Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই। তাই তাঁর পাসপোর্টটিও অবৈধ। ডিপোর্ট করার উপায় নেই। আবার নিউ ইয়র্ক শহরেও যেতে দেওয়া যাবে না ভিক্টরকে। ওই দিন থেকে পরবর্তী ন’মাস বিমানবন্দরের টার্মিনালই হয়ে উঠেছিল ভিক্টরের আস্তানা। টার্মিনালের একটা পরিত্যক্ত অংশে কোনওমতে বিছানা পেতে শোওয়া, ঘুরেফিরে খাবারের ব্যবস্থা করা... রাষ্ট্রহীন এক নাগরিকের ওই ন’মাসের জীবন নিয়েই স্টিভেন স্পিলবার্গ সিনেমা বানিয়েছিলেন ‘দ্য টার্মিনাল’। যা ছিল আসলে মেহরান করিমি নাসিরি নামে এক ব্যক্তির জীবনচিত্র অবলম্বনে। যদিও সিনেমা আর বাস্তবে জমিন-আসমানের ফারাক। আর সেই সংখ্যাটা যদি একের বদলে ১৯ লক্ষ হয়?
অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এমন হঠাৎ ‘রাষ্ট্রহীন’ মানুষের সংখ্যা ১৯ লক্ষ ছাড়িয়েছে। অপরাধ, তাঁরা কেউ এদেশের নাগরিক হওয়ার মতো যথাযথ কাগজপত্র এনআরসির দণ্ডমুণ্ডের কর্তাদের সামনে পেশ করতে পারেননি। আর তাই এই ১৯ লক্ষ মানুষ বলতে পারবেন না, তাঁরা ভারতীয়। উদ্যোগটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সে নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। উঠতেও পারে না। কারণ, শীর্ষ আদালত এই প্রক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সীমান্তবর্তী ওই রাজ্যে ফাঁকতালে ঢুকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বসবাসকারী বহু ‘বিদেশি’কে চিহ্নিত করার জন্য। হয়তো তারা বাংলাদেশি। হয়তো নয়। মোদ্দা কথা হল, সীমান্তে কাঁটাতার পেরিয়ে চলে আসবে, আর এই নেতা ওই নেতাকে ধরে ভোটার বা আধার কার্ড বানিয়ে ভারতীয় হয়ে যাবে... এটা চলতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যাদের ‘ঘুসপেটিয়ো’ বলে থাকেন আর কী! তাই ক্যাম্প বানাও, বিদেশি হটাও। প্রশ্ন এখানে দু’টি, ১) যে পদ্ধতিতে নাগরিক বা অ-নাগরিক বাছাই হয়েছে সেটা কি ঠিক? এবং ২) যাঁরা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেলেন না, অর্থাৎ এই ১৯ লক্ষ ‘রাতারাতি রাষ্ট্রহীনের’ ভবিষ্যৎ কী?
আসা যাক প্রথম প্রশ্নে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে খেদানোর পাইলট প্রজেক্ট কিন্তু মোদি জমানার নয়! অনুপ্রবেশকারী বলতে যাঁরা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর এদেশে এসেছেন। প্রক্রিয়াটির সূচনা হয়েছিল ২০১০ সালে। অসম থেকেই। তবে গোটা রাজ্য নয়। দু’টি মাত্র সার্কেলে। একটি কামরূপ জেলা, আর অন্যটি বরপেটা। চার সপ্তাহের
মধ্যেই সরকারকে পাততাড়ি গুটাতে হয়। কারণ, ভারতীয় বাছাই শুরু হওয়া মাত্র যেভাবে গোটা অসমে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, তা সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। উন্মত্ত জনতা বরপেটায় ডেপুটি কমিশনারের অফিসে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায় পুলিস। তাতে চারজনের মৃত্যু হয়। মোটামুটি তালা ঝুলে যায় এনআরসি ক্যাম্পে। তিন বছর পর, ২০১৩
সালে প্রক্রিয়াটি ফের শুরু করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি রোহিংটন ফলি নরিম্যানের বেঞ্চ কেন্দ্র ও অসম সরকারকে এনআরসির ঝুলে থাকা প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেয়।
