Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

মা দুর্গা ও মেয়ে দুর্গা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

বাঙালি শক্তিপূজক। তাদের জীবনে দুর্গা ও কালীর মাহাত্ম্য অসীম। আমরা যাত্রাকালে দুর্গানাম স্মরণ করি। কন্যাসন্তান হলে মা দুর্গার অজস্র নামের মধ্য থেকে কোনও একটি বেছে কন্যাকে সম্বোধনের মাধ্যমেও নিত্য তাঁর নাম নিই। শুধু তাই নয় দুর্গার নামের আশ্রয়ে কন্যাটিকে রেখে শান্তি পাই। শরৎকালের শিউলি ফুল, কাশফুল, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ইত্যাদির মতো সকল অনুষঙ্গ তুচ্ছ হয়ে যায় দুর্গাপুজোর কাছে। দুর্গোৎসব মানেই স্কুল ছুটি, নতুন জামাকাপড়, ঠাকুর দেখার আনন্দ, নানা অনুষ্ঠান, নানা রকমের খাবার ইত্যাদি যেমন ছোটদের মনে আসে তেমনই পরিণত বয়সে দুর্গোৎসবকে ঘিরে জীবনের নানা পর্যায়ের নানা ঘটনা ও দৃশ্যও মনে ভেসে আসে।
দুর্গাপুজো এলে কখনও কখনও একটা ছোট মেয়ের কথা মনে পড়ে যে তার বাবার সঙ্গে ঠাকুর গড়া দেখতে বাঙালি আখড়ায় যেত। ঠাকুর গড়া দেখতে যাবার সূত্রে পুজোর অনেক আগেই তার মনে এক পুজো পুজো ভাব এসে যেত। আখড়ায় সার বেঁধে বহু প্রতিমা গড়া হতো। কলকাতার কারিগর এসে সেখানে প্রতিমা গড়তেন। মেয়েটির চোখের সামনে খড়বাঁধা কাঠামোয় মাটি চাপত, রং পড়ত ও ধীরে ধীরে সপরিবারে মা দুর্গা রূপ পরিগ্রহ করতেন। তখন ছিল একচালা প্রতিমার যুগ। দেবীর মুখ মানুষের আদলে তৈরি হতো না। তখনকার সিংহও আজকালকার মতো আসল চেহারার হতো না। কিছুটা ঘোড়ার আদলের এক সবুজঘেঁষা রঙের সিংহকেই দেবীর যথার্থ বাহন বলে মনে হতো। প্রতিমার অঙ্গে ক্রমে বস্ত্র ও আভরণ উঠত, তাঁর দশহস্তে, আয়ুধগুলি স্থান পেত। সেই প্রতিমায় যখন পুজো হতো তখন তাতে প্রাণের যোগ ঘটত। সেই পুজোর পুষ্পাঞ্জলি, প্রার্থনা, প্রণাম—সব উঠে আসত প্রাণের গভীর থেকে। সন্ধিপুজোর সময় দেবী যে সত্যই প্রাণবন্ত হয়ে উঠতেন তখন তাঁর চোখের দিকে তাকালেই তা বোঝা যেত। সকালে পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধ্যায় নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কখন যেন পুজোর তিনটি দিন কেটে যেত। দশমীতে দেবী প্রতিমা বিসর্জনের দিনটি প্রতিবছরই যেন বড় তাড়াতাড়ি এসে যেত। দশমীতে মায়ের দর্পণে বিসর্জনের পর একচালা সেই দেবী প্রতিমাকে লোকেরা দুটি বাঁশের উপরে বেঁধে বাহকদের কাঁধে চাপিয়ে রওনা করিয়ে দিত গঙ্গার উজান বেয়ে কৈলাসের পথে। গঙ্গার ঘাটের পথে দেবী প্রতিমার যাত্রা হতো কন্যার পতিগৃহে যাত্রার মতো বিষাদপূর্ণ। কোনও শোভাযাত্রা সেখানে হতো না। কয়েকটি হ্যাজাক বাতির আলোয় আলোকিত করা পথ ধরে দুর্গা মা মহেন্দ্রু ঘাটের উদ্দেশে রওনা হতেন। মা দুর্গার যাত্রা ঘোষণা করা হতো কিছু পর পর একটি মাত্র কাঁসরে মাত্র একবার করে ঘা মারার শব্দে। সেই শব্দ শোনার জন্য সবাই কান পেতে থাকত। সেই শব্দ কানে এলেই মেয়েটি বাড়ির সকলের সঙ্গে সামনেই পার্কের গেটের কাছের জমায়েতে গিয়ে মা দুর্গাকে শেষবারের মতো প্রণাম নিবেদন করত। পিতৃগৃহ ছেড়ে যেতে মা দুর্গার কষ্ট তখন তাঁর বিষণ্ণ মুখে ধরা থাকত। সেই বিষণ্ণতায় সবাই আক্রান্ত হতো ও সবার চোখের জলে ঝাপসা হয়ে যাওয়া পথ বেয়ে মা দুর্গার পতিগৃহে যাত্রা হতো।
