Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

গান্ধী, পৃথিবী, পরিবেশ
রঞ্জন সেন

এনভায়রনমেন্ট, ইকোলজি এসব কথা গান্ধী কোন দিন ব্যবহার না করলেও তাঁর চিন্তা চেতনা ও কাজের একটা বড় এলাকা জুড়ে রয়েছে পরিবেশ। গ্রাম স্বরাজ থেকে অহিংসা, চরকা থেকে স্বনির্ভরতা কোন কিছুই যেন পরিবেশ ছাড়া সম্পূর্ণ হয়না। অথচ ঘোষিত পরিবেশবাদী বলতে যা বোঝায় তা তিনি কোনদিনই ছিলেন না। অথচ চিপকো, যা ছিল দেশের প্রথম সফল পরিবেশ আন্দোলন তার নেতা সুন্দরলাল বহুগুণা থেকে শুরু করে আশির দশকে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনের নেত্রী মেধা পাটেকারের মতো মানুষদের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন তিনি। অথচ, তাঁর পরিবেশ ভাবনার দিকটা অনেকটাই অনালোচিত থেকে গেছে। অ্যাকাডেমিক মহলে কিছু কথাবার্তা হয় কিন্তু সেসব আলোচনা সাধারণ মানুষের জীবনে কোন শিক্ষা হয়ে আসে না। বিরোধীরা তো বটেই এমনকী গান্ধীবাদী বলে বিজ্ঞাপিত যাঁরা সবচেয়ে বেশিদিন দেশ শাসন করলেন তাঁরাও গান্ধীর পরিবেশ ভাবনাকে কাজে লাগানোর বদলে তাঁর বিরোধিতা করেছেন।
স্বাভাবিক প্রজ্ঞা থেকেই গান্ধী ১৯০৯ লেখা তাঁর বই হিন্দ স্বরাজ এ বলেছিলেন অনিয়ন্ত্রিত শিল্পায়ন এবং বস্তুবাদের ফল দেশের পক্ষে ভাল হবে না। নদী ও জলদূষণের যা এখন এক ব্যাপক চেহারা নিয়েছে, তার বিপদ সম্পর্কে তিনি বহু আগে থেকেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন। অতিরিক্ত ফলনের আশায় জমির স্বাভাবিক উর্বরতা শক্তিকে অস্বীকার করে বেশিমাত্রায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারের বিপদ যে আমাদের কৃষি উৎপাদন তো বটেই জল ও জমির বিরাট বিপদ ডেকে এনেছে তা এখন আমরা রোজকার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝছি।
পরিবেশ কথাটার সঙ্গে সচেতন কথাটা বলা এখন প্রায় একটা অনিবার্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। গান্ধীজি দেখেছিলেন, আদিবাসী ভূমিপুত্ররা তো বটেই, গরিবরাও পরিবেশের ক্ষতি কম করেন। পরিবেশ সচেতনতা যেন তাঁদের একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। গাছের ফল, নদীর জল, মাছ, ক্ষেতের ফসল সবকিছুই তাঁরা ব্যবহার করেন নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী। গান্ধীর ভাষায়, তাঁরা বিশ্বাস করেন পৃথিবীর সম্পদগুলি সাবধানে ব্যবহার করতে হবে। ভাগ করে দিতে হবে সবার মধ্যে। এখানেই গান্ধীর ভাবনার সঙ্গে মার্কসের ক্ষমতা অনুযায়ী দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়ার তত্ত্ব মিলে যায়। কিন্তু ‘রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি’র মতোই বিত্তবান মানুষ, শিল্পপতি ও বহুজাতিক সংস্থাগুলির লোভ এই ভাবনাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে। এমন ঘটতে পারে বুঝেই বাপু সাবধানবাণী করেছিলেন সমবণ্টনই দারিদ্র্য দূর করতে পারে। একজন সবটা নিয়ে নিলে আরেকজন বাঁচবে না। এখন সেটাই ঘটছে। জল-বায়ু-দূষণের বিপদ স্পর্শ করেছে বিত্তবানদেরও। ধনী দেশগুলিও পরিবেশ দূষণের শিকার। শিল্পোন্নত পৃথিবীতে এখন দূষণ সবচেয়ে বেশি। শহরের দূষণ স্পর্শ করেছে গ্রামকে।
