Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ব্যর্থতা নয়, অভিনন্দনই
প্রাপ্য ইসরোর বিজ্ঞানীদের
মৃণালকান্তি দাস

‘সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে!’ বারবার কথাটা বলেছিলেন ইসরোর সভাপতি কে শিবন। গত শুক্রবার মাঝরাত পর্যন্ত সবকিছু একেবারে নিখুঁতভাবেই চলেছিল। আশা করা হচ্ছিল কামাল দেখাবে কৃত্রিম মেধা। রাত দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে অনুসন্ধানী যান ‘প্রজ্ঞান’কে ভিতরে নিয়ে পালকের মতো ভেসে চাঁদের পিঠে নামার কথা ছিল ‘বিক্রম’-এর। ঠিক যেভাবে হেলিকপ্টার হেলিপ্যাডে নেমে আসে, ঠিক তেমনভাবে চাঁদে তার চার পা রাখবে ভারতের বিক্রম। এই এক ঘণ্টার মধ্যে সবথেকে উদ্বেগের সময় ছিল শেষ পনেরো মিনিট। বিক্রমের চাঁদের মাটি ছোঁয়ার মুহূর্ত থেকে থিতু হওয়া পর্যন্ত। তারপর একটু জিরিয়ে নেওয়ার কথা বিক্রমের। ঘণ্টা তিনেক। ভারতীয় সময় সকাল ৫.৩০ থেকে ৬.৩০, এই এক ঘণ্টা বরাদ্দ ছিল ‘ল্যান্ডার’ বিক্রমের ভিতর থেকে রোভার ‘প্রজ্ঞান’–এর বেরিয়ে আসার জন্য। বাইরে এসে নিজের সোলার প্যানেল প্রথমে মেলে ধরবে প্রজ্ঞান। সৌরশক্তিই তাকে চালাবে। অবতরণ ক্ষেত্র থেকে ৫০০ মিটার দূর পর্যন্ত গড়গড়িয়ে যেতে পারবে সে। নমুনা সংগ্রহ করবে চাঁদের মাটি, পাথরের। খুঁজবে জলের দাগ। চাঁদের জমিতে যাচাই করে দেখবে কোনও নতুন খনিজ পদার্থ আছে কি না। গোটা দেশ ভরসা রেখেছিল ইসরোর বিজ্ঞানীদের উপরে। শুক্রবার মাঝরাতে গোটা দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে ‘বিক্রম’ নেমে এসেছিল নিখুঁতভাবেই। কিন্তু চাঁদের মাটি থেকে আকাশে ২.১ কিলোমিটার উপরে থাকার সময় ইসরো যোগাযোগ হারিয়ে ফেলেছিল বিক্রমের সঙ্গে। থমকে গিয়েছিল পর্দা!
শুরু থেকেই ছিল বিপত্তি! গত ১৪ জুলাই শ্রীহরিকোটা থেকে চন্দ্রযান ২-এর যাত্রা থমকে গিয়েছিল শেষ মুহূর্তে। ত্রুটি সামলে এক সপ্তাহ পরেই গত ২২ জুলাই বাহুবলী রকেটের ঘাড়ে চেপে রওনা দিয়েছিল ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রযান। তখনই ঠিক হয়েছিল যাত্রা পিছিয়ে গেলেও আগের নির্ধারিত দিনেই গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হবে চন্দ্রযান ২-কে। যাত্রা পিছিয়ে গেলেও পৌঁছনোর দিন একই রাখায় প্রশ্ন উঠেছিল, তাতে কোনও বিপত্তি হবে না তো! ইসরো আশ্বাস দিয়েছিল, এরজন্য গতি কিছুটা বাড়াতে হবে। পৃথিবীকে পাঁচ পাক ও চাঁদের চার পাশ পাঁচ পাক খাবে চন্দ্রযান ২। তার মাপজোকেও কিছু বদল অবশ্যই ঘটাতে হবে।
তবে কি একটু বেশি তাড়াহুড়ো করে ফেলেছিল ইসরো? নাকি এই তাড়াহুড়োর পিছনে ছিল রাজনৈতিক মহলের চাপ? এত বছরের পরিশ্রম বৃথা গেল? তিল তিল করে গড়ে তোলা স্বপ্ন সত্যি কি শেষ হয়ে গেল? কোথায় বিক্রম? কেন সে ইসরোর মিশন কন্ট্রোল রুমের কম্যান্ডের উত্তর দিল না? কোথায় গাফিলতি হল? সেই প্রশ্নই এখনও ঘুরপাক খাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। কাকতালীয় ঘটনা বলতে পারেন, ৭ সেপ্টেম্বর ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের। সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হওয়ার দিনেই এমন একটা সাফল্য আসতে চলেছে— প্রধানমন্ত্রী তা নিয়ে খুবই উৎসাহিত ছিলেন দিনভর। এক ঝাঁক ট্যুইটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই