Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

এনআরসি, সংখ্যালঘু ভোট ও বিজেপি
তন্ময় মল্লিক

‘এবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরও বেশি করে বিজেপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে হবে। সেই মতো গ্রহণ করতে হবে যাবতীয় কর্মসূচি।’ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্বকে এই কথাগুলি যিনি বলেছিলেন তিনি আর কেউ নন, ‘গেরুয়া শিবিরের চাণক্য’ অমিত শাহ। কট্টর হিন্দুত্বের লাইনকে হাতিয়ার করে ধর্মীয় মেরুকরণের অন্যতম কাণ্ডারীর মুখে একথা শুনে রীতিমতো চমকে গিয়েছিলেন উপস্থিত অনেকেই। তাঁরা নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। বুঝে উঠতে পারছিলেন না, তাঁরা ঠিকঠাক শুনছেন কি না। বুঝলেন তখন, যখন রাজ্যের ১৮টি আসন দখলে তৃপ্ত নেতারা জানতে পারলেন, এরাজ্যের ২৩টি লোকসভা আসনে তাঁদের প্রাপ্ত মুসলিম ভোট গড়ে ৫ শতাংশের আশপাশে। অতএব বঙ্গ জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে হলে মুসলিম ভোট ‘মাস্ট’।
পরিকল্পনা মতো শুরু হল কাজ। তৃণমূলের দাপুটে, কোণঠাসা, প্রভাবশালী মুসলিম নেতাদের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ। একবুক প্রত্যাশা নিয়ে দিল্লিতে উড়ে গিয়ে বীরভূমের লাভপুরের বিতর্কিত দাপুটে বিধায়ক মনিরুল ইসলাম, খানাকুল পঞ্চায়েত সমিতির কর্তা নইমুল হক ওরফে রাঙা বিজেপিতে যোগ দিলেন। লাইনে তখন আরও অনেকে। কারণ দল বাড়ানোর আশায় হাট করে খুলে রাখা বিজেপির দরজা দেখে কাটমানিতে আতঙ্কিত অনেকেই ‘রক্ষাকবচ’-এর আশা দেখেছিলেন। কিন্তু, জেলায় ফিরতেই মনিরুল সাহেবের কপালে সংবর্ধনার বদলে জুটল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গেল যে, মনিরুল ইসলাম প্রকাশ্যে সদস্যপদ গ্রহণ করেও ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হলেন। মনিরুল সাহেবের ‘আমও গেল, ছালাও গেল’। আর এসব দেখে বিজেপির দিকে পা বাড়ানো নেতারা ব্রেক কষলেন।
বিজেপি নেতৃত্বও স্ট্র্যাটেজি বদল করল। তৃণমূলের ভুলভ্রান্তিকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে কাছে পাওয়ার দিকে নজর দিল। কৌশলটা অনেকটা মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো হাতে গ্লাভস পরে উইকেটের পিছনে ওঁত পেতে বসে থাকা। ক্রিজ ছেড়ে বেরলেই স্টাম্প আউট করা অথবা ক্যাচের জন্য অপেক্ষা। বল ব্যাটের কানায় লাগলেই তা লোফার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া।
সেই স্টাইলেই বিজেপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলি গ্রামেগঞ্জে, মহল্লায় মহল্লায় তৃণমূলের ত্রুটি কাজে লাগিয়ে মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা। সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ, প্রতিবেশীর সঙ্গে ঝামেলা, রাস্তা তৈরি নিয়ে অশান্তি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখলেই হাজির। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল ও সিপিএমের হতাশাগ্রস্তদের বিজেপির পতাকার নীচে শামিল করে থানায়, বিডিও অফিসে ডেপুটেশন। কিন্তু, মুসলিম প্রভাবিত এলাকার বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ভুলেও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিচ্ছে না। যে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের কাছে মৃতসঞ্জীবনী সুধার কাজ করে, সেটাও কৌশলগত কারণে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।
মুসলিম তোষণের জন্যই এরাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত—এমন কথা সিপিএম এবং কংগ্রেসের প্রায় সর্বস্তরের নেতার মুখেই শোনা যায়। তাঁদের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অত্যধিক মুসলিম তোষণে’র কারণেই এরাজ্যে বিজেপি বেড়েছে এবং ধর্মীয় মেরুকরণ ঘটেছে। অনেকে আরও একধাপ এগিয়ে অভিযোগ করেন, তৃণমূলের জন্যই গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র মুসলিমদের প্রভাব ও দাপট বেড়েছে। আর সেই কারণেই হিন্দুদের একটা বড় অংশ সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতির কথা না ভেবে আবেগতাড়িত হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছে।
