Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে। নাম হয়ে যাচ্ছে বিক্ষোভ। বদহজমের রোগী বমি করার পর যেমন স্বস্তি বোধ করেন, ঠিক তেমনই ক্ষোভ উগরে দিয়ে পাবলিকও কিছুটা হালকা হচ্ছে। বমি আর ক্ষোভের দুর্গন্ধ মারাত্মক। টেকা দায়। অনেকের আবার অন্যের দেখে নিজের পেয়ে যায়। কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে এমন ভাব দেখাতে হয়, এ তো হতেই পারে। বিচক্ষণরা সেটাই করছেন। অনেকে আবার দুর্গন্ধের ভয়ে পোষ্যদের ঘেরাটোপে ‘জনসংযোগ’ সারছেন। গোছা গোছা ছবি পোস্ট করছেন। তবে, এই ‘জননেতা’দের উদ্ধার করার ক্ষমতা টিম পিকে কেন, স্বয়ং গোবিন্দেরও নেই। কিন্তু দুর্গন্ধ কোনওরকমে সহ্য করে হজমের দাওয়াই দিতে পারলেই ‘দিদিকে বলো’ তখন টনিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিপিএমের ‘নেগেটিভ’ ভোটের সৌজন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেছিলেন। অনেকেই বলেছিলেন, ‘এই একবারই।’ তৃণমূলের দ্বিতীয়বারের ক্ষমতা দখল নিয়ে সন্দেহ ছিল দলের অনেক নেতা-কর্মীর মনেও। তাই পাঁচ বছর পর এলেবেলে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই প্রথম ইনিংসে খুল্লামখুল্লা খেলার সাহস পাননি। তখন সংগঠনও তেমন দানা বাঁধেনি। সিপিএমের ভূত তাড়া করছে। সবসময় কী হয়, কী হয় একটা ভাব।
ফলে নেতারা ছিলেন সংযত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন প্রকল্পের দৌলতে লক্ষ লক্ষ বেনিফিসিয়ারি তৈরি করে ফেলায় ২০১৬ সালে তৃণমূল হই হই করে জিতে যায়। আর তারপরই নেতাদের ডানা গজানোর শুরু। ‘প্রোটিনে’ ভরপুর নেতাদের ডানার দ্রুত বৃদ্ধিতে নিজেরাই চমকে গেলেন। ভাবতে লাগলেন, আর বোধহয় মাটিতে নামতে হবে না। উড়ে উড়েই কেটে যাবে বাকি জীবনটা। কিন্তু পিকের হ্যাঁচকা টানে ওই ‘উড়নচণ্ডী’ নেতারা একে একে মাটিতে ল্যান্ডিং করতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে ‘সফ্ট ল্যান্ডিং’ খুব কমই হচ্ছে। ‘হার্ড ল্যান্ডিং’ এর পর অনেকেরই ‘বিক্রম’-এর মতো দশা।
গাড়ি বা যে কোনও যন্ত্র বাজারে ছাড়ার আগে সমস্ত কিছু পরীক্ষার পর যেভাবে ‘টেস্টেড ওকে’ ছাপ মারা হয়, ঠিক সেভাবেই পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। ২০২১ সালে মার্কেটে ছাড়ার আগে ‘পাবলিক ল্যাবরেটরি’তে টেস্টিং শুরু হয়েছে। সেই পরীক্ষা দিতে গিয়েই অনেকের ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। কমোড ও এসিতে অভ্যস্ত জননেতাদের পক্ষে গ্রামে গিয়ে কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন যে কী ভয়ঙ্কর কষ্টের, তা অনেকেই টের পাচ্ছেন। কেউ মশার কামড় সহ্য করতে না পেরে বাড়ি বদল করছেন, কেউ আবার কর্মীর বাড়িতে কোনওরকমে রাতটা কাটিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই কমোডের সন্ধানে পাড়ি দিচ্ছেন। তবে বুদ্ধিমানদের ব্যাপারটা আলাদা, তাঁরা কিন্তু যাওয়ার আগে থেকেই পেট পরিষ্কারের প্রযুক্তির সন্ধান নিয়েই বেরচ্ছেন।
উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার এক বিধায়ক তো ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে জোর বিপাকে পড়ে গিয়েছেন। ওই নেতা ভেবেছিলেন, চালাকির দ্বারাই মহৎ কাজটি সেরে ফেলবেন। কর্মীর বাড়িতে রাত্রিযাপন না করেই কর্মসূচি পালনের রিপোর্ট দিলেন। কিন্তু টিম খবর দিল, বিধায়ক বাড়িতেই ছিলেন। রিপোর্ট পেয়েই বিধায়ককে ফোন, যে বাড়িতে গিয়েছিলেন, সেই কর্মীর ফোন নম্বর দিন। বিধায়কের চটজলদি জবাব, ‘কর্মী খুবই গরিব, ফোন নেই।’ পাল্টা বলা হয়, ঠিকানা বলুন। তখন তো বিধায়কের ‘ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে’ অবস্থা। ভুল স্বীকার করে সে যাত্রায় রক্ষা পান।