অভিযান ভারতের মেধা এবং নিষ্ঠার প্রমাণ। এই সাফল্য দেশের মানুষের উপকারে আসবে। আবার কোনও ট্যুইটে দেশবাসীকে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে বলেছেন। কখনও জানিয়েছেন, তাঁর বেঙ্গালুরুতে আসার কথা। সারা দেশ থেকে কুইজের মাধ্যমে বেছে নেওয়া যে ৬০ পড়ুয়া বেঙ্গালুরুতে তাঁর সঙ্গে বসে অবতরণ দেখবে, ট্যুইট করেছেন তাদের নিয়েও। সাফল্যের তালিকায় চন্দ্র বিজয়কে জুড়ে নেওয়ার পক্ষে এমন ভালো দিন আর কী হতে পারত শাসক শিবিরের কাছে! কিন্তু হল না। নামার আগে হারিয়ে গেল বিক্রম। ইতিহাসকে আর ছোঁয়া যায়নি। সাফল্যের উচ্ছ্বাসও নিমেষে ম্লান। কিন্তু ভারতবাসী সমালোচনার পথে হাঁটেনি। ইসরোর ৪৮ দিনের সফল পথ যাত্রাকেই বাহবা দিচ্ছে। কেউ কেউ স্যালুট জানিয়েছে ইসরোকে। হিরোর মর্যাদা দিয়েছে কে শিভনকে। হিরোই বটে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’।
এত কম খরচে ভারতের চন্দ্রাভিযান কর্মসূচিতে রীতিমতো বিস্মিত গোটা দুনিয়া। গোটা প্রকল্পে খরচ ৯৭৮ কোটি টাকা,যা হলিউডের ছবি অ্যাভেঞ্জার্স: অ্যান্ড গেম–এর বাজেটের চেয়ে কম। বলেছিলেন রুশ মহাকাশচারী জেরিলিনেনগার। বলেছিলেন, ‘অভিযানের খরচ যত কম হবে, তত বেশিবার অভিযান করা যাবে। আর অভিযান থেকে যত বেশি আমরা শিখব, তত বেশি মানুষের জ্ঞানের জগৎ প্রসারিত হবে। তাই ইসরোর কাছে সকলের শেখা উচিত।’ ইসরো এত দিন অত্যন্ত শক্তিশালী ও সর্বাধুনিক মিসাইল বানানোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করত। মিসাইল বানাত। পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য সেগুলির উৎক্ষেপণ করত। কাগজে ছবি বেরত। কিন্তু সেই প্রযুক্তিটা কী, দেশের নিরাপত্তার কারণেই ইসরো সে ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে থাকত। স্বাভাবিকভাবেই এখনও থাকে। কারণ, প্রযুক্তিটা সকলকে বলে দিলে তো শত্রু দেশও তা বানিয়ে ফেলবে! তাই গোপনীয়তা বজায় রাখতেই হতো, এখনও হয়। যেহেতু সেগুলি হয় প্রতিরক্ষা গবেষণা উন্নয়নসংস্থা (ডিআরডিও) বা কেন্দ্রীয় পরমাণু শক্তি মন্ত্রকের (ডিএই) তত্ত্বাবধানে। চন্দ্রযান-২ সেই আড়ালটা ভেঙে দিয়েছে। চন্দ্রযান-২ কিন্তু ভারতের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন হিরোর জন্ম দিয়েছে।
১৯৬৯ থেকে ২০১৯। ৫০ বছর ধরে বিজ্ঞানের নানা উপহার সারা বিশ্বের সামনে হাজির করে চলেছে ইসরো। শুরুতে সর্বাধিক ৪০ কেজি ওজনের উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম হয়েছিল ইসরো। সেখান থেকে আজ চন্দ্রযান ২ চাঁদের কক্ষপথে উড়ে গিয়েছিল ৪ হাজার কেজি ওজন নিয়ে। এই ৫০বছরের পথে অনেক চড়াই-উতরাই হয়েছে। বারবার হোঁচট খেয়েছে ইসরো। কিন্তু কখনও দমে যায়নি। বরং বারবারই নতুন করে ব্যর্থতাকে ছাপিয়ে আরও বড় আকারে সাফল্যের দিকে এগিয়ে গিয়েছে ইসরো। কে না জানে, বিশ্বের সামনে ইসরো এতটাই সফল যে, আমেরিকা, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, ইতালি, জার্মানি, জাপানও তাদের স্যাটেলাইট পাঠানোর জন্য আজ ইসরোর উপর ভরসা করে। ভারতের চন্দ্র-অভিযান প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশ আমেরিকার। প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছে সে দেশের মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র নাসাও। জানিয়ে দিয়েছে, ইসরোর সঙ্গে যৌথভাবে সৌরজগৎ অন্বেষণের কাজ করতে চায় তারা। কারণ, ইসরোর অভিযান নাসার কাছে প্রেরণা জুগিয়েছে। ট্যুইটারে ইসরোকে ট্যাগ করে নাসা লিখেছে,‘মহাকাশটা কঠিন জায়গা। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা রাখতে ইসরোর চন্দ্রযান-২ অভিযান প্রশংসনীয়। একে অভিনন্দন জানাই। এই প্রেরণাদায়ক অভিযানের পর ভবিষ্যতে একসঙ্গে সৌরজগতের অন্বেষণ করতে আমরা উদ্বুদ্ধ।’ আমেরিকা জানিয়েছে, চন্দ্রযান-২ অভিযান ভারতের একটি বিরাট পদক্ষেপ। যা ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিতে রসদ জোগাবে।
আসলে ব্যর্থতার মধ্যেই রয়েছে আগামীর সাফল্যের সন্ধান। মনে করছে আসমুদ্র হিমাচল। ‘নাসা’র মতো গর্ব করার একটা সংস্থা আমার দেশেই রয়েছে। আগামী দিনে মৌল বিজ্ঞানের গবেষণায় যদি ইসরো বেশি বেশি করে হাত মেলায় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাতে, তাতে নতুন প্রজন্মের লাভ যথেষ্টই। বিজ্ঞানে সাফল্য যেমন আছে, তেমনি আছে হতাশা। আর হতাশা আছে বলেই তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ হয়েও চাঁদের মাটি ছোঁয়ার ধৃষ্টতা দেখাতে পেরেছে ভারত। জানা গিয়েছে, অরবিটারে থাকা ৮টা যন্ত্র এখনও ঠিকঠাক কাজ করে যাচ্ছে। আগামীদিনে আমরা যদি চাঁদে ঘাঁটি গাড়তে চাই, তা হলে জলের খোঁজ জরুরি। চাঁদে যে জল আছে, চন্দ্রযান-১ আমাদের আগেই সে খবর দিয়েছে। এখন চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে কতটা জল আছে, মাটি থেকে কতটা নীচে, সেই জল বার করতে কতটা ঝামেলা হতে পারে— সব বলে দেবে অরবিটারে থাকা যন্ত্র। এই অরবিটারেই আছে দু’টো অত্যন্ত শক্তিশালী হাই-রেজলিউশন ক্যামেরা। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এর আগে কখনও পা পড়েনি। ওই অঞ্চলের মানচিত্র এনে দেবে এই দু’টি ক্যামেরা। এখানেই ভারতের চন্দ্রযান ২–এর অভিযানের সাফল্য। দ্বিতীয় চন্দ্রযানের অরবিটার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তার পর্যবেক্ষণ থেকে প্রচুর মূল্যবান তথ্য মেলার সম্ভাবনা। অবশ্যই এই প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। সেই সাফল্য ৯৫ শতাংশ, না পুরোটাই ব্যর্থ, সে বিতর্ক থাকবেই। তা বলে এ নিয়ে বেশিদিন বসে থাকলে হতাশা আসতে বাধ্য।
বিক্রমের খোঁজ চালানোর পাশাপাশি এবার তাই চন্দ্রযানের তৃতীয় অভিযানের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসরো। চেয়ারম্যান কে শিবন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন চন্দ্রযান-৩ মিশনের জন্য আলাদা টিম কাজ শুরু দিয়েছে। তবে এরপরের অভিযানটি হবে জাপানের সহযোগিতায়। নিয়ম মতো সব এগলে আরও এক ল্যান্ডারকে নিয়ে ২০২৪ সালে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতেই ফিরে যাবে ইসরো। শুধু চন্দ্রযান-৩ নয়,প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সৌর মিশন ‘আদিত্য এল-১’,‘শুক্রযান-১’, ‘গগনযান’, ‘মঙ্গলযান-২’ ও চাঁদে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র বানানো নিয়েও। জাপানের এয়ারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সি বা জাক্সার সঙ্গে যৌথভাবে চন্দ্রযান-৩ অভিযান করবে ভারত। সেই সময় চাঁদের মাটি খুঁড়ে