২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রায় ছ’বছর লাগল অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে। খরচ হল ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। তারপরও বিতর্ক থামল না। কেন? কারণ, এমন অনেকেই চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি, যাঁদের বাদ যাওয়াটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবারই তালিকায় জায়গা পায়নি। বাদ গিয়েছেন শহিদ কোনও সিআরপিএফ জওয়ানের বাড়ির লোক, আবার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীর পরিবারও। অসমের এক প্রান্তে যে নথি দেখে নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়েছে, অন্য প্রান্তে সেই ধরনের পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে মাথা কুটেও দেশের নাগরিক হয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। এই বৈষম্যের কারণটা কী? উত্তর একটাই হতে পারে—প্রক্রিয়া কার্যকর করাতেই বড়সড় গলদ থেকে গিয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা। অথচ জন্ম জন্মান্তর ভারতের মাটিকেই আঁকড়ে থাকা বহু মানুষ আজ অ-ভারতীয় হয়ে গিয়েছেন। অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা পর্যন্ত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গোটা দেশে এনআরসি চালু করার জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকার ভোটের আগে যে হারে উঠেপড়ে নেমেছিল, সেই আগ্রাসন কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। হয়তো এবার পর্যালোচনা হবে! কিন্তু আসল কথাটা হল, পদ্ধতি মোটেও ঠিক ছিল না। বহু সত্যিকারের ভারতীয়ের নাগরিকত্ব চলে যাওয়াটাই যার প্রমাণ।
তাহলে কি ধর্মীয় মেরুকরণ কি কোনওভাবে এর জন্য দায়ী? এই প্রশ্ন কিন্তু বিজেপিকে তাড়া করতে শুরু করেছে। ধরে নেওয়া যাক কাছাড় এলাকার কথা। এখানে একটা সময় হিন্দু বাঙালিরাই সংখ্যাগুরু ছিল। কিন্তু ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর নামে শাসক দলের দিন কে রাত করার প্রবণতা এই এলাকার জনবিন্যাস গত কয়েক দশকে বদলে দিয়েছে। এই এলাকায় গেলে এখন বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমদেরই বেশি দেখতে পাওয়া যাবে। যাঁদের বেশিরভাগই হয়তো আটের দশকে বা তারও পরে এখানে এসেছেন। এবং তৎকালীন রাজ্য সরকারের বদান্যতায় ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড বানিয়ে পাকাপাকিভাবে ভারতীয় হয়ে গিয়েছেন। বহু অঞ্চলের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস এভাবে বদলে যাওয়ায় অতীতে অসমীয়া বনাম বাঙালি যে তীব্র জাতিবিদ্বেষ এবং আন্দোলন, তা ১০ বছরে পুরোপুরি স্তিমিত হয়ে গিয়েছে। ভাষা নয়, এভাবেই চোরাস্রোতের মতো অসমে বেড়ে গিয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণ। বিরোধীদের অভিযোগ, এর সুবিধা নিয়েছে বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবার। এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় তার প্রভাব পড়ার অভিযোগও বহু বিরোধী দল করেছে।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় প্রশ্নে। কী হবে এই ‘রাষ্ট্রহীন’দের? সরকারি উত্তর, ১২০ দিন সময় আছে। সোজা চলে যান ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। আবেদন করুন। ট্রাইব্যুনাল পর্যালোচনা করে দেখবে। বিচারকরা যদি মনে করেন, তালিকায় নাম চলে আসবে! আর না হলে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে যেতেই পারেন। মামলা চলবে। ১৯ লক্ষ ৬ হাজার ৬৫৭ জনকে প্রমাণ করতে হবে, তাঁর পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকেই ভারতে রয়েছেন। কিন্তু ১৯ লক্ষ মানুষের আবেদন পর্যালোচনা করতে কত সময় লাগবে? নিশ্চয়ই ১২০ দিনে সবটা সেরে ফেলা সম্ভব নয়? আরও বড় প্রশ্ন হল, এই লক্ষ লক্ষ মানুষ কি ১২০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন? অসমে ১০০টি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আছে এবং সরকার আরও ২০০টি করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাতে কি সমস্যার সমাধান হবে? এতদিন ধরে তো সেই সব মানুষ
