Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। বছরের কিছু বিশেষ দিনে মক্কা মদিনা যাওয়ার বিষয়টিতেও অর্থনীতি জড়িয়ে আছে অনেকটা। খ্রিস্টানদের কাছে বড়দিন মানে তো বিশ্বজোড়া বিশাল উৎসব। ইউরোপ কিংবা আমেরিকায় কেনাকাটা বেড়ে যায় সাংঘাতিক মাত্রায়। অর্থনীতিতে তার সুফল বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। ফলে আমাদের রাজ্যে দুর্গাপুজো নিয়ে যে হইচই তাতে অবাক হওয়ার খুব কারণ নেই। আপাতত সে পুজো শেষ, কিন্তু রেশ রয়ে গেছে সর্বত্র।
তবে কিছু বিষয় বদলেছে, যে-কথায় আমরা একে একে আসব। তার মধ্যে প্রথম হল পুজো শেষের বিষণ্ণতা। আশির দশকে যাঁরা কিশোর কিংবা যুবক ছিলেন তাঁদের মনে থাকবেই একাদশীর দিনটার কথা। ফাঁকা পুজো প্যান্ডেল। এদিক ওদিক ছড়িয়ে আছে পিতৃপরিচয়হীন ফুলের টুকরো, কাত হয়ে বিশ্রাম নেওয়া ঘট, তার মুখ থেকে গড়িয়ে পড়া গঙ্গাজল, ভিজে ধুলোর কাদা আর ধুনোমাখা পোড়া নারকোলের খোল। মা তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতা, মফস্‌সল শহর, কিংবা গ্রামবাংলার প্রতিটি হিন্দু বাঙালির বুকটা একেবারে খালি হয়ে যেত। শেষ শরতের আবছা বিকেলে ঝুপ করে সন্ধে নামত এই বাংলায়। লক্ষীপুজোও হবে একই মণ্ডপে, তার আগে কেউ থানইটের উপর একটা প্রদীপ জ্বালিয়ে দিতেন। একটু দূরে সদ্য গোঁফ ওঠা ছেলেদের আড্ডায় উচ্ছ্বলতার অভাব প্রত্যক্ষ করা যেত প্রতি মুহূর্তে। পুজো শেষের সেই বিষণ্ণতা একেবারে হারিয়ে ফেলেছে বাংলার শহর আর শহরতলি। হয়তো-বা কলকাতা থেকে বহু দূরের কোনও এক গ্রামে এখনও পুজো শেষের অন্য গন্ধ ভেসে বেড়ায়। কিন্তু, গত কয়েক দশকে বদলে যাওয়া এই বাংলায় পুজোর সনাতন সংস্কৃতি হারিয়ে গেছে একেবারেই।
এই আলোচনায় অবশ্যই বলতে হয় পুজো উদ্বোধনের কথা। রাজনৈতিক নেতা নেত্রীদের ফিতে কাটার চোটে পুজো আসার সঠিক সময়টাই গুলিয়ে গিয়েছে শহর থেকে শহরতলিতে। কলকাতার বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে এই সহস্রাব্দের শুরুতেও প্রতিমা আনা হতো পঞ্চমীর দিন। খুব তাড়াতাড়ি হলে চতুর্থী। দায়িত্ব নিয়ে ঢাকা থাকত প্রতিটি প্রতিমার মুখ। অনেক সময় সেই তালিকায় ইঁদুর, প্যাঁচা, হাঁস, ময়ূরও মুখ লুকোত। বোধনের আগে যথেষ্ট ভক্তিসহকারে উন্মোচিত হতো সেই আবরণ। বড় নেতা নেত্রী থাকতেন না, কিন্তু অনেক বেশি আদর করে ডাকা হতো এই বাংলার ঘরের মেয়ে আর তাঁর ছানাপোনাদের। মায়ের পিছনের দিকে মাথার উপর প্যান্ডেলের সঙ্গে আটকে ঝোলানো থাকত কাঁচে বাঁধানো শিবের ছবি।
এখন শিবের কথা ভুলেই যাচ্ছেন অনেকে, কোথাও-বা আকাশছোঁয়া প্রতিমার চালচিত্রে যেখানে সেখানে শিব এবং সঙ্গে অন্যান্য অনেক দেবদেবীর কোলাজ। হিন্দু বাঙালির জিজ্ঞেস করার জোরটুকুও চলে গেছে যে হচ্ছেটা কী? দেবীপক্ষ দূরে থাক, মহালয়ার আগেই হাসি হাসি মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মাকে! সঙ্গে অসহায় তাঁর দুই ছেলে, দুই মেয়ে। কৈলাসের অমাবস্যা ভুলে হ্যালোজেনের তীব্রতায় গোটা পরিবারের চোখে এবার মহালয়ায় কালো চশমা লাগাতে হবে।
অন্যকোনও ধর্মে এভাবে বিব্রত হতে হয় না আরাধ্যা দেবীকে। কখনও দেখেছেন কি যে মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন এই সমস্ত ধর্মের মানুষ তাদের নির্দিষ্ট আরাধনার সময়ের সাতদিন আগে থেকে হইচই শুরু করেছেন পুরোদমে? ধর্ম সমাজকে ধারণ করে, ধরে রাখে তার সংস্কৃতি, তার আচার। দেবতাকে ভয় পেতে হবে এমনটা আধুনিক বিশ্বে না-হওয়াই ভালো। কিন্তু তা বলে নিজেদের দেবতাকে হেলাফেলা করাটাও ভালো কথা নয়।
হিন্দুদের আরাধনার ক্ষেত্রেও নিয়ম বিশেষ বদলায়নি অন্য রাজ্যে। দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন উৎসব, মুম্বইয়ের গণেশ চতুর্থী ইত্যাদিতে জাঁকজমক হয়তো আগের থেকে বেড়েছে অনেক, কিন্তু অকারণে দিন বেড়ে যায়নি পুজোর। দেবতাকে অস্বীকার করে আরাধনার তিথি ক্যালেন্ডারে আঘাত করে নি যখন তখন।
ধর্মের সঙ্গে রাজনীতি থাকে সবসময়েই। ধর্মকে হাতিয়ার করেই বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সন্ত্রাসবাদী হানাদারির। চলছে দেশে দেশে যুদ্ধ। ভারতের জায়গায় জায়গায় হিন্দু ধর্মের আরাধনায় রাজনীতিবিদদের শক্তিপ্রদর্শন কোনও নতুন কথা নয়। ধর্মের নামে মানুষের উপর অত্যাচারে ভারতের অন্যান্য রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের থেকে পিছিয়ে নেই মোটেই। কিন্তু সেখানে পুজোর নিয়মকানুনটুকু অন্তত নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় বলেই খবর।
