Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এক কাপ চায়ে 
অতনু বিশ্বাস

এক কাপ চা, কত গল্প বলে সকাল, বিকেল, সন্ধে বেলা...।
এ গানের লিরিকের মতোই চা নিয়ে এবং চায়ের টেবিলে গল্পেরও কোনও শেষ নেই। এক কাপ চায়ে আমেজ আছে নিশ্চয়ই। দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও। কিন্তু সেই সঙ্গে আছে বিষও। প্লাস্টিকের বিষ। আমেজটা বেশি, নাকি বিষের পরিমাণটা, সে নিয়ে তর্কও চলতে পারে বিন্দাস। এবং আমার মত চা-প্রিয় লোক যে খবরটা শুনে আঁতকে উঠবে, সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই বিষয়টা একটু তলিয়ে দেখতেই হল।
এখানে অবশ্য টি-ব্যাগের সাহায্যে তৈরি করা চায়ের কথাই বলা হচ্ছে। হোটেলে রেস্তরাঁয়, অধিকাংশ টি শপ আর কফি শপে চা তৈরি করা হয় এভাবেই। আজকাল অনেক পাড়ার চায়ের দোকানেও চা তৈরি হয় টি-ব্যাগ গরম জল বা দুধে ডুবিয়ে। এমনকী অনেক বাড়িতেও আজ তা একেবারেই স্বাভাবিক সাধারণ এক ঝঞ্ঝাট-বিহীন প্রকরণ। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, একটু ভালো টি-ব্যাগ তৈরি করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাইলন বা প্লাস্টিকের ব্যবহার করা হয়েছে। খুব বেশিদিনের কথা নয়, খুঁজে-পেতে দেখছি, মাত্র ১৩ বছর আগে, ২০০৬ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস্‌-এর এক আর্টিকেলে নাইলনের টি-ব্যাগকে বর্ণনা করা হয়েছে ‘‘বড় মাপের পুনরাবিষ্কার’’ হিসেবে। লেখিকার মতে, চা পানের ক্ষেত্রে নাইলনের টি-ব্যাগ নাকি এনেছে এক বিপ্লব। এ এক ছিমছাম চা তৈরির পদ্ধতি। পড়ে থাকা চা-পাতা পরিষ্কারের কোনও ঝঞ্ঝাট নেই।
আজ কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, এই টি-ব্যাগ বস্তুটা মোটের উপর যেমন নিরীহ বলে মনে হয়, সে রকম নয় একেবারেই। এক কাপ চায়ের মধ্যে যে কতটা বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে, তা ঠিকঠাক ভাবাই যায় নি তখন। রোম্যান্স আর নস্টালজিয়ার মায়ামেদুর আলো-আঁধারি থেকে বাস্তবের শান-বাঁধানো সিঁড়িতে এনে ফেলে চায়ের এক নতুন কিস্‌সা শুনিয়েছেন এক কানাডিয়ান অধ্যাপক, যে গল্প এতদিন বলেন নি কেউ। ওই যে বললাম, অধিকাংশ টি-ব্যাগ তৈরিতেই ব্যবহার করা হয় খানিকটা প্লাস্টিক। বিপদটা সেখান থেকেই। কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরের ম্যাক্‌গিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর এক অধ্যাপকের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র একটা টি-ব্যাগ থেকে এক কাপ চায়ে মিশে যায় কোটি কোটি অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিকের টুকরো। সঠিক ভাবে বললে সংখ্যাটা অবিশ্বাস্য শোনাবে। ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার জলে চা তৈরি করলে একটি টি-ব্যাগ থেকে মেশে ১১৬০ কোটি মাইক্রোপ্লাস্টিক, আর সেই সঙ্গে ৩১০ কোটি আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিকের টুকরো! মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যাস ৫ মিলিমিটারের কম। আর তা ১০০০ ন্যানোমিটারের কম হলে তাকে বলে ন্যানোপ্লাস্টিক। যাই হোক, প্রতি কাপ চায়ে মিশে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের টুকরোর মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ১৬ মাইক্রোগ্রাম। এগুলি মোটামুটি নাইলন এবং পেট (পলি-ইথিলিন টেরেফথালেট)-এর টুকরো। এই ন্যানোপ্লাস্টিকের টুকরোগুলো আবার মোটামুটি একটি চুলের ১৫০ ভাগের একভাগ পুরু, যার ব্যাস ১৫০ মাইক্রোমিটারের কম, এবং মানবদেহের অভ্যন্তরে যা হয়তো ঢুকে যেতে পারে মানুষের টিস্যু, এমনকী কোষের মধ্যেও।
