Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

পুলিস ও আমরা
তন্ময় মল্লিক

বহু বছর আগের কথা। এক আত্মীয়ের মালবাহী গাড়ির কেবিনে বসে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলাম। গাড়িতে কাপড় ছিল। ড্রাইভার বড় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিসের হাতে টাকা দিচ্ছিলেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ড্রাইভার বললেন, ‘টাকা না দিলে ঝামেলা করবে। ফালতু কেস দেবে। পুলিস একবার হাত বাড়ালে কিছু না কিছু নেবেই। টাকা না থাকলে সিগারেট গুঁজে দিতে হবে।’ প্রায় চার দশক আগের ঘটনা। কিন্তু, পুলিসের অভ্যেস একই আছে। সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে। তবে এখন হাত পাতার কাজটা করেন সিভিক ভলান্টিয়ার। দূরে দাঁড়িয়ে ‘হেডমাস্টারি’ করে পুলিস।
বর্ধমান শহরে প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিসের তোলা আদায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। বলেছিলেন, শুনছি, কলকাতায় দিতে হয় বলে অনেকে নাকি টাকা নিচ্ছে। একটা কথা জেনে রাখুন, পার্টির কাউকে টাকা দিতে হয় না। আপনারা কাউকে টাকা দেবেন না। এখন প্রশ্নটা হল, মুখ্যমন্ত্রী হঠাৎ এমন কথা বলতে গেলেন কেন?
অনেকেই বলছেন, মুখ্যমন্ত্রী ঠাট্টার ছলে ‘তোলা আদায়ে’র প্রসঙ্গ তুলে পুলিস ও জনগণকে একটা বার্তা দিতে চেয়েছেন। যেভাবে কাটমানির প্রসঙ্গ তুলে দলের দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছিলেন, ঠিক সেইভাবে পুলিসের বিরুদ্ধেও। কারণ লোকসভা ভোটে এরাজ্যে শাসক দলের ভরাডুবির পিছনে পুলিসের ভূমিকাও একটা ফ্যাক্টর। সম্ভবত ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন, পুলিসের জন্যই বহু মানুষ, বিশেষ করে পরিবহণ ব্যবসায় যুক্ত অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে চালু করা হল ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’। দুর্ঘটনায় আঘাতের জেরে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার পরিণতি মৃত্যু। অকাল মৃত্যু ঠেকাতে হেলমেট পরায় কড়াকড়ি। অসাধারণ উদ্যোগ। কিন্তু, এমন একটা উদ্যোগকে সামনে রেখে শুরু হয়ে গেল ‘তোলা’ আদায়। একটা অসাধারণ উদ্যোগ পুলিসের সৌজন্যে হয়ে গেল মানুষের বিরক্তির কারণ। জোরজবরদস্তির ফলে যেভাবে প্রয়াত সঞ্জয় গান্ধীর ‘পরিবার পরিকল্পনা’ কর্মসূচি কংগ্রেসের ব্যুমেরাং হয়েছিল, অনেকটা তেমনই।
বিষয়টা একটু খোলসা করে বলা যাক। মালদহ জেলার পুরাতন মালদহ থানায় সাহাপুরে পিচ রাস্তার ধারে গোপেন মণ্ডলের চায়ের দোকানে সন্ধ্যার পর জোরদার আড্ডা বসে। যাঁরা আড্ডা দেন, তাঁদের বেশিরভাগেরই পেশা দুধ ও ছানা বিক্রি। এই সাহাপুরের চককাদিপুরে অনেকে মৌমাছির ব্য‌বসাও করেন। মৌমাছি বাক্সয় ভরে কলকাতার আশপাশের জেলায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করেন। গোপেনবাবুর দোকানে তাঁদেরও আড্ডা। সেখানে রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলতেই উপস্থিত প্রায় সকলেরই টার্গেট পুলিস।
