Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

পুলিস ও আমরা
তন্ময় মল্লিক

বহু বছর আগের কথা। এক আত্মীয়ের মালবাহী গাড়ির কেবিনে বসে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলাম। গাড়িতে কাপড় ছিল। ড্রাইভার বড় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিসের হাতে টাকা দিচ্ছিলেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ড্রাইভার বললেন, ‘টাকা না দিলে ঝামেলা করবে। ফালতু কেস দেবে। পুলিস একবার হাত বাড়ালে কিছু না কিছু নেবেই। টাকা না থাকলে সিগারেট গুঁজে দিতে হবে।’ প্রায় চার দশক আগের ঘটনা। কিন্তু, পুলিসের অভ্যেস একই আছে। সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে। তবে এখন হাত পাতার কাজটা করেন সিভিক ভলান্টিয়ার। দূরে দাঁড়িয়ে ‘হেডমাস্টারি’ করে পুলিস।
বর্ধমান শহরে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিসের তোলা আদায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। বলেছিলেন, শুনছি, কলকাতায় দিতে হয় বলে অনেকে নাকি টাকা নিচ্ছে। একটা কথা জেনে রাখুন, পার্টির কাউকে টাকা দিতে হয় না। আপনারা কাউকে টাকা দেবেন না। এখন প্রশ্নটা হল, মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎ এমন কথা বলতে গেলেন কেন?
অনেকেই বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী ঠাট্টার ছলে ‘তোলা আদায়ে’র প্রসঙ্গ তুলে পুলিস ও জনগণকে একটা বার্তা দিতে চেয়েছেন। যেভাবে কাটমানির প্রসঙ্গ তুলে দলের দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছিলেন, ঠিক সেইভাবে পুলিসের বিরুদ্ধেও। কারণ লোকসভা ভোটে এরাজ্যে শাসক দলের ভরাডুবির পিছনে পুলিসের ভূমিকাও একটা ফ্যাক্টর। সম্ভবত ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন, পুলিসের জন্যই বহু মানুষ, বিশেষ করে পরিবহণ ব্যবসায় যুক্ত অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে চালু করা হল ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’। দুর্ঘটনায় আঘাতের জেরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার পরিণতি মৃত্যু। অকাল মৃত্যু ঠেকাতে হেলমেট পরায় কড়াকড়ি। অসাধারণ উদ্যোগ। কিন্তু, এমন একটা উদ্যোগকে সামনে রেখে শুরু হয়ে গেল ‘তোলা’ আদায়। একটা অসাধারণ উদ্যোগ পুলিসের সৌজন্যে হয়ে গেল মানুষের বিরক্তির কারণ। জোরজবরদস্তির ফলে যেভাবে প্রয়াত সঞ্জয় গান্ধীর ‘পরিবার পরিকল্পনা’ কর্মসূচি কংগ্রেসের ব্যুমেরাং হয়েছিল, অনেকটা তেমনই।
বিষয়টা একটু খোলসা করে বলা যাক। মালদহ জেলার পুরাতন মালদহ থানায় সাহাপুরে পিচ রাস্তার ধারে গোপেন মণ্ডলের চায়ের দোকানে সন্ধ্যার পর জোরদার আড্ডা বসে। যাঁরা আড্ডা দেন, তাঁদের বেশিরভাগেরই পেশা দুধ ও ছানা বিক্রি। এই সাহাপুরের চককাদিপুরে অনেকে মৌমাছির ব্য‌বসাও করেন। মৌমাছি বাক্সয় ভরে কলকাতার আশপাশের জেলায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। গোপেনবাবুর দোকানে তাঁদেরও আড্ডা। সেখানে রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলতেই উপস্থিত প্রায় সকলেরই টার্গেট পুলিস।
