ভাবুন না। সিঙ্গুর জমিরক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ হিসেবে এখনও জ্বলজ্বল করে তাপসীর নাম। তাপসীর বাবা মনোরঞ্জনবাবুকে বহু সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঠিক পাশের চেয়ারে বসতে দেখা গিয়েছে। তৃণমূল সব রকমভাবে ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে। তাপসীদের মাটির দেওয়ালের টালির চালার বাড়িটা এখন আর নেই। সেখানে মাথা তুলেছে মার্বেলের বাড়ি। সেই মনোরঞ্জনবাবু গত পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের বিরুদ্ধে জেলা পরিষদে নির্দল হয়ে লড়েছেন। অনেকে বলে, তাঁর নাকি গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে সখ্য তৈরি হচ্ছে।
হৃদয় ঘোষ, পিতা ঈশ্বর সাগরচন্দ্র ঘোষ। সাকিন, বাঁধনবগ্রাম, থানা-পাড়ুই, জেলা-বীরভূম। ২০১৩ সালের ২১জুলাই বাড়িতে দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া বোমা ও গুলিতে মারা গিয়েছিলেন হৃদয় ঘোষের বাবা সাগরবাবু। সেই মৃত্যুর জন্য তৃণমূলের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডলকে দায়ী করে শুরু হয়েছিল লড়াই। হৃদয় ঘোষকে সামনে রেখেই বীরভূমের মাটিতে পা রেখেছিল বিজেপি। প্রতিবাদের মুখ হয়ে উঠেছিলেন হৃদয়বাবু। সেই হৃদয় ঘোষ এখন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বোলপুর-শ্রীনিকেতন পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। শুধু তাই নয়, তিনি এখন অনুব্রতবাবুর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
এসব দেখে কারও বলতে ইচ্ছা করতেই পারে, সত্য সেলুকাস, কী বিচিত্র এই রাজনীতি! হ্যাঁ, রাজনীতি বড়ই বিচিত্র। রাজনীতির কারবারিদের হাতের হ্যাঁচকা টানে আমরা তাঁতের মাকুর মতো আমরা একবার এদিক ছুটি, আর একবার ওদিক। মাকুর টানে কপড়ের মেঝের মতোই জমাট বাঁধে নেতাদের রাজনৈতিক জমি। আর আমরা? আমরা পুতুলনাচের পুতুলের চেয়েও অসহায়। রাজনীতির কারবারিদের অদৃশ্য রশির টানে আমরা নেচে মরি, আমরা পণ্য হই। কিন্তু, আর কতদিন? রাজনীতির কারবারিদের খাতায় মৃত্যু কি কেবলই একটা সংখ্যাই থেকে যাবে? রক্তকরবীর নন্দিনী সংখ্যার পরিচয় মুছে দিয়ে মানুষের স্বীকৃতি আদায় করতে পেরেছিলেন। কিন্তু, আমরা কি পারব? নাকি রাজনীতির কারবারিদের সৌজন্যে মৃত্যু পণ্যই থেকে যাবে? 
02nd  November, 2019
সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
একনজরে
মৃণালকান্তি দাস, কলকাতা: চার্লস মিলারের গল্পটা জানেন তো? স্কটল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে চার্লস ব্রাজিলে ফিরেছিলেনএকটি ফুটবল হাতে নিয়ে। সবাই জানতে চেয়েছিল, ‘ওই গোল জিনিসটা কী?’ উত্তর ...

চেন্নাই, ৩১ মে (পিটিআই): কেন্দ্রীয় সরকার ৩০ জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন চালানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্র সরকার গত নির্দেশিকা বদলের কোনও ঘোষণা করেনি। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আজ, সোমবার থেকে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির খোলার কথা ঘোষণা করা হলেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সেই সিদ্ধান্ত বদল করল মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভক্তদের জন্য এখনই মন্দির খোলা হবে না। ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ থেকে বোমাবাজির জেরে জখম হয়েছেন কয়েকজন। আহতরা সকলে যুব শিবিরের অনুগত। প্রতিবাদে যুব গোষ্ঠী রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস
১৮৭৪ - ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়।
১৯২৬- আমেরিকার মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা মেরিলিন মনরোর জন্ম
১৯২৯- অভিনেত্রী নার্গিসের জন্ম
১৯৩৪ - কবি, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৬৪- সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের জন্ম
১৯৬৮- মার্কিন লেখিকা ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের মৃত্যু
১৯৭০- অভিনেতা আর মাধবনের জন্ম
১৯৮৫ - ভারতীয় ক্রিকেটার দিনেশ কার্তিকের জন্ম।
১৯৯৬-ভারতের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডির মৃত্যু
২০০১- নেপাল রাজপরিবারে হত্যাকাণ্ড। যুবরাজ দীপেন্দ্র গুলি করে হত্যা করে বাবা, মা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র এবং রানি ঐশ্বর্যসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
২০০২ - দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হানসি ক্রোনিয়ের মৃত্যু,
২০০৯- রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিস আসার পথে অতলান্তিক মহাসাগরে ভেঙে পড়ল এয়ার ফ্রান্সের এয়ারবাস এ ৪৪৭। মৃত ২২৮ আরোহী।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
31st  May, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী ২৫/৫ দিবা ২/৫৮। হস্তা নক্ষত্র ৫০/১৮ রাত্রি ১/৩। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৬, সূর্যাস্ত ৬/১২/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/২৮ গতে ১০/১৪ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫ গতে ১১/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/২১ গতে ২/৪৭ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৫ মধ্যে পুনঃ ২/৫৩ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৩ গতে ১১/৩৪ মধ্যে।
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী দিবা ১২/১৪। হস্তানক্ষত্র রাত্রি ১১/১। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০ গতে ১০/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৮ গতে ১১/৫৮ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৫০ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ২/৫৫ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে।
৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গত ২৪ ঘণ্টায় গুজরাতে করোনা আক্রান্ত আরও ৪৩৮ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্ত ১৬,৭৯৪ 

31-05-2020 - 09:35:59 PM

মহারাষ্ট্রে করোনা পজিটিভ আরও ২,৪৮৭ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭,৬৫৫ 

31-05-2020 - 09:16:18 PM

রাজস্থানে করোনা পজিটিভ আরও ২১৪ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৮৩১ 

31-05-2020 - 09:08:26 PM

তামিলনাড়ুতে করোনা পজিটিভ আরও ১,১৪৯ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২,৩৩৩ 

31-05-2020 - 06:59:00 PM

জলপাইগুড়িতে ৩২ লক্ষ টাকার বেআইনি মদ উদ্ধার 
অসম থেকে বিহার যাওয়ার পথে জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ে বিপুল পরিমাণ ...বিশদ

31-05-2020 - 06:46:00 PM

মাধ্যমিক: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খাতা জমা দেওয়ার হুঁশিয়ারি পর্ষদের 
এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা জমা না দেওয়া পরীক্ষাকদের চরম হুঁশিয়ারি ...বিশদ

31-05-2020 - 06:45:35 PM