Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাজনীতির উত্তাপ কি পুজোর আমেজ
জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুভা দত্ত

পরিস্থিতি যা তাতে এমন কথা উঠলে আশ্চর্যের কিছু নেই। উঠতেই পারে, উঠছেও। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসবের মুখে প্রায় প্রতিদিনই যদি কিছু না কিছু নিয়ে নগরী মহানগরীর রাজপথে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে, পুলিস জলকামান, লাঠিসোঁটা, কাঁদানে গ্যাস, ইটবৃষ্টি, মারদাঙ্গা, রক্তারক্তিতে যদি প্রায় যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং তাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনজীবন ব্যবসাপত্তর উৎসবের মরশুমি বাজার কিছু সময়ের জন্য বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তবে এমন কথা এমন প্রশ্ন ওঠাই তো স্বাভাবিক। দুর্গাপুজো বলে কথা। সারা বছর চাতকের মতো গোটা রাজ্যের মানুষ পুজোর যে দিনকটার জন্য চেয়ে থাকেন, যে দিনগুলো ধনী-নির্ধন নির্বিশেষে দৈনন্দিনের যাবতীয় দুঃখকষ্ট অভাব অভিযোগ ভুলিয়ে সাময়িকভাবে হলেও মানুষকে এক আশ্চর্য আনন্দের জগতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং পরের বারো মাসের নানান প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করার জন্য তাঁদের বুকে ভরে দিয়ে যায় বাড়তি অক্সিজেন, আত্মবিশ্বাসের নতুন রসদ—সেই দিনগুলো আসার মুখে যদি ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট অশান্তি দেখা দেয় তাহলে কারই বা ভালো লাগে!
কিন্তু, উপায় কী? আমাদের রাজ্যে এমনটাই বহুদিন রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুজোর মুখে কিছু না কিছু দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন মিছিল অবস্থান এবং তা হটাতে পুলিসি অভিযান ঘিরে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ইত্যাদি হয়েই থাকে। আগেও হয়েছে, এখনও হচ্ছে। একটা সময় পর্যন্ত দেখা গিয়েছে পুজো এলেই পেট্রল ডিজেল কি রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, লরি-বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবি, ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ ইত্যাদির মতো ইস্যুতে আন্দোলন শুরু হয়ে যেত। তার তালে তাল মিলিয়ে পুজোর এক আধমাস আগে থেকে শুরু হয়ে গেল পরিবহণ ধর্মঘট। তার জেরে হাইওয়েতে সার বেঁধে দাঁড়িয়ে গেল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বা পচনশীল সব্জিপাতি বোঝাই লরি, তার ছবি উঠে আসতে লাগল কাগজে মিডিয়ায়! শহর মহানগরেও এক দু’দিন বাস-ট্যাক্সি বন্‌ধ হয়ে গেল! ব্যাঙ্ক বন্ধ রাখল কাজ! ওদিকে পরিবহণ ধর্মঘটের অছিলায় নিত্যদিনের বাজারে আগুন লাগিয়ে দিল ফড়ে দালালরা, শাক-সব্জি মাছ থেকে যাবতীয় নিত্যপ্রয়োজনীয়ের দাম রাতারাতি আকাশ ছুঁল! আর পুজোর মুখে দুশ্চিন্তার মেঘ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করল গরিব মধ্যবিত্ত খেটে খাওয়া বাঙালির ঘরে ঘরে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর এই ছবিতে খানিকটা বদল এসেছে। এখন আর আগের ওইসব ইস্যুতে আন্দোলন বড় একটা দেখা যায় না। হয়তো ভাড়াটাড়া বা পুজোর আগে অতিরিক্ত প্রাপ্তি নিয়ে পরিবহণ মহলে আর তেমন ক্ষোভ নেই। হয়তো আজও নানান কিছু নিয়ে বিশেষত রাজনৈতিক বিরোধিতার সূত্রে যাঁরা সরকারের উপর ‘ক্ষুব্ধ’ তাঁরা এতটাই সংখ্যালঘু যে তাঁদের আন্দোলন আজ আর জনতামহলে তেমন প্রাসঙ্গিকতা পায় না! পুজোর বাজারও খুব একটা লাগামছাড়া হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। তাছাড়া, সরকারি গাড়িতে সব্জি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিক্রি চালু হতে বহু মানুষ ন্যায্য দামে সব পাচ্ছেন। সামগ্রিকভাবে চাপ কিছুটা হলেও কমেছে। পুজো উৎসব ধর্মঘটে সরকারি গাড়ির জিনিসপত্রের দাম তো আর বাড়ে না। তবে, এবারও এই পুজোর মুখে কদিন ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকছে—ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। সন্দেহ নেই, এই ব্যাঙ্ক বন্ধে রাজ্যের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছোট-মাঝারি ব্যবসায়ী অনেকেরই অনেক রকমের অসুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু কী আর করা! রাজ্য সরকার তো এই ধর্মঘট ঠেকাতে পারে না। কারণ, গোটাটা কেন্দ্রীয় সরকার ও ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের ব্যাপার।
কিন্তু, তার চেয়েও যেটা নিয়ে আজ এই আসন্ন উৎসবের প্রাক্কালে মানুষ বেশি ভাবিত তা হল রাজ্যের বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি। রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল বিজেপি’র সিইএসসি অভিযানকে কেন্দ্র করে গত বুধবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল মধ্য কলকাতায়। সেদিন বিজেপি’র যুব মোর্চার এই আন্দোলন ঠেকাতে কাঁদানে গ্যাস, লাঠি থেকে জলকামান সবই ব্যবহার করতে হল পুলিসকে। বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী কমবেশি জখম হলেন। আবার আন্দোলনের ইটবৃষ্টিতে আহত হলেন জনাকয়েক পুলিসকর্মী অফিসার! এর কয়েকদিন আগে প্রায় একই জায়গায় বিজেপি’র প্রায় একইরকম আন্দোলনে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। তারপর আবার গত শুক্রবার ফের একবার রাজনৈতিক কর্মসূচি রূপায়ণ করতে গিয়ে গুরুতর উত্তেজনার সৃষ্টি হল হাওড়ায়! তবে এবার গেরুয়া নয়, লালপার্টি! বাম ছাত্রযুবদের সিঙ্গুর থেকে নবান্ন অভিযানকে কেন্দ্র করে আবার ধুন্ধুমার!
পুলিস অভিযানের গতিরোধ করতেই হাওড়া ময়দান এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল! মল্লিক ফটকের কাছে আন্দোলনকারীদের গতিরোধ করতেই প্রবল উত্তেজনা, লাঠি থেকে জলকামান—সবই চলল। আহত হলেন অনেকেই। আহতদের কাউকে কাউকে হাসপাতালেও নিয়ে যেতে হল! এবং রাজনৈতিক উত্তাপে উত্তপ্ত হল মল্লিক ফটক ও তার সংশ্লিষ্ট এলাকা। বেশ কিছুক্ষণের জন্য বিপর্যস্ত হল জনজীবন।
এইসব আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক তরজায় আমরা আপাতত যাচ্ছি না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আন্দোলন করার অধিকার সকলেরই আছে। কিন্তু, কথা হল—রাজনীতির এই আন্দোলন উত্তাপ কি পুজোর আমেজ জমে ওঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচ্ছত্র আধিপত্যের এই বাংলায় বিরোধীদের যদি দাগ কাটতে বা ঘুরে দাঁড়াতে হয়, কি নিদেনপক্ষে রাজনৈতিক অস্তিত্বটুকু টিকিয়ে রাখতে হয়—আন্দোলন ভিন্ন গতি নেই এবং সে আন্দোলনে ভালোমতো ঝাঁজ না থাকলেও যে চলবে না—এটা রাজ্যের বিরোধী দলগুলো ভালোমতোই বুঝে গেছে। সুতরাং তাঁদের আন্দোলন প্রতিবাদে কিছু জঙ্গিপনা থাকবে এটা ধরেই নেওয়া যায়। এ সপ্তাহে তেমন আন্দোলন একাধিকবার আমরা দেখলাম। কথা সেটা নিয়ে নয়, কথা হল সময় নিয়ে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যদি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ছুঁতে হয়, যদি গণদেবতার মহলে আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক গুরুত্ব সদিচ্ছা ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে হয় তবে টাইমটা মানে আন্দোলনের সময় নির্ধারণটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বাঙালির সবচেয়ে বড় পুজো এবং বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবের আয়োজন সময়ে আন্দোলন করলে সাধারণ মানুষ কতটা খুশি হন—তা নিয়ে তাঁদের রীতিমতো সংশয় আছে।