পৃথিবীতে এনে গবেষণা করার কথা রয়েছে। জাক্সার উপগ্রহ বিশ্লেষক যান হায়াবুসা-২ গত জুলাই মাসেই দ্বিতীয়বারের জন্য ঝুঁকিবহুল একটি উপগ্রহে গিয়ে নেমেছে। কোনও বিপদসঙ্কুল জায়গায় ঝুঁকি নিয়ে নামতে তারা কতটা সফল তা প্রমাণ করে দিয়েছে। ২০২৪-এর যৌথ মিশন অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত ঠিক রয়েছে রকেট আর রোভার তৈরি ও তাকে প্রেরণের দায়িত্ব থাকবে জাপানের উপর। আর ল্যান্ডার পাঠাবে ভারত। রোভারটি চাঁদে ড্রিল করে মাটি-পাথর তুলে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। বিশ্বে এই প্রথম দুই দেশ যৌথভাবে চাঁদে মানববিহীন যান পাঠিয়ে সেখানকার মাটি নিয়ে ফিরে আসার পরিকল্পনা করেছে। ২০৩০ সালে একটি মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্র বানানোর পরিকল্পনাও রয়েছে ভারতের। আর তা রয়েছে সেই চাঁদেই। এই অভিযান প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা মহাকাশ বিজ্ঞানী এ পি জে আব্দুল কালামের স্বপ্ন। তাঁর যুক্তি ছিল, চাঁদে ল্যাবরেটরি, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র বানাতে খরচ কম পড়বে। ইসরোর হাতে অনেক কাজ। অনেক।
ইতিমধ্যে ইসরো জানিয়েছে, এক বছর কাজ করার কথা থাকলেও অরবিটারটি সাত বছর ধরে কাজ করতে পারবে। কারণ, সফল ও উন্নত উৎক্ষেপণের ফলে অরবিটারের জ্বালানি কম খরচ হয়েছে এবং কর্মক্ষমতা বেড়ে গিয়েছে। বিক্রমের কী অবস্থা, তা জানতে ইসরোর ভরসা ওই অরবিটার। সেটা কী কম সাফল্য? ইসরোর কয়েক হাজার বিজ্ঞানী-ইঞ্জিনিয়ার তো বটেই, এত জটিলতার মধ্যে দিয়ে গিয়ে প্রায় শিখর ছোঁয়া জীবনের ক্ষেত্রেও একটা বড় শিক্ষা। কিন্তু তারও চেয়ে মূল্যবান কথা এই যে, এই প্রজন্মের ভারতীয়রা একটা অন্ধকার অতীত পিছনে ফেলে মহাকাশ অভিযানের পথে এগিয়ে গেলেন। আর একটা সাফল্যের পিছনে থাকে অজস্র ব্যর্থতা! বিজ্ঞানের ইতিহাসই তো ইসরোর সম্বল। যে ইতিহাসে রয়েছে ১৯৭৯ সালে ভারতের প্রথম উপগ্রহ প্রেরণের ব্যর্থতা।
কালামের জেদেই ভেঙে পড়েছিল ইসরোর রোহিনী। না, তারপরেও এ পি জে আব্দুল কালামকে সে দিন ‘ফায়ার’ করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান সতীশ ধাওয়ান! বলেননি, ‘দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কালামকে’! তার এক বছরের মধ্যেই ধরা দিয়েছিল সাফল্য। ধাওয়ানের নির্দেশে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন সেই কালাম-ই। তাঁর কথায়, ‘ওই দিন আমি খুব গুরুত্বপূর্ণ পাঠ পেয়েছিলাম। ব্যর্থতা এলে তার দায় সংস্থার প্রধানের। কিন্তু,সাফল্য পেলে তা দলের সকলের। এটা কোনও পুঁথি পড়ে আমাকে শিখতে হয়নি। এটা অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত।’ ব্যর্থতার সময় গোটা দেশ যখন ক্ষিপ্ত তখন সতীশ ধাওয়ান আড়াল করে রেখেছিলেন তাঁর বিজ্ঞানীদের। সাফল্যের পর সবাই যখন ফুলের মালা নিয়ে বরণ করতে প্রস্তুত তিনি তখন সামনে এগিয়ে দিয়েছেন অভিনন্দনের আসল দাবিদারকে। বিক্রম সারাভাইয়ের হাতে জন্মের পর থেকে ইসরো এই ভাবেই চলে এসেছে। এখনও চলছে। অভিনন্দন ইসরোর বিজ্ঞানীদের। থমকে যাবেন না। আপনাদের দিকে তাকিয়ে গোটা দেশ। সাফল্যের খোঁজে আগামীর ভারত।
13th  September, 2019
করোনা যুদ্ধে জাপানকে জেতাচ্ছে সুস্থ সংস্কৃতি 
হারাধন চৌধুরী

