Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এনআরসি: বাঙালির নয়া আতঙ্ক এবং অপমান
হারাধন চৌধুরী 

বাঙালির যেন আতঙ্ক-লগ্নে জন্ম। একটা আতঙ্ক যায়, আবার একটা এসে জোটে। নতুন আতঙ্কের নাম এনআরসি। এনআরসি-আতঙ্ক গ্রাস করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকেও। বাঙালিকে নতুন করে নাগরিকত্বের পরীক্ষায় বসতে হবে। অনেকের আশঙ্কা, এ বোধহয় তাদের জীবনের কঠিনতম পরীক্ষা। ফেল করলে আর ভারতে থাকা যাবে না, নিজ দেশে পরবাসী, ফের উদ্বাস্তু, ঠিকানাহীন হয়ে যাবে। সরকারি ঘোষণা কিছু না-হওয়া সত্ত্বেও আতঙ্কটা জোর ছড়িয়েছে। দুটি কারণে: (এক) অসমের সদ্য এনআরসি-হেনস্তা। হেনস্তার শিকার হিন্দু, মুসলমান উভয়ই। (দুই) পশ্চিমবঙ্গেও এনআরসি কার্যকর করার ব্যাপারে দু-একজন আরএসএস এবং বিজেপি নেতার হুঙ্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বাংলায় কোনোমতেই এনআরসি নয়। বিজেপি বা কেন্দ্র চাইলেও তাঁর সরকারি মেশিনারি এই কাজ করবে না। কেউ কোনোরকম ভয় পাবেন না। মুখ্যমন্ত্রী নানাভাবে আশ্বস্ত করার পরেও চাপা আতঙ্ক কিন্তু রয়ে গিয়েছে। সেটা ভেতরে ভেতরে এতটাই প্রবল হয়েছে যে, সেপ্টেম্বরে জনা দশেক বাঙালি আত্মঘাতী হয়েছেন! ভারত রাষ্ট্রে বাঙালিকে যতবার যতভাবে আতঙ্কের শিকার করে তোলা হয়েছে, আর কোনও ভাষার মানুষকে এই দুর্ভাগ্যের শিকার হতে হয়নি। অন্য ভাষার ক’জন মানুষ এই দুঃখ কতটা উপলব্ধি করতে পারবেন সংশয় হয়। অথচ, ভারত স্বাধীন হয়েছে মূলত বাঙালিরই রক্তের বিনিময়ে। আর সেই স্বাধীনতার ভাগে বাঙালিকেই বঞ্চনা চলছে ধারাবাহিকভাবে।
৩১ আগস্ট অসমে প্রকাশিত এনআরসি লিস্টে ১৯ লক্ষাধিক নারী-পুরুষের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের এখন ফরেনার্স ট্রাইবুনালের ভরসায় ফেলে রাখা হয়েছে। সেখানেও ফয়সালা নাহলে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টে দৌড়তে হবে (সেটা কতজন পারবেন)! এতগুলো ধাপেও যদি শিকে না-ছেঁড়ে মানুষগুলির জন্য কী বরাদ্দ হবে, কেউ জানে না। কেউ কেউ ধরে নিচ্ছেন, চূড়ান্ত হতভাগ্যদের জন্য ডিটেনশন ক্যাম্প অপেক্ষা করে থাকবে! কারণ, নাগরিকত্বের পরীক্ষায় ফেল মানুষগুলিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ দেগে দিলেও, নিশ্চিত করেই বলা যায়, কোনও রাষ্ট্রই তাদের নেবে না।
আমরা জানি, অসমের এনআরসি খসড়া তালিকায় ৪২ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছিল। তাঁদের প্রত্যেকের প্রবল আতঙ্কে কেটেছে দীর্ঘদিন। চূড়ান্ত তালিকায় চরম হতভাগ্য চিহ্নিত হয়েছেন ১৯ লক্ষাধিক মানুষ। তাঁদের মধ্যে হিন্দু বাঙালি ১২ লক্ষাধিক। বাকিরা মূলত মুসলমান। কয়েক বছর আগে এই এনআরসি ধুয়ো ওঠার পর থেকেই অসমের বাংলাভাষীরা উৎকণ্ঠায় কাটাচ্ছিলেন। তার আগে অসমের বাঙালিরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ‘বঙ্গাল খেদা’ নামক এক উগ্র অমানবিক আন্দোলনের কারণে। বাংলাভাষার অধিকার রক্ষার লড়াইতে বাঙালি শিলচরে প্রাণও দিয়েছে। অথচ বাঙালি ঐতিহাসিকভাবেই অসমে অনুপ্রবেশকারী নয়। কারণ, বিংশ শতকের গোড়ায় পূর্ববঙ্গ ও অসম মিলে একটাই প্রদেশ ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় অসম-পূর্ববঙ্গ যুক্ত প্রদেশের বরাক উপত্যকা ভারতভুক্ত হয়। অর্থাৎ বাংলাভাষী অধ্যুষিত বিশাল এলাকাটি অসম প্রদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। আর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু উগ্র রাজনীতিক প্রচার করে দিল যে বাংলাভাষীরা তাদের অন্নে বাসস্থানে ভাগ বসাচ্ছে। অতএব, তাদের অসম থেকে খেদাতে হবে!
