Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এক কাপ চায়ে 
অতনু বিশ্বাস

এক কাপ চা, কত গল্প বলে সকাল, বিকেল, সন্ধে বেলা...।
এ গানের লিরিকের মতোই চা নিয়ে এবং চায়ের টেবিলে গল্পেরও কোনও শেষ নেই। এক কাপ চায়ে আমেজ আছে নিশ্চয়ই। দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও। কিন্তু সেই সঙ্গে আছে বিষও। প্লাস্টিকের বিষ। আমেজটা বেশি, নাকি বিষের পরিমাণটা, সে নিয়ে তর্কও চলতে পারে বিন্দাস। এবং আমার মত চা-প্রিয় লোক যে খবরটা শুনে আঁতকে উঠবে, সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই বিষয়টা একটু তলিয়ে দেখতেই হল।
এখানে অবশ্য টি-ব্যাগের সাহায্যে তৈরি করা চায়ের কথাই বলা হচ্ছে। হোটেলে রেস্তরাঁয়, অধিকাংশ টি শপ আর কফি শপে চা তৈরি করা হয় এভাবেই। আজকাল অনেক পাড়ার চায়ের দোকানেও চা তৈরি হয় টি-ব্যাগ গরম জল বা দুধে ডুবিয়ে। এমনকী অনেক বাড়িতেও আজ তা একেবারেই স্বাভাবিক সাধারণ এক ঝঞ্ঝাট-বিহীন প্রকরণ। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, একটু ভালো টি-ব্যাগ তৈরি করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাইলন বা প্লাস্টিকের ব্যবহার করা হয়েছে। খুব বেশিদিনের কথা নয়, খুঁজে-পেতে দেখছি, মাত্র ১৩ বছর আগে, ২০০৬ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস্‌-এর এক আর্টিকেলে নাইলনের টি-ব্যাগকে বর্ণনা করা হয়েছে ‘‘বড় মাপের পুনরাবিষ্কার’’ হিসেবে। লেখিকার মতে, চা পানের ক্ষেত্রে নাইলনের টি-ব্যাগ নাকি এনেছে এক বিপ্লব। এ এক ছিমছাম চা তৈরির পদ্ধতি। পড়ে থাকা চা-পাতা পরিষ্কারের কোনও ঝঞ্ঝাট নেই।
আজ কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, এই টি-ব্যাগ বস্তুটা মোটের উপর যেমন নিরীহ বলে মনে হয়, সে রকম নয় একেবারেই। এক কাপ চায়ের মধ্যে যে কতটা বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে, তা ঠিকঠাক ভাবাই যায় নি তখন। রোম্যান্স আর নস্টালজিয়ার মায়ামেদুর আলো-আঁধারি থেকে বাস্তবের শান-বাঁধানো সিঁড়িতে এনে ফেলে চায়ের এক নতুন কিস্‌সা শুনিয়েছেন এক কানাডিয়ান অধ্যাপক, যে গল্প এতদিন বলেন নি কেউ। ওই যে বললাম, অধিকাংশ টি-ব্যাগ তৈরিতেই ব্যবহার করা হয় খানিকটা প্লাস্টিক। বিপদটা সেখান থেকেই। কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরের ম্যাক্‌গিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর এক অধ্যাপকের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র একটা টি-ব্যাগ থেকে এক কাপ চায়ে মিশে যায় কোটি কোটি অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিকের টুকরো। সঠিক ভাবে বললে সংখ্যাটা অবিশ্বাস্য শোনাবে। ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার জলে চা তৈরি করলে একটি টি-ব্যাগ থেকে মেশে ১১৬০ কোটি মাইক্রোপ্লাস্টিক, আর সেই সঙ্গে ৩১০ কোটি আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিকের টুকরো! মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যাস ৫ মিলিমিটারের কম। আর তা ১০০০ ন্যানোমিটারের কম হলে তাকে বলে ন্যানোপ্লাস্টিক। যাই হোক, প্রতি কাপ চায়ে মিশে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের টুকরোর মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ১৬ মাইক্রোগ্রাম। এগুলি মোটামুটি নাইলন এবং পেট (পলি-ইথিলিন টেরেফথালেট)-এর টুকরো। এই ন্যানোপ্লাস্টিকের টুকরোগুলো আবার মোটামুটি একটি চুলের ১৫০ ভাগের একভাগ পুরু, যার ব্যাস ১৫০ মাইক্রোমিটারের কম, এবং মানবদেহের অভ্যন্তরে যা হয়তো ঢুকে যেতে পারে মানুষের টিস্যু, এমনকী কোষের মধ্যেও।
