Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এনআরসি: বাঙালির নয়া আতঙ্ক এবং অপমান
হারাধন চৌধুরী 

বাঙালির যেন আতঙ্ক-লগ্নে জন্ম। একটা আতঙ্ক যায়, আবার একটা এসে জোটে। নতুন আতঙ্কের নাম এনআরসি। এনআরসি-আতঙ্ক গ্রাস করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকেও। বাঙালিকে নতুন করে নাগরিকত্বের পরীক্ষায় বসতে হবে। অনেকের আশঙ্কা, এ বোধহয় তাদের জীবনের কঠিনতম পরীক্ষা। ফেল করলে আর ভারতে থাকা যাবে না, নিজ দেশে পরবাসী, ফের উদ্বাস্তু, ঠিকানাহীন হয়ে যাবে। সরকারি ঘোষণা কিছু না-হওয়া সত্ত্বেও আতঙ্কটা জোর ছড়িয়েছে। দুটি কারণে: (এক) অসমের সদ্য এনআরসি-হেনস্তা। হেনস্তার শিকার হিন্দু, মুসলমান উভয়ই। (দুই) পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি কার্যকর করার ব্যাপারে দু-একজন আরএসএস এবং বিজেপি নেতার হুঙ্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলায় কোনোমতেই এনআরসি নয়। বিজেপি বা কেন্দ্র চাইলেও তাঁর সরকারি মেশিনারি এই কাজ করবে না। কেউ কোনোরকম ভয় পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী নানাভাবে আশ্বস্ত করার পরেও চাপা আতঙ্ক কিন্তু রয়ে গিয়েছে। সেটা ভেতরে ভেতরে এতটাই প্রবল হয়েছে যে, সেপ্টেম্বরে জনা দশেক বাঙালি আত্মঘাতী হয়েছেন! ভারত রাষ্ট্রে বাঙালিকে যতবার যতভাবে আতঙ্কের শিকার করে তোলা হয়েছে, আর কোনও ভাষার মানুষকে এই দুর্ভাগ্যের শিকার হতে হয়নি। অন্য ভাষার ক’জন মানুষ এই দুঃখ কতটা উপলব্ধি করতে পারবেন সংশয় হয়। অথচ, ভারত স্বাধীন হয়েছে মূলত বাঙালিরই রক্তের বিনিময়ে। আর সেই স্বাধীনতার ভাগে বাঙালিকেই বঞ্চনা চলছে ধারাবাহিকভাবে।
৩১ আগস্ট অসমে প্রকাশিত এনআরসি লিস্টে ১৯ লক্ষাধিক নারী-পুরুষের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের এখন ফরেনার্স ট্রাইবুনালের ভরসায় ফেলে রাখা হয়েছে। সেখানেও ফয়সালা নাহলে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টে দৌড়তে হবে (সেটা কতজন পারবেন)! এতগুলো ধাপেও যদি শিকে না-ছেঁড়ে মানুষগুলির জন্য কী বরাদ্দ হবে, কেউ জানে না। কেউ কেউ ধরে নিচ্ছেন, চূড়ান্ত হতভাগ্যদের জন্য ডিটেনশন ক্যাম্প অপেক্ষা করে থাকবে! কারণ, নাগরিকত্বের পরীক্ষায় ফেল মানুষগুলিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ দেগে দিলেও, নিশ্চিত করেই বলা যায়, কোনও রাষ্ট্রই তাদের নেবে না।
আমরা জানি, অসমের এনআরসি খসড়া তালিকায় ৪২ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল। তাঁদের প্রত্যেকের প্রবল আতঙ্কে কেটেছে দীর্ঘদিন। চূড়ান্ত তালিকায় চরম হতভাগ্য চিহ্নিত হয়েছেন ১৯ লক্ষাধিক মানুষ। তাঁদের মধ্যে হিন্দু বাঙালি ১২ লক্ষাধিক। বাকিরা মূলত মুসলমান। কয়েক বছর আগে এই এনআরসি ধুয়ো ওঠার পর থেকেই অসমের বাংলাভাষীরা উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছিলেন। তার আগে অসমের বাঙালিরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ‘বঙ্গাল খেদা’ নামক এক উগ্র অমানবিক আন্দোলনের কারণে। বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার লড়াইতে বাঙালি শিলচরে প্রাণও দিয়েছে। অথচ বাঙালি ঐতিহাসিকভাবেই অসমে অনুপ্রবেশকারী নয়। কারণ, বিংশ শতকের গোড়ায় পূর্ববঙ্গ ও অসম মিলে একটাই প্রদেশ ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় অসম-পূর্ববঙ্গ যুক্ত প্রদেশের বরাক উপত্যকা ভারতভুক্ত হয়। অর্থাৎ বাংলাভাষী অধ্যুষিত বিশাল এলাকাটি অসম প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। আর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু উগ্র রাজনীতিক প্রচার করে দিল যে বাংলাভাষীরা তাদের অন্নে বাসস্থানে ভাগ বসাচ্ছে। অতএব, তাদের অসম থেকে খেদাতে হবে!
