Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
ভক্তিপূর্বক পুজো করলে অশ্বমেধ তুল্য ফললাভ হয়। এই জন্য এই পুজোয় বিধি-ব্যবস্থা অর্থাৎ সংবিধান রচনা করার প্রয়োজন অনুভব হওয়ায় নিবন্ধকারগণ দুর্গোৎসব বিষয়ে নিবন্ধ রচনা করে গিয়েছেন। বাংলাদেশে রঘুনন্দনকৃত তিথিতত্ত্বের অন্তর্গত দুর্গোৎসব তত্ত্ব এবং দুর্গাপূজাতত্ত্ব। মিথিলায় বিদ্যাপতিকৃত দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী এবং বাচস্পতি মিশ্রকৃত কৃত্যচিন্তামণির অন্তর্গত দুর্গোৎসব প্রকরণ। অসমের কামরূপীয় নিবন্ধের অন্তর্গত দুর্গোৎসব প্রকরণ। এই সকল প্রবন্ধে দুর্গোৎসবের ব্যবস্থা প্রণীত হয়েছে। এছাড়াও শূলপাণিকৃত দুর্গোৎসববিবেক, দুর্গোৎসব প্রয়োগবিবেক, জীমূতবাহন বাহনকৃত কালবিবেকোক্ত দুর্গোৎসব নির্ণয়, শ্রীনাথ আচার্য চূড়ামণিকৃত কৃত্যতত্ত্বার্ণবেও দুর্গোৎসব প্রকরণ বিস্তৃত ভাবে লেখা হয়েছিল। বঙ্গদেশে রঘুনন্দনের প্রামাণ্যতা স্বীকার্য। কোনও একখানি পুরাণ অবলম্বন করে তাঁর প্রয়োগ রচনা করেননি। নানা পুরাণ ও নিবন্ধ থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করে রচনা করে গিয়েছেন তাঁর দুর্গোৎসব তত্ত্ব এবং দুর্গাপূজাতত্ত্ব।
‘অন্তরে ভক্তি থাকলে দেবতার পুজো যেভাবে খুশি করা যায়, এরজন্য কোনও প্রয়োগপদ্ধতির প্রয়োজন হয় না।’ এ ধরনের কথা প্রায়ই বলতে শোনা যায় অনেককে। কথাটা হয়তো ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রে খাটে, সকল ক্ষেত্রে নয়। ইষ্টদেবতা বা দেবীর ধ্যান বা তাঁদের আরাধনার জন্যে মন্ত্র, নৈবেদ্য কিংবা উপকরণ অথবা কোনও প্রয়োগ পদ্ধতির দরকার হয় না। অন্তরে ভক্তি থাকলেই যথেষ্ট। কিন্তু যখন সমবেতভাবে অথবা সম্মিলিত উদ্যোগে কোনও পুজোর আয়োজন হয়, তখনই কথাগুলি অবাস্তব হয়ে পড়ে। প্রয়োগ-পদ্ধতি মেনে মাতৃ আরাধনা সমবেত হলেও সকলের মনের মধ্যে একই সুর বেজে ওঠে। পারিবারিক পুজোর মধ্যে এই ব্যাপারটা লক্ষ করা যায়।
কলির অশ্বমেধ যজ্ঞ হওয়ার জন্য শারদীয়া দুর্গাপুজোর রীতি-নীতি, প্রয়োগ পদ্ধতি বা উপকরণ আবার অন্যান্য পুজোর তুলনায় একটু অন্যরকম অনেকটাই বৃহদাকার। রীতি-নীতি প্রয়োগ-পদ্ধতি বা উপকরণের ক্ষেত্রে দুর্গাপুজোর প্রথম দিন থেকে শেষদিন পর্যন্ত রয়েছে যথেষ্ট আকর্ষণ। যদি উপকরণ-এর বিষয়েই আসা যায়, সেক্ষেত্রে জল-এর ভূমিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ। যে বিপুল পরিমাণ জল-এর প্রয়োজন হয় এই পুজোর ক্ষেত্রে তা আমাদের যথেষ্ট দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এমনও তো দিন আসতে পারে, যে দিন জলের চরম সঙ্কট দেখা দিতে পারে। সেদিন কি এই পুজো হবে না?