এটা ঠিক যে, পুজোর মুখে আন্দোলনের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে নামলে হয়তো সহজে অধিক সংখ্যক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়, কারণ, বাজার দোকানে কেনাকাটার জন্য অন্য সময়ের চেয়ে পথেঘাটে লোকের সমাগম তখন বেশি থাকে। কিন্তু, মিছিল, মিটিংয়ে ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটে পথ অচল হয়ে পড়লে ভিড় বাসে গাড়িতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকলে গণ্ডগোলের জন্য দোকান-বাজার হঠাৎ বন্ধ হয়ে উৎসবের আমেজের তাল কাটলে আম পাবলিক যে তা খুব প্রসন্ন মনে নেন না, তা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে ইস্যুর বাস্তব গুরুত্ব যতই থাক তা নিয়ে আন্দোলন করে পুজোর মুখে পাবলিকের মন কতটা ছোঁয়া যায় তা নিয়েও যথেষ্ট ধন্দ আছে। বিশেষ করে যখন মানুষ চারপাশের হরেক সমস্যা নিয়ে দিনরাত এমনিতেই জেরবার, পুজোর কটা দিন একটু হাঁপ ছাড়তে উদ্‌গ্রীব এবং তার জন্য একটু আনন্দফুর্তি খানাপিনা বেড়ানো ইত্যাদির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত তখন রাজনৈতিক আন্দোলন ঘিরে ঝামেলা যদি তাঁদের বোঝার ওপর শাকের আঁটি মনে হয় তবে সেটা নিশ্চয়ই খুব ভালো বার্তা বয়ে আনবে না—তাই না?
কিন্তু, মানুষের এই অসুবিধের দিকটা রাজনৈতিক শিবিরে কোনওকালেই বিশেষ গুরুত্ব পায়নি। আজও যে তেমন পাচ্ছে না সেটা কলকাতা-হাওড়ার সাম্প্রতিক আন্দোলনের ছবিগুলোই বলে দিচ্ছে। আমরা একবারও বলছি না যে আন্দোলন অসঙ্গত। রাজনৈতিক দল তাদের নীতিবিচার মতো প্রতিবাদ আন্দোলন করবেই। এনআরসি’র প্রতিবাদে বা কিছুদিন আগে পরিবেশ দূষণ ঠেকাতে ও জল অপচয় রোধ করতে তো স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথে নেমেছিলেন। কিন্তু, তাতে খুব একটা অসুবিধে হয়নি পাবলিকের। এনআরসিতে সিঁথি থেকে শ্যামবাজার বা পরিবেশ মিছিলে দক্ষিণ কলকাতায় কিছুক্ষণ যান-নিয়ন্ত্রণে মানুষের হয়তো সামান্য দেরি হয়েছে গন্তব্যে যেতে, তবে তাঁদের মনে আর যাইহোক ভয়, শঙ্কা জাগেনি। কিন্তু, বিরোধী আন্দোলন মানেই যে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ মুখোমুখি—শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা। পুজোর বাজার উৎসবের আমেজের পক্ষে যা কেবল বেমানানই নয়, একপ্রকার বিঘ্ন স্বরূপ—এ আমাদের কথা নয়, বলছেন পথচলতি মানুষ। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।
এদিকে আর এক শনিবার পেরলেই মহালয়া—দেবীপক্ষের সূচনা। বাতাসে এর মধ্যেই হালকা হিমেল টান লেগেছে। শহর মহানগর থেকে গ্রামগ্রামান্ত প্যান্ডেল আলোসাজে দেবী বরণের মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। কুমোরটুলি সমেত গোটা রাজ্যের পটুয়া পাড়াগুলোতে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। মধ্যে মধ্যে ঝিরঝিরে বৃষ্টি হচ্ছে ঠিকই, তবে তার মাঝেই উঁকি দিয়ে যাচ্ছে শরতের টুকরো টুকরো সাদা মেঘের নীল আকাশ। মানুষের মুখে-চোখেও ঝিলিক দিচ্ছে মা দুর্গার মহাপুজোর আনন্দ আবেশ। এমন উৎসবের আমেজে কি আন্দোলন ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট রক্তপাত মানায়—আপনারাই বলুন।
15th  September, 2019
জন্মদিনে এক অসাধারণ নেতাকে কুর্নিশ
অমিত শাহ