তারপর কেটে গেছে অনেকগুলি বছর। এখন মেয়েটি নিজেই শ্বশুরঘর করে। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগে ভবানীপুর অঞ্চলে এক বৈষ্ণব হরিনাম কীর্তন করে মাধুকরী করতেন। সারাবছর হরিনাম করলেও পুজোর আগে তিনি আগমনি গান গাইতেন। সঙ্গে সঙ্গত করত গলায় বাঁধা ছোট একটি হারমোনিয়াম। গায়ে নামাবলি জড়ানো ছোটখাট মানুষটি পুজোর আগে গাইতেন—‘এবার আমার উমা এলে আর মাকে পাঠাব না’ অথবা ‘যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী’ ইত্যাদির মতো সব গান। আগমনির সেই গান শুনে মেয়েটির মনে ভেসে উঠত বাপের বাড়ির ছবি, আখড়ার ঠাকুর, পুজোর সেইসব দিন। প্রতিদিনই বৈষ্ণবের ঝুলিতে চাল দেবার সময়ে সবার অলক্ষ্যে কয়েক ফোঁটা চোখের জলও তাতে মিশে যেত। ক্রমে চারদিক আলোর সাজে ভরিয়ে, নানা গানে দিগ্‌বিদিক পূর্ণ করে কলকাতায় পুজো এসে যেত। নানারকমের বাহারি মণ্ডপ, মানুষের আদলে প্রতিমার মুখ, পার্কের বড় পুজোগুলির সঙ্গে নাগরদোলা—পুজো যেন এক বিরাট মেলা। নতুন কাপড় পরে সবার সঙ্গে অষ্টমীর দিন অঞ্জলি দেওয়া, সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া—সবই নিয়ম মতো হতো। তবে ক্বচিৎই তা দৃষ্টির গণ্ডি ছড়িয়ে হৃদয়কে স্পর্শ করত। মেয়েটির বাড়ির সামনে দিয়ে ছিল প্রতিমা বিসর্জনের পথ। কয়েকদিন ধরে সেই পথে সার বেঁধে প্রতিমাগুলি যেত। চোখ ধাঁধানো আলো ও নানা বাজনার হইহই শব্দে বিসর্জনের বিষাদ হারিয়ে যেত। প্রতিমার দৃষ্টি যেমন নিস্পৃহ থাকত মেয়েটির মনও হয়ে থাকত নিস্পৃহ। নিয়মমতোই প্রতিমার দেবীকে পরের বছর আবার আসবার আগাম আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়মের প্রণামসহ দেবী প্রতিমাকে বিদায় জানানো হতো। বিসর্জনের কষ্ট মনকে ব্যথিত করত না।
ক্রমে সময়ের সঙ্গে মেয়েটি বিসর্জনের আগে প্রতিমা বরণ করা শিখল। মায়ের মুখ মুছিয়ে, সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে, মুখে মিষ্টি ও হাতে এক খিলি পান দিয়ে মায়ের কানের কাছে মুখ নিয়ে প্রার্থনা করতে শিখল সামনের বছর সবাইকে নিয়ে যেন আনন্দের সঙ্গে পুজো দেখার কোনও ব্যতিক্রম না হয়। পিতৃকুল, মাতৃকুল, শ্বশুরকুলের সবার কল্যাণ কামনা করে সামনের বছর তাঁকে আবার আসার প্রার্থনা জানাতে শিখল।