অন্যদিকে, দেশভাগের ফলে পূর্ব পাকিস্তান থেকেও বহু মানুষ পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে উদ্বাস্তু হিসেবে উঠে আসেন। সবাই টাকা পয়সা সোনাদানা আনতে পারেননি। সবার পক্ষে জমিজমা ভিটেমাটি বিনিময় করা সম্ভব হয়নি। লক্ষ লক্ষ মানুষ এসেছেন বাস্তবিকই একবস্ত্রে। বলা বাহুল্য, এই হতভাগ্যরা মূলত হিন্দু, ভারতের স্বাধীনতার জন্য সমান লড়েছিলেন তাঁরাও। অনুরূপভাবে কিছু মুসলিম পরিবারও পূর্ব পাকিস্তানে চলে যাওয়া নিরাপদ মনে করেছিল। এখানে বহু মুসলিম যেমন রয়ে গিয়েছেন, তেমনি বহু হিন্দুও থেকে গিয়েছিলেন ওপারে। কিন্তু ভারত ও পাকিস্তান তারপর দু-দু’বার বড় যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ১৯৬৫-তে কিছু হিন্দু পরিবার মনে করল, আর পাকিস্তানে থাকা যাবে না; তারা ভারতে চলে এল। আমরা জানি, ১৯৭১-এর যুদ্ধটা যতটা-না ভারত-পাকিস্তানের, তার চেয়ে বেশি বাঙালি জাতিসত্তার, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম। বাঙালিকে জব্দ করার নামে পাক সেনারা নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল। সবচেয়ে বেশি মানুষ ভারতে চলে এসেছিলেন সেবারই। শরণার্থীর প্রবল চাপটা পশ্চিমবঙ্গেই পড়েছিল সর্বাধিক। অসমসহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে এবং ওড়িশা, বিহার, আন্দামানসহ আরও কিছু জায়গায় একাংশ মানুষ ভাগ্যান্বেষণে চলে গিয়েছিলেন। উনবিংশ শতকের কিছুকাল বাংলা ও বিহার নিয়ে একটা প্রদেশ ছিল। স্বাধীনতার পরও বাংলা-বিহার সংযুক্তির খেলা চলেছিল কিছুকাল। সব মিলিয়ে বঙ্গভূমি এবং বাঙালি জাতিকে কারণে অকারণে গিনিপিগ বানানো হয়েছে। প্রদেশ কিংবা দেশভাগের জন্য বাঙালির মতামত কখনোই নেওয়া হয়নি; দেশবাসীর কতিপয় স্বঘোষিত গার্জেনই গদির লোভে বাঙালি জাতটাকে বার বার ক্ষমতার যূপকাষ্ঠে চড়িয়েছেন। বাঙালিকে নিয়ে সেই অমানবিক খেলা আজও অব্যাহত।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, বাঙালি হিন্দুর নিজস্ব মাটি বলে কিছু স্বীকৃত হয়নি। বাঙালি সেই বিংশ শতকের গোড়া থেকে খেদানি খেয়েই চলেছে। অসমে যখন এনআরসির হিড়িক উঠল পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিরা সেভাবে প্রতিবাদ জানালাম না। ভাবখানা এই—এটা নেহাতই অসমের ব্যাপার, আমাদের মাথাব্যথা করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাস্তবে তা যে নয় সেটা আমরা পশ্চিমবঙ্গে বসেই টের পাচ্ছি কিছুদিন যাবৎ। ক’দিন ধরে এনআরসি আতঙ্কে অনেক পরিবার দিশেহারা। পূর্বপুরুষের জমির রেকর্ড খুঁজে পেতে ভূমি দপ্তরে, রেশন কার্ডের জন্য খাদ্য দপ্তরে, কোনও যুগের বার্থ সার্টিফিকেটের হদিশ পেতে পঞ্চায়েত/পুরসভায় হঠাৎ ভিড় জমে গিয়েছে। ভিড় জমেছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড জোগাড়ের জন্য। কিন্তু সব তোলপাড় করেও অনেকে ন্যূনতম নথি জোগাড় করতে না-পেতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে উঠছেন। এই মওকায় বিরাট দালাল ও অপরাধ চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত লাগাতার করছেন মানলাম। কিন্তু সবার মনের জোর তো তাঁর মতো নয়। এছাড়া, মানুষ এটাও ভয় পাচ্ছে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তো চিরকাল বাংলায় ক্ষমতায় থাকবে না। তাঁর অবর্তমানে কী হবে? যেমন আধার বাধ্যতামূলক হবে না, একসময় বলা হয়েছিল। বাস্তবে সেই আধারই এখন ভারতবাসীর সবকিছুর আধার হয়ে উঠেছে! অর্থাৎ অভিজ্ঞতা সুবিধের নয়। বিজেপি, আরএসএস নেতাদের হুঙ্কারের ভেতর তাই অনেকেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।
