Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আফ্রিকায় ‘আবিম্যানিয়া’
মৃণালকান্তি দাস

ইথিওপিয়া। পূর্ব আফ্রিকার এই দেশের মাটি দীর্ঘদিন ধরেই রক্তে ভেজা। দুর্নীতি, একনায়কতন্ত্র, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত-সংঘর্ষ, বাক্‌স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ, সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর নিজেদের মধ্যে বিবাদ— এটাই ছিল ইথিওপিয়ার পরিচয়। দেশটি যখন গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে, তখনই তাঁর আবির্ভাব। তিনি ইথিওপিয়ায় ক্ষমতায় এসেই যেন জাদুর কাঠির ছোঁয়ায় বদলে দিলেন সবকিছু। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই রক্ষা পেয়েছিল আফ্রিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশটি। ইথিওপিয়ার মানুষ আজ মনে করেন, আবি আহমেদ আলি আর কেউ নন, স্বয়ং ভগবানের দূত! তাদের রক্ষাকর্তা!
ইথিওপিয়ায় ৯০টিরও বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় রয়েছে। সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো ছিল একটি অন্যটির সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত। দশকের পর দশক ইথিওপিয়ার রাজনীতি যে ঘূর্ণাবর্তে ছিল, তাতে এই বিভেদ আরও বেড়েছে। সামরিক একনায়ক মেঙ্গিস্টু হাইলে মারিয়াম সেই ১৯৭৪ সাল থেকে দেশে সেনা শাসন জারি করে রেখেছিলেন এবং ক্ষমতায় থাকাকালীন হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। তাঁর সময়ে দুর্ভিক্ষে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ মারা গিয়েছে। টাইগারি নৃ-গোষ্ঠী থেকে কিছু গেরিলা যোদ্ধা নিয়ে দ্য টাইগারিয়ান পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ) সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে। টিপিএলএফের ক্ষমতা যখন দিন দিন বাড়ছিল, তখন তারা সিদ্ধান্ত নেয় দেশের বড় বড় নৃ-গোষ্ঠীগুলোকে তাদের দলে টানতে হবে। তাহলে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। ১৯৮৯ সালে টিপিএলএফ ওরোমো এবং আমরাহার মতো সবচেয়ে বড় দু’টি নৃ-গোষ্ঠীর সঙ্গে জোট করে। জোটের নাম দেওয়া হয় ইথিওপিয়ান পিপলস রেভ্যুলুশনারি ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ)। দেশের অস্থিরতা দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০১৮-র ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হাইলে মারিয়াম পদত্যাগ করেন। ১৮ মাসের মধ্যে দেশে দ্বিতীয়বারের মতো জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়। একটা সময় অবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, ওরোমো থেকে কেউ প্রধানমন্ত্রী না হলে গৃহযুদ্ধ নিশ্চিত। ইথিওপিয়ায় সবচেয়ে বড় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাম ‘ওরোমো’। দেশের মোট জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ মানুষই এই সম্প্রদায়ের। প্রধানমন্ত্রী আবিও এই সম্প্রদায়ের।
প্রধানমন্ত্রী আবি বিস্ময়করভাবে সব নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে সমান জনপ্রিয়। তাঁর বাবা ছিলেন ওরোমো মুসলিম এবং মা ছিলেন খ্রিস্টান। তিনি ওরোমো, আমরাহা, টাইগারি ও ইংরেজি ভাষায় সমান পারদর্শী। ১৯৯০-এর দশকে আবি রুয়ান্ডায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ইথিওপিয়ার সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি আইএনএসএর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন এবং দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ওরোমিয়া অঞ্চলের ডেপুটি প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। ২০১৮ সালে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন ৪৩ বছর বয়সি আবি আহমেদ। সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে সংবাদসংস্থা বিবিসি বলছে, ‘বারাক ওবামার জয়ের পর এমন দৃশ্য আর কখনও দেখা যায়নি। ইথিওপিয়ার মানুষ কাঁদছে, কারণ এই প্রথম তারা আশার আলো দেখতে পাচ্ছে। মানুষ অবশেষে তাদের মনের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে, সেই খুশিতে কাঁদছে। না দেখলে আপনি ভাবতেই পারবেন না।’ চলতি বছরের জুলাইয়ে আবি আমেরিকার তিনটি অঙ্গরাজ্য সফরে যান। সবার শেষে তিনি যান মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে। সেই অঙ্গরাজ্যের টার্গেট অ্যারেনা স্টেডিয়ামে জনসভার আয়োজন করা হয়। আবিকে দেখতে সেদিন ভোর ৬টার মধ্যেই পুরো স্টেডিয়াম ভরে গিয়েছিল। প্রায় ২০ হাজার ইথিওপীয় তাদের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে সামনাসামনি দেখতে ও তাঁর কথা শুনতে জড়ো হয়েছিলেন। আমেরিকায় আড়াই লাখেরও বেশি ইথিওপীয় নাগরিকের বসবাস। এদের অনেকেই জীবন বাঁচাতে নিজের দেশ থেকে পালিয়ে আমেরিকায় গিয়েছেন। তাদের সবার সামনে প্রধানমন্ত্রী আবি একজন ত্রাতা, যিনি বিধ্বস্তপ্রায় ইথিওপিয়াকে পুনরায় রক্ষা করার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
আবি আফ্রিকার অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রনায়কের মতো নন। জনগণের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কম। জনবহুল তল্লাটে গিয়ে তিনি মানুষ ও অন্যান্য রাজনীতিকদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন, সেলফি তোলেন, জনসভা মাতিয়ে রাখেন। ইথিওপিয়ার নৃ-গোষ্ঠীগুলোকে তিনি নিজেদের মধ্যে ‘দেওয়াল তৈরি না করে সেতু তৈরি করতে’ বলেন। মিনেসোটার ওই জনসভায় আবি বলেছিলেন, ‘আপনারা যদি এই প্রজন্মের গর্ব হতে চান, তাহলে ওরোমো, আমহারা, ওলেয়টাস, সিলটেসসহ সব নৃ-গোষ্ঠীর মানুষকে সমান মর্যাদা দিতে হবে। সবাইকে সমান ইথিওপীয় হিসেবে গণ্য করতে হবে।’ এটা একটা বৈপ্লবিক বার্তা। ইথিওপিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে যে গোষ্ঠীগত বিভেদ, সর্বমহলে জনপ্রিয় একজন প্রধানমন্ত্রীর এমন বার্তায় সেটি কমে আসবে। সেটাই স্বাভাবিক। আমেরিকার মিনেসোটার জনসভার ভাষণে সেদিন তিনি ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় তিনটি ভাষাই ব্যবহার করেছিলেন। এমনকী পার্শ্ববর্তী দেশ সোমালিয়ার মানুষদের সম্মানে তিনি সোমালি ভাষায়ও কথা বলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আফ্রিকা মহাদেশের সর্বকনিষ্ঠ এই রাষ্ট্রনেতা খুব দ্রুততার সঙ্গে এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যেগুলো দেশে-বিদেশে ইথিওপীয়দের মনে আশার সঞ্চার করেছে। ক্ষমতায় এসেই তিনি হাজার হাজার রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছেন। সেন্সরশিপের নামে বন্ধ থাকা শত শত ওয়েবসাইট চালু করেছেন। রাষ্ট্রের জরুরি অবস্থা তুলে নিয়েছেন। দেশের অর্থনীতি ও ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করেছেন। প্রতিবেশী ইরিট্রিয়ার সঙ্গে ২০ বছর ধরে চলা যুদ্ধের ইতি টেনেছেন।
১৯৯৩ সালে ইরিট্রিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় ইথিওপিয়া থেকে। ইরিট্রিয়া হর্ন অব আফ্রিকায় লোহিত সাগরের মুখে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথের কাছেই অবস্থিত। এই দেশের স্বাধীনতা ছিল ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে ইরিট্রিয়ার মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ বছরের সংগ্রামের ফলাফল। বারবার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে প্রাণ গিয়েছে দু’পক্ষেরই সত্তর হাজারের বেশি মানুষের। এই যুদ্ধে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। বহু পরিবার ভেঙে যায়। স্থানীয় বাণিজ্য-অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে পড়ে। এই সংঘর্ষে ব্যাপক শরণার্থী সঙ্কট তৈরি হওয়ায় হাজার হাজার ইরিট্রিয়াবাসী ইউরোপে পালিয়ে যান। ক্রমেই মেরুদণ্ড ভেঙেছে দুই দেশের অর্থনীতির। ইরিট্রিয়ার স্বাধীনতার পাঁচ বছর পর থেকে দু’দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সীমান্তবর্তী গুরুত্বহীন শহর বাদমের দখল নিয়ে, যে শহর আদ্দিস আবাবা এবং আসমারা দু’পক্ষের কাছেই ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। ২০০০ সালের জুন মাসে দু’দেশ শত্রুতা নিরসনের চুক্তি স্বাক্ষর করে। সে বছরের ডিসেম্বর মাসে আলজেরিয়ায় শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে সরকারিভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি হয় এবং সমস্যা মেটানোর জন্য সীমান্ত কমিশন গঠিত হয়। ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে কমিশন বাদমেকে ইরিট্রিয়ার অংশ বলে ঘোষণা করে। কিন্তু ইথিওপিয়া এই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করে এবং শুরু হয় অচলাবস্থা। ইথিওপিয়া বাদমের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অস্বীকার করলে সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়। আবার হত্যা। আবার রক্তপাত।
