Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। তিনি ইউরোপীয় ছিলেন। সোনিয়াও তাই। তাহলে বিদেশিনী তকমার জন্য তিনি দেশের সবচেয়ে প্রাচীন রাজনৈতিক দলের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না, এই যুক্তি মোটেও খাটে না। মোহিত সেনের নিবন্ধের সারমর্ম ছিল, কংগ্রেসের অবক্ষয় ঠেকাতে পারে শুধুই গান্ধী পরিবার। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই তখন নাক কুঁচকে ছিলেন। সোনিয়া? ১৯৯৮ সালে কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর সেই পুত্রবধূই দলের সভানেত্রী হলেন। ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ডালপালা বিস্তার করলেন। এবং মাত্র ১৪৫টি আসন নিয়েও ২০০৪ সালে কংগ্রেস জোট সরকার গঠন করল। অপ্রত্যাশিত।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, এখন আবার ওই প্রসঙ্গ কেন? কারণ একটাই। কংগ্রেস আজ আবার ধসে যাওয়ার মুখে। নিন্দুকে চিরকাল বলে এসেছে, গান্ধী পরিবারের ট্যাগ না থাকলে কি কংগ্রেস চলতে পারে না? উত্তরটা কিন্তু দলের নবীন-প্রবীণ লোকজনই এবার দিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা কেউই আর রাহুল গান্ধীর ছেড়ে যাওয়া জুতোয় পা গলাতে নারাজ। তাই দলের মৃত্যুপথযাত্রা ঠেকাতে ভরসা সেই সোনিয়া গান্ধী। এক কঠিন সময়ে তিনি কংগ্রেসের দায়িত্ব নিয়েছেন। সামনেই তিন রাজ্যের ভোট। যার মধ্যে হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্রে ২১ অক্টোবর, ঝাড়খণ্ডে ডিসেম্বর মাসে। যদিও ঝাড়খণ্ড নয়, অন্য দুই রাজ্যের দিকেই আপাতত দেশের নজর। তাই বানপ্রস্থ থেকে ফিরিয়ে আনা হল ৭২ বছরের ‘বিদেশিনী’কেই। অপ্রত্যাশিতভাবেই।
গত লোকসভা ভোটের ফল দেখে কংগ্রেস নিয়ে এত আলোচনা বাতুলতা মনে হতে পারে। কিন্তু রাজনীতির এই প্রান্তে আলোকপাত করাটাও প্রয়োজন। কেন? মূল কারণ হল, যদি মহারাষ্ট্র এবং হরিয়ানার নিরিখে রাজনীতির জমি জরিপ করা হয়, তাহলে দুই রাজ্যেই বিজেপির শাসন-ইতিহাস খুব মসৃণ নয়। শুরু করা যাক মহারাষ্ট্র দিয়ে। রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন, গত পাঁচ বছরে গোটা দেশে যত কর্মসংস্থান হয়েছে, তার ২৫ শতাংশই নাকি হয়েছে মহারাষ্ট্রে। যদিও এর বিস্তারিত তথ্য তিনি কিছু দিতে পারেননি। সিএমআইই’র সমীক্ষা কিন্তু বলছে, গত তিন বছরে মহারাষ্ট্রের বেকারত্বের হার ৪.