২১ সেপ্টেম্বর শিলচরে এক অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতা রামমাধব বলেছেন, এনআরসিতে ভুল থাকা স্বাভাবিক। হিন্দু বাঙালিদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। আরও বলেছেন, ধর্মীয় ও সামাজিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত যাঁরা ভারতে এসেছেন তাঁদের এদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। ১৯৫১ সালে সারা দেশে এনআরসি হয়েছে, শুধু অসমকে বাদ দিয়ে। তৎকালীন সরকারের ভুলে প্রক্রিয়াটি অসমে সাত দশক পিছিয়ে গিয়ে আকারে বড় হয়ে গিয়েছে। সেটার বাস্তবায়নে ছোটখাটো সমস্যা হতেই পারে। এটাকে তিনি স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন! তিনি বলেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, এগুলো ধীরে ধীরে শুধরে নেওয়া হবে। পরদিন আরএসএস নেতা মোহন ভাগবতও কলকাতায় এসে হিন্দুদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।
কিন্তু অনেকগুলি প্রশ্ন ওঠে: আধুনিক রাষ্ট্র, বিশেষ করে ভারত, পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র কি ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য করতে পারে? রাষ্ট্র একচক্ষু হতে পারে না। ‘অনুপ্রবেশ’ যদি ঘটেই থাকে, তার দায় মানুষের একতরফা হবে কেন? অনুপ্রবেশ রুখতে না-পারার দায়টা রাষ্ট্রকেও সমানভাবে নিতে হবে। দায়ী সীমান্তরক্ষী থেকে রাজনীতির কারবারি এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে প্রশাসনেরও একাংশ। কোন যুগে কে অনুপ্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছিলেন, যা রাষ্ট্র রুখতে পারেনি, তার দায় এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা নেবেন কেন? পৃথিবীকে আমরা চেনাব যে আসলে এটাই রামের দেশ, বুদ্ধের দেশ, রবীন্দ্রনাথের দেশ, গান্ধীর দেশ! মানুষের এত অপমান কিন্তু প্রাপ্য নয়। এতে রাষ্ট্রের সম্মানবৃদ্ধি হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভুল বার্তা দিচ্ছি আমরা। একদিকে বলছি, ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরকে যথার্থ ভারতভুক্ত করলাম আর সেইসঙ্গে দেশেরই কিছু মানুষকে বাইরে বার করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছি! আমরা যদি কিছু মানুষের সঙ্গে জঞ্জালের মতো আচরণ করি অন্য কোন দেশ তাদের নেবে? এবং, কেন নেবে? বৈরি হয়ে উঠতে পারে নিকট বন্ধু বাংলাদেশও। আমাদের ভাবতে হবে—সেদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের জীবন বিপন্ন হবে না তো এই ঘটনার তিক্ত প্রতিক্রিয়ায়? আজ ‘মুসলিম অনুপ্রবেশ’ নিয়ে বিজেপি যে-কথা বলছে, কাল কংগ্রেস বা অন্য কোনও দল বা জোট এসে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে এই নিয়ম বদলে দেবে না তার কী গ্যারান্টি আছে? এনআরসি বাস্তবায়নের ধারা মেনে নিয়ে তারা যদি বলে, রাষ্ট্র কোনও বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না—হিন্দুদেরকেও একই পরীক্ষায় পাশ করে আসতে হবে! তখন তাকে অন্যায় বলা যাবে না। তাই দীর্ঘমেয়াদে এই পদক্ষেপ হিন্দুদের পক্ষে কতখানি স্বস্তিদায়ক হবে, তা ভেবে রাখা দরকার।