অন্যদিকে, দেশভাগের ফলে পূর্ব পাকিস্তান থেকেও বহু মানুষ পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে উদ্বাস্তু হিসেবে উঠে আসেন। সবাই টাকা পয়সা সোনাদানা আনতে পারেননি। সবার পক্ষে জমিজমা ভিটেমাটি বিনিময় করা সম্ভব হয়নি। লক্ষ লক্ষ মানুষ এসেছেন বাস্তবিকই একবস্ত্রে। বলা বাহুল্য, এই হতভাগ্যরা মূলত হিন্দু, ভারতের স্বাধীনতার জন্য সমান লড়েছিলেন তাঁরাও। অনুরূপভাবে কিছু মুসলিম পরিবারও পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাওয়া নিরাপদ মনে করেছিল। এখানে বহু মুসলিম যেমন রয়ে গিয়েছেন, তেমনি বহু হিন্দুও থেকে গিয়েছিলেন ওপারে। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তান তারপর দু-দু’বার বড় যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯৬৫-তে কিছু হিন্দু পরিবার মনে করল, আর পাকিস্তানে থাকা যাবে না; তারা ভারতে চলে এল। আমরা জানি, ১৯৭১-এর যুদ্ধটা যতটা-না ভারত-পাকিস্তানের, তার চেয়ে বেশি বাঙালি জাতিসত্তার, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম। বাঙালিকে জব্দ করার নামে পাক সেনারা নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি মানুষ ভারতে চলে এসেছিলেন সেবারই। শরণার্থীর প্রবল চাপটা পশ্চিমবঙ্গেই পড়েছিল সর্বাধিক। অসমসহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে এবং ওড়িশা, বিহার, আন্দামানসহ আরও কিছু জায়গায় একাংশ মানুষ ভাগ্যান্বেষণে চলে গিয়েছিলেন। উনবিংশ শতকের কিছুকাল বাংলা ও বিহার নিয়ে একটা প্রদেশ ছিল। স্বাধীনতার পরও বাংলা-বিহার সংযুক্তির খেলা চলেছিল কিছুকাল। সব মিলিয়ে বঙ্গভূমি এবং বাঙালি জাতিকে কারণে অকারণে গিনিপিগ বানানো হয়েছে। প্রদেশ কিংবা দেশভাগের জন্য বাঙালির মতামত কখনোই নেওয়া হয়নি; দেশবাসীর কতিপয় স্বঘোষিত গার্জেনই গদির লোভে বাঙালি জাতটাকে বার বার ক্ষমতার যূপকাষ্ঠে চড়িয়েছেন। বাঙালিকে নিয়ে সেই অমানবিক খেলা আজও অব্যাহত।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাঙালি হিন্দুর নিজস্ব মাটি বলে কিছু স্বীকৃত হয়নি। বাঙালি সেই বিংশ শতকের গোড়া থেকে খেদানি খেয়েই চলেছে। অসমে যখন এনআরসির হিড়িক উঠল পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা সেভাবে প্রতিবাদ জানালাম না। ভাবখানা এই—এটা নেহাতই অসমের ব্যাপার, আমাদের মাথাব্যথা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবে তা যে নয় সেটা আমরা পশ্চিমবঙ্গে বসেই টের পাচ্ছি কিছুদিন যাবৎ। ক’দিন ধরে এনআরসি আতঙ্কে অনেক পরিবার দিশেহারা। পূর্বপুরুষের জমির রেকর্ড খুঁজে পেতে ভূমি দপ্তরে, রেশন কার্ডের জন্য খাদ্য দপ্তরে, কোনও যুগের বার্থ সার্টিফিকেটের হদিশ পেতে পঞ্চায়েত/পুরসভায় হঠাৎ ভিড় জমে গিয়েছে। ভিড় জমেছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড জোগাড়ের জন্য। কিন্তু সব তোলপাড় করেও অনেকে ন্যূনতম নথি জোগাড় করতে না-পেতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে উঠছেন। এই মওকায় বিরাট দালাল ও অপরাধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত লাগাতার করছেন মানলাম। কিন্তু সবার মনের জোর তো তাঁর মতো নয়। এছাড়া, মানুষ এটাও ভয় পাচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তো চিরকাল বাংলায় ক্ষমতায় থাকবে না। তাঁর অবর্তমানে কী হবে? যেমন আধার বাধ্যতামূলক হবে না, একসময় বলা হয়েছিল। বাস্তবে সেই আধারই এখন ভারতবাসীর সবকিছুর আধার হয়ে উঠেছে! অর্থাৎ অভিজ্ঞতা সুবিধের নয়। বিজেপি, আরএসএস নেতাদের হুঙ্কারের ভেতর তাই অনেকেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।
