Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

তিন নোবেলজয়ী বাঙালির প্রেসিডেন্সি
শুভময় মৈত্র

রবীন্দ্রনাথ খুব তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে পালিয়েছিলেন। বাকিদের ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। অমর্ত্য সেন ঢাকায় সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে পড়া শুরু করেছিলেন। তারপর ১৯৪১-এ ভর্তি হন শান্তিনিকেতনের পাঠভবনে। স্কুলের পড়া শেষ করার সময় আইএ পরীক্ষায় সারা বাংলার মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন তিনি। অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় পড়েছেন কলকাতার বেশ নামী স্কুল সাউথ পয়েন্টে। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতকস্তরের পরীক্ষা সম্পূর্ণ করেন তিনি। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে এমনটাই ফল ছিল অমর্ত্য সেনেরও।
এঁদের মেধা নিয়ে আলোচনার কোনও অর্থ নেই, সকলেই নিজের নিজের ক্ষেত্রে জগতের সেরা হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। অবশ্যই এঁদের মতোই মেধাবী এবং বুদ্ধিমান কিছু মানুষ আছেন যাঁরা নোবেল পুরস্কার পাননি। সেটাই স্বাভাবিক। বছরে সব মিলিয়ে জনা দশ পনেরোর বেশি মানুষকে নোবেল দেওয়া শক্ত। ফলে নোবেল পেতে গেলে কিছুটা ভাগ্যের হাত থাকতেই হয়। তবে এই তিনজনের ক্ষেত্রেই যে কথাটা সত্যি তা হল তাঁদের কাজের গুণমান নোবেল প্রাইজ পাওয়ার আগেই সারা বিশ্বে যথেষ্ট পরিচিত ছিল। বুঝতে অসুবিধে হয় না যে বাঙালিদের অথবা কলকাতায় কাজ করা মানুষদের মধ্যে নোবেল প্রাইজের সংখ্যা তুলনায় বেশি। অবশ্যই তা মার্কিন দেশের সবথেকে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর থেকে সংখ্যায় কম। তবে ভারতের মধ্যে বিচার করলে নোবেল জয়ীদের সঙ্গে কলকাতার সম্পর্ক যে অন্য যে-কোনও জায়গার তুলনায় কয়েক যোজন এগিয়ে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এরকম একটা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জায়গায় বড় হয়ে বা কাজ করে যে নোবেল পাওয়া যায় এতে কলকাতার শিক্ষিত লোকজনের মনে কিছুটা আত্মশ্লাঘা জন্মাতেই পারে। আর এ নিয়ে তো কোনও সন্দেহই নেই যে ভারতের মধ্যে মেধা এবং বুদ্ধির দিক দিয়ে বাঙালিরা অনেকটা এগিয়ে। বাঙালি না-হলেও যারা কলকাতায় থাকেন তাঁদের ওপরেও এই শহর এবং শহরতলির কিছু প্রভাব পড়ে। সব মিলিয়ে অভিজিৎবাবুর নোবেল পাওয়া বাঙালিদের শিক্ষা এবং গবেষণায় উৎকর্ষের আর একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদাহরণ। বাঙালি যে সফল ব্যবসায়ী হওয়ার থেকে অধ্যাপক হওয়াকে বেশি গুরুত্ব দেয়, সেকথা অস্বীকার না-করাই ভালো।
অভিজিৎবাবুর ক্ষেত্রে এই বাংলার পড়াশোনার একটি বিশেষ সময় বর্তমান। আগেই বলেছি যে ১৯৮১ সালে স্নাতকস্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি। অর্থাৎ ১৯৭৮-এ দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা পাশ করেন, যাকে আমাদের এখানে বলা হয় উচ্চমাধ্যমিক। সত্তর দশকের শুরুর উত্তাল সময় তখন দশকান্তে অনেকটাই শান্ত। বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এসে গেছে। পড়শোনায় হঠাৎ করে পশ্চিমবঙ্গের খুব উন্নতি না-হলেও আগের থেকে কিছুটা নিয়মিত ফল প্রকাশিত হচ্ছে। এই সত্তরের দশকের শেষ থেকে নব্বই দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত উচ্চশিক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের একটা ধারা বজায় ছিল। সেখানে যেমন বাঙালিরা চেষ্টা করত ভালো প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র কিংবা রাশিবিজ্ঞানের পাঠ নিতে, তেমনই একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ পড়ার জায়গা ছিল প্রেসিডেন্সি কলেজ (তখনও বিশ্ববিদ্যালয় নয়)।
