Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বেসরকারিকরণ: অর্থনীতি এবং রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

গত অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে ভারত পেট্রলিয়ামের নিট প্রফিট ছিল ৩১২৪ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা। আগের ত্রৈমাসিকের থেকে ১৬.২১ শতাংশ বেশি। এরপরও নরেন্দ্র মোদি সরকার বেসরকারিকরণের জন্য যে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার নাম নিয়ে কাটাছেঁড়া করছে, তার মধ্যে রয়েছে বিপিসিএল। নিশ্চয়ই গুরুতর সিদ্ধান্ত! নিশ্চয়ই এর নেপথ্যে কোনও কারণ রয়েছে! কিন্তু সাধারণ মানুষ কি অতশত বোঝে? বরং তারা ভাবে, যে মুরগি সোনার ডিম দেয়, তাকে কেউ বিক্র করে নাকি? অর্থাৎ, যে সংস্থা চালাতে সরকার অপারগ, তাকেই বিক্রি করবে। লাভজনক সংস্থাকে নয়। তাহলে এই সিদ্ধান্ত কেন? তাহলে আর একটা কারণ হতে পারে... সংসার চালাতে না পারলে গৃহকর্তা যেমন গয়না-ঘটিবাটি বিক্রি করে দেন, ব্যাপারটা খানিকটা তেমন। মোদি সরকারের অর্থনীতির এখন যা দশা, তাতে বন্ধ চোখে উবু... এক... দুই... তিন গুনে হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, সেটাই বেচেবুচে কোষাগারে অক্সিজেন দেওয়া। বাস্তবে সেটাই হচ্ছে।
মোদি সরকারের সাংসারিক হালচালটা একবার দেখে নেওয়া যাক। দেশের জিডিপি নেমে গিয়েছে ৫ শতাংশে। বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। ফলে কর্মসংস্থান তৈরি তো হচ্ছেই না, পাশাপাশি বাজারদর হু হু করে বাড়ছে। ২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদি স্বপ্ন বেচার সওদাগর। আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখার ছিল সেই শুরু। নোট বাতিলে লক্ষাধিক ভারতীয়ের চাকরি যাওয়া, জিএসটি চালুর পর ছোট ছোট কোম্পানিগুলিতে তালা ঝুলে যাওয়ার পরও সেই স্বপ্ন থেকে মুখ ফেরায়নি দেশ। গত লোকসভা নির্বাচনে আরও বেশি জনসমর্থন নিয়ে ফিরে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি। এবং নিন্দুকে বলছে, অর্থনীতির টানাপোড়েন তারপর আরও বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে গেলে বেসরকারি সংস্থাগুলির উপর নির্ভর করতেই হবে। মানুষের হাতে টাকার জোগান না থাকায় খুব স্বাভাবিকভাবে পণ্য বিক্রি কমেছে। অর্থাৎ চাহিদার ঘাটতি। চাহিদা না থাকলে পণ্যের সরবরাহ কমবে। কোম্পানিগুলিও উৎপাদন কমিয়ে আনবে। চাকরি যাবে আরও হাজার হাজার মানুষের। কেন্দ্রীয় সরকার তাই একটা ফাটকা খেলল... সর্বোচ্চ কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে নিয়ে এল ২৫.২ শতাংশে। এর ফলে কী হতে পারে? প্রথমত, লাভের টাকা বেশি করে হাতে থাকলে উৎপাদনের দিকে ঝুঁকতে পারে সংস্থাগুলি। তেমন কিছু সত্যিই হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট সংস্থাগুলি সরকারের তথা শাসক দলের প্রতি সদয় হবে। যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে আসন্ন সব নির্বাচনে। ভোটব্যাঙ্কের প্রসঙ্গই যদি ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষকে তো কিছুটা ফুল-বেলপাতা দিতেই হবে! তাই শোনা যাচ্ছে ব্যক্তিগত আয়করেও ছাড়ের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ১০ শতাংশ কমিয়েই সরকারি কোষাগারে দেড় লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব কম আসবে। তার উপর ব্যক্তিগত আয়করেও ছাড় ঘোষণা করে দিলে রাজস্ব ঘাটতি আরও বাড়বে। অর্থনীতির আজকের বেহাল দশায় পরিকাঠামো খাতে উন্নয়নে সরকারকে আপাতত বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে। একইসঙ্গে জোর দিতে হবে বাজারে নগদের জোগানে। গোটা পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের কোষাগার সমৃদ্ধ করা নিদারুণভাবে প্রয়োজনীয়। তাই উপায়? ওই যে... ঘটি-বাটি বিক্রি! রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি। পারলে কোপ ‘নবরত্নে’ও। অঙ্কটা অন্য জায়গায়... বেশ কিছু এমন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সরকার তালিকায় রেখেছে, যাদের শেয়ার বিক্রি করলেও তারা বেসরকারি হয়ে যাবে না। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ইন্ডিয়ান অয়েল... এখনই এই সংস্থায় সরকারের সরাসরি অংশীদারিত্ব ৫১.৫ শতাংশের নীচে। অথচ, ইন্ডিয়ান অয়েলে ওএনজিসির শেয়ার রয়েছে ১৪ শতাংশ, অয়েল ইন্ডিয়ার ৫.১৬ শতাংশ এবং এলআইসির ৬.৫ শতাংশ। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার যদি আরও ২০ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দেয়, তাহলেও কেন্দ্রের অংশীদারিত্ব ৫০ শতাংশের নীচে নামবে না। অর্থাৎ, ইন্ডিয়ান অয়েল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাই থাকবে। একইভাবে রয়েছে এনটিপিসি, ভারত ইলেক্ট্রনিক্স, বিইএমএল, গেইল, ন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়ামের মতো সংস্থা। এই প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের শেয়ার ৬০ শতাংশের নীচে। কিন্তু অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অংশীদারিত্ব মোদি সরকারকে আরও শেয়ার বিক্রির সুযোগ দিচ্ছে।
সম্প্রতি মোদি সরকার যে তালিকা বানিয়েছে, তাতে এমন বহু কোম্পানিই রয়েছে... ভারত পেট্রলিয়াম, নিপকো, শিপিং কর্পোরেশন, এয়ার ইন্ডিয়া, টিএইচডিসি...। লক্ষ্য, এই সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রি করে আগামী পাঁচ বছরে ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা আদায় করা। আর ২০২০ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার। প্রশ্ন হল, সেটাও কি সম্ভব হবে? ১৯৯১-’৯২ সালে যখন বেসরকারিকরণের রাস্তা খুলে দেওয়া হল, তখন ১০ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে ৫৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আদায় ছিল প্রাথমিক টার্গেট। যদিও ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি কোষাগারে ভরতে পারেনি সরকার। প্রথম যে ৩১টি সংস্থাকে নিয়ে তালিকা তৈরি হয়েছিল, তার থেকে আয় হয়েছিল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এর নেপথ্যে অবশ্য অন্য অঙ্ক ছিল। অনেক সমীকরণ না মেলা অঙ্ক।
১৯৮০ থেকে ’৯০-এর দশকে উন্নত অর্থনীতির কিছু দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বেসরকারিকরণের একটা হিড়িক দেখা গিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল বেশ কয়েকটা... সংস্থাকে অর্থনৈতিক দিক থেকে চাঙ্গা করা, সরকারি হস্তক্ষেপ কমানো, সংস্থার লাভের পরিমাণ বাড়ানো এবং মার্কেটে মনোপলি ভেঙে সুস্থ প্রতিযোগিতার একটা পরিবেশ তৈরি। পাশাপাশি সরকারি কোষাগার আরও সমৃদ্ধ তো হবেই। আবার একটা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারি হাতে যাওয়া মানে তার শেয়ার উন্মুক্ত হয়ে গেল বাজারের জন্য। ফলে সেই কোম্পানির মার্কেট চাঙ্গা হবে। দাম বাড়বে শেয়ারের। আলোর মুখ দেখবে বাজার অর্থনীতিও। এই এতগুলো শর্ত একসঙ্গে পূরণ হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতি চড়চড় করে আকাশ ছোঁবে। কিন্তু সেই সময়ে কিছু সমস্যা দেখা দিল। যে ভাবনা নিয়ে বেসরকারিকরণের ঘোড়া ছুটেছিল, তা আর্থ-সামাজিক পাঁকে আটকে অনেক জায়গাতেই মুখ থুবড়ে পড়ল। এবং উন্নত অর্থনীতির দেশগুলি তার থেকে শিক্ষাও নিল। কেমন শিক্ষা? আঁটঘাট বেঁধে নীতি তৈরিতে জোর দিল দেশগুলি। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রির আগাম কিছু শর্ত চাপানো হল। প্রস্তাব দেওয়া হল, কোনও সংস্থার দায় ঘাড় থেকে নামিয়ে দেওয়ার আগে সরকার যেন সবদিক ভেবে কিছু নীতি নির্ধারণ করে নেয়। একটা সংস্থা যে পণ্য তৈরি করে বা যে পরিষেবা দেয়, তার সঙ্গে বহু গ্রাহক এবং কর্মীর স্বার্থ জড়িয়ে থাকে। অর্থাৎ ধরে নেওয়া যাক, একটি বিমান সংস্থা... এমন বহু ব্যক্তি থাকতেই পারেন, যাঁরা ওই সংস্থার পরিষেবা নিতেই স্বচ্ছন্দ। বেসরকারিকরণের ফলে যদি সেই পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন ঘটে, তাহলে তার বাঁধা গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হবে। যার ফল ভোগ করতে হবে সামনে থাকা বিমানকর্মীদের। যাঁদের হাল অনেক ক্ষেত্রেই আরও খারাপ দিকে যায়। প্রচুর