Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মা দুর্গা ও মেয়ে দুর্গা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

বাঙালি শক্তিপূজক। তাদের জীবনে দুর্গা ও কালীর মাহাত্ম্য অসীম। আমরা যাত্রাকালে দুর্গানাম স্মরণ করি। কন্যাসন্তান হলে মা দুর্গার অজস্র নামের মধ্য থেকে কোনও একটি বেছে কন্যাকে সম্বোধনের মাধ্যমেও নিত্য তাঁর নাম নিই। শুধু তাই নয় দুর্গার নামের আশ্রয়ে কন্যাটিকে রেখে শান্তি পাই। শরৎকালের শিউলি ফুল, কাশফুল, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ইত্যাদির মতো সকল অনুষঙ্গ তুচ্ছ হয়ে যায় দুর্গাপুজোর কাছে। দুর্গোৎসব মানেই স্কুল ছুটি, নতুন জামাকাপড়, ঠাকুর দেখার আনন্দ, নানা অনুষ্ঠান, নানা রকমের খাবার ইত্যাদি যেমন ছোটদের মনে আসে তেমনই পরিণত বয়সে দুর্গোৎসবকে ঘিরে জীবনের নানা পর্যায়ের নানা ঘটনা ও দৃশ্যও মনে ভেসে আসে।
দুর্গাপুজো এলে কখনও কখনও একটা ছোট মেয়ের কথা মনে পড়ে যে তার বাবার সঙ্গে ঠাকুর গড়া দেখতে বাঙালি আখড়ায় যেত। ঠাকুর গড়া দেখতে যাবার সূত্রে পুজোর অনেক আগেই তার মনে এক পুজো পুজো ভাব এসে যেত। আখড়ায় সার বেঁধে বহু প্রতিমা গড়া হতো। কলকাতার কারিগর এসে সেখানে প্রতিমা গড়তেন। মেয়েটির চোখের সামনে খড়বাঁধা কাঠামোয় মাটি চাপত, রং পড়ত ও ধীরে ধীরে সপরিবারে মা দুর্গা রূপ পরিগ্রহ করতেন। তখন ছিল একচালা প্রতিমার যুগ। দেবীর মুখ মানুষের আদলে তৈরি হতো না। তখনকার সিংহও আজকালকার মতো আসল চেহারার হতো না। কিছুটা ঘোড়ার আদলের এক সবুজঘেঁষা রঙের সিংহকেই দেবীর যথার্থ বাহন বলে মনে হতো। প্রতিমার অঙ্গে ক্রমে বস্ত্র ও আভরণ উঠত, তাঁর দশহস্তে, আয়ুধগুলি স্থান পেত। সেই প্রতিমায় যখন পুজো হতো তখন তাতে প্রাণের যোগ ঘটত। সেই পুজোর পুষ্পাঞ্জলি, প্রার্থনা, প্রণাম—সব উঠে আসত প্রাণের গভীর থেকে। সন্ধিপুজোর সময় দেবী যে সত্যই প্রাণবন্ত হয়ে উঠতেন তখন তাঁর চোখের দিকে তাকালেই তা বোঝা যেত। সকালে পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যায় নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কখন যেন পুজোর তিনটি দিন কেটে যেত। দশমীতে দেবী প্রতিমা বিসর্জনের দিনটি প্রতিবছরই যেন বড় তাড়াতাড়ি এসে যেত। দশমীতে মায়ের দর্পণে বিসর্জনের পর একচালা সেই দেবী প্রতিমাকে লোকেরা দুটি বাঁশের উপরে বেঁধে বাহকদের কাঁধে চাপিয়ে রওনা করিয়ে দিত গঙ্গার উজান বেয়ে কৈলাসের পথে। গঙ্গার ঘাটের পথে দেবী প্রতিমার যাত্রা হতো কন্যার পতিগৃহে যাত্রার মতো বিষাদপূর্ণ। কোনও শোভাযাত্রা সেখানে হতো না। কয়েকটি হ্যাজাক বাতির আলোয় আলোকিত করা পথ ধরে দুর্গা মা মহেন্দ্রু ঘাটের উদ্দেশে রওনা হতেন। মা দুর্গার যাত্রা ঘোষণা করা হতো কিছু পর পর একটি মাত্র কাঁসরে মাত্র একবার করে ঘা মারার শব্দে। সেই শব্দ শোনার জন্য সবাই কান পেতে থাকত। সেই শব্দ কানে এলেই মেয়েটি বাড়ির সকলের সঙ্গে সামনেই পার্কের গেটের কাছের জমায়েতে গিয়ে মা দুর্গাকে শেষবারের মতো প্রণাম নিবেদন করত। পিতৃগৃহ ছেড়ে যেতে মা দুর্গার কষ্ট তখন তাঁর বিষণ্ণ মুখে ধরা থাকত। সেই বিষণ্ণতায় সবাই আক্রান্ত হতো ও সবার চোখের জলে ঝাপসা হয়ে যাওয়া পথ বেয়ে মা দুর্গার পতিগৃহে যাত্রা হতো।