চায়ের কাপে প্লাস্টিকের টুকরোর পরিমাণ কিন্তু অন্য খাদ্যে পাওয়া প্লাস্টিকের টুকরোর চাইতে অনেক বেশি। যেমন, গত বছরই নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষকের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, পৃথিবীর সব বোতলজাত জলের ৯০ শতাংশেই হয় মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ। একবার ব্যবহার-যোগ্য প্লাস্টিকের বোতলের এক লিটার জলে থাকে কোথাও ৪৪টি, কোথাও ৩২৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিকের টুকরো। সমুদ্রের গভীরে প্লাস্টিক পৌঁছে গেছে চিংড়ি, মাছ, ঝিনুকের মধ্যে। একটা ঝিনুকের মধ্যে থাকে ৯০টি প্লাস্টিকের টুকরো। এমনকী এক কিলোগ্রাম নুনের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে ৬০০টি, যার সম্মিলিত ওজন এক মাইক্রোগ্রামের অর্ধেক। আবার আমাদের খাবারে যে ধুলোকণা পড়ে, তা থেকেও বছরে ৭০ হাজার প্লাস্টিকের টুকরো ঢোকে আমাদের শরীরে। কিন্তু এই সমস্ত হিসেবকে যেন ছাপিয়ে উঠেছে আমাদের বড় আমেজের ধোঁয়া-ওঠা এক কাপ চা।
আসলে প্লাস্টিক বোধহয় মানুষের এক বিষাক্ত প্রেম-কথা। প্লাস্টিক আমাদের সভ্যতার মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি, আর তার ফলশ্রুতিতে এক ভয়াবহ দূষণের সম্মিলিত গল্প। আমাদের প্লাস্টিক-প্রিয়তা এবং প্লাস্টিক-নির্ভরতার একটা চমৎকার দৃষ্টান্ত হতে পারে ব্রিটিশ যুবক ড্যানিয়েল ওয়েব-এর কীর্তি। ২০১৭-র প্রথম দিনে সমুদ্রের জলে ভেসে আসা পুরনো খেলনা, প্লাস্টিকের বোতল, এইসব বর্জ্য-পদার্থ দেখে এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করে ড্যানিয়েল। গোটা বছরে সে তার প্লাস্টিকের বর্জ্যগুলিকে জমিয়ে রাখে, যা বছর শেষে হয় ২২টি ৮০ লিটারের গারবেজ ব্যাগ! এই এক বছরের প্লাস্টিক-আবর্জনা দিয়ে আর্ট এক্সিবিশনই করে ফেলল ড্যানিয়েল। নাম ‘এভ্‌রিডে প্লাস্টিক’। সে এক দেখার মত অভিনব প্রদর্শনী। ১৩ মিটার লম্বা রঙচঙে ছবি তৈরি করা হয়েছে ৪,৪৯০ টুকরো প্লাস্টিক দিয়ে, যাতে রয়েছে ওষুধের পাতা, চিপ্‌঩সের প্যাকেট, বোতলের ছিপি, চকলেটের র‌্যাপার, কী নয়। আমাদের প্লাস্টিক-নির্ভরতাকে একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো।
এই সমস্ত প্লাস্টিকের ছোট্ট ছোট্ট কণা কিন্তু খাবার, পানীয়, নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের শরীরের একদম গভীরে। আজ প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ে আমরা ভেবে চলেছি-- আলোচনা করে চলেছি সভায়, সমিতিতে, সংবাদপত্রে, টিভিতে। কিন্তু ঠিক এতটা আমরা আদৌ এতদিন বুঝে উঠতে পেরেছি কিনা সন্দেহ। আমাদের শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা জমে জমে বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে শরীরের বিভিন্ন অঞ্চল।‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক স্টাডিতে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর আমাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢোকে ৩৯ থেকে ৫২ হাজার। নিশ্বাসের প্লাস্টিক ধরলে সংখ্যাটা ৭৪ হাজারের বেশি। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, আজকের পৃথিবীর মানুষরা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫ গ্রাম মাইক্রোস্কোপিক প্লাস্টিকের কণা খেয়ে চলে, যার ওজন মোটামুটি একটা ক্রেডিট কার্ডের ওজনের সমতুল্য। বছর জুড়ে এর সম্মিলিত পরিমাণ প্রায় ২৬০ গ্রাম। আমরা কি কখনও ভেবেছি, এতটা পরিমাণ প্লাস্টিক ঢুকছে আমাদের প্রত্যেকের শরীরে?
স্বাস্থ্যের উপর এই প্লাস্টিকের কী প্রভাব তার ঠিকঠাক মূল্যায়ন অবশ্য হয় নি এখনও। তবে অনুমান করা কঠিন নয় যে, স্বাস্থ্যে এর প্রভাব খুব একটা সুবিধার নয়। এই প্লাস্টিক গণ্ডগোল করে দিতে পারে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে, ঘটাতে পারে নানা অসুখ-বিসুখ।