 আজ, মঙ্গলবার আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৬৯তম জন্মদিন। অল্প বয়স থেকেই মোদিজি নিজেকে দেশের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যৌবন থেকেই তাঁর মধ্যে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর উন্নয়নে কাজের একটি প্রবণতা লক্ষ করা যায়। দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে মোদিজির শৈশবটা খুব সুখের ছিল না। বিশদ

17th  September, 2019
ব্যাঙ্ক-সংযুক্তিকরণ কতটা সাধারণ মানুষ এবং সামগ্রিক ব্যাঙ্কব্যবস্থার উন্নতির স্বার্থে?
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

অনেকগুলি ব্যাঙ্ক সংযুক্ত করে দেশে সরকারি ব্যাঙ্কের সংখ্যা কমিয়ে আনা হল আর সংযুক্তির পর চারটি এমন বেশ বড় ব্যাঙ্ক তৈরি হল, আকার আয়তনে সেগুলিকে খুব বড় মাপের ব্যাঙ্কের তকমা দেওয়া যাবে। এসব ঘোষণার পর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, এতে দেশের অর্থনীতির খুব উপকার হবে।  
বিশদ

16th  September, 2019
আমেরিকায় মধ্যবয়সের
সঙ্গী সোশ্যাল মিডিয়া
আলোলিকা মুখোপাধ্যায়

যে বয়সে পৌঁছে দূরের আত্মীয়স্বজন ও পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ক্রমশ আগের মতো সম্ভব হয় না, সেই প্রৌঢ় ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার জীবনে ইন্টারনেট এক প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিয়েছে। প্রয়োজনীয় এই কারণে যে, নিঃসঙ্গতা এমন এক উপসর্গ যা বয়স্ক মানুষদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলে। বিশদ

14th  September, 2019
মোদি সরকারের অভূতপূর্ব কাশ্মীর পদক্ষেপ পরবর্তী ভারতীয় কূটনীতির সাফল্য-ব্যর্থতা
গৌরীশঙ্কর নাগ

 এই অবস্থায় এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ৩৭০ ধারা বিলোপ পর্বের প্রাথমিক অবস্থাটা আমরা অত্যন্ত উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছি।
বিশদ

14th  September, 2019
ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

 কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ বিশদ

13th  September, 2019
রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই।
বিশদ

10th  September, 2019
জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

 অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে।
বিশদ

09th  September, 2019
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষে ভারত প্রান্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রথম দশে, লক্ষ্য শীর্ষস্থান
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

 প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির মুখে উড্রো উইলসন সমেত বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের রাহুর গ্রাস থেকে এই সুন্দর পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। উইলসন বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মগজে রয়েছে যুদ্ধের অভিলাষ। যুদ্ধভাবনা মুছে ফেলে শান্তিভাবনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
বিশদ

09th  September, 2019
পুজোর মুখে বিপর্যয়: ঘরে বাইরে

 দুর্ঘটনা বিপর্যয় তো আর জানান দিয়ে আসে না! নেপালের ভূমিকম্প কি আমাদের আয়েলার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কত মানুষ ঘর-সংসার সব হারিয়ে রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কত সংসার উজাড় হয়ে গেছে—শত চেষ্টাতেও সেই ক্ষত পুরোটা পূরণ করা গিয়েছে কি? যায়নি। এই বউবাজারে রশিদ জমানার সেই ভয়ানক বিস্ফোরণের পর কত লোকের কত সর্বনাশ হয়েছিল—কজন তার বিহিত পেয়েছিলেন? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বউবাজারে বাড়ি ধসে যে ক্ষতি বাসিন্দাদের হল তাতে তাই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বললে কিছুমাত্র ভুল হয় না। বিশদ

