Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বেসরকারিকরণ: অর্থনীতি এবং রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

গত অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে ভারত পেট্রলিয়ামের নিট প্রফিট ছিল ৩১২৪ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা। আগের ত্রৈমাসিকের থেকে ১৬.২১ শতাংশ বেশি। এরপরও নরেন্দ্র মোদি সরকার বেসরকারিকরণের জন্য যে কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার নাম নিয়ে কাটাছেঁড়া করছে, তার মধ্যে রয়েছে বিপিসিএল। নিশ্চয়ই গুরুতর সিদ্ধান্ত! নিশ্চয়ই এর নেপথ্যে কোনও কারণ রয়েছে! কিন্তু সাধারণ মানুষ কি অতশত বোঝে? বরং তারা ভাবে, যে মুরগি সোনার ডিম দেয়, তাকে কেউ বিক্র করে নাকি? অর্থাৎ, যে সংস্থা চালাতে সরকার অপারগ, তাকেই বিক্রি করবে। লাভজনক সংস্থাকে নয়। তাহলে এই সিদ্ধান্ত কেন? তাহলে আর একটা কারণ হতে পারে... সংসার চালাতে না পারলে গৃহকর্তা যেমন গয়না-ঘটিবাটি বিক্রি করে দেন, ব্যাপারটা খানিকটা তেমন। মোদি সরকারের অর্থনীতির এখন যা দশা, তাতে বন্ধ চোখে উবু... এক... দুই... তিন গুনে হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, সেটাই বেচেবুচে কোষাগারে অক্সিজেন দেওয়া। বাস্তবে সেটাই হচ্ছে।
মোদি সরকারের সাংসারিক হালচালটা একবার দেখে নেওয়া যাক। দেশের জিডিপি নেমে গিয়েছে ৫ শতাংশে। বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। ফলে কর্মসংস্থান তৈরি তো হচ্ছেই না, পাশাপাশি বাজারদর হু হু করে বাড়ছে। ২০১৪ সাল থেকে নরেন্দ্র মোদি স্বপ্ন বেচার সওদাগর। আচ্ছে দিনের স্বপ্ন দেখার ছিল সেই শুরু। নোট বাতিলে লক্ষাধিক ভারতীয়ের চাকরি যাওয়া, জিএসটি চালুর পর ছোট ছোট কোম্পানিগুলিতে তালা ঝুলে যাওয়ার পরও সেই স্বপ্ন থেকে মুখ ফেরায়নি দেশ। গত লোকসভা নির্বাচনে আরও বেশি জনসমর্থন নিয়ে ফিরে এসেছেন নরেন্দ্র মোদি। এবং নিন্দুকে বলছে, অর্থনীতির টানাপোড়েন তারপর আরও বেড়েছে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করতে গেলে বেসরকারি সংস্থাগুলির উপর নির্ভর করতেই হবে। মানুষের হাতে টাকার জোগান না থাকায় খুব স্বাভাবিকভাবে পণ্য বিক্রি কমেছে। অর্থাৎ চাহিদার ঘাটতি। চাহিদা না থাকলে পণ্যের সরবরাহ কমবে। কোম্পানিগুলিও উৎপাদন কমিয়ে আনবে। চাকরি যাবে আরও হাজার হাজার মানুষের। কেন্দ্রীয় সরকার তাই একটা ফাটকা খেলল... সর্বোচ্চ কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে নিয়ে এল ২৫.২ শতাংশে। এর ফলে কী হতে পারে? প্রথমত, লাভের টাকা বেশি করে হাতে থাকলে উৎপাদনের দিকে ঝুঁকতে পারে সংস্থাগুলি। তেমন কিছু সত্যিই হলে কর্মসংস্থান বাড়বে। দ্বিতীয়ত, কর্পোরেট সংস্থাগুলি সরকারের তথা শাসক দলের প্রতি সদয় হবে। যার ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে আসন্ন সব নির্বাচনে। ভোটব্যাঙ্কের প্রসঙ্গই যদি ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষকে তো কিছুটা ফুল-বেলপাতা