চায়ের কাপে প্লাস্টিকের টুকরোর পরিমাণ কিন্তু অন্য খাদ্যে পাওয়া প্লাস্টিকের টুকরোর চাইতে অনেক বেশি। যেমন, গত বছরই নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষকের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, পৃথিবীর সব বোতলজাত জলের ৯০ শতাংশেই হয় মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ। একবার ব্যবহার-যোগ্য প্লাস্টিকের বোতলের এক লিটার জলে থাকে কোথাও ৪৪টি, কোথাও ৩২৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিকের টুকরো। সমুদ্রের গভীরে প্লাস্টিক পৌঁছে গেছে চিংড়ি, মাছ, ঝিনুকের মধ্যে। একটা ঝিনুকের মধ্যে থাকে ৯০টি প্লাস্টিকের টুকরো। এমনকী এক কিলোগ্রাম নুনের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে ৬০০টি, যার সম্মিলিত ওজন এক মাইক্রোগ্রামের অর্ধেক। আবার আমাদের খাবারে যে ধুলোকণা পড়ে, তা থেকেও বছরে ৭০ হাজার প্লাস্টিকের টুকরো ঢোকে আমাদের শরীরে। কিন্তু এই সমস্ত হিসেবকে যেন ছাপিয়ে উঠেছে আমাদের বড় আমেজের ধোঁয়া-ওঠা এক কাপ চা।
আসলে প্লাস্টিক বোধহয় মানুষের এক বিষাক্ত প্রেম-কথা। প্লাস্টিক আমাদের সভ্যতার মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি, আর তার ফলশ্রুতিতে এক ভয়াবহ দূষণের সম্মিলিত গল্প। আমাদের প্লাস্টিক-প্রিয়তা এবং প্লাস্টিক-নির্ভরতার একটা চমৎকার দৃষ্টান্ত হতে পারে ব্রিটিশ যুবক ড্যানিয়েল ওয়েব-এর কীর্তি। ২০১৭-র প্রথম দিনে সমুদ্রের জলে ভেসে আসা পুরনো খেলনা, প্লাস্টিকের বোতল, এইসব বর্জ্য-পদার্থ দেখে এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করে ড্যানিয়েল। গোটা বছরে সে তার প্লাস্টিকের বর্জ্যগুলিকে জমিয়ে রাখে, যা বছর শেষে হয় ২২টি ৮০ লিটারের গারবেজ ব্যাগ! এই এক বছরের প্লাস্টিক-আবর্জনা দিয়ে আর্ট এক্সিবিশনই করে ফেলল ড্যানিয়েল। নাম ‘এভ্‌রিডে প্লাস্টিক’। সে এক দেখার মত অভিনব প্রদর্শনী। ১৩ মিটার লম্বা রঙচঙে ছবি তৈরি করা হয়েছে ৪,৪৯০ টুকরো প্লাস্টিক দিয়ে, যাতে রয়েছে ওষুধের পাতা, চিপ্‌঩সের প্যাকেট, বোতলের ছিপি, চকলেটের র‌্যাপার, কী নয়। আমাদের প্লাস্টিক-নির্ভরতাকে একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো।
এই সমস্ত প্লাস্টিকের ছোট্ট ছোট্ট কণা কিন্তু খাবার, পানীয়, নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের শরীরের একদম গভীরে। আজ প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ে আমরা ভেবে চলেছি-- আলোচনা করে চলেছি সভায়, সমিতিতে, সংবাদপত্রে, টিভিতে। কিন্তু ঠিক এতটা আমরা আদৌ এতদিন বুঝে উঠতে পেরেছি কিনা সন্দেহ। আমাদের শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা জমে জমে বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে শরীরের বিভিন্ন অঞ্চল।‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক স্টাডিতে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর আমাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢোকে ৩৯ থেকে ৫২ হাজার। নিশ্বাসের প্লাস্টিক ধরলে সংখ্যাটা ৭৪ হাজারের বেশি। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, আজকের পৃথিবীর মানুষরা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫ গ্রাম মাইক্রোস্কোপিক প্লাস্টিকের কণা খেয়ে চলে, যার ওজন মোটামুটি একটা ক্রেডিট কার্ডের ওজনের সমতুল্য। বছর জুড়ে এর সম্মিলিত পরিমাণ প্রায় ২৬০ গ্রাম। আমরা কি কখনও ভেবেছি, এতটা পরিমাণ প্লাস্টিক ঢুকছে আমাদের প্রত্যেকের শরীরে?