এখন জল-এর হাল হকিকত জেনে নেওয়া যাক। কী মর্মান্তিক পরিস্থিতির দিকে আমরা এগিয়ে চলেছি, তা জানলে আমরা চোখের জল ধরে রাখতে পারব না। আমি এ বিষয়ে ভূবিজ্ঞানীদের অভিমত তুলে ধরছি। তকঁদের অভিমত, ভূগর্ভস্থ সঞ্চিত জলরাশির ৬৭ শতাংশ জল আমরা ব্যবহার করে ফেলেছি। তাঁরা জানাচ্ছেন, অবশিষ্ট ৩৩ শতাংশ জলে টেনেটুনে বড়জোর ১০ বছর চলতে পারে। তাও যদি অপচয় না করি। ভূবিশেষজ্ঞদের পরের ঘোষণাটি বড়ই হৃদয়বিদারক। যা শুনলে ১৩০ কোটি ভারতবাসীর হৃৎস্পন্দন অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। তাঁরা বলছেন, এই দেদার জল অপচয়ের জন্য অদূর ভবিষ্যতে এমন একদিন আসবে, যেদিন স্রেফ এক বোতল জলের জন্য বহুগুণ টাকা বেশি দিলেও ওই সামান্য পরিমাণ জলটুকুও আপনি পাবেন না।
এই অশনি সংকেত আমরা পেয়ে গিয়েছি। কিছুদিন আগে পানীয় জলের হাহাকারে বুক ফেটেছে চেন্নাইয়ের মানুষের। একটু পানীয় জলের জন্য তাদের ট্রেনে করে যেতে হয়েছে পাশের রাজ্যে। মহারাষ্ট্রের কোনও কোনও অঞ্চলেও দেখা দিয়েছিল পানীয় জলের সঙ্কট। আমাদের রাজ্যেও বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও এমনই জল সঙ্কট অদূর ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে। এমন সতর্কবাণী শুনিয়েছেন ভূবিজ্ঞানীরা।
পরিসংখ্যান বলছে, বৃহত্তর কলকাতায় পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ করতে কলকাতা পুরসভার রোজ খরচ হয় ২০ লক্ষ টাকা। শুধুমাত্র আমাদের সুজলা রাখার জন্য। আমরা যাতে কোনওভাবে জলকষ্টে না ভুগি। পরিবর্তে আমরা কি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি? আমরা কি সজাগ হচ্ছি দেদার জল অপচয় রোধ করতে? এ আত্ম জিজ্ঞাসা কি থাকবে না? রোজ পুরসভার প্রচার গাড়ি টহল দিচ্ছে পাড়ার অলিগলিতে। যথেচ্ছ জল অপচয় রোধ করতে। একই ভাবে প্রাকৃতিক জল অর্থাৎ বৃষ্টির জল ব্যবহার করার (পরিস্রুতকরণের মাধ্যমে) কথাও বলা হচ্ছে এই প্রচার গাড়ি থেকে। মোড়ে মোড়ে রাস্তার ধারে ধারে এ বিষয়ে সতর্ক করতে টাঙানো হচ্ছে ফ্লেক্স, হোর্ডিং। প্রিন্ট মিডিয়া, ভিস্যুয়াল মিডিয়া থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত তোলপাড় করছে এবিষয়ে সজাগ করতে। পিছিয়ে নেই রাজনীতিবিদ থেকে বিদ্বজ্জনেরা। দেশজুড়ে জল সংরক্ষণের জন্য আর জল অপচয়ের বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন তাঁরা। এই বিষয়ে রাজ্যের মানুষকে সচেতন করতে রাজপথে নেমেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এহেন সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে শারদীয়া দুর্গাপুজো শাস্ত্রসম্মতভাবে এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে জল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও লাগাম দিতে হবে। ভবিষ্যপুরাণে এ বিষয়ে বলা হয়েছে অপচয়োন কর্ত্তব্যং দ্রব্যসংরক্ষণ মেব চ। সংকট কালো সমুৎপন্নে ন স দ্রব্যং ন তৎ ক্রিয়াম্‌। অর্থাৎ উপকরণ বা দ্রব্যের অপচয় কোনও ভাবে করা যাবে না। বরং যতটা প্রয়োজন ততটাই ব্যবহার করতে হবে। তার অতিরিক্ত নয়। এক্ষেত্রে আমাদের দ্রব্য সংরক্ষণের দিকে অধিক নজর দিতে হবে। কেননা দ্রব্য সঙ্কট উপস্থিত হলে সেই দ্রব্য পাওয়া যাবে না। আবার শাস্ত্রে একথাও বলছে, কৃত্য লোপং বিগর্হিতম। কৃত্য-কে লোপ কোনওভাবেই করা যাবে না। কেননা তা বিগর্হিত।
এ প্রসঙ্গে মৎস্যসূক্তও মুখর হয়েছে নাপচয়ং দ্রব্যং, নাপচয়ং সময়ং। দ্রব্যাভাবে সময়াভাবে চ ধর্মহানি প্রজায়তে। অর্থাৎ দ্রব্য অপচয় করা যাবে না, সময় অপচয় করা যাবে না। কেননা দ্রব্যের অভাবে আর সময়ের অভাবে দুর্গাপুজো কর্মরূপ ধর্মের হানি উৎপন্ন হবে।
ভবিষ্যপুরাণের অপচয়ো ন কর্ত্তব্যং... বচনের পরে আরও বলা হয়েছে যা সংযোজন না করলে বচনটির যথার্থতা আজকের জল সঙ্কটের নিরিখে কতটা প্রাসঙ্গিক তা অনুধাবন করা যাবে না। উক্ত বচনের পরের বক্তব্যটি হল প্রাত্যহিকে তু এবম্‌। অর্থাৎ শুধুমাত্র শারদীয়া দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে এমন সতর্কবাণী প্রযোজ্য নয়, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই সচেতনতা’র কথা প্রাসঙ্গিকভাবে মাথায় রাখতে হবে। নইলে জীবনের হাল বেহাল হবে। এবং এই কথাটা যে দিনের আলোর মতো সত্য, তা জল সঙ্কটের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। উল্লেখিত বচনের দ্বিতীয় পর্যায়ে বলা হল দ্রব্য সংরক্ষণের বিষয়টি। অপচয় রোধ আর দ্রব্যের ব্যবহার যথাযথভাবে করলে দ্রব্য সংরক্ষণ আপনার থেকে অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবেই হয়ে যাবে। যা বহু হাজার বছর আগে শাস্ত্রকাররা বলেছেন, তা অতি সাম্প্রতিককালে বললেন ভূবিজ্ঞানী সহ সমাজের সর্বশ্রেণীর মানুষ।
মৎস্যসূক্তে শারদীয়া দুর্গাপুজো বিষয়ের বচনটিতে দ্রব্য-এর সঙ্গে প্রাসঙ্গিকভাবে সময়ের ব্যাপারটাও খুব সচেতনভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা সমস্ত কাজেরই একটা নির্দিষ্ট কাল আছে। সময় উত্তীর্ণ হলে সেই কাজ তার প্রাসঙ্গিকতা হারায়। আর মূল্যহীন কাজ করাও যা, না করাও তা। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, শাস্ত্রকাররা পুজোর কাল নির্দেশ করেছেন পূর্বাহ্ণ পর্যন্ত। এই পূর্বাহ্ণ হল সূর্যোদয় থেকে সকাল ৯টা ২৭ মিনিট থেকে ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে। একই কথা ঘুরেফিরে আসে যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রেই খাটে। এক কথায় সময়-এর কাজ সময়ের মধ্যেই করতে হবে। তবেই জীবন চলবে সুষ্ঠুভাবে। স্বচ্ছন্দ গতিতে। বিরামহীনতার মধ্য দিয়ে। বলা বাহুল্য, দ্রব্য বলতে জল সহ প্রতিটি আনুষঙ্গিক উপকরণের বিষয়ে শাস্ত্রকারদের এই নির্দেশিকা।
এখন আসি প্রয়োগের ব্যাপারে। এই জলের অপচয় রোধ বা জল সংরক্ষণ কীভাবে করা হবে। মূলত তিন দিনের এই পুজোয় যে বিপুল পরিমাণ জল ব্যবহার করা হয়, তার অনেকটা জুড়ে আছে মহাস্নানের জল। যা সপ্তমী মহাষ্টমী ও মহানবমী’র পুজোগুলিতে লাগে। যেটুকু জল খরচ না করলে এই মহাপুজো থমকে যাবে না, সেটুকু জলই আমরা খরচ করব। মহাস্নানের ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে ১০৮ ঘড়া জলের প্রয়োগ আছে। তা বিশেষ ক্ষেত্রে অর্থাৎ জল সঙ্কটকালে ১০৮ ঘটিতে করা যাবে। আবার এমনও বলা হয়েছে, সময়ের অভাবে অর্থাৎ তিথিস্বল্পতায় একটি বড় গামলায় মহাস্নানের প্রত্যেক দ্রব্য এবং সংশ্লিষ্ট জল মিশিয়ে নিয়ে সেখানে একটি ঘটি ডুবিয়ে সেই এক ঘটি জলে মায়ের মহাস্নান সারতে হবে। অন্যান্য দ্রব্যের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা। প্রসঙ্গত বলা যেতে পারে, ১৯৭৮ সালে ভয়াবহ বন্যার সময়ে সন্ধিপুজোয় বহু জায়গায় দেবীকে ১০৮টি পদ্মফুল দেওয়া যায়নি। কিন্তু পদ্ম শতদল হওয়ায় ১০৮টি পাপড়ি দিয়ে মাতৃআরাধনা হয়েছিল।
এখন দেখে নেওয়া যাক মায়ের মহাস্নানের সময় কোন কোন জল আমরা ব্যবহার করি। প্রথমে একঘটি ঈষদুষ্ণ জল বিল্বদন্তকাষ্ঠ দিয়ে মা দাঁত মাজবেন আর মুখ ধোবেন। এরপর পঞ্চামৃত, পঞ্চগব্য, পঞ্চকষায়, শিশিরের জল, আখের রস, ১০টি মাটি, বিষ্ণুতেল-তিল তেল, সর্বৌষধি-মহৌষধি, পঞ্চরত্ন মিশ্রিত জল, সাগরের জল, পদ্মরেণুজল, দুধ, মধু, অগুরু, চন্দন-কুঙ্কুম, বৃষ্টির জল ঝর্ণার জল, তাল ফলের জল ডাবের জল সপ্তসমুদ্রের জল সহস্রধারা দিয়ে বেয়ে পড়বে সপ্ত সমুদ্রের জল আর গঙ্গা প্রভৃতি সাতটি পুণ্যতোয়া নদীর জল, ঘট চতুষ্টয় এবং সবশেষে অষ্ট কলসের জল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, উল্লেখিত জলরাশি আমরা সারা বছর ধরে সংগ্রহ করি। শাস্ত্রকারদের নির্দেশমতো যা আমরা বছরজুড়ে সংগ্রহ করে থাকি তা আসলে তো জল সংরক্ষণের বার্তাই বহন করে। তাই না। আপনারা কী বলেন? 
05th  October, 2019
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
নয়া স্থিতাবস্থা যুবসমাজকে রুষ্ট করছে
পি চিদম্বরম

