Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মা দুর্গা ও মেয়ে দুর্গা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

বাঙালি শক্তিপূজক। তাদের জীবনে দুর্গা ও কালীর মাহাত্ম্য অসীম। আমরা যাত্রাকালে দুর্গানাম স্মরণ করি। কন্যাসন্তান হলে মা দুর্গার অজস্র নামের মধ্য থেকে কোনও একটি বেছে কন্যাকে সম্বোধনের মাধ্যমেও নিত্য তাঁর নাম নিই। শুধু তাই নয় দুর্গার নামের আশ্রয়ে কন্যাটিকে রেখে শান্তি পাই। শরৎকালের শিউলি ফুল, কাশফুল, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ইত্যাদির মতো সকল অনুষঙ্গ তুচ্ছ হয়ে যায় দুর্গাপুজোর কাছে। দুর্গোৎসব মানেই স্কুল ছুটি, নতুন জামাকাপড়, ঠাকুর দেখার আনন্দ, নানা অনুষ্ঠান, নানা রকমের খাবার ইত্যাদি যেমন ছোটদের মনে আসে তেমনই পরিণত বয়সে দুর্গোৎসবকে ঘিরে জীবনের নানা পর্যায়ের নানা ঘটনা ও দৃশ্যও মনে ভেসে আসে।
দুর্গাপুজো এলে কখনও কখনও একটা ছোট মেয়ের কথা মনে পড়ে যে তার বাবার সঙ্গে ঠাকুর গড়া দেখতে বাঙালি আখড়ায় যেত। ঠাকুর গড়া দেখতে যাবার সূত্রে পুজোর অনেক আগেই তার মনে এক পুজো পুজো ভাব এসে যেত। আখড়ায় সার বেঁধে বহু প্রতিমা গড়া হতো। কলকাতার কারিগর এসে সেখানে প্রতিমা গড়তেন। মেয়েটির চোখের সামনে খড়বাঁধা কাঠামোয় মাটি চাপত, রং পড়ত ও ধীরে ধীরে সপরিবারে মা দুর্গা রূপ পরিগ্রহ করতেন। তখন ছিল একচালা প্রতিমার যুগ। দেবীর মুখ মানুষের আদলে তৈরি হতো না। তখনকার সিংহও আজকালকার মতো আসল চেহারার হতো না। কিছুটা ঘোড়ার আদলের এক সবুজঘেঁষা রঙের সিংহকেই দেবীর যথার্থ বাহন বলে মনে হতো। প্রতিমার অঙ্গে ক্রমে বস্ত্র ও আভরণ উঠত, তাঁর দশহস্তে, আয়ুধগুলি স্থান পেত। সেই প্রতিমায় যখন পুজো হতো তখন তাতে প্রাণের যোগ ঘটত। সেই পুজোর পুষ্পাঞ্জলি, প্রার্থনা, প্রণাম—সব উঠে আসত প্রাণের গভীর থেকে। সন্ধিপুজোর সময় দেবী যে সত্যই প্রাণবন্ত হয়ে উঠতেন তখন তাঁর চোখের দিকে তাকালেই তা বোঝা যেত। সকালে পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যায় নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কখন যেন পুজোর তিনটি দিন কেটে যেত। দশমীতে দেবী প্রতিমা বিসর্জনের দিনটি প্রতিবছরই যেন বড় তাড়াতাড়ি এসে যেত। দশমীতে মায়ের দর্পণে বিসর্জনের পর একচালা সেই দেবী প্রতিমাকে লোকেরা দুটি বাঁশের উপরে বেঁধে বাহকদের কাঁধে চাপিয়ে রওনা করিয়ে দিত গঙ্গার উজান বেয়ে কৈলাসের পথে। গঙ্গার ঘাটের পথে দেবী প্রতিমার যাত্রা হতো কন্যার পতিগৃহে যাত্রার মতো বিষাদপূর্ণ। কোনও শোভাযাত্রা সেখানে হতো না। কয়েকটি হ্যাজাক বাতির আলোয় আলোকিত করা পথ ধরে দুর্গা মা মহেন্দ্রু ঘাটের উদ্দেশে রওনা হতেন। মা দুর্গার যাত্রা ঘোষণা করা হতো কিছু পর পর একটি মাত্র কাঁসরে মাত্র একবার করে ঘা মারার শব্দে। সেই শব্দ শোনার জন্য সবাই কান পেতে থাকত। সেই শব্দ কানে এলেই মেয়েটি বাড়ির সকলের সঙ্গে সামনেই পার্কের গেটের কাছের জমায়েতে গিয়ে মা দুর্গাকে শেষবারের মতো প্রণাম নিবেদন করত। পিতৃগৃহ ছেড়ে যেতে মা দুর্গার কষ্ট তখন তাঁর বিষণ্ণ মুখে ধরা থাকত। সেই বিষণ্ণতায় সবাই আক্রান্ত হতো ও সবার চোখের জলে ঝাপসা হয়ে যাওয়া পথ বেয়ে মা দুর্গার পতিগৃহে যাত্রা হতো।
