Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এক কাপ চায়ে 
অতনু বিশ্বাস

এক কাপ চা, কত গল্প বলে সকাল, বিকেল, সন্ধে বেলা...।
এ গানের লিরিকের মতোই চা নিয়ে এবং চায়ের টেবিলে গল্পেরও কোনও শেষ নেই। এক কাপ চায়ে আমেজ আছে নিশ্চয়ই। দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও। কিন্তু সেই সঙ্গে আছে বিষও। প্লাস্টিকের বিষ। আমেজটা বেশি, নাকি বিষের পরিমাণটা, সে নিয়ে তর্কও চলতে পারে বিন্দাস। এবং আমার মত চা-প্রিয় লোক যে খবরটা শুনে আঁতকে উঠবে, সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই বিষয়টা একটু তলিয়ে দেখতেই হল।
এখানে অবশ্য টি-ব্যাগের সাহায্যে তৈরি করা চায়ের কথাই বলা হচ্ছে। হোটেলে রেস্তরাঁয়, অধিকাংশ টি শপ আর কফি শপে চা তৈরি করা হয় এভাবেই। আজকাল অনেক পাড়ার চায়ের দোকানেও চা তৈরি হয় টি-ব্যাগ গরম জল বা দুধে ডুবিয়ে। এমনকী অনেক বাড়িতেও আজ তা একেবারেই স্বাভাবিক সাধারণ এক ঝঞ্ঝাট-বিহীন প্রকরণ। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, একটু ভালো টি-ব্যাগ তৈরি করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাইলন বা প্লাস্টিকের ব্যবহার করা হয়েছে। খুব বেশিদিনের কথা নয়, খুঁজে-পেতে দেখছি, মাত্র ১৩ বছর আগে, ২০০৬ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস্‌-এর এক আর্টিকেলে নাইলনের টি-ব্যাগকে বর্ণনা করা হয়েছে ‘‘বড় মাপের পুনরাবিষ্কার’’ হিসেবে। লেখিকার মতে, চা পানের ক্ষেত্রে নাইলনের টি-ব্যাগ নাকি এনেছে এক বিপ্লব। এ এক ছিমছাম চা তৈরির পদ্ধতি। পড়ে থাকা চা-পাতা পরিষ্কারের কোনও ঝঞ্ঝাট নেই।
আজ কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, এই টি-ব্যাগ বস্তুটা মোটের উপর যেমন নিরীহ বলে মনে হয়, সে রকম নয় একেবারেই। এক কাপ চায়ের মধ্যে যে কতটা বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে, তা ঠিকঠাক ভাবাই যায় নি তখন। রোম্যান্স আর নস্টালজিয়ার মায়ামেদুর আলো-আঁধারি থেকে বাস্তবের শান-বাঁধানো সিঁড়িতে এনে ফেলে চায়ের এক নতুন কিস্‌সা শুনিয়েছেন এক কানাডিয়ান অধ্যাপক, যে গল্প এতদিন বলেন নি কেউ। ওই যে বললাম, অধিকাংশ টি-ব্যাগ তৈরিতেই ব্যবহার করা হয় খানিকটা প্লাস্টিক। বিপদটা সেখান থেকেই। কানাডার মন্ট্রিয়ল শহরের ম্যাক্‌গিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর এক অধ্যাপকের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র একটা টি-ব্যাগ থেকে এক কাপ চায়ে মিশে যায় কোটি কোটি অতি ক্ষুদ্র মাইক্রোপ্লাস্টিকের টুকরো। সঠিক ভাবে বললে সংখ্যাটা অবিশ্বাস্য শোনাবে। ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার জলে চা তৈরি করলে একটি টি-ব্যাগ থেকে মেশে ১১৬০ কোটি মাইক্রোপ্লাস্টিক, আর সেই সঙ্গে ৩১০ কোটি আরও ক্ষুদ্র ন্যানোপ্লাস্টিকের টুকরো! মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যাস ৫ মিলিমিটারের কম। আর তা ১০০০ ন্যানোমিটারের কম হলে তাকে বলে ন্যানোপ্লাস্টিক। যাই হোক, প্রতি কাপ চায়ে মিশে থাকা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের টুকরোর মোট ওজন দাঁড়ায় প্রায় ১৬ মাইক্রোগ্রাম। এগুলি মোটামুটি নাইলন এবং পেট (পলি-ইথিলিন টেরেফথালেট)-এর টুকরো। এই ন্যানোপ্লাস্টিকের টুকরোগুলো আবার মোটামুটি একটি চুলের ১৫০ ভাগের একভাগ পুরু, যার ব্যাস ১৫০ মাইক্রোমিটারের কম, এবং মানবদেহের অভ্যন্তরে যা হয়তো ঢুকে যেতে পারে মানুষের টিস্যু, এমনকী কোষের মধ্যেও।
