Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এনআরসি, সংখ্যালঘু ভোট ও বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

‘এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরও বেশি করে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। সেই মতো গ্রহণ করতে হবে যাবতীয় কর্মসূচি।’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে এই কথাগুলি যিনি বলেছিলেন তিনি আর কেউ নন, ‘গেরুয়া শিবিরের চাণক্য’ অমিত শাহ। কট্টর হিন্দুত্বের লাইনকে হাতিয়ার করে ধর্মীয় মেরুকরণের অন্যতম কাণ্ডারীর মুখে একথা শুনে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন উপস্থিত অনেকেই। তাঁরা নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বুঝে উঠতে পারছিলেন না, তাঁরা ঠিকঠাক শুনছেন কি না। বুঝলেন তখন, যখন রাজ্যের ১৮টি আসন দখলে তৃপ্ত নেতারা জানতে পারলেন, এরাজ্যের ২৩টি লোকসভা আসনে তাঁদের প্রাপ্ত মুসলিম ভোট গড়ে ৫ শতাংশের আশপাশে। অতএব বঙ্গ জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে হলে মুসলিম ভোট ‘মাস্ট’।
পরিকল্পনা মতো শুরু হল কাজ। তৃণমূলের দাপুটে, কোণঠাসা, প্রভাবশালী মুসলিম নেতাদের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ। একবুক প্রত্যাশা নিয়ে দিল্লিতে উড়ে গিয়ে বীরভূমের লাভপুরের বিতর্কিত দাপুটে বিধায়ক মনিরুল ইসলাম, খানাকুল পঞ্চায়েত সমিতির কর্তা নইমুল হক ওরফে রাঙা বিজেপিতে যোগ দিলেন। লাইনে তখন আরও অনেকে। কারণ দল বাড়ানোর আশায় হাট করে খুলে রাখা বিজেপির দরজা দেখে কাটমানিতে আতঙ্কিত অনেকেই ‘রক্ষাকবচ’-এর আশা দেখেছিলেন। কিন্তু, জেলায় ফিরতেই মনিরুল সাহেবের কপালে সংবর্ধনার বদলে জুটল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গেল যে, মনিরুল ইসলাম প্রকাশ্যে সদস্যপদ গ্রহণ করেও ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হলেন। মনিরুল সাহেবের ‘আমও গেল, ছালাও গেল’। আর এসব দেখে বিজেপির দিকে পা বাড়ানো নেতারা ব্রেক কষলেন।
বিজেপি নেতৃত্বও স্ট্র্যাটেজি বদল করল। তৃণমূলের ভুলভ্রান্তিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে কাছে পাওয়ার দিকে নজর দিল। কৌশলটা অনেকটা মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো হাতে গ্লাভস পরে উইকেটের পিছনে ওঁত পেতে বসে থাকা। ক্রিজ ছেড়ে বেরলেই স্টাম্প আউট করা অথবা ক্যাচের জন্য অপেক্ষা। বল ব্যাটের কানায় লাগলেই তা লোফার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া।
সেই স্টাইলেই বিজেপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলি গ্রামেগঞ্জে, মহল্লায় মহল্লায় তৃণমূলের ত্রুটি কাজে লাগিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা। সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝামেলা, রাস্তা তৈরি নিয়ে অশান্তি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখলেই হাজির। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল ও সিপিএমের হতাশাগ্রস্তদের বিজেপির পতাকার নীচে শামিল করে থানায়, বিডিও অফিসে ডেপুটেশন। কিন্তু, মুসলিম প্রভাবিত এলাকার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভুলেও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিচ্ছে না। যে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের কাছে মৃতসঞ্জীবনী সুধার কাজ করে, সেটাও কৌশলগত কারণে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মুসলিম তোষণের জন্যই এরাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত—এমন কথা সিপিএম এবং কংগ্রেসের প্রায় সর্বস্তরের নেতার মুখেই শোনা যায়। তাঁদের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অত্যধিক মুসলিম তোষণে’র কারণেই এরাজ্যে বিজেপি বেড়েছে এবং ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটেছে। অনেকে আরও একধাপ এগিয়ে অভিযোগ করেন, তৃণমূলের জন্যই গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র মুসলিমদের প্রভাব ও দাপট বেড়েছে। আর সেই কারণেই হিন্দুদের একটা বড় অংশ সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতির কথা না ভেবে আবেগতাড়িত হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।