মুসলিম ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিছু হটেননি। উল্টে তিনি কোনও রকম রাখ ঢাক গুড় গুড় না করেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মুসলিমদের জন্য কাজ করবেন। কারণ মুসলিম সহ সমস্ত সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁর কর্তব্য। অনেকেই মনে করেন, মমতা মুখ ফসকে এমন কথা বলে ফেলেছেন, এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বরং মুসলিম ভোট নিজের দলের অনুকূলে আরও এককাট্টা করার জন্যই এমনটা বলেছেন। কারণ তিনি হয়তো মনে করেছেন, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক অটুট রাখতে পারলে ২০২১ সালে ফের ক্ষমতা দখলের দৌড়ে তিনি একধাপ এগিয়ে থাকবেন।
তবে বিজেপিও তৃণমূল নেত্রীর এই বক্তব্যকে কাজে লাগিয়ে ভোট রাজনীতিতে ধর্মীয় মেরুকরণ আরও সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিজেপি নেতা-কর্মীরা হিন্দু প্রভাবিত এলাকায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মুসলিম প্রীতি’র কথা অত্যন্ত কৌশলে প্রচার করছেন। এমনকী, এনিয়ে প্রচার করতে গিয়ে তাঁরা ফিরহাদ হাকিমকে কলকাতার মেয়র করার প্রসঙ্গও টেনে আনছেন। বলছেন, ‘কলকাতার মেয়র করার জন্য আর কি কেউ ছিলেন না? সুব্রত মুখোপাধ্যায়ই তো মেয়র হিসেবে কলকাতার কত উন্নয়ন করেছিলেন। তাঁকেও তো দায়িত্ব দেওয়া যেত! আসলে মুসলিমদের খুশি করতেই এই সিদ্ধান্ত।’ চায়ের দোকানে, পাড়ার আড্ডায় বিজেপি এবং আরএসএস কর্মীদের এসব কথা মানুষ শুনছেন। সম্ভবতও তাঁরা ভাবছেনও। বিজেপি বোঝাতে চাইছে, তৃণমূল থাকলে এরাজ্যে হিন্দুদের ‘নিজভূমে পরবাসী’র অবস্থা হবে।
পঞ্চায়েত স্তরে কাটমানি, তৃণমূলের এক শ্রেণীর নেতার ফুলেফেঁপে ওঠা, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল, স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্বলতা, ধর্মীয় মেরুকরণ সহ নানা ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি পায়ের তলার মাটি অনেকটাই শক্ত করে ফেলেছে। কিন্তু তাতেও বঙ্গজয়ের ব্যাপারে গেরুয়া শিবিরের সংশয় থেকেই যাচ্ছে। লোকসভা ভোটে কেন্দ্রে স্থায়ী এবং দৃঢ় সরকার গঠনের ইস্যুটি ভীষণভাবে কাজ করেছিল। পাকিস্তানকে শায়েস্তা করতে এবং দেশের অর্থনীতির হাল ফেরাতে মোদিজির উপরেই পশ্চিমবঙ্গ সহ গোটা দেশের অধিকাংশ মানুষ আস্থা রেখেছিলেন। কিন্তু, মোদিজির দ্বিতীয় ইনিংসের ১০০ দিন অতিক্রান্ত হতে না হতেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের জোরদার সমালোচনা শুরু হয়েছে।
দেশের আর্থিক অবস্থা যে ক্রমশই খারাপ হচ্ছে, তা বোঝার জন্য অমর্ত্য সেন হওয়ার দরকার হয় না। নতুন করে কর্মসংস্থান দূরঅস্ত, প্রায় সর্বস্তরেই মানুষ কাজ হারাচ্ছে। বিএসএনএল দিন দিন রুগ্ন হচ্ছে, গাড়ির বিক্রি ৩১ শতাংশ কমেছে। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্কটজনক যে মারুতির মতো সংস্থাকেও দু’টি ইউনিটের উৎপাদন দু’দিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিও ধুঁকছে। ব্যাঙ্কের ও ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাস্থ্য ফেরাতে ঋণ নেওয়া ও জনগণের গচ্ছিত রাখা টাকার সুদের উপর কোপ পড়ছে। তাতে ব্যাঙ্কের ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি হবে কি না, সেটা সময় বলবে। কিন্তু, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ক্ষোভ বাড়ছে। কারণ তাঁদের সংসার চলে মূলত সঞ্চিত টাকার সুদের ভরসায়। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, আর আয় কমছে। ফলে সংসার চালাতে গিয়ে তাঁরা নাকানি চোবানি খাচ্ছেন।