তারপর কেটে গেছে অনেকগুলি বছর। এখন মেয়েটি নিজেই শ্বশুরঘর করে। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে ভবানীপুর অঞ্চলে এক বৈষ্ণব হরিনাম কীর্তন করে মাধুকরী করতেন। সারাবছর হরিনাম করলেও পুজোর আগে তিনি আগমনি গান গাইতেন। সঙ্গে সঙ্গত করত গলায় বাঁধা ছোট একটি হারমোনিয়াম। গায়ে নামাবলি জড়ানো ছোটখাট মানুষটি পুজোর আগে গাইতেন—‘এবার আমার উমা এলে আর মাকে পাঠাব না’ অথবা ‘যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী’ ইত্যাদির মতো সব গান। আগমনির সেই গান শুনে মেয়েটির মনে ভেসে উঠত বাপের বাড়ির ছবি, আখড়ার ঠাকুর, পুজোর সেইসব দিন। প্রতিদিনই বৈষ্ণবের ঝুলিতে চাল দেবার সময়ে সবার অলক্ষ্যে কয়েক ফোঁটা চোখের জলও তাতে মিশে যেত। ক্রমে চারদিক আলোর সাজে ভরিয়ে, নানা গানে দিগ্‌বিদিক পূর্ণ করে কলকাতায় পুজো এসে যেত। নানারকমের বাহারি মণ্ডপ, মানুষের আদলে প্রতিমার মুখ, পার্কের বড় পুজোগুলির সঙ্গে নাগরদোলা—পুজো যেন এক বিরাট মেলা। নতুন কাপড় পরে সবার সঙ্গে অষ্টমীর দিন অঞ্জলি দেওয়া, সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া—সবই নিয়ম মতো হতো। তবে ক্বচিৎই তা দৃষ্টির গণ্ডি ছড়িয়ে হৃদয়কে স্পর্শ করত। মেয়েটির বাড়ির সামনে দিয়ে ছিল প্রতিমা বিসর্জনের পথ। কয়েকদিন ধরে সেই পথে সার বেঁধে প্রতিমাগুলি যেত। চোখ ধাঁধানো আলো ও নানা বাজনার হইহই শব্দে বিসর্জনের বিষাদ হারিয়ে যেত। প্রতিমার দৃষ্টি যেমন নিস্পৃহ থাকত মেয়েটির মনও হয়ে থাকত নিস্পৃহ। নিয়মমতোই প্রতিমার দেবীকে পরের বছর আবার আসবার আগাম আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়মের প্রণামসহ দেবী প্রতিমাকে বিদায় জানানো হতো। বিসর্জনের কষ্ট মনকে ব্যথিত করত না।
ক্রমে সময়ের সঙ্গে মেয়েটি বিসর্জনের আগে প্রতিমা বরণ করা শিখল। মায়ের মুখ মুছিয়ে, সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে, মুখে মিষ্টি ও হাতে এক খিলি পান দিয়ে মায়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে প্রার্থনা করতে শিখল সামনের বছর সবাইকে নিয়ে যেন আনন্দের সঙ্গে পুজো দেখার কোনও ব্যতিক্রম না হয়। পিতৃকুল, মাতৃকুল, শ্বশুরকুলের সবার কল্যাণ কামনা করে সামনের বছর তাঁকে আবার আসার প্রার্থনা জানাতে শিখল।
