Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

দুর্গাপুজোর আঙিনায় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ 

বঙ্গাব্দ ১২৭৭। রানি রাসমণি নেই। পরিবারের কর্তা জামাতা মথুরমোহন বিশ্বাস। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব এসেছেন জানবাজারে দুর্গাপুজো উপলক্ষে। ঠাকুরের উপস্থিতিতে সেই বাড়ি তখন আনন্দস্রোতে প্রবাহিত হয়ে আনন্দধামে পরিণত। তার উপর মথুরমোহন শ্রীরামকৃষ্ণকে ইষ্টজ্ঞানে ‘বাবা’ ডাকতেন। ঠাকুর আর মা সারদামণির প্রতি মথুরবাবু আর তাঁর স্ত্রী জগদম্বা দেবীর শ্রদ্ধা, ভক্তি, অনুরাগ পবিত্র ধারার মতো স্বতোৎসারিত। মথুরনাথের জীবনের উপর শ্রীরামকৃষ্ণের প্রভাব অবিস্মরণীয়।
রানিনিবাসে শুরু হল মহামহোৎসব। ভক্তজন প্রিয় ঠাকুরের দিব্য উপস্থিতিতে ঘটা করে শুরু হল সপ্তমী পুজো। মথুরের আননে তখন আনন্দের আল্পনা। জানবাজার স্ফূর্ত ও দীপ্ত। মাতৃঅঙ্গন ভাবগাম্ভীর্যে পরিপূরিত। সেবার দুর্গতিহারিণী দেবীমূর্তি যেন বড় হাস্যময়ী, প্রাণময়ী ও আনন্দময়ী। পুণ্যার্থীরা ভাসতে থাকেন এক অনাস্বাদিত উপলব্ধির অমৃতপ্রবাহে। স্বামী সারদানন্দ ‘লীলাপ্রসঙ্গে’ লিখেছেন: ‘... প্রতিমা বাস্তবিকই জীবন্ত জ্যোতির্ময়ী হইয়া যেন হাসিতেছেন। আর ঐ প্রতিমাতে মা-র আবেশ ও ঠাকুরের দেবদুর্লভ শরীর-মনে মা-র আবেশ একত্র সম্মিলিত হওয়ায় পূজার দালানের বায়ুমণ্ডল কি একটা অনির্বচনীয়, অনির্দেশ্য সাত্ত্বিক ভাবপ্রকাশে পূর্ণ বলিয়া অতি জড়মনেরও অনুভূতি হইতেছে। দালান জম জম করিতেছে—উজ্জ্বল হইয়া উঠিয়াছে। ...সর্বত্র যেন সেই অদ্ভুত প্রকাশে অপূর্ব শ্রীধারণ করিয়াছে।’
সপ্তমী পূজান্তে মথুরবাবু সস্ত্রীক পদ্ম, কুমুদ, জবা ও বিল্বপত্র দিয়ে মহামাতৃকা মহিষাসুরমর্দিনী ও শ্রীরামকৃষ্ণের রাজীব চরণে বার বার পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করে ধন্য হলেন।
সন্ধ্যায় মায়ের আরতির প্রস্তুতি। মথুরবাবুর দেওয়া সুন্দর গরদের চেলি মেয়েদের মতো করে পরে ঠাকুর বসে আছেন অন্দরমহলে। জগন্মাতার সহচরী ভাবে উদ্দীপিত হয়ে দক্ষিণেশ্বরের পূজারি ঠাকুর নিজের পুরুষ শরীরের কথা আক্ষরিক বিস্মৃত হয়ে গেছেন। তাঁর দিব্যপ্রভা, প্রেমাবেশ ও সাত্ত্বিক বিকার যেই দর্শন করে কেউই আর চোখ ফিরিয়ে নিতে পারে না। মা দুর্গার আরতি শুরু হয়েছে। জগদম্বা দেবী শ্রীরামকৃষ্ণকে রমণী বেশে নিয়ে এলেন পুজোমণ্ডপে। সেখানে ঠাকুর কিছুটা প্রকৃতিস্থ হয়ে অন্যান্য মেয়ের সঙ্গে চামর ব্যজন করতে লাগলেন সহর্ষে। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। ধূপ, দীপ, ধূনা প্রজ্বলিত হওয়ায় মাতৃমন্দির সৌরভে আমোদিত। সে আরতি দেখতে সকলে ভক্তিভরে দাঁড়িয়ে। হঠাৎ মথুরবাবুর চোখে পড়ল তাঁর স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে সুন্দর বস্ত্র পরিহিতা সালংকারা এক অনিন্দ্যকান্তি মহিলা চামর দোলাচ্ছেন, কিন্তু বার বার সেই ভাবময়ীকে দেখেও তিনি চিনতে পারলেন না। আরতির পর মথুরবাবু অন্দরমহলে গিয়ে স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলেন; ‘আরতির সময় তোমার পাশে দাঁড়িয়ে যে চামর দোলাচ্ছিলেন, তিনি কে?’ জগদম্বা হেসে বললেন: ‘তুমি চিনতে পারলে না? ‘বাবা’ ভাবাবস্থায় এভাবে চামর করছিলেন। মেয়েদের মতো কাপড় পরলে বাবাকে পুরুষ বলে চেনে কার সাধ্য?’
