Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাজনৈতিক জুটি, অন্য সমীকরণ
সমৃদ্ধ দত্ত

গান্ধীজিকে রক্ষা করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেই দায় এড়াতে পারে না। পুলিস এবং আর্মিও ব্যর্থ। অসংখ্য চিঠি আছড়ে পড়ছে গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেনের অফিসে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দপ্তরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসে। এই চিঠিগুলির বক্তব্য কমবেশি একই। সরকার ব্যর্থ মহাত্মা গান্ধীর নিরাপত্তা প্রদান করতে। তাই ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারিতে ওভাবে একজন যুবক অনায়াসে এসে গুলি করে হত্যা করে দিয়ে গেল মহাত্মাকে। অথচ তার কয়েক সপ্তাহ আগেও বিড়লা হাউসে বোমা পড়েছিল। মহাত্মা গান্ধীজি মুর্দাবাদ স্লোগান উঠেছিল। সরকার আর পুলিস প্রশাসনের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। কেন সতর্কতা নেওয়া হয়নি? এই সমালোচনার মধ্যে সবথেকে তীক্ষ্ণ আক্রমণ ছিল এক বিশেষ ব্যক্তির। তাঁর নাম জয়প্রকাশ নারায়ণ। তিনি সরাসরি নিরাপত্তা ও রাজনীতিতে ব্যর্থ কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন (২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮, বম্বে ক্রনিকল)। এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য যে তিনিই এ রকমই মনে করে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্থির করেন, তিনি পদত্যাগ করবেন। কারণ, গান্ধীজি তাঁকে ও নেহরুকে পুত্রসম স্নেহ করতেন। আর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে সেই বাপুকে রক্ষা করতে পারলেন না, এটা সর্দার প্যাটেল মেনে নিতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে তিনি চিঠি লিখলেন পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিন্তু সেই চিঠি নেহরুকে পাঠানোর আগেই, নেহরুর চিঠি এসে পৌঁছল সর্দারের কাছে। নেহরু আগেই আন্দাজ করেছেন প্যাটেলের মনের কথা। তিনি প্যাটেলকে অনুরোধ করেছেন ইস্তফার কথা একেবারেই না ভাবতে। কারণ, প্যাটেলের অপরাধের কথা আসছে কেন? সকলেই ব্যর্থ আমরা! নেহরু ও প্যাটেলের মধ্যে ঠিক যতটা মতান্তর ছিল, তার থেকে অনেক বেশি কিন্তু ছিল পরস্পরকে চেনা ও শ্রদ্ধার একটি সম্পর্ক। তাই নেহরু চাননি প্যাটেলকে দায়ী করতে। দায় সবার। এটা তিনি ১৯৪৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধান-সভাতেও বলেছিলেন।
স্বাধীন ভারতের রাজনীতিতে দল ও সরকারে যুগলবন্দির প্রথা শুরু হয় স্বাধীনতার ক্ষণ থেকেই। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সবথেকে খ্যাতনামা ও সফল তিনটি রাজনৈতিক জুটি হল জওহরলাল নেহরু-বল্লভভাই প্যাটেল। লালকৃষ্ণ আদবানি-অটলবিহারী বাজপেয়ি। এবং নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ। তিনটি জুটিই প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দলে এক নম্বর-দু’নম্বর। সব ক্ষেত্রেই ইতিহাসের এই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছে। এই যুগলবন্দির একটি চরিত্র হয় সাধারণত জনপ্রিয় এবং ক্যারিশমাটিক এক ক্রাউডপুলার। যাঁর সাপোর্ট বেস দলমতনির্বিশেষে ছড়িয়ে পড়ে জনতার মধ্যে। তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। আর দ্বিতীয়জন অবশ্যই সাংগঠনিকভাবে প্রবল শক্তিশালী তথা দলকে ঐক্যবদ্ধ করা, দলীয় সমর্থনের সম্প্রসারণ করা এবং দল তথা সরকারের আগ্রাসী নীতি নির্ধারণ ও প্রয়োগে পটু। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জওহরলাল নেহরু ছিলেন প্রথমজন। তিনি ছিলেন ক্যারিশমাটিক এক জনপ্রিয় নেতা। তাঁর ইমেজ এবং বক্তৃতায় লক্ষ লক্ষ মানুষ মুগ্ধ। অন্য দিকে, প্যাটেল ছিলেন দ্বিতীয় জন। কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তাঁর সাংগঠনিক শক্তি ছিল প্রবল এবং সরকারের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রয়োগে তিনি ছিলেন কঠোর। ১৯৯৯ সাল থেকে অটলবিহারী বাজপেয়ি ছিলেন প্রথম জন। অর্থাৎ তিনি দলের অ্যাজেণ্ডায় সীমাবদ্ধ না থেকে হয়ে উঠেছিলেন এক সর্বজনমান্য জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী মুখ। আর লালকৃষ্ণ আদবানি তখন আবার দ্বিতীয় জনের ভূমিকায় ছিলেন। তিনি একাই রামমন্দির আন্দোলনের স্রষ্টা। বস্তুত ভারতে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির সূত্রপাত হয় তাঁর হাত ধরে। সরকারে আসার পরও তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে কঠোর নীতিগুলি বলবৎ করার পক্ষে ছিলেন। এবং কড়া ঘোষণাগুলিও তিনিই করতেন।
সেই সময় বলা হতো আদবানি বিজেপির মুখ, বাজপেয়ি মুখোশ। ওই ট্র্যাডিশন বজায় রেখেই নতুন প্রজন্মের নতুন ভারতে এখন নরেন্দ্র মোদি জনপ্রিয় এক প্রধানমন্ত্রী, বিজেপির মুখ। ভোট সংগ্রহের জন্য মোদির তুমুল ক্যারিশমা আর ম্যাজিকই বিজেপির সবথেকে বড় হাতিয়ার। আর অন্য দিকে অমিত শাহ হলেন দ্বিতীয় সেই মুখ, যিনি প্রশাসনিকভাবে অনেক বেশি সক্রিয় এবং দলের সংগঠন পরিচালনায় প্রায় একচ্ছত্র অধিকারী। সুতরাং, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে, এ রকম তিনটি জুটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ, যাঁদের মধ্যে দলে এবং সরকারে এক নম্বর স্থান পেয়ে এসেছেন তিনি, যে ব্যক্তি বেশি জনপ্রিয় ভোটের ময়দানে। আর দ্বিতীয় ব্যক্তিটি সর্বদা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন।
এই প্রবণতায় কি কোনও পার্থক্য নেই? অবশ্যই আছে। পার্থক্য হল, এই তিন জুটির মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় জুটির ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন ইস্যুতে প্রবল মতান্তর হয়েছে বারংবার। ছিল গোপন ইগোর লড়াইও। স্বাধীনতার আগেই যখন নতুন কংগ্রেস সভাপতি মনোনয়নের বাছাই পর্ব শুরু হয়েছিল, তখন সিংহভাগ প্রদেশ সভাপতি ছিল প্যাটেলের সভাপতি হওয়ার পক্ষে। গান্ধীজি কিন্তু নেহরুকেই সভাপতি করেছিলেন। প্যাটেল, গান্ধীজির মনোভাব জেনে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন। গান্ধী জানতেন, স্বাধীনতার পর তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন, যিনি কংগ্রেসের সভাপতি। তাই তিনি চাইতেন, নেহরুই প্রধানমন্ত্রী হবেন। অতএব নেহরুই সভাপতি হন। পরবর্তীকালে নানা ইস্যুতে মতান্তর হয়েছে নেহরু প্যাটেলের।
