Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

ভারতের বিস্তৃত অংশে যখন নবরাত্রি পালন ও দশেরার উৎসবমুখর আমেজ আমজনতাকে আবিষ্ট করে রেখেছে, তখন ভারতের বিদেশদপ্তর ব্যস্ত বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতার খুঁটিনাটি নিয়ে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে। ২০১৮-র ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনার দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। তাই নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সফর ঘিরে এত সাজসাজ রব।
বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক দিক থেকে ভারতের পূর্ব দিকের প্রবেশদ্বারই নয়, বরং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের হৃদয় নৈকট্যের কারণ সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। সময়ের সঙ্গে তাল রেখে এই সম্পর্কের রসায়ন ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সড়ক, জলপথে যোগাযোগ, রেলপথ ছাড়াও জয়েন্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট, জল সম্পদ বণ্টন, এনার্জি সিকিউরিটি—এই সবদিক থেকে বাংলাদেশের যেমন বিশেষ প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি ভারতও চায় বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলিকে আরও প্রসারিত করতে। সুতরাং উভয়ের সম্পর্কের এই পারস্পরিক উত্তাপ ও পরিপূরকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দরুন বাংলাদেশ হয়তো ভারতের থেকে যা প্রত্যাশা করে তা নৈকট্যের কারণে লেনদেন করা সুবিধাজনক ও লাভজনক হলেও, তারা অন্য কোনও রাষ্ট্রের থেকেও অনুরূপ সাহায্য হয়তো পেতেই পারে। আমাদেরও মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বেশ কিছু ইউনিক সুবিধে রয়েছে, বেশ কিছু ধাপ রয়েছে যাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। নবীন ও ক্ষুদ্র প্রতিবেশী বলে তাকে উপেক্ষা করা একেবারেই অনুচিত। তবে বাংলাদেশকে আমরা কতটা তাৎপর্যের সঙ্গে গ্রহণ করব, তার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার মূল নীতি কী হবে বা বৃহত্তর কোনও ইস্যুভিত্তিক ফর্মুলা আমরা নেব কি না, তার সুচিন্তিত ফ্রেম-ওয়ার্ক থাকা প্রয়োজন।
প্রথমত, ভারত মনে করে বাংলাদেশের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রত্যক্ষ সমীকরণ থাকাই বাঞ্ছনীয়। তার মধ্যে তৃতীয় শক্তির অন্তর্ভুক্তি কাম্য নয়। যেমন ফারাক্কা ব্যারেজের জলধারণ বাড়াতে গিয়ে ভারত যখন বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের ফিডার খাল বানানোর কথা বলে তখন তার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে নেপালকেও এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করে জলাধার নির্মাণের প্রস্তাব দেয়, ভারত যাতে প্রাথমিকভাবে গররাজি ছিল। এখান থেকে স্পষ্ট বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত কোনও তৃতীয় শক্তি বা বহুপাক্ষিক ফ্রেমওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক কোনও ফোরামের মধ্য দিয়ে মধ্যস্থতা করতে চায় না। অবশ্য বর্তমানে আমরা দেখছি ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় তার আঞ্চলিক নেতৃত্বের স্বার্থে বিমস্টেক ও বিবিআইএন-কে সক্রিয় করতে চাইছে। বলা বাহুল্য, এর জন্য বাংলাদেশের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর মোদি হাসিনার হাত ধরেই দুপক্ষই ঐতিহাসিক ছিটমহল চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যাতে ভারতীয় পার্লামেন্ট শততম সংবিধান সংশোধন হিসেবে সিলমোহর দেয়। তবে এখনও নিউম্যুর দ্বীপ, কয়েকটি চর নিয়ে উভয়ের মধ্যে দাবি ও পাল্টা দাবির অমীমাংসিত বিতর্ক রয়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, ভারত বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তৃত জমি ও জলাভূমি অধ্যুষিত যে সীমানা রয়েছে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। এই নিয়ে অতীতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ স্থিতাবস্থা রক্ষার পক্ষপাতী। তবে ভারতে বেশ কতকগুলি মারাত্মক নাশকতার ছক যেমন ২০০২ সালে কলকাতার মার্কিন সেন্টারে জঙ্গি হামলা, ২০১৪ বর্ধমানের খাগড়াগড়ে জঙ্গি নাশকতামূলক কার্যকলাপের যে ছক গোয়েন্দা অনুসন্ধানে উঠে আসে তাতে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের হুজি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে পাক জয়েশ ও লস্করের গোপন আঁতাঁত রয়েছে। ফলে ভারত বাংলাদেশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে বোঝাতে সমর্থ হয়েছে। অবশ্য সম্প্রতি ভারতের কিছু অংশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হিংসার কিছু ঘটনা বাংলাদেশের জনমানসে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে এই উদ্বেগ যে অমূলক তা বলাই যায়, কারণ অতীতে আমরা যেমন দেখেছি তেমনি বর্তমানেও আমরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলতে পারি ভারত শক্তিশালী, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তাছাড়া মোদি সরকার যেহেতু সুদৃঢ় রাজনৈতিক সমর্থনের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেহেতু এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা রোধে সরকার যে পিছপা হবে না তা বলাই যায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রে এনডিএ সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসের শততম দিন উদ্‌যাপনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর ভারতের 'Neighbourhood First'—নীতির যে দুটি উপাদানের কথা বলেন তার মধ্যে একটি হল বাংলাদেশের মতো প্রত্যক্ষ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে একতরফা সুবিধে দেওয়া। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ভারতের থেকে একগুচ্ছ বাণিজ্যিক ছাড় পেয়ে থাকে, যা চটজাত দ্রব্য, ইলেকট্রনিক পণ্য, খাদ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ছোট প্রতিবেশী বলে বাংলাদেশের যে আবদার তাও যতটা সম্ভব মেটানোর নৈতিক দায় ভারতের উপর বর্তায়। দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা। এই তালমিল যে নেই তার বড় প্রমাণ সম্প্রতি ভারতে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশ সঙ্কটে পড়ে, যা নিয়ে হাসিনা ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্য ফোরামে ক্ষোভ গোপন করেননি।
কিন্তু সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে দশ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য হয়েছে। তথাপি একথা বলা যাবে না যে উভয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পূর্ণমাত্রায় পৌঁছেছে। কারণ উভয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখনও বাজারের চাহিদামতো গড়ে উঠেছে। উভয় তরফে আর্থিক যোগসূত্র যদিও ঘোষণা ও চুক্তির পর্যায়ে রয়েছে, তথাপি বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের পক্ষে ক্রমশ শিরঃপীড়ার কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও কেবলমাত্র ভারত নয়, এমনকী চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের বড় রকমের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
তথাপি এক্ষেত্রে একটা মৌলিক পার্থক্যও রয়েছে, তা হল বাংলাদেশে প্রচুর চীনা পুঁজির বিনিয়োগ হচ্ছে। সেই তুলনায় ভারতের বিনিয়োগ আশানুরূপ বৃদ্ধি পায়নি। তাই এবারের সফরে শেখ হাসিনার মুখে আমরা বাংলাদেশে ভারতীয় পুঁজি বিনিয়োগের আহ্বানের কথা শুনেছি। বিশ্বায়নের ডাকে সাড়া দিয়ে অর্থনৈতিক উদারীকরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি গতি লাভ করলেও, একথা অনস্বীকার্য যে, প্রযুক্তিগতভাবে বিদেশি বিনিয়োগের নিরিখে ক্রয়ক্ষমতা ও মুদ্রার বিনিময় মূল্যের মতো সূচকের দিক থেকে ভারতের তুলনায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে একতরফা ছাড় দিলেও ভারতের উপরে তার বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যেমন বাংলাদেশে জামদানি শাড়ির উপর ভারত শুল্ক ও কোটা আরোপ করায় রপ্তানি যখন আশানুরূপ বাড়েনি, তখন সেইসব বাধানিষেধ ভারতের তরফ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যদিও ক্রমঅভিজ্ঞতায় ভারত বুঝেছে যে, প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে সবসময় স্নেহপরবশ হয়ে হাত উপুড় করাটাও অনুচিত।
তাই পরের দিকে ভারত মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ফ্রেমওয়ার্কে থেকে রফা করতে চেয়েছে। অন্যদিকে কয়েকবছর যাবৎ বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে শুল্কমুক্ত পণ্য পরিবহণের সুবিধা পাচ্ছে ভারতীয় যানবাহন। তাহলে কি ধরে নেব ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত বিন্দুতে আমরা পৌঁছে গিয়েছি? এর উত্তর নিহিত রয়েছে উভয়ের ঐতিহাসিক যোগসূত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে। যেমন বাংলাদেশ মনে করে ভারতের থেকে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
অন্যদিকে চীনের উপর নজরদারি চালাতে এবং ভারত-ভুটানের বাণিজ্যের সুবিধার্থে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মঙ্গলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেতে চলেছে ভারত। সেই সঙ্গে সিসেলস, মালদ্বীপ প্রভৃতি দ্বীপপুঞ্জে ভারতের যে রেডার প্রযুক্তি রয়েছে অনুরূপ প্রযুক্তি ভারত বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলেও ইনস্টল করতে পারবে—এমন ছাড়পত্র মিলেছে। তবে অস্বস্তির কারণ তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে কোনও অগ্রগতি হয়নি। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ইচ্ছামতো ভারত সরকার এখনই মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় না। তাছাড়া নাগরিক পঞ্জির বিষয়েও ভারত কোনও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস বাংলাদেশকে দিতে চায়নি কারণ এটি তার অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবু নয় নয় করে শেখ হাসিনার এই সফরে দিল্লি-ঢাকা উড়ান পথে যোগাযোগ বাড়ানো, পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, শান্তিপূর্ণ ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সাইবার-নিরাপত্তার মতো বহুবিধ বিষয়ে সম্পর্কের যে নাড়াবাঁধা হল, তাও এককথায় কম কী?
 লেখক অধিকর্তা, অতীশ দীপঙ্কর, শ্রীজ্ঞান সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ, সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয় 
14th  October, 2019
মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

 ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে।
বিশদ

16th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

13th  November, 2019
অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
প্রেমময় শ্রীকৃষ্ণের মধুর রাসলীলা
চিদানন্দ গোস্বামী

বিশারদ সর্ব বিষয়ে। বাঁশিতে, রথ চালনায়, চৌর্যকর্ম, কূটনীতি, যুদ্ধবিদ্যা, ছলচাতুরি—সবকিছুতেই বিশারদ। আর প্রেমপিরিতে তো মহা বিশারদ। এবং, কলহ বিতর্ক বাগযুদ্ধ যুক্তি জাদু, অপমান উপেক্ষা করতেও কম যায় না। অথচ পরমতম প্রেমিক পুরুষ। হ্যাঁ, এমন প্রেম জানে ক’জনা! আর, সেই প্রেমেও কত না কাণ্ড!  
বিশদ

11th  November, 2019
ক্ষমতায় ফিরে আসার লক্ষ্যে কমনিষ্ঠ পার্টি অব মৃত্যুলোকের নয়া পরিকল্পনা
সন্দীপন বিশ্বাস

হাতের চুরুটটা নিভতে নিভতেও আগুন ছুঁয়ে আছে। আর কমরেট প্রমোদিয়েভ ঝিমোতে ঝিমোতেও জেগে আছেন। ওদিকে কমরেট জ্যোতোভস্কি আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে টেবিলে পা তুলে দিয়ে টিভি দেখছেন। একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন তিনি। এখনও অন্য কমরেটরা আসেননি। 
বিশদ

11th  November, 2019
সবার হাতে কাজ ছাড়া ‘সবকা বিকাশ’ অসম্ভব, মন্দির-মসজিদে তো পেট ভরবে না
হিমাংশু সিংহ

২০১৯ প্রায় শেষের দিকে। নতুন বছর আসতে আর বাকি দেড় মাসের সামান্য বেশি। বছরের শুরুটায় আপামর দেশবাসী মেতেছিল সাধারণ নির্বাচন নিয়ে। পাঁচবছরের জন্য কে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসবে তা ঘিরে রাজনৈতিক দাপাদাপি আর তরজায় জমজমাট ছিল বছরের শুরুটা। বিশদ

10th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

 পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।
বিশদ

09th  November, 2019
একনজরে
জীবানন্দ বসু, কলকাতা: ভোট যে বড় বালাই। তাই বছর ঘুরতে না ঘুরতেই নীতি, আদর্শ বা পরিকল্পনাকে আপাতত শিকেয় তুলে নিজেদের অবস্থান নিয়ে কার্যত ‘ডিগবাজি’ খেল ...

 কলম্বো, ১৬ নভেম্বর: অপ্রীতিকর নানা ঘটনার মধ্যেই শনিবার সম্পন্ন হল শ্রীলঙ্কার ভোট। আর এই ভোটে শ্রীলঙ্কার দিকে বিশেষ নজর ছিল ভারতের। ভারতের মূল চিন্তা মহিন্দা রাজাপাকসে। যদি তাঁর দল পুনরায় ক্ষমতায় ফেরে, তাহলে তা ভারতের জন্য খুব ভালো হবে না, ...

সংবাদদাতা, গাজোল: চড়া দামের ঠেলায় পড়ে এবার ভাতের হোটেলগুলিতেও কোপ পড়েছে ‘ফ্রি পেঁয়াজ’-এর উপর। সেইসঙ্গে চাউমিন বা এগরোলের মধ্যেও কমেছে পেঁয়াজের পরিমাণ। শসার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জোড়াতালি।  ...

