Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাজনৈতিক জুটি, অন্য সমীকরণ
সমৃদ্ধ দত্ত

গান্ধীজিকে রক্ষা করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেই দায় এড়াতে পারে না। পুলিস এবং আর্মিও ব্যর্থ। অসংখ্য চিঠি আছড়ে পড়ছে গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেনের অফিসে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দপ্তরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসে। এই চিঠিগুলির বক্তব্য কমবেশি একই। সরকার ব্যর্থ মহাত্মা গান্ধীর নিরাপত্তা প্রদান করতে। তাই ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারিতে ওভাবে একজন যুবক অনায়াসে এসে গুলি করে হত্যা করে দিয়ে গেল মহাত্মাকে। অথচ তার কয়েক সপ্তাহ আগেও বিড়লা হাউসে বোমা পড়েছিল। মহাত্মা গান্ধীজি মুর্দাবাদ স্লোগান উঠেছিল। সরকার আর পুলিস প্রশাসনের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কেন সতর্কতা নেওয়া হয়নি? এই সমালোচনার মধ্যে সবথেকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ ছিল এক বিশেষ ব্যক্তির। তাঁর নাম জয়প্রকাশ নারায়ণ। তিনি সরাসরি নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে ব্যর্থ কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন (২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮, বম্বে ক্রনিকল)। এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য যে তিনিই এ রকমই মনে করে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্থির করেন, তিনি পদত্যাগ করবেন। কারণ, গান্ধীজি তাঁকে ও নেহরুকে পুত্রসম স্নেহ করতেন। আর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে সেই বাপুকে রক্ষা করতে পারলেন না, এটা সর্দার প্যাটেল মেনে নিতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে তিনি চিঠি লিখলেন পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিন্তু সেই চিঠি নেহরুকে পাঠানোর আগেই, নেহরুর চিঠি এসে পৌঁছল সর্দারের কাছে। নেহরু আগেই আন্দাজ করেছেন প্যাটেলের মনের কথা। তিনি প্যাটেলকে অনুরোধ করেছেন ইস্তফার কথা একেবারেই না ভাবতে। কারণ, প্যাটেলের অপরাধের কথা আসছে কেন? সকলেই ব্যর্থ আমরা! নেহরু ও প্যাটেলের মধ্যে ঠিক যতটা মতান্তর ছিল, তার থেকে অনেক বেশি কিন্তু ছিল পরস্পরকে চেনা ও শ্রদ্ধার একটি সম্পর্ক। তাই নেহরু চাননি প্যাটেলকে দায়ী করতে। দায় সবার। এটা তিনি ১৯৪৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধান-সভাতেও বলেছিলেন।
স্বাধীন ভারতের রাজনীতিতে দল ও সরকারে যুগলবন্দির প্রথা শুরু হয় স্বাধীনতার ক্ষণ থেকেই। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সবথেকে খ্যাতনামা ও সফল তিনটি রাজনৈতিক জুটি হল জওহরলাল নেহরু-বল্লভভাই প্যাটেল। লালকৃষ্ণ আদবানি-অটলবিহারী বাজপেয়ি। এবং নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ। তিনটি জুটিই প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দলে এক নম্বর-দু’নম্বর। সব ক্ষেত্রেই ইতিহাসের এই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। এই যুগলবন্দির একটি চরিত্র হয় সাধারণত জনপ্রিয় এবং ক্যারিশমাটিক এক ক্রাউডপুলার। যাঁর সাপোর্ট বেস দলমতনির্বিশেষে ছড়িয়ে পড়ে জনতার মধ্যে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। আর দ্বিতীয়জন অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে প্রবল শক্তিশালী তথা দলকে ঐক্যবদ্ধ করা, দলীয় সমর্থনের সম্প্রসারণ করা এবং দল তথা সরকারের আগ্রাসী নীতি নির্ধারণ ও প্রয়োগে পটু। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জওহরলাল নেহরু ছিলেন প্রথমজন। তিনি ছিলেন ক্যারিশমাটিক এক জনপ্রিয় নেতা। তাঁর ইমেজ এবং বক্তৃতায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মুগ্ধ। অন্য দিকে, প্যাটেল ছিলেন দ্বিতীয় জন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তাঁর সাংগঠনিক শক্তি ছিল প্রবল এবং সরকারের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রয়োগে তিনি ছিলেন কঠোর। ১৯৯৯ সাল থেকে অটলবিহারী বাজপেয়ি ছিলেন প্রথম জন। অর্থাৎ তিনি দলের অ্যাজেণ্ডায় সীমাবদ্ধ না থেকে হয়ে উঠেছিলেন এক সর্বজনমান্য জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী মুখ। আর লালকৃষ্ণ আদবানি তখন আবার দ্বিতীয় জনের ভূমিকায় ছিলেন। তিনি একাই রামমন্দির আন্দোলনের স্রষ্টা। বস্তুত ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সূত্রপাত হয় তাঁর হাত ধরে। সরকারে আসার পরও তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে কঠোর নীতিগুলি বলবৎ করার পক্ষে ছিলেন। এবং কড়া ঘোষণাগুলিও তিনিই করতেন।
সেই সময় বলা হতো আদবানি বিজেপির মুখ, বাজপেয়ি মুখোশ। ওই ট্র্যাডিশন বজায় রেখেই নতুন প্রজন্মের নতুন ভারতে এখন নরেন্দ্র মোদি জনপ্রিয় এক প্রধানমন্ত্রী, বিজেপির মুখ। ভোট সংগ্রহের জন্য মোদির তুমুল ক্যারিশমা আর ম্যাজিকই বিজেপির সবথেকে বড় হাতিয়ার। আর অন্য দিকে অমিত শাহ হলেন দ্বিতীয় সেই মুখ, যিনি প্রশাসনিকভাবে অনেক বেশি সক্রিয় এবং দলের সংগঠন পরিচালনায় প্রায় একচ্ছত্র অধিকারী। সুতরাং, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে, এ রকম তিনটি জুটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, যাঁদের মধ্যে দলে এবং সরকারে এক নম্বর স্থান পেয়ে এসেছেন তিনি, যে ব্যক্তি বেশি জনপ্রিয় ভোটের ময়দানে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিটি সর্বদা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন।
এই প্রবণতায় কি কোনও পার্থক্য নেই? অবশ্যই আছে। পার্থক্য হল, এই তিন জুটির মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় জুটির ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন ইস্যুতে প্রবল মতান্তর হয়েছে বারংবার। ছিল গোপন ইগোর লড়াইও। স্বাধীনতার আগেই যখন নতুন কংগ্রেস সভাপতি মনোনয়নের বাছাই পর্ব শুরু হয়েছিল, তখন সিংহভাগ প্রদেশ সভাপতি ছিল প্যাটেলের সভাপতি হওয়ার পক্ষে। গান্ধীজি কিন্তু নেহরুকেই সভাপতি করেছিলেন। প্যাটেল, গান্ধীজির মনোভাব জেনে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন। গান্ধী জানতেন, স্বাধীনতার পর তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন, যিনি কংগ্রেসের সভাপতি। তাই তিনি চাইতেন, নেহরুই প্রধানমন্ত্রী হবেন। অতএব নেহরুই সভাপতি হন। পরবর্তীকালে নানা ইস্যুতে মতান্তর হয়েছে নেহরু প্যাটেলের।
আদবানি এবং বাজপেয়ির মধ্যেও বহু ইস্যুতেই মতবিরোধ হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান অপহরণ কিংবা গুজরাত দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে বাজপেয়ির অসন্তোষ। দাঙ্গার পর গুজরাতে আয়োজিত বিজেপি ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভে যোগ দিতে গুজরাত যাওয়ার সময় একই বিমানে বাজপেয়িকে বিষণ্ণ ও অন্যমনস্ক দেখে আদবানি বলেছিলেন, বাজপেয়িজি কী ভাবছেন? বাজপেয়ি শ্বাস ফেলে বলেছিলেন, কমসে কম ইস্তিফা দেনে কী বাত তো কর স্যাকতে থে! অর্থাৎ মোদি অন্তত প্রকাশ্যে দাঙ্গার দায় নিয়ে বলতেই পারতেন তিনি ইস্তফা দিতে চান। তা হলেও একটা বার্তা যেত। আদবানি বরাবরই মোদির পক্ষে। বস্তুত তিনিই মোদির মেন্টর। বলেছিলেন, আপনি চাইলে আমি বলব সে কথা মোদিকে। কিন্তু সেটা সমাধান নয়। বস্তুত আদবানি যে বাজপেয়ির থেকে কোনও অংশে কম নয়, এটা বোঝাতে তিনি শুধুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে সন্তুষ্ট হননি। উপ-প্রধানমন্ত্রীও করতে হয়েছে তাঁকে।