কিন্তু তাই বলে আমরা প্লাস্টিক-শূন্য খাবার খেয়ে যাব বা খেতে পারব, এটা কি একেবারেই সম্ভব আজকের পৃথিবীতে? খুব সম্ভবত, না। আবার সেই সঙ্গে আমাদের নিঃশ্বাসের মধ্য দিয়েও শরীরে ঢুকবে প্লাস্টিকের বিষ। কোনও মুক্তি নেই আমাদের। এ বিষ আমাদেরই সৃষ্টি। শুরুতে তা হয়তো হয়েছিল না জেনেই, মানুষের জীবনযাত্রায় সুবিধা আনার জন্য বিজ্ঞানের সৃজন। কিন্তু এখন তো আমরা জেনেছি লয়-ক্ষয়-হীন প্রায়-অমর এই প্লাস্টিকের চরিত্র। তবু তার উৎপাদন, তার ব্যবহারে কোনও কমতি নেই। জেনেশুনে বিষ বানিয়ে তুলছি আমরা। বাড়িয়েও তুলছি। জেনেশুনেই খেলছি বিষ নিয়ে। সেই প্রবল হলাহল ছড়িয়ে পড়ছে সভ্যতার কোনায় কোনায়। জলে, স্থলে, বাতাসে। সমতলে, পাহাড়ে, সমুদ্রের অতলে।
তা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে সভ্যতাকে। এবং সেই সঙ্গে তা ছাড় দিতে নারাজ আমাদের শরীরকেও। প্রতি বছর গড়ে ৪৮ থেকে ১২৭ কোটি মেট্রিক টন প্লাস্টিক মিশে যাচ্ছে মহাসাগরের জলে। সমুদ্রের প্রাণীদের খাবারের সঙ্গে তাদের শরীরে ঢুকছে এই প্লাস্টিক। এমনকী প্লাঙ্কটনের মতো ক্ষুদ্র জীবকেও জড়িয়ে ফেলতে পারে, বা তাদের হজমের পদ্ধতিতেও জড়িয়ে যেতে পারে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক। মাছ, পাইলট তিমি বা ডলফিনের মত সামুদ্রিক প্রাণীর পেটে পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক। সামুদ্রিক পাখি খাবার ভেবে খেয়ে ফেলছে প্লাস্টিকের টুকরো। তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভয়াবহ ক্ষতি হয়ে চলেছে এর ফলে। সার্বিকভাবে প্লাস্টিক যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে আমাদের বাস্তুতন্ত্রকে। এ আমাদের অবশ্যম্ভাবী ভবিতব্য। আপাতত এর থেকে মুক্তি নেই আমাদের। বড়জোর আমরা সচেতনতা বাড়িয়ে কমিয়ে ফেলতে পারি আমাদের প্লাস্টিক খাবার পরিমাণটা।
কল্পনার সুপারহিরো প্লাস্টিক-ম্যানের কথা এ প্রসঙ্গে মনে পড়তে পারে আমাদের। সুপারম্যান কিংবা ব্যাটম্যানের মত জনপ্রিয় না হলেও প্লাস্টিক-ম্যানের গল্প কিন্তু প্রথম হিউমারকে মিশিয়ে দিতে পেরেছিল অ্যাকশনের সাথে। এ গল্পে প্লাস্টিক-ম্যান তার শক্তি পেয়েছিল এক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে। তাকে স্নান করানো হয় এক অজানা শিল্প রাসায়নিক মিশ্রণে, বন্দুকের জখমের মাধ্যমে যে মিশ্রণ ঢুকেছিল তার রক্ত-প্রবাহে। ফলশ্রুতিতে এক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় রূপান্তর ঘটেছিল তার। শরীরটাকে ভেঙেচুরে প্রায় যা-খুশি করতে পারত প্লাস্টিক-ম্যান। আজ শরীরের অভ্যন্তরে প্লাস্টিকের বিষ বয়ে নিয়ে চলে আমরাও কিন্তু হয়ে উঠছি এক একজন প্লাস্টিক-মানুষ। তবে প্লাস্টিক-দানবের এই আক্রমণে পরাজিত, বিধ্বস্ত আমরা সুপারহিরো হতে পারছি না একেবারেই। উল্টে শরীরে প্লাস্টিক ঢুকে ঢুকে আমরা ক্রমে পৌঁছে যাচ্ছি এক অচেনা বিপদের জগতে। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের গহ্বরে।
আপাতত চা আর তার মধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা নিয়ে দেশ-বিদেশের চা-রসিকের আড্ডায় ‘‘টেবিলেতে তুফান ওঠে চা-পেয়ালার তলে,/ বিষম লেগে শৌখিনদের চোখ ভেসে যায় জলে।’’
 ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত 
10th  October, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ : যে আমবাগান থেকে দিন তিনেক আগে উদ্ধার করা হয়েছে দগ্ধ মহিলার দেহ, তার এক প্রান্তে রয়েছে আড়াপুর জোত টিপাজানি আহ্লাদমণি ঘোষ ...