মনোজ সাহা বলেন, এখানে প্রচুর মৌমাছির চাষ হয়। মৌমাছির বাক্স কলকাতার দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পুলিসকে গাড়ি পিছু প্রচুর টাকা দিতে হয়। তাতে লাভের গুড় পিঁপড়েতে খেয়ে নেয়। শুনলে অবাক হবেন, একটা গাড়ির জন্য পুলিসকে দিতে হাজার চারেক টাকা চলে যায়। টাকা না দিলে গাড়ি আটকে দেবে। গাড়ি আটকালেই সর্বনাশ। কারণ দিনের আলো ফুটলেই মৌমাছি পালাবে। তখন সবটাই লোকসান।
বৃদ্ধ মণ্টু ঘোষের গলার ঝাঁজ শুনে বোঝা যাবে না বয়স ৭০ পেরিয়েছে অনেক আগেই। বলেন, মশাই, আমরা দুধ, ছানা বিক্রি করে সংসার চালাই। সেটাও পুলিসের জন্য ভালোভাবে করতে পারছি না। ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফে’র চক্করে পড়ে আমাদের লাইফটাই ‘হেল’ হতে বসেছে। সামনে বাইপাস ব্রিজের কাছে পুলিস ক্যাম্প করে বসে থাকে। চোর, মস্তান সামনে দিয়ে গেলেও তাদের হেলদোল থাকে না, কিন্তু দুধ-ছানা নিয়ে গেলেই বাইক দাঁড় করাবেই। প্রথমেই চাইবে, ধোঁয়ার কাগজ। মানে পলিউশন সার্টিফিকেট। কারণ গ্রামে বেশিরভাগই পলিউশন টেস্ট করান না। ধোঁয়ার কাগজ না থাকলেই ফাইন। তবে, ২০০ টাকা হাতে গুঁজে দিলে ছাড়। আর হেলমেট না থাকলে তো পোয়া বারো। তখন কাগজপত্র না দেখেই হাত বাড়িয়ে দেবে। যা অবস্থা, এবার হয়তো হেলমেট পরে গোরু দুইতে যেতে হবে। পুলিসি জুলুমবাজি চললে মানুষ কেন খেপবে না?
গোপেনবাবু চা তৈরি করলেও কানটা ছিল মণ্টুবাবুর দিকে। চায়ের গ্লাস এগিয়ে দিতে দিতে বলেন, এ তো মানুষের উপর সরাসরি আঘাত! মানুষের ভালোর জন্যই তো আইন। কিন্তু, পুলিস সেই আইনকে হাতিয়ার করে মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। আর পুলিস কিছু করলেই মানুষের রাগ গিয়ে পড়ে সরকারের ঘাড়ে। হচ্ছেও তাই।
বাম জমানায় বালি আর কয়লা ছিল ‘ওপেন ট্রেজারি’। যত খুশি তোলো আর বিক্রি করো। নামমাত্র লিজে দেদার বালি উঠত। লিজে স্বচ্ছতা আনতে বর্তমান রাজ্য সরকার ‘অনলাইন’ ব্যবস্থা চালু করায় বালি এখন অতীব মহার্ঘ বস্তু। সরকারের আয় বহু বেড়েছে। কিন্তু দাম বৃদ্ধির সঙ্গে পাচারের ও কালোবাজারির সম্পর্ক তো ‘মাসতুতো ভাই’ এর মতো। কোনও জিনিসের দাম বাড়লেই বৃদ্ধি পায় পাচারের প্রবণতা। বালির ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। বালির গাড়ি দেখলেই জিভ লক লক করে। থামানো হয় ট্রাক, ট্রাক্টর। বালির কাগজ না থাকলে তো পোয়া বারো। আর কাগজ থাকলে ওভারলোডিংয়ের চক্কর। আদায় হচ্ছে মোটা টাকা। কারণ সোনালি বালি দিন দিন সোনা হয়ে উঠছে।
একটা সময় কয়লা ছিল ‘কালো হীরে’। এখন পুলিসের কাছে ‘কালো হীরে’ পাথর। বীরভূম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার পাথর খাদান থেকে ওঠা আইনি এবং বেআইনি পাথর বিভিন্ন এলাকায় যায়। তা থেকে পুলিসের মোটা টাকা মাসোহারা ওঠে। কোথাও কোথাও পুলিস ও দাপুটে নেতার মধ্যেও ভাগাভাগি হয়।
সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত রাস্তার ধারে পুলিসের গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে যদি কেউ মনে করেন, মানুষের নিরাপত্তার জন্য ওরা দাঁড়িয়ে আছে, তাহলে ভুল ভাববেন। মালবাহী গাড়ির উপর কড়া নজরদারি চালানোর জন্যই থাকে ‘ডাকবাবু’র গাড়ি। থানা এলাকার চোলাই, গাঁজা ও জুয়ার ঠেক, বেআইনি বালি, পাথর, কয়লা, লোহা, গোরু প্রভৃতি পাচারে ও বহনে যুক্ত গাড়ি থেকে টাকা আদায়ের ‘লাইসেন্স’ যিনি পান, তিনিই হলেন ডাকবাবু। তার জন্য প্রতি মাসে নির্দিষ্টি পরিমাণ টাকা ডাকবাবু থানায় জমা দেন। পুলিসকর্মী হলেও ডাকবাবুকে থানার চেয়ে রাস্তাতেই বেশি দেখা যায়। কারণ থানায় দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতির বেশি পরিমাণ টাকা তুলতে না পারলে পকেট থেকে দিতে হয়। আর বেশি টাকা তুলতে পারলে তা যায় ডাকবাবু ও তাঁর সঙ্গীদের পকেটে। এ এক অতীব প্রাচীন ব্যবস্থা। কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল, সব জমানাতেই ‘ডাকবাবু’ ছিলেন, আছেন এবং থাকবেনও। এঁরাই থানার মূল চালিকাশক্তি। বহু বড় বড় সাহেবের সন্তুষ্টি বিধান এই অর্থেই হয়ে থাকে।
পুলিস, পাচারকারী এবং ‘প্রোটিন প্রিয়’ নেতাদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দৌলতে চলছিল বেশ ভালোই। কিন্তু, বিপদ হলো দুম করে রেট বাড়িয়ে দেওয়ায়। বছর তিনেক আগে আচমকাই গাড়ি প্রতি ‘তোলা’র রেট দ্বিগুণ করে দেওয়া হল। জানিয়ে দেওয়া হল, কলকাতায় টাকা দিতে হচ্ছে। যাঁরা প্রতিবাদ করলেন তাঁদের বলা হলো, দেখ, কাদের ভোট দিয়েছে। আমাদের কিছু করার নেই।
কলকাতায় টাকা পাঠানোর দাবি সত্যি হোক বা মিথ্যে, তা যাচাই করার জায়গা নেই। তাই ‘তোলা’ উঠতে শুরু করল দ্বিগুণ হারে। পাশাপাশি সমহারে বাড়তে লাগল শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। শাসক দলের কেউ কেউ অবশ্য এখন দাবি করছেন, সরকার ডিএ আটকে রাখায় ক্ষুব্ধ পুলিসকর্মীদের একটা বড় অংশ পরিকল্পিতভাবে এই প্রচারটা চালিয়েছে। কারণ তাঁরা মনে করেন, গাড্ডায় না পড়লে সরকার হাত খুলবে না। মানে প্রাপ্য ডিএ দেবে না।
তবে পুলিসের মধ্যে অনেক সৎ কর্মী এবং অফিসার আছেন। এমন অনেকে আছেন যাঁরা কাদার মধ্যে থেকে গায়ে কাদা লাগতে দেন না। কিন্তু, তাঁরা সংখ্যায় নগণ্য। শুধু তাই নয়, তাঁরা সেই অর্থে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারেননি। যাঁরা বাম জমানায় দাপুটে ছিলেন, তাঁরা এখনও যথেষ্ট প্রভাবশালী। কারণ তাঁদের ম্যানেজ এবং খুশি করার একটা ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতা আছে। এঁরা পাল্টি খেতে এবং গুরুঠাকুর ধরতে ওস্তাদ। এঁরা খুব ভালো করেই জানেন, গতিশীল জীবনে অতীত রেকর্ড নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করার সময় তেমন কারও নেই। যদি না নতুন করে ফাউল হয়। তাই নন্দীগ্রামের ‘হ্যান্ডিক্যাম’ ওসি কিংবা কাটোয়ার অধ্যাপক তুহিন সামন্ত খুনে অভিযুক্ত অফিসার ‘মা মাটি মানুষ’ এর আমলেও পুলিস কর্তাদের ‘ব্লু আইড বয়’।
