Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এক কাপ চায়ে 
অতনু বিশ্বাস

এক কাপ চা, কত গল্প বলে সকাল, বিকেল, সন্ধে বেলা...।
এ গানের লিরিকের মতোই চা নিয়ে এবং চায়ের টেবিলে গল্পেরও কোনও শেষ নেই। এক কাপ চায়ে আমেজ আছে নিশ্চয়ই। দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও। কিন্তু সেই সঙ্গে আছে বিষও। প্লাস্টিকের বিষ। আমেজটা বেশি, নাকি বিষের পরিমাণটা, সে নিয়ে তর্কও চলতে পারে বিন্দাস। এবং আমার মত চা-প্রিয় লোক যে খবরটা শুনে আঁতকে উঠবে, সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই বিষয়টা একটু তলিয়ে দেখতেই হল।
এখানে অবশ্য টি-ব্যাগের সাহায্যে তৈরি করা চায়ের কথাই বলা হচ্ছে। হোটেলে রেস্তরাঁয়, অধিকাংশ টি শপ আর কফি শপে চা তৈরি করা হয় এভাবেই। আজকাল অনেক পাড়ার চায়ের দোকানেও চা তৈরি হয় টি-ব্যাগ গরম জল বা দুধে ডুবিয়ে। এমনকী অনেক বাড়িতেও আজ তা একেবারেই স্বাভাবিক সাধারণ এক ঝঞ্ঝাট-বিহীন প্রকরণ। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, একটু ভালো টি-ব্যাগ তৈরি করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাইলন বা প্লাস্টিকের ব্যবহার করা হয়েছে। খুব বেশিদিনের কথা নয়, খুঁজে-পেতে দেখছি, মাত্র ১৩ বছর আগে, ২০০৬ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস্‌-এর এক আর্টিকেলে নাইলনের টি-ব্যাগকে বর্ণনা করা হয়েছে ‘‘বড় মাপের পুনরাবিষ্কার’’ হিসেবে। লেখিকার মতে, চা পানের ক্ষেত্রে নাইলনের টি-ব্যাগ নাকি এনেছে এক বিপ্লব। এ এক ছিমছাম চা তৈরির পদ্ধতি। পড়ে থাকা চা-পাতা পরিষ্কারের কোনও ঝঞ্ঝাট নেই।
আজ কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, এই টি-ব্যাগ বস্তুটা মোটের উপর যেমন নিরীহ বলে মনে হয়, সে রকম নয় একেবারেই। এক কাপ চায়ের মধ্যে যে কতটা বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে, তা ঠিকঠাক ভাবাই যায় নি তখন। রোম্যান্স আর নস্টালজিয়ার মায়ামেদুর আলো-আঁধারি থেকে বাস্তবের শান-বাঁধানো সিঁড়িতে এনে ফেলে চায়ের এক নতুন কিস্‌সা শুনিয়েছেন এক কানাডিয়ান অধ্যাপক, যে গল্প এতদিন বলেন নি কেউ। ওই যে বললাম, অধিকাংশ টি-ব্যাগ তৈরিতেই ব্যবহার করা হয় খানিকটা প্লাস্টিক। বিপদটা সেখান থেকেই। কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরের ম্যাক্‌গিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর এক অধ্যাপকের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র একটা টি-ব্যাগ থেকে এক কাপ চায়ে মিশে যায় কোটি কোটি অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিকের টুকরো। সঠিক ভাবে বললে সংখ্যাটা অবিশ্বাস্য শোনাবে। ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার জলে চা তৈরি করলে একটি টি-ব্যাগ থেকে মেশে ১১৬০ কোটি মাইক্রোপ্লাস্টিক, আর সেই সঙ্গে ৩১০ কোটি আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিকের টুকরো! মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যাস ৫ মিলিমিটারের কম। আর তা ১০০০ ন্যানোমিটারের কম হলে তাকে বলে ন্যানোপ্লাস্টিক। যাই হোক, প্রতি কাপ চায়ে মিশে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের টুকরোর মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ১৬ মাইক্রোগ্রাম। এগুলি মোটামুটি নাইলন এবং পেট (পলি-ইথিলিন টেরেফথালেট)-এর টুকরো। এই ন্যানোপ্লাস্টিকের টুকরোগুলো আবার মোটামুটি একটি চুলের ১৫০ ভাগের একভাগ পুরু, যার ব্যাস ১৫০ মাইক্রোমিটারের কম, এবং মানবদেহের অভ্যন্তরে যা হয়তো ঢুকে যেতে পারে মানুষের টিস্যু, এমনকী কোষের মধ্যেও।
চায়ের কাপে প্লাস্টিকের টুকরোর পরিমাণ কিন্তু অন্য খাদ্যে পাওয়া প্লাস্টিকের টুকরোর চাইতে অনেক বেশি। যেমন, গত বছরই নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষকের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, পৃথিবীর সব বোতলজাত জলের ৯০ শতাংশেই হয় মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ। একবার ব্যবহার-যোগ্য প্লাস্টিকের বোতলের এক লিটার জলে থাকে কোথাও ৪৪টি, কোথাও ৩২৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিকের টুকরো। সমুদ্রের গভীরে প্লাস্টিক পৌঁছে গেছে চিংড়ি, মাছ, ঝিনুকের মধ্যে। একটা ঝিনুকের মধ্যে থাকে ৯০টি প্লাস্টিকের টুকরো। এমনকী এক কিলোগ্রাম নুনের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে ৬০০টি, যার সম্মিলিত ওজন এক মাইক্রোগ্রামের অর্ধেক। আবার আমাদের খাবারে যে ধুলোকণা পড়ে, তা থেকেও বছরে ৭০ হাজার প্লাস্টিকের টুকরো ঢোকে আমাদের শরীরে। কিন্তু এই সমস্ত হিসেবকে যেন ছাপিয়ে উঠেছে আমাদের বড় আমেজের ধোঁয়া-ওঠা এক কাপ চা।
আসলে প্লাস্টিক বোধহয় মানুষের এক বিষাক্ত প্রেম-কথা। প্লাস্টিক আমাদের সভ্যতার মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি, আর তার ফলশ্রুতিতে এক ভয়াবহ দূষণের সম্মিলিত গল্প। আমাদের প্লাস্টিক-প্রিয়তা এবং প্লাস্টিক-নির্ভরতার একটা চমৎকার দৃষ্টান্ত হতে পারে ব্রিটিশ যুবক ড্যানিয়েল ওয়েব-এর কীর্তি। ২০১৭-র প্রথম দিনে সমুদ্রের জলে ভেসে আসা পুরনো খেলনা, প্লাস্টিকের বোতল, এইসব বর্জ্য-পদার্থ দেখে এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করে ড্যানিয়েল। গোটা বছরে সে তার প্লাস্টিকের বর্জ্যগুলিকে জমিয়ে রাখে, যা বছর শেষে হয় ২২টি ৮০ লিটারের গারবেজ ব্যাগ! এই এক বছরের প্লাস্টিক-আবর্জনা দিয়ে আর্ট এক্সিবিশনই করে ফেলল ড্যানিয়েল। নাম ‘এভ্‌রিডে প্লাস্টিক’। সে এক দেখার মত অভিনব প্রদর্শনী। ১৩ মিটার লম্বা রঙচঙে ছবি তৈরি করা হয়েছে ৪,৪৯০ টুকরো প্লাস্টিক দিয়ে, যাতে রয়েছে ওষুধের পাতা, চিপ্‌঩সের প্যাকেট, বোতলের ছিপি, চকলেটের র‌্যাপার, কী নয়। আমাদের প্লাস্টিক-নির্ভরতাকে একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো।
