Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অতঃ কিম্‌
মেরুনীল দাশগুপ্ত

প্রশ্নটা অনিবার্যভাবেই উঠছে। চারদিকের পরিবেশ পরিস্থিতিই সাধারণ জনমনে প্রশ্নটা তুলে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, কখনও-সখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনার আকস্মিক ধাক্কায় প্রশ্নটা জিজ্ঞাসার সীমা ছাড়িয়ে কার্যত আমাদের বিস্ময়ে বিহ্বল করে দিচ্ছে। হচ্ছেটা কী! পুলওয়ামার অমন ভয়ঙ্কর কাণ্ড হল, উরি হল, তারপর দু-দুটো সার্জিকাল স্ট্রাইক হল, পরমাণু বোমা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপান উতোর চলল কিছুদিন, স্পষ্ট বোঝা গেল— কেবল সামরিক সামর্থ্যেই নয় দেশের সংহতি ও অখণ্ডতা রক্ষার নীতিগত দিক থেকেও ভারত এখন অনেক কঠিন কঠোর অনেক বলশালী, ঢিল মারলে পাটকেলের চেয়েও বিধ্বংসী কিছু প্রাপ্তি অসম্ভব নয় এবং ভারতের এই অবস্থানকে সন্ত্রাস-বিরোধী বিশ্ব একবাক্যে সমর্থন জানাল, আমেরিকা রাশিয়া ফ্রান্সের মতো শক্তিধরেরা সন্ত্রাস দমনে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিল, ক’দিন আগে সিরিয়ার বরিশা গ্রামে মার্কিন বাহিনীর হাতে আইএসের প্রধান বাগদাদি নিকেশ সেই বার্তার যাথার্থ্যও বুঝিয়ে দিল স্পষ্ট করে, তার আগেই আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র সংঘ-সভায় তাদের সন্ত্রাস-বিরোধী অবস্থানের দুর্বলতার জন্য রীতিমতো নিন্দিত সমালোচিত হল, কাশ্মীরে সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাক সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ল, হুঁশিয়ারিও উড়ে আসতে লাগল— তারপরও ফের এক ব্যাপার!
আবার জঙ্গি হানা! আবার রক্তাক্ত কাশ্মীর! আবার পাঁচ-পাঁচটা নিতান্ত নিরীহ নিরপরাধ তাজা প্রাণ চলে গেল! এবং ঘটনাচক্রে হতাভাগ্যদের পাঁচজনই এই বাংলার বাসিন্দা। কী অপরাধ করেছিল তারা? পেটের জ্বালা ঘর-সংসারের দায় মেটাতে দুটো টাকা রোজগারের আশায় তারা গিয়েছিল দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ে আপেল বাগানের কাজে। একদা শান্তির ভূস্বর্গ যে এখনও যথেষ্ট ভয়ঙ্কর সেকথা কে না জানেন? কিন্তু সেই ভয়ঙ্করের জঙ্গি বীভৎসতা যে আপেল বাগানও এভাবে রক্তাক্ত করে দেবে তা হয়তো বিশ্বাস করতে পারেনি ওই পাঁচ হতভাগ্য। অবশ্য এই পাঁচজনই নয়, গত কয়েকদিনে জঙ্গিদের হামলায় আরও জনাপাঁচেক প্রাণ হারিয়েছেন ওই কাশ্মীরেই। এই হতভাগ্যদের কেউ ট্রাক চালক কেউ ব্যবসায়ী কেউ সামান্য শ্রমিক। গত সোমবার উত্তর কাশ্মীরের সোপরে জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় কুড়িজনেরও বেশি ঘায়েল হলেন। এদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক! হয়েই চলেছে! দেখে শুনে মনে হচ্ছে, ওই জঙ্গিদের কাছে কে কী বলছে থোড়াই কেয়ার! বিশ্বজোড়া প্রতিবাদ আমেরিকা রাশিয়ার মতো শক্তিধরদের হুঁশিয়ারি ভারতের কড়া মনোভাব সশস্ত্র প্রতিক্রিয়া— কোনও কিছুকেই যেন তোয়াক্কা করছে না ওই নরকের কীটগুলো! ভূস্বর্গ জুড়ে নিরীহ মানুষ খুনের নারকীয় কাণ্ড ঘটিয়েই চলেছে!
