Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। তিনি ইউরোপীয় ছিলেন। সোনিয়াও তাই। তাহলে বিদেশিনী তকমার জন্য তিনি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দলের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না, এই যুক্তি মোটেও খাটে না। মোহিত সেনের নিবন্ধের সারমর্ম ছিল, কংগ্রেসের অবক্ষয় ঠেকাতে পারে শুধুই গান্ধী পরিবার। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই তখন নাক কুঁচকে ছিলেন। সোনিয়া? ১৯৯৮ সালে কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর সেই পুত্রবধূই দলের সভানেত্রী হলেন। ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ডালপালা বিস্তার করলেন। এবং মাত্র ১৪৫টি আসন নিয়েও ২০০৪ সালে কংগ্রেস জোট সরকার গঠন করল। অপ্রত্যাশিত।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, এখন আবার ওই প্রসঙ্গ কেন? কারণ একটাই। কংগ্রেস আজ আবার ধসে যাওয়ার মুখে। নিন্দুকে চিরকাল বলে এসেছে, গান্ধী পরিবারের ট্যাগ না থাকলে কি কংগ্রেস চলতে পারে না? উত্তরটা কিন্তু দলের নবীন-প্রবীণ লোকজনই এবার দিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা কেউই আর রাহুল গান্ধীর ছেড়ে যাওয়া জুতোয় পা গলাতে নারাজ। তাই দলের মৃত্যুপথযাত্রা ঠেকাতে ভরসা সেই সোনিয়া গান্ধী। এক কঠিন সময়ে তিনি কংগ্রেসের দায়িত্ব নিয়েছেন। সামনেই তিন রাজ্যের ভোট। যার মধ্যে হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে ২১ অক্টোবর, ঝাড়খণ্ডে ডিসেম্বর মাসে। যদিও ঝাড়খণ্ড নয়, অন্য দুই রাজ্যের দিকেই আপাতত দেশের নজর। তাই বানপ্রস্থ থেকে ফিরিয়ে আনা হল ৭২ বছরের ‘বিদেশিনী’কেই। অপ্রত্যাশিতভাবেই।
গত লোকসভা ভোটের ফল দেখে কংগ্রেস নিয়ে এত আলোচনা বাতুলতা মনে হতে পারে। কিন্তু রাজনীতির এই প্রান্তে আলোকপাত করাটাও প্রয়োজন। কেন? মূল কারণ হল, যদি মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানার নিরিখে রাজনীতির জমি জরিপ করা হয়, তাহলে দুই রাজ্যেই বিজেপির শাসন-ইতিহাস খুব মসৃণ নয়। শুরু করা যাক মহারাষ্ট্র দিয়ে। রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, গত পাঁচ বছরে গোটা দেশে যত কর্মসংস্থান হয়েছে, তার ২৫ শতাংশই নাকি হয়েছে মহারাষ্ট্রে। যদিও এর বিস্তারিত তথ্য তিনি কিছু দিতে পারেননি। সিএমআইই’র সমীক্ষা কিন্তু বলছে, গত তিন বছরে মহারাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ৪.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৬ শতাংশ হয়েছে। তার উপর চাপ রয়েছে কৃষক সমাজের। সব্জির দাম চড়ছে। পেঁয়াজের অবস্থা তো ভয়াবহ! কৃষিঋণ মকুবের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন ফড়নবিশ। এবং ভোটের ঠেলায় আরও বেশ কিছু প্রকল্পের নিদান দিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে রয়েছে জল সংরক্ষণ এবং সেচ সংক্রান্ত কর্মসূচি। কিন্তু উদ্বেগ বাড়িয়েছে শিল্প। ধাক্কা খেয়েছে একের পর এক বিনিয়োগের সম্ভাবনা। শিল্পে বৃদ্ধির হার গত আর্থিক বছরের তুলনায় বেশ খানিকটা কমে গিয়েছে। উপরন্তু গাড়ি শিল্প ধাক্কা খাওয়ায় সঙ্কট তৈরি হয়েছে পুনের কাছে চাকানে, যা কি না মহারাষ্ট্রের ‘কার হাব’।
যদিও গাড়ি শিল্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে হরিয়ানা। গুরুগ্রাম-মানেসর-বাওয়াল এলাকায় ভারতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ গাড়ি তৈরি হয়। প্রায় এক বছর হতে চলল, গাড়ি বিক্রির হার তলানিতে। উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। চলছে কর্মী ছাঁটাই এবং পরিকাঠামোগত খরচ বাঁচাতে দু’-একদিন করে কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে মারুতি সুজুকির মতো কোম্পানিকে। বেকারত্বও বাড়ছে।