এখানেই অমিত শাহ ও মোদির সমীকরণে তাঁদের পূর্বসূরি দু’টি রাজনৈতিক জুটির তুলনায় বিরাট একটা পার্থক্য। অমিত শাহ নিজেকে নরেন্দ্র মোদির সমকক্ষ হিসাবে প্রদর্শন করতে চান না। তিনি সর্বদাই মোদিকে ‘ইমিডিয়েট বস’ হিসাবেই প্রাধান্য দেন এবং প্রকাশ্যে বিবেচনা করেন, মোদিই দলে সব, তিনি নেহাত মোদির অনুগামী। তা‌ই ঩তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেও উপপ্রধানমন্ত্রী হননি। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি বিশেষ প্রবণতা। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে একের পর এক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত তথা কঠোর পদক্ষেপগুলির সবই হ্যান্ডেল করছেন অমিত শাহ। ৩৭০ নং ধারা বিলোপ করা, বারংবার গোটা দেশে এনআরসি চালু করার ঘোষণা, হিন্দিকেই দেশের একমাত্র সমন্বয়ের ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা, কোন রাজ্যে কোন দলের সঙ্গে জোট করা হবে, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কার সঙ্গে যৌথ সরকার গঠন করা যায়, আরও কোন দলকে এনডিএ জোটে নিয়ে আসা হবে, কোন কোন বিরোধী নেতাকে টার্গেট করা হবে আইনগত ভাবে, ইত্যাদি তাবৎ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অমিত শাহের নাম। এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা কখনওই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনও বক্তব্য শুনতে পাই না। অর্থাৎ সরকারের এক কঠোর প্রশাসক এবং দলের এক সুকৌশলী সংগঠক, এই দুই ভাবমূর্তি ক্রমেই প্রবলভাবে জোরদার হয়ে উঠছে অমিত শাহ সম্পর্কে।
পক্ষান্তরে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সচরাচর দেখা যাচ্ছে কী করতে? তিনি আমেরিকায় মেগা শো করেন। প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হওয়া কেন দরকার, সেই সামাজিক উন্নয়নের আহ্বান করেন, স্বচ্ছ ভারতের বিজ্ঞাপন করেন, সেই লক্ষ্যে সমুদ্রতটের আবর্জনা পরিষ্কারের ভিডিও শেয়ার করেন, বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোটো সেশন হয়, ক্লাইমেট চেঞ্জ, মেক ইন ইন্ডিয়া, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও সম্পর্কে মন কী বাতে রেডিওর ভাষণ দেন। আর যে কোনও রাজ্যে ভোট এলে তিনি সভাসমাবেশ করেন। একই ভাবে হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে অনেক বেশি প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। এটা অন্য দেশের ক্ষেত্রে হয় না। কিংবা ভারতেও হয়নি। কাশ্মীর ৩৭০ ধারার বিলোপসাধনের পর স্বাভাবিকতায় ফিরছে কিনা সেটা প্রতিষ্ঠিত করতে কোনও মন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক নেতার ভিডিও অথবা সংবাদ প্রচারিত হওয়ার স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু দেখা গেল অজিত দোভালের ভিডিও, ছবি প্রচারিত হচ্ছে। তার পরও বিভিন্ন ইভেন্টে, সেমিনারে, পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিতে অজিত দোভাল প্রকাশ্যে অনেক বেশি সক্রিয়। ক্রমেই প্রশাসন পরিচালনায় অমিত শাহের কঠোর পদক্ষেপ ও কড়া সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং দেশের সুরক্ষা, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি, স্ট্র্যাটেজিক বিষয়ে অজিত দোভালের নামই বেশি বেশি সামনে আসছে।