তারপর কেটে গেছে অনেকগুলি বছর। এখন মেয়েটি নিজেই শ্বশুরঘর করে। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে ভবানীপুর অঞ্চলে এক বৈষ্ণব হরিনাম কীর্তন করে মাধুকরী করতেন। সারাবছর হরিনাম করলেও পুজোর আগে তিনি আগমনি গান গাইতেন। সঙ্গে সঙ্গত করত গলায় বাঁধা ছোট একটি হারমোনিয়াম। গায়ে নামাবলি জড়ানো ছোটখাট মানুষটি পুজোর আগে গাইতেন—‘এবার আমার উমা এলে আর মাকে পাঠাব না’ অথবা ‘যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী’ ইত্যাদির মতো সব গান। আগমনির সেই গান শুনে মেয়েটির মনে ভেসে উঠত বাপের বাড়ির ছবি, আখড়ার ঠাকুর, পুজোর সেইসব দিন। প্রতিদিনই বৈষ্ণবের ঝুলিতে চাল দেবার সময়ে সবার অলক্ষ্যে কয়েক ফোঁটা চোখের জলও তাতে মিশে যেত। ক্রমে চারদিক আলোর সাজে ভরিয়ে, নানা গানে দিগ্‌বিদিক পূর্ণ করে কলকাতায় পুজো এসে যেত। নানারকমের বাহারি মণ্ডপ, মানুষের আদলে প্রতিমার মুখ, পার্কের বড় পুজোগুলির সঙ্গে নাগরদোলা—পুজো যেন এক বিরাট মেলা। নতুন কাপড় পরে সবার সঙ্গে অষ্টমীর দিন অঞ্জলি দেওয়া, সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া—সবই নিয়ম মতো হতো। তবে ক্বচিৎই তা দৃষ্টির গণ্ডি ছড়িয়ে হৃদয়কে স্পর্শ করত। মেয়েটির বাড়ির সামনে দিয়ে ছিল প্রতিমা বিসর্জনের পথ। কয়েকদিন ধরে সেই পথে সার বেঁধে প্রতিমাগুলি যেত। চোখ ধাঁধানো আলো ও নানা বাজনার হইহই শব্দে বিসর্জনের বিষাদ হারিয়ে যেত। প্রতিমার দৃষ্টি যেমন নিস্পৃহ থাকত মেয়েটির মনও হয়ে থাকত নিস্পৃহ। নিয়মমতোই প্রতিমার দেবীকে পরের বছর আবার আসবার আগাম আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়মের প্রণামসহ দেবী প্রতিমাকে বিদায় জানানো হতো। বিসর্জনের কষ্ট মনকে ব্যথিত করত না।
ক্রমে সময়ের সঙ্গে মেয়েটি বিসর্জনের আগে প্রতিমা বরণ করা শিখল। মায়ের মুখ মুছিয়ে, সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে, মুখে মিষ্টি ও হাতে এক খিলি পান দিয়ে মায়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে প্রার্থনা করতে শিখল সামনের বছর সবাইকে নিয়ে যেন আনন্দের সঙ্গে পুজো দেখার কোনও ব্যতিক্রম না হয়। পিতৃকুল, মাতৃকুল, শ্বশুরকুলের সবার কল্যাণ কামনা করে সামনের বছর তাঁকে আবার আসার প্রার্থনা জানাতে শিখল।
