Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অসহিষ্ণুতা
জিষ্ণু বসু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭০ সাল। অতি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন পরীক্ষা বয়কটের ডাক দিয়েছে। কেন? কী কারণ? কারণটা অদ্ভুত। কাউকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না। রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এক সিংহহৃদয় মানুষ। অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের প্রবাদপ্রতিম অধ্যাপক এই ছাত্রদরদি মানুষটি অস্থায়ীভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। অধ্যাপক সেন বলেছিলেন, পরীক্ষা হবেই। যারা পরীক্ষা দিতে চায় তারা নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দেবে। তিনি পরীক্ষা নিয়েছিলেন এবং সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় দুর্গাপুজোর ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে পরীক্ষার মার্কশিট দিয়েছিলেন।
সেই অপরাধে ১৯৭০ সালের ৩০ ডিসেম্বর যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হত্যা করা হয় গোপালচন্দ্র সেনকে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সক্রিয় সদস্য রানা বসুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে উপচার্যকে খুনের। পিছন থেকে ছুরির আঘাতে ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান গোপালচন্দ্র সেন। আর ধনী ডাক্তার বাবার ক্ষমতার কারসাজিতে কানাডায় পালিয়ে যান অতি বিপ্লবী রানা বসু। আচ্ছা, রানা যে নিকৃষ্টতম কাজটি করেছিলেন সেটা কি কেবল তাঁর অল্প বয়সের হঠকারিতা? না কি কেউ পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় প্ররোচনা দিয়ে ধীরে ধীরে তাঁর মাথায় বিষ ঢুকিয়েছিল? তার নাম ‘অসহিষ্ণুতা’!
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ২০১৯ সাল। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কে পি বসু সভাগৃহে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। সেইসঙ্গে বক্তৃতামালা—‘স্বাধীন ভারতে গণতন্ত্রের স্বরূপ’। আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক অচিন্ত্য বিশ্বাস, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী দিলীপকুমার দুবে, শিল্পী অগ্নিমিত্রা পল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এবিভিপি-কে বা বিজেপি-কে কারও অপছন্দ হতেই পারে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তৃতা দেওয়ার অধিকার থাকবে না? তাঁকে ঘিরে ধরে জামাকাপড় ছিঁড়ে দিয়ে হেনস্তা করা হবে? কত বামপন্থী বক্তা ভারতের কত বিশ্ববিদ্যালয়ে যান, তাঁদের মতামত রাখেন, সেইসব বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়তো অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও বামপন্থীদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। কিন্তু, বাবুল সুপ্রিয়ের সঙ্গে যে অসভ্যতা যাদবপুরে করা হয়েছে সাম্প্রতিককালে ভূভারতে এর উদাহরণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা এই উচ্ছৃঙ্খল অসহিষ্ণুদের বোঝাবার চেষ্টা করেছেন, উপাচার্য বলেছেন, আচার্য স্বয়ং এসেছেন। কিন্তু প্রতিবাদী ছাত্রদের কেউ কথা শোনেননি। তাঁরা বলেছেন, বাবুল সুপ্রিয়কে ক্ষমা চাইতে হবে। কেন? বাবুল কী অপরাধ করেছেন? যাদবপুরে অবামপন্থী মতবাদী হয়ে বক্তব্য রাখতে এসেছেন—এই তাঁর অপরাধ? কারণ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সেদিন ৩ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই তো এই দল তাঁকে ছেঁকে ধরে। এই চরম অসহিষ্ণুতাকে কেবল ছাত্রসুলভ চপলতা ভাবলে ভুল হবে। কয়েক দশক ধরে ঠান্ডা মাথায় শেখানো হচ্ছে এই অসহিষ্ণুতা।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে বার বার চোখে পড়েছে এই অসহিষ্ণুতা। কেউ যেন সুনিপুণভাবে শিখিয়েছে এই নিষ্ঠুর আচরণ। সংঘবদ্ধভাবে এই অসহিষ্ণুতার প্রদর্শনী যেন কৃতিত্ব! ১৯৯২ সাল। এপ্রিল মাসের এক দুপুরে সেন্ট্রাল লাইব্রেবির সামনে মাটিতে ফেলে একটি ছেলেকে চোরের মতো পেটাচ্ছে এক বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কয়েকজন। সেই বীরের দল তারপর তাঁকে ‘আশীর্বাদ ক্যান্টিন’-এর পিছনে ‘সায়েন্স ক্লাব’-এর সামনে নিয়ে এল। তখনও ছেলেটিকে পেটে ক্রমাগত লাথি মারা হচ্ছে আর জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে—‘বল, কোন কলেজ তোর?’ ছেলেটির তখন আর কথা বলার সামর্থ্য নেই। জানা গেল, ছেলেটি বিদ্যাসাগর কলেজে পড়েন আর এবিভিপি-র পক্ষে রামমন্দির আন্দোলনের উপর আপত্তিকর (?) কিছু লিফলেট বিলি করছিলেন। সেদিন উপাচার্যের অফিসে গিয়ে ছেলেটিকে বাঁচিয়েছিলেন অধ্যাপক ধনঞ্জয় দাস। অধ্যাপক দাস সেদিন প্রশ্ন করেছিলেন—‘এত নিষ্ঠুরতা কেন? ছেলেটিকে বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে এখানে ঢুকেছে বলে? নাকি ও যে লিফলেট বিলি করছিল সেটা দেশের আইনে নিষিদ্ধ?’ উপাচার্যের অফিসে কারও কোনও উত্তর ছিল না। কারণ, উত্তরটা হল—‘আমরা অসহিষ্ণু।’ বিরোধী কোনও মত এখানে প্রকাশ করা যাবে না।
ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির কিছু ছেলে ২০১৬ সালের ৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ ত্রিগুণা সেন প্রেক্ষাগৃহে একটি ছায়াছবি প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছিলেন। ছায়াছবিটি সেন্সর বোর্ডের অনুমোদিত একাধিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার-পাওয়া—বিবেক অগ্নিহোত্রীর ‘বুদ্ধ ইন আ ট্রাফিক জ্যাম’। শেষ পর্যন্ত এই অতি বামপন্থীরা কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে ফিল্মটির প্রদর্শন প্রেক্ষাগৃহে করতে দেননি। কিন্তু, ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির স্নাতক স্তরের নাছোড়বান্দা ছাত্ররা ব্লু আর্থ ওয়ার্কশপের সামনে চাদর টাঙিয়ে দেখিয়েছিলেন বুদ্ধ ইন আ ট্রাফিক জ্যাম। ফিল্মের প্রদর্শন বন্ধ করতে না পেরে এই অসহিষ্ণুর দল সেদিন পাগলের মতো আচরণ করেছিল। পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর গাড়িতে লাথি মেরে, পরিচালকের গায়ে থুতু দিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিল। শেষে বঙ্গবাসী কলেজের অধ্যাপক দেবাশিস চৌধুরীকে ধরে বেধড়ক মারধর করে। তাঁর অপরাধ ‘থিঙ্ক ইন্ডিয়া’ নামে ছাত্রদের যে সংগঠন এই স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করেছিল তিনি তাদের মেন্টর ছিলেন। সেই অপরাধে ‘বহিরাগত’ অধ্যাপককে একটি মিথ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। এই অসহিষ্ণু দলের আদর্শের ভিত এতটাই ঠুনকো যে তারা ভয় পায়, যে ছাত্রছাত্রীরা এরকম ছবি দেখলে তাদের দোকান বন্ধ হয়ে যাবে।
সেদিন দেখা গিয়েছিল চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সময় একদল লোক সেখানে ঢুকল। যাদের সামনে ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব কয়েকজন। একজন পরিণত বয়স্কা একটি হ্যান্ড মাইক হাতে প্রদর্শনস্থলে চিৎকার করছেন। বাবুল সুপ্রিয়কে চুল টানা, জামা ছিঁড়ে দেওয়া কিছু কমবয়সি ছেলের কাজ ভাবলে, তাঁদের মদতদাতাদের পাপকে লঘু করা হবে। হ্যান্ড মাইক হাতে ওই ভদ্রমহিলা—যাঁরা বাম জমানায় নিরন্তর তরুণ মনগুলোকে একটিমাত্র মত ছাড়া সবকিছুকে মেরে থেঁতলে দেওয়ার পাঠ দিয়েছেন, যাঁদের ‘পার্টি ক্লাস’ শুনে রানা বসু তদানীন্তন উপাচার্যকে হত্যা করেছিলেন—সেই পরিণত বুদ্ধির মানুষগুলি সমানভাবে দায়ী। দায়িত্ব থেকে যায় সেইসব সংবাদ মাধ্যমেরও যারা তাদের সুপরিণত বাণিজ্যিক বুদ্ধিতে এই ‘নুইসেন্স ভ্যালু’কে টিআরপি বাড়ানোর কাজে লাগান।
রবীন্দ্রনাথ গান্ধারীর আবেদনে বলেছিলেন—‘‘অধর্মের মধুমাখা বিষফল তুলি/আনন্দে নাচিছে পুত্র; স্নেহ মোহে ভুলি/ সে ফল দিয়ো না তারে ভোগ করিবারে;/কেড়ে লও, ফেলে দাও, কাঁদাও তাহারে।’’ ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত স্বার্থে এই মধুমাখা বিষফল হাত থেকে টেনে ফেলে দেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেন। আজও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের শারীরিক হেনস্তায় যে শতাধিক ছাত্রছাত্রী সমবেত হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজনের মস্তিষ্কেই ওই অদম্য অসহিষ্ণুতা ঢোকাতে পেরেছে ওই অতি বামপন্থীরা। বাকিরা কেউ ভয়ে, কেউ বিপ্লবের স্টেটাস সিম্বল গায়ে লাগাতে আর বেশিরভাগই বন্ধুকৃত্য করতেই এই অশোভন কাজের সঙ্গে ছিলেন। এর জন্য অবশ্যই দায়ী যাদবপুরের মেরুদণ্ডহীন কর্তৃপক্ষ। যে মানুষটির শালগাছের মতো মেরুদণ্ড ছিল সেই উপাচার্য অভিজিৎ চক্রবর্তীকে সমর্থন করার সাহস হয়নি রাজনৈতিক নেতৃত্বের।
