Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

পুজো এসে গেল
শুভা দত্ত

দিন গোনা শেষ। বছরভর প্রতীক্ষার অবসান। গতকাল মহালয়ার ভোর ফুটতেই এবারের দেবীপক্ষের সূচনা হয়ে গেল। আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল দুর্গাপুজো, মানে মহামায়া বন্দনার উদ্‌যোগ-আয়োজনের ফাইনাল রাউন্ড। আর সেইসঙ্গেই বাঙালির সংবৎসরের সবচেয়ে বড় উৎসব—শারদোৎসবের ঢাকেও কার্যত কাঠি পড়ে গেল। শহর মহানগর থেকে গ্রাম গ্রামান্ত পাড়ায়-পাড়ায় মাঠে-ঘাটে, পথে-রাজপথে এবার শুরু হয়ে যাবে পুজোর প্রতিমা-মণ্ডপের উদ্বোধন। রাজনৈতিক নক্ষত্র থেকে টলিউড-বলিউডের তারকা, খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিক, সেলিব্রিটি—আগামী এক-দেড় হপ্তা দিনরাত একাকার করে মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে ছুটে বেড়াবেন কখনও উদ্বোধনের খাতিরে, কখনও পুজোয় পুজোয় সেরার লড়াইয়ে সেরার সেরা বাছাই করার বিচারক হিসেবে। তবে যতদূর খবর, এবারও পুজো উদ্বোধনে অন্তত সংখ্যার বিচারে আর সকলকে বহু পিছনে ফেলে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নামীদামি থেকে সাধারণ—এত পুজোর উদ্বোধনের অনুরোধ তাঁর দপ্তরে এসে পৌঁছেছে যে সেগুলোর সবকটিতে হাজিরা দিতে গেলে নাকি কালীপুজো পার হয়ে যাবে! রসিকতার মেজাজে এমনই কথা শুনিয়েছেন আমাদের এক তথ্যভিজ্ঞ বন্ধু।
তবে, এই রসিকতার পিছনে একটা সত্যিও কি নেই! ইতিমধ্যেই তো খবর ছড়িয়েছে যে বিগত বছরগুলোর
মতো এবারও, রাজনীতির যাবতীয় টানাপোড়েন বিতর্ক অস্বস্তি
উড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো উদ্বোধনের ময়দানে তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বা রাজ্য-রাজনীতির অন্য দিকপালেরাও পুজো উদ্বোধনের দৌড়ে আছেন বটে তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের ফারাকটা এবারেও যোজন যোজন। পাশাপাশি, দিল্লি, মুম্বই বা দেশের অন্য রাজ্য থেকেও এইসময় যে বিশিষ্ট অতিথি-অভ্যাগতবৃন্দ পুজোর উদ্বোধন বা সেরা নির্বাচনের প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে আসেন এবং এবারও আসছেন, তাঁদের সেলেব দ্যুতিতে সংশ্লিষ্ট মণ্ডপে আড়ম্বর গরিমা, কৌতূহলী মানুষের ভিড় বাড়বে সন্দেহ নেই, কিন্তু জনপ্রিয়তায় এবারও সকলকে টেক্কা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। এমনটাই আশা করছেন পুজোর উদ্যোক্তা থেকে সাধারণ মানুষজন। এই যদি হয় বাস্তব তাহলে রসিক মানুষ ওটুকু মজা তো করতেই পারেন, তাই না?
তবে, ওয়াকিবহালেরা বলছেন, পুজো উদ্বোধন বা জনপ্রিয়তার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে অবধারিতভাবেই থাকবেন পদ্মশিবিরের মধ্যমণি দিলীপ ঘোষ। কয়েক বছর আগে রামনবমীতে সশস্ত্র মিছিল করে সাড়া ফেলে দেওয়ার পর শেষ লোকসভা ভোটে ১৮ আসনের চমক বিজেপি রাজ্যশিবিরের সভাপতি দিলীপ ঘোষকে কেবল প্রধান মুখ হিসেবেই তুলে ধরেনি, দলের সদস্য সমর্থককুলে তাঁকে এক মহানেতার শিরোপায় ভূষিত করেছে। সেই সুবাদে বিরোধী নেতা দিলীপ ঘোষের আকর্ষণ যে রাজনীতির পরিসরের বাইরেও যথেষ্ট ছড়িয়েছে তাও আজ কেউ খুব অস্বীকার করেন না। ফলে পুজো উদ্বোধনের মঞ্চে উদ্যোক্তাদের কাছে অন্যদের তুলনায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা যে অধিক হবে তা বলাই বাহুল্য। এখন এই গ্রহণযোগ্যতার বলে শাসক তৃণমূলের বাদবাকি নেতা-মন্ত্রীদের তিনি কতটা টেক্কা দিতে পারেন তা দেখার জন্য বাংলার কমপিটিশনপ্রিয় জনতা যে উদ্‌গ্রীব সেটা পথেঘাটে আড্ডা আলোচনা থেকে বেশ ভালোই বোঝা যাচ্ছে। সুরসিক বন্ধুর সংযোজন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে লাগাতার গরম গরম তরজা, রোখাচোখা বাক্যবাণ দিলীপ ঘোষের যে যুদ্ধং দেহি ভাবমূর্তি তৈরি করেছে সেটা শান্ত-শিষ্ট ভক্তিমাধুর্যমণ্ডিত পুজোর আসরে কেমন দেখায় তা দেখার কৌতূহলও পাবলিক মনে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। অস্বাভাবিক নয়। বাঁধতেই পারে। সবমিলিয়ে তাই অনেকেই বলছেন পুজোর লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার মহোৎসবে মুখ্য আকর্ষণের ক্রম তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যতিরেকে বাদবাকিরা উদ্বোধন-সংখ্যার লড়াইতে কে কোন পজিশন দখল করেন তা দেখার উৎসাহ আতিশয্য ক্রমশ সাধারণজনের মধ্যে প্রবলতর হচ্ছে।
কিন্তু, জনতার এই উৎসাহ আগ্রহে বাদ সাধতে কি উঠেপড়ে লাগল বৃষ্টি! ভাদ্র শেষ হয়ে আশ্বিন পড়েছে কবেই। এখন কোথায় ঝলমলে রোদ্দুরে তুলো মেঘ ভাসা নীল আকাশ থাকবে, তা না, দেখলে মনে হচ্ছে ভরা শ্রাবণ! ঘন কালো আবার কখনও ধোঁয়াটে ধূসর একটা আকাশ, সারাদিনরাত কলকাতা সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে দফায় দফায় অঝোর ঝরে চলেছে, থামা নেই! পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে পুজোর চার দিন রেহাই পাবে কিনা তা নিয়েই তো ঘোর সন্দেহ দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অফিসও জোর দিয়ে তেমন কিছু এখনও বলতে পারছে না! অন্তত, শুক্রবার এই লেখা যখন লেখা হচ্ছে তখনও সেরকম কিছু শোনা গেল না! শেষ পর্যন্ত কী হবে কে জানে? তবে অনেকবার এমনও হয়েছে, পঞ্চমী অব্দি যে আকাশ মুখ ভার করে রইল মাঝে মধ্যেই ভাসাল, সেই আকাশটাই ষষ্ঠীর ভোরে ভোল পাল্টে এক্কেবারে ঝকঝকে সুন্দর হয়ে দেখা দিল! সেই নীল শরতের আকাশ, পুজোর গন্ধ আর ঢাকের শব্দে জমে গেল উৎসবের আমেজ, আবালবৃদ্ধবনিতার মুখে ফুটল হাসি। এমনটা এর আগে অনেকবারই হয়েছে। কিন্তু এবার?!উদ্যোক্তা থেকে সাধারণ উৎসবমুখর মানুষ—সকলের মনেই এখন ওই একটি প্রশ্নের উত্তর নিয়ে সংশয়ের দোলাচল। কুমোরটুলির মতো রাজ্যের পটুয়াপাড়াতেও কোথাও কোথাও সে দোলাচালের অস্বস্তি। প্রতিমায় শেষ তুলির টান দেওয়ার লগ্নে যদি বৃষ্টিজল বিপত্তি বাধায় তবে সে অস্বস্তি তো স্বাভাবিক। এমনিতেই প্রতিমা তৈরিতে নতুন প্রজন্মের অনীহা পটুয়াপাড়ার ভিতরে ভিতরে একটা সমস্যা বাড়িয়ে চলেছে। তা সত্ত্বেও যেটুকু আছে সেটুকু উজাড় করে দিয়ে যাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রমে নিষ্ঠায় লাভালাভের চিন্তা ভুলে বাঙালির সবচেয়ে বড় সবচেয়ে মহিমাময় এই উৎসবকে বছর বছর সফল করে চলেছেন তাঁদের যাবতীয় শ্রম যদি অকালবর্ষণে বিপন্ন হয়ে পড়ে তবে সমস্যার ভার যে আরও ভারী হয় তা কি বলার অপেক্ষা রাখে?