সারা পৃথিবীর হিসেব বলছে, করোনা ভাইরাসে বা কোভিড-১৯ রোগে মৃতদের মধ্যে বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি। সেই প্রশ্নে জাপানিদের প্রচণ্ড ভয় পাওয়ার কথা। কারণ, প্রতি একশো জনের মধ্যে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা জাপানেই সর্বাধিক।   বিশদ

 একাদশ অবতার
সন্দীপন বিশ্বাস

কতদিন হয়ে গেল ওইসব দামি দামি স্যুট পরা হয়নি, কতদিন বিদেশ যাওয়া হয়নি, কত বিদেশি রাজার সঙ্গে জড়াজড়ি করে হাগ করা হয়নি। সেসব নিয়ে খুবই মন খারাপ হবু রাজার।
বিশদ

08th  July, 2020
সীমান্ত বিতর্ক অছিলা, বাণিজ্য যুদ্ধ
জিততেই চীনের গলওয়ান কাণ্ড
সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়

সীমান্ত উত্তেজনা কমাতে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে চীনের বিদেশ মন্ত্রীর বৈঠক আপাতত স্বস্তি দিয়েছে। কিন্তু, স্থায়ী সমাধান সূত্র মেলেনি। বরং বৈঠকের পর চীনের সরকারের বক্তব্য, দুই দেশের সম্পর্ক এক জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। কী সেই পরিস্থিতি?
বিশদ

08th  July, 2020
সীমান্তেও মোদির
চমকদার রাজনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

তারিখটা ৭ নভেম্বর, ১৯৫৯। কংকা পাসের ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে চিঠি দিয়েছেন চৌ-এন-লাই। লিখেছেন, দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যা হয়েছে, তা দুর্ভাগ্যজনক এবং মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়।
বিশদ

07th  July, 2020
আইনের হাত থেকে
স্বাধীনতাকে উদ্ধার করো
পি চিদম্বরম

যদি কোনও ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, তবে সে অবশ্যই কোনও ভুল করেছে। যদি কারও জামিন নামঞ্জুর হয়ে যায়, তবে সে নিশ্চয় অপরাধী। যদি কোনও ব্যক্তিকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়, তবে জেলসহ শাস্তিই তার প্রাপ্য।  বিশদ

06th  July, 2020
গুরু কে, কেনই বা গুরুপূর্ণিমা?
জয়ন্ত কুশারী

কে দেখাবেন আলোর পথ? পথ অন্ধকারাচ্ছন্নই বা কেন? এই অন্ধকার, মনের। মানসিকতারও। চিন্তার। আবার চেতনারও। এই অন্ধকার কুসংস্কারের। আবার অশিক্ষারও। অথচ আমরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষিত এক একজন।   বিশদ