আদবানি এবং বাজপেয়ির মধ্যেও বহু ইস্যুতেই মতবিরোধ হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান অপহরণ কিংবা গুজরাত দাঙ্গায় নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা নিয়ে বাজপেয়ির অসন্তোষ। দাঙ্গার পর গুজরাতে আয়োজিত বিজেপি ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভে যোগ দিতে গুজরাত যাওয়ার সময় একই বিমানে বাজপেয়িকে বিষণ্ণ ও অন্যমনস্ক দেখে আদবানি বলেছিলেন, বাজপেয়িজি কী ভাবছেন? বাজপেয়ি শ্বাস ফেলে বলেছিলেন, কমসে কম ইস্তিফা দেনে কী বাত তো কর স্যাকতে থে! অর্থাৎ মোদি অন্তত প্রকাশ্যে দাঙ্গার দায় নিয়ে বলতেই পারতেন তিনি ইস্তফা দিতে চান। তা হলেও একটা বার্তা যেত। আদবানি বরাবরই মোদির পক্ষে। বস্তুত তিনিই মোদির মেন্টর। বলেছিলেন, আপনি চাইলে আমি বলব সে কথা মোদিকে। কিন্তু সেটা সমাধান নয়। বস্তুত আদবানি যে বাজপেয়ির থেকে কোনও অংশে কম নয়, এটা বোঝাতে তিনি শুধুই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে সন্তুষ্ট হননি। উপ-প্রধানমন্ত্রীও করতে হয়েছে তাঁকে।
এখানেই অমিত শাহ ও মোদির সমীকরণে তাঁদের পূর্বসূরি দু’টি রাজনৈতিক জুটির তুলনায় বিরাট একটা পার্থক্য। অমিত শাহ নিজেকে নরেন্দ্র মোদির সমকক্ষ হিসাবে প্রদর্শন করতে চান না। তিনি সর্বদাই মোদিকে ‘ইমিডিয়েট বস’ হিসাবেই প্রাধান্য দেন এবং প্রকাশ্যে বিবেচনা করেন, মোদিই দলে সব, তিনি নেহাত মোদির অনুগামী। তা‌ই ঩তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেও উপপ্রধানমন্ত্রী হননি। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে একটি বিশেষ প্রবণতা। সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে একের পর এক তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত তথা কঠোর পদক্ষেপগুলির সবই হ্যান্ডেল করছেন অমিত শাহ। ৩৭০ নং ধারা বিলোপ করা, বারংবার গোটা দেশে এনআরসি চালু করার ঘোষণা, হিন্দিকেই দেশের একমাত্র সমন্বয়ের ভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা, কোন রাজ্যে কোন দলের সঙ্গে জোট করা হবে, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কার সঙ্গে যৌথ সরকার গঠন করা যায়, আরও কোন দলকে এনডিএ জোটে নিয়ে আসা হবে, কোন কোন বিরোধী নেতাকে টার্গেট করা হবে আইনগত ভাবে, ইত্যাদি তাবৎ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অমিত শাহের নাম। এই বিষয়গুলি নিয়ে আমরা কখনওই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কোনও বক্তব্য শুনতে পাই না। অর্থাৎ সরকারের এক কঠোর প্রশাসক এবং দলের এক সুকৌশলী সংগঠক, এই দুই ভাবমূর্তি ক্রমেই প্রবলভাবে জোরদার হয়ে উঠছে অমিত শাহ সম্পর্কে।
পক্ষান্তরে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সচরাচর দেখা যাচ্ছে কী করতে? তিনি আমেরিকায় মেগা শো করেন। প্লাস্টিক নিষিদ্ধ হওয়া কেন দরকার, সেই সামাজিক উন্নয়নের আহ্বান করেন, স্বচ্ছ ভারতের বিজ্ঞাপন করেন, সেই লক্ষ্যে সমুদ্রতটের আবর্জনা পরিষ্কারের ভিডিও শেয়ার করেন, বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ফোটো সেশন হয়, ক্লাইমেট চেঞ্জ, মেক ইন ইন্ডিয়া, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও সম্পর্কে মন কী বাতে রেডিওর ভাষণ দেন। আর যে কোনও রাজ্যে ভোট এলে তিনি সভাসমাবেশ করেন। একই ভাবে হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে অনেক বেশি প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। এটা অন্য দেশের ক্ষেত্রে হয় না। কিংবা ভারতেও হয়নি। কাশ্মীর ৩৭০ ধারার বিলোপসাধনের পর স্বাভাবিকতায় ফিরছে কিনা সেটা প্রতিষ্ঠিত করতে কোনও মন্ত্রী কিংবা রাজনৈতিক নেতার ভিডিও অথবা সংবাদ প্রচারিত হওয়ার স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু দেখা গেল অজিত দোভালের ভিডিও, ছবি প্রচারিত হচ্ছে। তার পরও বিভিন্ন ইভেন্টে, সেমিনারে, পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি দিতে অজিত দোভাল প্রকাশ্যে অনেক বেশি সক্রিয়। ক্রমেই প্রশাসন পরিচালনায় অমিত শাহের কঠোর পদক্ষেপ ও কড়া সিদ্ধান্তগ্রহণ এবং দেশের সুরক্ষা, সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি, স্ট্র্যাটেজিক বিষয়ে অজিত দোভালের নামই বেশি বেশি সামনে আসছে।
সুতরাং একটি ভাবমূর্তি নির্মিত হয়ে চলেছে যে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগ্রহণে অমিত শাহ-অজিত দোভাল জুটি এখন একটা নতুন রকমের ইমেজ গঠন করতে জনমানসে সমর্থ হয়েছেন। ভারতের নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁরা যে কোনও আপস করছেন না, এই প্রকট বার্তা তাঁরা দিতে চাইছেন একের পর এক অতি তৎপর সিদ্ধান্ত নিয়ে এবং ঘোষণা করে। দেখা যাচ্ছে দলের সভাপতি হিসাবে তো বটেই, সরকারের অন্যতম প্রধান নীতি নির্ধারক হিসাবেও আম জনতার চর্চায় অমিত শাহের নাম আগের তুলনায় অনেক বেশি বেশি আসছে এখন। আবার নিজের দলকে প্রবল শক্তিশালী হিসাবে ধরে রাখতে তাবৎ অঙ্ক ও রসায়নও করে থাকেন অমিত শাহ। সেখানেও দ্বিতীয় কোনও নেতা কিন্তু উঠে আসতে পারেননি, যাঁকে বলা যেতে পারে বিজেপির সভাপতি হওয়ার যোগ্য। সেই কারণেই জগৎপ্রকাশ নাড্ডা কার্যকরী সভাপতি হয়েই রয়েছেন। সভাপতি এখনও অমিত শাহ।
এই গোটা প্রেক্ষাপটে সবথেকে ইন্টারেস্টিং হল নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা। তিনি এখন ক্রমেই বিজেপির সিম্বলিক এক ক্রাউডপুলার, ভোট সংগ্রহের সবথেকে শক্তিশালী অস্ত্র হিসাবেই বিবেচিত হয়ে চলেছেন। কারণ স্বাভাবিক, নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা এখনও প্রশ্নাতীত। যে কোনও রাজ্যে তাঁর নামেই বিজেপিকে মানুষ ভোট দিয়ে চলেছে আজও। মোদির সমকক্ষ জনপ্রিয় নেতা এখনও, এত ব্যর্থতার অভিযোগ সত্ত্বেও উঠে আসছে না রাজনীতিতে। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন। সরকার পরিচালনায় মোদির ভূমিকা নিয়ে আর বিশেষ জোরদার চর্চা হয় না।
তিনি কী ধীরে ধীরে প্রতীকী এক অন্তহীন জনপ্রিয় থাকার কৃৎকৌশলের অঙ্গ হয়ে স্রেফ ভোটে জেতার যন্ত্রে পর্যবসিত হয়ে যাচ্ছেন? তিনি শুধুই জনতাকে মন্ত্রমুগ্ধ করতে ভালো ভালো কথা বলবেন! স্বচ্ছ ভারত, ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা বর্ষ, ভারত ৫ লক্ষ কোটি ডলারের অর্থনীতি হবে, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হবে, এ রকম ঘোষণাগুলিই করে যাবেন? আর ভোট এলে সভা সমাবেশে নেহরু, কংগ্রেস এবং গান্ধী পরিবারকে আক্রমণ করে চলবেন আগের মতোই। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, মোদি নতুন ভিশনের আর সন্ধান দিচ্ছেন না, যা তিনি প্রথম পাঁচ বছরে সমর্থ হয়েছিলেন দিতে। তিনি যেন ক্রমেই হয়ে পড়ছেন বিজেপির ইমেজ বিল্ডিং আর ভোটে জেতানোর শুধুই এক অফুরন্ত ভোট মেশিন! ৬ বছর আগেও তিনি ছিলেন আমজনতার কাছে স্বপ্নের সওদাগর। স্বপ্নের ভাঁড়ার কি কমছে? প্রত্যক্ষ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে আর ঘোষণা করতে দেখা যাচ্ছে না কেন?
18th  October, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। বিশদ