তার উপর রাজ্য-রাজনীতিতে যা শুরু হয়েছে সেটাও তো পুজো উৎসবের মরশুমের পক্ষে খুব স্বস্তিদায়ক নয়। এতদিন কিছু হল না হঠাৎ পুজোর একেবারে মুখে দুই আইপিএস অফিসারকে সারদা-নারদা কাণ্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তৎপর হল সিবিআই। একজন গ্রেপ্তার হলেন অন্যজন বেপাত্তা। আর সিবিআইয়ের এই তৎপরতা নিয়ে অনিবার্যভাবেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী বিজেপি’র শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে জোর তরজা শুরু হয়ে গেল। রাজ্যে এনআরসি লাগু করা নিয়ে ইতিমধ্যে এমনিতেই রাজনীতির হাওয়া গরম হয়ে আছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে কোনও অবস্থাতেই এনআরসি করতে দেবেন না। আর তার পাল্টা রাজ্যে এনআরসি করতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও তাঁর সহযোগীরা একরকম চ্যালেঞ্জই নিয়ে বসেছেন! শেষ পর্যন্ত কী হবে সেটা সময় বলবে। কিন্তু পুজোর সময় সারদা-নারদা এনআরসি এবং অবশ্যই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাবুল সুপ্রিয়র সাম্প্রতিক ব্যাপারটা নিয়ে বাংলায় যে চাপা রাজনৈতিক উত্তাপ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে তাতে পুজোর আনন্দে যে কিছুটা হলেও বেসুর বেজেছে তাতে সন্দেহ কী? গতকাল মহালয়ার দিনটিতেও রাজনীতি রেহাই দিল না। কী আশ্চর্য!
অথচ, একটা সময় ছিল যখন এই মহালয়ার ভোরে বীরেন্দ্রকৃষ্ণের মহিষাসুরমর্দিনী আর গঙ্গার ঘাটে ঘাটে পিতৃপুরুষের উদ্দেশ্য তর্পণের মন্ত্রে এই দিনটাকে অন্য দিনগুলোর চেয়ে কেমন যেন আলাদা মনে হতো। প্রিয়জনের উস্কে ওঠা স্মৃতি আর পুজোর গন্ধ মিলেমিশে উৎসবের একটা আবেশ-আমেজ তৈরি করে দিত। বলতে কী, মহালয়ার ভোর এলেই যেন শুরু হয়ে যেত বাঙালির মহাপূজার মহোৎসব। রাজ্যে-রাজনীতির যত টানাপোড়েনই থাক, এই দিন থেকে সাময়িক বিরতিতে চলে যেত যাবতীয় বাক্‌-বিতণ্ডা। শাসক-বিরোধী শত্রু-মিত্র সমস্ত বিবাদ ভুলে একযোগে মেতে উঠত উৎসবে। বাঙালির মহাপুজোর সেই চিরচেনা ছবিটা কি তবে আর পাঁচটার সঙ্গে বদলেই গেল! আর তাই কি পুজোর উষ্ণতা পুজোর আবেগ এখন রাজনীতির চক্রপাক কূটকচাল উপেক্ষা করে আপন ছন্দে দুর্নিবার হয়ে উঠতে থমকায়, ইতস্তত করে এবং উৎসবপ্রিয় সাধারণ জনের মনে নিঃশব্দে নীরবে সংশয়ের বীজ বুনে দিয়ে যায়! তাই ঩কি, প্রাণখোলা হাসি উল্লাসের উৎসবে গা ভাসিয়েও বাঙালি এখন আর পুরোপুরি স্বস্তি পায় না, তার মনের কোণে একটা কাঁটা ফুটতেই থাকে! এবং রাজ্য-রাজনীতির দাপটে এবার কি সে কাঁটার জ্বালা একটু বেশিই?! কে জানে? তবে তথ্যভিজ্ঞদের অভিমত তো তেমনই।
তবু, তার মধ্যেও পুজো এসে গেল। মহালয়ার দেবীপক্ষের উদ্বোধনের পর মাঝে আর কটামাত্র দিন। তারপরই সব ভোলানোর সেই দিনগুলো এসে পড়বে। এবং চোখের পলক ফেলতে না ফেলতেই দেখব আমাদের বছরভরের প্রতীক্ষায় রেখে কোথায় হারিয়ে গেল দিনগুলো! আলো নেভানো প্রতিমাহীন প্যান্ডেলের বিষাদ পিছনে ফেলে আপামর বাঙালি ফের নেমে পড়বে দৈনন্দিনের কাজে। কিন্তু তার আগে বাঙালিজন আপাতত মহামায়ার আরাধনার ওই চারদিনে অপার আনন্দের প্রত্যাশায় উন্মুখ। এখন লাগাতার বৃষ্টি আর সংঘাতময় রাজনীতির প্রতিকূলতা কাটিয়ে সাধারণের সেই প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয় সেটাই দেখার। তবে আমাদের বিশ্বাস, মহামায়ার আশীর্বাদে সব বিঘ্ন কেটে যাবে, মানুষ পুজোর চারটে দিন নির্মল আনন্দে মাতোয়ারা হতে পারবে। পারবেই। 
29th  September, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!  
বিশদ