এই সমস্ত প্লাস্টিকের ছোট্ট ছোট্ট কণা কিন্তু খাবার, পানীয়, নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের শরীরের একদম গভীরে। আজ প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ে আমরা ভেবে চলেছি-- আলোচনা করে চলেছি সভায়, সমিতিতে, সংবাদপত্রে, টিভিতে। কিন্তু ঠিক এতটা আমরা আদৌ এতদিন বুঝে উঠতে পেরেছি কিনা সন্দেহ। আমাদের শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা জমে জমে বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে শরীরের বিভিন্ন অঞ্চল।‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক স্টাডিতে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর আমাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢোকে ৩৯ থেকে ৫২ হাজার। নিশ্বাসের প্লাস্টিক ধরলে সংখ্যাটা ৭৪ হাজারের বেশি। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, আজকের পৃথিবীর মানুষরা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫ গ্রাম মাইক্রোস্কোপিক প্লাস্টিকের কণা খেয়ে চলে, যার ওজন মোটামুটি একটা ক্রেডিট কার্ডের ওজনের সমতুল্য। বছর জুড়ে এর সম্মিলিত পরিমাণ প্রায় ২৬০ গ্রাম। আমরা কি কখনও ভেবেছি, এতটা পরিমাণ প্লাস্টিক ঢুকছে আমাদের প্রত্যেকের শরীরে?
স্বাস্থ্যের উপর এই প্লাস্টিকের কী প্রভাব তার ঠিকঠাক মূল্যায়ন অবশ্য হয় নি এখনও। তবে অনুমান করা কঠিন নয় যে, স্বাস্থ্যে এর প্রভাব খুব একটা সুবিধার নয়। এই প্লাস্টিক গণ্ডগোল করে দিতে পারে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে, ঘটাতে পারে নানা অসুখ-বিসুখ।
কিন্তু তাই বলে আমরা প্লাস্টিক-শূন্য খাবার খেয়ে যাব বা খেতে পারব, এটা কি একেবারেই সম্ভব আজকের পৃথিবীতে? খুব সম্ভবত, না। আবার সেই সঙ্গে আমাদের নিঃশ্বাসের মধ্য দিয়েও শরীরে ঢুকবে প্লাস্টিকের বিষ। কোনও মুক্তি নেই আমাদের। এ বিষ আমাদেরই সৃষ্টি। শুরুতে তা হয়তো হয়েছিল না জেনেই, মানুষের জীবনযাত্রায় সুবিধা আনার জন্য বিজ্ঞানের সৃজন। কিন্তু এখন তো আমরা জেনেছি লয়-ক্ষয়-হীন প্রায়-অমর এই প্লাস্টিকের চরিত্র। তবু তার উৎপাদন, তার ব্যবহারে কোনও কমতি নেই। জেনেশুনে বিষ বানিয়ে তুলছি আমরা। বাড়িয়েও তুলছি। জেনেশুনেই খেলছি বিষ নিয়ে। সেই প্রবল হলাহল ছড়িয়ে পড়ছে সভ্যতার কোনায় কোনায়। জলে, স্থলে, বাতাসে। সমতলে, পাহাড়ে, সমুদ্রের অতলে।