08th  September, 2019
বন্ধ হোক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পঞ্চায়েত দখল
তন্ময় মল্লিক

পঞ্চায়েত কারও চোখে স্থানীয় সরকার, কারও চোখে উন্নয়নের হাতিয়ার, কারও চোখে চোর তৈরির কারখানা। পঞ্চায়েত সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হলেও একটা ব্যাপারে প্রায় সকলেই এক মত, পঞ্চায়েত আসলে মধুভাণ্ড। এই মধুভাণ্ডের নাগাল পাওয়া নিয়েই যত মারামারি, বোমাবাজি, খুনোখুনি। এই পঞ্চায়েতই নাকি এবার পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা ভোটে ওলট-পালটের নাটের গুরু।
বিশদ

07th  September, 2019
অজানা ভবিষ্যৎ
সমৃদ্ধ দত্ত

টাকা কোথায় গেল? একের পর এক গ্রামবাসীর টাকা উধাও। সকলে সেই অফিসে আবার গেলেন। তারা এবার ভালো করে কম্পিউটার চেক করে বললেন, তোমাদের আগে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল সেটা তো চেঞ্জ হয়েছে। এখানে নতুন এক অ্যাকাউন্ট দেখাচ্ছে। ওখানেই গেছে টাকা। প্রমোদকুমাররা জানেই না কোথায় নতুন অ্যাকাউন্ট! এক সহৃদয় ব্যাঙ্ককর্মী আবিষ্কার করলেন মোবাইল সার্ভিস প্রভাইডার কোম্পানি পেমেন্ট ব্যাঙ্ক চালু করেছে। ওই যে ফোনে আধার নম্বর চাওয়া হল এবং প্রমোদকুমাররা গিয়ে লিংক করিয়ে এলেন, আসলে ওই আধার নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের অজ্ঞাতেই তাঁদের নামে পেমেন্ট ব্যাঙ্ক ‌অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গিয়ে সেই অ্যাকাউন্টই শো করতে শুরু করেছে সরকারি দপ্তরে। আর সব টাকা সেখানে যাচ্ছে।
বিশদ

06th  September, 2019
নিজেকে জিজ্ঞেস করো, দেশের জন্য কী করতে পার
মৃণালকান্তি দাস

হোয়াইট হাউস-এর  পবিত্রতা নষ্ট করার দুর্নাম জুটেছিল কি না বেচারি বিল ক্লিন্টনের!‌ তখনও নাকি মার্কিন আম জনতা মুখ বেঁকিয়ে বলেছিল,  কোথায় মেরিলিন মনরো,  আর কোথায় মনিকা লিউইনস্কি!‌ তবে, মনরো–কেনেডির এই প্রেম রীতিমত ঢাক–ঢোল পিটিয়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে মার্কিন গণজীবনে। ১৯ মে ১৯৬২। কেনেডির আসল জন্মদিনের ১০ দিন আগেই উৎসব হয়েছিল নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়্যার গার্ডেনে। ১৫ হাজার অতিথির তালিকায় তাবড় রাজনীতিক ও হলিউড সেলেবদের ছড়াছড়ি। বিরাট কনসার্টে মারিয়া কালাস,  এলা ফিটজেরাল্ড-এর মতো ডাকসাইটে শিল্পীদের পাশাপাশি মেরিলিন মনরো!‌ ইতিহাস হয়ে গিয়েছে সেই সন্ধ্যায় মনরোর গাওয়া  ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ মিস্টার প্রেসিডেন্ট’।  
বিশদ

06th  September, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: দরিদ্রতাকে উপেক্ষা করে নবদ্বীপের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র রাজ দেবনাথ রাজ্য স্কুল গেমস প্রতিযোগিতায় জিমন্যাস্টিক বিভাগে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। খুশির হওয়া নবদ্বীপে। ...

সংবাদদাতা, হলদিয়া: হলদিয়া শিল্পশহরে একদিন আগেই শুরু হয়ে গেল বিশ্বকর্মাপুজো। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত একাধিক বড় শিল্পসংস্থার পুজো উদ্বোধন করেন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও ...