10th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

 পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
বিশদ

09th  November, 2019
ফজলুর রহমানের উত্থান, ইমরানের মাথাব্যথা
মৃণালকান্তি দাস

ক্ষমতা টলমল পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের! সরকারের অপদার্থতা, ভোটে রিগিং এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন জমিয়াত উলেমা-এ-ইসলামের প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান।  
বিশদ

08th  November, 2019
ঐতিহাসিক নভেম্বর বিপ্লব: ফিরে দেখা
জিষ্ণু বসু

৭ নভেম্বর মধ্যরাত্রে বলশেভিকরা এই ডুমার সদস্যদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে। ত্রোৎস্কির নেতৃত্বে বলশেভিকদের এই অভিযানে সহায়তা করেছিলেন ‘জার্মান গোল্ড’ দিয়ে কেনা সরকারি আধিকারিক ও সৈনিকদের একাংশ। গণতন্ত্র সমাপ্ত হওয়ার পরে, ৮ নভেম্বর অজ্ঞাতবাস থেকে আত্মপ্রকাশ করেন ভ্লাদিমির ইলিচ উলিওনভ ওরফে লেনিন।
বিশদ

07th  November, 2019
ঘরে ঘরে হানাদার 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

উওটার স্লটবুম আমস্টারডামের একটি কাফেতে ঢুকলেন। সঙ্গে একজন ডাচ সাংবাদিক। কাফেতে ওয়াই-ফাই চলছে। স্লটবুম একটি চেয়ার টেনে বসে তাঁর ল্যাপটপটা খুললেন। পাশে ছোট কালো রঙের একটা ডিভাইস।  বিশদ

05th  November, 2019
মর্ত্যলোক থেকে ঘুরে গিয়ে শিবের কাছে রিপোর্ট জমা দিল টিম-দুর্গা
সন্দীপন বিশ্বাস

মর্ত্য থেকে ফিরে প্রতিবারই শিবের কাছে টিম-দুর্গা একটা করে রিপোর্ট জমা দেয়। ‘পিতৃগৃহং পরিক্রমণং সন্দেশম্‌’ ফাইলে সেই রিপোর্ট জমা পড়ে এবং শিব সেই রিপোর্ট পড়ে মর্ত্যধামের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত হন। এবারও যথারীতি প্রত্যেকে তাঁদের রিপোর্ট ‘মহাদেব অ্যাট কৈলাস ডট কমে’ পাঠিয়ে দিয়েছেন। ওটা শিবের ই-মেল অ্যাড্রেস। 
বিশদ

04th  November, 2019
অবরুদ্ধ কাশ্মীরে বিদেশিদের সফর, রহস্যময়ী
ম্যাডি শর্মা ও পাঁচ বাঙালির নৃশংস হত্যা 
হিমাংশু সিংহ

কাকতালীয় ঘটনা হলেও সত্যি! বাংলার পাঁচ শ্রমিককে অপহরণ করে নৃশংসভাবে খুন করার দিনেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের সৌজন্যে অবরুদ্ধ কাশ্মীর সফর করেছেন একঝাঁক বিদেশি প্রতিনিধি।
বিশদ

03rd  November, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত দু’দিনের বৃষ্টিতে হাওড়া শহরে ডেঙ্গু ও অজানা জ্বরের প্রকোপ ফের বেড়েছে। হাওড়া জেলা হাসপাতাল ও সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোম এখন ...