সময় বয়ে চলে। বছরের পর বছর ঘুরে দুর্গাপুজো আসে ও যায়। তেমনই এক সময়ের এক দেবীপক্ষের কথা। একদল পর্বতারোহী চলেছে পার্বতীর পতিগৃহ অঞ্চলের একটি শৃঙ্গজয়ের উদ্দেশে। দলে ডাক্তার আছেন, অধ্যাপক, গবেষক আছেন এবং আছে সেই মেয়েটিও। সে বছর পুজো ছিল দেরিতে, আশ্বিন মাস প্রায় শেষের দিকে। রোটাংপাস পার করে যে পথ ডাইনে ঘুরে স্পিতির দিকে গেছে সেই পথ ধরে তাদের যাত্রা। পাহাড়ে ঠান্ডা বাড়ছে। উপরদিকে পথের ধারের অস্থায়ী চায়ের দোকান ও অস্থায়ী বাসা ছেড়ে লোকেরা একে একে নীচের দিকে নেমে আসছে। ভেড়া ও ছাগলের দুপাশে ঝোলানো থলিতে বেঁধে সংসারের জিনিসপত্র নামিয়ে আনছে। এমন সময়ে শীতের মুখে উপরের দিকে বাস ভর্তি লোকের যাওয়া দেখে তাদের চোখে মুখে সর্বত্র ছিল বিস্ময় ও জিজ্ঞাসা। বাস একে একে গুলাবা, পালচেন, গ্রামফু, খোকসার ইত্যাদির বসতিগুলি পার করতেই সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এল। সরকারি সেই বাস সবাইকে বাতালে পৌঁছে দেবে—সেই শর্ত আছে। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে গাড়ির হেডলাইটের আলোয় আলোকিত পথে বাস ধীরে ধীরে চন্দ্রা নদীর উজান বেয়ে এগিয়ে চলেছে। এই চন্দ্রা নদীই আরও নীচে ভাগা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে চন্দ্রভাগা বা চেনাব নাম নিয়ে পাকিস্তানে সিন্ধু নদে গিয়ে পড়বে। মাঝে এক জায়গায় পথ অত্যন্ত খারাপ বলে সবাইকে নামিয়ে দিয়ে খালি বাসটি এগিয়ে গেল। সেই অন্ধকারে টর্চের আলোয় সবাই পথ চলে আবার গিয়ে বাসে উঠল। এভাবে ঘণ্টাখানেক এগিয়ে ড্রাইভার জানিয়ে দিল বাস আর যাবে না। সামনেই চন্দ্রা নদীর উপরে গাড়ি যাতায়াতের যে ব্রিজ পাশের পাহাড় থেকে নেমে আসা হিমস্রোতের বরফ ব্রিজের নীচের অংশের নদীগর্ভে স্তূপাকারে জমে ব্রিজের লোহার বিমকে বাঁকিয়ে উপর দিকে তুলে দিয়েছে। ফলে পথ বন্ধ। সেখানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দিবারাত্রি মেরামতির কাজ চলছে। পেট্রম্যাক্সের বাতির আলোয় চারদিক ঝলমল করছে। স্পিতি যাবার পথ যতশীঘ্র সম্ভব খোলা চাই। অসহায় বাসযাত্রীরা সেখানে অন্ধকারে, কনকনে ঠান্ডায় বাসে বসে রাতটা কাটিয়ে পরদিন পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার করে ছত্রুতে পৌঁছল। সেখানে দুই দিন দুই রাত বৃথা ব্যয় করে তৃতীয় দিনে স্পিতি থেকে আসা ফিরতি পথের এক ট্রাকে চেপে সবাই বাতালের পথে এগিয়ে গেল।
চন্দ্রা নদীর ধারে বাতালে সারা বছর একটি বুলডোজার রাখা থাকে যাতে শীতের সময়ে বরফে স্পিতির পথ বন্ধ না হয়ে যায়। তার তত্ত্বাবধানে সব সময় একজন সেখানে থাকে। তার ঘরের লাগোয়া আরও দুটি ঘর সেখানে ছিল পথচারী যাত্রীরা সেখানে আশ্রয় নিত।
পর্বতারোহী দলটিও সেখানে একরাত আশ্রয় নিয়ে পরদিন সকালে পদব্রজে পুরনো পরিত্যক্ত এক পুল ধরে চন্দ্রা নদী পার করে বড়া শিগরি হিমবাহের পথে রওনা হল।