দিতেই হবে! তাই শোনা যাচ্ছে ব্যক্তিগত আয়করেও ছাড়ের কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। শুধু কর্পোরেট ট্যাক্সের হার ১০ শতাংশ কমিয়েই সরকারি কোষাগারে দেড় লক্ষ কোটি টাকার রাজস্ব কম আসবে। তার উপর ব্যক্তিগত আয়করেও ছাড় ঘোষণা করে দিলে রাজস্ব ঘাটতি আরও বাড়বে। অর্থনীতির আজকের বেহাল দশায় পরিকাঠামো খাতে উন্নয়নে সরকারকে আপাতত বিনিয়োগ বাড়াতেই হবে। একইসঙ্গে জোর দিতে হবে বাজারে নগদের জোগানে। গোটা পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের কোষাগার সমৃদ্ধ করা নিদারুণভাবে প্রয়োজনীয়। তাই উপায়? ওই যে... ঘটি-বাটি বিক্রি! রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি। পারলে কোপ ‘নবরত্নে’ও। অঙ্কটা অন্য জায়গায়... বেশ কিছু এমন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা সরকার তালিকায় রেখেছে, যাদের শেয়ার বিক্রি করলেও তারা বেসরকারি হয়ে যাবে না। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ইন্ডিয়ান অয়েল... এখনই এই সংস্থায় সরকারের সরাসরি অংশীদারিত্ব ৫১.৫ শতাংশের নীচে। অথচ, ইন্ডিয়ান অয়েলে ওএনজিসির শেয়ার রয়েছে ১৪ শতাংশ, অয়েল ইন্ডিয়ার ৫.১৬ শতাংশ এবং এলআইসির ৬.৫ শতাংশ। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকার যদি আরও ২০ শতাংশ শেয়ার ছেড়ে দেয়, তাহলেও কেন্দ্রের অংশীদারিত্ব ৫০ শতাংশের নীচে নামবে না। অর্থাৎ, ইন্ডিয়ান অয়েল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাই থাকবে। একইভাবে রয়েছে এনটিপিসি, ভারত ইলেক্ট্রনিক্স, বিইএমএল, গেইল, ন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়ামের মতো সংস্থা। এই প্রত্যেক ক্ষেত্রেই কেন্দ্রের শেয়ার ৬০ শতাংশের নীচে। কিন্তু অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অংশীদারিত্ব মোদি সরকারকে আরও শেয়ার বিক্রির সুযোগ দিচ্ছে।
সম্প্রতি মোদি সরকার যে তালিকা বানিয়েছে, তাতে এমন বহু কোম্পানিই রয়েছে... ভারত পেট্রলিয়াম, নিপকো, শিপিং কর্পোরেশন, এয়ার ইন্ডিয়া, টিএইচডিসি...। লক্ষ্য, এই সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রি করে আগামী পাঁচ বছরে ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা আদায় করা। আর ২০২০ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার। প্রশ্ন হল, সেটাও কি সম্ভব হবে? ১৯৯১-’৯২ সালে যখন বেসরকারিকরণের রাস্তা খুলে দেওয়া হল, তখন ১০ বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রি করে ৫৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা আদায় ছিল প্রাথমিক টার্গেট। যদিও ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি কোষাগারে ভরতে পারেনি সরকার। প্রথম যে ৩১টি সংস্থাকে নিয়ে তালিকা তৈরি হয়েছিল, তার থেকে আয় হয়েছিল সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এর নেপথ্যে অবশ্য অন্য অঙ্ক ছিল। অনেক সমীকরণ না মেলা অঙ্ক।
