Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ পঞ্চমী। কাল বোধন। কলাবউ স্নানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যাবে এবারের দুর্গোৎসব। সেই শিউলিতলা নাইবা রইল, শিশির ভেজা ঘাসের বুকে ঝরা ফুলের সে অপূর্ব কারুকাজ না হয় কেবল স্মৃতিই জাগাল, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা না হয় কেউ নাই ভাসাল, গ্রাম গ্রামান্ত ছোঁয়া ওই রাঙা মাটির পথে প্রান্তরে নদীর পাড়ে না হয় আগমনির দোতারা সেভাবে নাই শোনা গেল, নগর মহানগরে সংকট-সমস্যা ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাদলার ভ্রুকুটি আর কটু রাজনীতির নরম-গরম বাতাবরণে বাঙালি তার স্বভাবসিদ্ধ শান্ত-অধীর প্রকল্প-পরিকল্পনার চাপা উত্তেজনাময় প্রহর গণনার অবসর সেভাবে না হয় নাই বা পেল—কী এসে যায় তাতে! অরুণ রাঙা চরণ ফেলে তাঁর অপ্রতিরোধ্য মহাআবির্ভাব আজ অনিবার্য। কদিন আগে মহালয়ার ভোরে মহামায়া বন্দনার যে সূত্রপাত ঘটেছিল (মহালয়া মহামায়ার সম্পর্ক থাকুক আর নাই থাকুক) আজ তার চূড়ান্ত স্ফূর্তির মুহূর্ত সমাগত। আজ মহাপঞ্চমী। হতেই পারে—আকাশে কোথাও কোথাও নিম্নচাপ রেখা এখনও শেষ বেলার খেল দেখাবার অপেক্ষায় ওত পেতে আর তাই ক্ষণে ক্ষণে মানুষের মন আবহাওয়া অফিসের হাওয়া মোরগের মতো পাশ ফিরছে, বুঝে নিতে চাইছে পরিস্থিতির পূর্বাভাস, শারদবৃষ্টির অনুকম্পায় আর আকাশের মুখভঙ্গির প্রণোদনায় নিত্যদিনের বাজারও আগাম তাপ বাড়াচ্ছে, আগামী কদিনের জন্য সত্তরের পেঁয়াজের মতো মারাত্মক সব গোলাবারুদ সংগ্রহ করে রাখছে!
কিন্তু তাতেই বা কী! পুজো শুরু হয়ে গেল এবং আসমুদ্র হিমাচল বাংলায় বাঙালির সংবৎসরের মহানন্দের উৎসবের ঢাক বাজতে শুরু করে দিয়েছে। এখন আগামী পাঁচ দিন শোক দুঃখ অভাব অভিযোগ রাজনীতির লড়াই ঝামেলার ঘরে তালা মেরে আপামর বাঙালি নেমে পড়বে পথে। উৎসবের ভিড় স্রোতের আশ্চর্য আলোড়নে উদ্বেল হবে নগর মহানগর গ্রাম মফস্‌সল, বড়লোকের প্রাসাদ থেকে গরিবের পর্ণকুটির। মধ্যবিত্তের প্রায় বৈচিত্র্যহীন নিত্যযাত্রাতেও লাগবে অভিনবত্বের টান, মল থেকে মণ্ডপে তাঁদের সেই অভিনবত্ব কোথাও প্রতিমা ছাপিয়ে চোখ টানলেও আশ্চর্যের কিছু নেই! বাংলার পুজো মানেই তো চকঝমকের পাল্লাদারি, ‘আধুনিকতা’র নতুন নতুন দিগন্তের উন্মোচন, আর কে কত ‘প্রগতিশীল’ সাজ পোশাকে খাওয়াদাওয়ায় আদবকায়দায় আর খোলামেলা মেলামেশায় তার কম্পিটিশন! তাই নয় কি? তাই। পুজোর লড়াইয়ের চেয়ে আজকের বাঙালিজনের (!) সেইসব লড়াই তো কম আকর্ষণীয় নয়। এবং বলতে কী কখনও কখনও বঙ্গজীবনের সেই অদৃষ্টপূর্ব অনির্বচনীয় দৃশ্যরূপ আমাদের মতো অকিঞ্চিৎকর সাধারণের নয়ন প্রকৃত অর্থেই ভুলিয়ে ছাড়ে! দেখার আবেশ কাটতেই মন বলে ওঠে অহো! আমি কী হেরিলাম নয়ন মেলে!