২১ সেপ্টেম্বর শিলচরে এক অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতা রামমাধব বলেছেন, এনআরসিতে ভুল থাকা স্বাভাবিক। হিন্দু বাঙালিদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আরও বলেছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যাঁরা ভারতে এসেছেন তাঁদের এদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ১৯৫১ সালে সারা দেশে এনআরসি হয়েছে, শুধু অসমকে বাদ দিয়ে। তৎকালীন সরকারের ভুলে প্রক্রিয়াটি অসমে সাত দশক পিছিয়ে গিয়ে আকারে বড় হয়ে গিয়েছে। সেটার বাস্তবায়নে ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে। এটাকে তিনি স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন! তিনি বলেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, এগুলো ধীরে ধীরে শুধরে নেওয়া হবে। পরদিন আরএসএস নেতা মোহন ভাগবতও কলকাতায় এসে হিন্দুদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।
কিন্তু অনেকগুলি প্রশ্ন ওঠে: আধুনিক রাষ্ট্র, বিশেষ করে ভারত, পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র কি ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে? রাষ্ট্র একচক্ষু হতে পারে না। ‘অনুপ্রবেশ’ যদি ঘটেই থাকে, তার দায় মানুষের একতরফা হবে কেন? অনুপ্রবেশ রুখতে না-পারার দায়টা রাষ্ট্রকেও সমানভাবে নিতে হবে। দায়ী সীমান্তরক্ষী থেকে রাজনীতির কারবারি এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রশাসনেরও একাংশ। কোন যুগে কে অনুপ্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, যা রাষ্ট্র রুখতে পারেনি, তার দায় এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা নেবেন কেন? পৃথিবীকে আমরা চেনাব যে আসলে এটাই রামের দেশ, বুদ্ধের দেশ, রবীন্দ্রনাথের দেশ, গান্ধীর দেশ! মানুষের এত অপমান কিন্তু প্রাপ্য নয়। এতে রাষ্ট্রের সম্মানবৃদ্ধি হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভুল বার্তা দিচ্ছি আমরা। একদিকে বলছি, ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরকে যথার্থ ভারতভুক্ত করলাম আর সেইসঙ্গে দেশেরই কিছু মানুষকে বাইরে বার করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছি! আমরা যদি কিছু মানুষের সঙ্গে জঞ্জালের মতো আচরণ করি অন্য কোন দেশ তাদের নেবে? এবং, কেন নেবে? বৈরি হয়ে উঠতে পারে নিকট বন্ধু বাংলাদেশও। আমাদের ভাবতে হবে—সেদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের জীবন বিপন্ন হবে না তো এই ঘটনার তিক্ত প্রতিক্রিয়ায়? আজ ‘মুসলিম অনুপ্রবেশ’ নিয়ে বিজেপি যে-কথা বলছে, কাল কংগ্রেস বা অন্য কোনও দল বা জোট এসে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এই নিয়ম বদলে দেবে না তার কী গ্যারান্টি আছে? এনআরসি বাস্তবায়নের ধারা মেনে নিয়ে তারা যদি বলে, রাষ্ট্র কোনও বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না—হিন্দুদেরকেও একই পরীক্ষায় পাশ করে আসতে হবে! তখন তাকে অন্যায় বলা যাবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপ হিন্দুদের পক্ষে কতখানি স্বস্তিদায়ক হবে, তা ভেবে রাখা দরকার।
