Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
ভক্তিপূর্বক পুজো করলে অশ্বমেধ তুল্য ফললাভ হয়। এই জন্য এই পুজোয় বিধি-ব্যবস্থা অর্থাৎ সংবিধান রচনা করার প্রয়োজন অনুভব হওয়ায় নিবন্ধকারগণ দুর্গোৎসব বিষয়ে নিবন্ধ রচনা করে গিয়েছেন। বাংলাদেশে রঘুনন্দনকৃত তিথিতত্ত্বের অন্তর্গত দুর্গোৎসব তত্ত্ব এবং দুর্গাপূজাতত্ত্ব। মিথিলায় বিদ্যাপতিকৃত দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী এবং বাচস্পতি মিশ্রকৃত কৃত্যচিন্তামণির অন্তর্গত দুর্গোৎসব প্রকরণ। অসমের কামরূপীয় নিবন্ধের অন্তর্গত দুর্গোৎসব প্রকরণ। এই সকল প্রবন্ধে দুর্গোৎসবের ব্যবস্থা প্রণীত হয়েছে। এছাড়াও শূলপাণিকৃত দুর্গোৎসববিবেক, দুর্গোৎসব প্রয়োগবিবেক, জীমূতবাহন বাহনকৃত কালবিবেকোক্ত দুর্গোৎসব নির্ণয়, শ্রীনাথ আচার্য চূড়ামণিকৃত কৃত্যতত্ত্বার্ণবেও দুর্গোৎসব প্রকরণ বিস্তৃত ভাবে লেখা হয়েছিল। বঙ্গদেশে রঘুনন্দনের প্রামাণ্যতা স্বীকার্য। কোনও একখানি পুরাণ অবলম্বন করে তাঁর প্রয়োগ রচনা করেননি। নানা পুরাণ ও নিবন্ধ থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে রচনা করে গিয়েছেন তাঁর দুর্গোৎসব তত্ত্ব এবং দুর্গাপূজাতত্ত্ব।
‘অন্তরে ভক্তি থাকলে দেবতার পুজো যেভাবে খুশি করা যায়, এরজন্য কোনও প্রয়োগপদ্ধতির প্রয়োজন হয় না।’ এ ধরনের কথা প্রায়ই বলতে শোনা যায় অনেককে। কথাটা হয়তো ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রে খাটে, সকল ক্ষেত্রে নয়। ইষ্টদেবতা বা দেবীর ধ্যান বা তাঁদের আরাধনার জন্যে মন্ত্র, নৈবেদ্য কিংবা উপকরণ অথবা কোনও প্রয়োগ পদ্ধতির দরকার হয় না। অন্তরে ভক্তি থাকলেই যথেষ্ট। কিন্তু যখন সমবেতভাবে অথবা সম্মিলিত উদ্যোগে কোনও পুজোর আয়োজন হয়, তখনই কথাগুলি অবাস্তব হয়ে পড়ে। প্রয়োগ-পদ্ধতি মেনে মাতৃ আরাধনা সমবেত হলেও সকলের মনের মধ্যে একই সুর বেজে ওঠে। পারিবারিক পুজোর মধ্যে এই ব্যাপারটা লক্ষ করা যায়।
কলির অশ্বমেধ যজ্ঞ হওয়ার জন্য শারদীয়া দুর্গাপুজোর রীতি-নীতি, প্রয়োগ পদ্ধতি বা উপকরণ আবার অন্যান্য পুজোর তুলনায় একটু অন্যরকম অনেকটাই বৃহদাকার। রীতি-নীতি প্রয়োগ-পদ্ধতি বা উপকরণের ক্ষেত্রে দুর্গাপুজোর প্রথম দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত রয়েছে যথেষ্ট আকর্ষণ। যদি উপকরণ-এর বিষয়েই আসা যায়, সেক্ষেত্রে জল-এর ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ। যে বিপুল পরিমাণ জল-এর প্রয়োজন হয় এই পুজোর ক্ষেত্রে তা আমাদের যথেষ্ট দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এমনও তো দিন আসতে পারে, যে দিন জলের চরম সঙ্কট দেখা দিতে পারে। সেদিন কি এই পুজো হবে না?
এখন জল-এর হাল হকিকত জেনে নেওয়া যাক। কী মর্মান্তিক পরিস্থিতির দিকে আমরা এগিয়ে চলেছি, তা জানলে আমরা চোখের জল ধরে রাখতে পারব না। আমি এ বিষয়ে ভূবিজ্ঞানীদের অভিমত তুলে ধরছি। তকঁদের অভিমত, ভূগর্ভস্থ সঞ্চিত জলরাশির ৬৭ শতাংশ জল আমরা ব্যবহার করে ফেলেছি। তাঁরা জানাচ্ছেন, অবশিষ্ট ৩৩ শতাংশ জলে টেনেটুনে বড়জোর ১০ বছর চলতে পারে। তাও যদি অপচয় না করি। ভূবিশেষজ্ঞদের পরের ঘোষণাটি বড়ই হৃদয়বিদারক। যা শুনলে ১৩০ কোটি ভারতবাসীর হৃৎস্পন্দন অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। তাঁরা বলছেন, এই দেদার জল অপচয়ের জন্য অদূর ভবিষ্যতে এমন একদিন আসবে, যেদিন স্রেফ এক বোতল জলের জন্য বহুগুণ টাকা বেশি দিলেও ওই সামান্য পরিমাণ জলটুকুও আপনি পাবেন না।