পরিমাণে ছাঁটাই, বেতন নিয়ে সমস্যা, চাকরি পরবর্তী সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চনা... এমন অনেক কিছু। ফলে একটি সংস্থা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিক্রির আগে সরকার যে নীতি তৈরি করে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সবার আগে সরকারকে যা করতে হয় সেটা হল, কর্মী সুরক্ষার দিকে নজর দেওয়া। শেয়ার হস্তান্তরের নীতি এমনভাবে তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বেসরকারি হাতে গেলেও সেই সংস্থার কর্মীদের চাকরি নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা না তৈরি হয়। যদিও আদপে তেমন কিছু হয় না। বেসরকারিকরণের ফলে একটি সংস্থার পরিচালন দক্ষতা যেমন বাড়ে, ঠিক তেমনই কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার একটা আবহ তৈরি হয়। সব সময় কী হবে, কী হবে একটা ব্যাপার...। আদৌ চাকরিটা থাকবে তো? মাইনে যা পেতাম, তা পাব তো?... এমন নানা প্রশ্ন আতঙ্কের আকারে ঘুরতে শুরু করে।
এ তো গেল কর্মী সমস্যা। একটি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় খুব বেশি হলে কয়েক হাজার কর্মীর এই সমস্যা হবে। কিন্তু বিরাট ধাক্কা আসতে পারে বাজার অর্থনীতিতে। ধরা যাক, ভারত সরকার কোল ইন্ডিয়ার বেসরকারিকরণ করল। এবং ভারত সরকারের হাতে সেই সংস্থার ৫০ শতাংশের কম শেয়ার রয়ে গেল। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে কোল ইন্ডিয়ার উপর কেন্দ্রের আর নিয়ন্ত্রণ থাকল না। এবার বেসরকারি সংস্থাটি যদি যথেচ্ছভাবে কয়লার দাম বাড়ায়, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজার অর্থনীতির উপর। বাড়বে বিদ্যুতের দাম। আর বিদ্যুতের দাম বাড়লে যে কোনও পণ্যেরই উৎপাদন খরচ পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাবে। ফলে যে জিনিসটা আমরা হয়তো ১০ টাকায় কিনতাম, তার দাম ১৫ টাকা হয়ে যেতেই পারে। একই সমস্যা পরিষেবার ক্ষেত্রেও হতে পারে। ধরা যাক, বিএসএনএলের কথা। আপাতত এমটিএনএলের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ ঘটিয়ে এবং প্যাকেজ দিয়ে সংস্থাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। এবার যদি এই সংস্থারও বেসরকারিকরণ ঘটে, পরিষেবার কিন্তু অতটাও সস্তা হবে না! ফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থাগুলি তখন নিজেদের ইচ্ছেমতো পরিষেবার জন্য দাঁ হাঁকবে। অর্থাৎ সরকারি হাতে সংস্থা থাকা মানে একটা নিয়ন্ত্রণ থাকা। পণ্য এবং পরিষেবার উপর নিয়ন্ত্রণ হাতের বাইরে চলে যাওয়া মানেই সাধারণ মানুষের উপর কোপের সম্ভাবনা প্রবল হওয়া।
দেশের অর্থনীতির এখন যা অবস্থা তাতে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বাজারে নগদের জোগান বাড়ানোর জন্য সরকারকে কোষাগার ভরাতেই হবে। আর তার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ ছাড়া সেই অর্থে আর কোনও রাস্তা মোদি সরকারের হাতে নেই। কোন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা? অবশ্যই লাভজনক। যে সংস্থা ধুঁকছে, তাকে বিক্রি করলে কি আর যোগ্য দাম তৈরি হবে? কখনওই না। আবার আরও একটা বিষয় দেখতে হবে। যে সংস্থা বিক্রি করার কথা ভাবা হচ্ছে, তার উৎপাদিত পণ্যের বাজার এই মুহূর্তে কেমন যাচ্ছে। যদি বিশ্ব বাজারে কয়লার দাম নিম্নগামী হয়, তাহলে কোল ইন্ডিয়ার শেয়ার বিক্রি করে মোটেই চাহিদামতো দাম পাওয়া যাবে না।
এবার রাজনীতি। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হোক বা সাধারণ মানুষ, বেসরকারিকরণের ফলে যদি হেঁশেলে টান পড়ে, শাসক দল তার ঝাঁঝটা বুঝবে পরের ভোটে। ভারতের ভোটাররা চলতি বছরের লোকসভা ভোটেও নরেন্দ্র মোদিকে ঢেলে আশীর্বাদ করেছেন। এবার একের পর এক বিধানসভা নির্বাচন। হরিয়ানায় কেঁদে কঁকিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। মহারাষ্ট্র এখনও ঝুলে। শিবসেনা সেখানে পারলেই বিজেপিকে একহাত নিচ্ছে। কাজেই বড্ড এবড়োখেবড়ো রাস্তা। বুঝে পা না ফেললেই আছাড় নিশ্চিত।
29th  October, 2019
মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

 ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে।
বিশদ

16th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

13th  November, 2019
অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। বিশদ

10th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

 পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
বিশদ

09th  November, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, গাজোল: চড়া দামের ঠেলায় পড়ে এবার ভাতের হোটেলগুলিতেও কোপ পড়েছে ‘ফ্রি পেঁয়াজ’-এর উপর। সেইসঙ্গে চাউমিন বা এগরোলের মধ্যেও কমেছে পেঁয়াজের পরিমাণ। শসার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জোড়াতালি।  ...

সংবাদদাতা, আরামবাগ: বিভিন্ন দাবিতে শনিবার আরামবাগে মিছিল করে সিপিএম। সিপিএমের-১ ও ২ নম্বর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে এদিন একটি পথসভাও হয়। আরামবাগের ধামসা বাসস্ট্যান্ডে প্রথমে পথসভা ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহণ ও মজুত রাখা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়তে উৎসাহী বিশ্ব ব্যাঙ্ক। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের সঙ্গে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে তাদের। ওই প্রকল্পের মাস্টার প্ল্যান আগামী সপ্তাহে চূড়ান্ত হতে পারে বলে শনিবার দাবি ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: ভোট যে বড় বালাই। তাই বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নীতি, আদর্শ বা পরিকল্পনাকে আপাতত শিকেয় তুলে নিজেদের অবস্থান নিয়ে কার্যত ‘ডিগবাজি’ খেল ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় আগ্রহ বাড়বে। মনোমতো বিষয় নিয়ে পঠন-পাঠন হবে। ব্যবসা স্থান শুভ। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস
১৮১২ - ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জন ওয়ালটারের মৃত্যু ।
১৮৯০ -অবিভক্ত ভারতে প্রথম সিরাম ভ্যাকসিন ও পেনিসিলিন প্রস্তুতকারক বিশিষ্ট ভেষজ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক হেমেন্দ্রনাথ ঘোষের জন্ম।
১৯৪৬ - বিশ্বে প্রথমবারের মত কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করা হয়।
১৯৬৩: ঝাড়খণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেত্রী মীনাক্ষি শেষাদ্রি
১৯৭১: পাকিস্তানের ক্রিকেটার ওয়াকার ইউনিসের জন্ম
১৯৮৮: এক দশকেরও বেশি সময় পর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হল অবাধ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন বেনজির ভুট্টো

16th  November, 2019




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০২ টাকা ৭৩.৫৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.০৫ টাকা ৯৪.৯০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৩ টাকা ৮১.২৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
16th  November, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ৩১/১৫ রাত্রি ৬/২৩। পুনর্বসু ৪২/৪৪ রাত্রি ১০/৫৯। সূ উ ৫/৫৪/৩, অ ৪/৪৮/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ২/৩৮। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৮ গতে ১/৩৩ মধ্যে পুনঃ ২/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/০ গতে ১২/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৩৯ মধ্যে।
৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ২৮/২৫/৫০ সন্ধ্যা ৫/১৭/৫৯। পুনর্বসু ৪১/৫৬/২২ রাত্রি ১০/৪২/১২, সূ উ ৫/৫৫/৩৯, অ ৪/৪৯/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫০ গতে ৮/৫৭ মধ্যে ও ১১/৪৮ গতে ২/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৭ গতে ৯/১৪ মধ্যে ১১/৫৩ গতে ১/৪০ মধ্যে ও ২/৩৩ গতে ৫/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০/৪৫ গতে ১১/২২/২৬ মধ্যে, কালবেলা ১১/২২/২৬ গতে ১২/৪৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/৪৫ গতে ২/৩৯/৩ মধ্যে।
১৯ রবিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সুপ্রিম কোর্টে অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাবে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড 

04:12:19 PM

জম্মু ও কাশ্মীরের আমিরাবাদ গ্রামে ট্রাকে আগুন লাগাল জঙ্গিরা 

03:21:29 PM

আইসিসি টেস্ট বোলারদের তালিকায় প্রথম দশে স্থান পেলেন মহঃ সামি 

03:21:00 PM

ইকো পার্কে জলে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের 

03:11:00 PM

কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীকে
চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। ...বিশদ

02:56:00 PM

পঃ বর্ধমানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মূর্তি ভাঙার অভিযোগ
শনিবার রাতে পশ্চিম বর্ধমানের মানকর স্টেশন রোড এলাকায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ...বিশদ

01:23:59 PM