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৬ শতাংশ হয়েছে। তার উপর চাপ রয়েছে কৃষক সমাজের। সব্জির দাম চড়ছে। পেঁয়াজের অবস্থা তো ভয়াবহ! কৃষিঋণ মকুবের কথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন ফড়নবিশ। এবং ভোটের ঠেলায় আরও বেশ কিছু প্রকল্পের নিদান দিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে রয়েছে জল সংরক্ষণ এবং সেচ সংক্রান্ত কর্মসূচি। কিন্তু উদ্বেগ বাড়িয়েছে শিল্প। ধাক্কা খেয়েছে একের পর এক বিনিয়োগের সম্ভাবনা। শিল্পে বৃদ্ধির হার গত আর্থিক বছরের তুলনায় বেশ খানিকটা কমে গিয়েছে। উপরন্তু গাড়ি শিল্প ধাক্কা খাওয়ায় সঙ্কট তৈরি হয়েছে পুনের কাছে চাকানে, যা কি না মহারাষ্ট্রের ‘কার হাব’।
যদিও গাড়ি শিল্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে হরিয়ানা। গুরুগ্রাম-মানেসর-বাওয়াল এলাকায় ভারতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ গাড়ি তৈরি হয়। প্রায় এক বছর হতে চলল, গাড়ি বিক্রির হার তলানিতে। উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। চলছে কর্মী ছাঁটাই এবং পরিকাঠামোগত খরচ বাঁচাতে দু’-একদিন করে কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে মারুতি সুজুকির মতো কোম্পানিকে। বেকারত্বও বাড়ছে।
অর্থাৎ, দুই রাজ্যের বিধানসভা ভোটেই মসৃণ জয় বিজেপির জন্য অপেক্ষা করে থাকার কথা নয়। তা সত্ত্বেও কেন অ্যাডভান্টেজ নরেন্দ্র মোদি বাহিনী? উত্তর একটাই, দুর্বল বিরোধী। বিশেষত কংগ্রেস। দলত্যাগ করেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অশোক তনওয়ার। দলের মধ্যে ক্ষোভের হাওয়া, রাহুল গান্ধী যে তরুণ প্রজন্মের কাঁধে কংগ্রেসের দায়িত্ব সঁপেছিলেন, কোপ পড়ছে তাঁদের উপর। সোনিয়া গান্ধী কার্যকরী সভানেত্রী হয়ে ফিরে আসার পর প্রবীণরা খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। কুমারী সেলজাকে প্রদেশ সভাপতি করার পর হরিয়ানায় যে তিক্ততা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি উঠছে নির্বাচনী টিকিট বিলি নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও। মহারাষ্ট্রেও সঞ্জয় নিরুপমের মতো কংগ্রেস নেতা দলের বিরুদ্ধে চাপা বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছেন। শচীন পাইলট, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, বা আর এক রাহুল-ঘনিষ্ঠ মিলিন্দ দেওরাও ক্ষোভ চেপে রাখেননি। ত্রিপুরার প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি প্রদ্যোৎ দেববর্মন তো সরাসরি দাবি করেছেন, রাহুল গান্ধীর হাত ধরে উঠে আসা তরুণ নেতৃত্বকে নানাভাবে হেনস্তা হতে হচ্ছে দলে।