বাম জমানায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে থানার ওসি, আইসি থেকে এসপি পোস্টিংয়ে পার্টিই ছিল শেষ কথা। তাই পুলিসেরও নেতাদের কথার বাইরে যাওয়ার উপায় থাকত না। থানার ওসি পোস্টিংয়ের আগে জেলা সম্পাদকের কাছ থেকে তালিকা অনুমোদন করিয়ে নেওয়া ছিল অধিকাংশ এসপির আবশ্যক কর্তব্য। অমান্য করলে পদ খোয়ানো ছিল সময়ের অপেক্ষা। তবে তা হতো অত্যন্ত নিঃশব্দে। যিনি শাস্তি পেতেন এবং যাঁরা শাস্তি দিতেন, তাঁদের মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকত। এখনকার মতো অত হইচই হতো না। তবে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর পুলিস এবং প্রশাসনের উপর স্থানীয় পার্টি নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই আলগা হয়েছিল।
বাম জমানার তুলনায় এখন পুলিস এবং প্রশাসন অনেক বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে। এখন বেশিরভাগ জেলার শাসক দলের নেতাই পুলিস সুপার এবং জেলাশাসকদের সমঝে চলেন। কারণ জেলার নেতাদের কামকর্মের ‘ফিড ব্যাক’ নাকি তাঁদের মাধ্যমেই যায়। তাই বাম জমানায় প্রশাসনকে ধমকে চমকে রাখার যে রেওয়াজ চালু ছিল তা এখন উল্টো ধারায় প্রবাহিত। প্রশাসকের গুরুত্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি দায়িত্বও বেড়েছে।
মাত্রাতিরিক্ত পুলিস নির্ভরতা যে কোনও রাজনৈতিক দলের দৈন্যতার লক্ষণ। জনবিচ্ছিন্নতার জেরে তৈরি ফাঁকফোকর মেরামতির জন্য পুলিসকে কাজে লাগানোর কৌশল নতুন কিছু নয়। বাম জমানায় পুলিসের গায়ে সেঁটে যাওয়া ‘শাসক দলের লেঠেল বাহিনী’র তকমাটা আজও অমিলন। বাম জমানায় জঙ্গলমহলে মাওবাদী দমনের নামে হার্মাদদের সঙ্গে পুলিসের যৌথ ক্যাম্প, বুদ্ধদেববাবুর কনভয়ে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের পর লালগড়ে ছিতাবনি মুর্মু সহ আদিবাসী মানুষের উপর অমানবিক অত্যাচার, নন্দীগ্রামে গণহত্যার মতো একের পর এক ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, পুলিস আর সিপিএম সমার্থক। পুলিস যত শাসক দলের অনুগত হয়, ‘আইনের রক্ষক’ ততই হারায় মানুষের আস্থা।
সংবিধান পুলিসের হাতে প্রচুর ক্ষমতা দিয়েছে। সুনাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এতকিছু। কিন্তু সেই ক্ষমতা যদি মানুষের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়? বিরূপ প্রতিক্রিয়া অনিবার্য। আসলে ক্ষমতা অনেকটা শানিত ছুরির মতো। শল্য চিকিৎসকের ছুরি মানুষের প্রাণ বাঁচায়, দুষ্কৃতীর হাতের সেই ছুরিতেই মানুষের প্রাণ যায়। তাই অনেকেই মনে করেন, ক্ষমতার আস্ফালনে নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতাই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে।
19th  October, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। বিশদ