স্বাস্থ্যের উপর এই প্লাস্টিকের কী প্রভাব তার ঠিকঠাক মূল্যায়ন অবশ্য হয় নি এখনও। তবে অনুমান করা কঠিন নয় যে, স্বাস্থ্যে এর প্রভাব খুব একটা সুবিধার নয়। এই প্লাস্টিক গণ্ডগোল করে দিতে পারে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে, ঘটাতে পারে নানা অসুখ-বিসুখ।
কিন্তু তাই বলে আমরা প্লাস্টিক-শূন্য খাবার খেয়ে যাব বা খেতে পারব, এটা কি একেবারেই সম্ভব আজকের পৃথিবীতে? খুব সম্ভবত, না। আবার সেই সঙ্গে আমাদের নিঃশ্বাসের মধ্য দিয়েও শরীরে ঢুকবে প্লাস্টিকের বিষ। কোনও মুক্তি নেই আমাদের। এ বিষ আমাদেরই সৃষ্টি। শুরুতে তা হয়তো হয়েছিল না জেনেই, মানুষের জীবনযাত্রায় সুবিধা আনার জন্য বিজ্ঞানের সৃজন। কিন্তু এখন তো আমরা জেনেছি লয়-ক্ষয়-হীন প্রায়-অমর এই প্লাস্টিকের চরিত্র। তবু তার উৎপাদন, তার ব্যবহারে কোনও কমতি নেই। জেনেশুনে বিষ বানিয়ে তুলছি আমরা। বাড়িয়েও তুলছি। জেনেশুনেই খেলছি বিষ নিয়ে। সেই প্রবল হলাহল ছড়িয়ে পড়ছে সভ্যতার কোনায় কোনায়। জলে, স্থলে, বাতাসে। সমতলে, পাহাড়ে, সমুদ্রের অতলে।
তা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে সভ্যতাকে। এবং সেই সঙ্গে তা ছাড় দিতে নারাজ আমাদের শরীরকেও। প্রতি বছর গড়ে ৪৮ থেকে ১২৭ কোটি মেট্রিক টন প্লাস্টিক মিশে যাচ্ছে মহাসাগরের জলে। সমুদ্রের প্রাণীদের খাবারের সঙ্গে তাদের শরীরে ঢুকছে এই প্লাস্টিক। এমনকী প্লাঙ্কটনের মতো ক্ষুদ্র জীবকেও জড়িয়ে ফেলতে পারে, বা তাদের হজমের পদ্ধতিতেও জড়িয়ে যেতে পারে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক। মাছ, পাইলট তিমি বা ডলফিনের মত সামুদ্রিক প্রাণীর পেটে পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক। সামুদ্রিক পাখি খাবার ভেবে খেয়ে ফেলছে প্লাস্টিকের টুকরো। তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভয়াবহ ক্ষতি হয়ে চলেছে এর ফলে। সার্বিকভাবে প্লাস্টিক যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে আমাদের বাস্তুতন্ত্রকে। এ আমাদের অবশ্যম্ভাবী ভবিতব্য। আপাতত এর থেকে মুক্তি নেই আমাদের। বড়জোর আমরা সচেতনতা বাড়িয়ে কমিয়ে ফেলতে পারি আমাদের প্লাস্টিক খাবার পরিমাণটা।
কল্পনার সুপারহিরো প্লাস্টিক-ম্যানের কথা এ প্রসঙ্গে মনে পড়তে পারে আমাদের। সুপারম্যান কিংবা ব্যাটম্যানের মত জনপ্রিয় না হলেও প্লাস্টিক-ম্যানের গল্প কিন্তু প্রথম হিউমারকে মিশিয়ে দিতে পেরেছিল অ্যাকশনের সাথে। এ গল্পে প্লাস্টিক-ম্যান তার শক্তি পেয়েছিল এক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে। তাকে স্নান করানো হয় এক অজানা শিল্প রাসায়নিক মিশ্রণে, বন্দুকের জখমের মাধ্যমে যে মিশ্রণ ঢুকেছিল তার রক্ত-প্রবাহে। ফলশ্রুতিতে এক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় রূপান্তর ঘটেছিল তার। শরীরটাকে ভেঙেচুরে প্রায় যা-খুশি করতে পারত প্লাস্টিক-ম্যান। আজ শরীরের অভ্যন্তরে প্লাস্টিকের বিষ বয়ে নিয়ে চলে আমরাও কিন্তু হয়ে উঠছি এক একজন প্লাস্টিক-মানুষ। তবে প্লাস্টিক-দানবের এই আক্রমণে পরাজিত, বিধ্বস্ত আমরা সুপারহিরো হতে পারছি না একেবারেই। উল্টে শরীরে প্লাস্টিক ঢুকে ঢুকে আমরা ক্রমে পৌঁছে যাচ্ছি এক অচেনা বিপদের জগতে। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের গহ্বরে।
আপাতত চা আর তার মধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা নিয়ে দেশ-বিদেশের চা-রসিকের আড্ডায় ‘‘টেবিলেতে তুফান ওঠে চা-পেয়ালার তলে,/ বিষম লেগে শৌখিনদের চোখ ভেসে যায় জলে।’’
 ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত 
10th  October, 2019
১২৫ বছরে স্বামী প্রণবানন্দজি মহারাজ 
অয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়

