Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আজ পঞ্চমী। কাল বোধন। কলাবউ স্নানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যাবে এবারের দুর্গোৎসব। সেই শিউলিতলা নাইবা রইল, শিশির ভেজা ঘাসের বুকে ঝরা ফুলের সে অপূর্ব কারুকাজ না হয় কেবল স্মৃতিই জাগাল, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা না হয় কেউ নাই ভাসাল, গ্রাম গ্রামান্ত ছোঁয়া ওই রাঙা মাটির পথে প্রান্তরে নদীর পাড়ে না হয় আগমনির দোতারা সেভাবে নাই শোনা গেল, নগর মহানগরে সংকট-সমস্যা ক্ষোভ-বিক্ষোভ বাদলার ভ্রুকুটি আর কটু রাজনীতির নরম-গরম বাতাবরণে বাঙালি তার স্বভাবসিদ্ধ শান্ত-অধীর প্রকল্প-পরিকল্পনার চাপা উত্তেজনাময় প্রহর গণনার অবসর সেভাবে না হয় নাই বা পেল—কী এসে যায় তাতে! অরুণ রাঙা চরণ ফেলে তাঁর অপ্রতিরোধ্য মহাআবির্ভাব আজ অনিবার্য। কদিন আগে মহালয়ার ভোরে মহামায়া বন্দনার যে সূত্রপাত ঘটেছিল (মহালয়া মহামায়ার সম্পর্ক থাকুক আর নাই থাকুক) আজ তার চূড়ান্ত স্ফূর্তির মুহূর্ত সমাগত। আজ মহাপঞ্চমী। হতেই পারে—আকাশে কোথাও কোথাও নিম্নচাপ রেখা এখনও শেষ বেলার খেল দেখাবার অপেক্ষায় ওত পেতে আর তাই ক্ষণে ক্ষণে মানুষের মন আবহাওয়া অফিসের হাওয়া মোরগের মতো পাশ ফিরছে, বুঝে নিতে চাইছে পরিস্থিতির পূর্বাভাস, শারদবৃষ্টির অনুকম্পায় আর আকাশের মুখভঙ্গির প্রণোদনায় নিত্যদিনের বাজারও আগাম তাপ বাড়াচ্ছে, আগামী কদিনের জন্য সত্তরের পেঁয়াজের মতো মারাত্মক সব গোলাবারুদ সংগ্রহ করে রাখছে!
কিন্তু তাতেই বা কী! পুজো শুরু হয়ে গেল এবং আসমুদ্র হিমাচল বাংলায় বাঙালির সংবৎসরের মহানন্দের উৎসবের ঢাক বাজতে শুরু করে দিয়েছে। এখন আগামী পাঁচ দিন শোক দুঃখ অভাব অভিযোগ রাজনীতির লড়াই ঝামেলার ঘরে তালা মেরে আপামর বাঙালি নেমে পড়বে পথে। উৎসবের ভিড় স্রোতের আশ্চর্য আলোড়নে উদ্বেল হবে নগর মহানগর গ্রাম মফস্‌সল, বড়লোকের প্রাসাদ থেকে গরিবের পর্ণকুটির। মধ্যবিত্তের প্রায় বৈচিত্র্যহীন নিত্যযাত্রাতেও লাগবে অভিনবত্বের টান, মল থেকে মণ্ডপে তাঁদের সেই অভিনবত্ব কোথাও প্রতিমা ছাপিয়ে চোখ টানলেও আশ্চর্যের কিছু নেই! বাংলার পুজো মানেই তো চকঝমকের পাল্লাদারি, ‘আধুনিকতা’র নতুন নতুন দিগন্তের উন্মোচন, আর কে কত ‘প্রগতিশীল’ সাজ পোশাকে খাওয়াদাওয়ায় আদবকায়দায় আর খোলামেলা মেলামেশায় তার কম্পিটিশন! তাই নয় কি? তাই। পুজোর লড়াইয়ের চেয়ে আজকের বাঙালিজনের (!) সেইসব লড়াই তো কম আকর্ষণীয় নয়। এবং বলতে কী কখনও কখনও বঙ্গজীবনের সেই অদৃষ্টপূর্ব অনির্বচনীয় দৃশ্যরূপ আমাদের মতো অকিঞ্চিৎকর সাধারণের নয়ন প্রকৃত অর্থেই ভুলিয়ে ছাড়ে! দেখার আবেশ কাটতেই মন বলে ওঠে অহো! আমি কী হেরিলাম নয়ন মেলে!
