Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

ভারতের বিস্তৃত অংশে যখন নবরাত্রি পালন ও দশেরার উৎসবমুখর আমেজ আমজনতাকে আবিষ্ট করে রেখেছে, তখন ভারতের বিদেশদপ্তর ব্যস্ত বাংলাদেশের সঙ্গে সমঝোতার খুঁটিনাটি নিয়ে ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে। ২০১৮-র ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভের পর শেখ হাসিনার দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্বকালে এটি তাঁর প্রথম ভারত সফর। তাই নয়াদিল্লির সাউথ ব্লকে ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সফর ঘিরে এত সাজসাজ রব।
বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক দিক থেকে ভারতের পূর্ব দিকের প্রবেশদ্বারই নয়, বরং ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের হৃদয় নৈকট্যের কারণ সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন। সময়ের সঙ্গে তাল রেখে এই সম্পর্কের রসায়ন ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে সড়ক, জলপথে যোগাযোগ, রেলপথ ছাড়াও জয়েন্ট বর্ডার ম্যানেজমেন্ট, জল সম্পদ বণ্টন, এনার্জি সিকিউরিটি—এই সবদিক থেকে বাংলাদেশের যেমন বিশেষ প্রত্যাশা রয়েছে, তেমনি ভারতও চায় বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলিকে আরও প্রসারিত করতে। সুতরাং উভয়ের সম্পর্কের এই পারস্পরিক উত্তাপ ও পরিপূরকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের দরুন বাংলাদেশ হয়তো ভারতের থেকে যা প্রত্যাশা করে তা নৈকট্যের কারণে লেনদেন করা সুবিধাজনক ও লাভজনক হলেও, তারা অন্য কোনও রাষ্ট্রের থেকেও অনুরূপ সাহায্য হয়তো পেতেই পারে। আমাদেরও মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বেশ কিছু ইউনিক সুবিধে রয়েছে, বেশ কিছু ধাপ রয়েছে যাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন। নবীন ও ক্ষুদ্র প্রতিবেশী বলে তাকে উপেক্ষা করা একেবারেই অনুচিত। তবে বাংলাদেশকে আমরা কতটা তাৎপর্যের সঙ্গে গ্রহণ করব, তার সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার মূল নীতি কী হবে বা বৃহত্তর কোনও ইস্যুভিত্তিক ফর্মুলা আমরা নেব কি না, তার সুচিন্তিত ফ্রেম-ওয়ার্ক থাকা প্রয়োজন।
প্রথমত, ভারত মনে করে বাংলাদেশের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রত্যক্ষ সমীকরণ থাকাই বাঞ্ছনীয়। তার মধ্যে তৃতীয় শক্তির অন্তর্ভুক্তি কাম্য নয়। যেমন ফারাক্কা ব্যারেজের জলধারণ বাড়াতে গিয়ে ভারত যখন বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের ফিডার খাল বানানোর কথা বলে তখন তার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে নেপালকেও এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করে জলাধার নির্মাণের প্রস্তাব দেয়, ভারত যাতে প্রাথমিকভাবে গররাজি ছিল। এখান থেকে স্পষ্ট বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত কোনও তৃতীয় শক্তি বা বহুপাক্ষিক ফ্রেমওয়ার্ক, আন্তর্জাতিক কোনও ফোরামের মধ্য দিয়ে মধ্যস্থতা করতে চায় না। অবশ্য বর্তমানে আমরা দেখছি ভারত দক্ষিণ এশিয়ায় তার আঞ্চলিক নেতৃত্বের স্বার্থে বিমস্টেক ও বিবিআইএন-কে সক্রিয় করতে চাইছে। বলা বাহুল্য, এর জন্য বাংলাদেশের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর মোদি হাসিনার হাত ধরেই দুপক্ষই ঐতিহাসিক ছিটমহল চুক্তিতে স্বাক্ষর করে, যাতে