Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আলোচনার অভিমুখ
সমৃদ্ধ দত্ত

প্রাচীন বিশ্বের বিভিন্ন সভ্যতায় দেখা যায় সম্রাটরা অসীম ক্ষমতার অধিকারী প্রমাণ করার জন্য অতি প্রাকৃতিক শক্তি সম্পন্ন হিসেবে নিজেদের প্রতিভাত করতেন। এর ফলে প্রজা শুধু সম্রাটকে যে মান্য করত তাই নয়, ভয়ও পেত, সমীহ করত। প্রাচীন মিশরে শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে ফারাওরা নিজেদেরই ঈশ্বর হিসেবে ঘোষণা করতেন। আর সেই ঘোষণার পিছনে ছিল একটাই লক্ষ্য, যাতে কোনও বিদ্রোহ না হয়। ঈশ্বরের প্রতি ও ভক্তিতে প্রজারা সদা অনুগত থাকবে এটাই মূল উদ্দেশ্য।
প্রশাসন পরিচালনা সম্পর্কে নিকোলো ম্যাকিয়াভেলি ১৫১৩ সালে তাঁর ‘দ্য প্রিন্স’ গ্রন্থে লিখেছিলেন, ভালোবাসা আর ভয় পাশাপাশি অবস্থান করতে পারে না। তুলনামূলকভাবে ভয় অনেক বেশি নিরাপদ ভালোবাসার থেকে। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন প্রশাসককে প্রজা ভালোবাসে, এই প্রবণতা খুবই আনন্দাদায়ক হতে পারে, কিন্তু সেই ভালো লাগা অবস্থান যে কোনও ঘটনার প্রেক্ষিতে বদলে যেতে পারে। তখন আর ভালোবাসা না থেকে সেই প্রজা‌ হয়তো বিদ্রোহী হয়ে যাবে। তাই ভয় অনেক বেশি কার্যকরী। কারণ যতদিন ভয় বজায় থাকবে,ততদিনই সিংহাসন সুরক্ষিত। আর তাই প্রাচীন ও মধ্যযুগে দেখা যেত এই ভয় কায়েম করে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত রাজতন্ত্র কিংবা একনায়কতন্ত্র কিছু না কিছু একটা ক্রাইসিস তাদের সাম্রাজ্যে হয় নির্মাণ করছে অথবা বজায় রেখে প্রচার করছে। যাতে অন্তহীন একটার পর একটা আশঙ্কার বাতাবরণ সারাক্ষণ রাষ্ট্রে জোরালোভাবে থাকে। তাহলে জনগণ সেই জানাঅজানা আশঙ্কা নিয়ে ব্যস্ত থাকে, ভীত হয়। সাধারণত মানবসভ্যতায় দুই রকমের সরকার দেখা যায়। একটি হল ওয়ারফেয়ার প্রশাসন। অর্থাৎ সারাক্ষণই কেমন যেন একটা যুদ্ধ যুদ্ধ মনোভাব। আর একটি হল ওয়েলফেয়ার সরকার। যে সরকার নিভৃতে নানাবিধ জনকল্যাণমূলক কার্যে ব্যাপৃত থাকে এবং চেষ্টা করে রাষ্ট্রে যতটা সম্ভব সংঘাত কিংবা অস্থিরতাকে নিবৃত্ত করে রেখে শান্ত একটি আবহে সরকার পরিচালনা করতে। নীতি আদর্শ অনুযায়ী যুগে যুগে বিভিন্ন সরকার এই দুটি নীতি সামনে রেখেই এগিয়েছে।
এই প্রসঙ্গগুলি সামনে আসার কারণ হল আমরা লক্ষ্য করছি আমাদের জীবন এখন অনেক বেশি রাষ্ট্রীয় স্তরের ঘটনাপরম্পরা পরিচালনা করে চলেছে। প্রভাবিত করে চলেছে। কিছু বছর আগেও এভাবে সারাক্ষণ সাধারণ মানুষ নানাবিধ কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে চর্চা, প্রতিবাদ, সমর্থন কিংবা তর্কবিতর্কের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত করেনি। কিন্তু বর্তমান মোদি সরকারের