২০১৭ সালে ইথিওপিয়ার ক্ষমতাসীন ইথিওপিয়ান পিপলস রেভলিউশনারি ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইপিআরডিএফ) ইরিট্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কে বদল ঘটানোর ইঙ্গিত দেয়। ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে আবি আহমেদ প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতির বদল ঘটতে থাকে। ক্ষমতায় এসেই আবি আহমেদ আলি প্রথমেই সচেষ্ট হন ইরিট্রিয়ার সঙ্গে হিংসা অবসানে। একই সঙ্গে চলতে থাকে অর্থনৈতিক সংস্কারের কাজ। প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে আবি আহমেদ দেখা করেন ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ইসআইআস আফওয়ের্কির সঙ্গে। শুরু হয় সীমান্ত সমস্যা নিয়ে মত বিনিময়। ২০১৮ সালের ৮ জুলাই আসমারায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট আফওয়ের্কির সঙ্গে সাক্ষাতের একদিন আগে তিনি ঘোষণা করেন, ‘ইরিট্রিয়া এবং ইথিওপিয়ার মধ্যে আর কোনও সীমান্ত নেই, ভালোবাসার সেতু সীমান্ত ধ্বংস করে দিয়েছে।’ শান্তি চাইছিল ইরিট্রিয়াও। সদর্থক আলোচনার শেষে দুই দেশের প্রধান ৯ জুলাই একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন। আবি আহমেদ বাদমে অঞ্চলকে ইরিট্রিয়ার হাতেই সমর্পণ করেন। স্থির হয়, দুই দেশের মানুষ, পণ্য ও অন্যান্য পরিষেবার জন্যে সীমান্ত খুলে দেবে উভয় পক্ষই। এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনেকটাই বদলে দিয়েছে দুই দেশের সম্পর্ক। ইরিট্রিয়ার সঙ্গে বছরের পর বছর যুদ্ধের কারণে এডেন উপসাগর এবং আরব সাগরের দিকে যাবার জন্য ইথিওপিয়াকে ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছিল বাব আল-মানদাব প্রণালীর উপর অবস্থিত জিবৌতির উপর। শান্তি চুক্তির ফলে ইরিট্রিয়ার বন্দর ইথিওপিয়ার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।
গত কয়েক মাসে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবার চিত্রটাই পাল্টে যায়। আগের সরকারের চাপে পিষ্ট থাকা মানুষগুলো এখন যেন একটু বুক উঁচিয়ে হাঁটতে পারছে, মন খুলে হাসার একটা উপলক্ষ এখন তাদের সামনে আছে, কয়েক দশক ধরে যা তাদের জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। আদ্দিস আবাবার রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে গাড়ির সামনে-পিছনের গ্লাসে এখন প্রিয় প্রধানমন্ত্রীর ছবির স্টিকার সেঁটে রাখে সবাই। তাঁর ছবি আঁকা টি-শার্টের পিছনে মানুষ দেদার টাকা খরচ করছে। লোকজন তাদের ফেসবুক-ট্যুইটার-ইনস্টাগ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও তাঁর বিভিন্ন বার্তা দিয়ে প্রোফাইল ছবি বানাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের জনপ্রিয়তা আজ আকাশ ছুঁয়েছে। আদ্দিস আবাবা থেকে ব্রিটিশ সাংবাদিক টম গার্ডনার লিখছেন, ‘রাজধানীতে রীতিমতো একটি ধর্মীয় উৎসবের আবহ। মানুষ খোলামেলাভাবেই বলাবলি করছে, প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয়ই ঈশ্বরের সন্তান বা তাঁর দূত হবেন।’ প্রধানমন্ত্রী আবিকে নিয়ে দেশটিতে এখন যা চলছে, সাংবাদিক গার্ডনার এই উন্মাদনার নাম দিয়েছেন ‘আবিম্যানিয়া’।
17th  October, 2019
বিশ্বাসের অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিগত তিন বছর ধরে ভারতের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা জমা রাখছে বেসরকারি ব্যাঙ্কে। সরকারি তথা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে নয়। দেশের আটটি সরকারি এবং আটটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গিয়েছে। যার ফলশ্রুতি হল সরকারি ব্যাঙ্কে যে টাকা জমা রয়েছে তার সিংহভাগই আগে থেকে জমা হয়ে থাকা ফিক্সড ডিপোজিট।
বিশদ