ফুটবলের ময়দানে পিকের ভোকাল টনিক যেভাবে ঝিমিয়ে পড়া খেলোয়াড়দেরও তাতিয়ে তুলত, একইভাবে ভোটের মাঠের পিকেও টোটকা দিয়ে বেতোদের টাট্টু বানানোর চেষ্টা করছেন। পারবেন কি না, সেটা সময়ই বলবে। তবে অধিকাংশ তৃণমূল বিধায়কের ধারণা, বিধানসভা ভোটের টিকিটে প্রশান্ত কিশোরের টিমের ভূমিকা থাকবে। তাই অনেক ‘বেতো’ ঘোড়াও ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি পালনের জন্য দৌড়চ্ছে।
এতদিন যাঁরা টিকিট বিলির আগে কলকাতায় ক্যাম্প করে থেকে নিজাম প্যালেসে, তৃণমূল ভবনে দাদা ধরতেন, এবার তাঁরা বুঝে গিয়েছেন, দিন বদলেছে, খেটে খেতে হবে। পাবলিক মৌমাছির মতো ছেঁকে ধরবে, হুল ফোটাবে বুঝেও এলাকায় যাচ্ছেন। অনেকের অবস্থা নাক টিপে, চোখ বুঝে খালি পেটে করলার রস খাওয়ার মতো। চোখের সামনে ভাসছে কয়লা, পাথর, বালি, বোল্ডার, আরও কত কিছু।
জনসংযোগ যাত্রায় সব চেয়ে বিপাকে পড়েছেন ‘ভাড়াটিয়া বিধায়করা’। যাঁরা জেলা শহরের বাসিন্দা হয়েও লবির জোরে গ্রামীণ এলাকার টিকিট জোগাড় করে বিধায়ক হয়েছেন। তাঁদের এক জায়গায় চাষ, অন্য জায়গায় বাস। ফলে জমির সঙ্গে তাঁদের তেমন সম্পর্ক নেই। এই সব বিধায়কের ভূমিকা অনেকটা জমি ভাগে দিয়ে ফসলের ভাগ নেওয়ার মতো। পৈত্রিকসূত্রে জমির মালিক হয়ে বসে আছেন, কিন্তু জমির আল মাড়ান না। তবে, ভাগের ফসল ঠিক ঘরে ঢুকে যাচ্ছে। অধিকাংশ ‘ভাড়াটে বিধায়কে’র এলাকা দেখভালের জন্য একজন করে ভাগচাষি আছেন। তাঁদের সাদা পাজামা আর পাঞ্জাবিই সম্বল। পাশে পাবলিকের ‘প’ পর্যন্ত নেই। কিন্তু, তাঁরাই এলাকায় ছড়ি ঘোরান। দায়িত্ব পেয়েই দলের দক্ষ নেতাকে টাইট দিতে নেমে পড়েন। প্রশাসনিক সভায় তাঁরাই যান। বিধায়ক তহবিলের টাকা খরচের দায়িত্বও তাঁদের। কিন্তু অধিকাংশ প্রতিনিধি এতটাই ‘পারদর্শী’ যে সরকার উন্নয়নের স্বার্থে টাকা দিলেও তা খরচ করতে পারেন না।
পিকের কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বেশ কিছু ‘ভাড়াটে বিধায়ক’ বিপাকে পড়ছেন। শহরের ঝলমলে জীবন ছেড়ে অজ গাঁয়ে গিয়ে রাত কাটাতে হচ্ছে, প্রশ্নবাণে ক্ষতবিক্ষত হতে হচ্ছে। প্রশ্ন তো নয়, এক একটা যেন বুলেট। কাটমানি, তোলাবাজি থেকে কেন ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও জলের ব্যবস্থা হল না, কেন রাস্তায় আলো জ্বলল না, কেন বালি পাচার বন্ধ হচ্ছে না? এমন সব চোখা চোখা প্রশ্নে বিব্রত বহু বিধায়কের মুখে কেবল ‘জানতাম না তো, দেখছি... অ তাই বুঝি’ ছাড়া কোনও শব্দ বেরচ্ছে না।
অনেকেই বলছেন, ‘ভাড়াটে বিধায়ক’দের জন্য নৈশযাপন ও জনসংযোগ কর্মসূচি দ্বিগুণ করা হোক। কারণ তাঁরা প্রচারের সময় যেখান থেকে দাঁড়াচ্ছেন, সেই নির্বাচনী কেন্দ্রকে ‘সেকেন্ড হোম’ বলে দাবি করে থাকেন। সেই কেন্দ্রে বাড়ি ভাড়া করে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলছে, জেতার পর অধিকাংশ বিধায়কই দলীয় কর্মসূচি ছাড়া সেখানে পা রাখেন না। তাই এবার লোকসভা নির্বাচনে অধিকাংশ ‘ভাড়াটে বিধায়কে’র কেন্দ্রেই তৃণমূলের বেশি বিপর্যয় ঘটেছে।