আজ বলে নয়, বিগত বেশ কয়েকবছরের পুজো অভিজ্ঞতা তাই বলে। বলে না কি? আমি এর ভালোমন্দের ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না। ওটা সমাজতাত্ত্বিক পণ্ডিতজনের বিবেচ্য। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাঙালির এই সর্বাত্মক কম্পিটিশন প্রবণতা পুজোরসিকের চিত্তে আনন্দের বাড়তি ভোজ জোটায়, চিরকালের পুজোর পরিসরের চাঁদোয়ার চারদিকে একটা যেমন খুশি সাজো ‘কার্নিভালে’র বর্ণচ্ছটা যোগ করে। পথেঘাটে রেস্তোরাঁয় মলে আর মণ্ডপে মণ্ডপে তো অবশ্যই—এই বিচিত্র বাঙালি মনোরঞ্জনের এক নয়া রেসিপি। এবার তাতে অভিনবত্বের নতুন কোন মাত্রা যুক্ত হয় তা দেখার জন্য এখন আমাদের মতো অসংখ্য কৌতূহলী আর পাঁচটা বছরের মতো এবারও মনে মনে অধীর। আমার এক রসিক বন্ধুর কথায়, জুড়াইতে চাই কোথায় জুড়াই বলে প্রতিদিনের বুকচাপা কান্না দমফাটা হাসিতে ভরিয়ে দিতে এমন দাওয়াই মহামায়ার চেম্বারেও মেলে না! লক্ষ্মী গণেশ কার্তিক সরস্বতী মায় মা দুর্গাও এই নয়া বাঙালির কাছে সাজপোশাকেই বল কি হাবেভাবে খানাপিনায় একদম ডাহা ফেল! শিব ঠাকুর খানিকটা হয়তো পাল্লা দিতে পারতেন কিন্তু তিনি তো ত্রিগুণাতীত হয়ে ঘুমিয়ে ঝিমিয়েই দিন কটা কাটিয়ে দেন! তাই বলছি, মানো ইয়া না মানো—মৃত্যুঞ্জয়ী বাঙালির মতো এই চির-রঞ্জিত বাঙালিও আমাদের গর্ব আমাদের ঐশ্বর্য! প্যান্ডেল প্রতিমা আলোর কারুকাজের অসাধারণত্ব কোথায় কেমন তা দেখতে মানুষ যখন উত্তর থেকে পশ্চিম দক্ষিণ থেকে পুব রাত দিন ভুলে আড়ে বেড়ে তোলপাড় করে তখন তাঁদের পরিশ্রান্ত ঘর্মাক্ত ক্ষুধাকাতর শরীরে-মনে নতুন জোশ জাগিয়ে দিতে অব্যর্থ এই নয়া বাঙালি দাওয়াই। কথা শেষ করেই বন্ধুটি চোখ মটকে হাসলেন। তাৎপর্য ব্যাখ্যা বাহুল্য।
পুজোর দিনে এমন মজা স্বাভাবিক। কিন্তু, এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রথম থেকে বলে আসছেন, কোনও অবস্থাতেই বাংলায় এনআরসি হতে দেবেন না তিনি। বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। কারও ক্ষেত্রে কোনও নড়চড় হবে না। তা সত্ত্বেও আতঙ্কের একটা বাতাবরণ যেন ছেয়ে আছে উত্তর দক্ষিণ উভয় বঙ্গেই! এনআরসি আতঙ্কে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে, দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে সে তালিকা—এমন অভিযোগে ভারী হচ্ছে পুজোর বাতাস। আর এনআরসি চিন্তায় যাঁদের ঘর ইতিমধ্যেই শূন্য হয়েছে, স্বজন হারিয়েছেন প্রিয়জন, পুজোর আনন্দ তাঁদের প্রাণ কতটা ছুঁয়ে যাবে তা নিয়ে সংশয় থাকে বইকি! আর বউবাজার কাণ্ডে ঘর হারানো হোটেলবাসী পরিবারগুলি? তাঁরাও কি পারবেন মন প্রাণ এক করে আগামী কটা দিন পুজোর স্রোতে গা ভাসাতে? মহামায়ার জাদুতে অনেক মনই বাড়তি বল পেয়ে অনেক কঠিন দুঃখ দূরে ঠেলে এই আনন্দে শামিল হন। কিন্তু! ওই একটা কিন্তুর কাঁটা এখানেও রয়ে যায়—সবাই পারেন না, পারেন না সঙ্গত কারণেই। এদিকে বছর ঘুরলেই কলকাতা পুরভোট। আর তারপরই রাজ্য বিধানসভা দখলের লড়াইয়ের সাজগোজ শুরু। ফলে