পঞ্চাশ বা ষাটের দশকে স্নাতকস্তরে বিজ্ঞান বা সাহিত্য নিয়ে পড়ার চল ছিল বেশি। সেই সময় অবশ্যই কলকাতার সেরা ছাত্রছাত্রীরা প্রেসিডেন্সির দিকে তাকিয়ে থাকতেন। কিন্তু সত্তর দশক থেকেই আমাদের রাজ্যে প্রযুক্তিবিদ কিংবা চিকিৎসক হওয়ার চাহিদা বাড়তে থাকে। শিক্ষিত বাঙালি মধ্যবিত্তের ভাবনা অনুযায়ী ঠিক হতে শুরু করে তাদের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় ভালো হলে কোন রাস্তায় যাবেন। সেই হিসেবে পঞ্চাশের দশকের শুরুতে অমর্ত্য সেনের প্রেসিডেন্সিতে অর্থনীতি নিয়ে পড়তে যাওয়ার যে প্রেক্ষিত, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তা কিছুটা আলাদা। সংবাদমাধ্যমের খবর যে এই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ সফল হয়েছিলেন ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের প্রবেশিকা পরীক্ষাতেও। কিন্তু সপ্তাহখানেক রাশিবিজ্ঞানের পাঠ নেওয়ার পর তিনি স্থির করেন অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করবেন প্রেসিডেন্সিতে। অর্থাৎ সেই সময়েও সবথেকে মেধাবী পড়ুয়ারা প্রেসিডেন্সি কলেজকে একেবারে প্রথম সারিতে রাখতেন।
উল্লেখ্য যে সত্তর আশির দশকে আইআইটি বা যাদবপুরে প্রযুক্তিবিদ্যা, রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাবিজ্ঞান কিংবা আইএসআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে রাশিবিজ্ঞান পড়তে যেতেন রাজ্যের সবথেকে মেধাবী পড়ুয়ারাই। কিন্তু তাদের মধ্যেও কয়েকজন নিজের সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্সিতে যাওয়ার কথা ভাবতেন। নব্বইয়ের দশক থেকে বিষয়টা ভীষণভাবে বদলাতে শুরু করে। তখন কিন্তু সবথেকে মেধাবী পড়ুয়ারা প্রেসিডেন্সিতে আর আসতেন না। দু-একজন ব্যতিক্রমী থাকতেই পারেন, কিন্তু জানা নেই যে নব্বই সালের পর আইআইটি খড়গপুর বা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স কিংবা ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগে পড়ার সুযোগ ছেড়ে কোনও বাঙালি প্রেসিডেন্সিতে পদার্থবিদ্যা, অর্থনীতি বা অঙ্ক করতে আসছেন, অথবা মেডিকেল কলেজে না-পড়ে জীবনবিজ্ঞান নিয়ে পড়ছেন কলেজ স্ট্রিটের নামকরা কলেজে। এই পরিবর্তন কেন সে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে এবং হবে।
তবে এর একটা অন্যদিকও আছে, যেখানে স্নাতকস্তরে পড়ার বিষয় নিয়ে ২০০০ সালের পর থেকে বাঙালিদের চিন্তার ধারা বেশ গোলমেলে। নব্বইয়ের দশকের ভাবনায় প্রেসিডেন্সির থেকে আগে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্ব পেত, সেখানে সত্যি উচ্চমানের পরিকাঠামো ছিল। কিন্তু তার পরের দশকে অবস্থা আরও সাংঘাতিক। এই সহস্রাব্দের শুরুতে অনেকে প্রেসিডেন্সিতে না-পড়ে দিকশূন্যপুরের অত্যন্ত নিম্নমানের বেসরকারি প্রযুক্তিবিদ্যার কলেজে পড়তে গিয়েছেন এমন উদাহরণ আছে। একইভাবে যাদবপুর বা শিবপুরে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার সুযোগ না-পেয়ে কেউ বেসরকারি কলেজে সেই বিশেষ বিষয়টি নিয়ে পড়তে ছুটেছেন।
কিন্তু জয়েন্ট এন্ট্রান্সের মেধাতালিকার ভিত্তিতে সেই পড়ুয়া খুব সহজেই যাদবপুর বা শিবপুরে প্রযুক্তিবিদ্যার অন্যান্য বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে পারতেন। প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসলে হয়তো প্রেসিডেন্সিতেও পড়ার সুযোগ পেতেন বিজ্ঞান বা অর্থনীতি নিয়ে। অর্থাৎ স্নাতকস্তরের শিক্ষা নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকদের ভাবনাচিন্তা গুলিয়ে গেছিল অনেকটা। এর মূল কারণ এই সহস্রাব্দের প্রথম দশকে সফটওয়্যারের চাকরি ছিল বেশ সহজলভ্য। অপটু শিক্ষকমণ্ডলী এবং অনুপযুক্ত পরিকাঠামো সত্ত্বেও বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনোভাবে স্নাতকস্তরের একটা ডিগ্রি জোগাড় করে বেশ ভালো চাকরি পেয়েছেন অনেকে। সেই ধারা অবশ্য বদলে গিয়েছে এই দশকের মাঝামাঝি এসে। বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে পড়ে আর বেশি চাকরি পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু আমাদের রাজ্যে নয়, সারা দেশেই এই ধরনের বেসরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার উৎসাহ কমেছে পড়ুয়াদের। আর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা। ব্যবসায়িক কারণে উঠে যেতে শুরু করেছে এই ধরনের অনেক কলেজ।