আজ বলে নয়, বিগত বেশ কয়েকবছরের পুজো অভিজ্ঞতা তাই বলে। বলে না কি? আমি এর ভালোমন্দের ব্যাখ্যায় যাচ্ছি না। ওটা সমাজতাত্ত্বিক পণ্ডিতজনের বিবেচ্য। কিন্তু অস্বীকার করার উপায় নেই যে বাঙালির এই সর্বাত্মক কম্পিটিশন প্রবণতা পুজোরসিকের চিত্তে আনন্দের বাড়তি ভোজ জোটায়, চিরকালের পুজোর পরিসরের চাঁদোয়ার চারদিকে একটা যেমন খুশি সাজো ‘কার্নিভালে’র বর্ণচ্ছটা যোগ করে। পথেঘাটে রেস্তোরাঁয় মলে আর মণ্ডপে মণ্ডপে তো অবশ্যই—এই বিচিত্র বাঙালি মনোরঞ্জনের এক নয়া রেসিপি। এবার তাতে অভিনবত্বের নতুন কোন মাত্রা যুক্ত হয় তা দেখার জন্য এখন আমাদের মতো অসংখ্য কৌতূহলী আর পাঁচটা বছরের মতো এবারও মনে মনে অধীর। আমার এক রসিক বন্ধুর কথায়, জুড়াইতে চাই কোথায় জুড়াই বলে প্রতিদিনের বুকচাপা কান্না দমফাটা হাসিতে ভরিয়ে দিতে এমন দাওয়াই মহামায়ার চেম্বারেও মেলে না! লক্ষ্মী গণেশ কার্তিক সরস্বতী মায় মা দুর্গাও এই নয়া বাঙালির কাছে সাজপোশাকেই বল কি হাবেভাবে খানাপিনায় একদম ডাহা ফেল! শিব ঠাকুর খানিকটা হয়তো পাল্লা দিতে পারতেন কিন্তু তিনি তো ত্রিগুণাতীত হয়ে ঘুমিয়ে ঝিমিয়েই দিন কটা কাটিয়ে দেন! তাই বলছি, মানো ইয়া না মানো—মৃত্যুঞ্জয়ী বাঙালির মতো এই চির-রঞ্জিত বাঙালিও আমাদের গর্ব আমাদের ঐশ্বর্য! প্যান্ডেল প্রতিমা আলোর কারুকাজের অসাধারণত্ব কোথায় কেমন তা দেখতে মানুষ যখন উত্তর থেকে পশ্চিম দক্ষিণ থেকে পুব রাত দিন ভুলে আড়ে বেড়ে তোলপাড় করে তখন তাঁদের পরিশ্রান্ত ঘর্মাক্ত ক্ষুধাকাতর শরীরে-মনে নতুন জোশ জাগিয়ে দিতে অব্যর্থ এই নয়া বাঙালি দাওয়াই। কথা শেষ করেই বন্ধুটি চোখ মটকে হাসলেন। তাৎপর্য ব্যাখ্যা বাহুল্য।
পুজোর দিনে এমন মজা স্বাভাবিক। কিন্তু, এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রথম থেকে বলে আসছেন, কোনও অবস্থাতেই বাংলায় এনআরসি হতে দেবেন না তিনি। বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। কারও ক্ষেত্রে কোনও নড়চড় হবে না। তা সত্ত্বেও আতঙ্কের একটা বাতাবরণ যেন ছেয়ে আছে উত্তর দক্ষিণ উভয় বঙ্গেই! এনআরসি আতঙ্কে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে, দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে সে তালিকা—এমন অভিযোগে ভারী হচ্ছে পুজোর বাতাস। আর এনআরসি চিন্তায় যাঁদের ঘর ইতিমধ্যেই শূন্য হয়েছে, স্বজন হারিয়েছেন প্রিয়জন, পুজোর আনন্দ তাঁদের প্রাণ কতটা ছুঁয়ে যাবে তা নিয়ে সংশয় থাকে বইকি! আর বউবাজার কাণ্ডে ঘর হারানো হোটেলবাসী পরিবারগুলি? তাঁরাও কি পারবেন মন প্রাণ এক করে আগামী কটা দিন পুজোর স্রোতে গা ভাসাতে? মহামায়ার জাদুতে অনেক মনই বাড়তি বল পেয়ে অনেক কঠিন দুঃখ দূরে ঠেলে এই আনন্দে শামিল হন। কিন্তু! ওই একটা কিন্তুর কাঁটা এখানেও রয়ে যায়—সবাই পারেন না, পারেন না সঙ্গত কারণেই। এদিকে বছর ঘুরলেই কলকাতা পুরভোট। আর তারপরই রাজ্য বিধানসভা দখলের লড়াইয়ের