10th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

 পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
বিশদ

09th  November, 2019
ফজলুর রহমানের উত্থান, ইমরানের মাথাব্যথা
মৃণালকান্তি দাস

ক্ষমতা টলমল পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের! সরকারের অপদার্থতা, ভোটে রিগিং এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন জমিয়াত উলেমা-এ-ইসলামের প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান।  
বিশদ

08th  November, 2019
ঐতিহাসিক নভেম্বর বিপ্লব: ফিরে দেখা
জিষ্ণু বসু

৭ নভেম্বর মধ্যরাত্রে বলশেভিকরা এই ডুমার সদস্যদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে। ত্রোৎস্কির নেতৃত্বে বলশেভিকদের এই অভিযানে সহায়তা করেছিলেন ‘জার্মান গোল্ড’ দিয়ে কেনা সরকারি আধিকারিক ও সৈনিকদের একাংশ। গণতন্ত্র সমাপ্ত হওয়ার পরে, ৮ নভেম্বর অজ্ঞাতবাস থেকে আত্মপ্রকাশ করেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিওনভ ওরফে লেনিন।
বিশদ

07th  November, 2019
ঘরে ঘরে হানাদার 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

উওটার স্লটবুম আমস্টারডামের একটি কাফেতে ঢুকলেন। সঙ্গে একজন ডাচ সাংবাদিক। কাফেতে ওয়াই-ফাই চলছে। স্লটবুম একটি চেয়ার টেনে বসে তাঁর ল্যাপটপটা খুললেন। পাশে ছোট কালো রঙের একটা ডিভাইস।  বিশদ

05th  November, 2019
মর্ত্যলোক থেকে ঘুরে গিয়ে শিবের কাছে রিপোর্ট জমা দিল টিম-দুর্গা
সন্দীপন বিশ্বাস

মর্ত্য থেকে ফিরে প্রতিবারই শিবের কাছে টিম-দুর্গা একটা করে রিপোর্ট জমা দেয়। ‘পিতৃগৃহং পরিক্রমণং সন্দেশম্‌’ ফাইলে সেই রিপোর্ট জমা পড়ে এবং শিব সেই রিপোর্ট পড়ে মর্ত্যধামের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত হন। এবারও যথারীতি প্রত্যেকে তাঁদের রিপোর্ট ‘মহাদেব অ্যাট কৈলাস ডট কমে’ পাঠিয়ে দিয়েছেন। ওটা শিবের ই-মেল অ্যাড্রেস। 
বিশদ

04th  November, 2019
অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিদেশিদের সফর, রহস্যময়ী
ম্যাডি শর্মা ও পাঁচ বাঙালির নৃশংস হত্যা 
হিমাংশু সিংহ

কাকতালীয় ঘটনা হলেও সত্যি! বাংলার পাঁচ শ্রমিককে অপহরণ করে নৃশংসভাবে খুন করার দিনেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের সৌজন্যে অবরুদ্ধ কাশ্মীর সফর করেছেন একঝাঁক বিদেশি প্রতিনিধি।
বিশদ

03rd  November, 2019
একনজরে
 ইসলামাবাদ, ১২ নভেম্বর (পিটিআই): প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার বিষয়টি মন্ত্রিসভায় অনুমাদনের আগে বিস্তারিত আলোচিত হল বিশেষ সাব-কমিটির বৈঠকে। পাক সরকারের তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত শরিফের নাম এখনও রয়েছে দেশের ‘নো ফ্লাই’ তালিকায়। ...