এভাবে উৎসব মুখরিত সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীর দিনগুলিও সার্থক হয়ে ওঠে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের দিব্য উপস্থিতিতে। এবার বিজয়া দশমী। বিষাদের ছায়ার মধ্যে বিসর্জনের আয়োজন। সেবার দশমী খুব কম সময় থাকায় নির্দিষ্টকালে দশমীবিহিত পুজো শেষ করে সন্ধ্যার পর হবে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন। বিকেলে পুরোহিত মশাই মথুরবাবুর কাছে বলে পাঠালেন, মায়ের বিসর্জন যাত্রার আর দেরি নেই, বাবু যেন নীচে নেমে এসে দুর্গা-বন্দনা ও প্রণাম করে যান। একদিকে দশভুজার মহাপুজোর অনির্বচনীয় আনন্দ, অপরদিকে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের কয়েক দিনের উপস্থিতিতে তাঁর সান্নিধ্য লাভ—এই অভাবনীয় আনন্দে বিহ্বল ও আত্মহারা মথুরমোহন সেদিন যে বিজয়ার বিসর্জন সে-কথা অবলীলাক্রমে ভুলেই গিয়েছিলেন। পরে যখন বুঝে উঠলেন যে সেদিন বিজয়া দশমী, তখন নিরাশ আর মনোবেদনায় মুহ্যমান মথুরনাথ। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন মাকে আর বিসর্জন দিয়ে দুঃখ ডেকে আনবেন না। রাজামশাইয়ের দু’চোখ বেয়ে নামে অবিরত অশ্রুর ঢল।
এদিকে বিসর্জনের সময় পেরিয়ে যাচ্ছে দেখে পুরোহিত মশাই বার বার লোক পাঠিয়েও বিফল। তখন মথুরবাবু বলে উঠলেন, ‘আমি মাকে বিসর্জন কিছুতেই দিতে দেব না। যেমন পুজো হচ্ছে তেমনই পুজো চলবে। আমার অননুমোদনে কেউ যদি প্রতিমা বিসর্জন দেয়, তাহলে সাংঘাতিক বিপত্তি দেখা দেবে, খুনোখুনি পর্যন্ত হতে পারে।’ এই বার্তা গিয়ে পৌঁছাল দুর্গা দালানে। বাড়িতে সম্মাননীয়রা তখন অনেকেই উপস্থিত ছিলেন, সবাই এসে গৃহকর্তাকে অনেক বোঝালেন। কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা। মথুরবাবু নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে বরং উল্টে বললেন, ‘কেন? আমি মা’র নিত্যপুজো করব। মা’র কৃপায় আমার যখন সে ক্ষমতা আছে, তাহলে বিসর্জনই বা দেব কেন?’ উপায়হীন হয়ে তখন মথুর-গৃহিণী জগদম্বা দেবী শ্রীরামকৃষ্ণের শরণাগত হলেন। ঠাকুর মথুরবাবুর কাছে গিয়ে দেখেন, চোখ লাল করে গম্ভীর মুখে উদাস হয়ে মথুরনাথ ঘরের ভেতর পায়চারি করছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ মথুরের বুকে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন: ‘ও এই তোমার ভয়। একথা কে বলল যে, মাকে ছেড়ে তোমাকে থাকতে হবে? আর বিসর্জন দিলেও তিনি বা যাবেন কোথায়? মা এই তিনদিন ঠাকুর দালানে বসে তোমার পুজো নিয়েছেন। আজ থেকে তোমার আরও কাছে থেকে সর্বদা হৃদয়ে বসে তোমার পুজো নেবেন।’ অবশেষে ঠাকুরের স্পর্শানুভূতি ও মধুমাখা কথায় মথুরবাবু দমিত হলেন। রাজি হলেন তিনি মাকে বিসর্জন দিতে।