আমার মতো হাজার হাজার প্রাক্তন ছাত্রের কাছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তীর্থক্ষেত্র। প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর থেকে পিএইচ-ডি, সবটুকু পাঠই এখান থেকে। দেবদুর্লভ হৃদয়ের, অসামান্য পণ্ডিত অধ্যাপকদের সান্নিধ্য পেয়েছি। এঁরা কত বড় মাপের মানুষ তা গ্রামের দরিদ্র পরিবার থেকে এসেছিলাম বলে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছি। আজও গবেষণার কাজে বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। প্রযুক্তিবিদ্যা বা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিভাগের (সাহিত্য আর সমাজবিজ্ঞানেরও নিশ্চয় আছেন) যাদবপুরের ছাত্রছাত্রীদের পৃথিবীর নামকরা প্রতিষ্ঠানে দেখে গর্ব হয়। যে-কোনও জায়গায় যাদবপুরের কোনও প্রাক্তনীকে পেলে পরমাত্মীয় বোধহয়। কিন্তু, বিগত তিন দশক ধরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরে বার বার এই অসহিষ্ণুতা দেখে মন ভারাক্রান্ত হয়েছে। বিদেশি প্রভুদের দাসত্ব থেকে চিন্তা মননের মুক্তির জন্যই তো ঋষি অরবিন্দের মতো মনীষীরা ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশন’ তৈরি করেছিলেন, যেখানে সব মতের সব ভাবনার জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা হবে। সেই তীর্থক্ষেত্রের আজ এ কী অবস্থা! নিজের মতের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এ কোন বর্বর পন্থা?
একটা জিনিস মনে রাখা প্রয়োজন অতি বামপন্থীরা কোনোভাবে ছাত্র সংসদে টিকে আছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়টা তাদের নয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর যারা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সংঘবদ্ধভাবে বাবুল সুপ্রিয়কে শারীরিক নির্যাতন করেছেন, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন—যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কেবল তাঁদের সম্পত্তি নয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় সম্পত্তি। যেসব ছেলেমেয়ে অনেক কষ্ট করে ভারতের অন্যতম বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল পড়াশোনা করতে এসেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিসরটা তাঁদেরও। পশ্চিমবঙ্গের যে কৃষক, যে দিন মজুর, যে শ্রমিক কর দেন, যাঁদের ছেলেমেয়েরা কখনও হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে না, এই বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদেরও। বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যেক শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক, সম্মাননীয় কর্মচারী, গবেষক আর পাঠাগারে আসা সকলের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সকল প্রাক্তন অধ্যাপিকা-অধ্যাপকের, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী—সকলের। যে আলিদা প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চা দিতেন, যে বিজনদা ব্লু আর্থ ওয়ার্কশপে কারিগর ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর তাঁদেরও অধিকার আছে। আমাদের সকলের কাছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মায়ের মতো। মায়ের গায়ে কেউ যদি কালি লাগাতে চায় তবে সকলের বুকেই বেদনা হয়। আজ বোধহয় সময় এসেছে, সমবেতভাবে এই অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদ করার। অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেনের ঋণ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো কখনও শোধ করতে পারবে না কিন্তু তাঁর পতাকা বহন করার শক্তি আমাদের অর্জন করতেই হবে।
 লেখক কলকাতায় সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স-এ কর্মরত  
23rd  September, 2019
রাজনৈতিক জুটি, অন্য সমীকরণ
সমৃদ্ধ দত্ত