মুসলিম ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিছু হটেননি। উল্টে তিনি কোনও রকম রাখ ঢাক গুড় গুড় না করেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মুসলিমদের জন্য কাজ করবেন। কারণ মুসলিম সহ সমস্ত সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর কর্তব্য। অনেকেই মনে করেন, মমতা মুখ ফসকে এমন কথা বলে ফেলেছেন, এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং মুসলিম ভোট নিজের দলের অনুকূলে আরও এককাট্টা করার জন্যই এমনটা বলেছেন। কারণ তিনি হয়তো মনে করেছেন, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে পারলে ২০২১ সালে ফের ক্ষমতা দখলের দৌড়ে তিনি একধাপ এগিয়ে থাকবেন।
তবে বিজেপিও তৃণমূল নেত্রীর এই বক্তব্যকে কাজে লাগিয়ে ভোট রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণ আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিজেপি নেতা-কর্মীরা হিন্দু প্রভাবিত এলাকায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মুসলিম প্রীতি’র কথা অত্যন্ত কৌশলে প্রচার করছেন। এমনকী, এনিয়ে প্রচার করতে গিয়ে তাঁরা ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতার মেয়র করার প্রসঙ্গও টেনে আনছেন। বলছেন, ‘কলকাতার মেয়র করার জন্য আর কি কেউ ছিলেন না? সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই তো মেয়র হিসেবে কলকাতার কত উন্নয়ন করেছিলেন। তাঁকেও তো দায়িত্ব দেওয়া যেত! আসলে মুসলিমদের খুশি করতেই এই সিদ্ধান্ত।’ চায়ের দোকানে, পাড়ার আড্ডায় বিজেপি এবং আরএসএস কর্মীদের এসব কথা মানুষ শুনছেন। সম্ভবতও তাঁরা ভাবছেনও। বিজেপি বোঝাতে চাইছে, তৃণমূল থাকলে এরাজ্যে হিন্দুদের ‘নিজভূমে পরবাসী’র অবস্থা হবে।
পঞ্চায়েত স্তরে কাটমানি, তৃণমূলের এক শ্রেণীর নেতার ফুলেফেঁপে ওঠা, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল, স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা, ধর্মীয় মেরুকরণ সহ নানা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি পায়ের তলার মাটি অনেকটাই শক্ত করে ফেলেছে। কিন্তু তাতেও বঙ্গজয়ের ব্যাপারে গেরুয়া শিবিরের সংশয় থেকেই যাচ্ছে। লোকসভা ভোটে কেন্দ্রে স্থায়ী এবং দৃঢ় সরকার গঠনের ইস্যুটি ভীষণভাবে কাজ করেছিল। পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে এবং দেশের অর্থনীতির হাল ফেরাতে মোদিজির উপরেই পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশের অধিকাংশ মানুষ আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু, মোদিজির দ্বিতীয় ইনিংসের ১০০ দিন অতিক্রান্ত হতে না হতেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের জোরদার সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দেশের আর্থিক অবস্থা যে ক্রমশই খারাপ হচ্ছে, তা বোঝার জন্য অমর্ত্য সেন হওয়ার দরকার হয় না। নতুন করে কর্মসংস্থান দূরঅস্ত, প্রায় সর্বস্তরেই মানুষ কাজ হারাচ্ছে। বিএসএনএল দিন দিন রুগ্ন হচ্ছে, গাড়ির বিক্রি ৩১ শতাংশ কমেছে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্কটজনক যে মারুতির মতো সংস্থাকেও দু’টি ইউনিটের উৎপাদন দু’দিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিও ধুঁকছে। ব্যাঙ্কের ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাস্থ্য ফেরাতে ঋণ নেওয়া ও জনগণের গচ্ছিত রাখা টাকার সুদের উপর কোপ পড়ছে। তাতে ব্যাঙ্কের ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে কি না, সেটা সময় বলবে। কিন্তু, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষোভ বাড়ছে। কারণ তাঁদের সংসার চলে মূলত সঞ্চিত টাকার সুদের ভরসায়। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, আর আয় কমছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে তাঁরা নাকানি চোবানি খাচ্ছেন।