আর যদি ডিটেনশন ক্যাম্পের বিভীষিকা দেখানোর চেষ্টা করে সরকার, তবে তা হয়ে উঠবে কিন্তু নতুন নতুন উগ্রপন্থী সৃষ্টির আঁতুড়ঘর! কিছু মানুষকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর অর্থ, তাঁদের সমস্ত নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া। তাঁদের কাছ থেকে কোনও কাজ এবং আয় পাওয়া যাবে না। উপরন্তু কোষাগারের বিপুল অর্থ খরচ করতে হবে তাঁদের অনির্দিষ্টকাল খাওয়াতে পরাতে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রের যে আর্থিক ক্ষতি হবে তা অপরিমেয়।
কোনও প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের নির্মাতা নন। নাগরিকরাই রাষ্ট্র গড়েন। সেখানে এনআরসি আতঙ্কে বহু মানুষ ভালোভাবে ঘুমোতে পারছেন না। ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। এতে অর্থনৈতিক প্রগতি ব্যাহত হচ্ছে না কি? দুর্বল অর্থনীতির একটি দেশের পক্ষে এই বিলাসিতা সাজে না। ভুলে যাচ্ছি—কত ছেলেমেয়ের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। তাঁদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশযাত্রা, চাকরিতে যোগদান থমকে যেতে পারে। আটকে যেতে পারে জরুরি চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গৃহনির্মাণ। কোনোটাই শান্তিমতো করতে পারছেন না অনেকে।
ব্রিটিশের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলেন দ্বিজাতিতত্ত্বের প্রবক্তারা। বাংলাদেশ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, শুধু ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগের সিদ্ধান্ত কত বড় ভুল ছিল। তারপরেও আমাদের চৈতন্য হল না। আমরা এখনও ছক কষে যাচ্ছি এপারে শুধু হিন্দুরা এবং পাকিস্তানে ও বাংলাদেশে মুসলমানরা ‘ভালো থাকব’ বলে। তার মানে তো ভ্রান্ত প্রমাণিত দ্বিজাতিতত্ত্বেই সিলমোহর সেঁটে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা! কার স্বার্থে? এইভাবে ভালো থাকা যায় না। ভালো থাকতে হবে সবাইকে নিয়ে। শরীরের কোনও কোনও অঙ্গ বা প্রত্যঙ্গের প্রয়োজন সবসময় বোঝা যায় না। যখনই সেটা বাদ দেওয়া অনিবার্য হয়ে ওঠে, তখনই টের পাওয়া যায় সেটারও সমান প্রয়োজন ছিল।
মানুষ শুধু মুখ নিয়ে জন্মায় না, তার দুটি হাতও থাকে, যা সম্পদ সৃষ্টি করে। দুটি হাত যত সম্পদ সৃষ্টি করে, তার সবটা সে একা ভোগ করে না। প্রত্যেকের উদ্বৃত্ত সম্পদে দেশ গড়ে ওঠে। বিজেপি আরএসএস নেতারা যে রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে এসে গরম গরম ভাষণ দিচ্ছেন—তাঁরা হয়তো জানেন না ওই রাস্তাটা তাঁরাই তৈরি করেছেন, যাঁদের ভারতছাড়া করার ছক কষা হচ্ছে! যে ভাত বা রুটি খেয়ে তাঁদের এত গলার জোর, সেসবও হয়তো ওই হতভাগ্য মানুষগুলির ফলানো ফসল থেকেই তৈরি হয়েছে! তাঁরা যাঁদের চিকিৎসা নিয়ে এত ফিট আছেন, সেই ডাক্তার, নার্স, ওষুধ প্রস্তুতকারকরাও হয়তো ওই গোত্রে পড়েন!
এসব দেখে মানুষের মনে হবে যে পীড়নের কনসেপ্ট থেকেই রাষ্ট্র ধারণার জন্ম। কিন্তু বাস্তবে তা তো নয়। রাষ্ট্রনেতাদের মানবিক আচরণ দিয়েই এই ভুল ভাঙাতে হবে। তা নাহলে ‘মেরা ভারত মহান’ কিংবা ‘ভারত মাতা কি জয়’ উচ্চারণের নৈতিক অধিকার হারাব আমরা।  
01st  October, 2019
পরীক্ষার জন্য এই দীর্ঘ
প্রতীক্ষা তীব্র যন্ত্রণার
হারাধন চৌধুরী