এই অশনি সংকেত আমরা পেয়ে গিয়েছি। কিছুদিন আগে পানীয় জলের হাহাকারে বুক ফেটেছে চেন্নাইয়ের মানুষের। একটু পানীয় জলের জন্য তাদের ট্রেনে করে যেতে হয়েছে পাশের রাজ্যে। মহারাষ্ট্রের কোনও কোনও অঞ্চলেও দেখা দিয়েছিল পানীয় জলের সঙ্কট। আমাদের রাজ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও এমনই জল সঙ্কট অদূর ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে। এমন সতর্কবাণী শুনিয়েছেন ভূবিজ্ঞানীরা।
পরিসংখ্যান বলছে, বৃহত্তর কলকাতায় পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করতে কলকাতা পুরসভার রোজ খরচ হয় ২০ লক্ষ টাকা। শুধুমাত্র আমাদের সুজলা রাখার জন্য। আমরা যাতে কোনওভাবে জলকষ্টে না ভুগি। পরিবর্তে আমরা কি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি? আমরা কি সজাগ হচ্ছি দেদার জল অপচয় রোধ করতে? এ আত্ম জিজ্ঞাসা কি থাকবে না? রোজ পুরসভার প্রচার গাড়ি টহল দিচ্ছে পাড়ার অলিগলিতে। যথেচ্ছ জল অপচয় রোধ করতে। একই ভাবে প্রাকৃতিক জল অর্থাৎ বৃষ্টির জল ব্যবহার করার (পরিস্রুতকরণের মাধ্যমে) কথাও বলা হচ্ছে এই প্রচার গাড়ি থেকে। মোড়ে মোড়ে রাস্তার ধারে ধারে এ বিষয়ে সতর্ক করতে টাঙানো হচ্ছে ফ্লেক্স, হোর্ডিং। প্রিন্ট মিডিয়া, ভিস্যুয়াল মিডিয়া থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত তোলপাড় করছে এবিষয়ে সজাগ করতে। পিছিয়ে নেই রাজনীতিবিদ থেকে বিদ্বজ্জনেরা। দেশজুড়ে জল সংরক্ষণের জন্য আর জল অপচয়ের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন তাঁরা। এই বিষয়ে রাজ্যের মানুষকে সচেতন করতে রাজপথে নেমেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এহেন সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে শারদীয়া দুর্গাপুজো শাস্ত্রসম্মতভাবে এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে জল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও লাগাম দিতে হবে। ভবিষ্যপুরাণে এ বিষয়ে বলা হয়েছে অপচয়োন কর্ত্তব্যং দ্রব্যসংরক্ষণ মেব চ। সংকট কালো সমুৎপন্নে ন স দ্রব্যং ন তৎ ক্রিয়াম্‌। অর্থাৎ উপকরণ বা দ্রব্যের অপচয় কোনও ভাবে করা যাবে না। বরং যতটা প্রয়োজন ততটাই ব্যবহার করতে হবে। তার অতিরিক্ত নয়। এক্ষেত্রে আমাদের দ্রব্য সংরক্ষণের দিকে অধিক নজর দিতে হবে। কেননা দ্রব্য সঙ্কট উপস্থিত হলে সেই দ্রব্য পাওয়া যাবে না। আবার শাস্ত্রে একথাও বলছে, কৃত্য লোপং বিগর্হিতম। কৃত্য-কে লোপ কোনওভাবেই করা যাবে না। কেননা তা বিগর্হিত।
এ প্রসঙ্গে মৎস্যসূক্তও মুখর হয়েছে নাপচয়ং দ্রব্যং, নাপচয়ং সময়ং। দ্রব্যাভাবে সময়াভাবে চ ধর্মহানি প্রজায়তে। অর্থাৎ দ্রব্য অপচয় করা যাবে না, সময় অপচয় করা যাবে না। কেননা দ্রব্যের অভাবে আর সময়ের অভাবে দুর্গাপুজো কর্মরূপ ধর্মের হানি উৎপন্ন হবে।
ভবিষ্যপুরাণের অপচয়ো ন কর্ত্তব্যং... বচনের পরে আরও বলা হয়েছে যা সংযোজন না করলে বচনটির যথার্থতা আজকের জল সঙ্কটের নিরিখে কতটা প্রাসঙ্গিক তা অনুধাবন করা যাবে না। উক্ত বচনের পরের বক্তব্যটি হল প্রাত্যহিকে তু এবম্‌। অর্থাৎ শুধুমাত্র শারদীয়া দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে এমন সতর্কবাণী প্রযোজ্য নয়, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সচেতনতা’র কথা প্রাসঙ্গিকভাবে মাথায় রাখতে হবে। নইলে জীবনের হাল বেহাল হবে। এবং এই কথাটা যে দিনের আলোর মতো সত্য, তা জল সঙ্কটের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। উল্লেখিত বচনের দ্বিতীয় পর্যায়ে বলা হল দ্রব্য সংরক্ষণের বিষয়টি। অপচয় রোধ আর দ্রব্যের ব্যবহার যথাযথভাবে করলে দ্রব্য সংরক্ষণ আপনার থেকে অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যাবে। যা বহু হাজার বছর আগে শাস্ত্রকাররা বলেছেন, তা অতি সাম্প্রতিককালে বললেন ভূবিজ্ঞানী সহ সমাজের সর্বশ্রেণীর মানুষ।
