Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ পঞ্চমী। কাল বোধন। কলাবউ স্নানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যাবে এবারের দুর্গোৎসব। সেই শিউলিতলা নাইবা রইল, শিশির ভেজা ঘাসের বুকে ঝরা ফুলের সে অপূর্ব কারুকাজ না হয় কেবল স্মৃতিই জাগাল, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা না হয় কেউ নাই ভাসাল, গ্রাম গ্রামান্ত ছোঁয়া ওই রাঙা মাটির পথে প্রান্তরে নদীর পাড়ে না হয় আগমনির দোতারা সেভাবে নাই শোনা গেল, নগর মহানগরে সংকট-সমস্যা ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাদলার ভ্রুকুটি আর কটু রাজনীতির নরম-গরম বাতাবরণে বাঙালি তার স্বভাবসিদ্ধ শান্ত-অধীর প্রকল্প-পরিকল্পনার চাপা উত্তেজনাময় প্রহর গণনার অবসর সেভাবে না হয় নাই বা পেল—কী এসে যায় তাতে! অরুণ রাঙা চরণ ফেলে তাঁর অপ্রতিরোধ্য মহাআবির্ভাব আজ অনিবার্য। কদিন আগে মহালয়ার ভোরে মহামায়া বন্দনার যে সূত্রপাত ঘটেছিল (মহালয়া মহামায়ার সম্পর্ক থাকুক আর নাই থাকুক) আজ তার চূড়ান্ত স্ফূর্তির মুহূর্ত সমাগত। আজ মহাপঞ্চমী। হতেই পারে—আকাশে কোথাও কোথাও নিম্নচাপ রেখা এখনও শেষ বেলার খেল দেখাবার অপেক্ষায় ওত পেতে আর তাই ক্ষণে ক্ষণে মানুষের মন আবহাওয়া অফিসের হাওয়া মোরগের মতো পাশ ফিরছে, বুঝে নিতে চাইছে পরিস্থিতির পূর্বাভাস, শারদবৃষ্টির অনুকম্পায় আর আকাশের মুখভঙ্গির প্রণোদনায় নিত্যদিনের বাজারও আগাম তাপ বাড়াচ্ছে, আগামী কদিনের জন্য সত্তরের পেঁয়াজের মতো মারাত্মক সব গোলাবারুদ সংগ্রহ করে রাখছে!
কিন্তু তাতেই বা কী! পুজো শুরু হয়ে গেল এবং আসমুদ্র হিমাচল বাংলায় বাঙালির সংবৎসরের মহানন্দের উৎসবের ঢাক বাজতে শুরু করে দিয়েছে। এখন আগামী পাঁচ দিন শোক দুঃখ অভাব অভিযোগ রাজনীতির লড়াই ঝামেলার ঘরে তালা মেরে আপামর বাঙালি নেমে পড়বে পথে। উৎসবের ভিড় স্রোতের আশ্চর্য আলোড়নে উদ্বেল হবে নগর মহানগর গ্রাম মফস্‌সল, বড়লোকের প্রাসাদ থেকে গরিবের পর্ণকুটির। মধ্যবিত্তের প্রায় বৈচিত্র্যহীন নিত্যযাত্রাতেও লাগবে অভিনবত্বের টান, মল থেকে মণ্ডপে তাঁদের সেই অভিনবত্ব কোথাও প্রতিমা ছাপিয়ে চোখ টানলেও আশ্চর্যের কিছু নেই! বাংলার পুজো মানেই তো চকঝমকের পাল্লাদারি, ‘আধুনিকতা’র নতুন নতুন দিগন্তের উন্মোচন, আর কে কত ‘প্রগতিশীল’ সাজ পোশাকে খাওয়াদাওয়ায় আদবকায়দায় আর খোলামেলা মেলামেশায় তার কম্পিটিশন! তাই নয় কি? তাই। পুজোর লড়াইয়ের চেয়ে আজকের বাঙালিজনের (!) সেইসব লড়াই তো কম আকর্ষণীয় নয়। এবং বলতে কী কখনও কখনও বঙ্গজীবনের সেই অদৃষ্টপূর্ব অনির্বচনীয় দৃশ্যরূপ আমাদের মতো অকিঞ্চিৎকর সাধারণের নয়ন প্রকৃত অর্থেই ভুলিয়ে ছাড়ে! দেখার আবেশ কাটতেই মন বলে ওঠে অহো! আমি কী হেরিলাম নয়ন মেলে!