একে লকডাউেনর ডিপ্রেশন, তার উপর এই নিত্য দ্বন্দ্ব। শিক্ষা বিভাগের কর্ণধাররা নিজেদের বুকে হাত রেখে বলতে পারবেন, আজকের পরিস্থিতিতে পড়লে তাঁদের কী দশা হতো? শিক্ষা তো যৌথ তালিকার বিষয়। তাহলে এমন গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর এক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের এতটা অভাব ঘটল কী কারণে?
বিশদ

অন্ধকারের অন্তরেতে
অশ্রুবাদল ঝরে
সন্দীপন বিশ্বাস

 আবার একটা স্বাধীনতা দিবসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। কয়েক দিন পরই সারাদেশ এই করোনার মধ্যেও মেতে উঠবে উন্মাদনায়। পতাকা তোলা, বীর সেনানীদের স্মরণের মধ্য দিয়ে আমরা দিনটি পালন করব। জাতীয়তাবোধের আবেগে রোমাঞ্চিত হব। বিশদ

12th  August, 2020
মোদি সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি
২০২০ কেন বিপজ্জনক

তরুণকান্তি নস্কর

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ নিয়ে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার যে ভূমিকা পালন করছে তা নজিরবিহীন। ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের মাথায় যে নতুন একটি জাতীয় শিক্ষানীতি প্রবর্তন করার চিন্তা কাজ করছে তা বোঝা যায়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকেই নানা কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিল।
বিশদ

12th  August, 2020
পরিষেবা আর ব্যবসায়
কিছু ফারাক তো আছে!
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলে এসেছেন, বাস বা ট্যাক্সিভাড়া হোক ফ্লেক্সিবল। মানে, তেলের দামের সঙ্গে ভাড়াও ওঠানামা করবে। তখন অবশ্য কেউ তাতে সাড়া দেননি। আর এখন চলছে ভাড়া বৃদ্ধির জন্য কান্নাকাটি। তাঁরা ভাবছেন না... লক্ষ লক্ষ মানুষ আজ কর্মহারা।
বিশদ

11th  August, 2020
 ভারতের সাধনা, শাস্ত্র, সংস্কৃতি সবই
শ্রীকৃষ্ণ মহিমায় পুষ্ট, বিকশিত
চৈতন্যময় নন্দ

দেবকীর প্রার্থনায় ভগবান তাঁর ঐশ্বরিকতা সংবরণ করে প্রকৃত শিশুর রূপ ধারণ করলেন এবং বসুদেবকে নির্দেশ দিলেন তাঁকে নিয়ে নন্দগোপের ঘরে রেখে আসতে। এরূপ আদেশ পেয়ে বসুদেব শিশুসন্তানকে স্কন্ধে নিতেই আপনা আপনিই লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ কপাটের দরজা খুলে গেল।
বিশদ

11th  August, 2020
মনমোহন সিংয়ের পরামর্শও
উপেক্ষা করছে সরকার
পি চিদম্বরম

 ৩ আগস্ট, ২০২০। দ্য হিন্দু। প্রবীণ চক্রবর্তীর সঙ্গে যৌথভাবে ড. মনমোহন সিং একটি নিবন্ধ লিখেছেন। বিষয়: ভারতীয় অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন। তাতে তিনটি অভিমুখ ছিল: সাধারণ মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফেরানো।
বিশদ