ভারতীয় পার্লামেন্ট শততম সংবিধান সংশোধন হিসেবে সিলমোহর দেয়। তবে এখনও নিউম্যুর দ্বীপ, কয়েকটি চর নিয়ে উভয়ের মধ্যে দাবি ও পাল্টা দাবির অমীমাংসিত বিতর্ক রয়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত বলা দরকার, ভারত বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তৃত জমি ও জলাভূমি অধ্যুষিত যে সীমানা রয়েছে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন। এই নিয়ে অতীতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশ স্থিতাবস্থা রক্ষার পক্ষপাতী। তবে ভারতে বেশ কতকগুলি মারাত্মক নাশকতার ছক যেমন ২০০২ সালে কলকাতার মার্কিন সেন্টারে জঙ্গি হামলা, ২০১৪ বর্ধমানের খাগড়াগড়ে জঙ্গি নাশকতামূলক কার্যকলাপের যে ছক গোয়েন্দা অনুসন্ধানে উঠে আসে তাতে আমরা দেখেছি বাংলাদেশের হুজি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে পাক জয়েশ ও লস্করের গোপন আঁতাঁত রয়েছে। ফলে ভারত বাংলাদেশকে এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে বোঝাতে সমর্থ হয়েছে। অবশ্য সম্প্রতি ভারতের কিছু অংশে উগ্র হিন্দুত্ববাদী হিংসার কিছু ঘটনা বাংলাদেশের জনমানসে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে এই উদ্বেগ যে অমূলক তা বলাই যায়, কারণ অতীতে আমরা যেমন দেখেছি তেমনি বর্তমানেও আমরা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বলতে পারি ভারত শক্তিশালী, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। তাছাড়া মোদি সরকার যেহেতু সুদৃঢ় রাজনৈতিক সমর্থনের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেহেতু এ ধরনের বিচ্ছিন্ন ঘটনা রোধে সরকার যে পিছপা হবে না তা বলাই যায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রে এনডিএ সরকারের দ্বিতীয় ইনিংসের শততম দিন উদ্‌যাপনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর ভারতের 'Neighbourhood First'—নীতির যে দুটি উপাদানের কথা বলেন তার মধ্যে একটি হল বাংলাদেশের মতো প্রত্যক্ষ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিকে একতরফা সুবিধে দেওয়া। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ ভারতের থেকে একগুচ্ছ বাণিজ্যিক ছাড় পেয়ে থাকে, যা চটজাত দ্রব্য, ইলেকট্রনিক পণ্য, খাদ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, ছোট প্রতিবেশী বলে বাংলাদেশের যে আবদার তাও যতটা সম্ভব মেটানোর নৈতিক দায় ভারতের উপর বর্তায়। দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা। এই তালমিল যে নেই তার বড় প্রমাণ সম্প্রতি ভারতে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশ সঙ্কটে পড়ে, যা নিয়ে হাসিনা ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্য ফোরামে ক্ষোভ গোপন করেননি।
কিন্তু সামগ্রিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে দশ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য হয়েছে। তথাপি একথা বলা যাবে না যে উভয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পূর্ণমাত্রায় পৌঁছেছে। কারণ উভয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এখনও বাজারের চাহিদামতো গড়ে উঠেছে। উভয় তরফে আর্থিক যোগসূত্র যদিও ঘোষণা ও চুক্তির পর্যায়ে রয়েছে, তথাপি বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের পক্ষে ক্রমশ শিরঃপীড়ার কারণ হয়ে উঠেছে। যদিও কেবলমাত্র ভারত নয়, এমনকী চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের বড় রকমের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।