সুতরাং একটি ভাবমূর্তি নির্মিত হয়ে চলেছে যে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগ্রহণে অমিত শাহ-অজিত দোভাল জুটি এখন একটা নতুন রকমের ইমেজ গঠন করতে জনমানসে সমর্থ হয়েছেন। ভারতের নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁরা যে কোনও আপস করছেন না, এই প্রকট বার্তা তাঁরা দিতে চাইছেন একের পর এক অতি তৎপর সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং ঘোষণা করে। দেখা যাচ্ছে দলের সভাপতি হিসাবে তো বটেই, সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি নির্ধারক হিসাবেও আম জনতার চর্চায় অমিত শাহের নাম আগের তুলনায় অনেক বেশি বেশি আসছে এখন। আবার নিজের দলকে প্রবল শক্তিশালী হিসাবে ধরে রাখতে তাবৎ অঙ্ক ও রসায়নও করে থাকেন অমিত শাহ। সেখানেও দ্বিতীয় কোনও নেতা কিন্তু উঠে আসতে পারেননি, যাঁকে বলা যেতে পারে বিজেপির সভাপতি হওয়ার যোগ্য। সেই কারণেই জগৎপ্রকাশ নাড্ডা কার্যকরী সভাপতি হয়েই রয়েছেন। সভাপতি এখনও অমিত শাহ।
এই গোটা প্রেক্ষাপটে সবথেকে ইন্টারেস্টিং হল নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা। তিনি এখন ক্রমেই বিজেপির সিম্বলিক এক ক্রাউডপুলার, ভোট সংগ্রহের সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্র হিসাবেই বিবেচিত হয়ে চলেছেন। কারণ স্বাভাবিক, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা এখনও প্রশ্নাতীত। যে কোনও রাজ্যে তাঁর নামেই বিজেপিকে মানুষ ভোট দিয়ে চলেছে আজও। মোদির সমকক্ষ জনপ্রিয় নেতা এখনও, এত ব্যর্থতার অভিযোগ সত্ত্বেও উঠে আসছে না রাজনীতিতে। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন। সরকার পরিচালনায় মোদির ভূমিকা নিয়ে আর বিশেষ জোরদার চর্চা হয় না।
তিনি কী ধীরে ধীরে প্রতীকী এক অন্তহীন জনপ্রিয় থাকার কৃৎকৌশলের অঙ্গ হয়ে স্রেফ ভোটে জেতার যন্ত্রে পর্যবসিত হয়ে যাচ্ছেন? তিনি শুধুই জনতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করতে ভালো ভালো কথা বলবেন! স্বচ্ছ ভারত, ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা বর্ষ, ভারত ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি হবে, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে, এ রকম ঘোষণাগুলিই করে যাবেন? আর ভোট এলে সভা সমাবেশে নেহরু, কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবারকে আক্রমণ করে চলবেন আগের মতোই। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, মোদি নতুন ভিশনের আর সন্ধান দিচ্ছেন না, যা তিনি প্রথম পাঁচ বছরে সমর্থ হয়েছিলেন দিতে। তিনি যেন ক্রমেই হয়ে পড়ছেন বিজেপির ইমেজ বিল্ডিং আর ভোটে জেতানোর শুধুই এক অফুরন্ত ভোট মেশিন! ৬ বছর আগেও তিনি ছিলেন আমজনতার কাছে স্বপ্নের সওদাগর। স্বপ্নের ভাঁড়ার কি কমছে? প্রত্যক্ষ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে আর ঘোষণা করতে দেখা যাচ্ছে না কেন?
18th  October, 2019
সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
একনজরে
 সুখেন্দু পাল, বহরমপুর: সালাউদ্দিন পর্দার আড়ালে যেতেই রাজ্যে জেএমবির সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল আব্দুল করিম। সামশেরগঞ্জে বসে সে বাংলাদেশেও জেএমবির সংগঠন মনিটরিং ...