ব্যাঙ্কের মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য সরকারকে টাকার জোগান দিতে হচ্ছে। আবার সরকারও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ভাণ্ডার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে। এসবের পিছনে বিজেপি নেতৃত্ব যে যুক্তিই ঩দেখাক না কেন, অর্থনীতির হাল যে ভালো নয়, সেটা বুঝতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। কারণ সাধারণ মানুষ একটা কথা জানে, রক্ত তখনই দিতে হয়, যখন রোগী সঙ্কটজনক।
কাটমানি ইস্যুতে লাগাতার হেনস্তা হওয়ার পর বেশিরভাগ গ্রামেই তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীদের অবস্থা অনেকটা সাপে কাটা রোগীর মতো হয়ে গিয়েছিল। ভয়েই হার্টফেল করার উপক্রম। সাপ বিষ ঢালতে পেরেছে কি না, সেটা দেখার অবস্থাতেও ছিল না। কিছু একটা কিলবিল করলেই আতঙ্কে তড়াক তড়াক করে লাফাচ্ছিলেন তাঁরা। যে সব দাপুটে প্রধানের ঝাঁঝের চোটে মানুষ কাছে ঘেঁষতে পারত না, লোকসভা ভোটের পর তাঁরাই বাড়িতে সেঁধিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু কিছুদিন এই অবস্থা চলার পর কোথাও কোথাও বিজেপির নেতাকে ‘তোয়াজ’ করে, কোথাও ‘খুশি’ করে, আবার কোথাও পুলিসের ভরসায় তাঁরা এলাকায় ফিরেছেন। শুধু এলাকায় ফিরেই থেমে থাকেননি, মিছিল মিটিংও শুরু করেছেন। সেসব দেখে বহু জায়গায় গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া পঞ্চায়েত ও পুরসভার সদস্যরা ফের তৃণমূলমুখী হচ্ছেন। ফলে, লোকসভা ভোটের পরপরই হাটে-বাজারে ওঠা ‘গেল গেল’ রবটা কেমন যেন দিন দিন মিইয়ে যেতে বসেছিল। আর ঠিক সেই সময় দুম করে বাজারে এনআরসি চলে আসায় ‘রাজনীতির শেয়ার মার্কেট’ বেশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
অনেকে মনে করছেন, এনআরসিকে সামনে রেখে বিজেপি এক ঢিলে দু’টি পাখি মারতে চাইছে। একদিকে, নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসির জুজু দেখিয়ে মুসলিমদের কব্জা করা। অন্যদিকে ‘নিজরাজ্যে পরবাসী’ হয়ে থাকার আক্ষেপ মোচনের স্বপ্ন দেখিয়ে হিন্দুভোট আরও বেশি করে নিজেদের দিকে টানা। তাছাড়া যদি এনআরসি হুজুগে মাতিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়, তখন রাজ্যবাসীর মাথায় কেন্দ্রের সাফল্য-ব্যর্থতার কোনও অঙ্কই কাজ করবে না। তাই রাজ্য সরকারের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও এরাজ্যে এনআরসি চালু করতে মরিয়া মোদি-অমিত শাহ জুটি।
অনেকেই বলছেন, এনআরসি এরাজ্যে বিজেপির বিপদ বাড়াবে। কারণ অসমে প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষ এদেশের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার মধ্যে মাত্র ৬ লক্ষ মুসলিম, বাকিটা হিন্দু সহ অন্য ধর্মের। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের হিসেব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি। অর্থাৎ এই বিপুল সংখ্যক মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেন। তাঁদের পরিণতি কী হবে, সেটা এখনও কেউ জানেন না, বলতেও পারছেন না। কিন্তু, যে দলের সিদ্ধান্তের জন্য এই অনিশ্চয়তা তৈরি হবে তাদের মানুষ ‘আপনজন’ ভাবতে পারে না।
রাজনীতিতে ‘ব্যুমেরাং’ বলে একটি শব্দের ভীষণ চল আছে। আর এই অস্ত্রটি বহুবার তার কার্যক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। ভারতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন দল এবং নেতার ছোঁড়া অস্ত্রে‌ই নিজে ঘায়েল হওয়ার নজির বিস্তর আছে। বঙ্গ রাজনীতিতেও এনআরসি গেরুয়া শিবিরের কাছে ব্যুমেরাং হয়ে উঠবে না তো? ২০২১ সালের বিধানসভা ভোট পর্যন্ত রাজ্যবাসীর কাছে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।
21st  September, 2019
‘বর্তমান’কে স্নেহের আঁচলে ঢেকে রেখেছিলেন আমাদের সবার শুভাদি
হিমাংশু সিংহ