মনোজ সাহা বলেন, এখানে প্রচুর মৌমাছির চাষ হয়। মৌমাছির বাক্স কলকাতার দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিসকে গাড়ি পিছু প্রচুর টাকা দিতে হয়। তাতে লাভের গুড় পিঁপড়েতে খেয়ে নেয়। শুনলে অবাক হবেন, একটা গাড়ির জন্য পুলিসকে দিতে হাজার চারেক টাকা চলে যায়। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে দেবে। গাড়ি আটকালেই সর্বনাশ। কারণ দিনের আলো ফুটলেই মৌমাছি পালাবে। তখন সবটাই লোকসান।
বৃদ্ধ মণ্টু ঘোষের গলার ঝাঁজ শুনে বোঝা যাবে না বয়স ৭০ পেরিয়েছে অনেক আগেই। বলেন, মশাই, আমরা দুধ, ছানা বিক্রি করে সংসার চালাই। সেটাও পুলিসের জন্য ভালোভাবে করতে পারছি না। ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফে’র চক্করে পড়ে আমাদের লাইফটাই ‘হেল’ হতে বসেছে। সামনে বাইপাস ব্রিজের কাছে পুলিস ক্যাম্প করে বসে থাকে। চোর, মস্তান সামনে দিয়ে গেলেও তাদের হেলদোল থাকে না, কিন্তু দুধ-ছানা নিয়ে গেলেই বাইক দাঁড় করাবেই। প্রথমেই চাইবে, ধোঁয়ার কাগজ। মানে পলিউশন সার্টিফিকেট। কারণ গ্রামে বেশিরভাগই পলিউশন টেস্ট করান না। ধোঁয়ার কাগজ না থাকলেই ফাইন। তবে, ২০০ টাকা হাতে গুঁজে দিলে ছাড়। আর হেলমেট না থাকলে তো পোয়া বারো। তখন কাগজপত্র না দেখেই হাত বাড়িয়ে দেবে। যা অবস্থা, এবার হয়তো হেলমেট পরে গোরু দুইতে যেতে হবে। পুলিসি জুলুমবাজি চললে মানুষ কেন খেপবে না?
গোপেনবাবু চা তৈরি করলেও কানটা ছিল মণ্টুবাবুর দিকে। চায়ের গ্লাস এগিয়ে দিতে দিতে বলেন, এ তো মানুষের উপর সরাসরি আঘাত! মানুষের ভালোর জন্যই তো আইন। কিন্তু, পুলিস সেই আইনকে হাতিয়ার করে মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। আর পুলিস কিছু করলেই মানুষের রাগ গিয়ে পড়ে সরকারের ঘাড়ে। হচ্ছেও তাই।
বাম জমানায় বালি আর কয়লা ছিল ‘ওপেন ট্রেজারি’। যত খুশি তোলো আর বিক্রি করো। নামমাত্র লিজে দেদার বালি উঠত। লিজে স্বচ্ছতা আনতে বর্তমান রাজ্য সরকার ‘অনলাইন’ ব্যবস্থা চালু করায় বালি এখন অতীব মহার্ঘ বস্তু। সরকারের আয় বহু বেড়েছে। কিন্তু দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পাচারের ও কালোবাজারির সম্পর্ক তো ‘মাসতুতো ভাই’ এর মতো। কোনও জিনিসের দাম বাড়লেই বৃদ্ধি পায় পাচারের প্রবণতা। বালির ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। বালির গাড়ি দেখলেই জিভ লক লক করে। থামানো হয় ট্রাক, ট্রাক্টর। বালির কাগজ না থাকলে তো পোয়া বারো। আর কাগজ থাকলে ওভারলোডিংয়ের চক্কর। আদায় হচ্ছে মোটা টাকা। কারণ সোনালি বালি দিন দিন সোনা হয়ে উঠছে।
একটা সময় কয়লা ছিল ‘কালো হীরে’। এখন পুলিসের কাছে ‘কালো হীরে’ পাথর। বীরভূম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার পাথর খাদান থেকে ওঠা আইনি এবং বেআইনি পাথর বিভিন্ন এলাকায় যায়। তা থেকে পুলিসের মোটা টাকা মাসোহারা ওঠে। কোথাও কোথাও পুলিস ও দাপুটে নেতার মধ্যেও ভাগাভাগি হয়।
সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত রাস্তার ধারে পুলিসের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে যদি কেউ মনে করেন, মানুষের নিরাপত্তার জন্য ওরা দাঁড়িয়ে আছে, তাহলে ভুল ভাববেন। মালবাহী গাড়ির উপর কড়া নজরদারি চালানোর জন্যই থাকে ‘ডাকবাবু’র গাড়ি। থানা এলাকার চোলাই, গাঁজা ও জুয়ার ঠেক, বেআইনি বালি, পাথর, কয়লা, লোহা, গোরু প্রভৃতি পাচারে ও বহনে যুক্ত গাড়ি থেকে টাকা আদায়ের ‘লাইসেন্স’ যিনি পান, তিনিই হলেন ডাকবাবু। তার জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্টি পরিমাণ টাকা ডাকবাবু থানায় জমা দেন। পুলিসকর্মী হলেও ডাকবাবুকে থানার চেয়ে রাস্তাতেই বেশি দেখা যায়। কারণ থানায় দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতির বেশি পরিমাণ টাকা তুলতে না পারলে পকেট থেকে দিতে হয়। আর বেশি টাকা তুলতে পারলে তা যায় ডাকবাবু ও তাঁর সঙ্গীদের পকেটে। এ এক অতীব প্রাচীন ব্যবস্থা। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল, সব জমানাতেই ‘ডাকবাবু’ ছিলেন, আছেন এবং থাকবেনও। এঁরাই থানার মূল চালিকাশক্তি। বহু বড় বড় সাহেবের সন্তুষ্টি বিধান এই অর্থেই হয়ে থাকে।
পুলিস, পাচারকারী এবং ‘প্রোটিন প্রিয়’ নেতাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দৌলতে চলছিল বেশ ভালোই। কিন্তু, বিপদ হলো দুম করে রেট বাড়িয়ে দেওয়ায়। বছর তিনেক আগে আচমকাই গাড়ি প্রতি ‘তোলা’র রেট দ্বিগুণ করে দেওয়া হল। জানিয়ে দেওয়া হল, কলকাতায় টাকা দিতে হচ্ছে। যাঁরা প্রতিবাদ করলেন তাঁদের বলা হলো, দেখ, কাদের ভোট দিয়েছে। আমাদের কিছু করার নেই।
কলকাতায় টাকা পাঠানোর দাবি সত্যি হোক বা মিথ্যে, তা যাচাই করার জায়গা নেই। তাই ‘তোলা’ উঠতে শুরু করল দ্বিগুণ হারে। পাশাপাশি সমহারে বাড়তে লাগল শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। শাসক দলের কেউ কেউ অবশ্য এখন দাবি করছেন, সরকার ডিএ আটকে রাখায় ক্ষুব্ধ পুলিসকর্মীদের একটা বড় অংশ পরিকল্পিতভাবে এই প্রচারটা চালিয়েছে। কারণ তাঁরা মনে করেন, গাড্ডায় না পড়লে সরকার হাত খুলবে না। মানে প্রাপ্য ডিএ দেবে না।
তবে পুলিসের মধ্যে অনেক সৎ কর্মী এবং অফিসার আছেন। এমন অনেকে আছেন যাঁরা কাদার মধ্যে থেকে গায়ে কাদা লাগতে দেন না। কিন্তু, তাঁরা সংখ্যায় নগণ্য। শুধু তাই নয়, তাঁরা সেই অর্থে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারেননি। যাঁরা বাম জমানায় দাপুটে ছিলেন, তাঁরা এখনও যথেষ্ট প্রভাবশালী। কারণ তাঁদের ম্যানেজ এবং খুশি করার একটা ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতা আছে। এঁরা পাল্টি খেতে এবং গুরুঠাকুর ধরতে ওস্তাদ। এঁরা খুব ভালো করেই জানেন, গতিশীল জীবনে অতীত রেকর্ড নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার সময় তেমন কারও নেই। যদি না নতুন করে ফাউল হয়। তাই নন্দীগ্রামের ‘হ্যান্ডিক্যাম’ ওসি কিংবা কাটোয়ার অধ্যাপক তুহিন সামন্ত খুনে অভিযুক্ত অফিসার ‘মা মাটি মানুষ’ এর আমলেও পুলিস কর্তাদের ‘ব্লু আইড বয়’।