সময় বয়ে চলে। বছরের পর বছর ঘুরে দুর্গাপুজো আসে ও যায়। তেমনই এক সময়ের এক দেবীপক্ষের কথা। একদল পর্বতারোহী চলেছে পার্বতীর পতিগৃহ অঞ্চলের একটি শৃঙ্গজয়ের উদ্দেশে। দলে ডাক্তার আছেন, অধ্যাপক, গবেষক আছেন এবং আছে সেই মেয়েটিও। সে বছর পুজো ছিল দেরিতে, আশ্বিন মাস প্রায় শেষের দিকে। রোটাংপাস পার করে যে পথ ডাইনে ঘুরে স্পিতির দিকে গেছে সেই পথ ধরে তাদের যাত্রা। পাহাড়ে ঠান্ডা বাড়ছে। উপরদিকে পথের ধারের অস্থায়ী চায়ের দোকান ও অস্থায়ী বাসা ছেড়ে লোকেরা একে একে নীচের দিকে নেমে আসছে। ভেড়া ও ছাগলের দুপাশে ঝোলানো থলিতে বেঁধে সংসারের জিনিসপত্র নামিয়ে আনছে। এমন সময়ে শীতের মুখে উপরের দিকে বাস ভর্তি লোকের যাওয়া দেখে তাদের চোখে মুখে সর্বত্র ছিল বিস্ময় ও জিজ্ঞাসা। বাস একে একে গুলাবা, পালচেন, গ্রামফু, খোকসার ইত্যাদির বসতিগুলি পার করতেই সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এল। সরকারি সেই বাস সবাইকে বাতালে পৌঁছে দেবে—সেই শর্ত আছে। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে গাড়ির হেডলাইটের আলোয় আলোকিত পথে বাস ধীরে ধীরে চন্দ্রা নদীর উজান বেয়ে এগিয়ে চলেছে। এই চন্দ্রা নদীই আরও নীচে ভাগা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে চন্দ্রভাগা বা চেনাব নাম নিয়ে পাকিস্তানে সিন্ধু নদে গিয়ে পড়বে। মাঝে এক জায়গায় পথ অত্যন্ত খারাপ বলে সবাইকে নামিয়ে দিয়ে খালি বাসটি এগিয়ে গেল। সেই অন্ধকারে টর্চের আলোয় সবাই পথ চলে আবার গিয়ে বাসে উঠল। এভাবে ঘণ্টাখানেক এগিয়ে ড্রাইভার জানিয়ে দিল বাস আর যাবে না। সামনেই চন্দ্রা নদীর উপরে গাড়ি যাতায়াতের যে ব্রিজ পাশের পাহাড় থেকে নেমে আসা হিমস্রোতের বরফ ব্রিজের নীচের অংশের নদীগর্ভে স্তূপাকারে জমে ব্রিজের লোহার বিমকে বাঁকিয়ে উপর দিকে তুলে দিয়েছে। ফলে পথ বন্ধ। সেখানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দিবারাত্রি মেরামতির কাজ চলছে। পেট্রম্যাক্সের বাতির আলোয় চারদিক ঝলমল করছে। স্পিতি যাবার পথ যতশীঘ্র সম্ভব খোলা চাই। অসহায় বাসযাত্রীরা সেখানে অন্ধকারে, কনকনে ঠান্ডায় বাসে বসে রাতটা কাটিয়ে পরদিন পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার করে ছত্রুতে পৌঁছল। সেখানে দুই দিন দুই রাত বৃথা ব্যয় করে তৃতীয় দিনে স্পিতি থেকে আসা ফিরতি পথের এক ট্রাকে চেপে সবাই বাতালের পথে এগিয়ে গেল।
চন্দ্রা নদীর ধারে বাতালে সারা বছর একটি বুলডোজার রাখা থাকে যাতে শীতের সময়ে বরফে স্পিতির পথ বন্ধ না হয়ে যায়। তার তত্ত্বাবধানে সব সময় একজন সেখানে থাকে। তার ঘরের লাগোয়া আরও দুটি ঘর সেখানে ছিল পথচারী যাত্রীরা সেখানে আশ্রয় নিত।
পর্বতারোহী দলটিও সেখানে একরাত আশ্রয় নিয়ে পরদিন সকালে পদব্রজে পুরনো পরিত্যক্ত এক পুল ধরে চন্দ্রা নদী পার করে বড়া শিগরি হিমবাহের পথে রওনা হল।