তথাপি এক্ষেত্রে একটা মৌলিক পার্থক্যও রয়েছে, তা হল বাংলাদেশে প্রচুর চীনা পুঁজির বিনিয়োগ হচ্ছে। সেই তুলনায় ভারতের বিনিয়োগ আশানুরূপ বৃদ্ধি পায়নি। তাই এবারের সফরে শেখ হাসিনার মুখে আমরা বাংলাদেশে ভারতীয় পুঁজি বিনিয়োগের আহ্বানের কথা শুনেছি। বিশ্বায়নের ডাকে সাড়া দিয়ে অর্থনৈতিক উদারীকরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি গতি লাভ করলেও, একথা অনস্বীকার্য যে, প্রযুক্তিগতভাবে বিদেশি বিনিয়োগের নিরিখে ক্রয়ক্ষমতা ও মুদ্রার বিনিময় মূল্যের মতো সূচকের দিক থেকে ভারতের তুলনায়, বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তাই বাংলাদেশকে একতরফা ছাড় দিলেও ভারতের উপরে তার বিরূপ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যেমন বাংলাদেশে জামদানি শাড়ির উপর ভারত শুল্ক ও কোটা আরোপ করায় রপ্তানি যখন আশানুরূপ বাড়েনি, তখন সেইসব বাধানিষেধ ভারতের তরফ থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, যদিও ক্রমঅভিজ্ঞতায় ভারত বুঝেছে যে, প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারে সবসময় স্নেহপরবশ হয়ে হাত উপুড় করাটাও অনুচিত।
তাই পরের দিকে ভারত মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির ফ্রেমওয়ার্কে থেকে রফা করতে চেয়েছে। অন্যদিকে কয়েকবছর যাবৎ বাংলাদেশের ভিতর দিয়ে শুল্কমুক্ত পণ্য পরিবহণের সুবিধা পাচ্ছে ভারতীয় যানবাহন। তাহলে কি ধরে নেব ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কাঙ্ক্ষিত বিন্দুতে আমরা পৌঁছে গিয়েছি? এর উত্তর নিহিত রয়েছে উভয়ের ঐতিহাসিক যোগসূত্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে। যেমন বাংলাদেশ মনে করে ভারতের থেকে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
অন্যদিকে চীনের উপর নজরদারি চালাতে এবং ভারত-ভুটানের বাণিজ্যের সুবিধার্থে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মঙ্গলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ পেতে চলেছে ভারত। সেই সঙ্গে সিসেলস, মালদ্বীপ প্রভৃতি দ্বীপপুঞ্জে ভারতের যে রেডার প্রযুক্তি রয়েছে অনুরূপ প্রযুক্তি ভারত বাংলাদেশের উপকূলবর্তী অঞ্চলেও ইনস্টল করতে পারবে—এমন ছাড়পত্র মিলেছে। তবে অস্বস্তির কারণ তিস্তার জলবণ্টন নিয়ে কোনও অগ্রগতি হয়নি। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ইচ্ছামতো ভারত সরকার এখনই মায়ানমারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় না। তাছাড়া নাগরিক পঞ্জির বিষয়েও ভারত কোনও সুনির্দিষ্ট আশ্বাস বাংলাদেশকে দিতে চায়নি কারণ এটি তার অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবু নয় নয় করে শেখ হাসিনার এই সফরে দিল্লি-ঢাকা উড়ান পথে যোগাযোগ বাড়ানো, পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, শান্তিপূর্ণ ক্ষেত্রে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সাইবার-নিরাপত্তার মতো বহুবিধ বিষয়ে সম্পর্কের যে নাড়াবাঁধা হল, তাও এককথায় কম কী?
 লেখক অধিকর্তা, অতীশ দীপঙ্কর, শ্রীজ্ঞান সেন্টার ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ, সিধো-কানহো-বীরসা বিশ্ববিদ্যালয় 
14th  October, 2019
এখন সবাই জেলবন্দি
পি চিদম্বরম

 বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) ২০৫টি দেশ আক্রান্ত হয়েছে। ভাইরাস হল সংক্রমণ ঘটাতে পটু এক ধরনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বস্তু, যা কেবলমাত্র প্রাণীদেহের জীবিত কোষের ভিতরে প্রবেশ করে নিজের প্রতিলিপি ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলে। বিশদ

ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

05th  April, 2020
আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

04th  April, 2020
হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

29th  March, 2020
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
একনজরে
প্রসেনজিৎ কোলে, কলকাতা: গরম বাড়তে থাকলেও গত বছরের তুলনায় এ বছরে এখনও পর্যন্ত এসি বসানোর আবেদন কম জমা পড়েছে। কলকাতা এবং শহরতলির একটা বড় অংশ ...

  হিউস্টন, ৫ এপ্রিল (পিটিআই): আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ঝড়ের গতিতে বাড়ছে। গোটা বিশ্বেই। অসুস্থ মানুষের স্রোত সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাব তৈরি হচ্ছে সর্বত্রই। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভেন্টিলেটরের চাহিদা। ...

 মাদ্রিদ, ৫ এপ্রিল: করোনা ভাইরাসের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে প্রতিটি দেশে। ব্যতিক্রম নয় স্পেনও। প্রতিদিন সে দেশে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ...

সংবাদদাতা, দিনহাটা: করোনার জেরে দেশজুড়েই চলছে লকডাউন। যেজন্য কোচবিহার শহর দু’সপ্তাহ ধরে শুনশান হয়ে আছে। সকালে বাজার সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার জন্য সামান্য কিছু মানুষকে রাস্তায় দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের রাজপথ থেকে অলিগলি কার্যত জনশূন্য হয়ে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। প্রেম প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। তবে তা বাস্তবায়িত হওয়াতে সমস্যা আছে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

 আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস
১৪৮৩: ইতালির চিত্রশিল্পী রাফায়েলের জন্ম এবং ১৫২০ সালে আজকের দিনেই মৃত্যু
১৯৩১: মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের জন্ম
১৯৫৬: ক্রিকেটার দিলীপ বেঙ্গসরকারের জন্ম
১৯৯২: কল্পবিজ্ঞানের লেখক আইজ্যাক অ্যারসিমভের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.২৪ টাকা ৭৬.৯৬ টাকা
পাউন্ড ৯২.৫১ টাকা ৯৫.৮২ টাকা
ইউরো ৮১.০৩ টাকা ৮৪.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
04th  April, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২৩ চৈত্র ১৪২৬, ৬ এপ্রিল ২০২০, সোমবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) ত্রয়োদশী ২৬/০ রাত্রি ৩/৫২। পূর্বফাল্গুনী ১৬/৫৯ দিবা ১২/১৬। সূ উ ৫/২৮/২০, অ ৫/৪৯/৫৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৮ মধ্যে পুনঃ ১০/২৫ গতে ১২/৫৩ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩৬ গতে ৮/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/১৫ গতে ২/২১ মধ্যে। বারবেলা ৭/২ গতে ৮/৩৫ মধ্যে পুনঃ ২/৪৪ গতে ৪/১৭ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/২২ গতে ১১/৩৯ মধ্যে।
২৩ চৈত্র ১৪২৬, ৬ এপ্রিল ২০২০, সোমবার, ত্রয়োদশী ১৯/৫৩/৪৭ দিবা ১/২৭/২১। পূর্বফাল্গুনী ১১/১০/২৪ দিবা ৯/৫৮/০। সূ উ ৫/২৯/৫০, অ ৫/৫০/৩০। অমৃতযোগ দিবা ৭/৫ মধ্যে ও ১০/২৪ গতে ১২/৫৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৭ গতে ৮/৫৬ মধ্যে ও ১১/১৫ গতে ২/২০ মধ্যে। বারবেলা ২/৪৫/২০ গতে ৪/১৭/৫৫ মধ্যে, কালবেলা ৭/২/২৫ গতে ৮/৩৫/০ মধ্যে।
১২ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভূমিকম্প অনুভুত অসমে 
বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কের মাঝে এবার ভূমিকম্প অনুভুত হল অসমে। রিখটার ...বিশদ

05-04-2020 - 11:39:32 PM

নিরোর কথা শুনেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম, ট্যুইট ফিরহাদ হাকিমের 
প্রধানমন্ত্রীর ডাকে রবিবার রাত ন’টার সময় ন’মিনিট ঘরের আলো জ্বালিয়ে ...বিশদ

05-04-2020 - 10:04:34 PM

৯ মিনিটের ‘লাইট আউট’-এর জন্য বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনও প্রভাব পড়েনি: কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিং 

05-04-2020 - 09:45:20 PM

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪১১১, মৃত ১২৬: পিটিআই 

05-04-2020 - 09:20:30 PM

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করুন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বার্তা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের 

05-04-2020 - 09:18:00 PM

করোনা: উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৪
উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ...বিশদ

05-04-2020 - 08:33:36 PM