বাম জমানায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে থানার ওসি, আইসি থেকে এসপি পোস্টিংয়ে পার্টিই ছিল শেষ কথা। তাই পুলিসেরও নেতাদের কথার বাইরে যাওয়ার উপায় থাকত না। থানার ওসি পোস্টিংয়ের আগে জেলা সম্পাদকের কাছ থেকে তালিকা অনুমোদন করিয়ে নেওয়া ছিল অধিকাংশ এসপির আবশ্যক কর্তব্য। অমান্য করলে পদ খোয়ানো ছিল সময়ের অপেক্ষা। তবে তা হতো অত্যন্ত নিঃশব্দে। যিনি শাস্তি পেতেন এবং যাঁরা শাস্তি দিতেন, তাঁদের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকত। এখনকার মতো অত হইচই হতো না। তবে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পুলিস এবং প্রশাসনের উপর স্থানীয় পার্টি নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই আলগা হয়েছিল।
বাম জমানার তুলনায় এখন পুলিস এবং প্রশাসন অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে। এখন বেশিরভাগ জেলার শাসক দলের নেতাই পুলিস সুপার এবং জেলাশাসকদের সমঝে চলেন। কারণ জেলার নেতাদের কামকর্মের ‘ফিড ব্যাক’ নাকি তাঁদের মাধ্যমেই যায়। তাই বাম জমানায় প্রশাসনকে ধমকে চমকে রাখার যে রেওয়াজ চালু ছিল তা এখন উল্টো ধারায় প্রবাহিত। প্রশাসকের গুরুত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি দায়িত্বও বেড়েছে।
মাত্রাতিরিক্ত পুলিস নির্ভরতা যে কোনও রাজনৈতিক দলের দৈন্যতার লক্ষণ। জনবিচ্ছিন্নতার জেরে তৈরি ফাঁকফোকর মেরামতির জন্য পুলিসকে কাজে লাগানোর কৌশল নতুন কিছু নয়। বাম জমানায় পুলিসের গায়ে সেঁটে যাওয়া ‘শাসক দলের লেঠেল বাহিনী’র তকমাটা আজও অমিলন। বাম জমানায় জঙ্গলমহলে মাওবাদী দমনের নামে হার্মাদদের সঙ্গে পুলিসের যৌথ ক্যাম্প, বুদ্ধদেববাবুর কনভয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের পর লালগড়ে ছিতাবনি মুর্মু সহ আদিবাসী মানুষের উপর অমানবিক অত্যাচার, নন্দীগ্রামে গণহত্যার মতো একের পর এক ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, পুলিস আর সিপিএম সমার্থক। পুলিস যত শাসক দলের অনুগত হয়, ‘আইনের রক্ষক’ ততই হারায় মানুষের আস্থা।
সংবিধান পুলিসের হাতে প্রচুর ক্ষমতা দিয়েছে। সুনাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এতকিছু। কিন্তু সেই ক্ষমতা যদি মানুষের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়? বিরূপ প্রতিক্রিয়া অনিবার্য। আসলে ক্ষমতা অনেকটা শানিত ছুরির মতো। শল্য চিকিৎসকের ছুরি মানুষের প্রাণ বাঁচায়, দুষ্কৃতীর হাতের সেই ছুরিতেই মানুষের প্রাণ যায়। তাই অনেকেই মনে করেন, ক্ষমতার আস্ফালনে নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতাই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে।
19th  October, 2019
সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ভাঙড়-১ ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর বিবাদ থেকে বোমাবাজির জেরে জখম হয়েছেন কয়েকজন। আহতরা সকলে যুব শিবিরের অনুগত। প্রতিবাদে যুব গোষ্ঠী রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাসন্তী এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ করে। ...