মেয়েটির হিসাবমতো সেদিন ছিল দুর্গাষষ্ঠী, দেবীর বোধনের দিন। পিঠের ব্যাগে তার সকালের খাবার ও দুপুরের খাবার বাঁধা আছে। সুজয়া ও শিবানীকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল যে করচা নালা সেটি পার করা হয়েছে। রোটাং পার করার পর এদিকের শুকনো, ঠান্ডা পাহাড়ে গাছপালা এমনিতেই জন্মায় না। এখানে উচ্চতার কারণে নদীর ধারেও কোনও গাছ নেই, শুধু এদিকে ওদিকে পাহাড়ের খাঁজে ছোট ছোট কয়েকটি গাছে নীল ও বেগুনি ফুল ফুটে আছে। মেয়েটি ভাবছিল কৈলাস থেকে বঙ্গভূমির পথে মা দুর্গার যাত্রাপথ তো সেখান দিয়েই হবার কথা। নদীর জলে হাত ধুয়ে পাশের পাহাড়ি ফুল তুলে সে আবাল্য উচ্চারিত পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্রে সপরিবারে দুর্গাদেবীকে স্মরণ করে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করল। উপরে নীল আকাশ, ডানদিকে চন্দ্রা নদী বয়ে চলেছে। সামনে বরফে ঢাকা পাহাড়ে ধর্মাসুর শৃঙ্গ শোভা পাচ্ছে। এমন পরিবেশে নিজের উচ্চারিত মন্ত্রে সে নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেছে। পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে যে আনন্দ, যে তৃপ্তি সে সেদিন পেয়েছিল তার কোনও তুলনা নেই। সেখানে ছিল আকাশ, বাতাস, নদী, পাহাড়—সব জুড়ে মা দুর্গার উপস্থিতি।
সে সব দিন কত যুগ আগে পার হয়ে গেছে। এখন প্রতি বছর দুর্গাপুজো আসে যেন বয়সটা আরও একবছর করে বাড়ছে, শরীর অশক্ত হচ্ছে সেটা বুঝিয়ে দিতে। এখন সে বোঝে নিরাকার সেই বিশ্বব্যাপী শক্তিকে নিজের উপলব্ধিতে আনার জন্যই দেবীমূর্তির কল্পনা করা হয় ‘অজ্ঞানাং ভাবনার্থায় প্রতিমা পরিকল্পিতা।’ বোঝে পুজোর জন্য যেমন চতুঃষষ্ঠী উপাচার হয় তেমনই শুধু ‘ভক্তিতোয়াভ্যাম’, ভক্তি ভরে দেওয়া জল দিয়েও পুজো হয়। শৈশবের বাঙালি আখড়ার সেই ঠাকুর এখন অতীতের স্বপ্ন। ভিড় ঠেলে কলকাতার ঠাকুর দেখার ইচ্ছা ও ক্ষমতা এখন অস্তমিত। তবু বাড়ির সকলের, বিশেষ করে নাতি-নাতনির ভালো লাগা দেবী প্রতিমাগুলি সকালের দিকে ভিড় বাঁচিয়ে একদিন দেখে আসা হয়। পাড়ায় মহাষ্টমীতে পুষ্পাঞ্জলিও দেওয়া হয়। শুধু দশমীতে আর দেবীপ্রতিমা বরণ করা হয় না। উঁচু টেবিলে বা মইতে চড়ে প্রতিমা বরণ করার শক্তি ও সাহস কোনওটাই আর তার নেই।
এখন দুর্গাপুজোর সময়ে দূরদেশে চলে যাওয়া তার মেয়েটি প্রতিবছর আসে। মেয়েটি সেখানে স্বামীর ঘর করে, তবে পুজোর সময়ে কলকাতায় এলে তার সঙ্গে দেখা হয়। পুজোর কটা দিন এক অন্যরকম আনন্দে কাটে। দশমীর দিন সে এখন দেবী বরণ করে নিজের ঘরে। ঘরে বাঁধিয়ে রাখা পটের দুর্গাকে সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে মুখে মিষ্টি দিয়ে সে বরণ করে পতিগৃহে পাঠায়। তার বুকে থাকে কন্যা বিদায়ের কষ্ট, সঙ্গে থাকে প্রাণের গভীর থেকে উঠে আসা এক প্রার্থনা। দেবীর কানের কাছে মুখ নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে এখন সে বলে—সামনের বছর আবার আসিস মা, আনন্দময়ী হয়ে আসিস, তোর এই বুড়ো মা-টা পথ চেয়ে থাকবে।
লেখিকা কলকাতায় যোগমায়া দেবী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা।
 