ব্যাঙ্কের মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য সরকারকে টাকার জোগান দিতে হচ্ছে। আবার সরকারও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ভাণ্ডার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। এসবের পিছনে বিজেপি নেতৃত্ব যে যুক্তিই ঩দেখাক না কেন, অর্থনীতির হাল যে ভালো নয়, সেটা বুঝতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। কারণ সাধারণ মানুষ একটা কথা জানে, রক্ত তখনই দিতে হয়, যখন রোগী সঙ্কটজনক।
কাটমানি ইস্যুতে লাগাতার হেনস্তা হওয়ার পর বেশিরভাগ গ্রামেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীদের অবস্থা অনেকটা সাপে কাটা রোগীর মতো হয়ে গিয়েছিল। ভয়েই হার্টফেল করার উপক্রম। সাপ বিষ ঢালতে পেরেছে কি না, সেটা দেখার অবস্থাতেও ছিল না। কিছু একটা কিলবিল করলেই আতঙ্কে তড়াক তড়াক করে লাফাচ্ছিলেন তাঁরা। যে সব দাপুটে প্রধানের ঝাঁঝের চোটে মানুষ কাছে ঘেঁষতে পারত না, লোকসভা ভোটের পর তাঁরাই বাড়িতে সেঁধিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন এই অবস্থা চলার পর কোথাও কোথাও বিজেপির নেতাকে ‘তোয়াজ’ করে, কোথাও ‘খুশি’ করে, আবার কোথাও পুলিসের ভরসায় তাঁরা এলাকায় ফিরেছেন। শুধু এলাকায় ফিরেই থেমে থাকেননি, মিছিল মিটিংও শুরু করেছেন। সেসব দেখে বহু জায়গায় গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া পঞ্চায়েত ও পুরসভার সদস্যরা ফের তৃণমূলমুখী হচ্ছেন। ফলে, লোকসভা ভোটের পরপরই হাটে-বাজারে ওঠা ‘গেল গেল’ রবটা কেমন যেন দিন দিন মিইয়ে যেতে বসেছিল। আর ঠিক সেই সময় দুম করে বাজারে এনআরসি চলে আসায় ‘রাজনীতির শেয়ার মার্কেট’ বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
অনেকে মনে করছেন, এনআরসিকে সামনে রেখে বিজেপি এক ঢিলে দু’টি পাখি মারতে চাইছে। একদিকে, নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসির জুজু দেখিয়ে মুসলিমদের কব্জা করা। অন্যদিকে ‘নিজরাজ্যে পরবাসী’ হয়ে থাকার আক্ষেপ মোচনের স্বপ্ন দেখিয়ে হিন্দুভোট আরও বেশি করে নিজেদের দিকে টানা। তাছাড়া যদি এনআরসি হুজুগে মাতিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, তখন রাজ্যবাসীর মাথায় কেন্দ্রের সাফল্য-ব্যর্থতার কোনও অঙ্কই কাজ করবে না। তাই রাজ্য সরকারের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও এরাজ্যে এনআরসি চালু করতে মরিয়া মোদি-অমিত শাহ জুটি।
অনেকেই বলছেন, এনআরসি এরাজ্যে বিজেপির বিপদ বাড়াবে। কারণ অসমে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ এদেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার মধ্যে মাত্র ৬ লক্ষ মুসলিম, বাকিটা হিন্দু সহ অন্য ধর্মের। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি। অর্থাৎ এই বিপুল সংখ্যক মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেন। তাঁদের পরিণতি কী হবে, সেটা এখনও কেউ জানেন না, বলতেও পারছেন না। কিন্তু, যে দলের সিদ্ধান্তের জন্য এই অনিশ্চয়তা তৈরি হবে তাদের মানুষ ‘আপনজন’ ভাবতে পারে না।
রাজনীতিতে ‘ব্যুমেরাং’ বলে একটি শব্দের ভীষণ চল আছে। আর এই অস্ত্রটি বহুবার তার কার্যক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ভারতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন দল এবং নেতার ছোঁড়া অস্ত্রে‌ই নিজে ঘায়েল হওয়ার নজির বিস্তর আছে। বঙ্গ রাজনীতিতেও এনআরসি গেরুয়া শিবিরের কাছে ব্যুমেরাং হয়ে উঠবে না তো? ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পর্যন্ত রাজ্যবাসীর কাছে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।
21st  September, 2019
স্বঘোষিত ‘ধর্মগুরু’ জিম জোন্সের নাম আজ ক্যালিফোর্নিয়ায় মুখে আনাও পাপ!
মৃণালকান্তি দাস