জুরিখ, ৩১ মে: করোনা ভাইরাসের ওষুধ, ভ্যাকসিন ও পরীক্ষা করার কিট পাওয়া নিয়ে যাতে বৈষম্য তৈরি না হয়, তার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে একযোগে আর্জি জানাল ৩৭টি দেশ। মারণ এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে চলে এলে তার পেটেন্ট নিয়ে লড়াই ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আজ, সোমবার থেকে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির খোলার কথা ঘোষণা করা হলেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সেই সিদ্ধান্ত বদল করল মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভক্তদের জন্য এখনই মন্দির খোলা হবে না। ...

সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: গঙ্গারামপুর পুরসভায় প্রশাসক বোর্ড দায়িত্ব নিয়েই শহরের জল প্রকল্প ও নিকাশি নালার কাজের উপর জোর দিল। গত ২০ মে পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর রাজ্যের নির্দেশে পাঁচ জনের প্রশাসক বোর্ড ২৩ মে দায়িত্ব নিয়েছে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস
১৮৭৪ - ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়।
১৯২৬- আমেরিকার মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা মেরিলিন মনরোর জন্ম
১৯২৯- অভিনেত্রী নার্গিসের জন্ম
১৯৩৪ - কবি, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৬৪- সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের জন্ম
১৯৬৮- মার্কিন লেখিকা ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের মৃত্যু
১৯৭০- অভিনেতা আর মাধবনের জন্ম
১৯৮৫ - ভারতীয় ক্রিকেটার দিনেশ কার্তিকের জন্ম।
১৯৯৬-ভারতের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডির মৃত্যু
২০০১- নেপাল রাজপরিবারে হত্যাকাণ্ড। যুবরাজ দীপেন্দ্র গুলি করে হত্যা করে বাবা, মা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র এবং রানি ঐশ্বর্যসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
২০০২ - দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হানসি ক্রোনিয়ের মৃত্যু,
২০০৯- রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিস আসার পথে অতলান্তিক মহাসাগরে ভেঙে পড়ল এয়ার ফ্রান্সের এয়ারবাস এ ৪৪৭। মৃত ২২৮ আরোহী।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
31st  May, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী ২৫/৫ দিবা ২/৫৮। হস্তা নক্ষত্র ৫০/১৮ রাত্রি ১/৩। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৬, সূর্যাস্ত ৬/১২/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/২৮ গতে ১০/১৪ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫ গতে ১১/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/২১ গতে ২/৪৭ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৫ মধ্যে পুনঃ ২/৫৩ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৩ গতে ১১/৩৪ মধ্যে।
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী দিবা ১২/১৪। হস্তানক্ষত্র রাত্রি ১১/১। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০ গতে ১০/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৮ গতে ১১/৫৮ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৫০ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ২/৫৫ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে।
৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত আরও ২৭১
রাজ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৭১ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

07:02:15 PM

প্যারা মিলিটারি ক্যান্টিনে বিক্রি বন্ধ বেশ কিছু আমদানিকৃত পণ্য
দেশের প্যারামিলিটারি ক্যান্টিনগুলিতে আর বিক্রি হবে না আমদানিকৃত ১০০০টি পণ্য। ...বিশদ

06:15:11 PM

  কর্ণাটকে করোনা আক্রান্ত আরও ১৮৭
কর্ণাটকে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বিকাল ৫ টা থেকে আজ ...বিশদ

06:10:05 PM

  রাজ্যসভার নির্বাচন ১৯ জুন
১৮টি সিটের রাজ্য সভার নির্বাচন হবে আগামী ১৯ জুন ২০২০। ...বিশদ

05:55:00 PM

 কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের গ্রিন বিল্ডিং

05:01:00 PM

বাংলাদেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ২৩৮১, মৃত ২২ 
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩৮১ জন। ...বিশদ

04:53:59 PM