30th  September, 2019
হিসেব মেলানো ভার
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 সাত দু’গুণে কত হয়? উঁহু, ১৪ নয়। আপনি কখন বলছেন, তার উপর নির্ভর করছে। মানে, কাকেশ্বর কুচ্‌কুচে যদি মনে করে, আপনি বলার সময় ১৩ টাকা ১৪ আনা ৩ পাই হয়েছিল... মানে পুরোপুরি ১৪ হয়নি, তাহলে সেটাই। অর্থাৎ, হাতে একটা পেনসিল থাকছেই। বিশদ

সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

01st  June, 2020
একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
একনজরে
অলকাভ নিয়োগী, বর্ধমান: সুপার সাইক্লোন উম-পুনের জেরে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি মেরামতি তথা পুনর্গঠনের জন্য পূর্ব বর্ধমান জেলার দু’হাজারের বেশি পরিবার ২০ হাজার টাকা করে অনুদান পাবে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর পূর্ব বর্ধমান জেলার জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দও করেছে।  ...

সংবাদদাতা, দিনহাটা: দিনহাটা মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় করোনা আক্রান্তের হদিশ মিলতেই শহরে লকডাউনকে আঁটোসাঁটো করল দিনহাটা পুর প্রশাসন। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শহরে বন্ধ করে দেওয়া হল অটো, টোটো ও বাইক চলাচল।  ...

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে সেগুলির কয়েকটির বাজার বন্ধকালীন দর নীচে দেওয়া হল।  ...

  কাঠমাণ্ডু, ১ জুন (পিটিআই): নেপালে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১১ জন যাত্রী। আহতের সংখ্যা ২২। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতে আটকে পড়া প্রায় ৩০ জন পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে একটি বাস নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীরা কোনও বৃত্তিমূলক পরীক্ষার ভালো ফল করবে। বিবাহার্থীদের এখন ভালো সময়। ভাই ও বোনদের কারও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭: লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ভারতকে দ্বিখণ্ড করার পরিকল্পনা মেনে নিল কংগ্রেস ও মুসলিম লিগ
১৯৬৫ - অস্ট্রেলীয় প্রাক্তন ক্রিকেটার মার্ক ওয়ার জন্ম।
১৯৭৫ - বিশিষ্ট পদার্থ বিজ্ঞানী দেবেন্দ্র মোহন বসুর মৃত্যু
১৯৮৭: বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষি সিনহার জন্ম
১৯৮৮: অভিনেতা ও নির্দেশক রাজ কাপুরের মৃত্যু
২০১১: গায়ক অমৃক সিং আরোরার মৃত্যু
২০১১: বিশিষ্ট সংবাদ পাঠক তথা আবৃত্তিকার তথা বাচিক শিল্পী দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৫২ টাকা ৭৬.২৩ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০২ টাকা
ইউরো ৮২.৩৮ টাকা ৮৫.৪৫ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার, একাদশী ১৭/৫৪ দিবা ১২/৫। চিত্রা নক্ষত্র ৪৪/৫৮ রাত্রি ১০/৫৫। সূর্যোদয় ৪/৫৫/২৮, সূর্যাস্ত ৬/১৩/৪৪। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৪ মধ্যে পুনঃ ৯/২১ গতে ১২/০ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৩ গতে ৪/২৬ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ২/৪ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৪ গতে ২/৫৪ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৩৪ গতে ৮/৫৪ মধ্যে।
 ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২ জুন ২০২০, মঙ্গলবার, একাদশী দিবা ৯/৪৬। চিত্রা নক্ষত্র রাত্রি ৯/২১। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে ও ৯/২৪ গতে ১২/৪ মধ্যে ও ৩/৩৮ গতে ৪/৩২ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/২ মধ্যে ও ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ১/১৫ গতে ২/৫৫ মধ্যে। কালরাত্রি ৭/৩৫ গতে ৮/৫৫ মধ্যে।
৯ শওয়াল।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
৫২২ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 
আজও ৫২২.০১ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স। ১.৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে আজকের ...বিশদ

04:53:52 PM

 আগামীকাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক
আগামীকাল সন্ধ্যা ৭ টার সময় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গে ...বিশদ

04:38:30 PM

 গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশে করোনা আক্রান্ত আরও ৩৪৮
গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশে আরও ৩৪৮ জনের শরীরে মিলল করোনা ...বিশদ

04:21:08 PM

পাকিস্তানে নতুন করে করোনা আক্রান্ত ৩,৯৩৮ ও মৃত ৭৮ 
পাকিস্তানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩ ...বিশদ

03:57:03 PM

রাশিয়ায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত ৮,৮৬৩ ও মৃত ১৮২ 
রাশিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৮,৮৬৩ ...বিশদ

03:39:35 PM

মনোজ তিওয়ারির বদলে নয়াদিল্লির বিজেপি সভাপতি হলেন আদেশ কুমার গুপ্তা 

03:26:00 PM