জিম জোন্সের নাম শুনেছেন? এ এক স্বঘোষিত ধর্মগুরুর গল্প। যাঁর বিশ্বাসের উপর ভর করে আত্মহত্যার আড়ালে এক নিদারুণ গণহত্যার সাক্ষী হয়েছিল আমেরিকা। ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের একটি দরিদ্র পরিবারে জিমের জন্ম। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন বেশ বুদ্ধিমান এবং কিছুটা অদ্ভুত স্বভাবের। কিশোর বয়স থেকেই ধর্মের প্রতি তাঁর টান ছিল প্রবল।
বিশদ

অসহিষ্ণুতা
জিষ্ণু বসু

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৭০ সাল। অতি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন পরীক্ষা বয়কটের ডাক দিয়েছে। কেন? কী কারণ? কারণটা অদ্ভুত। কাউকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না। রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এক সিংহহৃদয় মানুষ। অধ্যাপক গোপালচন্দ্র সেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের প্রবাদপ্রতিম অধ্যাপক এই ছাত্রদরদি মানুষটি অস্থায়ীভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। 
বিশদ

পুজোর মুখে
শুভা দত্ত

পুজো আসছে। মাঝে আর মাত্র ক’টা দিন—তারপরই শুরু হয়ে যাবে দেবী দুর্গার আরাধনায় মত্ত বাঙালির উৎসব যাপন। আমাদের বিশ্বাস, সেই উৎসবের আনন্দ কোলাহলে আলোর বন্যায় জনস্রোতে ক’দিনের জন্য হলেও এনআরসি হোক কি যাদবপুর, কি সারদা নারদা রাজীব কুমার—সব তলিয়ে যাবে। চিহ্নমাত্র থাকবে না। এতদিন তাই হয়েছে—এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
বিশদ

22nd  September, 2019
সরকারি চাকরির মোহে আবিষ্ট সমাজ
অতনু বিশ্বাস

সমাজ বদলাবে আরও। আমি বা আপনি চাইলেও, কিংবা গভীরভাবে বিরোধিতা করলেও। সরকারি বা আধা-সরকারি চাকরির নিরাপত্তার চক্রব্যূহ ক্রমশ ভঙ্গুর হয়ে পড়বে আরও অনেকটা। এবং দ্রুতগতিতে। গোটা পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ এক প্রকারের ভবিতব্যই। একসময় আমরা দেখব, চাকরি বাঁচাতে গড়পড়তা সরকারি চাকুরেদেরও খাটতে হচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরেদের মতো। সরকারি চাকরির নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের নিরাপত্তার ‘মিথ’ ভেঙে চুরচুর হয়ে পড়বে। এবং সে-পথ ধরেই ক্রমে বিদায় নেবে পাত্রপাত্রী চাই-য়ের বিজ্ঞাপন থেকে ‘সঃ চাঃ’ নামক অ্যাক্রোনিম।
বিশদ

21st  September, 2019
আলোচনার অভিমুখ
সমৃদ্ধ দত্ত

 প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় দেখা যায় সম্রাটরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী প্রমাণ করার জন্য অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন হিসেবে নিজেদের প্রতিভাত করতেন। এর ফলে প্রজা শুধু সম্রাটকে যে মান্য করত তাই নয়, ভয়ও পেত, সমীহ করত। প্রাচীন মিশরে শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে ফারাওরা নিজেদেরই ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা করতেন।
বিশদ

20th  September, 2019
হিন্দু বাঙালির বাড়ি ভাঙছে, হারাচ্ছে দেশ 
শুভময় মৈত্র

জয় গৃহশিক্ষকতা করেন, বাড়ি সিঁথি মোড়ের কাছে, বরানগরে। নিজেদের তিরিশ বছরের পুরনো বাড়ি, সারানোর প্রয়োজন। একান্নবর্তী পরিবার, দাদা বড় ইঞ্জিনিয়ার। তিনি আর একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন কাছেই। 
বিশদ

20th  September, 2019
বাংলায় এনআরসি বিজেপির স্বপ্নের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে না তো 
মেরুনীল দাশগুপ্ত

লোকসভা ভোটে অপ্রত্যাশিত ফলের পর বাংলার বিজেপি রাজনীতিতে যে জমকালো ভাবটা জেগেছিল সেটা কি খানিকটা ফিকে হয়ে পড়েছে? পুজোর মুখে এমন একটা প্রশ্ন কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আমজনতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। 
বিশদ

19th  September, 2019
জন্মদিনে এক অসাধারণ নেতাকে কুর্নিশ
অমিত শাহ

 আজ, মঙ্গলবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৬৯তম জন্মদিন। অল্প বয়স থেকেই মোদিজি নিজেকে দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যৌবন থেকেই তাঁর মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়নে কাজের একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে মোদিজির শৈশবটা খুব সুখের ছিল না। বিশদ

17th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

16th  September, 2019
রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

 পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক।
বিশদ

15th  September, 2019
আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
একনজরে
শ্রীনগর, ২২ সেপ্টেম্বর (পিটিআই): জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার পর কেটে গিয়েছে টানা ৪৯ দিন। এখনও থমথমে উপত্যকা। স্বাভাবিক হয়নি মানুষের জীবনযাত্রা। এই পরিস্থিতিতে অস্থায়ীভাবে সাপ্তাহিক বাজার বসল শ্রীনগরের রাস্তায়।  ...