21st  February, 2020
মুখ চাই মুখ
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মুখ হয়তো অনেক আছে। কিন্তু, ঠিক সেই মুখটির দেখা এখনও মেলেনি। কোন মুখটি? যে মুখটি সৌজন্যে পরাক্রমে রাজনৈতিক কূটকৌশলে এবং অবশ্যই জনপ্রীতিতে পাল্লা দিতে পারে বাংলার একচ্ছত্র নেত্রীকে, ২০২১ বিধানসভার রণাঙ্গনে ছুঁড়ে দিতে পারে চ্যালেঞ্জ, জাগাতে পারে আর এক মহাবিজয়ের সম্ভাবনা। সেই মুখ কোথায় পদ্মশিবিরে? 
বিশদ

20th  February, 2020
বিপুল অভ্যর্থনা পেয়ে বিশ্বজয়ী বিবেকানন্দ
কলকাতায় বলেন, এ ঠাকুরেরই ‌জয়জয়কার
হারাধন চৌধুরী

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘নরেন শিক্ষে দেবে।’’ ঠাকুরের কথা ফলিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর মানসপুত্রটি বেছে নিয়েছিলেন পাশ্চাত্যের মাটি। কারণ, যে-কোনও জিনিস পাশ্চাত্যের মানুষ গ্রহণ করার পরেই যে ভারতের মানুষ তা গ্রহণে অভ্যস্ত! স্বামী বিবেকানন্দের সামনে সেই সুযোগ এনে দিয়েছিল শিকাগো বিশ্ব ধর্ম মহাসভা।
বিশদ

19th  February, 2020
ট্রাম্পের ভারত সফর এবং প্রাপ্তিযোগের অঙ্ক 

শান্তনু দত্তগুপ্ত: সফর মাত্র দু’ঘণ্টার। আর তাতে আয়োজন পাহাড়প্রমাণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে কথা! তাই এতটুকু ফাঁক রাখতে নারাজ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি (বা বেসরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি)।  বিশদ

18th  February, 2020
টুকরে টুকরে গ্যাং-ই জিতল
পি চিদম্বরম

 গত ১১ ফেব্রুয়ারি লোকসভার কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত নিম্নলিখিত প্রশ্নোত্তরগুলি আনন্দের কারণ হতে পারত যদি না বিষয়টি বিজেপি নেতাদের (এই পঙ্‌ক্তিতে আছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীরাও) দুঃখের ধারাবিবরণীতে পরিণত হতো: বিশদ

17th  February, 2020
স্বর্গলোকে মহাত্মা ও
গুরুদেবের সাক্ষাৎকার
সন্দীপন বিশ্বাস

 অনেকদিন পর আবার দেখা হল মহাত্মা এবং গুরুদেবের। মর্ত্যে দু’জনের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল শান্তিনিকেতনে ১৯১৫ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি। তারপর বেশ কয়েকবার তাঁদের দেখা হয়েছিল। কবিগুরু সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন ১৯২০ সালে। বিশদ

17th  February, 2020
এবার হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় অগ্নিকন্যা
হিমাংশু সিংহ

তবে কি দিল্লিতে হেরে বোধোদয় হল অমিত শাহদের? নাকি ভোট জেতার নামে ঘৃণা ছড়ানো ঠিক হয়নি বলাটা আরও বড় কোনও নাটকের মহড়ারই অংশ? বোঝা কঠিন, তুখোড় রাজনীতিকরা কোন উদ্দেশ্যে কখন কোন খেলাটা খেলেন! আর সেই তালে অসহায় জনগণকে তুর্কি নাচন নাচানো চলে অবলীলায়। 
বিশদ