১৯৮০ থেকে ’৯০-এর দশকে উন্নত অর্থনীতির কিছু দেশে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বেসরকারিকরণের একটা হিড়িক দেখা গিয়েছিল। লক্ষ্য ছিল বেশ কয়েকটা... সংস্থাকে অর্থনৈতিক দিক থেকে চাঙ্গা করা, সরকারি হস্তক্ষেপ কমানো, সংস্থার লাভের পরিমাণ বাড়ানো এবং মার্কেটে মনোপলি ভেঙে সুস্থ প্রতিযোগিতার একটা পরিবেশ তৈরি। পাশাপাশি সরকারি কোষাগার আরও সমৃদ্ধ তো হবেই। আবার একটা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বেসরকারি হাতে যাওয়া মানে তার শেয়ার উন্মুক্ত হয়ে গেল বাজারের জন্য। ফলে সেই কোম্পানির মার্কেট চাঙ্গা হবে। দাম বাড়বে শেয়ারের। আলোর মুখ দেখবে বাজার অর্থনীতিও। এই এতগুলো শর্ত একসঙ্গে পূরণ হয়ে গেলে দেশের অর্থনীতি চড়চড় করে আকাশ ছোঁবে। কিন্তু সেই সময়ে কিছু সমস্যা দেখা দিল। যে ভাবনা নিয়ে বেসরকারিকরণের ঘোড়া ছুটেছিল, তা আর্থ-সামাজিক পাঁকে আটকে অনেক জায়গাতেই মুখ থুবড়ে পড়ল। এবং উন্নত অর্থনীতির দেশগুলি তার থেকে শিক্ষাও নিল। কেমন শিক্ষা? আঁটঘাট বেঁধে নীতি তৈরিতে জোর দিল দেশগুলি। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার শেয়ার বিক্রির আগাম কিছু শর্ত চাপানো হল। প্রস্তাব দেওয়া হল, কোনও সংস্থার দায় ঘাড় থেকে নামিয়ে দেওয়ার আগে সরকার যেন সবদিক ভেবে কিছু নীতি নির্ধারণ করে নেয়। একটা সংস্থা যে পণ্য তৈরি করে বা যে পরিষেবা দেয়, তার সঙ্গে বহু গ্রাহক এবং কর্মীর স্বার্থ জড়িয়ে থাকে। অর্থাৎ ধরে নেওয়া যাক, একটি বিমান সংস্থা... এমন বহু ব্যক্তি থাকতেই পারেন, যাঁরা ওই সংস্থার পরিষেবা নিতেই স্বচ্ছন্দ। বেসরকারিকরণের ফলে যদি সেই পরিষেবায় আমূল পরিবর্তন ঘটে, তাহলে তার বাঁধা গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হবে। যার ফল ভোগ করতে হবে সামনে থাকা বিমানকর্মীদের। যাঁদের হাল অনেক ক্ষেত্রেই আরও খারাপ দিকে যায়। প্রচুর পরিমাণে ছাঁটাই, বেতন নিয়ে সমস্যা, চাকরি পরবর্তী সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চনা... এমন অনেক কিছু। ফলে একটি সংস্থা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিক্রির আগে সরকার যে নীতি তৈরি করে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সবার আগে সরকারকে যা করতে হয় সেটা হল, কর্মী সুরক্ষার দিকে নজর দেওয়া। শেয়ার হস্তান্তরের নীতি এমনভাবে তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে বেসরকারি হাতে গেলেও সেই সংস্থার কর্মীদের চাকরি নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা না তৈরি হয়। যদিও আদপে তেমন কিছু হয় না। বেসরকারিকরণের ফলে একটি সংস্থার পরিচালন দক্ষতা যেমন বাড়ে, ঠিক তেমনই কর্মীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার একটা আবহ তৈরি হয়। সব সময় কী হবে, কী হবে একটা ব্যাপার...। আদৌ চাকরিটা থাকবে তো? মাইনে যা পেতাম, তা পাব তো?... এমন নানা প্রশ্ন আতঙ্কের আকারে ঘুরতে শুরু করে।