আজ বলে নয়, বিগত বেশ কয়েকবছরের পুজো অভিজ্ঞতা তাই বলে। বলে না কি? আমি এর ভালোমন্দের ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না। ওটা সমাজতাত্ত্বিক পণ্ডিতজনের বিবেচ্য। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাঙালির এই সর্বাত্মক কম্পিটিশন প্রবণতা পুজোরসিকের চিত্তে আনন্দের বাড়তি ভোজ জোটায়, চিরকালের পুজোর পরিসরের চাঁদোয়ার চারদিকে একটা যেমন খুশি সাজো ‘কার্নিভালে’র বর্ণচ্ছটা যোগ করে। পথেঘাটে রেস্তোরাঁয় মলে আর মণ্ডপে মণ্ডপে তো অবশ্যই—এই বিচিত্র বাঙালি মনোরঞ্জনের এক নয়া রেসিপি। এবার তাতে অভিনবত্বের নতুন কোন মাত্রা যুক্ত হয় তা দেখার জন্য এখন আমাদের মতো অসংখ্য কৌতূহলী আর পাঁচটা বছরের মতো এবারও মনে মনে অধীর। আমার এক রসিক বন্ধুর কথায়, জুড়াইতে চাই কোথায় জুড়াই বলে প্রতিদিনের বুকচাপা কান্না দমফাটা হাসিতে ভরিয়ে দিতে এমন দাওয়াই মহামায়ার চেম্বারেও মেলে না! লক্ষ্মী গণেশ কার্তিক সরস্বতী মায় মা দুর্গাও এই নয়া বাঙালির কাছে সাজপোশাকেই বল কি হাবেভাবে খানাপিনায় একদম ডাহা ফেল! শিব ঠাকুর খানিকটা হয়তো পাল্লা দিতে পারতেন কিন্তু তিনি তো ত্রিগুণাতীত হয়ে ঘুমিয়ে ঝিমিয়েই দিন কটা কাটিয়ে দেন! তাই বলছি, মানো ইয়া না মানো—মৃত্যুঞ্জয়ী বাঙালির মতো এই চির-রঞ্জিত বাঙালিও আমাদের গর্ব আমাদের ঐশ্বর্য! প্যান্ডেল প্রতিমা আলোর কারুকাজের অসাধারণত্ব কোথায় কেমন তা দেখতে মানুষ যখন উত্তর থেকে পশ্চিম দক্ষিণ থেকে পুব রাত দিন ভুলে আড়ে বেড়ে তোলপাড় করে তখন তাঁদের পরিশ্রান্ত ঘর্মাক্ত ক্ষুধাকাতর শরীরে-মনে নতুন জোশ জাগিয়ে দিতে অব্যর্থ এই নয়া বাঙালি দাওয়াই। কথা শেষ করেই বন্ধুটি চোখ মটকে হাসলেন। তাৎপর্য ব্যাখ্যা বাহুল্য।
পুজোর দিনে এমন মজা স্বাভাবিক। কিন্তু, এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রথম থেকে বলে আসছেন, কোনও অবস্থাতেই বাংলায় এনআরসি হতে দেবেন না তিনি। বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। কারও ক্ষেত্রে কোনও নড়চড় হবে না। তা সত্ত্বেও আতঙ্কের একটা বাতাবরণ যেন ছেয়ে আছে উত্তর দক্ষিণ উভয় বঙ্গেই! এনআরসি আতঙ্কে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে, দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে সে তালিকা—এমন অভিযোগে ভারী হচ্ছে পুজোর বাতাস। আর এনআরসি চিন্তায় যাঁদের ঘর ইতিমধ্যেই শূন্য হয়েছে, স্বজন হারিয়েছেন প্রিয়জন, পুজোর আনন্দ তাঁদের প্রাণ কতটা ছুঁয়ে যাবে তা নিয়ে সংশয় থাকে বইকি! আর বউবাজার কাণ্ডে ঘর হারানো হোটেলবাসী পরিবারগুলি? তাঁরাও কি পারবেন মন প্রাণ এক করে আগামী কটা দিন পুজোর স্রোতে গা ভাসাতে? মহামায়ার জাদুতে অনেক মনই বাড়তি বল পেয়ে অনেক কঠিন দুঃখ দূরে ঠেলে এই আনন্দে শামিল হন। কিন্তু! ওই একটা কিন্তুর কাঁটা এখানেও রয়ে যায়—সবাই পারেন না, পারেন না সঙ্গত কারণেই। এদিকে বছর ঘুরলেই কলকাতা পুরভোট। আর তারপরই রাজ্য বিধানসভা দখলের লড়াইয়ের সাজগোজ শুরু। ফলে