যাবতীয় কাগজপত্র পেশ করেই রেখেছেন। প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, তিনি বা তাঁর পূর্বপুরুষরা উল্লিখিত ওই তারিখের আগেই ভারতে এসেছেন। তালিকা প্রস্তুতের সময় সেই কাগজপত্র মান্যতা পায়নি। ট্রাইব্যুনালে গিয়ে তো তাঁরা আর নতুন কোনও কাগজ তৈরি করতে পারবেন না! তাহলে লাভটা কী?
ততদিন কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি কোনও সুযোগ-সুবিধা পাবেন না ওই ‘অ-ভারতীয়’রা। অর্থাৎ, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না। খাদ্য সুরক্ষা বা শিক্ষার অধিকার আইনের ভিত্তিতে তাঁরা রাষ্ট্রের কাছে কিছু দাবি করতে পারবেন না। নরেন্দ্র মোদির আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডও পৌঁছবে না তাঁদের কাছে। ভবিতব্য? বাংলাদেশ বা অন্য কোনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে বললেই তো আর তারা এই ১৯ লক্ষ মানুষকে জামাই আদর করে নিয়ে যাবে না! অর্থাৎ, ঘাড় ধাক্কা দেওয়া অসম্ভব। কাজেই ডিটেনশন ক্যাম্প। রাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া নিয়মে, ওই শিবিরেই কাটবে দিন... রাত। থাকতে হবে সরকারের নজরদারিতে। গতিবিধি ঠিক করে দেবে সরকার।
ইতিমধ্যে ছ’টি ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে অসমে। আরও একটি তৈরি করছে রাজ্য সরকার। তাতেও কিন্তু ১৯ লক্ষাধিক মানুষের ঠাঁই হবে না। তাঁরা তখন কোথায় যাবেন? হয়তো নিজের নিজের বাড়িতেই তাঁদের থাকার অনুমতি দিতে বাধ্য হবে সরকার। শুধু কেড়ে নেওয়া হবে সুবিধাগুলি। অন্য কোনও পথনির্দেশিকা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে, সরকার এই সমস্যা আসলে জিইয়ে রাখতে চায় না তো? পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে যে, রাষ্ট্রের খবরদারি মেনে নিতে বাধ্য হবে মানুষ। ১২০ দিনের সময়সীমা বাড়বে। তালিকার বাইরে রয়ে যাওয়া এই ‘রাষ্ট্রহীন’দের জন্য ‘বিকল্প’ কিছুর ব্যবস্থাও করতে পারে রাষ্ট্র। একথা ঠিক যে তালিকায় যাঁদের স্থান হয়নি, তাঁদের অধিকাংশই তথাকথিত ‘ঘুসপেটিয়ো’। এই জাতীয় অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত এনআরসিতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিল। দেশের মানুষের প্রাপ্য সুবিধা খেয়ে যাবে অবাঞ্ছিত কিছু ‘অ-নাগরিক’, তা একজনও ভারতীয় মেনে নিতে পারবেন না। এই অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কাই ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত।
কিন্তু লক্ষাধিক এমন মানুষও তো রয়েছেন, যাঁরা সত্যিকারের ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও ভাগ্যের ফেরে আচমকাই আতান্তরে পড়েছেন! তাঁদেরও যে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই! কারণ, যাঁরা তালিকাভুক্ত হয়ে গিয়েছেন, বাকিদের ব্যাপারে তাঁরা সম্পূর্ণ উদাসীন। প্রশ্ন করলে বলছেন, আমার নাম তো তালিকায় আছে! ব্যাস, তাহলেই হল। অসমের কিছু মানুষ, কিছু সংগঠন এখনও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে বা অন্য রাজ্যে। যেখানে শাসক অবশ্যই বিজেপি নয়। কিন্তু ভারতের মানচিত্রকে গেরুয়াকরণের লক্ষ্যে নেমেছেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ। রাজনীতি থেকে মুক্তি নেই এখানেও। বিচ্ছিন্নভাবে আওয়াজ তুলে বিরোধীরা কি কিছু করতে পারবেন? সম্ভব তখনই, যদি ভারতীয়রা এই ‘রাষ্ট্রহীন’দের পাশে দাঁড়ায় ...!
10th  September, 2019
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
নয়া স্থিতাবস্থা যুবসমাজকে রুষ্ট করছে
পি চিদম্বরম