অন্যদিকে, হিন্দু বাঙালি উদারনীতিতে বিশ্বাসী, এবং প্রগতিশীল। তাই তো আমরা দেখেছি, আমেরিকা বা ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় প্রবাসী বাঙালিরা পুজো করছেন দিন বদলে দিয়ে, সপ্তাহান্তে, তিথি নক্ষত্র না-মেনে। তাঁরা নিজেরাই ঠিক করেছেন যে বিদেশে নিয়ম নাস্তি। সে তো না-হয় মেনে নেওয়া গেল কাজের প্রয়োজনে, প্রগতিশীলতার যুক্তিতে, প্রবাসী বাঙালির বাধ্যবাধকতায়।
কিন্তু কলকাতায় পুজোর হপ্তাখানেক আগে থেকে রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের একাংশের মণ্ডপে মণ্ডপে হানাদারির উদ্দেশ্য কী? বিজয়া দশমীর পরেও তিন চারদিন ধরে ভাসানের প্রস্তুতি—এসব করে লাভটা কী হচ্ছে? রাজ্য সরকারের যুক্তি, এর ফলে উৎসাহিত হবেন পর্যটকেরা। কিন্তু সেরকম কোন পরিসংখ্যান কি খুঁজে পাওয়া গেছে? কলকাতায় আসার ট্রেনে বা বিমানে পুজোর মুখে যাঁরা ঘরে ফেরেন তাঁদের বেশিরভাগই হিন্দু বাঙালি। পুজোর পর তাঁরাই আবার কাজের জায়গায় ফিরে যান। অন্যদিকে ভ্রমণ-প্রিয় বাঙালিই বাইরে ঘুরতে যান এই সময়, তাঁরাই আবার ঘরে ফেরেন পুজো শেষে। অর্থাৎ পুজো পরিক্রমায় অন্য দেশ বা অন্য রাজ্য থেকে প্রচুর মানুষ এই রাজ্যে সম্পদ বিতরণ করে যাচ্ছেন এরকম কোন খবর আছে কি?
কেন্দ্রীয় সরকারের ট্রিলিয়ন ডলার বাজেটের সঙ্গে লড়তে চাওয়া এরাজ্যের শারদীয়া লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতির গল্প তাই বাঙালির পকেট কেটেই। তার একটা অংশ এই উৎসবের মরশুমে নিম্নবিত্ত বাঙালির কাছেও পৌঁছচ্ছে—আধা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় সেটুকুই এরাজ্যের মঙ্গল।
রাজ্য-রাজনীতির আলোচনায় বারবার এসেছে কর্মদিবস নষ্টের কথা। এদিকে পুজোর সময় দিন অপচয়ের ছড়াছড়ি। বাম রাজত্বে সিপিএম বাকি সমস্ত বিষয়ে দখলদারি বজায় রাখলেও, দুর্গাপুজোটা কংগ্রেস নেতাদের জন্যে ছেড়ে রেখেছিল। তারাই এখন তৃণমূলে। বামেদের অল্প কিছু পুজো কাঁপানো নেতাও সঠিক বিবর্তনে তৃণমূলে পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে ২০১১-র আগে পুজো পরিচালনায় দক্ষ নেতানেত্রীদের তৃণমূলে আশ্রয় নিতে সময় লেগেছে অনেকটা। এই বিবর্তনের গতি ছিল ধীর। গত কয়েকবছরে এই রাজ্যে পুজো বিশেষজ্ঞ রাজনীতিবিদরা চটজলদি পা বাড়াচ্ছেন শাসক বা বিরোধী দলের দিকে। পুজোর মঞ্চে তড়িৎ গতিতে এগিয়ে চলেছে দলবদল। রামনবমী কিংবা গণেশপুজোর অতিবিজ্ঞাপন তো পুরোটাই যেন এক লড়াই।
সেই পথেই সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের শারদীয় উৎসবও অনেকটা দখল হয়ে যাচ্ছে। আসলে প্রগতিশীলতার প্রেক্ষাপটে উদারনীতিতে বিশ্বাসী বাঙালি হিন্দু আপস করেছে তার সনাতন ধর্মাচরণের সঙ্গে। এর একটা কারণ বামফ্রন্টের তিন দশকাধিক রাজত্ব। আর সেই পথেই ঢুকে পড়েছেন কৌশলী রাজনীতির কারবারিরা। তাঁরা পুজোকে বদলে দিচ্ছেন নিজেদের মতো করে। প্রতিযোগিতামূলক ধর্মাচরণে শারদীয় উৎসব যেন অনেকটাই রাজনীতির পণ্য। অর্থাৎ পুজোয় যে ব্যবসা তা শুধু অর্থনীতির নয়, রাজনীতিরও।
তবে মা আছেন। সামনের বছর মহালয়ার সময় থেকে পুজোর উদ্বোধন রুখে দিলেন তিনিই। ২০২০-তে মহালয়ার দিন ১৭সেপ্টেম্বর। দুটি অমাবস্যার কারণে আগামী বছর আশ্বিন মল মাস। পুজো তাই পিছিয়ে কার্তিকে, অক্টোবরের ২২ তারিখ ষষ্ঠী। এমনটাই বলছে গুপ্তপ্রেস এবং বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত। এমন ঘটনা এর আগে ঘটেছে ১৯৮২ সালে, বামফ্রন্ট সরকার দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার বছরে। যা বোঝা যাচ্ছে, রাজনীতির আগ্রাসন রুখতে পারেন একমাত্র আমাদের আরাধ্য দেবীই। এবারের বিজয়ার প্রীতি ও শুভেচ্ছায় তাই রাজনীতির হাত থেকে নিজেদের সনাতন ধর্মকে বাঁচিয়ে রাখার স্লোগান তুলুক জাত্যভিমান হারিয়ে ফেলা হিন্দু বাঙালি। তবে, অন্যদিকটা ভাবলে গা শিউরে উঠছে। পরের বছর রাজনীতির দড়ি টানাটানিতে মহালয়া থেকে শুরু হয়ে মায়ের পুজো দেড় মাস ধরে চলবে না তো?
 লেখক ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত 
12th  October, 2019
ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে কি শেষে
হার মানবে করোনা বিরোধী লড়াই?
হিমাংশু সিংহ