 দীপ্তিমান মুখোপাধ্যায়। হাওড়া: এবার আর ব্লক অফিসে নয়, গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে জেলা প্রশাসনের সমস্ত বিভাগকে নিয়ে গিয়ে বৈঠক করতে হবে জেলাশাসকদের। বছরে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে অন্তত তিন থেকে চারবার যাতে এই বৈঠক করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় আগ্রহ বাড়বে। মনোমতো বিষয় নিয়ে পঠন-পাঠন হবে। ব্যবসা স্থান শুভ। পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবস
১৮১২ - ‘দ্য টাইমস’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জন ওয়ালটারের মৃত্যু ।
১৮৯০ -অবিভক্ত ভারতে প্রথম সিরাম ভ্যাকসিন ও পেনিসিলিন প্রস্তুতকারক বিশিষ্ট ভেষজ বিজ্ঞানী ও চিকিৎসক হেমেন্দ্রনাথ ঘোষের জন্ম।
১৯৪৬ - বিশ্বে প্রথমবারের মত কৃত্রিমভাবে বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করা হয়।
১৯৬৩: ঝাড়খণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেত্রী মীনাক্ষি শেষাদ্রি
১৯৭১: পাকিস্তানের ক্রিকেটার ওয়াকার ইউনিসের জন্ম
১৯৮৮: এক দশকেরও বেশি সময় পর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হল অবাধ নির্বাচন। সেই নির্বাচনে দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন বেনজির ভুট্টো

16th  November, 2019




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০২ টাকা ৭৩.৫৬ টাকা
পাউন্ড ৯০.০৫ টাকা ৯৪.৯০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৩ টাকা ৮১.২৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
16th  November, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,৭০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,৮০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ৩১/১৫ রাত্রি ৬/২৩। পুনর্বসু ৪২/৪৪ রাত্রি ১০/৫৯। সূ উ ৫/৫৪/৩, অ ৪/৪৮/৫৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ২/৩৮। রাত্রি ৭/২৬ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৮ গতে ১/৩৩ মধ্যে পুনঃ ২/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/০ গতে ১২/৪৩ মধ্যে, কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৩৯ মধ্যে।
৩০ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রবিবার, পঞ্চমী ২৮/২৫/৫০ সন্ধ্যা ৫/১৭/৫৯। পুনর্বসু ৪১/৫৬/২২ রাত্রি ১০/৪২/১২, সূ উ ৫/৫৫/৩৯, অ ৪/৪৯/১৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫০ গতে ৮/৫৭ মধ্যে ও ১১/৪৮ গতে ২/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২৭ গতে ৯/১৪ মধ্যে ১১/৫৩ গতে ১/৪০ মধ্যে ও ২/৩৩ গতে ৫/৫৭ মধ্যে, বারবেলা ১০/০/৪৫ গতে ১১/২২/২৬ মধ্যে, কালবেলা ১১/২২/২৬ গতে ১২/৪৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/৪৫ গতে ২/৩৯/৩ মধ্যে।
১৯ রবিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আজকের রাশিফল
মেষ: পৈতৃক ব্যবসায় যুক্ত হলে ভালো হবে। বৃষ: কর্মপ্রার্থীদের সুখবর ...বিশদ

08:09:24 AM

ভালো রয়েছেন লতা মঙ্গেশকর
ভালো রয়েছেন লতা মঙ্গেশকর। শনিবার প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পীর পারিবারিক মুখপাত্র ...বিশদ

08:00:00 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
আন্তর্জাতিক ছাত্র দিবস১৫২৫ - সিন্ধু প্রদেশের মধ্য দিয়ে মোগল সম্রাট ...বিশদ

07:55:00 AM

দুর্গাপুরে আন্দোলনে আদিবাসীরা 
দুর্গাপুরে স্থানীয় এক যুবককে মারধরের জেরে বড়সড় আন্দোলনে আদিবাসীরা। দীর্ঘ ...বিশদ

16-11-2019 - 03:54:46 PM

প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ইনিংস ও ১৩০ রানে জয়ী ভারত 

16-11-2019 - 03:39:00 PM

বিধান ভবনের বাইরে বিজেপি-র তাণ্ডব, প্রতিবাদে অবস্থানে কং
জোড়া বিক্ষোভে লণ্ডভণ্ড মধ্য কলকাতা। আজ প্রথমে বিজেপি-র বিক্ষোভ কর্মসূচি ...বিশদ

16-11-2019 - 03:17:00 PM