২০০৮ সালের ১৯ জুন ‘বর্তমান’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ বরুণ সেনগুপ্ত আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এক লহমায় মনে হয়েছিল, যেন মাথার উপর থেকে বিশাল ছাদটা সরে গেল। বরুণবাবু ছিলেন পোড় খাওয়া অকুতোভয় এক বলিষ্ঠ সাংবাদিক, যিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে নিজের জীবনও বাজি রাখার অসামান্য ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।  
বিশদ

22nd  October, 2019
পশ্চাতে টানিছে সে
রঞ্জন সেন 

অপুষ্টি, অস্বাস্থ্য আর দারিদ্র্যে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের বৃদ্ধি। পাঁচ বছরের নীচে বয়স, দেশের প্রতি তিনজন শিশুর একজনের শরীর স্বাস্থ্যের এমনই হাল। বাড়ের বয়সেই আটকে গেছে এদের বৃদ্ধি। এমন শিশুরা জীবনের রাস্তায় কতটা এগতে পারবে বা আদৌ পারবে কিনা তা বলা সত্যিই খুব কঠিন।  বিশদ

21st  October, 2019
তিন নোবেলজয়ী বাঙালির প্রেসিডেন্সি
শুভময় মৈত্র

রবীন্দ্রনাথ খুব তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে পালিয়েছিলেন। বাকিদের ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। অমর্ত্য সেন ঢাকায় সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে পড়া শুরু করেছিলেন। তারপর ১৯৪১-এ ভর্তি হন শান্তিনিকেতনের পাঠভবনে।   বিশদ

21st  October, 2019
পুলিস ও আমরা
তন্ময় মল্লিক

 বহু বছর আগের কথা। এক আত্মীয়ের মালবাহী গাড়ির কেবিনে বসে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলাম। গাড়িতে কাপড় ছিল। ড্রাইভার বড় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিসের হাতে টাকা দিচ্ছিলেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ড্রাইভার বললেন, ‘টাকা না দিলে ঝামেলা করবে।
বিশদ