মৎস্যসূক্তে শারদীয়া দুর্গাপুজো বিষয়ের বচনটিতে দ্রব্য-এর সঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবে সময়ের ব্যাপারটাও খুব সচেতনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা সমস্ত কাজেরই একটা নির্দিষ্ট কাল আছে। সময় উত্তীর্ণ হলে সেই কাজ তার প্রাসঙ্গিকতা হারায়। আর মূল্যহীন কাজ করাও যা, না করাও তা। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, শাস্ত্রকাররা পুজোর কাল নির্দেশ করেছেন পূর্বাহ্ণ পর্যন্ত। এই পূর্বাহ্ণ হল সূর্যোদয় থেকে সকাল ৯টা ২৭ মিনিট থেকে ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে। একই কথা ঘুরেফিরে আসে যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রেই খাটে। এক কথায় সময়-এর কাজ সময়ের মধ্যেই করতে হবে। তবেই জীবন চলবে সুষ্ঠুভাবে। স্বচ্ছন্দ গতিতে। বিরামহীনতার মধ্য দিয়ে। বলা বাহুল্য, দ্রব্য বলতে জল সহ প্রতিটি আনুষঙ্গিক উপকরণের বিষয়ে শাস্ত্রকারদের এই নির্দেশিকা।
এখন আসি প্রয়োগের ব্যাপারে। এই জলের অপচয় রোধ বা জল সংরক্ষণ কীভাবে করা হবে। মূলত তিন দিনের এই পুজোয় যে বিপুল পরিমাণ জল ব্যবহার করা হয়, তার অনেকটা জুড়ে আছে মহাস্নানের জল। যা সপ্তমী মহাষ্টমী ও মহানবমী’র পুজোগুলিতে লাগে। যেটুকু জল খরচ না করলে এই মহাপুজো থমকে যাবে না, সেটুকু জলই আমরা খরচ করব। মহাস্নানের ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ১০৮ ঘড়া জলের প্রয়োগ আছে। তা বিশেষ ক্ষেত্রে অর্থাৎ জল সঙ্কটকালে ১০৮ ঘটিতে করা যাবে। আবার এমনও বলা হয়েছে, সময়ের অভাবে অর্থাৎ তিথিস্বল্পতায় একটি বড় গামলায় মহাস্নানের প্রত্যেক দ্রব্য এবং সংশ্লিষ্ট জল মিশিয়ে নিয়ে সেখানে একটি ঘটি ডুবিয়ে সেই এক ঘটি জলে মায়ের মহাস্নান সারতে হবে। অন্যান্য দ্রব্যের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা। প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে, ১৯৭৮ সালে ভয়াবহ বন্যার সময়ে সন্ধিপুজোয় বহু জায়গায় দেবীকে ১০৮টি পদ্মফুল দেওয়া যায়নি। কিন্তু পদ্ম শতদল হওয়ায় ১০৮টি পাপড়ি দিয়ে মাতৃআরাধনা হয়েছিল।
এখন দেখে নেওয়া যাক মায়ের মহাস্নানের সময় কোন কোন জল আমরা ব্যবহার করি। প্রথমে একঘটি ঈষদুষ্ণ জল বিল্বদন্তকাষ্ঠ দিয়ে মা দাঁত মাজবেন আর মুখ ধোবেন। এরপর পঞ্চামৃত, পঞ্চগব্য, পঞ্চকষায়, শিশিরের জল, আখের রস, ১০টি মাটি, বিষ্ণুতেল-তিল তেল, সর্বৌষধি-মহৌষধি, পঞ্চরত্ন মিশ্রিত জল, সাগরের জল, পদ্মরেণুজল, দুধ, মধু, অগুরু, চন্দন-কুঙ্কুম, বৃষ্টির জল ঝর্ণার জল, তাল ফলের জল ডাবের জল সপ্তসমুদ্রের জল সহস্রধারা দিয়ে বেয়ে পড়বে সপ্ত সমুদ্রের জল আর গঙ্গা প্রভৃতি সাতটি পুণ্যতোয়া নদীর জল, ঘট চতুষ্টয় এবং সবশেষে অষ্ট কলসের জল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উল্লেখিত জলরাশি আমরা সারা বছর ধরে সংগ্রহ করি। শাস্ত্রকারদের নির্দেশমতো যা আমরা বছরজুড়ে সংগ্রহ করে থাকি তা আসলে তো জল সংরক্ষণের বার্তাই বহন করে। তাই না। আপনারা কী বলেন? 
05th  October, 2019
এবার মহালয়ার ৩৫ দিন পর
দুর্গাপুজো কেন, কী বলছে শাস্ত্র?
জয়ন্ত কুশারী
 