আর যদি ডিটেনশন ক্যাম্পের বিভীষিকা দেখানোর চেষ্টা করে সরকার, তবে তা হয়ে উঠবে কিন্তু নতুন নতুন উগ্রপন্থী সৃষ্টির আঁতুড়ঘর! কিছু মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর অর্থ, তাঁদের সমস্ত নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া। তাঁদের কাছ থেকে কোনও কাজ এবং আয় পাওয়া যাবে না। উপরন্তু কোষাগারের বিপুল অর্থ খরচ করতে হবে তাঁদের অনির্দিষ্টকাল খাওয়াতে পরাতে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রের যে আর্থিক ক্ষতি হবে তা অপরিমেয়।
কোনও প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্মাতা নন। নাগরিকরাই রাষ্ট্র গড়েন। সেখানে এনআরসি আতঙ্কে বহু মানুষ ভালোভাবে ঘুমোতে পারছেন না। ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। এতে অর্থনৈতিক প্রগতি ব্যাহত হচ্ছে না কি? দুর্বল অর্থনীতির একটি দেশের পক্ষে এই বিলাসিতা সাজে না। ভুলে যাচ্ছি—কত ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশযাত্রা, চাকরিতে যোগদান থমকে যেতে পারে। আটকে যেতে পারে জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গৃহনির্মাণ। কোনোটাই শান্তিমতো করতে পারছেন না অনেকে।
ব্রিটিশের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলেন দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তারা। বাংলাদেশ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, শুধু ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের সিদ্ধান্ত কত বড় ভুল ছিল। তারপরেও আমাদের চৈতন্য হল না। আমরা এখনও ছক কষে যাচ্ছি এপারে শুধু হিন্দুরা এবং পাকিস্তানে ও বাংলাদেশে মুসলমানরা ‘ভালো থাকব’ বলে। তার মানে তো ভ্রান্ত প্রমাণিত দ্বিজাতিতত্ত্বেই সিলমোহর সেঁটে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা! কার স্বার্থে? এইভাবে ভালো থাকা যায় না। ভালো থাকতে হবে সবাইকে নিয়ে। শরীরের কোনও কোনও অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গের প্রয়োজন সবসময় বোঝা যায় না। যখনই সেটা বাদ দেওয়া অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখনই টের পাওয়া যায় সেটারও সমান প্রয়োজন ছিল।
মানুষ শুধু মুখ নিয়ে জন্মায় না, তার দুটি হাতও থাকে, যা সম্পদ সৃষ্টি করে। দুটি হাত যত সম্পদ সৃষ্টি করে, তার সবটা সে একা ভোগ করে না। প্রত্যেকের উদ্বৃত্ত সম্পদে দেশ গড়ে ওঠে। বিজেপি আরএসএস নেতারা যে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে এসে গরম গরম ভাষণ দিচ্ছেন—তাঁরা হয়তো জানেন না ওই রাস্তাটা তাঁরাই তৈরি করেছেন, যাঁদের ভারতছাড়া করার ছক কষা হচ্ছে! যে ভাত বা রুটি খেয়ে তাঁদের এত গলার জোর, সেসবও হয়তো ওই হতভাগ্য মানুষগুলির ফলানো ফসল থেকেই তৈরি হয়েছে! তাঁরা যাঁদের চিকিৎসা নিয়ে এত ফিট আছেন, সেই ডাক্তার, নার্স, ওষুধ প্রস্তুতকারকরাও হয়তো ওই গোত্রে পড়েন!
এসব দেখে মানুষের মনে হবে যে পীড়নের কনসেপ্ট থেকেই রাষ্ট্র ধারণার জন্ম। কিন্তু বাস্তবে তা তো নয়। রাষ্ট্রনেতাদের মানবিক আচরণ দিয়েই এই ভুল ভাঙাতে হবে। তা নাহলে ‘মেরা ভারত মহান’ কিংবা ‘ভারত মাতা কি জয়’ উচ্চারণের নৈতিক অধিকার হারাব আমরা।  
01st  October, 2019
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
একনজরে
বিএনএ, তমলুক: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলে দেশজুড়ে এত বৈষম্য আজ থাকত না। দেশের ৯৮ ভাগ পুঁজি মাত্র দু’শতাংশ মানুষের হাতে। আর মধ্যবিত্ত, ...