চলতি বছরটাতে পশ্চিমবঙ্গে কিছু বেশি রাজনৈতিক সক্রিয়তা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে লোকসভা ভোটে বিজেপির সাম্প্রতিক উত্থানের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় বিরোধীবিহীন এই একাধিপত্যের রাজ্যে যে বিরোধীর আবির্ভাব ঘটেছে তাতে সন্দেহ নেই। সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতা ও মমতার দলের সঙ্গে সমানে সমানে যুঝতে পারার মতো নেতাকর্মীর অভাব সত্ত্বেও পদ্ম-সেনাপতি দিলীপ ঘোষ ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা এর মধ্যেই দফায় দফায় যথেষ্ট উত্তেজনার আমদানি ঘটিয়েছেন বঙ্গ রাজনীতিতে। বোঝাই যাচ্ছে, লক্ষ্য তাঁদের ২০২১। গেরুয়া শিবিরের এই জঙ্গি মনোভাবে এখনও তেমন ভাবিত না হলেই প্রশান্ত কিশোরের দাওয়াই নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতাও রাজনৈতিক শত্রুদমনে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি রূপায়ণে তৎপর হয়েছেন। রাজীব কুমারের জামিন তাতে হয়তো স্বস্তির অতিরিক্ত ইন্ধন দিয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে এনআরসির মতো রাজনীতির এই টানাপোড়েনও যেন কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুজোর বাসরে! পুজো উদ্বোধনে এসে অমিত শাহের বক্তব্যে রাজনীতি উঠে আসায় কাঁটার তীক্ষ্ণতা বেড়েছে নিঃসন্দেহে! যাদবপুর কাণ্ডে রাজ্যপালের ভূমিকা ও পুজো উদ্বোধনে তাঁর বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক! সাধারণজনের মহলেও তার ছায়া পড়েছে! এবং এসব কিছু ছাপিয়ে বাজারের আগুনে চেহারা তো আছেই! বন্ধুর কথায়—বাজার তো না যেন হাড়িকাঠ! রোজ বলি হতে হচ্ছে! অথচ, যে সরকার পশু বলি বন্ধে সক্রিয় সে সরকার কেন বাজারে বলি ঠেকাতে নামে না! আসলে সরকারও জানে, আমরা গরিব মধ্যবিত্ত সব অমর। শতবার বলি দিলেও আমরা ফিরে ফিরে বলিকাঠের কাছে যেতে ডরাব না! সেদিক থেকে দেখলে আমরা কেবল পুজোর আনন্দ উপভোক্তাই নই একটা আবশ্যিক উপকরণও বটে—কী বলেন? আর এই নিত্যযন্ত্রণার কথা মাথায় রাখলে বলতেই হয়, মা, আমরা তো ভুলেই আছি। তাহলে আর কেন নতুন করে নয়ন ভোলাতে আসো?
বন্ধুর এই সকৌতুক প্রশ্নের কোনও সোজাসাপটা উত্তর যে হয় না সেটা সকলেই বোঝেন। কারণ, আমরা সকলেই মানি মা দুর্গা প্রতি বছর এসে এই সময়টায় আমাদের যন্ত্রণা অভাব সব ভুলিয়ে দেন বলেই আমরা বছরভর লড়াই করার রসদ পাই। অনাদরে অবহেলায় আর উচ্চকিত উৎকেন্দ্রিকতায় বাঙালির গিয়েছে তা অনেক কিছুই, সভ্যতায় সংস্কৃতিতে ভাষায় ভাবে আকারে প্রকারে। তবু এখনও তো আছে কিছু—অমূল্য মহৎ মহানন্দময়। দিনের বাজারে আগুনে ঝলসানো কি দরের বলির যন্ত্রণার চেয়ে শত সহস্র নিযুত কোটিগুণ সে আনন্দে বছরে একবার স্নান ছাড়া বাঙালির অবশিষ্টটুকু বাঁচবে কীভাবে! অতএব মহামায়ার বোধনের প্রাক্‌লগ্নে স্বাগত মহাপঞ্চমীর আনন্দস্নান।
 