05th  July, 2020
জাতির উদ্দেশে ভাষণের চরম অবমূল্যায়ন
হিমাংশু সিংহ

অনেক প্রত্যাশা জাগিয়েও মাত্র ১৬ মিনিট ৯ সেকেন্ডেই শেষ। দেশবাসীর প্রাপ্তি বলতে আরও পাঁচ মাস বিনামূল্যে রেশন। শুধু ওইটুকুই। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি বুক ফুলিয়ে চীনকে কোনও রণহুঙ্কার নয়, নিহত বীর জওয়ানদের মৃত্যুর বদলা নয় কিম্বা শূন্যে নেমে যাওয়া অর্থনীতিকে টেনে তোলার সামান্যতম অঙ্গীকারও নয়। ১৬ মিনিটের মধ্যে ১৩ মিনিটই উচ্চকিত আত্মপ্রচার।   বিশদ

05th  July, 2020
মধ্যবিত্তের লড়াই শুরু হল
শুভময় মৈত্র 

কোভিড পরিস্থিতি চীনে শুরু হয়েছে গত বছরের শেষে। মার্চ থেকেই আমাদের দেশে হইচই। শুরুতেই ভীষণ বিপদে পড়েছেন নিম্নবিত্ত মানুষ। পরিযায়ী শ্রমিকদের অবর্ণনীয় দুর্দশার কথা এখন সকলেই জানেন।  বিশদ

04th  July, 2020
রাজধর্ম
তন্ময় মল্লিক 

যেমন কথা তেমন কাজ। উম-পুন সুপার সাইক্লোনে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠতেই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছিলেন, টাঙিয়ে দেওয়া হবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা। ফেরানো হবে অবাঞ্ছিতদের হাতে যাওয়া ক্ষতিপূরণ।   বিশদ

04th  July, 2020
উন্নয়ন  ও  চীনা  আগ্রাসনের  উত্তর  একসুতোয় গাঁথা
নীলাশিস  ঘোষদস্তিদার 

আমরা ভারতীয়রা চীনা পণ্য বয়কট করব কি না, এই প্রশ্নে অনেকেই বেশ দ্বিধায়। এই কারণে যে এত সস্তায় কেনা সাধের চীনা অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি ছেড়ে কি দামি আই-ফোন বা অকাজের দেশি ফোন কিনতে হবে?   বিশদ

03rd  July, 2020
ভার্চুয়াল স্ট্রাইক নাকি ড্যামেজ কন্ট্রোল!
মৃণালকান্তি দাস

ভারতের কোনও রাষ্ট্রনেতা তাঁর মতো বিদেশ সফর করেননি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও বিনিয়োগ টানতে চীনে গিয়েছেন অনেকবার। তখন তিনি গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। দশ বছরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং চীনে গিয়েছেন ২ বার।  বিশদ

03rd  July, 2020
চীনের নতুন পুতুলের নাম পাকিস্তান
হারাধন চৌধুরী 

পাকিস্তান ছিল আমেরিকার পুতুল। এবার সেটা হাত বদলে চীনের হয়েছে। চীনের কোনও কিছুর গ্যারান্টি নেই। যেমন তাদের কথা আর বিশ্বাসের মূল্য, তেমনি চীনা প্রোডাক্টের আয়ু। এ নিয়ে চালু রসিকতাও কম নয়।  বিশদ

02nd  July, 2020
একনজরে
  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনাজনিত কারণে কলকাতা হাইকোর্টসহ রাজ্যের নিম্ন আদালতগুলির স্বাভাবিক কাজকর্ম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকছে। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে হাইকোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সম্প্রতি এই মর্মে গৃহীত সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ...

করাচি: বিশ্বকাপের মত টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে একবারও জয়লাভ করতে পারেনি পাকিস্তান। এর কারণ তুলে ধরলেন পাক দলের প্রাক্তন তারকা বোলার ওয়াকার ইউনিস। কেন আইসিসির বৃহত্তম মঞ্চে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে তাঁর দেশ বারবার ব্যর্থ হয়, তা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে প্রাক্তন তারকা পেসারটি ...