16th  February, 2020
শাহিনবাগে যেসব কথা জানানো হয়নি

 ‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ’, যেখানে মহিলারা পূজিতা হন সেখানেই ভগবান অবস্থান করেন। ভারতবর্ষের মানুষ হাজার বছর ধরে এই শ্লোক আবৃত্তি করে এসেছে। গত একমাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির শাহিনবাগে শিশু থেকে বৃদ্ধা বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের কষ্ট দেওয়া হয়েছে। বিশদ

15th  February, 2020
মাফলার ম্যানের দিল্লি জয়
মৃণালকান্তি দাস 

ঠেকে শিখেছেন তিনি। ‌‌‌‌পদস্থ আমলা থেকে রাজনীতিক এবং প্রশাসক হিসেবে পরিণত হয়েছেন। বুঝেছেন, এ দেশের আমআদমি বাড়ির কাছে ভালো স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল চান। বাড়ির মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েই তাঁদের উদ্বেগ। 
বিশদ

14th  February, 2020
রাজনীতির কাছে মানুষের চাহিদাটাই
বদলে দিল দিল্লির এই ভোট-সংস্কৃতি
হারাধন চৌধুরী

 প্রতিমা গড়ে পুজো করা আর ভগবানকে লাভ করা এক নয়। প্রতিমা সাজিয়ে পুজো যে-কেউ করতে পারে। কিন্তু, ভগবান লাভ? মানুষ চিরদিন মনে করে এসেছে, সে শুধু সাচ্চা সাধকের পক্ষেই সম্ভব। কিন্তু, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এসে একেবারে অন্যকথা বললেন।
বিশদ

13th  February, 2020
সেনাবাহিনীও যখন রাজনীতির অস্ত্র
শান্তনু দত্তগুপ্ত

লঞ্চপ্যাড মাত্র ৫০ মিটার দূরে... অন্ধকারের মধ্যেই তাঁর চোখ দু’টো খুঁজে চলেছে... নজরে এসেও গেল দুই জঙ্গি... ছায়ার মতো সেঁটে আছে লঞ্চপ্যাডের অন্ধকারে। নাইট ভিশন গ্লাস চোখে লাগিয়ে নিশ্চিত হলেন মেজর মাইক ট্যাঙ্গো। আগেভাগে নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার কারণ আরও ছিল তাঁর কাছে।
বিশদ

11th  February, 2020
রাজস্ব-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রেখেই জনমুখী বাজেট
দেবনারায়ণ সরকার

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এই বাজেট নিঃসন্দেহে জনমুখী, তবে রাজস্ব-শৃঙ্খলা (ফিসকাল ডিসিপ্লিন) যথেষ্ট বজায় রেখে জনমুখী বাজেট পেশ করলেন অমিতবাবু। প্রথমে রাজস্ব-শৃঙ্খলার প্রসঙ্গে আসা যাক। বিশদ

11th  February, 2020
একনজরে
বেজিং, ২১ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): করোনা ভাইরাসে চীনে ফের বাড়ল মৃতের সংখ্যা। নতুন করে ১১৮ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই রোগবিধ্বস্ত হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা। এই নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ২ হাজার ২৩৬। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যাও এক লাফে বেড়ে ...

ওয়াশিংটন, ২১ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): ‘খারাপ আচরণে’র পর এবার ‘জোর আঘাত’ মন্তব্য। ভারতে পা দেওয়ার আগে বাণিজ্য ইস্যুতে মোদি সরকারের উপর চাপ বজায় রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ...