এ তো গেল কর্মী সমস্যা। একটি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় খুব বেশি হলে কয়েক হাজার কর্মীর এই সমস্যা হবে। কিন্তু বিরাট ধাক্কা আসতে পারে বাজার অর্থনীতিতে। ধরা যাক, ভারত সরকার কোল ইন্ডিয়ার বেসরকারিকরণ করল। এবং ভারত সরকারের হাতে সেই সংস্থার ৫০ শতাংশের কম শেয়ার রয়ে গেল। অর্থাৎ সেক্ষেত্রে কোল ইন্ডিয়ার উপর কেন্দ্রের আর নিয়ন্ত্রণ থাকল না। এবার বেসরকারি সংস্থাটি যদি যথেচ্ছভাবে কয়লার দাম বাড়ায়, তার সরাসরি প্রভাব পড়বে বাজার অর্থনীতির উপর। বাড়বে বিদ্যুতের দাম। আর বিদ্যুতের দাম বাড়লে যে কোনও পণ্যেরই উৎপাদন খরচ পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাবে। ফলে যে জিনিসটা আমরা হয়তো ১০ টাকায় কিনতাম, তার দাম ১৫ টাকা হয়ে যেতেই পারে। একই সমস্যা পরিষেবার ক্ষেত্রেও হতে পারে। ধরা যাক, বিএসএনএলের কথা। আপাতত এমটিএনএলের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ ঘটিয়ে এবং প্যাকেজ দিয়ে সংস্থাটিকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে। এবার যদি এই সংস্থারও বেসরকারিকরণ ঘটে, পরিষেবার কিন্তু অতটাও সস্তা হবে না! ফোন এবং ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থাগুলি তখন নিজেদের ইচ্ছেমতো পরিষেবার জন্য দাঁ হাঁকবে। অর্থাৎ সরকারি হাতে সংস্থা থাকা মানে একটা নিয়ন্ত্রণ থাকা। পণ্য এবং পরিষেবার উপর নিয়ন্ত্রণ হাতের বাইরে চলে যাওয়া মানেই সাধারণ মানুষের উপর কোপের সম্ভাবনা প্রবল হওয়া।
দেশের অর্থনীতির এখন যা অবস্থা তাতে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং বাজারে নগদের জোগান বাড়ানোর জন্য সরকারকে কোষাগার ভরাতেই হবে। আর তার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ ছাড়া সেই অর্থে আর কোনও রাস্তা মোদি সরকারের হাতে নেই। কোন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা? অবশ্যই লাভজনক। যে সংস্থা ধুঁকছে, তাকে বিক্রি করলে কি আর যোগ্য দাম তৈরি হবে? কখনওই না। আবার আরও একটা বিষয় দেখতে হবে। যে সংস্থা বিক্রি করার কথা ভাবা হচ্ছে, তার উৎপাদিত পণ্যের বাজার এই মুহূর্তে কেমন যাচ্ছে। যদি বিশ্ব বাজারে কয়লার দাম নিম্নগামী হয়, তাহলে কোল ইন্ডিয়ার শেয়ার বিক্রি করে মোটেই চাহিদামতো দাম পাওয়া যাবে না।
এবার রাজনীতি। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হোক বা সাধারণ মানুষ, বেসরকারিকরণের ফলে যদি হেঁশেলে টান পড়ে, শাসক দল তার ঝাঁঝটা বুঝবে পরের ভোটে। ভারতের ভোটাররা চলতি বছরের লোকসভা ভোটেও নরেন্দ্র মোদিকে ঢেলে আশীর্বাদ করেছেন। এবার একের পর এক বিধানসভা নির্বাচন। হরিয়ানায় কেঁদে কঁকিয়ে সরকার গড়েছে বিজেপি। মহারাষ্ট্র এখনও ঝুলে। শিবসেনা সেখানে পারলেই বিজেপিকে একহাত নিচ্ছে। কাজেই বড্ড এবড়োখেবড়ো রাস্তা। বুঝে পা না ফেললেই আছাড় নিশ্চিত।
29th  October, 2019
একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
সুযোগের সদ্ব্যবহারে
কতটা প্রস্তুত ভারত
হারাধন চৌধুরী