সময় বয়ে চলে। বছরের পর বছর ঘুরে দুর্গাপুজো আসে ও যায়। তেমনই এক সময়ের এক দেবীপক্ষের কথা। একদল পর্বতারোহী চলেছে পার্বতীর পতিগৃহ অঞ্চলের একটি শৃঙ্গজয়ের উদ্দেশে। দলে ডাক্তার আছেন, অধ্যাপক, গবেষক আছেন এবং আছে সেই মেয়েটিও। সে বছর পুজো ছিল দেরিতে, আশ্বিন মাস প্রায় শেষের দিকে। রোটাংপাস পার করে যে পথ ডাইনে ঘুরে স্পিতির দিকে গেছে সেই পথ ধরে তাদের যাত্রা। পাহাড়ে ঠান্ডা বাড়ছে। উপরদিকে পথের ধারের অস্থায়ী চায়ের দোকান ও অস্থায়ী বাসা ছেড়ে লোকেরা একে একে নীচের দিকে নেমে আসছে। ভেড়া ও ছাগলের দুপাশে ঝোলানো থলিতে বেঁধে সংসারের জিনিসপত্র নামিয়ে আনছে। এমন সময়ে শীতের মুখে উপরের দিকে বাস ভর্তি লোকের যাওয়া দেখে তাদের চোখে মুখে সর্বত্র ছিল বিস্ময় ও জিজ্ঞাসা। বাস একে একে গুলাবা, পালচেন, গ্রামফু, খোকসার ইত্যাদির বসতিগুলি পার করতেই সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে এল। সরকারি সেই বাস সবাইকে বাতালে পৌঁছে দেবে—সেই শর্ত আছে। নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে গাড়ির হেডলাইটের আলোয় আলোকিত পথে বাস ধীরে ধীরে চন্দ্রা নদীর উজান বেয়ে এগিয়ে চলেছে। এই চন্দ্রা নদীই আরও নীচে ভাগা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে চন্দ্রভাগা বা চেনাব নাম নিয়ে পাকিস্তানে সিন্ধু নদে গিয়ে পড়বে। মাঝে এক জায়গায় পথ অত্যন্ত খারাপ বলে সবাইকে নামিয়ে দিয়ে খালি বাসটি এগিয়ে গেল। সেই অন্ধকারে টর্চের আলোয় সবাই পথ চলে আবার গিয়ে বাসে উঠল। এভাবে ঘণ্টাখানেক এগিয়ে ড্রাইভার জানিয়ে দিল বাস আর যাবে না। সামনেই চন্দ্রা নদীর উপরে গাড়ি যাতায়াতের যে ব্রিজ পাশের পাহাড় থেকে নেমে আসা হিমস্রোতের বরফ ব্রিজের নীচের অংশের নদীগর্ভে স্তূপাকারে জমে ব্রিজের লোহার বিমকে বাঁকিয়ে উপর দিকে তুলে দিয়েছে। ফলে পথ বন্ধ। সেখানে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় দিবারাত্রি মেরামতির কাজ চলছে। পেট্রম্যাক্সের বাতির আলোয় চারদিক ঝলমল করছে। স্পিতি যাবার পথ যতশীঘ্র সম্ভব খোলা চাই। অসহায় বাসযাত্রীরা সেখানে অন্ধকারে, কনকনে ঠান্ডায় বাসে বসে রাতটা কাটিয়ে পরদিন পায়ে হেঁটে ব্রিজ পার করে ছত্রুতে পৌঁছল। সেখানে দুই দিন দুই রাত বৃথা ব্যয় করে তৃতীয় দিনে স্পিতি থেকে আসা ফিরতি পথের এক ট্রাকে চেপে সবাই বাতালের পথে এগিয়ে গেল।
চন্দ্রা নদীর ধারে বাতালে সারা বছর একটি বুলডোজার রাখা থাকে যাতে শীতের সময়ে বরফে স্পিতির পথ বন্ধ না হয়ে যায়। তার তত্ত্বাবধানে সব সময় একজন সেখানে থাকে। তার ঘরের লাগোয়া আরও দুটি ঘর সেখানে ছিল পথচারী যাত্রীরা সেখানে আশ্রয় নিত।
পর্বতারোহী দলটিও সেখানে একরাত আশ্রয় নিয়ে পরদিন সকালে পদব্রজে পুরনো পরিত্যক্ত এক পুল ধরে চন্দ্রা নদী পার করে বড়া শিগরি হিমবাহের পথে রওনা হল।
মেয়েটির হিসাবমতো সেদিন ছিল দুর্গাষষ্ঠী, দেবীর বোধনের দিন। পিঠের ব্যাগে তার সকালের খাবার ও দুপুরের খাবার বাঁধা আছে। সুজয়া ও শিবানীকে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল যে করচা নালা সেটি পার করা হয়েছে। রোটাং পার করার পর এদিকের শুকনো, ঠান্ডা পাহাড়ে গাছপালা এমনিতেই জন্মায় না। এখানে উচ্চতার কারণে নদীর ধারেও কোনও গাছ নেই, শুধু এদিকে ওদিকে পাহাড়ের খাঁজে ছোট ছোট কয়েকটি গাছে নীল ও বেগুনি ফুল ফুটে আছে। মেয়েটি ভাবছিল কৈলাস থেকে বঙ্গভূমির পথে মা দুর্গার যাত্রাপথ তো সেখান দিয়েই হবার কথা। নদীর জলে হাত ধুয়ে পাশের পাহাড়ি ফুল তুলে সে আবাল্য উচ্চারিত পুষ্পাঞ্জলির মন্ত্রে সপরিবারে দুর্গাদেবীকে স্মরণ করে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করল। উপরে নীল আকাশ, ডানদিকে চন্দ্রা নদী বয়ে চলেছে। সামনে বরফে ঢাকা পাহাড়ে ধর্মাসুর শৃঙ্গ শোভা পাচ্ছে। এমন পরিবেশে নিজের উচ্চারিত মন্ত্রে সে নিজেই মুগ্ধ হয়ে গেছে। পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে যে আনন্দ, যে তৃপ্তি সে সেদিন পেয়েছিল তার কোনও তুলনা নেই। সেখানে ছিল আকাশ, বাতাস, নদী, পাহাড়—সব জুড়ে মা দুর্গার উপস্থিতি।
সে সব দিন কত যুগ আগে পার হয়ে গেছে। এখন প্রতি বছর দুর্গাপুজো আসে যেন বয়সটা আরও একবছর করে বাড়ছে, শরীর অশক্ত হচ্ছে সেটা বুঝিয়ে দিতে। এখন সে বোঝে নিরাকার সেই বিশ্বব্যাপী শক্তিকে নিজের উপলব্ধিতে আনার জন্যই দেবীমূর্তির কল্পনা করা হয় ‘অজ্ঞানাং ভাবনার্থায় প্রতিমা পরিকল্পিতা।’ বোঝে পুজোর জন্য যেমন চতুঃষষ্ঠী উপাচার হয় তেমনই শুধু ‘ভক্তিতোয়াভ্যাম’, ভক্তি ভরে দেওয়া জল দিয়েও পুজো হয়। শৈশবের বাঙালি আখড়ার সেই ঠাকুর এখন অতীতের স্বপ্ন। ভিড় ঠেলে কলকাতার ঠাকুর দেখার ইচ্ছা ও ক্ষমতা এখন অস্তমিত। তবু বাড়ির সকলের, বিশেষ করে নাতি-নাতনির ভালো লাগা দেবী প্রতিমাগুলি সকালের দিকে ভিড় বাঁচিয়ে একদিন দেখে আসা হয়। পাড়ায় মহাষ্টমীতে পুষ্পাঞ্জলিও দেওয়া হয়। শুধু দশমীতে আর দেবীপ্রতিমা বরণ করা হয় না। উঁচু টেবিলে বা মইতে চড়ে প্রতিমা বরণ করার শক্তি ও সাহস কোনওটাই আর তার নেই।
এখন দুর্গাপুজোর সময়ে দূরদেশে চলে যাওয়া তার মেয়েটি প্রতিবছর আসে। মেয়েটি সেখানে স্বামীর ঘর করে, তবে পুজোর সময়ে কলকাতায় এলে তার সঙ্গে দেখা হয়। পুজোর কটা দিন এক অন্যরকম আনন্দে কাটে। দশমীর দিন সে এখন দেবী বরণ করে নিজের ঘরে। ঘরে বাঁধিয়ে রাখা পটের দুর্গাকে সিঁথিতে সিঁদুর পরিয়ে মুখে মিষ্টি দিয়ে সে বরণ করে পতিগৃহে পাঠায়। তার বুকে থাকে কন্যা বিদায়ের কষ্ট, সঙ্গে থাকে প্রাণের গভীর থেকে উঠে আসা এক প্রার্থনা। দেবীর কানের কাছে মুখ নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে এখন সে বলে—সামনের বছর আবার আসিস মা, আনন্দময়ী হয়ে আসিস, তোর এই বুড়ো মা-টা পথ চেয়ে থাকবে।
লেখিকা কলকাতায় যোগমায়া দেবী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা।
 