চায়ের কাপে প্লাস্টিকের টুকরোর পরিমাণ কিন্তু অন্য খাদ্যে পাওয়া প্লাস্টিকের টুকরোর চাইতে অনেক বেশি। যেমন, গত বছরই নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষকের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, পৃথিবীর সব বোতলজাত জলের ৯০ শতাংশেই হয় মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ। একবার ব্যবহার-যোগ্য প্লাস্টিকের বোতলের এক লিটার জলে থাকে কোথাও ৪৪টি, কোথাও ৩২৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিকের টুকরো। সমুদ্রের গভীরে প্লাস্টিক পৌঁছে গেছে চিংড়ি, মাছ, ঝিনুকের মধ্যে। একটা ঝিনুকের মধ্যে থাকে ৯০টি প্লাস্টিকের টুকরো। এমনকী এক কিলোগ্রাম নুনের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকে ৬০০টি, যার সম্মিলিত ওজন এক মাইক্রোগ্রামের অর্ধেক। আবার আমাদের খাবারে যে ধুলোকণা পড়ে, তা থেকেও বছরে ৭০ হাজার প্লাস্টিকের টুকরো ঢোকে আমাদের শরীরে। কিন্তু এই সমস্ত হিসেবকে যেন ছাপিয়ে উঠেছে আমাদের বড় আমেজের ধোঁয়া-ওঠা এক কাপ চা।
আসলে প্লাস্টিক বোধহয় মানুষের এক বিষাক্ত প্রেম-কথা। প্লাস্টিক আমাদের সভ্যতার মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি, আর তার ফলশ্রুতিতে এক ভয়াবহ দূষণের সম্মিলিত গল্প। আমাদের প্লাস্টিক-প্রিয়তা এবং প্লাস্টিক-নির্ভরতার একটা চমৎকার দৃষ্টান্ত হতে পারে ব্রিটিশ যুবক ড্যানিয়েল ওয়েব-এর কীর্তি। ২০১৭-র প্রথম দিনে সমুদ্রের জলে ভেসে আসা পুরনো খেলনা, প্লাস্টিকের বোতল, এইসব বর্জ্য-পদার্থ দেখে এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করে ড্যানিয়েল। গোটা বছরে সে তার প্লাস্টিকের বর্জ্যগুলিকে জমিয়ে রাখে, যা বছর শেষে হয় ২২টি ৮০ লিটারের গারবেজ ব্যাগ! এই এক বছরের প্লাস্টিক-আবর্জনা দিয়ে আর্ট এক্সিবিশনই করে ফেলল ড্যানিয়েল। নাম ‘এভ্‌রিডে প্লাস্টিক’। সে এক দেখার মত অভিনব প্রদর্শনী। ১৩ মিটার লম্বা রঙচঙে ছবি তৈরি করা হয়েছে ৪,৪৯০ টুকরো প্লাস্টিক দিয়ে, যাতে রয়েছে ওষুধের পাতা, চিপ্‌঩সের প্যাকেট, বোতলের ছিপি, চকলেটের র‌্যাপার, কী নয়। আমাদের প্লাস্টিক-নির্ভরতাকে একেবারে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো।
এই সমস্ত প্লাস্টিকের ছোট্ট ছোট্ট কণা কিন্তু খাবার, পানীয়, নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের শরীরের একদম গভীরে। আজ প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ে আমরা ভেবে চলেছি-- আলোচনা করে চলেছি সভায়, সমিতিতে, সংবাদপত্রে, টিভিতে। কিন্তু ঠিক এতটা আমরা আদৌ এতদিন বুঝে উঠতে পেরেছি কিনা সন্দেহ। আমাদের শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা জমে জমে বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে শরীরের বিভিন্ন অঞ্চল।‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক স্টাডিতে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর আমাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢোকে ৩৯ থেকে ৫২ হাজার। নিশ্বাসের প্লাস্টিক ধরলে সংখ্যাটা ৭৪ হাজারের বেশি। সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, আজকের পৃথিবীর মানুষরা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫ গ্রাম মাইক্রোস্কোপিক প্লাস্টিকের কণা খেয়ে চলে, যার ওজন মোটামুটি একটা ক্রেডিট কার্ডের ওজনের সমতুল্য। বছর জুড়ে এর সম্মিলিত পরিমাণ প্রায় ২৬০ গ্রাম। আমরা কি কখনও ভেবেছি, এতটা পরিমাণ প্লাস্টিক ঢুকছে আমাদের প্রত্যেকের শরীরে?