সংবাদদাতা, মালদহ: ইংলিশবাজার শহরে চলাচলের অনুমতি দিতে শুরু হয়েছে টোটো বা ই-রিকশর নিবন্ধীকরণ কর্মসূচি। এই সুযোগে শহর জুড়ে পুজোর মুখে ফের হুহু করে বাড়ছে টোটো’র সংখ্যা।  ...

অমিত চৌধুরী, হরিপাল, হরিপাল থানার নালিকুল বড়গাছিয়া সিংহরায় বাড়ির পুজো এই বছর ২৮৭ বছরে পদার্পণ করল। একচালা চার হাতের অভয়া দুর্গা প্রতিমা, সবুজ রঙের মহিষাসুর ...

হিউস্টন, ২২ সেপ্টেম্বর: অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দেওয়ার নির্ঘণ্টও রয়েছে। কিন্তু মার্কিন সফর চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী মোদির পাতে থাকছে কী কী পদ? খাবার-দাবার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজে বিশেষ কোনও অনুরোধ করেননি। তাঁর খাবার তৈরির দায়িত্বে থাকছেন শেফ কিরণ ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

সম্পত্তিজনিত মামলা-মোকদ্দমায় জটিলতা বৃদ্ধি। শরীর-স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। বিদ্যাশিক্ষায় বাধা-বিঘ্ন। হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য আফশোস বাড়তে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৪৭: বাংলার প্রথম র‌্যাংলার ও সমাজ সংস্কারক আনন্দমোহন বসুর জন্ম
১৯৩২: চট্টগ্রাম আন্দোলনের নেত্রী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মৃত্যু
১৯৩৫: অভিনেতা প্রেম চোপড়ার জন্ম
১৯৪৩: অভিনেত্রী তনুজার জন্ম
১৯৫৭: গায়ক কুমার শানুর জন্ম 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.১৯ টাকা ৭২.৭০ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৪৪ টাকা ৯১.১২ টাকা
ইউরো ৭৬.২৬ টাকা ৮০.৩৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  September, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৩৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯১৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬, ১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬, ২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  September, 2019

দিন পঞ্জিকা

৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, নবমী ৩২/৫১ রাত্রি ৬/৩৭। আর্দ্রা ১৫/১ দিবা ১১/২৯। সূ উ ৫/২৮/৫৭, অ ৫/২৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪ মধ্যে পুনঃ ৮/৪১ গতে ১১/৫ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ১১/৫ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে ৩/৫ মধ্যে, বারবেলা ৬/৫৯ গতে ৮/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/৩০ গতে ৪/০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/০ গতে ১১/৩০ মধ্যে। 
৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার, নবমী ১৯/৪৮/৫৫ দিবা ১/২৪/১৪। আর্দ্রা ৫/৩৮/১৫ দিবা ৭/৪৪/৮, সূ উ ৫/২৮/৫০, অ ৫/৩১/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৭ মধ্যে ও ৮/৪১ গতে ১১/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ১০/৫৯ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৩/৬ মধ্যে, বারবেলা ২/৩০/৫০ গতে ৪/১/১০ মধ্যে, কালবেলা ৬/৫৯/১০ গতে ৮/১৯/৩০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/০/৩০ গতে ১১/৩০/১০ মধ্যে। 
২৩ মহরম

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
নদীয়ার কলেজে বোমাবাজি, জখম ২
নদীয়ার মাজদিয়া কলেজে বোমাবাজির ঘটনা ঘটল। টিএমসিপি-এবিভিপি একে অন্যের বিরুদ্ধে ...বিশদ

06:28:00 PM

গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা চন্দননগরে
এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল হুগলী-চুঁচুড়া পৌরসভার ...বিশদ

06:23:18 PM

ষষ্ঠ বেতন কমিশন অনুযায়ী কেমন হচ্ছে কর্মচারীদের বেতন
ক্যাবিনেটেও অনুমোদিত হয়ে গেল ষষ্ঠ বেতন কমিশন । নতুন এই ...বিশদ

05:49:00 PM

ফায়ার লাইসেন্স ফি কমাল রাজ্য
ফায়ার লাইসেন্স ফি ৯২ শতাংশ কমিয়ে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার। ...বিশদ

04:54:52 PM

কাটোয়ায় বাজ পড়ে মৃত ১ 
আজ সোমবার দুপুরে কাটোয়ায় বাজ পড়ে মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। ...বিশদ

04:54:00 PM

রাজীব কুমারের কোয়ার্টারে ফের সিবিআই 
ফের নোটিস দিতে রাজীব কুমারের কোয়ার্টারে হানা দিল সিবিআই।   ...বিশদ

04:48:06 PM