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: রাজ্য সরকারের বাংলা ভাষায় জয়েন্ট পরীক্ষার দাবি অনর্থক। কেন্দ্র অনেক আগেই সব রাজ্যকে জানিয়েছিল। বাংলার সরকার সেই সময় হ্যাঁ বা না কিছুই বলেনি। এখন নাটকবাজি শুরু করেছে। বাংলার মানুষকে বোঝাচ্ছে আমরা কত বাংলা দরদি।   ...

 নয়াদিল্লি, ১২ নভেম্বর (পিটিআই): কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল দিল্লি আদালত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ...

সংবাদদাতা, বর্ধমান: সর্বভারতীয় স্কুল পর্যায়ের যোগাসন প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৭ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে জেলার মুখ উজ্জ্বল করল সর্বশ্রী মণ্ডল। রিদমিক যোগায় প্রথম হয়ে সে সোনার মুকুট পায়। এমাসের ৪ নভেম্বর সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও চুক্তিবদ্ধ কাজে যুক্ত হবার যোগ আছে। ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। বিবাহের যোগাযোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৪০: ফরাসি ভাস্কর অগ্যুস্ত রদ্যঁর জন্ম
১৮৯৩: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তরেখা ডুরান্ড লাইন চুক্তি স্বাক্ষরিত
১৮৯৬: পক্ষীবিদ সালিম আলির জন্ম
১৯৪৬: পণ্ডিত মদনমোহন মালব্যের মৃত্যু  

12th  November, 2019




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৭০ টাকা ৭২.৮৫ টাকা
পাউন্ড ৮৯.০৬ টাকা ৯৩.৩৬ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৩ টাকা ৮০.৪৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
12th  November, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৫৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৫৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,১০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৬ কার্তিক ১৪২৬, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, প্রতিপদ ৩৪/৩৬ রাত্রি ৭/৪২। কৃত্তিকা ৪০/২৩ রাত্রি ১০/১। সূ উ ৫/৫১/২৯, অ ৪/৫০/১৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১৯ গতে ৮/৩ মধ্যে পুনঃ ১০/১৫ গতে ১২/২৭ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৬/৩৪ মধ্যে পুনঃ ৮/১৯ গতে ৩/১৫ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩৫ গতে ৯/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ১২/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩৬ গতে ৪/১৪ মধ্যে।
 ২৬ কার্তিক ১৪২৬, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, প্রতিপদ ৩৪/২৪/৩৯ রাত্রি ৭/৩৮/৩৩। কৃত্তিকা ৪২/২৪/১১ রাত্রি ১০/৫০/২১, সূ উ ৫/৫২/৪১, অ ৪/৫০/৫২, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪৭ মধ্যে ও ৭/৩০ গতে ৮/১২ মধ্যে ও ১০/২১ গতে ১২/২৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪০ গতে ৬/৩৩ মধ্যে ও ৮/১৯ গতে ৩/২৪ মধ্যে, বারবেলা ১১/২১/৪৪ গতে ১২/৪৪/০ মধ্যে, কালবেলা ৮/৩৭/১৩ গতে ৯/৫৯/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩৭/১২ গতে ৪/১৪/৫৬ মধ্যে।
১৫ রবিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দুর্বল নদী বাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 

01:07:46 PM

সবাই যাতে ত্রাণ পায় দেখতে হবে, বসিরহাটে প্রশাসনিক বৈঠকে বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

01:03:41 PM

বাগদায় অস্ত্র সহ ধৃত দুষ্কৃতী 
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় আগ্নেয়াস্ত্র সহ এক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল ...বিশদ

12:35:13 PM

গভীর রাতে দুর্গাপুর সিটি সেন্টারে ফের ২টি বাইকে আগুন, চাঞ্চল্য 

11:30:00 AM

দুর্গাপুরে ধৃত ২ ভুয়ো চিকিৎসক 
দুর্গাপুরে দুই ভুয়ো চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ২০১৭ সাল থেকে ...বিশদ

11:25:11 AM

পঞ্চসায়র থেকে মহিলাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ 
পঞ্চসায়রের একটি হোমের সামনে থেকে এক মৃগীরোগীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ...বিশদ

11:20:35 AM