গান্ধীর দর্শনের সবচাইতে আকর্ষণীয় দিক হল তিনি কোন কিছুকেই খণ্ডিত দৃষ্টিতে দেখেননি, দেখেছেন একটা সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে। জল-স্থল-অন্তরীক্ষে বিরাজমান প্রাণীকুলের একটা বড় অংশকে প্রায় শেষ করে আনার পর মানুষের এখন তাঁর শিক্ষা মনে পড়েছে। তিনি বলেছেন, পৃথিবীর সব প্রাণীদেরই মানুষের মতো বাঁচার অধিকার রয়েছে। মানুষকে তাদের সঙ্গে মিলেমিশেই বাঁচতে হবে। আমাদের ধর্ম, লোকাচার, লোককথা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ঠিক এই কথাটাই বলেছে। সেখানে আমরা গান্ধীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিরই প্রতিফলন দেখি। খুব স্পষ্ট করেই তিনি জানিয়েছেন, জল-জমি-বাতাস পৃথিবীর কোনোকিছুই মানুষের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি নয়। আমরা যে অবস্থায় এটা পেয়েছি ঠিক সেই অবস্থাতেই এসব শিশুদের হাতে তুলে দিতে হবে আমাদের।
আজকের পরিবেশবিদরা গান্ধীর পরিবেশ ভাবনাকে বলছেন হিউম্যান ইকোলজি বা মানবিক বাস্তুতন্ত্র। যা মানুষের সঙ্গে তাকে ঘিরে থাকা পরিবেশের সম্পর্কের কথা বলে। আমরা দেখতেই পাচ্ছি, আমাদের ভালোমন্দ সব কাজেরই প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপর। বনবিনাশ, জলাজমি ভরাট করে ইমারত বানানো ইত্যাদি নিজেদের অপকর্মের ফল ভোগ করছি আমরা নিজেরাই। পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট নাহলে আমরা বিপন্ন হব। সেই কবে বাপু বলে গিয়েছেন, পৃথিবী মানুষের প্রয়োজন মেটানোর মতো সবকিছুই যথেষ্ট পরিমাণে দিয়েছে, কিন্তু তা মানুষের লোভ মেটানোর জন্য নয়।
অথচ আমরা দেখছি প্রয়োজন ছাড়াই মানুষ প্রকৃতি থেকে প্রাণী জগৎ সর্বত্র অবাধ লুণ্ঠন চালাচ্ছে, গোলমালটা সেখানে। মানুষ এবং প্রকৃতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার যে কথা তিনি বলেছিলেন, আমাদের অকারণ লোভ তা শোনেনি। তিনি বুঝেছিলেন এই বিপদ আসতে পারে, তাই গুরুত্ব দিয়েছিলেন সমগ্র পরিবেশ এবং জীবজগতকে নিয়ে বাস করার ওপর। এই ভাবনাকেই আজকের চিন্তাবিদরা বলছেন হিউম্যান ইকোলজি।
যে গ্রামনির্ভর অর্থনীতির কথা তিনি বলেছিলেন তা আদতে এই ভাবনারই বিস্তৃতি। তাঁর পরিবেশ ভাবনার সঙ্গে অর্থনৈতিক চিন্তার কোনও দূরত্ব নেই। উল্টোভাবে বলা যায়, এই অর্থনীতির রাস্তা ধরতে হলে পরিবেশকে সঙ্গে নিয়েই এগতে হবে। কারণ গ্রামীণ সমাজে চাষবাস তো বটেই এমনকী কুম্ভকার, মালাকার, সূত্রধর, তন্তুবায় ইত্যাদি আমাদের দেশের প্রধান বৃত্তিজীবী সম্প্রদায়গুলির কাজকর্ম একান্তভাবেই গ্রামীণ প্রয়োজন মেটায়। পরিবেশ থেকেই এদের কাজকর্মের উপাদান ও উপকরণ আহরিত হয়। এই ব্যাপারটা মাথায় রেখেই বাপু গ্রাম-ভারতের উপযোগী বিকল্প অর্থনীতির পরিকল্পনা করেছিলেন। এই তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, আজকের পৃথিবীতে তা কতটা কার্যকর প্রশ্ন থাকতে পারে তা নিয়েও কিন্তু তার সামগ্রিক চেহারাটা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। সমাজের প্রতিটি বর্গের মানুষদের কথা ভেবে এমন একটা গ্রামসমাজের পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন যা পরিবেশকে বজায় রেখে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর উপযোগী স্বয়ংসম্পূর্ণ।