মেয়েটির হিসাবমতো সেদিন ছিল দুর্গাষষ্ঠী, দেবীর বোধনের দিন। পিঠের ব্যাগে তার সকালের খাবার ও দুপুরের খাবার বাঁধা আছে। সুজয়া ও শিবানীকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল যে করচা নালা সেটি পার করা হয়েছে। রোটাং পার করার পর এদিকের শুকনো, ঠান্ডা পাহাড়ে গাছপালা এমনিতেই জন্মায় না। এখানে উচ্চতার কারণে নদীর ধারেও কোনও গাছ নেই, শুধু এদিকে ওদিকে পাহাড়ের খাঁজে ছোট ছোট কয়েকটি গাছে নীল ও বেগুনি ফুল ফুটে আছে। মেয়েটি ভাবছিল কৈলাস থেকে বঙ্গভূমির পথে মা দুর্গার যাত্রাপথ তো সেখান দিয়েই হবার কথা। নদীর জলে হাত ধুয়ে পাশের পাহাড়ি ফুল তুলে সে আবাল্য উচ্চারিত পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্রে সপরিবারে দুর্গাদেবীকে স্মরণ করে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করল। উপরে নীল আকাশ, ডানদিকে চন্দ্রা নদী বয়ে চলেছে। সামনে বরফে ঢাকা পাহাড়ে ধর্মাসুর শৃঙ্গ শোভা পাচ্ছে। এমন পরিবেশে নিজের উচ্চারিত মন্ত্রে সে নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেছে। পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে যে আনন্দ, যে তৃপ্তি সে সেদিন পেয়েছিল তার কোনও তুলনা নেই। সেখানে ছিল আকাশ, বাতাস, নদী, পাহাড়—সব জুড়ে মা দুর্গার উপস্থিতি।
সে সব দিন কত যুগ আগে পার হয়ে গেছে। এখন প্রতি বছর দুর্গাপুজো আসে যেন বয়সটা আরও একবছর করে বাড়ছে, শরীর অশক্ত হচ্ছে সেটা বুঝিয়ে দিতে। এখন সে বোঝে নিরাকার সেই বিশ্বব্যাপী শক্তিকে নিজের উপলব্ধিতে আনার জন্যই দেবীমূর্তির কল্পনা করা হয় ‘অজ্ঞানাং ভাবনার্থায় প্রতিমা পরিকল্পিতা।’ বোঝে পুজোর জন্য যেমন চতুঃষষ্ঠী উপাচার হয় তেমনই শুধু ‘ভক্তিতোয়াভ্যাম’, ভক্তি ভরে দেওয়া জল দিয়েও পুজো হয়। শৈশবের বাঙালি আখড়ার সেই ঠাকুর এখন অতীতের স্বপ্ন। ভিড় ঠেলে কলকাতার ঠাকুর দেখার ইচ্ছা ও ক্ষমতা এখন অস্তমিত। তবু বাড়ির সকলের, বিশেষ করে নাতি-নাতনির ভালো লাগা দেবী প্রতিমাগুলি সকালের দিকে ভিড় বাঁচিয়ে একদিন দেখে আসা হয়। পাড়ায় মহাষ্টমীতে পুষ্পাঞ্জলিও দেওয়া হয়। শুধু দশমীতে আর দেবীপ্রতিমা বরণ করা হয় না। উঁচু টেবিলে বা মইতে চড়ে প্রতিমা বরণ করার শক্তি ও সাহস কোনওটাই আর তার নেই।
এখন দুর্গাপুজোর সময়ে দূরদেশে চলে যাওয়া তার মেয়েটি প্রতিবছর আসে। মেয়েটি সেখানে স্বামীর ঘর করে, তবে পুজোর সময়ে কলকাতায় এলে তার সঙ্গে দেখা হয়। পুজোর কটা দিন এক অন্যরকম আনন্দে কাটে। দশমীর দিন সে এখন দেবী বরণ করে নিজের ঘরে। ঘরে বাঁধিয়ে রাখা পটের দুর্গাকে সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে মুখে মিষ্টি দিয়ে সে বরণ করে পতিগৃহে পাঠায়। তার বুকে থাকে কন্যা বিদায়ের কষ্ট, সঙ্গে থাকে প্রাণের গভীর থেকে উঠে আসা এক প্রার্থনা। দেবীর কানের কাছে মুখ নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে এখন সে বলে—সামনের বছর আবার আসিস মা, আনন্দময়ী হয়ে আসিস, তোর এই বুড়ো মা-টা পথ চেয়ে থাকবে।
লেখিকা কলকাতায় যোগমায়া দেবী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা।
 