03rd  October, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন অনুসরণীয়
মোহন ভাগবত

ভারতের আধুনিক ইতিহাস তথা স্বাধীন ভারতের উত্থানের কাহিনীতে যেসব মহান ব্যক্তির নাম চিরকালের জন্য লেখা হয়ে আছে, যা সেই সনাতন কাল থেকে চলে আসা ভারতের ঐতিহাসিক গাথার এক একটি অধ্যায় হয়ে যাবে, পূজ্য মহাত্মা গান্ধীর নাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভারতবর্ষ আধ্যাত্মিক দেশ এবং আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতেই তার উত্থান হবে।  
বিশদ

02nd  October, 2019
দুর্গাপুজোর আঙিনায় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ 

বঙ্গাব্দ ১২৭৭। রানি রাসমণি নেই। পরিবারের কর্তা জামাতা মথুরমোহন বিশ্বাস। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব এসেছেন জানবাজারে দুর্গাপুজো উপলক্ষে। ঠাকুরের উপস্থিতিতে সেই বাড়ি তখন আনন্দস্রোতে প্রবাহিত হয়ে আনন্দধামে পরিণত।   বিশদ

01st  October, 2019
এনআরসি: বাঙালির নয়া আতঙ্ক এবং অপমান
হারাধন চৌধুরী 

বাঙালির যেন আতঙ্ক-লগ্নে জন্ম। একটা আতঙ্ক যায়, আবার একটা এসে জোটে। নতুন আতঙ্কের নাম এনআরসি। এনআরসি-আতঙ্ক গ্রাস করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকেও। বাঙালিকে নতুন করে নাগরিকত্বের পরীক্ষায় বসতে হবে।   বিশদ

01st  October, 2019
গান্ধী, পৃথিবী, পরিবেশ
রঞ্জন সেন

এনভায়রনমেন্ট, ইকোলজি এসব কথা গান্ধী কোন দিন ব্যবহার না করলেও তাঁর চিন্তা চেতনা ও কাজের একটা বড় এলাকা জুড়ে রয়েছে পরিবেশ। গ্রাম স্বরাজ থেকে অহিংসা, চরকা থেকে স্বনির্ভরতা কোন কিছুই যেন পরিবেশ ছাড়া সম্পূর্ণ হয়না। অথচ ঘোষিত পরিবেশবাদী বলতে যা বোঝায় তা তিনি কোনদিনই ছিলেন না। 
বিশদ

30th  September, 2019
মা দুর্গা ও মেয়ে দুর্গা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

দুর্গাপুজো এলে কখনও কখনও একটা ছোট মেয়ের কথা মনে পড়ে যে তার বাবার সঙ্গে ঠাকুর গড়া দেখতে বাঙালি আখড়ায় যেত। ঠাকুর গড়া দেখতে যাবার সূত্রে পুজোর অনেক আগেই তার মনে এক পুজো পুজো ভাব এসে যেত। আখড়ায় সার বেঁধে বহু প্রতিমা গড়া হতো। কলকাতার কারিগর এসে সেখানে প্রতিমা গড়তেন। মেয়েটির চোখের সামনে খড়বাঁধা কাঠামোয় মাটি চাপত, রং পড়ত ও ধীরে ধীরে সপরিবারে মা দুর্গা রূপ পরিগ্রহ করতেন। ... প্রতিমার অঙ্গে ক্রমে বস্ত্র ও আভরণ উঠত, তাঁর দশহস্তে, আয়ুধগুলি স্থান পেত। সেই প্রতিমায় যখন পুজো হতো তখন তাতে প্রাণের যোগ ঘটত। 
বিশদ

30th  September, 2019
পুজোয় অনলাইন প্রক্সি
অতনু বিশ্বাস

প্রচেষ্টাটায় বেশ চমক আছে নিঃসন্দেহে। পুজোতে এই অনলাইন প্রক্সির ইতিবৃত্ত যে প্রবাসী এবং অনাবাসী বাঙালিদের কলকাতার পুজোর আওতায় আনার একটা প্রচেষ্টা, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে একে প্রবাসী কিংবা অনাবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, তার কোনও বাধ্যবাধকতা অবশ্যই নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা বৃদ্ধ, অসুস্থ, অশক্ত, ভিড়ভাট্টায় পুজো প্যান্ডেলে ঘুরতে অসমর্থ, তাঁরাও তো দিব্যি ভার্চুয়াল পুজোর শরিক হতে পারেন। আর শুধু যাঁরা অসমর্থ তাঁরাই বা কেন, যাঁরা ভিড়ের স্রোতে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁরাও কেন নন? কে আটকাচ্ছে?
বিশদ