এবার আসি ভক্তবর সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের সিমুলিয়ার বাড়িতে দুর্গোৎসব প্রসঙ্গে। ১৮৮৫ সালের আশ্বিন মাস। শ্রীরামকৃষ্ণের শরীর খুবই খারাপ। চিকিৎসার জন্য ভক্তরা তাঁকে ‘শ্যামপুকুর বাটী’তে এনেছেন। ডা. মহেন্দ্রলাল সরকার ঠাকুরের চিকিৎসা ও সেবার দায়িত্ব নিয়েছেন। ক্রমে মহামায়ার আগমনগীতি দশদিক ভরে তুলল। সুরেন্দ্রনাথ মিত্রের বাড়িতে শুরু হল মহাসমারোহে দুর্গাপুজোর আয়োজন। খবর এল, অসুস্থ শরীর নিয়ে ঠাকুর আসতে পারবেন না। মুহ্যমান হলেন সুরেনবাবু। তবুও গুরুভ্রাতারা একত্র হয়ে মহানন্দে মুখর হলেন। এদিকে মহাষ্টমীর বিকালে অনেক ভক্ত এলেন ঠাকুরের কাছে।
ডা. সরকারের আসার কিছুক্ষণ পর নরেন্দ্রনাথ (স্বামী বিবেকানন্দ) তাঁর সুরেলা কণ্ঠে গাইলেন ভক্তিসঙ্গীত। সবাই তখন আনন্দে বিহ্বল। রাত্রি সাড়ে সাতটা বাজতেই ডাক্তারবাবু যখন উঠে দাঁড়ালেন ঠাকুরের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার জন্য, ঠিক সেই সময় শ্রীরামকৃষ্ণ সহাস্যে উঠে দাঁড়িয়ে হঠাৎ আত্মহারা হয়ে গেলেন। সঙ্গে সঙ্গে দু’চোখ বুজে দু’হাত তুলে হয়ে পড়লেন গভীরভাবে সমাধিস্থ। ভক্তবৃন্দের কেউ কেউ বলতে থাকলেন, ‘এই সময়টা সন্ধিপুজোর লগ্ন কিনা, তাই এই সন্ধিক্ষণে ঠাকুরের দিব্য ভাব।’ তাঁর শ্রীচরণে রাশি রাশি ফুল ঢেলে অঞ্জলি প্রদানে অনেকে ধন্য হলেন। প্রায় আধঘণ্টা পরে তিনি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলেন। ভাব তন্ময়তার সময় তিনি যা দেখেছিলেন সেই কথা ভক্তদের বললেন: ‘এখান হইতে সুরেন্দ্রের বাড়ি পর্যন্ত একটা জ্যোতির রাস্তা খুলিয়া গেল। দেখিলাম, তাহার ভক্তিতে প্রতিমায় মা’র আবেশ হইয়াছে। তৃতীয় নয়ন দিয়া জ্যোতি রশ্মি নির্গত হইতেছে। দালানের ভিতর দেবীর সম্মুখে দীপমালা জ্বালিয়ে দেওয়া হইয়াছে, আর উঠানে বসিয়া সুরেন্দ্র ব্যাকুল হৃদয়ে মা মা বলিয়া রোদন করিতেছে। তোমরা সকলে তাহার বাড়িতে এখনই যাও। তোমাদের দেখিলে তাহার প্রাণ শীতল হইবে।’ (শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণলীলা প্রসঙ্গ)।
শ্রীরামকৃষ্ণদেবের নির্দেশ মতো নরেন্দ্রনাথ ও অন্য ভক্তরা ঠাকুরকে প্রণাম করে সুরেন্দ্রবাবুর বাড়িতে গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন, ভাব-সমাধির সময় ঠাকুরের দৃষ্ট ঘটনাগুলি একেবারেই বাস্তবিক ও যথার্থ। তাঁর ভক্ত বৎসল রূপটি এভাবে প্রকট হওয়ায় সকলে সেদিন বিস্ময়ে আনন্দে অভিভূত হয়ে গেলেন। সার্থক হল সুরেন্দ্রনাথের দুর্গোৎসব, ভক্ত-ভগবানের লীলা খেলায়। 
01st  October, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!  
বিশদ