এবার মহালয়ার ৩৫ দিন পর দুর্গাপুজো কেন, কী বলছে শাস্ত্র?
‘মা বুঝি চইলাছে কোয়ারেন্টিনে...’ বরেণ্য লোকগীতি শিল্পী অমর পাল জীবিত থাকলে বুঝি এমনটাই গাইতেন। যদিও তিনি গেয়েছিলেন, ‘মা বুঝি কৈলাসে চইলাছে...’ 
মহালয়া থেকে সপ্তমী, দিন পঁয়ত্রিশের এই ব্যবধান পাল্টে দিল এমন একটি গানের লাইন। আসলে মানুষের মুখে মুখে এখন যে ফিরছে এই কথাটি। 
বিশদ

কেন্দ্রের কথার খেলাপ, রাজ্যগুলোর অর্থাভাব
পি চিদম্বরম

কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) একটা ভয়ানক লড়াই হয়ে উঠেছে। যে অর্থনীতিতে পূর্বাহ্নেই দ্রুত পতনের সূচনা হয়েছিল, সেটা যখন মহামারীতে আরও বিধ্বস্ত হল তখন কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বিরাট বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়া উচিত ছিল। 
বিশদ

অর্থনীতিই নয়, ভয়াবহ বিপর্যয় বিদেশনীতিরও
হিমাংশু সিংহ

২০১৪ থেকে ২০২০। মাঝে মাত্র ৬ বছর। দুর্বল না হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শক্তিশালী একনায়ক হলে রাষ্ট্রের বিপদ কী কী? এই ক’বছরেই তার মোক্ষম উত্তর পেয়ে গিয়েছে দেশ। এমনকী পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির সঙ্গে নরেন্দ্রনাথ দত্তের তুলনা টানছেন বুক ফুলিয়ে।  
বিশদ

20th  September, 2020
কুকথায় হাততালি জুটলেও
দূরে সরে যায় মানুষ 
তন্ময় মল্লিক

রুটি সেঁকার জন্য তাওয়া গরম করতে হয়। আবার সেই তাওয়া বেশি তেতে গেলে রুটি যায় পুড়ে। তখন খাবারের থালার বদলে রুটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে। রাজনীতিতেও তেমনটাই। কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নেতারা গরম গরম ভাষণ দেন। কিন্তু তা মাত্রা ছাড়ালে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়।  
বিশদ