অর্থাৎ, দুই রাজ্যের বিধানসভা ভোটেই মসৃণ জয় বিজেপির জন্য অপেক্ষা করে থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও কেন অ্যাডভান্টেজ নরেন্দ্র মোদি বাহিনী? উত্তর একটাই, দুর্বল বিরোধী। বিশেষত কংগ্রেস। দলত্যাগ করেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অশোক তনওয়ার। দলের মধ্যে ক্ষোভের হাওয়া, রাহুল গান্ধী যে তরুণ প্রজন্মের কাঁধে কংগ্রেসের দায়িত্ব সঁপেছিলেন, কোপ পড়ছে তাঁদের উপর। সোনিয়া গান্ধী কার্যকরী সভানেত্রী হয়ে ফিরে আসার পর প্রবীণরা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। কুমারী সেলজাকে প্রদেশ সভাপতি করার পর হরিয়ানায় যে তিক্ততা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি উঠছে নির্বাচনী টিকিট বিলি নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও। মহারাষ্ট্রেও সঞ্জয় নিরুপমের মতো কংগ্রেস নেতা দলের বিরুদ্ধে চাপা বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছেন। শচীন পাইলট, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, বা আর এক রাহুল-ঘনিষ্ঠ মিলিন্দ দেওরাও ক্ষোভ চেপে রাখেননি। ত্রিপুরার প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি প্রদ্যোৎ দেববর্মন তো সরাসরি দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধীর হাত ধরে উঠে আসা তরুণ নেতৃত্বকে নানাভাবে হেনস্তা হতে হচ্ছে দলে।
এর থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার। সোনিয়া গান্ধীর হাতে কোনও জাদুকাঠি নেই। একের পর এক ভোটে বিপর্যয়ের কাহিনী কংগ্রেসের মনোবলে বড়সড় আঘাত হেনেছে। মাঝে রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন ছাড়া গত এক দশকে রাহুল গান্ধী এবং তাঁর নব্য ব্রিগেডের ঝুলিতে তেমন কোনও সাফল্য নেই। মোদি হাওয়া আর নেই বলে গত লোকসভা ভোটে কংগ্রেস যে প্রচার চালিয়েছিল, তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। নোট বাতিল এবং জিএসটি সমস্যাও বিশল্যকরণী হয়ে কংগ্রেসের কাছে দেখা দেয়নি। দেশের মানুষই নরেন্দ্র মোদিকে আর একবার সুযোগ দিয়েছেন। ভোটার ভরসা রাখেননি কংগ্রেসে। আর এখন দলও হয়তো রাখছে না। কংগ্রেসে সোনিয়া গান্ধীর দাপট এবং জনপ্রিয়তা কিছুটা হলেও যে স্তিমিত হয়েছে, একের পর এক রাজ্যে ‘বিদ্রোহ’ই তার প্রমাণ। সোনিয়া গান্ধীও কিন্তু এবার আর হাল ফেরাতে পারছেন না। তাঁর কাছে এতটা প্রত্যাশা করাটাও অবশ্য অমানবিক। তাঁর বয়স এবং অসুস্থতা সত্ত্বেও পালিয়ে না গিয়ে সোনিয়া দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন... এটাই অনেক বড় ব্যাপার। কিন্তু দলীয় কোন্দল মিটিয়ে দেশবাসীর মনে কংগ্রেসের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানোর কাজটা একা সোনিয়া করতে পারবেন না। কারণ এক হাতে তালি বাজে না। দলের প্রত্যেক সদস্যকে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সেই সমর্থন জোগাতে হতো। যার লেশমাত্র হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রে দেখা যাচ্ছে না।
অর্থাৎ বিজেপির সামনে এই দুই রাজ্যে ফাঁকা মাঠই পড়ে রয়েছে। শুধু ঠিকঠাক পাস বাড়িয়ে গোল দেওয়ার অপেক্ষা। পাস বাড়ানো মানে শরিকদের সামলে এগিয়ে যাওয়া। মহারাষ্ট্রে শরিক বলতে শিবসেনা। গত কয়েকটি ভোটের ঠিক আগে শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির একটা দড়ি টানাটানির সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। পরে অবশ্য সবই মিটে যায়। আগামী ২১ তারিখের ভোটের জন্য অবশ্য নতুন চমক উদ্ধব থ্যাকারের ছেলে আদিত্য। এই প্রথম থ্যাকারে পরিবারের কেউ নির্বাচনী লড়াইতে আসছেন। আর মনোনয়ন জমা করার সময় আদিত্য নিজেই ঘোষণা করেছেন, এবার হয়তো মহারাষ্ট্র থ্যাকারে পরিবারের কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখবে। তারপরও কিন্তু মহারাষ্ট্রে এনডিএ সরকারই হবে। সেই লিখন বদলাতে পারার মতো পরিস্থিতি বিরোধীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।
শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব থ্যাকারে নিজে সক্রিয় ভোট রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি ছিলেন কিংমেকার। মারাঠা জাত্যাভিমানকে সামনে রেখে যে আবেগের রাজনীতি তিনি মহারাষ্ট্রে আমদানি করেছিলেন, তাকে রীতিমতো সফলই বলতে হয়। তাঁর দল দীর্ঘকাল যাবৎ মহারাষ্ট্রে এনডিএর সিনিয়র অংশীদার হিসেবেই ছড়ি ঘুরিয়ে এসেছে। বদলটা দেখা যায় ২০১৪ সালে। প্রবল মোদি ঝড়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর মহারাষ্ট্রেও বিধানসভা নির্বাচনে বেশি আসন দাবি করে বিজেপি। শিবসেনা রাজি হয়নি। তাই শেষমেশ দুই পার্টি আলাদা লড়াই করে এবং বিজেপিই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়। তখন থেকেই জুনিয়রের মর্যাদায় রাজ্যে বাস করছে শিবসেনা। গত লোকসভা নির্বাচনেও সেই অবস্থানের বদল হয়নি। উপরন্তু যেটা হয়েছে, জাত-ধর্ম-স্থানীয় সত্ত্বার বাধা ভেঙে প্রায় সব ধরনের ভোটারেরই আশীর্বাদ কুড়িয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। উচ্চবর্ণ এবং আদিবাসী, অ-মারাঠি ভোট আগেই বিজেপির ব্যাঙ্কে ছিল। গত ভোটে এই সবের সঙ্গে সঙ্গে মারাঠি এবং মুসলিম ভোটও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে নিয়েছে তারা। সেই প্রবণতা যদি বজায় থাকে, ভালো মার্জিন নিয়েই এবার ক্ষমতায় ফেরার কথা বিজেপির। যদি না থ্যাকারে ম্যাজিকে সত্যিই কিছু ওলট পালট হয়ে যায়। ওই রাজ্যে থ্যাকারে শব্দটি সত্যিই একটা আলাদা আবেগ। সেক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র বাল থ্যাকারের উত্তরসূরিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতেই পারে।
আবার হরিয়ানায় গত লোকসভা ভোটে ১০টি আসনই জিতে নিয়েছে বিজেপি। চোখে পড়ার মতো বেড়েছে জাঠ ভোট। যা ২০১৪ সালে মাত্র ১৯ শতাংশ ছিল, সেটাই হয়ে গিয়েছে ৫২ শতাংশ। পাশাপাশি দলিত এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষও ঢেলে ভোট দিয়েছেন মোদি বাহিনীকে। তাই পূর্ববর্তী বিধানসভা ভোটে ৯০টির মধ্যে ৪৩ আসন দখল করা বিজেপি নানা দুর্বলতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিরোধীদের দশ গোল দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। এবার যদি তারা ৭০টির বেশি আসন মনোহরলাল খট্টরের নেতৃত্বে জিতে নেয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কংগ্রেস তো নয়ই, অন্য স্থানীয় দলগুলিও এখানে আপাতত বিজেপিকে বেগ দেওয়ার মতো জায়গায় নেই।
অর্থাৎ, বিষয়টা জলের মতো স্পষ্ট—দু’টি রাজ্যেই বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। কংগ্রেস হয়তো একটা লড়াই দিতে পারত... কিন্তু অর্ন্তদ্বন্দ্বের ঠেলায় তা দূরঅস্ত। সোনিয়া গান্ধী দায়িত্ব নিয়েছেন ঠিকই। তাতে আসন্ন ভোটের সংখ্যাতত্ত্বে বদল আসবে না। তাঁকে এই দল ঢেলে সাজতে হবে। মানুষকে আবার বিশ্বাসের, আস্থার সেই জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। বোঝাতে হবে, কংগ্রেস শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু আগামী সপ্তাহের দুই রাজ্যের নির্বাচনে?
কংগ্রেস যদি কিছু করতে পারে, সেটা অপ্রত্যাশিতই হবে।
15th  October, 2019
ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