এই ২০২০ সালের ভারতকে ১৯৬৮ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেখাচ্ছে। ১৯৬৮-তে ফ্রান্সের পরিস্থিতিও অনুরূপ ছিল। আমার মনে আছে ১৯৬৮-তে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজকর্ম ভেঙে পড়েছিল। আর এই বিপর্যয় থেকে দেশকে উদ্ধারের দায়িত্ব বর্তেছিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর। ১৯৬৮-র এই যে বিরাট সঙ্কট তার মূল কারণ ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ।  
বিশদ

13th  January, 2020
স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে মানুষের কথা বলাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম
হিমাংশু সিংহ

আজ ১২ জানুয়ারি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তারকাখচিত বাঙালি জাতির ইতিহাসে মহামানবের জন্মদিনের তালিকা কম দীর্ঘ নয়। তার মধ্যেও তিন শ্রেষ্ঠ ভারতসন্তানের জন্মদিনের মাহাত্ম্য শতবর্ষ পরেও প্রতিবছরই গোটা জাতিকে আবেগে শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমজন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  
বিশদ

12th  January, 2020
সরকারি প্রকল্প বনাম ভোট মেরুকরণ
তন্ময় মল্লিক

বিজেপির ভোট মেরুকরণের রাজনীতি মোকাবিলার একমাত্র হাতিয়ার সামাজিক প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা বাড়ানো। সে কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির ফিডব্যাক বলছে, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং বাংলা আবাস যোজনায় ঘরের চাহিদা প্রচুর।
বিশদ

11th  January, 2020
নতুন ভারত
সমৃদ্ধ দত্ত

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনধিকারীদের প্রবেশে কেউ আপত্তি করলে, বিরুদ্ধমতাবলম্বীদের বাছাই করে করে মারতে হবে। এবং মাথায় মারাই নিয়ম এক্ষেত্রে। কারণ দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাশক্তি এবং ভাবনায় ফারাক করে দেয় একটাই জিনিস, মাথা অর্থাৎ মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কেই থাকে মেধা। সুতরাং মাথাকে সবরকম ভাবে টার্গেট করাই যুক্তিযুক্ত ভাবা হচ্ছে। এভাবে একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, হয় মগজ ধোলাইয়ের কোর্স চালু হোক অথবা মাথা ফাটানোর পারমিশন দেওয়া হোক। একান্তই যদি এগুলো সম্ভব না হয়, তা হলে যে সব মনীষী আধুনিক উন্নত চিন্তাশক্তির জনক, তাঁদের মূর্তি ভাঙতে হবে। যেমন কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে হয়েছে। ভাঙতে হলে বাঙালি মনীষীর মূর্তিই হয় টার্গেট। মাথায় মারতে হলেও বাঙালি ছাত্রী ও অধ্যাপিকাই টার্গেট হয়। বিশদ

10th  January, 2020
একনজরে
বাংলা নিউজ এজেন্সি: পুরসভার আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা প্রকাশ হতেই উত্তরবঙ্গে বামপন্থী ও ডানপন্থী নেতাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। প্রশাসন সূত্রের খবর, আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা অনুসারে উত্তরবঙ্গে ১৩টি পুরসভার প্রায় দু’ডজন নেতার ভাগ্য পুড়তে চলেছে।  ...

 সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি, ১৭ জানুয়ারি: মেগা ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করছে কেন্দ্র। কৃষক থেকে শ্রমিক। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী থেকে ক্ষুদ্র ঋণগ্রাহকের সংখ্যা। মোদি সরকার বিভিন্ন ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অন্যান্য পুরসভাগুলির সঙ্গে আগামী পুরভোটে উত্তর দমদম, দক্ষিম দমদম এবং দমদম পুরসভার আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা শুক্রবার প্রকাশিত হল। সেই তালিকা অনুযায়ী কোথাও চেয়ারম্যান, কোথাও চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল এবার নিজের জেতা ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়াতে পারছেন না। ...