কিন্তু, ভারতই হোক কি আমেরিকা রাশিয়া— সামরিক শক্তির তো অভাব নেই! ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কাশ্মীরে যাতে অশান্তি ছড়াতে না পারে তার জন্য বিপুল সংখ্যায় সেনা সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। কাশ্মীরি জনতার নিরাপত্তার স্বার্থে যে যে ব্যবস্থা করা দরকার সেনাবাহিনী সব করেছে। অন্তত খবর তেমনই। অবশ্য, সেই ‘ব্যবস্থা’ নিয়ে নানা মহলে ইতিমধ্যেই নানা সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। জঙ্গি দমনের নামে তল্লাশির নামে সেখানে নাকি আম পাবলিককে হেনস্তা করা হচ্ছে, নানান কড়াকড়ি বাড়াবাড়িতে স্বাভাবিক জনজীবনের অভাবে ধুঁকছে গোটা রাজ্য ইত্যাদি ইত্যাদি নানাবিধ অভিযোগের ফলঝুরি ৩৭০ বিলোপের পর থেকেই ঝরছে! সে সবের সত্যতা কতটা আছে বা নেই সেই বিতর্কে যাচ্ছি না। কিন্তু, একটা প্রশ্ন মনে জাগছেই— এত বজ্র আঁটুনির মধ্যেও কি গোরো আলগা আছে কিছু? না হলে সোপরে বাসস্ট্যান্ডে গ্রেনেড ছুঁড়ে কী করে পালায় জঙ্গি? সাম্প্রতিকে দেখা যাচ্ছে জঙ্গিরা সাধারণ মধ্য বা নিচুতলার মানুষজনকেই টার্গেট করছে— বাস ড্রাইভার, শ্রমিক, ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ী ইত্যাদি। তো, এ সত্য যদি সামান্য কটা খবর পড়ে লোকে এই বাংলায় বসে বুঝতে পারেন তবে ঘটনাস্থলে প্রহরারত ভারতের দুর্দান্ত চৌখস সেনাবাহিনী ও তাঁদের কর্তারাও নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। তাহলে দিনের পর দিন এই অকারণ প্রাণহানি রোধ করা যাচ্ছে না কেনও?
কেউ কেউ বলছেন, রাজনীতি। সোশ্যাল মিডিয়াতে বিশেষ করে এই অভিযোগ উঠেছে। ওই সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচন এলেই নাকি কাশ্মীরে অশান্তি ছড়ায় আর তা ঠেকাতে সেনা সক্রিয় হয়! সম্প্রতি মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানার নির্বাচনের দিকে লক্ষ রেখেই নাকি কিছুদিন আগে সীমান্তে ফের গোলাগুলি চলেছে। যাঁরা এই কথা বলেছেন, তাঁরা ভোটফল বেরনোর পর আর তেমন রা কাড়ছেন না। তার কারণটি বলা বাহুল্য। দুই রাজ্যের কোনওটিতেই নরেন্দ্র মোদিজি’র পদ্ম বাহিনী প্রত্যাশিত ফল পায়নি। দুই রাজ্যে বিজেপি’ই সরকারে থাকবে কিন্তু তার পথ এবার অন্তত কুসুমাস্তীর্ণ হল না— যথেষ্ট কাঠখড় পোড়াতে হল। কেন হল? যদি কাশ্মীর এবং জঙ্গি ইস্যু দিয়েই ভোট জেতা যেত তাহলে তো হওয়ার কথা নয়। কেউ কেউ বলছেন, ওই দুই রাজ্যে যথেষ্টভাবে মোদিজিকে ব্যবহার করা হয়নি তাই ঠিকঠাক ফল ফলেনি। এবং এতদ্বারা নাকি এটাই প্রমাণ হয়— মোদিজি ছাড়া বিজেপি অচল। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে একসময় যেমন ধুয়ো উঠেছিল— ইন্দিরা ইজ ইন্ডিয়া তেমনি ওঁরা বলতে চান— বিজেপি মানেই মোদিজি।
কিন্তু, মুশকিলটা হল— এঁরা কেউ ভোটদাতা জনতার মুখের ছবিটা খেয়াল করছেন না! করলে দেখতে পেতেন সেখানে দেশ জোড়া মন্দার ছায়া কতটা ঘনীভূত, সেই ছায়ায় কালোমুখ মানুষ তাঁদের ঘর সংসার পরিবার পরিজনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় কতটা গ্রস্ত। তাঁরা অনেকেই জানেন, বিশ্ব বাজার জুড়েই এখন একটা মন্দার হাওয়া বইছে। কিন্তু তাঁদের একাংশের বক্তব্য মনমোহন সিংয়ের আমলে আমেরিকার মতো মহা অর্থনীতি যখন মন্দায় কাহিল হয়েছে ভারত তখনও বহাল তবিয়তে কাজকাম ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে গেছে। এখন তবে কী হল? কেন অর্থনীতি নিয়ে এত সংশয়? নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য এক্ষেত্রে ইন্ধন জুগিয়েছে আরও— তাহলে কি সত্যিই এ দেশে গরিবের অর্থ সামর্থ্য বাড়েনি!? সেজন্যই বাজার ক্রমশ রুগ্ন হয়ে পড়ছে? অন্যদিকে মহারাষ্ট্রে একটি ব্যাঙ্কের ঘট উল্টোনো থেকে বিএসএনএল সমেত সর্বত্র বেসরকারিকরণের জল্পনা গাড়ি শিল্পে মন্দা সোনার দাম লাফিয়ে বাড়া ইত্যাদি প্রভৃতিতে একটা যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে দেশ জুড়ে তা-ই বা অস্বীকার করবেন কে?