তত্ত্বের দিক থেকে গান্ধীর একটা মৌলিক অবদান হল অহিংসা। সেই অহিংসাকে কেন্দ্র করে আমাদের জীবন হয়ে উঠতে পারে আরও বেশি পরিবেশবান্ধব। অহিংসার নীতি শুধু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই নয়, তা আমাদের বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। পরিবেশ সংরক্ষণ কথাটা ব্যবহার না করে তিনি বলেছেন পরিবেশবান্ধব বিকাশের কথা। বলেছেন, বিকাশ যেন জল-বাতাস-নদী-সমুদ্র কোন কিছুকেই ধ্বংস না করে এগোয়। তাঁর কাছে বিকাশ মানে ভূমিপুত্রদের বাস্তুচ্যুত করা নয়, জল-জঙ্গল-জমি ধ্বংস করা নয়। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণের অস্তিত্ব ও অধিকার স্বীকার করেই মানুষকে বিকাশের রাস্তায় হাঁটার কথা বলেছিলেন তিনি। গান্ধীভাবনা মানে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটা সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। যেখানে প্রতিটি মানুষ ও প্রাণের বাঁচার একটা স্বাভাবিক পরিসর থাকবে।
দুঃখের বিষয়, গান্ধীর নামে যাঁরা লাগাতার জয়ধ্বনি দেন, তাঁরাও তাঁর উন্নয়ন ভাবনার তাৎপর্য বুঝতে পারেননি। উন্নয়ন বলতে তাঁরা বুঝেছেন চওড়া রাস্তা, উঁচু ইমারত, প্রচুর কারখানা, প্রচুর গাড়ি এবং যতটা সম্ভব নদী-নালা-সবুজ ধ্বংস করা। এই উন্নয়নের গুঁতো এমনই যে তা শুনেই গরিবরা চমকে ওঠেন, ভাবেন এই বুঝি তাদের জীবন ও জীবিকায় টান পড়লো। উন্নয়ন, বিকাশ, অগ্রগতি এসব শব্দ তাদের মনে আশার বদলে তৈরি করেছে হতাশা। অথচ ব্যাপারটা হওয়া উচিত ছিল ঠিক উল্টো।
পরিবেশ আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে তাতে নতুন করে গান্ধীকে বোঝার পাঠ নিতে হবে সবাইকেই। মানে দেশের প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে পরিচয়, মানুষের সঙ্গে পরিচয়। শুধু নিজের স্বার্থ নয়, দেখতে হবে সমগ্র প্রাণীজগতের স্বার্থ, বাস্তুতন্ত্রের স্বার্থ, শিখতে হবে সবাইকে নিয়ে চলা। প্রকৃতি কিন্তু বারবার আমাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে মানুষের অবাধ লুণ্ঠন সে আর মানবে না। একসময় মানুষের উদ্ভাবনী ভাবনার হাত ধরে এসেছিল যন্ত্র। কিন্তু তার যথেচ্ছ অপব্যবহার আমাদের চিন্তাভাবনাকেও যান্ত্রিক করে তুলেছে। যন্ত্রবলে বলীয়ান মানুষ বীরবিক্রমে চড়াও হয়েছে পরিবেশের ওপর। সর্বংসহা প্রকৃতি বহুদিন তা সহ্য করেছে। লোভী মানুষকে রক্ষা করার দায় এখন আর তার নেই। শুরু হয়েছে প্রকৃতির প্রতিশোধ। গান্ধীর ভাবনাকে আশ্রয় করেই মানুষ আজ নতুন করে পরিবেশ বাঁচানোর পাঠ নিতে পারে। 
30th  September, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!  
বিশদ