আমলে এই প্রবণতা বহুল পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পরোক্ষে একটি ভয়, আশঙ্কা এবং অনিশ্চিয়তার চর্চাই সবথেকে বেশি স্থান করে নিচ্ছে দৈনন্দিন জীবনে। প্রতিটি আলোচনায় চলে আসছে পক্ষে বিপক্ষে দুটি প্রকট বিভাজন। আবার কি কোনও বিশেষ নোট বাতিল হয়ে যেতে পারে? ব্যাঙ্কের সুদ কি আবার কমবে? এনআরসি কি আমাদের এখানেও চালু হবে? যদি চালু হয় তাহলে ডেটলাইন কী হবে? কোন কোন কাগজপত্র রেডি রাখা দরকার? হিন্দি কি একমাত্র অফিসিয়াল ভাষা হতে চলেছে? ইংরেজি তাহলে বন্ধ হয়ে যাবে? হিন্দি না শিখলে তাহলে আগামীদিনে কি শিক্ষা ও চাকরিক্ষেত্রে বড়সড় সঙ্কট হবে? পাকিস্তান যদি পরমাণু বোমা ফেলে তাহলে কী হবে? উত্তর পূর্ব ভারতের আশঙ্কা কাশ্মীরের ৩৭০ অবলুপ্তির পর এবার কি ওইসব রাজ্যে ৩৭১ অবলুপ্তি হয়ে যাবে?
২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছিলেন নোটবাতিল। তারপর থেকে লক্ষ করা যায়, যখনই সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয় আজ রাত আটটায় কিংবা বিকেল চারটেয় প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, তৎক্ষণাৎ একটা অনিশ্চয়তা, আশঙ্কা ও চরম কৌতূহলের সঞ্চার হয়ে যায় গোটা দেশে যে ‘এবার আবার কী নতুন হতে চলেছে ঘোষণা?’ গরিব খেটে খাওয়া এবং জীবিকার জন্য প্রাণান্তকর পরিশ্রম করে চলা প্রান্তিক কোটি কোটি মানুষগুলিকে বাদ দিলে প্রায় গোটা ভারতই উৎসুক, উদগ্রীব হয়ে টিভির সামনে হাজির হয় যে দেখা যাক নতুন কী ঘোষণা হবে!
এনআরসি চালু করা হলে প্রকৃত যাঁরা ভারতবাসী তাঁদের তো ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আর মোটামুটি বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের টার্গেট করা হবে যারা বেআইনি নাগরিক। কিন্তু অসমে দেখা যাচ্ছে বাদ যাওয়া ১৯ লক্ষের মধ্যে ১২ লক্ষই হিন্দু বাঙালি। মুসলিম অনেক কম। সুতরাং তারপরও যখন অমিত শাহ ঘোষণা করেন গোটা দেশেই চালু করা হবে এনআরসি, তখন স্বাভাবিকভাবেই আর নিশ্চিন্ত থাকা যায় না। হিন্দু মুসলিম সকলের মধ্যেই ভয় আর আশঙ্কা ঢুকে গিয়েছে। তাই আজকাল সর্বত্র এনআরসি নিয়ে আলোচনা। কিছুদিন আগে পর্যন্ত আলোচনা আবর্তিত হয়েছিল ৩৭০ নিয়ে। এনআরসির পাশাপাশি এখন এসেছে হিন্দি ভাষার আগ্রাসনের আশঙ্কা। সেই রেশ কাটার আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবার বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অর্থাৎ জল্পনা চলছে তাহলে কি বিজেপির আগামীদিনের লক্ষ্য ওয়ান নেশন, ওয়ান পার্টি, ওয়ান ল্যাংগুয়েজ?