তবে, যাঁরা নিয়মিত নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন, তাঁদের কাছে ‘দিদিকে বলো’ আর্শীবাদের কাজ করছে। এলাকার লোকজন বিধায়ককে ছোটখাটো সমস্যার কথা বলতে পারছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যার চটজলদি সমাধানও হয়ে যাচ্ছে। হুগলি জেলার এক বিধায়ক জনসংযোগ কর্মসূচিতে গিয়ে আদিবাসী পাড়ায় রাত কাটানোর সময় শুনলেন, এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন রেশন কার্ডের জন্য আবেদন করেও কার্ড পাননি। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, তিন মাস আগে তাঁর রেশনকার্ড বিডিও অফিসে এসে পড়ে রয়েছে। দু’দিনের মধ্যে তাঁর কাছে কার্ড পৌঁছে যাওয়ায় তিনি ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির গুণকীর্তন করে বেড়াচ্ছেন।
‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির একটা বিষয় কিন্তু নেতাদের বেশ ভাবাচ্ছে। ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দাবিও জানাচ্ছেন। অধিকাংশ বিধায়কই তাঁদের দাবি লিখে নিচ্ছেন। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে বিধায়করা অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ও প্রভাবশালী। সেই বিধায়করা তাঁদের দাবি ও নামঠিকানা লিখে নেওয়ায় অনেকেই ভাবছেন, এবার সমস্যার সমাধান হবে। তাই এই সব দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি চালু হওয়ার পর কেউ কেউ নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন করে সুফল পেয়েছেন। আর সেসব ঘটনা ফলাও করে প্রচার হওয়ায় অনেকেই ভাবছেন, ‘দিদিকে বলো’ হল মুশকিল আসান। একবার ফোন লাগাতে পারলেই কাজ হাসিল। ‘দিদিকে বলো’ মানুষের মধ্যে কেমন প্রভাব ফেলেছে, তা একটা ঘটনার কথা উল্লেখ করলে কিছুটা বোঝা যাবে।
কয়েকদিন আগে পরিচিত অবসরপ্রাপ্ত এক অধ্যাপিকা ‘দিদিকে বলো’র ফোন নম্বর জানতে চাইলেন। তাঁর গলায় উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট। তিনি বললেন, তাঁর পরিচিত কলকাতার এক বৃদ্ধাকে ছেলে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। ওই বৃদ্ধা নিরুপায় হয়ে থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু ছেলে এলাকায় শাসক দলের দাপুটে নেতা। তাই পুলিস পাত্তা দিচ্ছে না। খুব অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটছে। তাই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ‘দিদিকে বলো’ নম্বরে ফোন করতে চান।
উপেক্ষা আর অবহেলায় অভ্যস্ত মানুষজন অনেকেই প্রতিকারের আশায় ৯১৩৭০৯১৩৭০ নম্বরে ফোন করছেন। কর্মসূচি শুরুর একদিনের মধ্যে প্রায় এক লক্ষ ফোনকল প্রমাণ করে, এখনও মমতা নামটির উপর মানুষের ভরসা রয়েছে। তাঁরা বিশ্বাস করেন, দিদির কানে পৌঁছে দিতে পারলেই সুরাহা মিলবে। কেউ কেউ হয়তো ফোন করে প্রতিকারও পাচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়। এটা একটা কর্মসূচি। জনগণের রায়ে নির্বাচিতদের মানুষের মুখোমুখি করানোর কর্মসূচি। প্রশান্ত কিশোর হয়তো উপলব্ধি
করেছেন, বিধায়কদের জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারলেই, ভোট ফিরবে তৃণমূলে। তাই বেড়ে যাওয়া ডানা ছেঁটে মাটিতে নামিয়ে আনার চেষ্টা। কারণ ঘাসফুল ফোটে মাটিতেই। 
05th  October, 2019
তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