স্বামী প্রণবানন্দজি অবিভক্ত ভারতবর্ষের পূর্ববঙ্গের ফরিদপুর জেলার মাদারিপুর মহকুমার অন্তর্গত বাজিতপুর গ্রামে ১৩০২ বঙ্গাব্দের ১৬ মাঘ (১৮৯৬ সালের ২৯ জানুয়ারি) পূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম বিষ্ণুচরণ দাস (ভুঁইয়া) ও মাতা সারদা দেবী। 
বিশদ

আম আদমির বাজেট প্রত্যাশা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

কর্পোরেট কর ২৫ শতাংশ, আর ব্যক্তিগত আয়কর ৩০ শতাংশ... এটা তো হতে পারে না! কাজেই আসন্ন বাজেটে ব্যক্তিগত আয়করের দিক থেকে সাধারণ চাকরিজীবীরা লাভবান হতে পারেন। তাও বিষয়টা সম্ভাবনা আকারেই আছে। তার কারণ, লোকসভা নির্বাচন সদ্য শেষ হয়েছে। আগামী চার বছর তো মোদি সরকার নিশ্চিন্ত! এখনই আয়করে বড় ছাড়ের মতো ঘোষণা করে দিলে ভোটের আগে কী হবে?এই প্রশ্ন আপাতত শনিবার পর্যন্ত সিন্দুকে তোলা থাক।
বিশদ

28th  January, 2020
সবচেয়ে ভালোর জন্য আশা করে সবচেয়ে খারাপের জন্য প্রস্তুতি
পি চিদম্বরম

আর একটি বছর শুরু হল, আর একটি বাজেট পেশের অপেক্ষা, এবং এটি ভারতীয় অর্থনীতির আর একটি গুরুতর বছর। ২০১৬-১৭ সাল থেকে প্রতিটি বছর আমাদের জন্য অনেক বিস্ময় এবং ব্যথা নিয়ে এসেছে। ২০১৬-১৭ গিয়েছে সর্বনাশা নোটবন্দির বছর। ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং সেটা তড়িঘড়ি রূপায়ণের বছর গিয়েছে ২০১৭-১৮।  বিশদ

26th  January, 2020
সংবিধান ও গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হলে ভারতের আত্মাও বিপন্ন হতে বাধ্য
হিমাংশু সিংহ

১৫ আগস্ট যদি দেশের জন্মদিন হয়, তাহলে ২৬ জানুয়ারি হচ্ছে কোন মতাদর্শ ও আইন মেনে কীসের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে, তার লিখিত বয়ান চূড়ান্ত করার বর্ণাঢ্য উদযাপনের শুভ মুহূর্ত। নবজাতক শিশু স্কুলে ভর্তি হলে একটা নির্দিষ্ট নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। 
বিশদ

26th  January, 2020
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

25th  January, 2020
মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

25th  January, 2020
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
একনজরে
জাহানাবাদ (বিহার), ২৮ জানুয়ারি (পিটিআই): ‘পাঁচ লাখ মানুষ এক হলে অসমকে ভারত থেকে আলাদা’ করার হুমকি দিয়েছিলেন সিএএ তথা শাহিনবাগ আন্দোলনের অন্যতম মাথা শারজিল ইমাম। মঙ্গলবার তাঁকেই বিহারের জেহানাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিসের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।  ...