স্বাস্থ্যের উপর এই প্লাস্টিকের কী প্রভাব তার ঠিকঠাক মূল্যায়ন অবশ্য হয় নি এখনও। তবে অনুমান করা কঠিন নয় যে, স্বাস্থ্যে এর প্রভাব খুব একটা সুবিধার নয়। এই প্লাস্টিক গণ্ডগোল করে দিতে পারে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে, ঘটাতে পারে নানা অসুখ-বিসুখ।
কিন্তু তাই বলে আমরা প্লাস্টিক-শূন্য খাবার খেয়ে যাব বা খেতে পারব, এটা কি একেবারেই সম্ভব আজকের পৃথিবীতে? খুব সম্ভবত, না। আবার সেই সঙ্গে আমাদের নিঃশ্বাসের মধ্য দিয়েও শরীরে ঢুকবে প্লাস্টিকের বিষ। কোনও মুক্তি নেই আমাদের। এ বিষ আমাদেরই সৃষ্টি। শুরুতে তা হয়তো হয়েছিল না জেনেই, মানুষের জীবনযাত্রায় সুবিধা আনার জন্য বিজ্ঞানের সৃজন। কিন্তু এখন তো আমরা জেনেছি লয়-ক্ষয়-হীন প্রায়-অমর এই প্লাস্টিকের চরিত্র। তবু তার উৎপাদন, তার ব্যবহারে কোনও কমতি নেই। জেনেশুনে বিষ বানিয়ে তুলছি আমরা। বাড়িয়েও তুলছি। জেনেশুনেই খেলছি বিষ নিয়ে। সেই প্রবল হলাহল ছড়িয়ে পড়ছে সভ্যতার কোনায় কোনায়। জলে, স্থলে, বাতাসে। সমতলে, পাহাড়ে, সমুদ্রের অতলে।
তা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে সভ্যতাকে। এবং সেই সঙ্গে তা ছাড় দিতে নারাজ আমাদের শরীরকেও। প্রতি বছর গড়ে ৪৮ থেকে ১২৭ কোটি মেট্রিক টন প্লাস্টিক মিশে যাচ্ছে মহাসাগরের জলে। সমুদ্রের প্রাণীদের খাবারের সঙ্গে তাদের শরীরে ঢুকছে এই প্লাস্টিক। এমনকী প্লাঙ্কটনের মতো ক্ষুদ্র জীবকেও জড়িয়ে ফেলতে পারে, বা তাদের হজমের পদ্ধতিতেও জড়িয়ে যেতে পারে এই মাইক্রোপ্লাস্টিক। মাছ, পাইলট তিমি বা ডলফিনের মত সামুদ্রিক প্রাণীর পেটে পাওয়া যাচ্ছে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক। সামুদ্রিক পাখি খাবার ভেবে খেয়ে ফেলছে প্লাস্টিকের টুকরো। তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ভয়াবহ ক্ষতি হয়ে চলেছে এর ফলে। সার্বিকভাবে প্লাস্টিক যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে আমাদের বাস্তুতন্ত্রকে। এ আমাদের অবশ্যম্ভাবী ভবিতব্য। আপাতত এর থেকে মুক্তি নেই আমাদের। বড়জোর আমরা সচেতনতা বাড়িয়ে কমিয়ে ফেলতে পারি আমাদের প্লাস্টিক খাবার পরিমাণটা।
কল্পনার সুপারহিরো প্লাস্টিক-ম্যানের কথা এ প্রসঙ্গে মনে পড়তে পারে আমাদের। সুপারম্যান কিংবা ব্যাটম্যানের মত জনপ্রিয় না হলেও প্লাস্টিক-ম্যানের গল্প কিন্তু প্রথম হিউমারকে মিশিয়ে দিতে পেরেছিল অ্যাকশনের সাথে। এ গল্পে প্লাস্টিক-ম্যান তার শক্তি পেয়েছিল এক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে। তাকে স্নান করানো হয় এক অজানা শিল্প রাসায়নিক মিশ্রণে, বন্দুকের জখমের মাধ্যমে যে মিশ্রণ ঢুকেছিল তার রক্ত-প্রবাহে। ফলশ্রুতিতে এক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় রূপান্তর ঘটেছিল তার। শরীরটাকে ভেঙেচুরে প্রায় যা-খুশি করতে পারত প্লাস্টিক-ম্যান। আজ শরীরের অভ্যন্তরে প্লাস্টিকের বিষ বয়ে নিয়ে চলে আমরাও কিন্তু হয়ে উঠছি এক একজন প্লাস্টিক-মানুষ। তবে প্লাস্টিক-দানবের এই আক্রমণে পরাজিত, বিধ্বস্ত আমরা সুপারহিরো হতে পারছি না একেবারেই। উল্টে শরীরে প্লাস্টিক ঢুকে ঢুকে আমরা ক্রমে পৌঁছে যাচ্ছি এক অচেনা বিপদের জগতে। এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের গহ্বরে।
আপাতত চা আর তার মধ্যে বিলিয়ন বিলিয়ন প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা নিয়ে দেশ-বিদেশের চা-রসিকের আড্ডায় ‘‘টেবিলেতে তুফান ওঠে চা-পেয়ালার তলে,/ বিষম লেগে শৌখিনদের চোখ ভেসে যায় জলে।’’
 ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, কলকাতার রাশিবিজ্ঞানের অধ্যাপক। মতামত ব্যক্তিগত 
10th  October, 2019
সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। বিশদ