প্রসেনজিৎ কোলে, কলকাতা: এক সপ্তাহের মাথায় দেশজুড়ে টোলপ্লাজাগুলিতে কেবলমাত্র একটি করে লেনে ছাড় দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হতে যাচ্ছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল সংগ্রহের ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা চালু করতে গেলে গাড়িতে থাকতেই হবে ফাস্ট্যাগ।  ...

হায়দরাবাদ, ৮ ডিসেম্বর (পিটিআই): তেলেঙ্গানায় পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারায় অভিযুক্ত চারজনের পুলিসি এনকাউন্টার নিয়ে রবিবারও পুরোদস্তর তদন্তের প্রক্রিয়া চালাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। শনিবার থেকে এই তদন্ত শুরু হয়েছে।  ...

নয়াদিল্লি, ৮ ডিসেম্বর: চলতি বছরের নভেম্বর মাসে গাড়ির উৎপাদন ৪.৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি করল মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া (এমএসআই)। বাজারে চাহিদা না থাকায় টানা ন’মাস ধরে গাড়ির উৎপাদন কমিয়ে এনেছিল সংস্থাটি। মারুতি সুজুকি ইন্ডিয়া তরফে জানানো হয়েছে, নভেম্বর মাসে ১ লক্ষ ৪১ ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

মাঝে মধ্যে মানসিক উদ্বেগের জন্য শিক্ষায় অমনোযোগী হয়ে পড়বে। গবেষণায় আগ্রহ বাড়বে। কর্মপ্রার্থীদের নানা সুযো ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৪৮৩: অন্ধকবি সুরদাসের জন্ম
১৮৯৮: বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠিত হল
১৬০৮: ইংরেজ কবি জন মিলটনের জন্ম
১৯৪৬: কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর জন্ম
১৯৪৬: অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহার জন্ম
২০১১: আমরি হাসপাতালে আগুন 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
08th  December, 2019

দিন পঞ্জিকা

২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৯/২৩ দিবা ৯/৫৪। ভরণী ৫৭/৯ শেষ রাত্রি ৫/০। সূ উ ৬/৮/৫৩, অ ৪/৪৮/২৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৮/৫৮ গতে ১১/৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ১১/২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে ৩/৩০ মধ্যে, বারবেলা ৭/২৭ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ২/৮ গতে ৩/২৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৮ গতে ১১/২৮ মধ্যে। 
২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার, দ্বাদশী ৭/১০/১১ দিবা ৯/২/২২। ভরণী ৫৭/৩১/১০ শেষরাত্রি ৫/১০/২৬, সূ উ ৬/১০/১৮, অ ৪/৪৯/১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৯ মধ্যে ও ৯/৪ গতে ১১/১১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩১ গতে ১১/৫ মধ্যে ও ২/৪০ গতে ৩/৩৪ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩০/৮ গতে ৮/৪৯/৫৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৯/৪৯/৩০ গতে ১১/২৯/৪০ মধ্যে।
১১ রবিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় দিল্লিতে গ্রেপ্তার রোমান নাগরিক 

06:22:00 PM

ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে জেএনইউ পড়ুয়াদের মিছিলে লাঠিচার্জ করল পুলিস 

04:29:13 PM

ডোপিংয়ের অভিযোগে ওলিম্পিক থেকে চার বছরের জন্য নির্বাসিত রাশিয়া 

04:12:10 PM

কর্ণাটক বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেসের হার, পরিষদীয় দলনেতার পদ থেকে পদত্যাগ সিদ্দারামাইয়ার

03:56:19 PM

৪২ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

03:50:07 PM

পানিপথ: জয়পুরে সিনেমা হলে ভাঙচুর 
হিন্দি ছবি পানিপথে মহারাজ সূরজমলের চরিত্র বিকৃত করা হয়েছে, এই ...বিশদ

03:32:17 PM