 এই ভয়ঙ্কর মহামারীর দিনে দিল্লির নিজামুদ্দিনে লকডাউন ভেঙে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের জমায়েত থেকে মানবসভ্যতার কী লাভ হল? কিংবা গত বৃহস্পতিবার বালুরঘাটে রামনবমীর ভিড়ে ঠাসা মেলায়? সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের রামমন্দিরের সামনে মানুষের লম্বা লাইনে?
বিশদ

আত্মঘাতী খেলা
তন্ময় মল্লিক

লড়াইটা আমরা কি ক্রমশই কঠিন করে ফেলছি। লকডাউন ঘোষণার পর সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই লড়াইকে হাল্কা চালে নেওয়ার প্রবণতা স্পষ্ট। আর সেটা এই মুহূর্তে রুখে দিতে না পারলে সর্বনাশ অনিবার্য। ইতালি, আমেরিকা, স্পেনের রিপ্লে দেখতে হবে ভারতেও। প্রথমদিকে লকডাউন মানার যে মানসিক দৃঢ়তা আমরা দেখাতে পেরেছিলাম, দিন দিন তা শিথিল হচ্ছে।
বিশদ

04th  April, 2020
হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

03rd  April, 2020
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

29th  March, 2020
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: করোনায় মৃতদের দেহ দাহ করা হবে স্থানীয় শ্মশানে, এই আশঙ্কায় শ্মশানঘাটের চারদিকের রাস্তা আটকে ঘণ্টা দুয়েক বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে অবরোধ উঠে যায়।   ...