15th  October, 2019
শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা।
বিশদ

14th  October, 2019
বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। 
বিশদ

12th  October, 2019
সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হওয়ার পাঠ শেখাচ্ছে সত্তর বছরের গণচীন
মৃণালকান্তি দাস

এখন সাধারণ পোশাক পরা মাও বা টায়ারের চপ্পল পায়ে হো চি মিনরা আর সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেই। এখন স্যুট টাই পরা বিলাসী সাহেবরা নেতৃত্বে। কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে আছে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দলীয় একনায়কতন্ত্র অব্যাহত রাখার গরজে। ব্রিটিশরা যেমন বলে থাকেন আওয়ার কিং ইজ ডেড, লং লিভ আওয়ার কিং। ঠিক তেমনই। আগে ধনতন্ত্র পরে সমাজতন্ত্র। তার জন্য জানলা খুললে কিছু মাছি-মশা আসবে। কথাটা বলেছিলেন দেং নিজেই। অবশ্য এই মাছি-মশা নিয়ে তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কী করে সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হতে হয় সেটাও শেখাচ্ছে চীন! 
বিশদ

11th  October, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!  
বিশদ

03rd  October, 2019
মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন অনুসরণীয়
মোহন ভাগবত

ভারতের আধুনিক ইতিহাস তথা স্বাধীন ভারতের উত্থানের কাহিনীতে যেসব মহান ব্যক্তির নাম চিরকালের জন্য লেখা হয়ে আছে, যা সেই সনাতন কাল থেকে চলে আসা ভারতের ঐতিহাসিক গাথার এক একটি অধ্যায় হয়ে যাবে, পূজ্য মহাত্মা গান্ধীর নাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভারতবর্ষ আধ্যাত্মিক দেশ এবং আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতেই তার উত্থান হবে।  
বিশদ

02nd  October, 2019
দুর্গাপুজোর আঙিনায় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ 

বঙ্গাব্দ ১২৭৭। রানি রাসমণি নেই। পরিবারের কর্তা জামাতা মথুরমোহন বিশ্বাস। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব এসেছেন জানবাজারে দুর্গাপুজো উপলক্ষে। ঠাকুরের উপস্থিতিতে সেই বাড়ি তখন আনন্দস্রোতে প্রবাহিত হয়ে আনন্দধামে পরিণত।   বিশদ

01st  October, 2019
এনআরসি: বাঙালির নয়া আতঙ্ক এবং অপমান
হারাধন চৌধুরী 

বাঙালির যেন আতঙ্ক-লগ্নে জন্ম। একটা আতঙ্ক যায়, আবার একটা এসে জোটে। নতুন আতঙ্কের নাম এনআরসি। এনআরসি-আতঙ্ক গ্রাস করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকেও। বাঙালিকে নতুন করে নাগরিকত্বের পরীক্ষায় বসতে হবে।   বিশদ

01st  October, 2019
একনজরে
 তাল তামর (সিরিয়া) ও ওয়াশিংটন, ১৫ অক্টোবর (এএফপি ও পিটিআই): সিরিয়ার উত্তরপূর্ব প্রান্তে তুরস্কের সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনে বেশ খানিকটা জমি হারাতে হয়েছে কুর্দদের। এর পাল্টা আঙ্কারার বিরুদ্ধে বেশ কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। ...

 সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা: পড়াশোনা চলাকালীন পড়ুয়াদের হাতে-কলমে কাজ শেখার জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করেছে এআইসিটিই। তবে দেখা যাচ্ছে, নিজেদের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের। অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব টেকনিক্যাল এডুকেশনের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই তথ্য। ...

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মঙ্গলবার দুপুরে সূতি থানার সাজুরমোড়ে একটি বেসরকারি স্কুলের উদ্বোধনে আসেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ আজহারউদ্দিন। আজাহার বলেন, ওঁর যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। আশা করি সৌরভ ভারতীয় ক্রিকেটকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।  ...

বিএনএ, সিউড়ি: বিজেপি নেতা ধ্রুব সাহা ও অতনু চট্টোপাধ্যায়কে ফের সিউড়ি আদালতে তোলা হল। পুরনো মামলায় তাঁরা মাসখানেক ধরে সংশোধনাগারেই ছিলেন। এদিন তাঁদের ফের সিউড়ি আদালতে তোলা হয়।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যায় ভালো ফল হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে সুযোগ আসবে। কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব খাদ্য দিবস
১৯০৫: বঙ্গভঙ্গ হয়
১৯২৩: দি ওয়াল্ট ডিজনি সংস্থা প্রতিষ্ঠা হয়
১৯২৭: নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান সাহিত্যিক, চিত্রকর, ভাস্কর এবং নাট্যকার গুন্টার গ্রাসের জন্ম
১৯৪৮: অভিনেত্রী হেমা মালিনীর জন্ম
১৯৫১: রাওয়ালপিন্ডিতে খুন হন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান
১৯৬৪: প্রথম পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটাল চীন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৬ টাকা ৭২.১৬ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৩২ টাকা ৯১.৬১ টাকা
ইউরো ৭৭.১৯ টাকা ৮০.১৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৯,১৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৭,১৬৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৭২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দ্বিতীয়া ০/২১ প্রাতঃ ৫/৪৫। ভরণী ২১/৫১ দিবা ২/২১। সূ উ ৫/৩৬/৫৪, অ ৫/৭/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৩ মধ্যে পুনঃ ৭/৯ গতে ৭/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১০/১৩ গতে ১২/৩২ মধ্যে। রাত্রি ৫/৫৯ গতে ৬/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৮/২৯ গতে ৩/৭ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩০ গতে ৯/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/২৩ গতে ১২/৪৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০ গতে ৪/৪ মধ্যে।
২৮ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, তৃতীয়া ৫৯/১০/৩৯ শেষরাত্রি ৫/১৭/৩৫। ভরণী ২১/৩৭/১৬ দিবা ২/১৬/১৩, সূ উ ৫/৩৭/১৯, অ ৫/৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩০ মধ্যে ও ৭/১৫ গতে ৭/৫৯ মধ্যে ও ১০/১৩ গতে ১২/২৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৭ গতে ৬/৪৮ মধ্যে ও ৮/২১ গতে ৩/১১ মধ্যে, বারবেলা ১১/২৩/১৯ গতে ১২/৪৯/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৮/৩০/১৯ গতে ৯/৫৬/৪৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০/১৯ গতে ৪/৩/৪৯ মধ্যে।
১৬ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
সংখ্যালঘু মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ কোচিং রাজ্যের
প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির প্রস্তুতিতে মেধাবী সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ...বিশদ

09:43:20 AM

  বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করা নিয়ে মায়াবতীর কড়া সমালোচনায় সরব বিজেপি
সঠিক সময়ে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছিলেন মায়াবতী। মহারাষ্ট্রে নির্বাচনী ...বিশদ

09:40:00 AM

ক্ষতিপূরণ দেওয়া শেষ বউবাজারে
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলের কাজের জন্য বউবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ...বিশদ

09:31:43 AM

আজ অযোধ্যা মামলার শুনানি শেষ
বুধবার শেষ হচ্ছে অযোধ্যা মামলার শুনানি। এদিন সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ...বিশদ

09:24:28 AM

 প্রেসিডেন্সি জেলেও জোরদার তল্লাশি অভিযান
দমদম জেল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রেসিডেন্সি জেলেও বিভিন্ন সেলে ...বিশদ

09:15:29 AM

আলিপুরের সৌজন্য ভবনে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠক
আজ, বুধবার রাজ্য সরকারের অতিথিশালা আলিপুরের ‘সৌজন্য ভবন’-এ রাজ্য মন্ত্রিসভার ...বিশদ

09:15:00 AM