তা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে সভ্যতাকে। এবং সেই সঙ্গে তা ছাড় দিতে নারাজ আমাদের শরীরকেও। প্রতি বছর গড়ে ৪৮ থেকে ১২৭ কোটি মেট্রিক টন প্লাস্টিক মিশে যাচ্ছে মহাসাগরের জলে। সমুদ্রের প্রাণীদের খাবারের সঙ্গে তাদের শরীরে ঢুকছে এই প্লাস্টিক। এমনকী প্লাঙ্কটনের মতো ক্ষুদ্র জীবকেও জড়িয়ে ফেলতে পারে, বা তাদের হজমের পদ্ধতিতেও জড়িয়ে যেতে পারে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক। মাছ, পাইলট তিমি বা ডলফিনের মত সামুদ্রিক প্রাণীর পেটে পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক। সামুদ্রিক পাখি খাবার ভেবে খেয়ে ফেলছে প্লাস্টিকের টুকরো। তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভয়াবহ ক্ষতি হয়ে চলেছে এর ফলে। সার্বিকভাবে প্লাস্টিক যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে আমাদের বাস্তুতন্ত্রকে। এ আমাদের অবশ্যম্ভাবী ভবিতব্য। আপাতত এর থেকে মুক্তি নেই আমাদের। বড়জোর আমরা সচেতনতা বাড়িয়ে কমিয়ে ফেলতে পারি আমাদের প্লাস্টিক খাবার পরিমাণটা।
কল্পনার সুপারহিরো প্লাস্টিক-ম্যানের কথা এ প্রসঙ্গে মনে পড়তে পারে আমাদের। সুপারম্যান কিংবা ব্যাটম্যানের মত জনপ্রিয় না হলেও প্লাস্টিক-ম্যানের গল্প কিন্তু প্রথম হিউমারকে মিশিয়ে দিতে পেরেছিল অ্যাকশনের সাথে। এ গল্পে প্লাস্টিক-ম্যান তার শক্তি পেয়েছিল এক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে। তাকে স্নান করানো হয় এক অজানা শিল্প রাসায়নিক মিশ্রণে, বন্দুকের জখমের মাধ্যমে যে মিশ্রণ ঢুকেছিল তার রক্ত-প্রবাহে। ফলশ্রুতিতে এক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় রূপান্তর ঘটেছিল তার। শরীরটাকে ভেঙেচুরে প্রায় যা-খুশি করতে পারত প্লাস্টিক-ম্যান। আজ শরীরের অভ্যন্তরে প্লাস্টিকের বিষ বয়ে নিয়ে চলে আমরাও কিন্তু হয়ে উঠছি এক একজন প্লাস্টিক-মানুষ। তবে প্লাস্টিক-দানবের এই আক্রমণে পরাজিত, বিধ্বস্ত আমরা সুপারহিরো হতে পারছি না একেবারেই। উল্টে শরীরে প্লাস্টিক ঢুকে ঢুকে আমরা ক্রমে পৌঁছে যাচ্ছি এক অচেনা বিপদের জগতে। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের গহ্বরে।
আপাতত চা আর তার মধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা নিয়ে দেশ-বিদেশের চা-রসিকের আড্ডায় ‘‘টেবিলেতে তুফান ওঠে চা-পেয়ালার তলে,/ বিষম লেগে শৌখিনদের চোখ ভেসে যায় জলে।’’
 ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত 
10th  October, 2019
ভারত-মার্কিন সহযোগিতাই ঠেকাতে পারবে
অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহারের বিপদ 