চলতি বছরটাতে পশ্চিমবঙ্গে কিছু বেশি রাজনৈতিক সক্রিয়তা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে লোকসভা ভোটে বিজেপির সাম্প্রতিক উত্থানের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় বিরোধীবিহীন এই একাধিপত্যের রাজ্যে যে বিরোধীর আবির্ভাব ঘটেছে তাতে সন্দেহ নেই। সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতা ও মমতার দলের সঙ্গে সমানে সমানে যুঝতে পারার মতো নেতাকর্মীর অভাব সত্ত্বেও পদ্ম-সেনাপতি দিলীপ ঘোষ ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা এর মধ্যেই দফায় দফায় যথেষ্ট উত্তেজনার আমদানি ঘটিয়েছেন বঙ্গ রাজনীতিতে। বোঝাই যাচ্ছে, লক্ষ্য তাঁদের ২০২১। গেরুয়া শিবিরের এই জঙ্গি মনোভাবে এখনও তেমন ভাবিত না হলেই প্রশান্ত কিশোরের দাওয়াই নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতাও রাজনৈতিক শত্রুদমনে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি রূপায়ণে তৎপর হয়েছেন। রাজীব কুমারের জামিন তাতে হয়তো স্বস্তির অতিরিক্ত ইন্ধন দিয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে এনআরসির মতো রাজনীতির এই টানাপোড়েনও যেন কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুজোর বাসরে! পুজো উদ্বোধনে এসে অমিত শাহের বক্তব্যে রাজনীতি উঠে আসায় কাঁটার তীক্ষ্ণতা বেড়েছে নিঃসন্দেহে! যাদবপুর কাণ্ডে রাজ্যপালের ভূমিকা ও পুজো উদ্বোধনে তাঁর বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক! সাধারণজনের মহলেও তার ছায়া পড়েছে! এবং এসব কিছু ছাপিয়ে বাজারের আগুনে চেহারা তো আছেই! বন্ধুর কথায়—বাজার তো না যেন হাড়িকাঠ! রোজ বলি হতে হচ্ছে! অথচ, যে সরকার পশু বলি বন্ধে সক্রিয় সে সরকার কেন বাজারে বলি ঠেকাতে নামে না! আসলে সরকারও জানে, আমরা গরিব মধ্যবিত্ত সব অমর। শতবার বলি দিলেও আমরা ফিরে ফিরে বলিকাঠের কাছে যেতে ডরাব না! সেদিক থেকে দেখলে আমরা কেবল পুজোর আনন্দ উপভোক্তাই নই একটা আবশ্যিক উপকরণও বটে—কী বলেন? আর এই নিত্যযন্ত্রণার কথা মাথায় রাখলে বলতেই হয়, মা, আমরা তো ভুলেই আছি। তাহলে আর কেন নতুন করে নয়ন ভোলাতে আসো?
বন্ধুর এই সকৌতুক প্রশ্নের কোনও সোজাসাপটা উত্তর যে হয় না সেটা সকলেই বোঝেন। কারণ, আমরা সকলেই মানি মা দুর্গা প্রতি বছর এসে এই সময়টায় আমাদের যন্ত্রণা অভাব সব ভুলিয়ে দেন বলেই আমরা বছরভর লড়াই করার রসদ পাই। অনাদরে অবহেলায় আর উচ্চকিত উৎকেন্দ্রিকতায় বাঙালির গিয়েছে তা অনেক কিছুই, সভ্যতায় সংস্কৃতিতে ভাষায় ভাবে আকারে প্রকারে। তবু এখনও তো আছে কিছু—অমূল্য মহৎ মহানন্দময়। দিনের বাজারে আগুনে ঝলসানো কি দরের বলির যন্ত্রণার চেয়ে শত সহস্র নিযুত কোটিগুণ সে আনন্দে বছরে একবার স্নান ছাড়া বাঙালির অবশিষ্টটুকু বাঁচবে কীভাবে! অতএব মহামায়ার বোধনের প্রাক্‌লগ্নে স্বাগত মহাপঞ্চমীর আনন্দস্নান।
 