03rd  October, 2019
মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন অনুসরণীয়
মোহন ভাগবত

ভারতের আধুনিক ইতিহাস তথা স্বাধীন ভারতের উত্থানের কাহিনীতে যেসব মহান ব্যক্তির নাম চিরকালের জন্য লেখা হয়ে আছে, যা সেই সনাতন কাল থেকে চলে আসা ভারতের ঐতিহাসিক গাথার এক একটি অধ্যায় হয়ে যাবে, পূজ্য মহাত্মা গান্ধীর নাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভারতবর্ষ আধ্যাত্মিক দেশ এবং আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতেই তার উত্থান হবে।  
বিশদ

02nd  October, 2019
এনআরসি: বাঙালির নয়া আতঙ্ক এবং অপমান
হারাধন চৌধুরী 

বাঙালির যেন আতঙ্ক-লগ্নে জন্ম। একটা আতঙ্ক যায়, আবার একটা এসে জোটে। নতুন আতঙ্কের নাম এনআরসি। এনআরসি-আতঙ্ক গ্রাস করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকেও। বাঙালিকে নতুন করে নাগরিকত্বের পরীক্ষায় বসতে হবে।   বিশদ

01st  October, 2019
গান্ধী, পৃথিবী, পরিবেশ
রঞ্জন সেন

এনভায়রনমেন্ট, ইকোলজি এসব কথা গান্ধী কোন দিন ব্যবহার না করলেও তাঁর চিন্তা চেতনা ও কাজের একটা বড় এলাকা জুড়ে রয়েছে পরিবেশ। গ্রাম স্বরাজ থেকে অহিংসা, চরকা থেকে স্বনির্ভরতা কোন কিছুই যেন পরিবেশ ছাড়া সম্পূর্ণ হয়না। অথচ ঘোষিত পরিবেশবাদী বলতে যা বোঝায় তা তিনি কোনদিনই ছিলেন না। 
বিশদ

30th  September, 2019
মা দুর্গা ও মেয়ে দুর্গা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

দুর্গাপুজো এলে কখনও কখনও একটা ছোট মেয়ের কথা মনে পড়ে যে তার বাবার সঙ্গে ঠাকুর গড়া দেখতে বাঙালি আখড়ায় যেত। ঠাকুর গড়া দেখতে যাবার সূত্রে পুজোর অনেক আগেই তার মনে এক পুজো পুজো ভাব এসে যেত। আখড়ায় সার বেঁধে বহু প্রতিমা গড়া হতো। কলকাতার কারিগর এসে সেখানে প্রতিমা গড়তেন। মেয়েটির চোখের সামনে খড়বাঁধা কাঠামোয় মাটি চাপত, রং পড়ত ও ধীরে ধীরে সপরিবারে মা দুর্গা রূপ পরিগ্রহ করতেন। ... প্রতিমার অঙ্গে ক্রমে বস্ত্র ও আভরণ উঠত, তাঁর দশহস্তে, আয়ুধগুলি স্থান পেত। সেই প্রতিমায় যখন পুজো হতো তখন তাতে প্রাণের যোগ ঘটত। 
বিশদ

30th  September, 2019
পুজোয় অনলাইন প্রক্সি
অতনু বিশ্বাস

প্রচেষ্টাটায় বেশ চমক আছে নিঃসন্দেহে। পুজোতে এই অনলাইন প্রক্সির ইতিবৃত্ত যে প্রবাসী এবং অনাবাসী বাঙালিদের কলকাতার পুজোর আওতায় আনার একটা প্রচেষ্টা, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে একে প্রবাসী কিংবা অনাবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, তার কোনও বাধ্যবাধকতা অবশ্যই নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা বৃদ্ধ, অসুস্থ, অশক্ত, ভিড়ভাট্টায় পুজো প্যান্ডেলে ঘুরতে অসমর্থ, তাঁরাও তো দিব্যি ভার্চুয়াল পুজোর শরিক হতে পারেন। আর শুধু যাঁরা অসমর্থ তাঁরাই বা কেন, যাঁরা ভিড়ের স্রোতে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁরাও কেন নন? কে আটকাচ্ছে?
বিশদ