30th  September, 2019
বৈধ-অবৈধ নাগরিক কথা
সমৃদ্ধ দত্ত

পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসার পর মানুষদের কী অবস্থা সে সব আমরা খুব বেশি জানি না। আমরা বাঙালিরা জানি বাংলাদেশ সম্পর্কে। কারণ, বাংলাদেশ আমাদের পাশের দেশ। সুতরাং নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যে প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া দরকার সেগুলি বাংলাদেশ সংক্রান্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়।  
বিশদ

এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
একনজরে
শীর্ষেন্দু দেবনাথ, কৃষ্ণনগর, বিএনএ: গত পাঁচ বছরে কৃষ্ণনগরের পকসো আদালতে প্রায় ৫০০ মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০১২ সালে ‘প্রিভেনশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সসেস’ বা পকসো আইন চালু হয়েছে। কৃষ্ণনগরে এই বিশেষ আদালত চালু হয়েছে ২০১৪ সালে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ১২ ডিসেম্বর: বজবজের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল বঙ্গ বিজেপি। এদিন দলের রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সংসদ সদস্য দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল জাতীয় নির্বাচন কমিশনে যায়। ...

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জন ও জল অপচয়ের বিরুদ্ধে এবার পথে নামল উলুবেড়িয়া পুরসভা। বৃহস্পতিবার এই উপলক্ষে পুরসভার তরফে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এক পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি পুরসভার ২২নং ওয়ার্ডটিও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়।  ...

পাটনা, ১২ ডিসেম্বর (পিটিআই): নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (ক্যাব) সমর্থন না করায় ইতিমধ্যেই দলের অন্দরে কোণঠাসা হয়ে গিয়েছেন জেডিইউয়ের সহ সভাপতি প্রশান্ত কিশোর। তবে তা সত্ত্বেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড়ই থাকলেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ওই বিলের মাধ্যমে সরকার ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

শারীরিক দিক থেকে খুব ভালো যাবে না। মনে একটা অজানা আশঙ্কার ভাব থাকবে। আর্থিক দিকটি ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩০: রাইটার্সে অলিন্দ যুদ্ধের সেনানী বিনয় বসুর মৃত্যু
১৯৮৬: অভিনেত্রী স্মিতা পাতিলের মূত্যু
২০০১: ভারতের সংসদে জঙ্গি হামলা
২০০৩: তিকরিত থেকে গ্রেপ্তার হলেন সাদ্দাম হুসেন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৮৫ টাকা ৭১.৫৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৮৫ টাকা ৯৫.১৫ টাকা
ইউরো ৭৭.২৯ টাকা ৮০.২৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৩৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৪১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৯৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, প্রতিপদ ৯/২৪ দিবা ৯/৫৭। মৃগশিরা ০/১৮ দিবা ৬/১৮ পরে আর্দ্রা ৫৯/৯ শেষরাত্রি ৫/৫১। সূ উ ৬/১১/২, অ ৪/৪৯/৩৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৬ গতে ৯/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৪৩ গতে ৯/১৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ৩/৩২ মধ্যে পুনঃ ৪/২৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৫০ গতে ১১/৩০ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৯ গতে ৯/৪৯ মধ্যে। 
২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার, প্রতিপদ ১০/৫৮/৫৭ দিবা ১০/৩৬/৩৮। মৃগশিরা ৩/১৮/৩৯ দিবা ৭/৩২/৩১, সূ উ ৬/১৩/৩, অ ৪/৪৯/৫৫, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪ মধ্যে ও ৭/৪৬ গতে ৯/৫৩ মধ্যে ও ১২/০ গতে ২/৪৯ মধ্যে ও ৩/৩২ গতে ৪/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৫০ গতে ৯/২৫ মধ্যে ও ১২/৬ গতে ৩/৪০ মধ্যে ও ৪/৩৪ গতে ৬/১৪ মধ্যে, কালবেলা ১০/১১/৫৩ গতে ১১/৩১/২৯ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/১০/৪২ গতে ৯/৫১/৫ মধ্যে। 
১৫ রবিয়স সানি 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কাটোয়ায় বিয়ের আসরে গুলি, গ্রেপ্তার পাত্রীর দাদু
 

কাটোয়ায় বিয়ের আসরে বন্দুক থেকে গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ। ঘটনায় পাত্রীর ...বিশদ

11:27:00 AM

আজ শুভ মুক্তি
 মর্দানি ২— গোপী পুথরান পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে আইনক্স, ...বিশদ

11:23:19 AM

লাইন পারাপারের সময় আটকে পড়ল টোটো, ব্যাহত ট্রেন চলাচল
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং শাখার তালদি স্টেশনের কাছে লাইন পারাপার ...বিশদ

11:09:00 AM

ইংল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী বরিস জনসন, পেলেন সংখ্যাগরিষ্ঠতা 

11:02:17 AM

গড়ফায় গাছ থেকে পড়ে এক যুবকের মৃত্যু
গড়ফায় গাছ থেকে পড়ে মৃত্যু হল এক যুবকের। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

10:37:00 AM

হিমাচলের কুফরিতে ব্যাপক তুষারপাতের জেরে অবরুদ্ধ ৫ নং জাতীয় সড়ক 

10:25:13 AM