 জলে কুমির ডাঙায় বাঘের এমন জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত স্মরণকালের মধ্যে আমরা দেখিনি। শুধু বাংলা বা ভারত নয়, সারা পৃথিবীর জন্যই এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রোগ সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে সবাই ঘরের নিরাপদ কোণ বেছে নিলাম।
বিশদ

21st  May, 2020
একনজরে
নয়াদিল্লি, ৩০ মে: গতবছর বিশ্বকাপ সেমি-ফাইনালে ভারতীয় দলের বিদায়ের পরেই মহেন্দ্র সিং ধোনির অবসর নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। আইপিএলে কামব্যাক করার থাকলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায় করোনার জন্য।  ...

রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ৩০ মে: রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে ভারতের অবদান বিশ্বের যেকোনও দেশের তুলনায় বেশি। আর সেই অবদান এবং বলিদানের কারণেই ভারত অনেক শান্তিরক্ষককে হারিয়েছে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী ৮ জুন থেকে রাজ্য সরকারি অফিসে ৭০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ শুরু করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করছেন। ...

  নয়াদিল্লি, ৩০ মে: ইসলাম ভীতি ও বিদ্বেষের অজুহাতে ভারতকে কলঙ্কিত করতে মরিয়া পাকিস্তান। আর সেই লক্ষ্যে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারত বিরোধী দল পাকানোর তালে ছিল ইসলামাবাদ। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

স্বাস্থ্য বেশ ভালোই থাকবে। আর্থিক দিকটিও ভালো। সঞ্চয় খুব ভালো না হলেও উপার্জন ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস
১৬১১: মুঘল সম্রাজ্ঞী নুরজাহানের জন্ম
১৮৫৮ - ওয়েস্টমিনিস্টার জুড়ে প্রথম ধ্বনিত হয়েছিল বিগ বেনের শব্দ
১৯২৬-ক্রিকেটার প্রবীর সেনের জন্ম
১৯২৮-ক্রিকেটার পঙ্কজ রায়ের জন্ম
১৯৩০- মার্কিন অভিনেতা ক্লিন্ট ইস্টউডের জন্ম
১৯৯৪: তবলা বাদক সামতা প্রসাদের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩১ মে ২০২০, রবিবার, নবমী ৩১/৪৪ অপরাহ্ন ৫/৩৭। উত্তরফল্গুনী নক্ষত্র ৫৫/১৩ রাত্রি ৩/১। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৪৫, সূর্যাস্ত ৬/১২/৩০। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪১ গতে ৯/২১ মধ্যে পুনঃ ১২/০ গতে ২/৩৯ মধ্যে। রাত্রি ৭/৩৮ মধ্যে পুনঃ ১০/২৯ গতে ১২/৩৮ মধ্যে। বারবেলা ৯/৫৫ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫৪ গতে ২/১৫ মধ্যে।
১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৩১ মে ২০২০, রবিবার, নবমী দিবা ২/৪০। উত্তরফল্গুনী নক্ষত্র রাত্রি ১২/৪০। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪২ গতে ৯/২২ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ২/৪৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪৪ মধ্যে ও ১০/৩৪ গতে ১২/৪০ মধ্যে। বারবেলা ৯/৫৫ গতে ১/১৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫৫ গতে ২/১৬ মধ্যে।
৭ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
গত ২৪ ঘণ্টায় গুজরাতে করোনা আক্রান্ত আরও ৪৩৮ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্ত ১৬,৭৯৪ 

09:35:59 PM

মহারাষ্ট্রে করোনা পজিটিভ আরও ২,৪৮৭ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭,৬৫৫ 

09:16:18 PM

রাজস্থানে করোনা পজিটিভ আরও ২১৪ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৮৩১ 

09:08:26 PM

তামিলনাড়ুতে করোনা পজিটিভ আরও ১,১৪৯ জন, রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২,৩৩৩ 

06:59:00 PM

জলপাইগুড়িতে ৩২ লক্ষ টাকার বেআইনি মদ উদ্ধার 
অসম থেকে বিহার যাওয়ার পথে জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ে বিপুল পরিমাণ ...বিশদ

06:46:00 PM

মাধ্যমিক: ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খাতা জমা দেওয়ার হুঁশিয়ারি পর্ষদের 
এবছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা জমা না দেওয়া পরীক্ষাকদের চরম হুঁশিয়ারি ...বিশদ

06:45:35 PM