বস্তুত প্রশ্ন হল এভাবে নিরন্তর আলোচনার কেন্দ্রে থাকা আর অনিশ্চয়তার বাতাবরণ নির্মাণ করে সরকার পরিচালনার পদ্ধতি কি সম্পূর্ণ পরিকল্পনামাফিক? সম্ভবত এটাই একটি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক কৌশল বিজেপির দুই শীর্ষ নেতার। তাঁরা একটি ব্যাপারে সম্পূর্ণ সফল হয়েছেন। সেটি হল ভারতজুড়ে প্রতিনিয়ত তাঁরাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকছেন সর্বদাই। একটা দিনও এরকম যাচ্ছে না যে সাধারণ মানুষ কোনও একটি বিষয়কে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদি অথবা অমিত শাহকে নিয়ে আলোচনা করছে না। এই যে অবিরত আলোচনায় থাকার প্রয়াস এর কারণ কী? কারণটি হল একটা পরোক্ষ বার্তা প্রদান যে এই সরকার নজিরবিহীনভাবে সক্রিয়। মোদি এবং অমিত শাহ এটাই প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন যে তাঁরা অতীতের প্রধানমন্ত্রী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের তুলনায় অনেক বেশি অ্যাকটিভ। আধুনিক সমাজের একটি বিশেষ অংশের পালস তাঁরা সম্যকভাবে ধরে ফেলেছেন। সেই অংশটি অ্যাকটিভিটি পছন্দ করে। তারা সর্বদাই চায় একটা কিছু উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটুক। এবং সরকার সর্বদা অ্যাকটিভ থাকুক। সেই অ্যাকটিভিটি আদতে ভালো না মন্দা বার্তা নিয়ে আসছে তা না ভাবলেও চলবে।
কিন্তু একটা পারসেপশন তৈরি হয়ে যায় যে এই সরকার অতি সক্রিয়, অলস নয়, আগে যা কেউ পারেনি এরা সেটা করে দেখাচ্ছে ইত্যাদি। আধুনিক যুগের এই ইনস্ট্যান্ট ডেমোক্রেসিতে এটা অত্যন্ত জনপ্রিয়। মনে করলে দেখা যাবে ডঃ মনমোহন সিংকে নিয়ে এরকম নিরন্তর আলোচনা, চর্চা হতো না। অথচ তাঁর ১০ বছরে ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি, তথ্য জানার অধিকার, কৃষকদের ৭০ হাজার কোটি টাকার ঋণ মকুব, ২০০৮ সালের বিশ্বজুড়ে মন্দার সময়ও ভারতের আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো থাকা ইত্যাদি বহু ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। যা আজও সমান কার্যকর। কিন্তু যেহেতু মনমোহন সিং, প্রণব মুখোপাধ্যায় অথবা পি চিদম্বরমরা অতটা ভোকাল ছিলেন না, তাই সেইসময় কেন্দ্রীয় সরকারকে ঘিরে সারাক্ষণ কোনও চর্চা, আলোচনা হতো না। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা লার্জার দ্যান লাইফ এক ইমেজে পর্যবসিত হননি তখন।
এখন কিন্তু সেটাই হয়েছে। নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ অথবা সামগ্রিকভাবে সরকারের কোনও সিদ্ধান্ত ভুল হতে পারে, রাষ্ট্রের পক্ষে দীর্ঘকালীন ক্ষতিকর হতে পারে, অত্যন্ত অবিমৃশ্যকারী হতে পারে, আবার সেই সিদ্ধান্তগুলি ভালোও হতে পারে। এসব চর্চার থেকেও বড় যে বার্তাটি সামনে আসছে তা হল বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নেতানেত্রীদের থেকে