10th  August, 2020
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির হাত ধরে
সমগ্র স্কুলশিক্ষা কোন দিকে যাচ্ছে
অরিন্দম গুপ্ত

এই প্রথম জাতীয় আয়ের ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এটি শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের দাবি। এটি হতে চলেছে। এর চেয়ে স্বস্তি ও আনন্দের খবর আর কী হতে পারে?
বিশদ

10th  August, 2020
রাম রাজনীতির উত্তরাধিকার
হিমাংশু সিংহ

রামমন্দির নির্মাণ শেষ হলে এদেশের গেরুয়া রাজনীতির সবচেয়ে মোক্ষম অস্ত্রটাও কিন্তু রাতারাতি ভোঁতা হতে বাধ্য। যে স্বপ্নকে লালন করে তিন দশক দিনরাত পথচলা, তার প্রাপ্তি যেমন মধুর, তেমনই সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন, এর পর কী? বিশদ

09th  August, 2020
দল বদলের জেরে কুশীলবরাই হয়ে যান পুতুল
তন্ময় মল্লিক

রাজনীতিতে দল বদল খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে, যাঁরা দল বদলান, তাঁরা ‘ঘরের ছেলে’র মর্যাদা হারান। গায়ে লেগে যায় ‘সুবিধাবাদী’ তকমা। পরিস্থিতি বলছে, তাতে রাজনীতির কুশীলবরা‌ই হয়ে যান হাতের পুতুল। বিশদ

08th  August, 2020
রামমন্দিরের পর হিন্দুত্ববাদী
রাজনীতি কোন পথে?
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই উচ্চারণ করেছেন একাধিকবার ‘জয় সিয়ারাম’ ধ্বনি? উগ্র হিন্দুত্ব থেকে এবার কি অন্য নতুন এক সমন্বয়ের হিন্দুত্বে ফিরতে চান তিনি? সনাতন ভারতবর্ষ আশা করবে, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে তিনি আগামীদিনে চালিত করবেন সহিষ্ণুতা, বহুত্ববাদ আর ঐক্যের পথে।
বিশদ

07th  August, 2020
ক্রীড়া ও বিনোদন অর্থনীতি:
কী ভাবছে সরকার?
হারাধন চৌধুরী

 ১০০ বছর ধরে মাঠ কাঁপাচ্ছে যে দল, সেই লাল-হলুদ ঝড়ের নাম ইস্টবেঙ্গল। এই স্লোগানের সঙ্গে বাঙালি বহু পরিচিত। গত ১ আগস্ট, ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষ পূর্ণ হল। যে-কোনও ক্ষেত্রে সেঞ্চুরির গরিমা কতটা সবাই জানেন। ক্রীড়ামোদী বাঙালি মূলত দুই শিবিরে বিভক্ত—ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান।
বিশদ

06th  August, 2020
সবুজ হচ্ছে জঙ্গলমহলের প্রকৃতি ও মানুষ
সন্দীপন বিশ্বাস

জঙ্গলমহল হাসছে। এই কথাটা একসময় বহু ব্যবহৃত শব্দবন্ধের মতো হয়ে গিয়েছিল। তারপর সেটা নিয়ে বিরোধীদের বিদ্রুপ করা শুরু হল। কিন্তু এটা ঠিক, ২০১১ সালের আগে যে জঙ্গলমহলের চোখে জল ছিল, তা আর ফিরে আসেনি।
বিশদ

05th  August, 2020
একনজরে
 করোনায় আক্রান্ত রাজস্থান রয়্যালসের ফিল্ডিং কোচ দিশান্ত ইয়াগ্নিক। আপাতত তিনি উদয়পুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। ...

 সরাসরি স্কুল-কলেজে গিয়ে ক্লাস করা সম্ভব না হলেও অনলাইনে ক্লাসের উপর জোর দিয়েছে প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ...

 কলকাতার নামীদামি, সরকারি-বেসরকারি অন্তত ১৭টি হাসপাতাল তাদের বর্জ্য পদার্থ (বায়ো-মেডিক্যাল ওয়েস্ট) নিয়ম মেনে সরাচ্ছে না। এমনকী তরল বর্জ্য পরিশোধনেও ব্যাপক গাফিলতি রয়েছে। ...