সাজগোজ শুরু। ফলে চলতি বছরটাতে পশ্চিমবঙ্গে কিছু বেশি রাজনৈতিক সক্রিয়তা অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে লোকসভা ভোটে বিজেপির সাম্প্রতিক উত্থানের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রায় বিরোধীবিহীন এই একাধিপত্যের রাজ্যে যে বিরোধীর আবির্ভাব ঘটেছে তাতে সন্দেহ নেই। সাংগঠনিক কিছু দুর্বলতা ও মমতার দলের সঙ্গে সমানে সমানে যুঝতে পারার মতো নেতাকর্মীর অভাব সত্ত্বেও পদ্ম-সেনাপতি দিলীপ ঘোষ ও তাঁর সঙ্গীসাথীরা এর মধ্যেই দফায় দফায় যথেষ্ট উত্তেজনার আমদানি ঘটিয়েছেন বঙ্গ রাজনীতিতে। বোঝাই যাচ্ছে, লক্ষ্য তাঁদের ২০২১। গেরুয়া শিবিরের এই জঙ্গি মনোভাবে এখনও তেমন ভাবিত না হলেই প্রশান্ত কিশোরের দাওয়াই নিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতাও রাজনৈতিক শত্রুদমনে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি রূপায়ণে তৎপর হয়েছেন। রাজীব কুমারের জামিন তাতে হয়তো স্বস্তির অতিরিক্ত ইন্ধন দিয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে এনআরসির মতো রাজনীতির এই টানাপোড়েনও যেন কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুজোর বাসরে! পুজো উদ্বোধনে এসে অমিত শাহের বক্তব্যে রাজনীতি উঠে আসায় কাঁটার তীক্ষ্ণতা বেড়েছে নিঃসন্দেহে! যাদবপুর কাণ্ডে রাজ্যপালের ভূমিকা ও পুজো উদ্বোধনে তাঁর বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক! সাধারণজনের মহলেও তার ছায়া পড়েছে! এবং এসব কিছু ছাপিয়ে বাজারের আগুনে চেহারা তো আছেই! বন্ধুর কথায়—বাজার তো না যেন হাড়িকাঠ! রোজ বলি হতে হচ্ছে! অথচ, যে সরকার পশু বলি বন্ধে সক্রিয় সে সরকার কেন বাজারে বলি ঠেকাতে নামে না! আসলে সরকারও জানে, আমরা গরিব মধ্যবিত্ত সব অমর। শতবার বলি দিলেও আমরা ফিরে ফিরে বলিকাঠের কাছে যেতে ডরাব না! সেদিক থেকে দেখলে আমরা কেবল পুজোর আনন্দ উপভোক্তাই নই একটা আবশ্যিক উপকরণও বটে—কী বলেন? আর এই নিত্যযন্ত্রণার কথা মাথায় রাখলে বলতেই হয়, মা, আমরা তো ভুলেই আছি। তাহলে আর কেন নতুন করে নয়ন ভোলাতে আসো?
বন্ধুর এই সকৌতুক প্রশ্নের কোনও সোজাসাপটা উত্তর যে হয় না সেটা সকলেই বোঝেন। কারণ, আমরা সকলেই মানি মা দুর্গা প্রতি বছর এসে এই সময়টায় আমাদের যন্ত্রণা অভাব সব ভুলিয়ে দেন বলেই আমরা বছরভর লড়াই করার রসদ পাই। অনাদরে অবহেলায় আর উচ্চকিত উৎকেন্দ্রিকতায় বাঙালির গিয়েছে তা অনেক কিছুই, সভ্যতায় সংস্কৃতিতে ভাষায় ভাবে আকারে প্রকারে। তবু এখনও তো আছে কিছু—অমূল্য মহৎ মহানন্দময়। দিনের বাজারে আগুনে ঝলসানো কি দরের বলির যন্ত্রণার চেয়ে শত সহস্র নিযুত কোটিগুণ সে আনন্দে বছরে একবার স্নান ছাড়া বাঙালির অবশিষ্টটুকু বাঁচবে কীভাবে! অতএব মহামায়ার বোধনের প্রাক্‌লগ্নে স্বাগত মহাপঞ্চমীর আনন্দস্নান।
 