  লন্ডন, ৪ এপ্রিল: অবশেষে বরফ গললো। বেতন কাটা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ইয়ন মরগ্যান, বেন স্টোকসদের লড়াই চলছিল। ইসিবি চাইছিল, করোনা মোকাবিলায় ক্রিকেটারদের বেতনের কুড়ি শতাংশ অর্থ কমিয়ে দিয়ে। ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়েছিল। সেটিকে অবশ্য সরকারি মহল থেকেই ‘ভুয়ো’ বলা হয়েছে। ওই ভিডিওতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব করোনা তাড়ানোর জন্য কয়েকজন সাধুর সঙ্গে নাচ-গান করছেন বলে দেখানো হয়। ...

বিএনএ, তমলুক: লকডাউনের মধ্যেই শুক্রবার রাতে চণ্ডীপুর থানার হাঁসচড়ায় একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ভল্ট খুলে ৩৪লক্ষ টাকা চুরি করে দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়। চাবি ব্যাঙ্কে থাকায় দুষ্কৃতীদের ভল্ট ভাঙতে হয়নি।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীরা পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অতিরিক্ত চিন্তার জন্য উচ্চ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০৮- রাজনীতিক জগজীবন রামের জন্ম
১৯১৬- মার্কিন অভিনেতা গ্রেগরি পেকের জন্ম
১৯৩২ - বিশিষ্ট বাঙালী সাহিত্যিক প্রভাতকুমার মুখাপাধ্যায়ের মত্যু
১৯৫৭- কেরলে প্রথম ক্ষমতায় এলেন কমিউনিস্টরা
১৯৯৩- বলিউডের অভিনেত্রী দিব্যা ভারতীর মৃত্যু
২০০০- রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
২০০৭- সাহিত্যিক লীলা মজুমদারের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.২৪ টাকা ৭৬.৯৬ টাকা
পাউন্ড ৯২.৫১ টাকা ৯৫.৮২ টাকা
ইউরো ৮১.০৩ টাকা ৮৪.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
04th  April, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

২২ চৈত্র ১৪২৬, ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) দ্বাদশী ৩৪/৫০ রাত্রি ৭/২৫। মঘা ২৩/৪০ দিবা ২/৫৭। সূ উ ৫/২৯/১৫, অ ৫/৪৯/৩৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৮ গতে ৯/৩৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/৭ গতে ১/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ১/৬ গতে ২/৩৪ মধ্যে।
২২ চৈত্র ১৪২৬, ৫ এপ্রিল ২০২০, রবিবার, দ্বাদশী ২৫/৩১/০ দিবা ৩/৪৩/১২। মঘা ১৪/৫০/৩৮ দিবা ১১/২৭/৩। সূ উ ৫/৩০/৪৮, অ ৫/৫০/৫। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫ মধ্যে ও ১২/৫২ গতে ১/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২২ গতে ৮/৫৬ মধ্যে। বারবেলা ১০/৮/২ গতে ১১/৪০/২৭ মধ্যে, কালবেলা ১১/৪০/২৭ গতে ১/১২/৫১ মধ্যে।
 ১১ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভূমিকম্প অনুভুত অসমে 
বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কের মাঝে এবার ভূমিকম্প অনুভুত হল অসমে। রিখটার ...বিশদ

11:39:32 PM

নিরোর কথা শুনেছিলাম, প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম, ট্যুইট ফিরহাদ হাকিমের 
প্রধানমন্ত্রীর ডাকে রবিবার রাত ন’টার সময় ন’মিনিট ঘরের আলো জ্বালিয়ে ...বিশদ

10:04:34 PM

৯ মিনিটের ‘লাইট আউট’-এর জন্য বিদ্যুৎ গ্রিডে কোনও প্রভাব পড়েনি: কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী আর কে সিং 

09:45:20 PM

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪১১১, মৃত ১২৬: পিটিআই 

09:20:30 PM

করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করুন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বার্তা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকারের 

09:18:00 PM

করোনা: উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৪
উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ...বিশদ

08:33:36 PM