03rd  October, 2019
মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন অনুসরণীয়
মোহন ভাগবত

ভারতের আধুনিক ইতিহাস তথা স্বাধীন ভারতের উত্থানের কাহিনীতে যেসব মহান ব্যক্তির নাম চিরকালের জন্য লেখা হয়ে আছে, যা সেই সনাতন কাল থেকে চলে আসা ভারতের ঐতিহাসিক গাথার এক একটি অধ্যায় হয়ে যাবে, পূজ্য মহাত্মা গান্ধীর নাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভারতবর্ষ আধ্যাত্মিক দেশ এবং আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতেই তার উত্থান হবে।  
বিশদ

02nd  October, 2019
দুর্গাপুজোর আঙিনায় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ 

বঙ্গাব্দ ১২৭৭। রানি রাসমণি নেই। পরিবারের কর্তা জামাতা মথুরমোহন বিশ্বাস। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব এসেছেন জানবাজারে দুর্গাপুজো উপলক্ষে। ঠাকুরের উপস্থিতিতে সেই বাড়ি তখন আনন্দস্রোতে প্রবাহিত হয়ে আনন্দধামে পরিণত।   বিশদ

01st  October, 2019
এনআরসি: বাঙালির নয়া আতঙ্ক এবং অপমান
হারাধন চৌধুরী 

বাঙালির যেন আতঙ্ক-লগ্নে জন্ম। একটা আতঙ্ক যায়, আবার একটা এসে জোটে। নতুন আতঙ্কের নাম এনআরসি। এনআরসি-আতঙ্ক গ্রাস করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকেও। বাঙালিকে নতুন করে নাগরিকত্বের পরীক্ষায় বসতে হবে।   বিশদ

01st  October, 2019
মা দুর্গা ও মেয়ে দুর্গা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

দুর্গাপুজো এলে কখনও কখনও একটা ছোট মেয়ের কথা মনে পড়ে যে তার বাবার সঙ্গে ঠাকুর গড়া দেখতে বাঙালি আখড়ায় যেত। ঠাকুর গড়া দেখতে যাবার সূত্রে পুজোর অনেক আগেই তার মনে এক পুজো পুজো ভাব এসে যেত। আখড়ায় সার বেঁধে বহু প্রতিমা গড়া হতো। কলকাতার কারিগর এসে সেখানে প্রতিমা গড়তেন। মেয়েটির চোখের সামনে খড়বাঁধা কাঠামোয় মাটি চাপত, রং পড়ত ও ধীরে ধীরে সপরিবারে মা দুর্গা রূপ পরিগ্রহ করতেন। ... প্রতিমার অঙ্গে ক্রমে বস্ত্র ও আভরণ উঠত, তাঁর দশহস্তে, আয়ুধগুলি স্থান পেত। সেই প্রতিমায় যখন পুজো হতো তখন তাতে প্রাণের যোগ ঘটত। 
বিশদ

30th  September, 2019
পুজোয় অনলাইন প্রক্সি
অতনু বিশ্বাস

প্রচেষ্টাটায় বেশ চমক আছে নিঃসন্দেহে। পুজোতে এই অনলাইন প্রক্সির ইতিবৃত্ত যে প্রবাসী এবং অনাবাসী বাঙালিদের কলকাতার পুজোর আওতায় আনার একটা প্রচেষ্টা, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে একে প্রবাসী কিংবা অনাবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, তার কোনও বাধ্যবাধকতা অবশ্যই নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা বৃদ্ধ, অসুস্থ, অশক্ত, ভিড়ভাট্টায় পুজো প্যান্ডেলে ঘুরতে অসমর্থ, তাঁরাও তো দিব্যি ভার্চুয়াল পুজোর শরিক হতে পারেন। আর শুধু যাঁরা অসমর্থ তাঁরাই বা কেন, যাঁরা ভিড়ের স্রোতে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁরাও কেন নন? কে আটকাচ্ছে?
বিশদ