সংবাদদাতা, গাজোল: সরস্বতীপুজোয় ইলিশ মাছ খাওয়ার রেওয়াজ মানতে গিয়ে এবার পকেট অনেকটাই হাল্কা হবে ইংলিশবাজারের বাসিন্দাদের। পুজো উপল঩ক্ষে শহরের বাজারগুলিতে বড় ইলিশ মাছের দেখা মিললেও ...

পোচেস্ট্রুম, ২৮ জানুয়ারি: লড়াকু ব্যাটিং এবং দুরন্ত বোলিংয়ের অনবদ্য মেলবন্ধনে অস্ট্রেলিয়াকে ৭৪ রানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে ভারত। প্রথমে ব্যাট করে টিম ইন্ডিয়া নির্ধারিত ৫০ ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্রাহকরা হাতে নতুন রেশন কার্ড পাওয়ার পর এবার রেশন দোকানে গেলেই খাদ্যসামগ্রী পেয়ে যাবেন। এব্যাপারে উদ্যাোগী হয়েছে খাদ্যদপ্তর। মঙ্গলবার খাদ্যভবনে এব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তি সংস্কার বিষয়ে চিন্তাভাবনা ফলপ্রসূ হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি। যাবতীয় আটকে থাকা কাজের ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৬: ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী প্রণবানন্দের জন্ম
১৯৬৬: ব্রাজিলের ফুটবলার রোমারিওর জন্ম
১৯৭০: ওলিম্পিকে রুপোজয়ী শ্যুটার রাজ্যবর্ধন সিং রাঠোরের জন্ম
২০০৬: প্রথম ভারতীয় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ওভারে হ্যাটট্রিক করলেন ইরফান পাঠান  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫৮ টাকা ৭২.২৮ টাকা
পাউন্ড ৯১.৬১ টাকা ৯৪.৯০ টাকা
ইউরো ৭৭.২৫ টাকা ৮০.১৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,১৪০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,০৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,৬১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৭,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১৪ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, (মাঘ শুক্লপক্ষ) চতুর্থী ১১/৩ দিবা ১০/৪৬। পূর্বভাদ্রপদ ১৪/৪১ দিবা ১২/১৩। সূ উ ৬/২১/৩, অ ৫/১৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৮ মধ্যে পুনঃ ১০/০ গতে ১১/২৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৭ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। রাত্রি ৬/১১ গতে ৮/৪৮ মধ্যে পুনঃ ২/০ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৯/৫ গতে ১০/২৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৫০ গতে ১/১২ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৬ গতে ৪/৪৪ মধ্যে। 
১৪ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার, চতুর্থী ৫/৫৫/২৫ দিবা ৮/৪৬/৪। পূর্ব্বভাদ্রপদ ১০/৫৭/৫৮ দিবা ১০/৪৭/৫। সূ উ ৬/২৩/৫৪, অ ৫/১৭/১৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১০/০ গতে১১/২৯ মধ্যে ও ৩/১০ গতে ৪/৩৯ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৫গতে ৮/৫০ মধ্যে ও ২/০ গতে ৬/২৪ মধ্যে। কালবেলা ৯/৭/১৪ গতে ১০/২৮/৫৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৩/৭/১৪ গতে ৪/৪৫/৩৪ মধ্যে। 
মোসলেম: ৩ জমাদিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তৃতীয় টি ২০: সুপার ওভারে নিউজিল্যান্ডকে হারাল ভারত 

04:26:47 PM

২৩২ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:20:36 PM

তৃতীয় টি ২০: সুপার ওভারে ভারতকে ১৮ রানের টার্গেট দিল নিউজিল্যান্ড

04:16:55 PM

তৃতীয় টি ২০: ভারত-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ টাই, এবার সুপার ওভার

04:04:00 PM

খোঁজ মিলল বেআইনি ক্যাসিনোর, গ্রেপ্তার ৮
 

ভারত-ভুটান আন্তর্জাতিক সীমান্তের জয়গাঁ শহরে একটি বেআইনি ক্যাসিনোর হদিশ। ওই ...বিশদ

04:00:25 PM

তৃতীয় টি ২০: নিউজিল্যান্ড ৯১/৩ (১২ ওভার) 

03:24:14 PM