29th  September, 2019
পুজো এসে গেল
শুভা দত্ত

দিন গোনা শেষ। বছরভর প্রতীক্ষার অবসান। গতকাল মহালয়ার ভোর ফুটতেই এবারের দেবীপক্ষের সূচনা হয়ে গেল। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজো, মানে মহামায়া বন্দনার উদ্‌যোগ-আয়োজনের ফাইনাল রাউন্ড। আর সেইসঙ্গেই বাঙালির সংবৎসরের সবচেয়ে বড় উৎসব—শারদোৎসবের ঢাকেও কার্যত কাঠি পড়ে গেল। শহর মহানগর থেকে গ্রাম গ্রামান্ত পাড়ায়-পাড়ায় মাঠে-ঘাটে, পথে-রাজপথে এবার শুরু হয়ে যাবে পুজোর প্রতিমা-মণ্ডপের উদ্বোধন। 
বিশদ

29th  September, 2019
বালুচিস্তানের যন্ত্রণা
নিয়ে কিছু বলুন!
মৃণালকান্তি দাস

 ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। বালুচিস্তানের দেরা বুগতি জেলার গৈন্ধরি গ্রামে তখন সূর্য উঠেছে মাত্র। হঠাৎ আকাশ কাঁপিয়ে ধেয়ে এসেছিল ১০টি পাকিস্তানি বেল এইচ হেলিকপ্টার। মুহূর্তেই আকাশ থেকে গুলি ও বোমা ছুটে এসেছিল গৈন্ধরি গ্রামের উপর। বিশদ

27th  September, 2019


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট। দূর ভ্রমণের সুযোগ। অর্থ প্রাপ্তির যোগ। যে কোনও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪০- ‘দি বিটলস’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা, গায়ক জন লেননের জন্ম
১৯৪৫- সারোদবাদক আমজাদ আলি খানের জন্ম
১৯৪৫- অভিনেত্রী সুমিতা সান্যালের জন্ম
১৯৬৭- কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব চে গেভারার মৃত্যু
২০১৫- সংগীত পরিচালক রবীন্দ্র জৈনের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার    
পাউন্ড    
ইউরো    
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
05th  October, 2019

দিন পঞ্জিকা

১৮ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ১০/৪৫ দিবা ৯/৫১। মূলা ১৯/২৪ দিবা ১/১৮। সূ উ ৫/৩২/৪৫, অ ৫/১৭/৫৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ মধ্যে পুনঃ ৭/৭ গতে ৯/২৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ২/৫৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৪ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৩৯ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ৭/০ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৪ গতে ২/২৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৬/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/০ গতে উদয়াবধি। 
১৭ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ২১/২৭/৩৯ দিবা ২/৮/০। মূলা ৩১/৪৭/১২ রাত্রি ৬/১৫/৪৯, সূ উ ৫/৩২/৫৬, অ ৫/১৯/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৩ মধ্যে ও ৭/৯ গতে ৯/২৭ মধ্যে ও ১১/৪৬ গতে ২/৫০ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৩৭ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ১২/৫৪/৩৬ গতে ২/২২/৫৫ মধ্যে, কালবেলা ৭/১/১৬ মধ্যে ও ৩/৫১/১৬ গতে ৫/১৯/৩৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫১/১৬ মধ্যে ও ৪/১/১৬ গতে ৫/৩৩/১৮ মধ্যে। 
মোসলেম: ৫ শফর 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এবছর রসায়নে নোবেল পাচ্ছেন জন বি গুডএনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম ও আকিরা ইয়োশিনো 

03:42:41 PM

মালদহের বৈষ্ণবনগরে নৌকাডুবি, মৃত ৩ 
ঠাকুর দেখতে যাওয়ার সময় নৌকাডুবি। ঘটনাটি ঘটে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার ...বিশদ

03:18:19 PM

৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়াল কেন্দ্র, উপকৃত হবেন ৫০ লক্ষ কর্মী ও ৬২ লক্ষ পেনশনভোগী 

02:30:04 PM

ফলতার রামনগরে বিসর্জনের বাজি বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, জখম ২ শ্রমিক 

01:20:11 PM

কেতুগ্রামের শ্রীরামপুর দুর্গা প্রতিমার গয়না চুরি, চাঞ্চল্য 

12:21:00 PM

রায়গঞ্জে যুবতীর শ্লীলতাহানি ঘিরে ধুন্ধুমার 
এক যুবতীর শ্লীলতাহানির অভিযোগকে ঘিরে ধুন্ধুমার বাধল রায়গঞ্জ শহরের বকুলতলা ...বিশদ

12:07:44 PM