03rd  October, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধানের নাড়া পোড়ানো নিষিদ্ধ করল রাজ্য সরকার। প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ধান কাটার পর নাড়া তুলে ফেলতে হবে, পুড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ধানের নাড়া পোড়ানোর জন্যই দূষণ মারাত্মক আকার নিচ্ছে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া হতে দেরি হওয়ার অভিযোগে বুধবার বিকেলে ফুলেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভাঙচুর চালাল রোগীর আত্মীয়রা। এই ঘটনাকে ...

 রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেইরেস চান, কোনও দেশের সরকারই যেন বিভেদমূলক আইন কার্যকর না করে। তবে, ভারতের লোকসভায় পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। ...

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গণে অস্থায়ীভাবে ক্রিকেট পিচ করা হল। শহরের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্যই অস্থায়ীভাবে এই পিচ করেছে শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদ। স্টেডিয়াম থেকে ক্রিকেট খেলা চাঁদমনির মাঠে স্থানান্তর করার পর অনেক অসুবিধায় পড়তে হয় শিলিগুড়ি ক্রিকেট খেলোয়াড়দের।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১১: রদ হল বঙ্গভঙ্গ
১৯১১: নতুন রাজ্য হল বিহার ও ওড়িশা
১৯১১: কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল দিল্লিতে
১৯৫০: অভিনেতা রজনীকান্তের জন্ম
১৯৫৭: পূর্ব রেলে ইএমইউ ট্রেনযাত্রা চালু
২০০৫: পরিচালক রামানন্দ সাগরের মূত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৪ টাকা ৭১.৭৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৭ টাকা ৯৪.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৫ টাকা ৮০.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/১৯ দিবা ১০/৪২। রোহিণী ০/২৮ দিবা ৬/২২। সূ উ ৬/১০/৪৫, অ ৪/৪৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪১ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৯ গতে ১/৯ মধ্যে।
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/৫৬/৫১ দিবা ১০/৫৯/৫। রোহিণী ২/৩৮/১৪ দিবা ৭/১৫/৩৯, সূ উ ৬/১২/২১, অ ৪/৪৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/২৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৪/৩৩ গতে ৬/১৩ মধ্যে, কালবেলা ২/১০/২১ গতে ৩/৩০/১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/১ গতে ১/১১/২১ মধ্যে।
১৪ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের বিদ্যুৎ বিভ্রাট মেট্রোয়
কলকাতা মেট্রোয় ফের বিদ্যুৎ বিভ্রাট। তার জেরে কিছুক্ষণের জন্য টানেলেই ...বিশদ

08:21:00 PM

অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

04:54:33 PM

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে গ্রেপ্তার যুব কং কর্মীরা 
ই-মলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হল যুব কং কর্মীদের। আজ, ...বিশদ

04:43:00 PM

সেক্টর ফাইভে ভুয়ো ডেটিং সাইট খুলে প্রতারণা, মুম্বইতে গ্রেপ্তার ৩ অভিযুক্ত 

04:26:00 PM

১৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:01:36 PM

 অনশন উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের
 অবশেষে উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন। টানা ৩২ দিন ধরে আন্দোলন, যার ...বিশদ

04:00:00 PM