30th  September, 2019
মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার ভোট: বিধ্বস্ত বিরোধী
বনাম দোর্দণ্ডপ্রতাপ মোদি-অমিত শাহ জুটি
বিশ্বনাথ চক্রবতী

 ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর চার মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনের সম্মুখীন মোদি-অমিত শাহ জুটি। এই দুই রাজ্যে পাঁচ বছর শাসন করবার পরও মোদিই বিজেপির প্রধান ভরসার স্থল। বিশদ

আফ্রিকায় ‘আবিম্যানিয়া’
মৃণালকান্তি দাস

 ইথিওপিয়ার মানুষ আজ মনে করেন, আবি আহমেদ আলি আর কেউ নন, স্বয়ং ভগবানের দূত! তাদের রক্ষাকর্তা! বিশদ

সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। বিশদ

15th  October, 2019
শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা।
বিশদ

14th  October, 2019
বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। 
বিশদ

12th  October, 2019
সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হওয়ার পাঠ শেখাচ্ছে সত্তর বছরের গণচীন
মৃণালকান্তি দাস

এখন সাধারণ পোশাক পরা মাও বা টায়ারের চপ্পল পায়ে হো চি মিনরা আর সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেই। এখন স্যুট টাই পরা বিলাসী সাহেবরা নেতৃত্বে। কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে আছে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দলীয় একনায়কতন্ত্র অব্যাহত রাখার গরজে। ব্রিটিশরা যেমন বলে থাকেন আওয়ার কিং ইজ ডেড, লং লিভ আওয়ার কিং। ঠিক তেমনই। আগে ধনতন্ত্র পরে সমাজতন্ত্র। তার জন্য জানলা খুললে কিছু মাছি-মশা আসবে। কথাটা বলেছিলেন দেং নিজেই। অবশ্য এই মাছি-মশা নিয়ে তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কী করে সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হতে হয় সেটাও শেখাচ্ছে চীন! 
বিশদ

11th  October, 2019
এক কাপ চায়ে 
অতনু বিশ্বাস

এক কাপ চা, কত গল্প বলে সকাল, বিকেল, সন্ধে বেলা...।
এ গানের লিরিকের মতোই চা নিয়ে এবং চায়ের টেবিলে গল্পেরও কোনও শেষ নেই। এক কাপ চায়ে আমেজ আছে নিশ্চয়ই। দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও।  
বিশদ

10th  October, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!  
বিশদ

03rd  October, 2019
একনজরে
 নয়াদিল্লি, ১৬ অক্টোবর (পিটিআই): টানা প্রায় তিন দশক ভারতের রাস্তায় দাপট দেখিয়ে বিদায় নিয়েছিল ‘চেতক’। তখন আট থেকে আশির মুখে মুখে উচ্চারিত হত ‘হামারা বাজাজ’। ...