19th  September, 2020
বাংলার সমাজ ও
রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ
সমৃদ্ধ দত্ত

সেদিন বিকেলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ, প্রবল শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন দিলেও কাজ হচ্ছে না তেমন। এইমস ডাক্তাররা বুঝলেন পরিস্থিতি ভালো নয়। অনেকদিন হয়ে গেল কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।   বিশদ

18th  September, 2020
‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর
রূপকার নরেন্দ্র মোদি
যোগী আদিত্যনাথ

রাজা কালস্য কারণম্‌। মহাভারতের ‘শান্তিপর্ব’-এ যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দিতে গিয়ে পিতামহ ভীষ্ম এই কালজয়ী কথাটি বলেছিলেন। কথাটি পিতামহ নিজের লোকদের বলেছিলেন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভিতরে এই ভারতের সবার জন্যই একটি জোরালো বার্তা তিনি রেখে গিয়েছেন।  বিশদ

17th  September, 2020
কাজ দাও, মুলতুবি রাখো
গ্রেট গেরুয়া সার্কাস
হারাধন চৌধুরী

দু’দশক যাবৎ ভারতীয় মিডিয়ায় সার্কাসের এলিজি বা শোকগাথা লেখা হচ্ছে। বেশিরভাগ লেখা ভারী হয়ে উঠছে জোকারদের জন্য সহমর্মিতায়। জোকারের জীবন কঠিন। কেউ শখ করে জোকার হয় না। কারও কারও জীবনখাতায় এই ভবিতব্যই লেখা থাকে।  বিশদ

17th  September, 2020
 কোনও প্রশ্ন নয়, নো কোয়েশ্চেনস!
সন্দীপন বিশ্বাস

 মোদি, অমিত শাহ তথা বিজেপি নেমে পড়েছে বিহার জয়ে। সেখানে অবশ্য নীতীশের হাত ধরে বিজেপিকে ভোট বৈতরণী পার হতে হবে। সেখানে রাজপুত ভোট আর ক্ষত্রিয় ভোট নিজেদের বাক্সে আনতে বিজেপিকে খেলতে হল দু’টি খেলা। একজনকে ডাইনি বানানো হল, অন্যজনকে দেবী বানানো হল।
বিশদ

16th  September, 2020
 সত্যিটা দেখলাম না... দেখানো হল না
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এতকিছুর পরও আমেরিকার অর্থনীতি ধাক্কা খেল না। ট্রাম্প বুঝেছিলেন, ব্যবসাটা তিনি জানেন। করোনা ভাইরাসকে নয়। কাজেই শক্তিশালী অর্থনীতিকে বসিয়ে দেওয়ার মানে হয় না। করোনা আজ না হয় কাল কমবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বছর লেগে যাবে। বিশদ

15th  September, 2020
ফেসবুক দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ
ছড়ালে কার লাভ হয়?

২০১৯। সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি কাগজের হেডলাইন ছিল ‘গুগল কি ভারতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে?’ খবরটা বেরনোমাত্রই ‘গুগল’ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু অন্যকিছু সংস্থা টের পায়, গুগলে যেভাবে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে সেই তথ্য একটু সংশ্লেষণ করলে দ্বিধান্বিত ভোটারদের সহজেই প্রভাবিত করা সম্ভব।
বিশদ

15th  September, 2020
দমনমূলক ফেডারালিজম চলছে
পি চিদম্বরম

এটা পরিষ্কার যে মোদি সরকার এবার তার বিপুল গরিষ্ঠতাকে ব্যবহার করবে। রাজ্যগুলির মতামতের কোনও তোয়াক্কা করবে না। ইচ্ছেমতো সংশোধনী পাশ করিয়ে নেবে। ফেডারালজিমকে আরেকটি ধাক্কা দেবে। ‘এক জাতি, এক সবকিছু’ পরিণামে ‘এক জাতি’কে ধ্বংস করে ছাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে
স্কুলশিক্ষার সর্বনাশ হবে
প্রদীপকুমার দত্ত

 সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করে শিক্ষাকে সব মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা বরাদ্দের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এই শিক্ষানীতিতে নেই। বরং এই শিক্ষানীতি শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথকেই প্রশস্ত করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য আরও বাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, রানাঘাট: রানাঘাটে জাতীয় সড়কের ধার থেকে চুরি যাওয়া একটি লরি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে উদ্ধার করল পুলিস। বুধবার রাতে পায়রাডাঙায় জাতীয় সড়কের ধারের একটি পেট্রল পাম্পের পাশ থেকে ১২ চাকার ওই লরিটি চুরি যায়।  ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: রাজ্যের চটকল শ্রমিকদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের প্রতি এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিশেষ নজর দিতে চলেছে। শ্রমিকদের চাকরির স্থায়িত্ব এই শিল্পের অন্যতম এবং বহু পুরনো সমস্যা হওয়ায় আপাতত তার সমাধানকেই পাখির চোখ করেছে শ্রমদপ্তর।   ...