অর্থাৎ এখানে যে কথা বলার তা হল, বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কারণে নব্বইয়ের দশকে সবথেকে মেধাবী পড়ুয়ারা প্রেসিডেন্সি কলেজে কম গিয়েছেন। তারপর পরিস্থিতি আরও নেতিবাচক। এই সহস্রাব্দে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও ছাত্রছাত্রীরা কম্পিউটার সায়েন্স গোছের বিষয় শেখার তাগিদে ছুটেছেন তুলনায় অনেক নিম্নমানের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত উৎসাহ সত্ত্বেও ২০০০ সালের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের সবথেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা অর্থনীতি বা বিজ্ঞান নিয়ে পড়তে প্রেসিডেন্সিতে খুব বেশি যাননি। সাম্প্রতিককালে অত্যন্ত বড় মাপের শিক্ষাবিদদের এনে প্রেসিডেন্সির মানোন্নয়নের চেষ্টা হয়েছে। তবে তাতে ভালো ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণের ক্ষেত্রে খুব কাজ হয়েছে সেকথা বলা যাবে না। এদিকে এটা মানতেই হবে যে প্রেসিডেন্সির শিক্ষক শিক্ষিকাদের মান যথেষ্ট ভালো, পরিকাঠামো নিয়েও বিশেষ সমস্যা নেই। সেখানে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের আনাগোনা যথেষ্ট। আসলে এখানে একটা বড় বিষয় হল সঠিক প্রচার। মনে রাখতে হবে, পৃথিবীতে খুবই কম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে যেখানকার অর্থনীতি বিভাগে স্নাতকস্তরে পড়াশোনা করা দু’জন নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। আর শুধু নোবেলই বা কেন, সত্তর বা আশির দশকে প্রেসিডেন্সিতে পড়া ছাত্রছাত্রীরা আজকের দিনে দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন। সেই বিজ্ঞাপন আগামী দিনের পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
সরকারের বিশেষ দায়িত্ব আছে এই বিষয়ে। শুধু একটু সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সেরা ছাত্রছাত্রীদের একটা বড় অংশকে টেনে আনতে হবে এই প্রতিষ্ঠানে। মনে করিয়ে দিতে হবে কলকাতার আর একজন নোবেলজয়ীও এই কলেজে পড়েছিলেন। স্কুল পালানো সেই বাঙালি পালিয়েছিলেন কলেজ থেকেও! বয়সকালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দিতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর প্রেসিডেন্সি কলেজে প্রথমদিনের কথা। “আমার জীবনে প্রথম বয়সে স্বল্পক্ষণস্থায়ী ছাত্রদশা কেটেছে অভ্রভেদী শিক্ষাসৌধের অধস্তন তলায়। তার পর কিশোরবয়সে অভিভাবকদের নির্দেশমত একদিন সসংকোচে আমি প্রবেশ করেছিলুম বহিরঙ্গছাত্ররূপে প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথমবার্ষিক শ্রেণীতে। সেই এক দিন আর দ্বিতীয় দিনে পৌঁছল না।” প্রেসিডেন্সিতে ছাত্র হিসেবে পা দিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ, অমর্ত্য এবং অভিজিৎ। পরের দু’জন পড়া শেষ করে নোবেল পেয়েছেন, প্রথমজন পালিয়ে গিয়ে!
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মতামত ব্যক্তিগত 
21st  October, 2019
সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
একনজরে
মৃণালকান্তি দাস, কলকাতা: চার্লস মিলারের গল্পটা জানেন তো? স্কটল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে চার্লস ব্রাজিলে ফিরেছিলেনএকটি ফুটবল হাতে নিয়ে। সবাই জানতে চেয়েছিল, ‘ওই গোল জিনিসটা কী?’ উত্তর ...