সংবাদদাতা, গাজোল: বুধবার, বিকেলে পুরাতন মালদহ ব্লক অফিসের মধ্যে বিধবাভাতার ফর্ম জমা না নেওয়ায় বিডিওর সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা বিজেপির নিতাই মণ্ডল। এনিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ব্লক অফিস চত্বরে ব্যাপক শোরগোল চলে। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ...

সংবাদদাতা, তেহট্ট: বুধবার তেহট্ট থানার কুষ্টিয়া গ্রামে মাঠের মধ্যে নিমগাছ থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ। ওই যুবককে পিটিয়ে খুন করে গাছে টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম তাপস সরকার(২২)।  ...

 বিএনএ, চুঁচুড়া: পুজোর উদ্বোধন থেকে বিসর্জন, সিসি ক্যামেরার নজরদারিতেই চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো হবে। মঙ্গলবার রাতে পুজো নিয়ে পুলিস, আয়োজক কমিটি, চন্দননগর পুরসভা সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি, পুজোর আয়োজন থেকে বিসর্জন পর্ব নির্বিঘ্নে মেটাতে ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বেশি বন্ধুবান্ধব রাখা ঠিক হবে না। প্রেম-ভালোবাসায় সাফল্য আসবে। বিবাহ যোগ আছে। কর্ম পরিবেশ পরিবর্তন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

 আন্তর্জাতিক দারিদ্র দূরীকরণ দিবস
১৮৯০: সাধক বাউল লালন ফকিরের মৃত্যু
১৯৫৫: অভিনেত্রী স্মিতা পাতিলের জন্ম
১৯৭০: ক্রিকেটার অনিল কুম্বলের জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৮১ টাকা ৭২.৫১ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৭৯ টাকা ৯৩.০৩ টাকা
ইউরো ৭৭.৫৭ টাকা ৮০.৫২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৮৫০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৪১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,০০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,১০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, তৃতীয়া ২/৫৮ দিবা ৬/৪৮। কৃত্তিকা ২৫/৩৬ দিবা ৩/৫২। সূ উ ৫/৩৭/১৮, অ ৫/৭/৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/১০ মধ্যে পুনঃ ১/১৭ গতে ৭/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৭ গতে ২/৪৭ মধ্যে। রাত্রি ৫/৫৭ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ৩/৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৮ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১৫ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২২ গতে ১২/৫৬ মধ্যে।
২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, চতুর্থী ৫৯/২৭/২৯ শেষরাত্রি ৫/২৪/৪৬। কৃত্তিকা ২৪/১৩/৩৫ দিবা ৩/১৯/১২, সূ উ ৫/৮/১৫, অ ৫/৮/২৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/১৫ মধ্যে ও ১/১২ গতে ২/৪১ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৬ গতে ৯/১২ মধ্যে ও ১১/৪৬ গতে ৩/১২ মধ্যে ও ৪/৩ গতে ৫/৩৮ মধ্যে, বারবেলা ৩/৪২/৬ গতে ৫/৮/২৬ মধ্যে, কালবেলা ২/১৫/৪৬ গতে ৩/৪২/৬ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/২৩/৬ গতে ১২/৫৬/৪৬ মধ্যে।
১৭ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

04:52:00 PM

খেজুরিতে সমুদ্রে নেমে মৃত নাবালক পর্যটক 
বেড়াতে এসে সমুদ্রে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ গেল ...বিশদ

04:19:36 PM

নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে কমিউনিস্ট পার্টির সূচনা অনুষ্ঠান 

03:47:00 PM

জলঙ্গিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিএস‌এফ কর্মীর মৃত্যু, জখম আর‌ও এক জ‌ওয়ান, অভিযোগ বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে 

03:07:52 PM

মালদহে শিক্ষিকা খুনে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারির দাবিতে পথ অবরোধ 
মালদহের হবিবপুর ব্লকের মঙ্গলপুরা গ্রামে এক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষিকা খুনের ...বিশদ

02:11:02 PM

কুলটিতে নিখোঁজ তিন ব্যক্তির সন্ধানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী 
পাঁচ দিন ধরে কুয়ো খাদানে নিখোঁজ তিনজনকে উদ্ধারে নামল জাতীয় ...বিশদ

02:03:57 PM