কেউ কি ভাবতে পেরেছিল, সামান্য একটি ছাতাপড়া ‘মেলন’ জাতীয় ফলের ভিতর লুকিয়ে রয়েছে অগণিত মানুষের জিয়নকাঠি? হ্যাঁ, পেনিসিলিন—এটাই হল সর্বপ্রথম অ্যান্টিবায়োটিক।   বিশদ

শিবসেনা ও একটি পরম্পরার অপমৃত্যু
শান্তনু দত্তগুপ্ত

শিবাজি পার্কের জনসভায় তির-ধনুকটা নামিয়ে বক্তৃতা শুরু করতে গিয়েও থমকে গেলেন বাল থ্যাকারে। শব্দবাজির দাপট কানের যাবতীয় সহ্যক্ষমতা অতিক্রম করছে। সঙ্গে চিৎকার... উল্লাস। অপেক্ষা করছেন শিবসেনা ‘প্রমুখ’। তির-ধনুক তাঁর দলের প্রতীক। পৌরুষের প্রতীক। তিনি নিজেও তাই। ১৯৯৫ সালের বিধানসভা ভোটের শেষ পর্বের প্রচার।  
বিশদ

19th  November, 2019
প্রচলিত ছকে মৌসুমি বায়ু চরিত্র বোঝা যাচ্ছে না
শান্তনু বসু

২০১৯-এর এই উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত আবহাওয়াবিদদের হিসেবেই ছিল না। উদ্বৃত্ত বৃষ্টিপাত ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে পুনরুজ্জীবিত করবে সন্দেহ নেই, কিন্তু আগামী বছর যদি আরও দেরিতে কেরলে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে, ভারতের কৃষি আবার অনিশ্চয়তায় চলে যাবে। চলতি বছরের উদ্বৃত্ত জলকে ধরে রাখা হয়েছে—এমন সুখবর কিন্তু নেই।
বিশদ

18th  November, 2019
একটি কাল্পনিক স্মরণসভা
সন্দীপন বিশ্বাস

সাদা কাপড়ে মোড়া মঞ্চজুড়ে সারি সারি চেয়ার-টেবিল। টেবিলের উপরে ফুলদানিতে সাদা ফুল। মঞ্চের একপাশে বড় একটি ছবি। তাতে সাদা মালা দেওয়া। শোকস্তব্ধ পরিবেশ। আজ এখানে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার টি এন সেশনের স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সমাজের গণ্যমান্য সকলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনেকেই এসেছেন।  
বিশদ

18th  November, 2019
মূল্যবোধের রাজনীতি ও
মহারাষ্ট্রের কুর্সির লড়াই
হিমাংশু সিংহ

আজকের নির্বাচনী রাজনীতি যে কতটা পঙ্কিল ও নোংরা তারই জ্বলন্ত প্রমাণ আজকের মহারাষ্ট্র। সঙ্কীর্ণ স্বার্থসর্বস্ব রাজনীতিতে ক্ষমতা দখলের নেশায় ছোটবড় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই আজ মরিয়া। মহারাষ্ট্রের ফল বেরনোর পর গত তিন সপ্তাহের রাজনীতির নাটকীয় ওঠাপড়া সেই অন্ধকার দিকটাকেই বড় প্রকট করে তুলেছে। ভোটের ফল ও কে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন তা নিয়ে দুই পুরনো জোট শরিকের দ্বন্দ্ব যে দেশের বাণিজ্য পীঠস্থান মুম্বই তথা মহারাষ্ট্রকে এমন নজিরবিহীন সঙ্কটে ফেলবে, তা কে জানত? যে জোট পাঁচ বছর ধরে রাজ্য শাসন করল এবং এবারও গরিষ্ঠতা পেল, সেই জোটই ভেঙে খান খান!
বিশদ

17th  November, 2019
ঘর ওয়াপসি ও কিছু প্রশ্ন
তন্ময় মল্লিক

 ঘর ওয়াপসি। ঘরে ফেরা। ‘ভাইজান’ সিনেমার ছোট্ট মুন্নির ঘরে ফেরার কাহিনীর দৌলতে ‘ঘর ওয়াপসি’ এখন আমবাঙালির অতি পরিচিত শব্দ। সেই পরিচিত শব্দটি অতি পরিচিতির মর্যাদা পেয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নেতাদের একাংশের ঘন ঘন জার্সি বদলের দৌলতে।
বিশদ

16th  November, 2019
জল বেড়েছে, বোধ বাড়েনি
রঞ্জন সেন

 সমুদ্রের জলস্তর বাড়ার ফলে পৃথিবীর বহু উপকূলবর্তী দেশ ও দ্বীপ বিপন্ন হবে বলে পরিবেশবিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। তাঁরা এটাও বলছেন আমরা সবাই মিলে এবং রাষ্ট্রনায়কেরা চাইলে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমিয়ে এই অবস্থার মোকাবিলা করতে পারি। বিশদ