19th  October, 2019
পশ্চাতে টানিছে সে
রঞ্জন সেন

 অপুষ্টি, অস্বাস্থ্য আর দারিদ্র্যে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের বৃদ্ধি। পাঁচ বছরের নীচে বয়স, দেশের প্রতি তিনজন শিশুর একজনের শরীর স্বাস্থ্যের এমনই হাল। বাড়ের বয়সেই আটকে গেছে এদের বৃদ্ধি। এমন শিশুরা জীবনের রাস্তায় কতটা এগতে পারবে বা আদৌ পারবে কিনা তা বলা সত্যিই খুব কঠিন। বিশদ

19th  October, 2019
রাজনৈতিক জুটি, অন্য সমীকরণ
সমৃদ্ধ দত্ত

গান্ধীজিকে রক্ষা করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেই দায় এড়াতে পারে না। পুলিস এবং আর্মিও ব্যর্থ। অসংখ্য চিঠি আছড়ে পড়ছে গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেনের অফিসে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দপ্তরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসে।
বিশদ

18th  October, 2019
মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার ভোট: বিধ্বস্ত বিরোধী
বনাম দোর্দণ্ডপ্রতাপ মোদি-অমিত শাহ জুটি
বিশ্বনাথ চক্রবতী

 ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর চার মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনের সম্মুখীন মোদি-অমিত শাহ জুটি। এই দুই রাজ্যে পাঁচ বছর শাসন করবার পরও মোদিই বিজেপির প্রধান ভরসার স্থল। বিশদ

17th  October, 2019
আফ্রিকায় ‘আবিম্যানিয়া’
মৃণালকান্তি দাস

 ইথিওপিয়ার মানুষ আজ মনে করেন, আবি আহমেদ আলি আর কেউ নন, স্বয়ং ভগবানের দূত! তাদের রক্ষাকর্তা! বিশদ

17th  October, 2019
সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। বিশদ

15th  October, 2019
শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা।
বিশদ

14th  October, 2019
বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। 
বিশদ

12th  October, 2019
সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হওয়ার পাঠ শেখাচ্ছে সত্তর বছরের গণচীন
মৃণালকান্তি দাস

এখন সাধারণ পোশাক পরা মাও বা টায়ারের চপ্পল পায়ে হো চি মিনরা আর সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেই। এখন স্যুট টাই পরা বিলাসী সাহেবরা নেতৃত্বে। কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে আছে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দলীয় একনায়কতন্ত্র অব্যাহত রাখার গরজে। ব্রিটিশরা যেমন বলে থাকেন আওয়ার কিং ইজ ডেড, লং লিভ আওয়ার কিং। ঠিক তেমনই। আগে ধনতন্ত্র পরে সমাজতন্ত্র। তার জন্য জানলা খুললে কিছু মাছি-মশা আসবে। কথাটা বলেছিলেন দেং নিজেই। অবশ্য এই মাছি-মশা নিয়ে তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কী করে সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হতে হয় সেটাও শেখাচ্ছে চীন! 
বিশদ

11th  October, 2019
একনজরে
অভিজিৎ চৌধুরী, চন্দননগর, বিএনএ: শুধু দর্শনীয় প্রতিমা বা মণ্ডপের থিম নয়, জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রার প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ আসন ছিনিয়ে নিতেও জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে চন্দননগরে। ...

প্রাগ, ২২ অক্টোবর: মরশুমের প্রারম্ভিক পর্বে যথেষ্ট নড়বড়ে ছিল বার্সেলোনা। কিন্তু সময় এগনোর সঙ্গেসঙ্গে চেনা ছন্দ খুঁজে পেয়েছে আর্নেস্তো ভালভার্দের দল। চোট সারিয়ে মেসি দলে ফেরার পর বাকিদের মনোবল স্বাভাবিকভাবেই তুঙ্গে। গত পাঁচটি ম্যাচে জয় পাওয়ার পর আত্মবিশ্বাসের চূড়ায় থেকে ...