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: বোল্লাকালীর অন্যতম ভোগ চিনির বাতাসা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মিষ্টি বিক্রেতারা। শুক্রবারই মায়ের পুজো। তাই নাওয়াখাওয়া ভুলে কয়েক কুইন্টাল চিনি জাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে কদমা, বাতাসা। দূরদূরান্ত থেকেন বোল্লাকালীর পুজো দিতে আসেন ভক্তেরা।   ...

অলকাভ নিয়োগী, বর্ধমান, বিএনএ: মুখে ‘শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’ স্লোগান দিলেও বামফ্রন্ট সরকারের আমলেই বন্ধ হয়েছিল ‘বর্ধমান ডেয়ারি’। টানা ১০ বছর বন্ধ থাকার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ওই বর্ধমান ডেয়ারি থেকে মাদার ডেয়ারিতে রূপান্তরিত হয়ে চালু হয়েছে।  ...

 নয়াদিল্লি, ১২ নভেম্বর (পিটিআই): কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল দিল্লি আদালত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও চুক্তিবদ্ধ কাজে যুক্ত হবার যোগ আছে। ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। বিবাহের যোগাযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৪০: ফরাসি ভাস্কর অগ্যুস্ত রদ্যঁর জন্ম
১৮৯৩: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তরেখা ডুরান্ড লাইন চুক্তি স্বাক্ষরিত
১৮৯৬: পক্ষীবিদ সালিম আলির জন্ম
১৯৪৬: পণ্ডিত মদনমোহন মালব্যের মৃত্যু  

12th  November, 2019




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৭০ টাকা ৭২.৮৫ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৬ টাকা ৯৩.৩৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৩ টাকা ৮০.৪৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
12th  November, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৫৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৫৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,১০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৬ কার্তিক ১৪২৬, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, প্রতিপদ ৩৪/৩৬ রাত্রি ৭/৪২। কৃত্তিকা ৪০/২৩ রাত্রি ১০/১। সূ উ ৫/৫১/২৯, অ ৪/৫০/১৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১৯ গতে ৮/৩ মধ্যে পুনঃ ১০/১৫ গতে ১২/২৭ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৬/৩৪ মধ্যে পুনঃ ৮/১৯ গতে ৩/১৫ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩৫ গতে ৯/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ১২/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩৬ গতে ৪/১৪ মধ্যে।
 ২৬ কার্তিক ১৪২৬, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, প্রতিপদ ৩৪/২৪/৩৯ রাত্রি ৭/৩৮/৩৩। কৃত্তিকা ৪২/২৪/১১ রাত্রি ১০/৫০/২১, সূ উ ৫/৫২/৪১, অ ৪/৫০/৫২, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৭ মধ্যে ও ৭/৩০ গতে ৮/১২ মধ্যে ও ১০/২১ গতে ১২/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪০ গতে ৬/৩৩ মধ্যে ও ৮/১৯ গতে ৩/২৪ মধ্যে, বারবেলা ১১/২১/৪৪ গতে ১২/৪৪/০ মধ্যে, কালবেলা ৮/৩৭/১৩ গতে ৯/৫৯/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩৭/১২ গতে ৪/১৪/৫৬ মধ্যে।
১৫ রবিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দুর্বল নদী বাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 

01:07:46 PM

সবাই যাতে ত্রাণ পায় দেখতে হবে, বসিরহাটে প্রশাসনিক বৈঠকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

01:03:41 PM

বাগদায় অস্ত্র সহ ধৃত দুষ্কৃতী 
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় আগ্নেয়াস্ত্র সহ এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল ...বিশদ

12:35:13 PM

গভীর রাতে দুর্গাপুর সিটি সেন্টারে ফের ২টি বাইকে আগুন, চাঞ্চল্য 

11:30:00 AM

দুর্গাপুরে ধৃত ২ ভুয়ো চিকিৎসক 
দুর্গাপুরে দুই ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ২০১৭ সাল থেকে ...বিশদ

11:25:11 AM

পঞ্চসায়র থেকে মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ 
পঞ্চসায়রের একটি হোমের সামনে থেকে এক মৃগীরোগীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ...বিশদ

11:20:35 AM