প্রচারের হাওয়াটি কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন এই দুজন। সমর্থন অথবা নিন্দা, প্রতিদিন আমজনতা মোদি, অমিত শাহকেই নিয়েই ব্যস্ত। তাঁদের নিয়েই চলে চর্চা। রাজনৈতিকভাবে এই যে নিজেদের একটা অবিরত রাজনৈতিক-সামাজিক ডিসকোর্সের কেন্দ্রে নিয়ে আসা এটা একটা বৃহৎ সাফল্য। মোদি এবং অমিত শাহ সর্বদাই চাইছেন মানুষ তাঁদের নিয়েই আলোচনা করুক। অন্য কোনওদিকে চর্চার অভিমুখ ঘোরানোর সুযোগই দেন না তাঁরা।
তাই দেখা যাচ্ছে, ক্রমাগত একটির পর একটি ইস্যু সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে। একটি ইস্যু থিতিয়ে গেলেই আবার অন্য একটি বিষয় নিয়ে তোলপাড়। আজ আম জনতা আর কাশ্মীরে সত্যিই কতটা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে তা নিয়ে খোঁজখবর নেয়? নেয় না। এটাই জনতার প্রবণতা। দ্রুত ইস্যু থেকে ইস্যু থেকে সরে যাওয়া। আর এই প্রবণতাকেই কাজে লাগিয়ে নিজেদের সর্বদাই মানুষের মস্তিষ্কে স্থান করে দিয়ে চলেছেন মোদি ও অমিত শাহ। তাঁদের সম্পর্কে বিরক্তি কিংবা ভালো লাগা যাই হোক, মানুষের চর্চা তাঁদের ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে।
শাসকের অন্যতম প্রিয় অস্ত্র হল ভয়। সেটা সর্বদাই যে জনতাকে প্রত্যক্ষভাবে ভয় দেখানো এমন নয়। সম্ভাব্য শত্রু ও অজানা আশঙ্কার একটি অবয়ব তৈরি করে প্রতিটি সমস্যার কারণ হিসেবে সেই অবয়বের দিকে আঙুল তোলা একটি বিশেষ প্রশাসনিক কৌশল। প্রাচীনকাল থেকে এরকমই একটি বিশেষ শাসনপ্রক্রিয়ার নাম হল পপুলার ফিয়ার। অর্থাৎ যে ভয়টি জনপ্রিয়। মানুষ যে ভয়কে বিশ্বাস করতে পছন্দ করে। বৃহৎ সংখ্যক মানুষ ওই ভয়টাকে সত্যি মনে করে। তাই মাঝে মধ্যেই প্রচার করা হয় সমস্যা, সঙ্কট, বিপর্যয়ের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এজন্য দায়ী হল কোনও বিশেষ জাতি, কোনও বিশেষ সম্প্রদায়, বিশেষ একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র, দেশের অভ্যন্তরের বিশেষ শ্রেণী। এরা সক঩লেই শত্রুপক্ষ। বৃহত্তর সংখ্যক জনগণের কাছে এই ধারণাটি গ্রহণযোগ্য হয়। অবিশ্বাস আর ভয়ের ককটেল।
জনগণকে তাই সর্বদাই পাশে পেতে মাঝেমধ্যেই সঙ্কট তৈরি করা নিয়ম। অর্থাৎ যুদ্ধ হতে পারে, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, রক্তক্ষয়ী কোনও বিপ্লবের চক্রান্ত হতে পারে। এরকম আশঙ্কা এবং সম্ভাবনায় সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সরকারের পাশে থাকবে। আর সেটাই কাম্য। এই পদ্ধতি নতুন কিছু প্রবণতা নয়, প্রাচীন ইওরোপ এশিয়ার ইতিহাস থেকেই জানা যায়, এই প্রক্রিয়ার নাম ‘পপুলার ক্রাইসিস!’
20th  September, 2019
রাজনৈতিক জুটি, অন্য সমীকরণ
সমৃদ্ধ দত্ত