03rd  October, 2019
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
নয়া স্থিতাবস্থা যুবসমাজকে রুষ্ট করছে
পি চিদম্বরম

এই ২০২০ সালের ভারতকে ১৯৬৮ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেখাচ্ছে। ১৯৬৮-তে ফ্রান্সের পরিস্থিতিও অনুরূপ ছিল। আমার মনে আছে ১৯৬৮-তে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজকর্ম ভেঙে পড়েছিল। আর এই বিপর্যয় থেকে দেশকে উদ্ধারের দায়িত্ব বর্তেছিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর। ১৯৬৮-র এই যে বিরাট সঙ্কট তার মূল কারণ ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ।  
বিশদ

13th  January, 2020
স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে মানুষের কথা বলাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম
হিমাংশু সিংহ

আজ ১২ জানুয়ারি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তারকাখচিত বাঙালি জাতির ইতিহাসে মহামানবের জন্মদিনের তালিকা কম দীর্ঘ নয়। তার মধ্যেও তিন শ্রেষ্ঠ ভারতসন্তানের জন্মদিনের মাহাত্ম্য শতবর্ষ পরেও প্রতিবছরই গোটা জাতিকে আবেগে শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমজন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  
বিশদ

12th  January, 2020
সরকারি প্রকল্প বনাম ভোট মেরুকরণ
তন্ময় মল্লিক

বিজেপির ভোট মেরুকরণের রাজনীতি মোকাবিলার একমাত্র হাতিয়ার সামাজিক প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা বাড়ানো। সে কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির ফিডব্যাক বলছে, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং বাংলা আবাস যোজনায় ঘরের চাহিদা প্রচুর।
বিশদ

11th  January, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মাড়গ্রাম থানার বিষ্ণুপুর গ্রামে বিয়ের আট মাসের মাথায় এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, পেশায় দিনমজুর মৃত যুবকের নাম রাজীব মণ্ডল(২৫)। মাস আটেক আগে মুর্শিদাবাদের প্রথমকান্দি গ্রামে তাঁর বিয়ে হয়।  ...

ইসলামাবাদ, ১৮ জানুয়ারি (পিটিআই): মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান পারভেজ মোশারফের আবেদন ফিরিয়ে দিল পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের তরফে বলা হয়েছে, আগে মোশারফকে আত্মসমর্পণ করতে হবে, তারপর আদালত তাঁর কোনও আবেদন শুনবে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারের কাছ থেকে ধান নিয়ে ভানিয়ে চাল না দেওয়ায় রাজ্যের বেশ কয়েকটি রাইস মিলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চলছে। কয়েকজন রাইস মিল মালিক এই অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছেন। অভিযুক্ত রাইস মিলগুলিকে ফৌজদারি মামলা থেকে বেরিয়ে আসার শেষ সুযোগ দিচ্ছে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিনেমা তৈরি করতে আগ্রহীদের জন্য সুখবর। এবার বিনামূল্যে ফিল্মমেকিং শেখাবে রামোজি ফাউন্ডেশন। হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে এই কোর্সের সুযোগ দিচ্ছে সংস্থার রামোজি অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন। ৩ মাসের এই ফ্রি কোর্সে মূলত চারটি বিষয় শেখানো হবে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

বেশি বন্ধু-বান্ধব রাখা ঠিক হবে না। প্রেম-ভালোবাসায় সাফল্য আসবে। বিবাহযোগ আছে। কর্ম পরিবেশ পরিবর্তন হতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭: সঙ্গীতশিল্পী কে এল সায়গলের মৃত্যু
১৯৭২: ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির জন্ম
১৯৯৬: রাজনীতিক ও অভিনেতা এন টি রামারাওয়ের মৃত্যু
২০০৩: কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের মৃত্যু
২০১৮ – বিশিষ্ট বাঙালি সাংবাদিক ও কার্টুনিস্ট চন্ডী লাহিড়ীর মৃত্যু

18th  January, 2020




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৭ টাকা ৭১.৮৭ টাকা
পাউন্ড ৯১.২২ টাকা ৯৪.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৬১ টাকা ৮০.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  January, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ মাঘ ১৪২৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দশমী ৫১/১১ রাত্রি ২/৫২। বিশাখা ৪৩/১৫ রাত্রি ১১/৪১। সূ উ ৬/২৩/১, অ ৫/১১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৬ গতে ৯/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫৫ গতে ৮/৪১ মধ্যে। বারবেলা ১০/৩৬ গতে ১/৮ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
৪ মাঘ ১৪২৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, নবমী ১/২৯/১৮ প্রাতঃ ৭/১/৩৬ পরে দশমী ৫৭/৪/৫ শেষরাত্রি ৫/১৫/৩১। বিশাখা ৪৯/৫১/৯ রাত্রি ২/২২/২১। সূ উ ৬/২৫/৫৩, অ ৫/১০/৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ গতে ১০/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪ গতে ৮/৪৮ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৭/৫৮ গতে ১/৮/৩০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/২৭/২৭ গতে ৩/৬/৫৫ মধ্যে। 
মোসলেম: ২৩ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ভারত অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৭ উইকেটে জিতল

09:12:25 PM

ভারত ২৩৫/২ (৪২ ওভার) , টার্গেট ২৮৭ 

08:40:48 PM

ভারত ১৩৮/১ (২৭ ওভার) , টার্গেট ২৮৭ 

07:39:39 PM

কলকাতা ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ গোলে হারাল মোহন বাগান 

07:36:41 PM

বড় ম্যাচের বিরতিতে মোগন বাগান ১ ইস্টবেঙ্গল ০ 

06:02:43 PM

ভারতকে ২৮৭ রানের টার্গেট দিল অস্ট্রেলিয়া 

05:21:19 PM