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: ঠিকা কর্মীদের মাইনে নেই মাসের পর মাস। বিএসএনএলের পরিষেবা অনেকটাই নির্ভর করে তাঁদের উপর। তাই পরিষেবাও লাটে উঠেছে। মরার উপর খাঁড়ার ঘায়ের ...

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: রাজ্যবাসীকে ডেঙ্গুর বিপদ থেকে বাঁচাতে এ বছর ৪৭৫ কোটি টাকা খরচ করছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য দপ্তর। শুধু ডেঙ্গু মোকাবিলাতেই এই বিপুল ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

কর্মক্ষেত্রে অশান্তি সম্ভাবনা। মাতৃস্থানীয় কারও শরীর-স্বাস্থ্যের অবনতি। প্রেমে সফলতা। বাহন ক্রয়-বিক্রয়ের যোগ। সন্তানের বিদ্যা-শিক্ষায় উন্নতি।প্রতিকার— ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার স্বাধীনতা দিবস
১৫০২ - কোস্টারিকা আবিষ্কার করেন ক্রিস্টোফার কলম্বাস
১৮৯৯- সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ রাজনারায়ণ বসুর মৃত্যু
১৯৫০- অভিনেত্রী শাবানা আজমির জন্ম
১৯৭৬- ব্রাজিলের ফুটবলার রোনাল্ডোর জন্ম
২০০৬- ফুটবলার সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭১.০২ টাকা ৭২.৭৩ টাকা
পাউন্ড ৮৭.৬০ টাকা ৯০.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.৬২ টাকা ৮০.৬২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৪৩০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৪৬০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,০০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৩৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৪৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্থী ৩১/৫১ সন্ধ্যা ৬/১২। অশ্বিনী ৩/১১ দিবা ৬/৪৪। সূ উ ৫/২৭/৩১, অ ৫/৩৪/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৬/১৫ মধ্যে পুনঃ ৭/৪ গতে ৭/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১০/১৮ গতে ১২/৪৪ মধ্যে। রাত্রি ৬/২২ গতে ৭/১০ মধ্যে পুনঃ ৮/৪৫ গতে ৩/৫ মধ্যে, বারবেলা ৮/২৯ গতে ১০/০ মধ্যে পুনঃ ১১/৩১ গতে ১/১ মধ্যে, কালরাত্রি ২/২৯ গতে ৩/৫৮ মধ্যে।
৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার, চতুর্থী ২৪/৪০/১০ দিবা ৩/১৯/১৪। অশ্বিনী ০/৫/৪৪ প্রাতঃ ৫/২৯/২৮, সূ উ ৫/২৭/১০, অ ৫/৩৬/৩০, অমৃতযোগ দিবা ৭/২ মধ্যে ও ৯/৩১ গতে ১১/১০ মধ্যে ও ৩/১৮ গতে ৪/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৩৩ গতে ৮/৫৩ মধ্যে ও ১/৩১ গতে ৫/২৭ মধ্যে, বারবেলা ১১/৩১/৫০ গতে ১/৩/১ মধ্যে, কালবেলা ৮/২৯/৩০ গতে ১০/০/৪৪ মধ্যে, কালরাত্রি ২/২৯/৩০ গতে ৩/৫৮/২০ মধ্যে। 
১৮ মহরম 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
মোদিকে তাদের আকাশপথ ব্যবহার করতে দেবে না পাকিস্তান
 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন সফরের জন্য পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার ...বিশদ

08:02:00 PM

দ্বিতীয় টি২০: টসে জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত বিরাট কোহলির 

06:40:25 PM

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভালো কথা হয়েছে: মমতা 
দীর্ঘ দিন পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্তে বৈঠক করলেন ...বিশদ

05:31:00 PM

খানাকুল ও পুরশুড়া থেকে তৃণমূলে যোগ দিলেন ১২জন
 

খানাকুল ও পুরশুড়া থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সহ ১২ জন ...বিশদ

05:15:00 PM

রেল কর্মীদের জন্য সুখবর 
উৎসবের মরশুমে সুখবর। বুধবার রেলকর্মীদের জন্য ৭৮ দিনের উৎপাদনভিত্তিক বোনাস ...বিশদ

05:13:50 PM

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 

05:04:26 PM