 অকল্যান্ড: শপিং মলে ঘোরার নেশা। আর সেই তারণাতেই অকল্যান্ডের এক কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে পালিয়ে গেলেন করোনা পজিটিভ এক রোগী (৩২)। সম্প্রতি তিনি ভারত থেকে ...

সুমন তেওয়ারি, ঝাঁঝরা: ভারত-চীন সীমান্তে চড়ছে উত্তেজনার পারদ। অথচ তার এতটুকু আঁচ পড়েনি দুর্গাপুরের ঝাঁঝরায়। উৎপাদনের নিরিখে দেশের এই সর্ববৃহৎ ভূগর্ভস্থ কয়লা খনি প্রকল্পে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছেন দুই দেশের কর্মীরা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

মেষ: পঠন-পাঠনে আগ্রহ বাড়লেও মন চঞ্চল থাকবে। কোনও হিতৈষী দ্বারা উপকৃত হবার সম্ভাবনা। ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২৫: অভিনেতা গুরু দত্তের জন্ম
১৯৩৮: অভিনেতা সঞ্জীব কুমারের জন্ম
১৯৫৬: মার্কিন অভিনেতা টম হ্যাংকসের জন্ম
১৯৬৯: ক্রিকেটার বেঙ্কটপতি রাজুর জন্ম
১৯৬৯: ভারতের জাতীয় পশু হল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.১৯ টাকা ৭৫.৯১ টাকা
পাউন্ড ৯২.৫৯ টাকা ৯৫.৯১ টাকা
ইউরো ৮৩.১৭ টাকা ৮৬.২৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৯,৭৬০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৭,২১০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৭,৯২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৫০,৩৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৫০,৪৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ৯ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার, চতুর্থী ১২/৫৩ দিবা ১০/১২। শতভিষা ৫৫/১৭ রাত্রি ৩/৯৷ সূর্যোদয় ৫/২/১৯, সূর্যাস্ত ৬/২১/৭৷ অমৃতযোগ দিবা ৩/৪১ গতে অস্তাবধি, রাত্রি ৭/৪ গতে ৯/১২ মধ্যে পুনঃ ১২/৩ গতে ২/১১ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৬ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৩/১ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৪১ গতে ১/১ মধ্যে। 
২৪ আষাঢ় ১৪২৭, ৯ জুলাই ২০২০, বূহস্পতিবার, চতুর্থী দিবা ১০/১৩। শতভিষা নক্ষত্র রাত্রি ৩/৫৩। সূযোদয় ৫/২, সূর্যাস্ত ৬/২৩। অমৃতযোগ দিবা ৩/৪২ গতে ৬/২৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪ গতে ৯/১৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ২/১২ মধ্যে ও ৩/৩৭ গতে ৫/২ মধ্যে। কালবেলা ৩/৩ গতে ৬/২৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৪৩ গতে ১/২ মধ্যে। 
১৭ জেল্কদ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কর্ণাটকে করোনা পজিটিভ আরও ২,০৬২, মোট আক্রান্ত ২৮,৮৭৭ 

08-07-2020 - 08:49:35 PM

মহারাষ্ট্রে করোনা পজিটিভ আরও ৬,৬০৩, মোট আক্রান্ত ২,২৩,৭২৪ 

08-07-2020 - 08:31:12 PM

বাতিল এশিয়া কাপ 
করোনা আবহে এখনও ঝুলে রয়েছে টি-২০ বিশ্বকাপের ভাগ্য। তার মধ্যেই ...বিশদ

08-07-2020 - 07:48:40 PM

করোনা:বাংলায় ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৯৮৬

২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে ২৩ জন করোনা রোগী প্রাণ হারালেন। তার ...বিশদ

08-07-2020 - 07:40:14 PM

হাওড়ার কন্টেইনমেন্ট জোনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা
প্রকাশিত হল হাওড়ার বৃহত্তর কন্টেইনমেন্ট জোনের সম্পূর্ণ তালিকা। আগামীকাল বিকেল ...বিশদ

08-07-2020 - 05:55:45 PM

কন্টেইনমেন্ট জোনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা: উত্তর ২৪ পরগনা 
প্রকাশিত হল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বৃহত্তর কন্টেইনমেন্ট জোনের সম্পূর্ণ ...বিশদ

08-07-2020 - 05:55:00 PM