এর থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার। সোনিয়া গান্ধীর হাতে কোনও জাদুকাঠি নেই। একের পর এক ভোটে বিপর্যয়ের কাহিনী কংগ্রেসের মনোবলে বড়সড় আঘাত হেনেছে। মাঝে রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন ছাড়া গত এক দশকে রাহুল গান্ধী এবং তাঁর নব্য ব্রিগেডের ঝুলিতে তেমন কোনও সাফল্য নেই। মোদি হাওয়া আর নেই বলে গত লোকসভা ভোটে কংগ্রেস যে প্রচার চালিয়েছিল, তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। নোট বাতিল এবং জিএসটি সমস্যাও বিশল্যকরণী হয়ে কংগ্রেসের কাছে দেখা দেয়নি। দেশের মানুষই নরেন্দ্র মোদিকে আর একবার সুযোগ দিয়েছেন। ভোটার ভরসা রাখেননি কংগ্রেসে। আর এখন দলও হয়তো রাখছে না। কংগ্রেসে সোনিয়া গান্ধীর দাপট এবং জনপ্রিয়তা কিছুটা হলেও যে স্তিমিত হয়েছে, একের পর এক রাজ্যে ‘বিদ্রোহ’ই তার প্রমাণ। সোনিয়া গান্ধীও কিন্তু এবার আর হাল ফেরাতে পারছেন না। তাঁর কাছে এতটা প্রত্যাশা করাটাও অবশ্য অমানবিক। তাঁর বয়স এবং অসুস্থতা সত্ত্বেও পালিয়ে না গিয়ে সোনিয়া দলকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন... এটাই অনেক বড় ব্যাপার। কিন্তু দলীয় কোন্দল মিটিয়ে দেশবাসীর মনে কংগ্রেসের প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানোর কাজটা একা সোনিয়া করতে পারবেন না। কারণ এক হাতে তালি বাজে না। দলের প্রত্যেক সদস্যকে তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সেই সমর্থন জোগাতে হতো। যার লেশমাত্র হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রে দেখা যাচ্ছে না।
অর্থাৎ বিজেপির সামনে এই দুই রাজ্যে ফাঁকা মাঠই পড়ে রয়েছে। শুধু ঠিকঠাক পাস বাড়িয়ে গোল দেওয়ার অপেক্ষা। পাস বাড়ানো মানে শরিকদের সামলে এগিয়ে যাওয়া। মহারাষ্ট্রে শরিক বলতে শিবসেনা। গত কয়েকটি ভোটের ঠিক আগে শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির একটা দড়ি টানাটানির সমীকরণ দেখা যাচ্ছে। পরে অবশ্য সবই মিটে যায়। আগামী ২১ তারিখের ভোটের জন্য অবশ্য নতুন চমক উদ্ধব থ্যাকারের ছেলে আদিত্য। এই প্রথম থ্যাকারে পরিবারের কেউ নির্বাচনী লড়াইতে আসছেন। আর মনোনয়ন জমা করার সময় আদিত্য নিজেই ঘোষণা করেছেন, এবার হয়তো মহারাষ্ট্র থ্যাকারে পরিবারের কাউকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখবে। তারপরও কিন্তু মহারাষ্ট্রে এনডিএ সরকারই হবে। সেই লিখন বদলাতে পারার মতো পরিস্থিতি বিরোধীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।
শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব থ্যাকারে নিজে সক্রিয় ভোট রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি ছিলেন কিংমেকার। মারাঠা জাত্যাভিমানকে সামনে রেখে যে আবেগের রাজনীতি তিনি মহারাষ্ট্রে আমদানি করেছিলেন, তাকে রীতিমতো সফলই বলতে হয়। তাঁর দল দীর্ঘকাল যাবৎ মহারাষ্ট্রে এনডিএর সিনিয়র অংশীদার হিসেবেই ছড়ি ঘুরিয়ে এসেছে। বদলটা দেখা যায় ২০১৪ সালে। প্রবল মোদি