03rd  October, 2019
মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন অনুসরণীয়
মোহন ভাগবত

ভারতের আধুনিক ইতিহাস তথা স্বাধীন ভারতের উত্থানের কাহিনীতে যেসব মহান ব্যক্তির নাম চিরকালের জন্য লেখা হয়ে আছে, যা সেই সনাতন কাল থেকে চলে আসা ভারতের ঐতিহাসিক গাথার এক একটি অধ্যায় হয়ে যাবে, পূজ্য মহাত্মা গান্ধীর নাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভারতবর্ষ আধ্যাত্মিক দেশ এবং আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতেই তার উত্থান হবে।  
বিশদ

02nd  October, 2019
দুর্গাপুজোর আঙিনায় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ 

বঙ্গাব্দ ১২৭৭। রানি রাসমণি নেই। পরিবারের কর্তা জামাতা মথুরমোহন বিশ্বাস। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব এসেছেন জানবাজারে দুর্গাপুজো উপলক্ষে। ঠাকুরের উপস্থিতিতে সেই বাড়ি তখন আনন্দস্রোতে প্রবাহিত হয়ে আনন্দধামে পরিণত।   বিশদ

01st  October, 2019
এনআরসি: বাঙালির নয়া আতঙ্ক এবং অপমান
হারাধন চৌধুরী 

বাঙালির যেন আতঙ্ক-লগ্নে জন্ম। একটা আতঙ্ক যায়, আবার একটা এসে জোটে। নতুন আতঙ্কের নাম এনআরসি। এনআরসি-আতঙ্ক গ্রাস করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিকেও। বাঙালিকে নতুন করে নাগরিকত্বের পরীক্ষায় বসতে হবে।   বিশদ

01st  October, 2019
গান্ধী, পৃথিবী, পরিবেশ
রঞ্জন সেন

এনভায়রনমেন্ট, ইকোলজি এসব কথা গান্ধী কোন দিন ব্যবহার না করলেও তাঁর চিন্তা চেতনা ও কাজের একটা বড় এলাকা জুড়ে রয়েছে পরিবেশ। গ্রাম স্বরাজ থেকে অহিংসা, চরকা থেকে স্বনির্ভরতা কোন কিছুই যেন পরিবেশ ছাড়া সম্পূর্ণ হয়না। অথচ ঘোষিত পরিবেশবাদী বলতে যা বোঝায় তা তিনি কোনদিনই ছিলেন না। 
বিশদ

30th  September, 2019
মা দুর্গা ও মেয়ে দুর্গা
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

দুর্গাপুজো এলে কখনও কখনও একটা ছোট মেয়ের কথা মনে পড়ে যে তার বাবার সঙ্গে ঠাকুর গড়া দেখতে বাঙালি আখড়ায় যেত। ঠাকুর গড়া দেখতে যাবার সূত্রে পুজোর অনেক আগেই তার মনে এক পুজো পুজো ভাব এসে যেত। আখড়ায় সার বেঁধে বহু প্রতিমা গড়া হতো। কলকাতার কারিগর এসে সেখানে প্রতিমা গড়তেন। মেয়েটির চোখের সামনে খড়বাঁধা কাঠামোয় মাটি চাপত, রং পড়ত ও ধীরে ধীরে সপরিবারে মা দুর্গা রূপ পরিগ্রহ করতেন। ... প্রতিমার অঙ্গে ক্রমে বস্ত্র ও আভরণ উঠত, তাঁর দশহস্তে, আয়ুধগুলি স্থান পেত। সেই প্রতিমায় যখন পুজো হতো তখন তাতে প্রাণের যোগ ঘটত। 
বিশদ