04th  April, 2020
হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

29th  March, 2020
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়েছিল। সেটিকে অবশ্য সরকারি মহল থেকেই ‘ভুয়ো’ বলা হয়েছে। ওই ভিডিওতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব করোনা তাড়ানোর জন্য কয়েকজন সাধুর সঙ্গে নাচ-গান করছেন বলে দেখানো হয়। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা বিপর্যয়ের জেরে এ রাজ্যের বাসিন্দা প্রায় দু’লক্ষ মানুষ আটকে রয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এদের মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি। ...

বার্লিন, ৪ এপ্রিল: কালান্তক করোনা ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে পথ খুঁজছে গোটা বিশ্ব। আর এর উল্টো পথে হেঁটে জার্মানির বার্লিন ডিস্ট্রিক্ট মেয়র স্টিফেন ভন দাসেল ...

বিএনএ, তমলুক: লকডাউনের মধ্যেই শুক্রবার রাতে চণ্ডীপুর থানার হাঁসচড়ায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ভল্ট খুলে ৩৪লক্ষ টাকা চুরি করে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। চাবি ব্যাঙ্কে থাকায় দুষ্কৃতীদের ভল্ট ভাঙতে হয়নি।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অতিরিক্ত চিন্তার জন্য উচ্চ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৮- রাজনীতিক জগজীবন রামের জন্ম
১৯১৬- মার্কিন অভিনেতা গ্রেগরি পেকের জন্ম
১৯৩২ - বিশিষ্ট বাঙালী সাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখাপাধ্যায়ের মত্যু
১৯৫৭- কেরলে প্রথম ক্ষমতায় এলেন কমিউনিস্টরা
১৯৯৩- বলিউডের অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর মৃত্যু
২০০০- রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
২০০৭- সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.২৪ টাকা ৭৬.৯৬ টাকা
পাউন্ড ৯২.৫১ টাকা ৯৫.৮২ টাকা
ইউরো ৮১.০৩ টাকা ৮৪.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
04th  April, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২২ চৈত্র ১৪২৬, ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) দ্বাদশী ৩৪/৫০ রাত্রি ৭/২৫। মঘা ২৩/৪০ দিবা ২/৫৭। সূ উ ৫/২৯/১৫, অ ৫/৪৯/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৮ গতে ৯/৩৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/৭ গতে ১/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৬ গতে ২/৩৪ মধ্যে।
২২ চৈত্র ১৪২৬, ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, দ্বাদশী ২৫/৩১/০ দিবা ৩/৪৩/১২। মঘা ১৪/৫০/৩৮ দিবা ১১/২৭/৩। সূ উ ৫/৩০/৪৮, অ ৫/৫০/৫। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫ মধ্যে ও ১২/৫২ গতে ১/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/৮/২ গতে ১১/৪০/২৭ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪০/২৭ গতে ১/১২/৫১ মধ্যে।
 ১১ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভূমিকম্প অনুভুত অসমে 
বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কের মাঝে এবার ভূমিকম্প অনুভুত হল অসমে। রিখটার ...বিশদ

11:39:32 PM

নিরোর কথা শুনেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম, ট্যুইট ফিরহাদ হাকিমের 
প্রধানমন্ত্রীর ডাকে রবিবার রাত ন’টার সময় ন’মিনিট ঘরের আলো জ্বালিয়ে ...বিশদ

10:04:34 PM

৯ মিনিটের ‘লাইট আউট’-এর জন্য বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনও প্রভাব পড়েনি: কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিং 

09:45:20 PM

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪১১১, মৃত ১২৬: পিটিআই 

09:20:30 PM

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করুন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বার্তা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের 

09:18:00 PM

করোনা: উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৪
উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ...বিশদ

08:33:36 PM