29th  September, 2019
পুজো এসে গেল
শুভা দত্ত

দিন গোনা শেষ। বছরভর প্রতীক্ষার অবসান। গতকাল মহালয়ার ভোর ফুটতেই এবারের দেবীপক্ষের সূচনা হয়ে গেল। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজো, মানে মহামায়া বন্দনার উদ্‌যোগ-আয়োজনের ফাইনাল রাউন্ড। আর সেইসঙ্গেই বাঙালির সংবৎসরের সবচেয়ে বড় উৎসব—শারদোৎসবের ঢাকেও কার্যত কাঠি পড়ে গেল। শহর মহানগর থেকে গ্রাম গ্রামান্ত পাড়ায়-পাড়ায় মাঠে-ঘাটে, পথে-রাজপথে এবার শুরু হয়ে যাবে পুজোর প্রতিমা-মণ্ডপের উদ্বোধন। 
বিশদ

29th  September, 2019
বালুচিস্তানের যন্ত্রণা
নিয়ে কিছু বলুন!
মৃণালকান্তি দাস

 ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। বালুচিস্তানের দেরা বুগতি জেলার গৈন্ধরি গ্রামে তখন সূর্য উঠেছে মাত্র। হঠাৎ আকাশ কাঁপিয়ে ধেয়ে এসেছিল ১০টি পাকিস্তানি বেল এইচ হেলিকপ্টার। মুহূর্তেই আকাশ থেকে গুলি ও বোমা ছুটে এসেছিল গৈন্ধরি গ্রামের উপর। বিশদ

27th  September, 2019


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট। দূর ভ্রমণের সুযোগ। অর্থ প্রাপ্তির যোগ। যে কোনও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪০- ‘দি বিটলস’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা, গায়ক জন লেননের জন্ম
১৯৪৫- সারোদবাদক আমজাদ আলি খানের জন্ম
১৯৪৫- অভিনেত্রী সুমিতা সান্যালের জন্ম
১৯৬৭- কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব চে গেভারার মৃত্যু
২০১৫- সংগীত পরিচালক রবীন্দ্র জৈনের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার    
পাউন্ড    
ইউরো    
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
05th  October, 2019

দিন পঞ্জিকা

১৮ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ১০/৪৫ দিবা ৯/৫১। মূলা ১৯/২৪ দিবা ১/১৮। সূ উ ৫/৩২/৪৫, অ ৫/১৭/৫৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ মধ্যে পুনঃ ৭/৭ গতে ৯/২৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ২/৫৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৪ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৩৯ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ৭/০ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৪ গতে ২/২৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৬/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/০ গতে উদয়াবধি। 
১৭ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ২১/২৭/৩৯ দিবা ২/৮/০। মূলা ৩১/৪৭/১২ রাত্রি ৬/১৫/৪৯, সূ উ ৫/৩২/৫৬, অ ৫/১৯/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৩ মধ্যে ও ৭/৯ গতে ৯/২৭ মধ্যে ও ১১/৪৬ গতে ২/৫০ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৩৭ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ১২/৫৪/৩৬ গতে ২/২২/৫৫ মধ্যে, কালবেলা ৭/১/১৬ মধ্যে ও ৩/৫১/১৬ গতে ৫/১৯/৩৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫১/১৬ মধ্যে ও ৪/১/১৬ গতে ৫/৩৩/১৮ মধ্যে। 
মোসলেম: ৫ শফর 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এবছর রসায়নে নোবেল পাচ্ছেন জন বি গুডএনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম ও আকিরা ইয়োশিনো 

03:42:41 PM

মালদহের বৈষ্ণবনগরে নৌকাডুবি, মৃত ৩ 
ঠাকুর দেখতে যাওয়ার সময় নৌকাডুবি। ঘটনাটি ঘটে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার ...বিশদ

03:18:19 PM

৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়াল কেন্দ্র, উপকৃত হবেন ৫০ লক্ষ কর্মী ও ৬২ লক্ষ পেনশনভোগী 

02:30:04 PM

ফলতার রামনগরে বিসর্জনের বাজি বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, জখম ২ শ্রমিক 

01:20:11 PM

কেতুগ্রামের শ্রীরামপুর দুর্গা প্রতিমার গয়না চুরি, চাঞ্চল্য 

12:21:00 PM

রায়গঞ্জে যুবতীর শ্লীলতাহানি ঘিরে ধুন্ধুমার 
এক যুবতীর শ্লীলতাহানির অভিযোগকে ঘিরে ধুন্ধুমার বাধল রায়গঞ্জ শহরের বকুলতলা ...বিশদ

12:07:44 PM