  নয়াদিল্লি, ২৩ জানুয়ারি: এই প্রথম কোনও ভারতীয় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। পেশায় নার্স ওই মহিলা বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি কেরলের বাসিন্দা। ...

নয়াদিল্লি, ২৩ জানুয়ারি: সিএএ-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত জেএনইউ এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হুমকি দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।  ...

বিএনএ, আসানসোল: আসানসোল মহকুমায় ই-রিকশর জন্য এক তৃতীয়াংশ মহিলা আবেদন জানিয়েছেন। তাই এবার জেলা সদরে পরিবহণের অন্যতম মাধ্যম হতে চলা ই-রিকশর চাবিকাঠি রমণীদের হাতে যাবে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। তবে বিপরীত যুক্তিও রয়েছে, অনেকের দাবি, লোন পাওয়ার ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ঠাৎ জেদ বা রাগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়াই শ্রেয়। প্রেম-প্রীতির যোগ বর্তমান। প্রীতির বন্ধন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৬: ব্যারিস্টার জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের জন্ম
১৮৫৭: প্রতিষ্ঠিত হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৪৫: পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের জন্ম
১৯৫০: ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত হল ‘জনগণমন অধিনায়ক’
১৯৬৫ - ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইন্স্টন চার্চিলের মৃত্যু
১৯৬৬: বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গির ভাবার মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪১ টাকা ৭২.১১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৬ টাকা ৯৫.২৬ টাকা
ইউরো ৭৭.৫২ টাকা ৮০.৪৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
23rd  January, 2020

দিন পঞ্জিকা

৯ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, অমাবস্যা ৫২/৪ রাত্রি ৩/১২। উত্তরাষা‌ঢ়া ৫০/৫৯ রাত্রি ২/৪৬। সূ উ ৬/২২/১৯, অ ৫/১৪/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৮/৩২ গতে ১০/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৩ গতে ২/২০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৭ গতে অস্তাবধি। বারবেলা ৯/৫ গতে ১১/৪৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৩১ গতে ১০/১০ মধ্যে।
৯ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, অমাবস্যা ৫০/২১/৪৫ রাত্রি ২/৩৪/১৫। উত্তরাষাঢ়া ৫০/২৫/০ রাত্রি ২/৩৫/৩৩। সূ উ ৬/২৫/৩৩, অ ৫/১৩/২১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ মধ্যে ও ৮/৩১ গতে ১০/৪৪ মধ্যে ও ১২/৫৮ গতে ২/১৭ মধ্যে ও ৩/৫৭ গতে ৫/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যেও ৩/৪৩ গতে ৪/৩৪ মধ্যে। কালবেলা ১০/২৮/৩১ গতে ১১/৪৯/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৩১/২৪ গতে ১০/১০/২৫ মধ্যে।
 ২৮ জমাদিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ব্লকগুলিতে মানববন্ধন কর্মসূচি, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী 
আজ সিএএ, এনআরসি ইস্যু নিয়ে দলীয় বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ...বিশদ

06:32:00 PM

২২৬ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:16:17 PM

প্রথম টি-২০: নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতল ভারত 

03:48:28 PM

বিধাননগর পুরসভায় অভিযান বিজেপির
 

ডেঙ্গু রোধে খাল পরিষ্কার, বেআইনি পার্কিং বন্ধ সহ একাধিক দাবিতে ...বিশদ

03:39:00 PM

প্রথম টি-২০: ভারত ১৫১/৪ (১৫ ওভার) 

03:31:02 PM

প্রথম টি-২০: ভারত ১৪২/৩ (১৩ ওভার)
 

03:20:26 PM