29th  March, 2020
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই এবং তারপর
পি চিদম্বরম

আপনি এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ভারত এগতে পারল না কি পিছনে পড়ে গেল। সরকার ব্যস্ত ভিডিও কনফারেন্সে, আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং করোনা থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশিকা (হাত জীবাণুমুক্ত করা, নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং মাস্ক পরা) জারিতে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

 এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে।
বিশদ

22nd  March, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: বুধবার দিল্লি থেকে হরিরামপুরে ফিরলেন চারজন। তাঁরা প্রত্যেকেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর ব্লকের হাড়িপুকর এলাকার বাসিন্দা। ভিনরাজ্যে কাজের জন্য গিয়েছিলেন।   ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: করোনা পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে লকডাউন চলাকালীন ১০০ শতাংশ বকেয়া কৃষিঋণ আদায় করে নজির গড়ল কাঁথির দইসাই সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি। বকেয়া ১ কোটি টাকার বেশি কৃষিঋণ আদায় করেছে সমিতি। দেশজুড়ে লকডাউন চলায় সকলেই গৃহবন্দি।   ...

লন্ডন, ১ এপ্রিল: কোভিড-১৯ থমকে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে খেলার দুনিয়াও। গৃহবন্দি দশায় হাঁপিয়ে উঠেছেন খেলোয়াড়রা। আর তার থেকে খানিক মুক্তি পেতে অভিনব ...

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: বড় বড় হাসপাতালগুলিকে করোনা যুদ্ধে শামিল হওয়ার আহ্বান করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুযায়ী এবার কলকাতার বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলির তালিকা প্রস্তুত করছে রাজ্য।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের ধৈর্য্য ধরতে হবে। প্রেম-প্রণয়ে আগ্রহ বাড়বে। নিকটস্থানীয় কারও প্রতি আকর্ষণ বাড়বে। পুরোনো কোনও বন্ধুর ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯০২: ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খানের জন্ম
১৯৩৩: ক্রিকেটার রনজিৎ সিংজির মৃত্যু
১৯৬৯: অভিনেতা অজয় দেবগনের জন্ম 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৬৪ টাকা ৭৬.৩৬ টাকা
পাউন্ড ৭৬.৩৬ টাকা ৯৪.৮৪ টাকা
ইউরো ৮১.৭৩ টাকা ৮৪.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
01st  April, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ চৈত্র ১৪২৬, ১ এপ্রিল ২০২০, বুধবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) অষ্টমী ৫৫/১৯ রাত্রি ৩/৪১। আর্দ্রা ৩৪/৫০ রাত্রি ৭/২৯। সূ উ ৫/৩৩/১, অ ৫/৪৮/১১, অমৃতযোগ দিবা ৭/১২ মধ্যে পুনঃ ৯/৩৮ গতে ১১/১৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২১ গতে ৪/২৯ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৬ মধ্যে ১০/৩০ মধ্যে। বারবেলা ৮/৩৬ গতে ১০/৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪১ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ২/৩৬ গতে ৪/৪ মধ্যে।
১৮ চৈত্র ১৪২৬, ১ এপ্রিল ২০২০, বুধবার, অষ্টমী ৪১/১৫/৩৫ রাত্রি ১০/৪/৫৮। আর্দ্রা ২২/৩০/৫২ দিবা ২/৩৫/৫। সূ উ ৫/৩৪/৪৪, অ ৫/৪৮/৩১। অমৃতযোগ দিবা ৭/১২ মধ্যে ও ৯/৩২ গতে ১১/১২ মধ্যে ও ৩/২১ গতে ৫/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৫৫ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৫/৩৪ মধ্যে। কালবেলা ৮/৩৮/১১ গতে ১০/৯/৫৪ মধ্যে।
 ৭ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়াল 

12:02:29 AM

বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াল 

09:45:51 PM

মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে সোহিনীর এক লক্ষ 
করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর ...বিশদ

08:27:27 PM

দেশে করোনা আক্রান্ত ২৩৩১ জন, মৃত ৭৩: পিটিআই 

07:35:43 PM

রাজ্যে বর্তমানে সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ জন, নবান্নে জানালেন  মুখ্যসচিব
বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ করোনা মোকাবিলায় নবান্নে স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ...বিশদ

06:34:00 PM

আজ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানে বৃষ্টির সম্ভাবনা 

06:32:00 PM