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: গঙ্গারামপুর পুরসভায় প্রশাসক বোর্ড দায়িত্ব নিয়েই শহরের জল প্রকল্প ও নিকাশি নালার কাজের উপর জোর দিল। গত ২০ মে পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর রাজ্যের নির্দেশে পাঁচ জনের প্রশাসক বোর্ড ২৩ মে দায়িত্ব নিয়েছে।  ...

 সুখেন্দু পাল, বহরমপুর: সালাউদ্দিন পর্দার আড়ালে যেতেই রাজ্যে জেএমবির সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল আব্দুল করিম। সামশেরগঞ্জে বসে সে বাংলাদেশেও জেএমবির সংগঠন মনিটরিং ...

চেন্নাই, ৩১ মে (পিটিআই): কেন্দ্রীয় সরকার ৩০ জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র কন্টেইনমেন্ট জোনে লকডাউন চালানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা সত্ত্বেও মহারাষ্ট্র সরকার গত নির্দেশিকা বদলের কোনও ঘোষণা করেনি। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস
১৮৭৪ - ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়।
১৯২৬- আমেরিকার মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা মেরিলিন মনরোর জন্ম
১৯২৯- অভিনেত্রী নার্গিসের জন্ম
১৯৩৪ - কবি, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৬৪- সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের জন্ম
১৯৬৮- মার্কিন লেখিকা ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের মৃত্যু
১৯৭০- অভিনেতা আর মাধবনের জন্ম
১৯৮৫ - ভারতীয় ক্রিকেটার দিনেশ কার্তিকের জন্ম।
১৯৯৬-ভারতের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডির মৃত্যু
২০০১- নেপাল রাজপরিবারে হত্যাকাণ্ড। যুবরাজ দীপেন্দ্র গুলি করে হত্যা করে বাবা, মা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র এবং রানি ঐশ্বর্যসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
২০০২ - দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হানসি ক্রোনিয়ের মৃত্যু,
২০০৯- রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিস আসার পথে অতলান্তিক মহাসাগরে ভেঙে পড়ল এয়ার ফ্রান্সের এয়ারবাস এ ৪৪৭। মৃত ২২৮ আরোহী।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
31st  May, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী ২৫/৫ দিবা ২/৫৮। হস্তা নক্ষত্র ৫০/১৮ রাত্রি ১/৩। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৬, সূর্যাস্ত ৬/১২/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/২৮ গতে ১০/১৪ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫ গতে ১১/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/২১ গতে ২/৪৭ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৫ মধ্যে পুনঃ ২/৫৩ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৩ গতে ১১/৩৪ মধ্যে।
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী দিবা ১২/১৪। হস্তানক্ষত্র রাত্রি ১১/১। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০ গতে ১০/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৮ গতে ১১/৫৮ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৫০ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ২/৫৫ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে।
৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত আরও ২৭১
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৭১ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

07:02:15 PM

প্যারা মিলিটারি ক্যান্টিনে বিক্রি বন্ধ বেশ কিছু আমদানিকৃত পণ্য
দেশের প্যারামিলিটারি ক্যান্টিনগুলিতে আর বিক্রি হবে না আমদানিকৃত ১০০০টি পণ্য। ...বিশদ

06:15:11 PM

  কর্ণাটকে করোনা আক্রান্ত আরও ১৮৭
কর্ণাটকে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বিকাল ৫ টা থেকে আজ ...বিশদ

06:10:05 PM

  রাজ্যসভার নির্বাচন ১৯ জুন
১৮টি সিটের রাজ্য সভার নির্বাচন হবে আগামী ১৯ জুন ২০২০। ...বিশদ

05:55:00 PM

 কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের গ্রিন বিল্ডিং

05:01:00 PM

বাংলাদেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ২৩৮১, মৃত ২২ 
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩৮১ জন। ...বিশদ

04:53:59 PM