16th  November, 2019
সংবিধানই পথ
সমৃদ্ধ দত্ত

 তিন বছর ধরে সংবিধান রচনার কাজ অবশেষে যখন সমাপ্ত হল, তখন ১৯৪৯ সালের ২৫ নভেম্বর ভারতীয় সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া পেশ করে সংবিধান-সভায় তাঁর সর্বশেষ বক্তৃতায় সংবিধান রচনা কমিটির চেয়ারম্যান ড.ভীমরাও আম্বেদকর আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ভারতের এই সংবিধানের মূল সুর এবং গণতন্ত্র কি আদৌ শেষ পর্যন্ত আগামী দিনে রক্ষা করা সম্ভব হবে? বিশদ

15th  November, 2019
পঞ্চাশোর্ধ্বে বানপ্রস্থ?
অতনু বিশ্বাস

পঞ্চাশ ছুঁই-ছুঁই হয়ে একটা প্রায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধ ভাব এসেছে আমার মধ্যে। সেটা খুব অস্বাভাবিক হয়তো নয়। এমনিতেই চারপাশের দুনিয়াটা বদলে গিয়েছে অনেক। চেনা-পরিচিত বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো হঠাৎ যেন বড় হয়ে গিয়েছে। আমাকে ডাকনাম ধরে ডাকার লোকের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। বুড়ো হবার সব লক্ষণ একেবারে স্পষ্ট। 
বিশদ

14th  November, 2019
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দৃঢ় নীতির
কাছে ভারতের স্বার্থটাই সবার উপরে
অমিত শাহ

 মোদিজির নেতৃত্বাধীন উন্নতশির ভারতের কথা বিবেচনা করে আরসিইপি সদস্য রাষ্ট্রগুলি বেশিদিন আমাদের এড়িয়ে থাকতে পারবে না। তারা আমাদের শর্তে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যে রাজি হবে। এর মধ্যে আমরা এফটিএ মারফত আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্করক্ষায় সফল হয়েছি। আরসিইপি প্রত্যাখ্যান করে চীনের সম্ভাব্য গ্রাস থেকে আমাদের শিল্পকে আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে সুরক্ষা দিতে পেরেছি। আমাদের জন্য ভারতের স্বার্থটাই সবার আগে। বিশদ

13th  November, 2019
ভাষা বিতর্কে জেইই মেনস
শুভময় মৈত্র

পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী এই ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসেন, তাঁরা মোটামুটি ভালোভাবেই ইংরেজি পড়তে পারেন। তার জন্যে কংগ্রেস, সিপিএম, তৃণমূল বা বিজেপির কোনও কৃতিত্ব নেই। সারা দেশের মধ্যে বাঙালিরা যে শিক্ষা সংস্কৃতিতে বেশ এগিয়ে আছে সেটা বোঝার জন্যে প্রচুর পরিসংখ্যান আছে, যেগুলো জায়গামতো ছাপা হয় না। বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এরাজ্যের ছেলেমেয়েরা ঐতিহ্যগতভাবে ভালো, ঔপনিবেশিক কারণে ইংরেজিতেও। সেখানে জেইই মেনসের মতো পরীক্ষার প্রশ্ন বাংলায় করতে হবে বলে বাংলার পরীক্ষার্থীদের না গুলিয়ে দেওয়াই মঙ্গল। বিশদ

13th  November, 2019
অস্তাচলে মন্দির রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

সালটা ১৯৯২। লালকৃষ্ণ আদবানির ‘রথযাত্রা’ শুরু হওয়ার ঠিক আগের কথা...। কথোপকথন চলছে বিজেপি নেতার সঙ্গে বজরং দলের এক নেতার। ‘বাবরির কলঙ্ক মুছে দিতে পারবে না?’ বজরং দলের সেই নেতা উত্তর দিলেন ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষাতেই তো বসে আছি। 
বিশদ

12th  November, 2019
একনজরে
 বিএনএ, বারাকপুর: রবিবার রাতে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে তিন যুবক নার্সিংহোম কর্মী বিভূতি ঘোষকে তাড়া করেছিল। কাঁকিনাড়ার পানপুর মোড়ে গুলিবিদ্ধ নার্সিংহোম কর্মীর মৃত্যুর পর তদন্তে নেমে পুলিস এই তথ্য জানতে পেরেছে। ...