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: গঙ্গারামপুর পুরসভায় প্রশাসক বোর্ড দায়িত্ব নিয়েই শহরের জল প্রকল্প ও নিকাশি নালার কাজের উপর জোর দিল। গত ২০ মে পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর রাজ্যের নির্দেশে পাঁচ জনের প্রশাসক বোর্ড ২৩ মে দায়িত্ব নিয়েছে।  ...

 সুখেন্দু পাল, বহরমপুর: সালাউদ্দিন পর্দার আড়ালে যেতেই রাজ্যে জেএমবির সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল আব্দুল করিম। সামশেরগঞ্জে বসে সে বাংলাদেশেও জেএমবির সংগঠন মনিটরিং ...

জুরিখ, ৩১ মে: করোনা ভাইরাসের ওষুধ, ভ্যাকসিন ও পরীক্ষা করার কিট পাওয়া নিয়ে যাতে বৈষম্য তৈরি না হয়, তার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে একযোগে আর্জি জানাল ৩৭টি দেশ। মারণ এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে চলে এলে তার পেটেন্ট নিয়ে লড়াই ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস
১৮৭৪ - ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়।
১৯২৬- আমেরিকার মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা মেরিলিন মনরোর জন্ম
১৯২৯- অভিনেত্রী নার্গিসের জন্ম
১৯৩৪ - কবি, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৬৪- সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের জন্ম
১৯৬৮- মার্কিন লেখিকা ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের মৃত্যু
১৯৭০- অভিনেতা আর মাধবনের জন্ম
১৯৮৫ - ভারতীয় ক্রিকেটার দিনেশ কার্তিকের জন্ম।
১৯৯৬-ভারতের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডির মৃত্যু
২০০১- নেপাল রাজপরিবারে হত্যাকাণ্ড। যুবরাজ দীপেন্দ্র গুলি করে হত্যা করে বাবা, মা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র এবং রানি ঐশ্বর্যসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
২০০২ - দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হানসি ক্রোনিয়ের মৃত্যু,
২০০৯- রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিস আসার পথে অতলান্তিক মহাসাগরে ভেঙে পড়ল এয়ার ফ্রান্সের এয়ারবাস এ ৪৪৭। মৃত ২২৮ আরোহী।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
31st  May, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী ২৫/৫ দিবা ২/৫৮। হস্তা নক্ষত্র ৫০/১৮ রাত্রি ১/৩। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৬, সূর্যাস্ত ৬/১২/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/২৮ গতে ১০/১৪ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫ গতে ১১/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/২১ গতে ২/৪৭ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৫ মধ্যে পুনঃ ২/৫৩ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৩ গতে ১১/৩৪ মধ্যে।
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী দিবা ১২/১৪। হস্তানক্ষত্র রাত্রি ১১/১। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০ গতে ১০/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৮ গতে ১১/৫৮ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৫০ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ২/৫৫ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে।
৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  রাজ্যসভার নির্বাচন ১৯ জুন
১৮টি সিটের রাজ্য সভার নির্বাচন হবে আগামী ১৯ জুন ২০২০। ...বিশদ

05:49:00 PM

 কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের গ্রিন বিল্ডিং

05:01:00 PM

বাংলাদেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ২৩৮১, মৃত ২২ 
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩৮১ জন। ...বিশদ

04:53:59 PM

পাকিস্তানে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ২৯৬৪, মৃত ৬০ 
পাকিস্তানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৬৪ জন। ...বিশদ

04:48:49 PM

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ কেন্দ্রের
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ ...বিশদ

04:31:00 PM

৮৭৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 
আজ ৮৭৯.৪২ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স। ফলে ২.৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ...বিশদ

04:14:12 PM