রোম: ইতালিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিলেন রাফায়েল নাদাল। তবে ফাইনালে উঠেছেন নোভাক জকোভিচ। এর আগে রোমের এই টুর্নামেন্টে ন’বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন স্প্যানিশ তারকা নাদাল।   ...

লন্ডন: করোনা রুখতে কঠোর জরিমানার পথে হাঁটতে চলেছে ব্রিটেন। সেল্ফ আইসোলেশনে না থাকলে করোনা আক্রান্তকে ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হবে বলে শনিবার ঘোষণা করেছে বরিস জনসন সরকার।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তিজনিত মামলা-মোকদ্দমায় জটিলতা বৃদ্ধি। শরীর-স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। বিদ্যাশিক্ষায় বাধাবিঘ্ন। হঠাকারী সিদ্ধান্তের জন্য আপশোস বাড়তে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস
১৮৬৬: ব্রিটিশ সাংবাদিক, ঐতিহাসিক ও লেখক এইচ জি ওয়েলসের জন্ম
১৯৩৪: জাপানের হনসুতে টাইফুনের তাণ্ডব, মৃত ৩ হাজার ৩৬ জন
১৯৪৭: মার্কিন লেখক স্টিফেন কিংয়ের জন্ম
১৯৭৯: ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের জন্ম
১৯৮০: অভিনেত্রী করিনা কাপুর খানের জন্ম
১৯৮১: অভিনেত্রী রিমি সেনের জন্ম
১৯৯৩: সংবিধানকে অস্বীকার করে রাশিয়ায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি করলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিন
২০০৭: রিজওয়ানুর রহমানের মৃত্যু
২০১৩: কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে ওয়েস্ট গেট শপিং মলে জঙ্গি হামলা, নিহত কমপক্ষে ৬৭



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৫৫ টাকা ৯৬.৯১ টাকা
ইউরো ৮৫.১০ টাকা ৮৮.২১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  September, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,৩৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৭০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,৪৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৬,৭৪০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৬,৮৪০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
20th  September, 2020

দিন পঞ্জিকা

৫ আশ্বিন ১৪২৭, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, পঞ্চমী ৪৫/৩৬ রাত্রি ১১/৪৩। বিশাখানক্ষত্র ৩৮/২১ রাত্রি ৮/৪৯। সূর্যোদয় ৫/২৮/৩৬, সূর্যাস্ত ৫/৩০/৫৪। অমৃতযোগ দিবা
৭/৪ মধ্যে পুনঃ ৮/৪১ গতে ১১/৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ১১/৬ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে ৩/৫ মধ্যে। বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৩০ গতে ৪/০ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/০ গতে ১১/৩০ মধ্যে।  
৪ আশ্বিন ১৪২৭, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, চতুর্থী দিবা ৭/৩৭ পরে পঞ্চমী শেষরাত্রি ৫/১৭। বিশাখানক্ষত্র রাত্রি ৩/১। সূর্যোদয় ৫/২৮, সূর্যাস্ত ৫/৩৩। অমৃতযোগ দিবা ৭/৭ মধ্যে ও ৮/৪১ গতে ১১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ১০/৫৯ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। কালবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে ও ২/৩২ গতে ৪/২ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১ গতে ১১/৩১ মধ্যে।  
মোসলেম: ৩ শফর। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কৃষক মাণ্ডি বন্ধ করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী 

01:22:49 PM

এই আইনে মধ্যস্বত্বভোগীরা বিলুপ্ত হবে: প্রধানমন্ত্রী 

01:22:18 PM

যেখানে ফসলের দাম বেশি সেখানেই বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা: প্রধানমন্ত্রী 

01:21:13 PM

ফসল বিক্রির উপর কোনও কর লাগবে না: প্রধানমন্ত্রী 

01:21:00 PM

এই আইন কৃষক মাণ্ডির বিরুদ্ধে নয়: প্রধানমন্ত্রী 

01:20:34 PM

ফসল বিক্রির উপর কর লাগবে না: প্রধানমন্ত্রী 

01:19:14 PM