গান্ধীজিকে রক্ষা করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেই দায় এড়াতে পারে না। পুলিস এবং আর্মিও ব্যর্থ। অসংখ্য চিঠি আছড়ে পড়ছে গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেনের অফিসে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দপ্তরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসে।
বিশদ

মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার ভোট: বিধ্বস্ত বিরোধী
বনাম দোর্দণ্ডপ্রতাপ মোদি-অমিত শাহ জুটি
বিশ্বনাথ চক্রবতী

 ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর চার মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনের সম্মুখীন মোদি-অমিত শাহ জুটি। এই দুই রাজ্যে পাঁচ বছর শাসন করবার পরও মোদিই বিজেপির প্রধান ভরসার স্থল। বিশদ

17th  October, 2019
আফ্রিকায় ‘আবিম্যানিয়া’
মৃণালকান্তি দাস

 ইথিওপিয়ার মানুষ আজ মনে করেন, আবি আহমেদ আলি আর কেউ নন, স্বয়ং ভগবানের দূত! তাদের রক্ষাকর্তা! বিশদ

17th  October, 2019
সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। বিশদ

15th  October, 2019
শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা।
বিশদ

14th  October, 2019
বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। 
বিশদ

12th  October, 2019
সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হওয়ার পাঠ শেখাচ্ছে সত্তর বছরের গণচীন
মৃণালকান্তি দাস

এখন সাধারণ পোশাক পরা মাও বা টায়ারের চপ্পল পায়ে হো চি মিনরা আর সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেই। এখন স্যুট টাই পরা বিলাসী সাহেবরা নেতৃত্বে। কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে আছে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দলীয় একনায়কতন্ত্র অব্যাহত রাখার গরজে। ব্রিটিশরা যেমন বলে থাকেন আওয়ার কিং ইজ ডেড, লং লিভ আওয়ার কিং। ঠিক তেমনই। আগে ধনতন্ত্র পরে সমাজতন্ত্র। তার জন্য জানলা খুললে কিছু মাছি-মশা আসবে। কথাটা বলেছিলেন দেং নিজেই। অবশ্য এই মাছি-মশা নিয়ে তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কী করে সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হতে হয় সেটাও শেখাচ্ছে চীন! 
বিশদ

11th  October, 2019
এক কাপ চায়ে 
অতনু বিশ্বাস

এক কাপ চা, কত গল্প বলে সকাল, বিকেল, সন্ধে বেলা...।
এ গানের লিরিকের মতোই চা নিয়ে এবং চায়ের টেবিলে গল্পেরও কোনও শেষ নেই। এক কাপ চায়ে আমেজ আছে নিশ্চয়ই। দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও।  
বিশদ

10th  October, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, কালনা: বুধবার রাতে কালনার কোম্পানিডাঙায় বালি তোলাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে চারজন জখম হয়েছে। তাদের কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে। উভয়পক্ষের তরফে কালনা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, তদন্ত ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইয়োনো গ্রাহকদের জন্য ‘গ্রিন রিওয়ার্ড পয়েন্ট’ চালু করল স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। এসবিআই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে যে ‘ইয়োনো এসবিআই গ্রিন ফান্ড’-এর তদারকি হয়, সেখানেই ওই গ্রিন রিওয়ার্ড পয়েন্টগুলিকে কাজে লাগানোর জন্য গ্রাহকদের আর্জি জানিয়েছে স্টেট ব্যাঙ্ক। ...

সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ: দুর্গাপুজোর আগে রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় গজিয়ে ওঠা মদের ঠেকগুলিতে বিশেষ দল নিয়ে অভিযান চালিয়েছিল পুলিস। তাতে সাফল্যও মিলেছিল। এবার কালীপুজোর সময়েও সেই একই মডেল অনুসরণ করতে চাইছে জেলা পুলিস।   ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইউটিটি জাতীয় র‌্যাঙ্কিং টেবল টেনিস প্রতিযোগিতা আজ শুরু বৃহস্পতিবার হাওড়ার ডুমুরজোলা স্টেডিয়ামে। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর ও গবেষণামূলক বিদ্যার ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে, ব্যবসায় যুক্ত হলে শুভ যোগাযোগ ঘটবে। ভ্রমণ যোগ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৭১: কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজের মৃত্যু
১৯১৮: চিত্রশিল্পী পরিতোষ সেনের জন্ম
১৯৩১: গ্রামাফোনের আবিষ্কারক টমাস আলভা এডিসনের মৃত্যু
১৯৪০: টলিউড অভিনেতা পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫০: অভিনেতা ওমপুরীর জন্ম





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৬১ টাকা ৭২.৩১ টাকা
পাউন্ড ৮৯.৯৯ টাকা ৯৩.২৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৬৭ টাকা ৮০.৬৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৮৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৮৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৪১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,২৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৩৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, চতুর্থী ৪/৩৮ দিবা ৭/২৯। রোহিণী ২৮/৪১ অপঃ ৪/৫৯। সূ উ ৫/৩৭/৪৪, অ ৫/৬/১৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৪ মধ্যে পুনঃ ৭/১০ গতে ৯/২৭ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৫ গতে ২/৪৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৩ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ৫/৫৭ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৭ গতে ৩/৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৮ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ৮/৩০ গতে ১১/২১ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/১৩ গতে ৯/৪৭ মধ্যে।
৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার, পঞ্চমী ৫৮/২৯/৫১ শেষরাত্রি ৫/২/১০। রোহিণী ২৫/৩৩/৪৮ দিবা ৩/৫১/৪৫, সূ উ ৫/৩৮/১৪, অ ৫/৭/৩৪, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩১ মধ্যে ও ৭/১৫ গতে ৯/২৯ মধ্যে ও ১১/৪২ গতে ২/৪১ মধ্যে ও ২/২৫ গতে ৫/৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৬ গতে ৯/১১ মধ্যে ও ১১/৪৬ গতে ৩/১২ মধ্যে ও ৪/৩ গতে ৫/৩৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩০/৩৪ গতে ৯/৫৬/৪৪ মধ্যে, কালবেলা ৯/৫৬/৪৪ গতে ১১/২২/৫৪ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/১৫/১৪ গতে ৯/৪৯/৪ মধ্যে।
 ১৮ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
প্রাচীন গ্রিক পদ্ধতি মেনে বিশ্ব সুন্দরী বেলা
সুপার মডেল বেলা হাদিদই বিশ্বের সবথেকে সুন্দর মহিলা। গ্রিক গণিত ...বিশদ

09:20:44 AM

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা হবে বিজন সেতুর, বন্ধ হবে যান চলাচল
আগামী শুক্রবার থেকে বালিগঞ্জের বিজন সেতুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনুমতি দিল ...বিশদ

09:08:19 AM

হকি বিশ্বকাপের দাবিদার ভারত
২০২৩ হকি বিশ্বকাপ আয়োজনের দাবিদার ভারত। তারা ২০২৩ সালের উইনডোতে ...বিশদ

08:57:16 AM

 টালা ব্রিজ: আজ বৈঠকে শুভেন্দু
টালা ব্রিজে বাস চলাচল বন্ধের জেরে তৈরি হওয়া সমস্যা নিয়ে ...বিশদ

08:39:38 AM

ইতিহাসে আজকের দিনে
১৮৭১: কম্পিউটারের জনক চার্লস ব্যাবেজের মৃত্যু১৯১৮: চিত্রশিল্পী পরিতোষ সেনের জন্ম১৯৩১: ...বিশদ

08:23:55 AM

মিলছে পে প্রোটেকশন, ফিরিয়ে দেওয়া চাকরি পেতে হন্যে শিক্ষকরা
সরকার পে প্রোটেকশন দেবে না, এই আশঙ্কা করেই নতুন স্কুলের ...বিশদ

08:15:00 AM