ঝড়ে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর মহারাষ্ট্রেও বিধানসভা নির্বাচনে বেশি আসন দাবি করে বিজেপি। শিবসেনা রাজি হয়নি। তাই শেষমেশ দুই পার্টি আলাদা লড়াই করে এবং বিজেপিই সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়। তখন থেকেই জুনিয়রের মর্যাদায় রাজ্যে বাস করছে শিবসেনা। গত লোকসভা নির্বাচনেও সেই অবস্থানের বদল হয়নি। উপরন্তু যেটা হয়েছে, জাত-ধর্ম-স্থানীয় সত্ত্বার বাধা ভেঙে প্রায় সব ধরনের ভোটারেরই আশীর্বাদ কুড়িয়েছে নরেন্দ্র মোদির বিজেপি। উচ্চবর্ণ এবং আদিবাসী, অ-মারাঠি ভোট আগেই বিজেপির ব্যাঙ্কে ছিল। গত ভোটে এই সবের সঙ্গে সঙ্গে মারাঠি এবং মুসলিম ভোটও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে নিয়েছে তারা। সেই প্রবণতা যদি বজায় থাকে, ভালো মার্জিন নিয়েই এবার ক্ষমতায় ফেরার কথা বিজেপির। যদি না থ্যাকারে ম্যাজিকে সত্যিই কিছু ওলট পালট হয়ে যায়। ওই রাজ্যে থ্যাকারে শব্দটি সত্যিই একটা আলাদা আবেগ। সেক্ষেত্রে মহারাষ্ট্র বাল থ্যাকারের উত্তরসূরিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখা যেতেই পারে।
আবার হরিয়ানায় গত লোকসভা ভোটে ১০টি আসনই জিতে নিয়েছে বিজেপি। চোখে পড়ার মতো বেড়েছে জাঠ ভোট। যা ২০১৪ সালে মাত্র ১৯ শতাংশ ছিল, সেটাই হয়ে গিয়েছে ৫২ শতাংশ। পাশাপাশি দলিত এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষও ঢেলে ভোট দিয়েছেন মোদি বাহিনীকে। তাই পূর্ববর্তী বিধানসভা ভোটে ৯০টির মধ্যে ৪৩ আসন দখল করা বিজেপি নানা দুর্বলতা ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা সত্ত্বেও বিরোধীদের দশ গোল দিয়ে এগিয়ে রয়েছে। এবার যদি তারা ৭০টির বেশি আসন মনোহরলাল খট্টরের নেতৃত্বে জিতে নেয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কংগ্রেস তো নয়ই, অন্য স্থানীয় দলগুলিও এখানে আপাতত বিজেপিকে বেগ দেওয়ার মতো জায়গায় নেই।
অর্থাৎ, বিষয়টা জলের মতো স্পষ্ট—দু’টি রাজ্যেই বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। কংগ্রেস হয়তো একটা লড়াই দিতে পারত... কিন্তু অর্ন্তদ্বন্দ্বের ঠেলায় তা দূরঅস্ত। সোনিয়া গান্ধী দায়িত্ব নিয়েছেন ঠিকই। তাতে আসন্ন ভোটের সংখ্যাতত্ত্বে বদল আসবে না। তাঁকে এই দল ঢেলে সাজতে হবে। মানুষকে আবার বিশ্বাসের, আস্থার সেই জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। বোঝাতে হবে, কংগ্রেস শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু আগামী সপ্তাহের দুই রাজ্যের নির্বাচনে?
কংগ্রেস যদি কিছু করতে পারে, সেটা অপ্রত্যাশিতই হবে।
15th  October, 2019
মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

 ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে।
বিশদ

16th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

13th  November, 2019
অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। বিশদ

10th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

 পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
বিশদ

09th  November, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, গাজোল: চড়া দামের ঠেলায় পড়ে এবার ভাতের হোটেলগুলিতেও কোপ পড়েছে ‘ফ্রি পেঁয়াজ’-এর উপর। সেইসঙ্গে চাউমিন বা এগরোলের মধ্যেও কমেছে পেঁয়াজের পরিমাণ। শসার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জোড়াতালি।  ...

সংবাদদাতা, আরামবাগ: বিভিন্ন দাবিতে শনিবার আরামবাগে মিছিল করে সিপিএম। সিপিএমের-১ ও ২ নম্বর এরিয়া কমিটির উদ্যোগে এদিন একটি পথসভাও হয়। আরামবাগের ধামসা বাসস্ট্যান্ডে প্রথমে পথসভা ...

 কলম্বো, ১৬ নভেম্বর: অপ্রীতিকর নানা ঘটনার মধ্যেই শনিবার সম্পন্ন হল শ্রীলঙ্কার ভোট। আর এই ভোটে শ্রীলঙ্কার দিকে বিশেষ নজর ছিল ভারতের। ভারতের মূল চিন্তা মহিন্দা রাজাপাকসে। যদি তাঁর দল পুনরায় ক্ষমতায় ফেরে, তাহলে তা ভারতের জন্য খুব ভালো হবে না, ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: ভোট যে বড় বালাই। তাই বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নীতি, আদর্শ বা পরিকল্পনাকে আপাতত শিকেয় তুলে নিজেদের অবস্থান নিয়ে কার্যত ‘ডিগবাজি’ খেল ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় আগ্রহ বাড়বে। মনোমতো বিষয় নিয়ে পঠন-পাঠন হবে। ব্যবসা স্থান শুভ। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস
১৮১২ - ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জন ওয়ালটারের মৃত্যু ।
১৮৯০ -অবিভক্ত ভারতে প্রথম সিরাম ভ্যাকসিন ও পেনিসিলিন প্রস্তুতকারক বিশিষ্ট ভেষজ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক হেমেন্দ্রনাথ ঘোষের জন্ম।
১৯৪৬ - বিশ্বে প্রথমবারের মত কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করা হয়।
১৯৬৩: ঝাড়খণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেত্রী মীনাক্ষি শেষাদ্রি
১৯৭১: পাকিস্তানের ক্রিকেটার ওয়াকার ইউনিসের জন্ম
১৯৮৮: এক দশকেরও বেশি সময় পর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হল অবাধ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন বেনজির ভুট্টো

16th  November, 2019




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০২ টাকা ৭৩.৫৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.০৫ টাকা ৯৪.৯০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৩ টাকা ৮১.২৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
16th  November, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ৩১/১৫ রাত্রি ৬/২৩। পুনর্বসু ৪২/৪৪ রাত্রি ১০/৫৯। সূ উ ৫/৫৪/৩, অ ৪/৪৮/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ২/৩৮। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৮ গতে ১/৩৩ মধ্যে পুনঃ ২/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/০ গতে ১২/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৩৯ মধ্যে।
৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ২৮/২৫/৫০ সন্ধ্যা ৫/১৭/৫৯। পুনর্বসু ৪১/৫৬/২২ রাত্রি ১০/৪২/১২, সূ উ ৫/৫৫/৩৯, অ ৪/৪৯/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫০ গতে ৮/৫৭ মধ্যে ও ১১/৪৮ গতে ২/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৭ গতে ৯/১৪ মধ্যে ১১/৫৩ গতে ১/৪০ মধ্যে ও ২/৩৩ গতে ৫/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০/৪৫ গতে ১১/২২/২৬ মধ্যে, কালবেলা ১১/২২/২৬ গতে ১২/৪৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/৪৫ গতে ২/৩৯/৩ মধ্যে।
১৯ রবিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শাহরুখ নান, সলমন পান পাওয়া যায় মুম্বইয়ের রেস্তঁরায়
খাবার হিসেবে এবার আত্মপ্রকাশ করেছেন বলিউড তারকারা! মুম্বইয়ের একটি রেস্তঁরা ...বিশদ

09:00:00 AM

হাউস বোট এবার ওড়িশাতেও 
ওড়িশার পর্যটন দপ্তর পর্যটকদের হাউস বোটে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে। চিল্কা ...বিশদ

08:58:39 AM

ভারতে বিয়ে করতে এসে দিল্লিতে মৃত্যু নিউজিল্যান্ডের এক মহিলার
ভারতে বিয়ে করতে এসে মৃত্যু হল নিউজিল্যান্ডের এক মহিলার। শনিবার ...বিশদ

08:50:00 AM

খাদ্যে বিষক্রিয়ার শিকার একই পরিবারের ১৪ জন
খাদ্যে বিষক্রিয়ার শিকার একই পরিবারের অন্তত ১৪ জন। ঘটনাটি ঘটেছে ...বিশদ

08:45:40 AM

ভালো রয়েছেন লতা মঙ্গেশকর
ভালো রয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। শনিবার প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পীর পারিবারিক মুখপাত্র ...বিশদ

08:33:43 AM

সবার উপরে ব্যাঙ্কক 
সম্প্রতি মাস্টার কার্ড সারা বিশ্বে সমীক্ষা চালিয়ে পর্যটকদের আকর্ষণীয় শহরের ...বিশদ

08:20:00 AM