ওড়িশার সেই লাল গাঁজা এখান থেকে ম্যাটাডর, ছোট গাড়িতে লোড হয়ে চলে যাচ্ছে বিহার, উত্তরপ্রদেশের মতো ভিন রাজ্যে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মরতদের উপার্জন বৃদ্ধি পাবে। শরীর-স্বাস্থ্য ভালোই যাবে। পেশাগত পরিবর্তন ঘটতে পারে। শিল্পী কলাকুশলীদের ক্ষেত্রে শুভ। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব হাতি দিবস
১৮৪৮: সাহিত্যিক তথা ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র দত্তর জন্ম
১৮৮৮: টেলিভিশনের আবিস্কারক জন বেয়ার্ডের জন্ম
১৮৯৯: ইংরেজ পরিচালক স্যার আলফ্রেড হিচককের জন্ম
১৯১০: আধুনিক নার্সিং সেবার অগ্রদূত ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মৃত্যু
১৯১১: সমাজসেবিকা ও রাজনীতিবিদ ড.ফুলরেণু গুহর জন্ম
১৯২৬: কিউবার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর জন্ম
১৯৩২: পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্যর মৃত্যু
১৯৩৩: অভিনেত্রী বৈজয়ন্তীমালার জন্ম
১৯৩৬: স্বাধীনতা সংগ্রামী ভারতের বিপ্লববাদের জননী হিসাবে পরিচিতা মাদাম কামার মৃত্যু ।
১৯৪৬: ইংরেজ সাহিত্যিক এইচ জি ওয়েলেসের মৃত্যু
১৯৬৩: অভিনেত্রী শ্রীদেবীর জন্ম
১৯৭৫: পাক ক্রিকেটার শোয়েব আখতারের জন্ম
১৯৮৭: অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
২০১৮: রাজনীতিবিদ তথা প্রাক্তন লোকসভার অধ্যক্ষ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.৯৪ টাকা ৭৫.৬৫ টাকা
পাউন্ড ৯৫.৭৫ টাকা ৯৯.১৪ টাকা
ইউরো ৮৬.১০ টাকা ৮৯.২৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫৩,৩১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৫০,৫৮০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫১,৩৪০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৬,০৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৬,১৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, নবমী ১৯/১৬ দিবা ১২/৫৯। রোহিণীনক্ষত্র অহোরাত্র। সূর্যোদয় ৫/১৬/২৬, সূর্যাস্ত ৬/৬/২৩। অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৯ গতে ৩/৩ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৬/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১২/৫৮ মধ্যে। বারবেলা ২/৫৪ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৪২ গতে ১/৫ মধ্যে।
২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, নবমী দিবা ৯/৪৫। রোহিণীনক্ষত্র রাত্রি ৩/২৫। সূর্যোদয় ৫/১৫, সূর্যাস্ত ৬/৯। অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৩ গতে ৩/৩ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/১ মধ্যে ও ১০/২২ গতে ১২/৫২ মধ্যে। কালবেলা ২/৫৬ গতে ৬/৫৯ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৪২ গতে ১/৬ মধ্যে।
 ২২ জেলহজ্জ।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ২,৯৩৬
গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২,৯৩৬ জনের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাসের ...বিশদ

12-08-2020 - 08:58:00 PM

উত্তরপ্রদেশে একদিনে করোনা আক্রান্ত ৪,৫৮৩ 
উত্তরপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪,৫৮৩ জন । ...বিশদ

12-08-2020 - 07:55:50 PM

৪৫ হাজারে দু মাসের সন্তানকেই বিক্রি করে দিল মা
৪৫ হাজারে নিজের দু’মাসের ছেলেকেই বিক্রি করে দিল মা। ঘটনাটি ...বিশদ

12-08-2020 - 07:32:03 PM

কর্ণাটকে একদিনে করোনা আক্রান্ত ৭,৮৮৩ 
কর্ণাটকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭,৮৮৩ জন । ...বিশদ

12-08-2020 - 07:31:00 PM

অন্ধ্রপ্রদেশে একদিনে করোনা আক্রান্ত ৯,৫৯৭ 
অন্ধ্রপ্রদেশে খুব দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। গত ...বিশদ

12-08-2020 - 07:02:02 PM

ফের মা হচ্ছেন করিনা কাপুর
ফের মা হচ্ছেন করিনা কাপুর খান। অর্থাৎ সইফ-করিনার পরিবারে আসতে ...বিশদ

12-08-2020 - 06:43:00 PM