গান্ধীজিকে রক্ষা করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেই দায় এড়াতে পারে না। পুলিস এবং আর্মিও ব্যর্থ। অসংখ্য চিঠি আছড়ে পড়ছে গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেনের অফিসে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দপ্তরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসে।
বিশদ

মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার ভোট: বিধ্বস্ত বিরোধী
বনাম দোর্দণ্ডপ্রতাপ মোদি-অমিত শাহ জুটি
বিশ্বনাথ চক্রবতী

 ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর চার মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনের সম্মুখীন মোদি-অমিত শাহ জুটি। এই দুই রাজ্যে পাঁচ বছর শাসন করবার পরও মোদিই বিজেপির প্রধান ভরসার স্থল। বিশদ

17th  October, 2019
আফ্রিকায় ‘আবিম্যানিয়া’
মৃণালকান্তি দাস

 ইথিওপিয়ার মানুষ আজ মনে করেন, আবি আহমেদ আলি আর কেউ নন, স্বয়ং ভগবানের দূত! তাদের রক্ষাকর্তা! বিশদ

17th  October, 2019
সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। বিশদ

15th  October, 2019
শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা।
বিশদ

14th  October, 2019
বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। 
বিশদ

12th  October, 2019
সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হওয়ার পাঠ শেখাচ্ছে সত্তর বছরের গণচীন
মৃণালকান্তি দাস

এখন সাধারণ পোশাক পরা মাও বা টায়ারের চপ্পল পায়ে হো চি মিনরা আর সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেই। এখন স্যুট টাই পরা বিলাসী সাহেবরা নেতৃত্বে। কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে আছে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দলীয় একনায়কতন্ত্র অব্যাহত রাখার গরজে। ব্রিটিশরা যেমন বলে থাকেন আওয়ার কিং ইজ ডেড, লং লিভ আওয়ার কিং। ঠিক তেমনই। আগে ধনতন্ত্র পরে সমাজতন্ত্র। তার জন্য জানলা খুললে কিছু মাছি-মশা আসবে। কথাটা বলেছিলেন দেং নিজেই। অবশ্য এই মাছি-মশা নিয়ে তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কী করে সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হতে হয় সেটাও শেখাচ্ছে চীন! 
বিশদ

11th  October, 2019
এক কাপ চায়ে 
অতনু বিশ্বাস

এক কাপ চা, কত গল্প বলে সকাল, বিকেল, সন্ধে বেলা...।
এ গানের লিরিকের মতোই চা নিয়ে এবং চায়ের টেবিলে গল্পেরও কোনও শেষ নেই। এক কাপ চায়ে আমেজ আছে নিশ্চয়ই। দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও।  
বিশদ

10th  October, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইউটিটি জাতীয় র‌্যাঙ্কিং টেবল টেনিস প্রতিযোগিতা আজ শুরু বৃহস্পতিবার হাওড়ার ডুমুরজোলা স্টেডিয়ামে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ। ...