30th  September, 2019
পুজোয় অনলাইন প্রক্সি
অতনু বিশ্বাস

প্রচেষ্টাটায় বেশ চমক আছে নিঃসন্দেহে। পুজোতে এই অনলাইন প্রক্সির ইতিবৃত্ত যে প্রবাসী এবং অনাবাসী বাঙালিদের কলকাতার পুজোর আওতায় আনার একটা প্রচেষ্টা, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে একে প্রবাসী কিংবা অনাবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, তার কোনও বাধ্যবাধকতা অবশ্যই নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা বৃদ্ধ, অসুস্থ, অশক্ত, ভিড়ভাট্টায় পুজো প্যান্ডেলে ঘুরতে অসমর্থ, তাঁরাও তো দিব্যি ভার্চুয়াল পুজোর শরিক হতে পারেন। আর শুধু যাঁরা অসমর্থ তাঁরাই বা কেন, যাঁরা ভিড়ের স্রোতে অস্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁরাও কেন নন? কে আটকাচ্ছে?
বিশদ

29th  September, 2019
বালুচিস্তানের যন্ত্রণা
নিয়ে কিছু বলুন!
মৃণালকান্তি দাস

 ২০১৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। বালুচিস্তানের দেরা বুগতি জেলার গৈন্ধরি গ্রামে তখন সূর্য উঠেছে মাত্র। হঠাৎ আকাশ কাঁপিয়ে ধেয়ে এসেছিল ১০টি পাকিস্তানি বেল এইচ হেলিকপ্টার। মুহূর্তেই আকাশ থেকে গুলি ও বোমা ছুটে এসেছিল গৈন্ধরি গ্রামের উপর। বিশদ

27th  September, 2019


আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশ্রমে শারীরিক ও মানসিক কষ্ট। দূর ভ্রমণের সুযোগ। অর্থ প্রাপ্তির যোগ। যে কোনও ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪০- ‘দি বিটলস’ ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা, গায়ক জন লেননের জন্ম
১৯৪৫- সারোদবাদক আমজাদ আলি খানের জন্ম
১৯৪৫- অভিনেত্রী সুমিতা সান্যালের জন্ম
১৯৬৭- কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব চে গেভারার মৃত্যু
২০১৫- সংগীত পরিচালক রবীন্দ্র জৈনের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার    
পাউন্ড    
ইউরো    
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৭৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৭৯৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৩৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
05th  October, 2019

দিন পঞ্জিকা

১৮ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ১০/৪৫ দিবা ৯/৫১। মূলা ১৯/২৪ দিবা ১/১৮। সূ উ ৫/৩২/৪৫, অ ৫/১৭/৫৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ মধ্যে পুনঃ ৭/৭ গতে ৯/২৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ গতে ২/৫৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৪ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৩৯ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ৭/০ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৪ গতে ২/২৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৫১ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ৬/৫১ মধ্যে পুনঃ ৪/০ গতে উদয়াবধি। 
১৭ আশ্বিন ১৪২৬, ৫ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, সপ্তমী ২১/২৭/৩৯ দিবা ২/৮/০। মূলা ৩১/৪৭/১২ রাত্রি ৬/১৫/৪৯, সূ উ ৫/৩২/৫৬, অ ৫/১৯/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৩ মধ্যে ও ৭/৯ গতে ৯/২৭ মধ্যে ও ১১/৪৬ গতে ২/৫০ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/১৮ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৩৭ গতে ২/১৭ মধ্যে, বারবেলা ১২/৫৪/৩৬ গতে ২/২২/৫৫ মধ্যে, কালবেলা ৭/১/১৬ মধ্যে ও ৩/৫১/১৬ গতে ৫/১৯/৩৬ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫১/১৬ মধ্যে ও ৪/১/১৬ গতে ৫/৩৩/১৮ মধ্যে। 
মোসলেম: ৫ শফর 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
এবছর রসায়নে নোবেল পাচ্ছেন জন বি গুডএনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম ও আকিরা ইয়োশিনো 

03:42:41 PM

মালদহের বৈষ্ণবনগরে নৌকাডুবি, মৃত ৩ 
ঠাকুর দেখতে যাওয়ার সময় নৌকাডুবি। ঘটনাটি ঘটে মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার ...বিশদ

03:18:19 PM

৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বাড়াল কেন্দ্র, উপকৃত হবেন ৫০ লক্ষ কর্মী ও ৬২ লক্ষ পেনশনভোগী 

02:30:04 PM

ফলতার রামনগরে বিসর্জনের বাজি বানাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, জখম ২ শ্রমিক 

01:20:11 PM

কেতুগ্রামের শ্রীরামপুর দুর্গা প্রতিমার গয়না চুরি, চাঞ্চল্য 

12:21:00 PM

রায়গঞ্জে যুবতীর শ্লীলতাহানি ঘিরে ধুন্ধুমার 
এক যুবতীর শ্লীলতাহানির অভিযোগকে ঘিরে ধুন্ধুমার বাধল রায়গঞ্জ শহরের বকুলতলা ...বিশদ

12:07:44 PM