আজকাল পথেঘাটে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, লোকে বলছে— কী চাইছেন বলুন তো?! গরিব মধ্যবিত্তরা কি দেশে থাকবে না? হু হু করে সবকিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে, কলকারখানা বন্ধ, তার জমিতে বিশ-চল্লিশ তলা উঠে যাচ্ছে, কোটি কোটিতে বিকোচ্ছে মুনাফা উঠছে! স্থায়ী চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিন্তে থাকা যাচ্ছে না— বেসরকারিকরণের খাঁড়া ঝুলছে রেলের মতো বিশ্বের সর্ববৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানে! শিক্ষা বিশেষত উচ্চশিক্ষাও মহার্ঘ থেকে মহার্ঘতর হয়ে যাচ্ছে রোজ প্রতিদিন! তাহলে কি গরিব, মধ্যবিত্তের ঘরের ছেলেমেয়েরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে না ভবিষ্যতে! কী চাইছে বলুন তো সরকার? সরকার বলছে, ভালো দিনের কথা। ভালো দিন নিশ্চয়ই চাই। কিন্তু, তার নমুনা কি এই— চারদিক জুড়ে কেবল সমস্যা আর সমস্যা! আমার এক বন্ধু বলছিলেন, একদম ঠিক। লোকে এবার জানতে চাইছে। চাইবে না? সামান্য একটা ভিটামিন সি ট্যাবেলেটের ১৫টার পাতা ছিল ১৫ টাকা। এক লাফে সেটা হয়েছে ৬০ টাকা! আর একটা কী কাশির সিরাপ শুনলাম ৩০ টাকা থেকে এক ধাক্কায় একশো! শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয় কিন্তু, গোটা দেশেই। সুতরাং, গোটা দেশের সাধারণ মানুষের ভাবনা আমাদের থেকে আজ আর আলাদা নয়। ভোটে এই ভাবনারই প্রতিফলন ঘটছে। মহারাষ্ট্র হরিয়ানাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আসলে আজকাল মানুষ কী ভাবছে সেটা ভাবেন ক’জন নেতা? সকলে তো ধরেই নিয়েছেন— এ আমার লোক আর ও ওদের। ব্যস। হয়ে গেল। কিন্তু এই হিসেব আর বেশি মিলবে না। আমার বন্ধুটির এই মন্তব্য এককথায় উড়িয়ে দেওয়া যায় কি? বিদ্বজ্জনেরা কী বলবেন জানি না তবে সাধারণজনেরা এই কথাগুলোই রাস্তাঘাটে আলাপে আড্ডায় ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বলছেন। তাঁরা এও বলছেন, কাশ্মীরে এত সহজে স্বচ্ছন্দে সন্ত্রাসের এমন উপদ্রবের কারণগুলো সংশ্লিষ্ট সকলে জানেন। সে সব নিয়ে বিস্তর রচনাবলি লিখিত ও পঠিত হয়েছে। নতুন করে বলার নেই। বলার যেটা তা হল— এখনও কারণগুলো যথারীতি আছে, ভূস্বর্গে সন্ত্রাসের সূচনার এত এত বছর বাদেও! এবং, তার জন্যই কাশ্মীর উপত্যকা জুড়ে সীমান্তের এপারে-ওপারে সারাক্ষণ একটা চাপা উত্তেজনার বাতাবরণ, গোলাগুলি সেনা কারফু বিপর্যস্ত জীবন আর একের পর এই ঘটনায় বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষজন! শেষ বলি বাংলার পাঁচ হতভাগ্য।
বাঙালির পুজো মরশুম প্রায় শেষ। মহামায়ার আবাহন বিসর্জন কেন্দ্র করে বাঙালির ঘরে বাইরে যে মহোৎসবের সূচনা হয়েছিল, বান ডেকেছিল আনন্দের তার রেশ এখন অনেকটাই ফিকে। এবং, গত রবিবার মা কালীর বন্দনা শেষে আর পাঁচটা বছরের মতো এবারও ছুটি ফুরনো কাজের বাঁশি বেজে উঠেছে গোটা বঙ্গে। আফিস কাছারি থেকে বাণিজ্য ফিরতে শুরু করেছে চেনা ছন্দে। কিন্তু, মুর্শিদাবাদে ওই পাঁচ হতভাগ্যের পরিবার কি সহজে ফিরতে পারবে জীবনের চেনা ছন্দে? তার চেয়েও বড় কথা, এভাবে আর কতদিন! আর কত ঘর খালি হলে কাশ্মীরে জঙ্গি যন্ত্রণা মিটবে, ভূস্বর্গ ফিরে পাবে তার মহিমা! উত্তর মেলে না। অপেক্ষার রাত শুধু বেড়ে যায়। অতঃ কিম্‌।
31st  October, 2019
মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

 ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে।
বিশদ

16th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

13th  November, 2019
অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। বিশদ

10th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

 পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
বিশদ

09th  November, 2019
একনজরে
 কলম্বো, ১৬ নভেম্বর: অপ্রীতিকর নানা ঘটনার মধ্যেই শনিবার সম্পন্ন হল শ্রীলঙ্কার ভোট। আর এই ভোটে শ্রীলঙ্কার দিকে বিশেষ নজর ছিল ভারতের। ভারতের মূল চিন্তা মহিন্দা রাজাপাকসে। যদি তাঁর দল পুনরায় ক্ষমতায় ফেরে, তাহলে তা ভারতের জন্য খুব ভালো হবে না, ...

সংবাদদাতা, আরামবাগ: বিভিন্ন দাবিতে শনিবার আরামবাগে মিছিল করে সিপিএম। সিপিএমের-১ ও ২ নম্বর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে এদিন একটি পথসভাও হয়। আরামবাগের ধামসা বাসস্ট্যান্ডে প্রথমে পথসভা ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: ভোট যে বড় বালাই। তাই বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নীতি, আদর্শ বা পরিকল্পনাকে আপাতত শিকেয় তুলে নিজেদের অবস্থান নিয়ে কার্যত ‘ডিগবাজি’ খেল ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহণ ও মজুত রাখা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়তে উৎসাহী বিশ্ব ব্যাঙ্ক। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে তাদের। ওই প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যান আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত হতে পারে বলে শনিবার দাবি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় আগ্রহ বাড়বে। মনোমতো বিষয় নিয়ে পঠন-পাঠন হবে। ব্যবসা স্থান শুভ। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস
১৮১২ - ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জন ওয়ালটারের মৃত্যু ।
১৮৯০ -অবিভক্ত ভারতে প্রথম সিরাম ভ্যাকসিন ও পেনিসিলিন প্রস্তুতকারক বিশিষ্ট ভেষজ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক হেমেন্দ্রনাথ ঘোষের জন্ম।
১৯৪৬ - বিশ্বে প্রথমবারের মত কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করা হয়।
১৯৬৩: ঝাড়খণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেত্রী মীনাক্ষি শেষাদ্রি
১৯৭১: পাকিস্তানের ক্রিকেটার ওয়াকার ইউনিসের জন্ম
১৯৮৮: এক দশকেরও বেশি সময় পর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হল অবাধ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন বেনজির ভুট্টো

16th  November, 2019




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০২ টাকা ৭৩.৫৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.০৫ টাকা ৯৪.৯০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৩ টাকা ৮১.২৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
16th  November, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ৩১/১৫ রাত্রি ৬/২৩। পুনর্বসু ৪২/৪৪ রাত্রি ১০/৫৯। সূ উ ৫/৫৪/৩, অ ৪/৪৮/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ২/৩৮। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৮ গতে ১/৩৩ মধ্যে পুনঃ ২/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/০ গতে ১২/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৩৯ মধ্যে।
৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ২৮/২৫/৫০ সন্ধ্যা ৫/১৭/৫৯। পুনর্বসু ৪১/৫৬/২২ রাত্রি ১০/৪২/১২, সূ উ ৫/৫৫/৩৯, অ ৪/৪৯/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫০ গতে ৮/৫৭ মধ্যে ও ১১/৪৮ গতে ২/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৭ গতে ৯/১৪ মধ্যে ১১/৫৩ গতে ১/৪০ মধ্যে ও ২/৩৩ গতে ৫/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০/৪৫ গতে ১১/২২/২৬ মধ্যে, কালবেলা ১১/২২/২৬ গতে ১২/৪৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/৪৫ গতে ২/৩৯/৩ মধ্যে।
১৯ রবিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাবে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড 

04:12:19 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের আমিরাবাদ গ্রামে ট্রাকে আগুন লাগাল জঙ্গিরা 

03:21:29 PM

আইসিসি টেস্ট বোলারদের তালিকায় প্রথম দশে স্থান পেলেন মহঃ সামি 

03:21:00 PM

ইকো পার্কে জলে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের 

03:11:00 PM

কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীকে
চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। ...বিশদ

02:56:00 PM

পঃ বর্ধমানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মূর্তি ভাঙার অভিযোগ
শনিবার রাতে পশ্চিম বর্ধমানের মানকর স্টেশন রোড এলাকায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ...বিশদ

01:23:59 PM