 ওয়াশিংটন, ১৯ নভেম্বর (পিটিআই): এক মার্কিন তরুণীকে যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগ উঠল ৩৫ বছর বয়সি এক ভারতীয়ের বিরুদ্ধে। আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করার সময় ওই মহিলাকে যৌন নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ। ...

বিএনএ, জলপাইগুড়ি: ব্যারাকপুরে একটি খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জলপাইগুড়ি শহর থেকে গ্রেপ্তার করা হল একজনকে। মঙ্গলবার পিন্টু শর্মা নামে ওই অভিযুক্তকে জলপাইগুড়ি মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে তোলা হয়।  ...

সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: সাট্টা ডন রশিদ খানের সঙ্গী তথা বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় টাডা আইনে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি মহম্মদ খালিদের আর্জি খারিজ করে দিল লালবাজার। খালিদ ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যায় অধিক পরিশ্রম করতে হবে। ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তির পক্ষে দিনটি শুভ। প্রেম-প্রীতিতে আগ্রহ বাড়বে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭৫০- মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের জন্ম
১৯১০- রুশ সাহিত্যিক লিও তলস্তয়ের মৃত্যু
১৯১৭- কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হল বোস রিসার্চ ইনস্টিটিউট
১৯৫৫- নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষে টেস্টে প্রথম দ্বিশতরান করলেন পলি উমরিগড় 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৩৪ টাকা ৭৩.৫০ টাকা
পাউন্ড ৯১.০২ টাকা ৯৫.৪১ টাকা
ইউরো ৭৭.৮১ টাকা ৮১.৫৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৫৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, অষ্টমী ১৯/২৩ দিবা ১/৪১। মঘা ৩৫/২১ রাত্রি ৮/৪। সূ উ ৫/৫৬/৪, অ ৪/৪৮/১০, অমৃতযোগ দিবা ৬/৪০ মধ্যে পুনঃ ৭/২৩ গতে ৮/৬ মধ্যে পুনঃ ১০/১৭ গতে ১২/২৮ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪১ গতে ৬/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৮/১৯ গতে ৩/১৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/৪০ গতে ১০/১ মধ্যে পুনঃ ১১/২২ গতে ১২/৪৪ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩৯ গতে ৪/১৮ মধ্যে। 
৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, অষ্টমী ১৪/২/৪২ দিবা ১১/৩৫/৪। মঘা ৩২/১৪/২৪ রাত্রি ৬/৫১/৪৫, সূ উ ৫/৫৭/৫৯, অ ৪/৪৮/৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫১ মধ্যে ও ৭/৩৪ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ১০/২৪ গতে ১২/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪১ গতে ৬/৩৪ মধ্যে ও ৮/২১ গতে ৩/২৮ মধ্যে, বারবেলা ১১/২৩/৬ গতে ১২/৪৪/২২ মধ্যে, কালবেলা ৮/৪০/৩২ গতে ১০/১/৪৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৪০/৩২ গতে ৪/১৯/১৬ মধ্যে।  
২২ রবিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দিল্লিতে ভূমিকম্প 

19-11-2019 - 07:07:50 PM

বুধেরহাটে অ্যাসিড খেয়ে আত্মঘাতী বধূ 
স্বামীর সঙ্গে অশান্তির জেরে অ্যাসিড খেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক বধূ। ...বিশদ

19-11-2019 - 06:22:42 PM

মালদহের প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

19-11-2019 - 06:13:00 PM

বিধানসভায় পালিত হবে সংবিধান দিবস 
২৬ এবং ২৭ নভেম্বর রাজ্য বিধানসভায় পালিত হবে সংবিধান দিবস। ...বিশদ

19-11-2019 - 03:59:00 PM

প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে মালদহে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

19-11-2019 - 03:58:52 PM

ডেঙ্গুতে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যু 
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যার। মৃতের ...বিশদ

19-11-2019 - 02:28:49 PM