 নয়াদিল্লি, ১৭ অক্টোবর: সরকার অর্থনীতির আসল রোগটাই ধরতে পারেনি। শুধু কারও উপর দোষ চাপাতে চাইছে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে ভোট প্রচারে এসে মোদি সরকার এবং তাঁর অর্থমন্ত্রীকে ...

 রিয়াধ, ১৭ অক্টোবর (পিটিআই): পুণ্যতীর্থ মদিনা থেকে মক্কায় যাওয়ার পথে বাস দুর্ঘটনায় মারা গেলেন ৩৫ জন তীর্থযাত্রী। সৌদি আরবের সরকারি সংবাদমাধ্যম সূত্রে বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। তীর্থযাত্রীবাহী ওই বাসটি আরও কোনও বড় গাড়িতে ধাক্কা মারে। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট মিটিংয়ে যোগ দিতে যাদবপুরে যাচ্ছেন আচার্য তথা রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার। তা নিয়ে যেমন চাপা উত্তেজনা রয়েছে, তেমনই কর্তৃপক্ষের একটু চিন্তাও রয়েছে। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর ও গবেষণামূলক বিদ্যার ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে, ব্যবসায় যুক্ত হলে শুভ যোগাযোগ ঘটবে। ভ্রমণ যোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭১: কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজের মৃত্যু
১৯১৮: চিত্রশিল্পী পরিতোষ সেনের জন্ম
১৯৩১: গ্রামাফোনের আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসনের মৃত্যু
১৯৪০: টলিউড অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫০: অভিনেতা ওমপুরীর জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৬১ টাকা ৭২.৩১ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৯৯ টাকা ৯৩.২৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৬৭ টাকা ৮০.৬৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৮৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৮৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৪১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, চতুর্থী ৪/৩৮ দিবা ৭/২৯। রোহিণী ২৮/৪১ অপঃ ৪/৫৯। সূ উ ৫/৩৭/৪৪, অ ৫/৬/১৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৪ মধ্যে পুনঃ ৭/১০ গতে ৯/২৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৫ গতে ২/৪৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৩ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৫৭ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ৩/৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৮ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৩০ গতে ১১/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/১৩ গতে ৯/৪৭ মধ্যে।
৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, পঞ্চমী ৫৮/২৯/৫১ শেষরাত্রি ৫/২/১০। রোহিণী ২৫/৩৩/৪৮ দিবা ৩/৫১/৪৫, সূ উ ৫/৩৮/১৪, অ ৫/৭/৩৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩১ মধ্যে ও ৭/১৫ গতে ৯/২৯ মধ্যে ও ১১/৪২ গতে ২/৪১ মধ্যে ও ২/২৫ গতে ৫/৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৬ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৪৬ গতে ৩/১২ মধ্যে ও ৪/৩ গতে ৫/৩৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩০/৩৪ গতে ৯/৫৬/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ৯/৫৬/৪৪ গতে ১১/২২/৫৪ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/১৫/১৪ গতে ৯/৪৯/৪ মধ্যে।
 ১৮ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় ধৃত বিজেপি নেতা, অশান্তি
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না থানার বাকচায় তৃণমূল নেতা বসুদেব মণ্ডল খুনের ...বিশদ

09:44:00 AM

চারটি একক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ভোটের অনুমতি রাজ্যের
রাজ্যের চারটি একক (ইউনিটারি) বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি দিল রাজ্য ...বিশদ

09:30:00 AM

প্রাচীন গ্রিক পদ্ধতি মেনে বিশ্ব সুন্দরী বেলা
সুপার মডেল বেলা হাদিদই বিশ্বের সবথেকে সুন্দর মহিলা। গ্রিক গণিত ...বিশদ

09:27:09 AM

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে বিজন সেতুর, বন্ধ হবে যান চলাচল
আগামী শুক্রবার থেকে বালিগঞ্জের বিজন সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমতি দিল ...বিশদ

09:08:19 AM

হকি বিশ্বকাপের দাবিদার ভারত
২০২৩ হকি বিশ্বকাপ আয়োজনের দাবিদার ভারত। তারা ২০২৩ সালের উইনডোতে ...বিশদ

08:57:16 AM

 টালা ব্রিজ: আজ বৈঠকে শুভেন্দু
টালা ব্রিজে বাস চলাচল বন্ধের জেরে তৈরি হওয়া সমস্যা নিয়ে ...বিশদ

08:39:38 AM