মুম্বই, ২২ অক্টোবর (পিটিআই): ডি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় এনসিপি নেতা প্রফুল্ল প্যাটেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এবার সেই মামলায় জড়িত সন্দেহে গ্যাংস্টার ইকবাল মির্চির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করল তারা। ধৃতের নাম হুমায়ূন মার্চেন্ট। সোমবার রাতে মুম্বই থেকে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় ফের চালু হল ‘সোনি সেন্টার’। গোলপার্কে গড়িয়াহাট রোডের উপর ওই শো-রুমটি এক হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে খোলা হয়েছে, যেখানে সোনির ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭০৭— ব্রিটেনের প্রথম পার্লামেন্টে অধিবেশন শুরু হল
১৯১৭—অক্টোবর বিপ্লবের ডাক দিলেন লেনিন
১৯২৯—নিউ ইয়র্ক শেয়ার বাজারে মহামন্দার সূচনা
১৯৪৪—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: হাঙ্গেরি প্রবেশ করল সোভিয়েতের লাল ফৌজ
২০০২—মস্কোর থিয়েটারে হানা দিয়ে প্রায় ৭০০ দর্শককে পণবন্দি করল চেচেন জঙ্গিরা
২০১২—সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১২ টাকা ৭১.৮২ টাকা
পাউন্ড ৯০.৪৫ টাকা ৯৩.৭৬ টাকা
ইউরো ৭৭.৬৬ টাকা ৮০.৬২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৮৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৮৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৪১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দশমী ৪৮/৪৩ রাত্রি ১/৯। অশ্লেষা ২৩/৫২ দিবা ৩/১৩। সূ উ ৫/৩৯/৫৭, অ ৫/২/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১১ গতে ৭/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১০/১৩ গতে ১১/২৯ মধ্যে। রাত্রি ৫/৫৪ গতে ৬/৪৪ মধ্যে পুনঃ ৮/২৪ গতে ৩/৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩০ গতে ৯/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ১২/৪৭ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩১ গতে ৪/৬ মধ্যে। 
৫ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দশমী ৩৮/৩৫/৩১ রাত্রি ৯/৬/৫৪। অশ্লেষা ১৬/২৮/৪০ দিবা ১২/১৬/১০, সূ উ ৫/৪০/৪২, অ ৫/৩/৩২, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৩ মধ্যে ও ৭/১৮ গতে ৮/২ মধ্যে ও ১০/১৪ গতে ১২/২৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৩ গতে ৬/৩৫ মধ্যে ও ৮/১৯ গতে ৩/১৪ মধ্যে, বারবেলা ১১/২২/২ গতে ১২/৪৭/২২ মধ্যে, কালবেলা ৮/৩১/২২ গতে ৯/৫৬/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩১/২২ গতে ৪/৬/২ মধ্যে। 
২৩ শফর 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কল সেন্টার খুলে প্রতারণার অভিযোগ, ধৃত ৫ 
ভুয়ো কল সেন্টার খুলে বিদেশিদের প্রতারণার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করল ...বিশদ

01:03:35 PM

কালীপুজোয় বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ফানুস ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা 
কালীপুজোর সময় বিমানবন্দর সংলগ্ন নারায়ণপুর, রাজারহাট, নিউটাউন এলাকায় ফানুস ওড়ানো ...বিশদ

12:24:50 PM

বিসিসিআই সভাপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় 

11:38:59 AM

মালদহে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে যুবতীর মৃত্যু 
পুরাতন মালদহের নারায়ণপুর মালিগ্রামে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে এক যুবতীর মৃত্যু ...বিশদ

11:28:15 AM

ঠাকুরপুকুরে রিকশচালককে মাথা থেঁতলে খুন 
ঠাকুরপুকুরে এক রিকশচালকের থেঁতলানো দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য। আজ সকাল ...বিশদ

11:10:00 AM

বোলপুরে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ, বোমাবাজি 
তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বোলপুর থানার অন্তর্গত ...বিশদ

10:55:04 AM