ডার্বির ইতিহাসে প্রথম পাঁচ গোলদাতার মধ্যে একমাত্র বাঙালি তিনি। আট ও নয়ের দশকে তাঁকে ঘিরে আবর্তিত হত সমর্থকদের স্বপ্ন। দুই প্রান্ত থেকে ভেসে আসা বল ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

উচ্চবিদ্যায় ভালো ফল হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে সুযোগ আসবে। কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭: সঙ্গীতশিল্পী কে এল সায়গলের মৃত্যু
১৯৭২: ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির জন্ম
১৯৯৬: রাজনীতিক ও অভিনেতা এন টি রামারাওয়ের মৃত্যু
২০০৩: কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের মৃত্যু
২০১৮ – বিশিষ্ট বাঙালি সাংবাদিক ও কার্টুনিস্ট চন্ডী লাহিড়ীর মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৭ টাকা ৭১.৮৭ টাকা
পাউন্ড ৯১.২২ টাকা ৯৪.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৬১ টাকা ৮০.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৪৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৮,৯৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ মাঘ ১৪২৬, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, নবমী ৫৪/৫ দিবা ৪/১। স্বাতী ৪৪/৪১ রাত্রি ১২/১৬। সূ উ ৬/২৩/৪, অ ৫/১০/৩৪, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫০ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৮ গতে ১০/২৭ মধ্যে পুনঃ ১২/১২ গতে ১/৫৮ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৩৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১/৭ গতে ২/২৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৮ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৪ গতে উদয়াবধি। 
৩ মাঘ ১৪২৬, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, অষ্টমী ৬/৩২/৩৮ দিবা ৯/২/৫৩। স্বাতী ৫২/৪১/৩১ রাত্রি ৩/৩০/২৬। সূ উ ৬/২৫/৫০, অ ৫/৯/৩২, অমৃতযোগ দিবা ১০/০ গতে ১২/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫৭ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ২/০ মধ্যে ও ২/৫২ গতে ৪/৩৬ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৬/১৯ মধ্যে ও ৩/৪৯/৪ গতে ৫/৯/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৪৯/৪ মধ্যে ও ৪/৪৬/১৮ গতে ৬/২৫/৫৫ মধ্যে। 
২২ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ট্যাংরায় গাড়ি পার্কিং এলাকায় ভেঙে পড়ল গেট, কিশোরীর মৃত্যু
ট্যাংরার ডি সি দে রোডের একটি গাড়ি পার্কিং এলাকায় গেট ...বিশদ

06:16:44 PM

মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি দুর্ঘটনা, গুরুতর জখম অভিনেত্রী শাবানা আজমি
মুম্বই-পুনে এক্সপ্রেসওয়েতে গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হলেন অভিনেত্রী শাবানা আজমি। ...বিশদ

05:25:00 PM

  কৃষি দপ্তরের কর্মীকে মারধরের অভিযোগ পঞ্চায়েত সহ সভাপতির বিরুদ্ধে
উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের কৃষি দপ্তরে কর্তব্যরত এক কর্মীকে মারধর করার ...বিশদ

03:39:00 PM

আলিপুরদুয়ারে গুপ্তধনের সন্ধান
গুপ্তধনের সন্ধান মিলল আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটার আলিনগরে। আজ শনিবার ১০০ দিনের ...বিশদ

03:28:46 PM

উত্তরপ্রদেশে খাটে বাঁধা মহিলার পোড়া দেহ উদ্ধার, মিলল কার্তুজও
খাটে বাঁধা মহিলার দগ্ধ দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল ...বিশদ

02:10:07 PM

  প্রদেশ কং আয়োজিত কর্মশালায় আজ শিক্ষকের ভূমিকায় চিদম্বরম
এবার শিক্ষকের ভূমিকা নিতে চলেছেন পি চিদম্বরম। আজ শনিবার নাগরিকত্ব ...বিশদ

01:56:21 PM