29th  September, 2019
পুজো এসে গেল
শুভা দত্ত

দিন গোনা শেষ। বছরভর প্রতীক্ষার অবসান। গতকাল মহালয়ার ভোর ফুটতেই এবারের দেবীপক্ষের সূচনা হয়ে গেল। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজো, মানে মহামায়া বন্দনার উদ্‌যোগ-আয়োজনের ফাইনাল রাউন্ড। আর সেইসঙ্গেই বাঙালির সংবৎসরের সবচেয়ে বড় উৎসব—শারদোৎসবের ঢাকেও কার্যত কাঠি পড়ে গেল। শহর মহানগর থেকে গ্রাম গ্রামান্ত পাড়ায়-পাড়ায় মাঠে-ঘাটে, পথে-রাজপথে এবার শুরু হয়ে যাবে পুজোর প্রতিমা-মণ্ডপের উদ্বোধন। 
বিশদ

29th  September, 2019
বালুচিস্তানের যন্ত্রণা
নিয়ে কিছু বলুন!
মৃণালকান্তি দাস

 ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। বালুচিস্তানের দেরা বুগতি জেলার গৈন্ধরি গ্রামে তখন সূর্য উঠেছে মাত্র। হঠাৎ আকাশ কাঁপিয়ে ধেয়ে এসেছিল ১০টি পাকিস্তানি বেল এইচ হেলিকপ্টার। মুহূর্তেই আকাশ থেকে গুলি ও বোমা ছুটে এসেছিল গৈন্ধরি গ্রামের উপর। বিশদ

27th  September, 2019


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট। দূর ভ্রমণের সুযোগ। অর্থ প্রাপ্তির যোগ। যে কোনও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪০- ‘দি বিটলস’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা, গায়ক জন লেননের জন্ম
১৯৪৫- সারোদবাদক আমজাদ আলি খানের জন্ম
১৯৪৫- অভিনেত্রী সুমিতা সান্যালের জন্ম
১৯৬৭- কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব চে গেভারার মৃত্যু
২০১৫- সংগীত পরিচালক রবীন্দ্র জৈনের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার    
পাউন্ড    
ইউরো    
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
05th  October, 2019

দিন পঞ্জিকা

১৮ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ১০/৪৫ দিবা ৯/৫১। মূলা ১৯/২৪ দিবা ১/১৮। সূ উ ৫/৩২/৪৫, অ ৫/১৭/৫৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ মধ্যে পুনঃ ৭/৭ গতে ৯/২৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ২/৫৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৪ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৩৯ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ৭/০ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৪ গতে ২/২৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৬/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/০ গতে উদয়াবধি। 
১৭ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ২১/২৭/৩৯ দিবা ২/৮/০। মূলা ৩১/৪৭/১২ রাত্রি ৬/১৫/৪৯, সূ উ ৫/৩২/৫৬, অ ৫/১৯/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৩ মধ্যে ও ৭/৯ গতে ৯/২৭ মধ্যে ও ১১/৪৬ গতে ২/৫০ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৩৭ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ১২/৫৪/৩৬ গতে ২/২২/৫৫ মধ্যে, কালবেলা ৭/১/১৬ মধ্যে ও ৩/৫১/১৬ গতে ৫/১৯/৩৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫১/১৬ মধ্যে ও ৪/১/১৬ গতে ৫/৩৩/১৮ মধ্যে। 
মোসলেম: ৫ শফর 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এবছর রসায়নে নোবেল পাচ্ছেন জন বি গুডএনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম ও আকিরা ইয়োশিনো 

03:42:41 PM

মালদহের বৈষ্ণবনগরে নৌকাডুবি, মৃত ৩ 
ঠাকুর দেখতে যাওয়ার সময় নৌকাডুবি। ঘটনাটি ঘটে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার ...বিশদ

03:18:19 PM

৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়াল কেন্দ্র, উপকৃত হবেন ৫০ লক্ষ কর্মী ও ৬২ লক্ষ পেনশনভোগী 

02:30:04 PM

ফলতার রামনগরে বিসর্জনের বাজি বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, জখম ২ শ্রমিক 

01:20:11 PM

কেতুগ্রামের শ্রীরামপুর দুর্গা প্রতিমার গয়না চুরি, চাঞ্চল্য 

12:21:00 PM

রায়গঞ্জে যুবতীর শ্লীলতাহানি ঘিরে ধুন্ধুমার 
এক যুবতীর শ্লীলতাহানির অভিযোগকে ঘিরে ধুন্ধুমার বাধল রায়গঞ্জ শহরের বকুলতলা ...বিশদ

12:07:44 PM