নাগপুর, ২১ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): বুধবার বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর শাখা গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করল। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি ভীম আর্মি রেশিমবাগ ময়দানে শর্তসাপেক্ষে কর্মী সমাবেশের আয়োজন করতে পারবে বলে জানিয়ে দিল কোর্ট। সুনীল শুক্রে এবং মাধব জমদার দ্বারা গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এই ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টে বিস্ময়করভাবে ভারতের প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি ঋদ্ধিমান সাহার। বাংলার উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানটির বাদ পড়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের অধিক পরিশ্রম করতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষায় ভালো হবে না। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ফল হবে।প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস
১৮৪৮: কার্ল মার্ক্স প্রকাশ করেন কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো
১৮৭৮ - মিরা আলফাসা ভারতের পণ্ডিচেরি অরবিন্দ আশ্রমের শ্রীমার জন্ম
১৮৯৪: ডাঃ শান্তিস্বরূপ ভাটনগরের জন্ম
১৯৩৭: অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫২: পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিলেন চারজন
১৯৬১: নোবেলজয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৭০ - অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার মাইকেল স্লেটারের জন্ম
১৯৯১: অভিনেত্রী নূতনের মৃত্যু
১৯৯৩ - বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ও কবি অখিল নিয়োগীর (যিনি স্বপনবুড়ো ছদ্মনামে পরিচিত) মৃত্যু
২০১৩: হায়দরাবাদে জোড়া বোমা বিস্ফোরণে ১৭জনের মৃত্যু

১৭৩২: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটনের জন্ম
১৯০৬: অভিনেতা পাহাড়ি সান্যালের জন্ম
১৯৪৪: মহাত্মা গান্ধীর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধীর মৃত্যু
১৯৫৮: স্বাধীনতা সংগ্রামী আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু
২০১৫: বাংলাদেশে নৌকাডুবি, মৃত ৭০

21st  February, 2020




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৯৪ টাকা ৭২.৬৫ টাকা
পাউন্ড ৯০.৯৮ টাকা ৯৪.৩০ টাকা
ইউরো ৭৬.০৫ টাকা ৭৯.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  February, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪২,৯৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪০,৭৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪১,৩৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার, (মাঘ কৃষ্ণপক্ষ) চতুর্দ্দশী ৩২/১৮ রাত্রি ৭/৩। শ্রবণা ১২/৫৮ দিবা ১১/১৯। সূ উ ৬/৮/৯, অ ৫/৩২/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৬ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ৮/৩ গতে ১০/৩৪ মধ্যে পুনঃ ১২/১৫ গতে ১/৫৬ মধ্যে পুনঃ ২/৪৬ গতে ৪/২৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/৩৩ মধ্যে ১/১৫ গতে ২/৪১ মধ্যে পুনঃ ৪/৭ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৭/৭ মধ্যে পুনঃ ৪/৩৩ গতে উদয়াবধি। 
৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার, চতুর্দ্দশী ৩১/৮/৪২ রাত্রি ৬/৩৮/৫১। শ্রবণা ১৩/৩/৪১ দিবা ১১/২৪/৫০। সূ উ ৬/১১/২২, অ ৫/৩১/২৫। অমৃতযোগ দিবা ৯/৪৯ গতে ১২/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৮/৬ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১২ গতে ১/৪৯ মধ্যে ও ২/৩৮ গতে ৪/১৭ মধ্যে। কালবেলা ৭/৩৬/২২ মধ্যে ও ৪/৬/২৪ গতে ৫/৩১/২৫ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৬/২৫ মধ্যে ও ৪/৩৬/২৩ গতে ৬/১০/৩৪ মধ্যে। 
২৭ জমাদিয়স সানি  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
হোলির পরেই ইপিএফের সুদের হার নির্ধারণে বৈঠকের সম্ভাবনা 
হোলির পরেই কর্মচারী প্রভিডেন্ড ফান্ডের (ইপিএফ) সুদের হার নির্ধারণে বৈঠকে ...বিশদ

09:30:00 AM

 ট্রাফিক নিয়ে অভিযোগ: বিশেষ নম্বর
ট্রাফিক নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও অভিযোগ থাকলে তা যাতে তাঁরা ...বিশদ

09:18:56 AM

রণথম্ভোর থেকে উধাও ২৬ বাঘ 
রণথম্ভোর জাতীয় উদ্যান থেকে ২৬টি বাঘ নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। এমনই ...বিশদ

09:15:00 AM

অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকদের বর্ধিত পেনশনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ 
অবশেষে স্বস্তি পেলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষকরা। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ ...বিশদ

09:00:00 AM

অবসরের দিনই পিএফের টাকা মেটাতে চায় কেন্দ্র 
গ্রাহকরা যাতে অবসরের দিনই তাঁর প্রাপ্য টাকা পেতে পারেন, তার ...বিশদ

08:48:52 AM

পুলকার দুর্ঘটনা: লড়াই শেষ, মৃত্যু ঋষভের 
এক সপ্তাহের দীর্ঘ লড়াই শেষ। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল পোলবায় ...বিশদ

08:33:00 AM