এই ২০২০ সালের ভারতকে ১৯৬৮ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেখাচ্ছে। ১৯৬৮-তে ফ্রান্সের পরিস্থিতিও অনুরূপ ছিল। আমার মনে আছে ১৯৬৮-তে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজকর্ম ভেঙে পড়েছিল। আর এই বিপর্যয় থেকে দেশকে উদ্ধারের দায়িত্ব বর্তেছিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর। ১৯৬৮-র এই যে বিরাট সঙ্কট তার মূল কারণ ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ।  
বিশদ

13th  January, 2020
স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে মানুষের কথা বলাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম
হিমাংশু সিংহ

আজ ১২ জানুয়ারি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তারকাখচিত বাঙালি জাতির ইতিহাসে মহামানবের জন্মদিনের তালিকা কম দীর্ঘ নয়। তার মধ্যেও তিন শ্রেষ্ঠ ভারতসন্তানের জন্মদিনের মাহাত্ম্য শতবর্ষ পরেও প্রতিবছরই গোটা জাতিকে আবেগে শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমজন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  
বিশদ

12th  January, 2020
সরকারি প্রকল্প বনাম ভোট মেরুকরণ
তন্ময় মল্লিক

বিজেপির ভোট মেরুকরণের রাজনীতি মোকাবিলার একমাত্র হাতিয়ার সামাজিক প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা বাড়ানো। সে কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির ফিডব্যাক বলছে, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং বাংলা আবাস যোজনায় ঘরের চাহিদা প্রচুর।
বিশদ

11th  January, 2020
একনজরে
দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি, ১৮ জানুয়ারি: বিরোধিতা সত্ত্বেও কেন কেন্দ্রের ডাকা এনপিআর বৈঠকে হাজির হয়েছেন রাজ্যের সরকারি প্রতিনিধি? এবার সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকেই এই প্রশ্নের মুখে পড়তে হল দলের কেরল শিবিরকে।  ...

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মাড়গ্রাম থানার বিষ্ণুপুর গ্রামে বিয়ের আট মাসের মাথায় এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, পেশায় দিনমজুর মৃত যুবকের নাম রাজীব মণ্ডল(২৫)। মাস আটেক আগে মুর্শিদাবাদের প্রথমকান্দি গ্রামে তাঁর বিয়ে হয়।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিনেমা তৈরি করতে আগ্রহীদের জন্য সুখবর। এবার বিনামূল্যে ফিল্মমেকিং শেখাবে রামোজি ফাউন্ডেশন। হায়দরাবাদের রামোজি ফিল্ম সিটিতে এই কোর্সের সুযোগ দিচ্ছে সংস্থার রামোজি অ্যাকাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন। ৩ মাসের এই ফ্রি কোর্সে মূলত চারটি বিষয় শেখানো হবে।  ...

বিএনএ, বারাকপুর: আগামী মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ভাটপাড়া পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন হবে। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের তিন কাউন্সিলার ওই সভা ডেকেছেন। তবে চেয়ারম্যান পদে কে বসতে চলেছেন, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও মেলেনি।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

বেশি বন্ধু-বান্ধব রাখা ঠিক হবে না। প্রেম-ভালোবাসায় সাফল্য আসবে। বিবাহযোগ আছে। কর্ম পরিবেশ পরিবর্তন হতে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭: সঙ্গীতশিল্পী কে এল সায়গলের মৃত্যু
১৯৭২: ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির জন্ম
১৯৯৬: রাজনীতিক ও অভিনেতা এন টি রামারাওয়ের মৃত্যু
২০০৩: কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের মৃত্যু
২০১৮ – বিশিষ্ট বাঙালি সাংবাদিক ও কার্টুনিস্ট চন্ডী লাহিড়ীর মৃত্যু

18th  January, 2020




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৭ টাকা ৭১.৮৭ টাকা
পাউন্ড ৯১.২২ টাকা ৯৪.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৬১ টাকা ৮০.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  January, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ মাঘ ১৪২৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, দশমী ৫১/১১ রাত্রি ২/৫২। বিশাখা ৪৩/১৫ রাত্রি ১১/৪১। সূ উ ৬/২৩/১, অ ৫/১১/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৭/৬ গতে ৯/৫৮ মধ্যে। রাত্রি ৬/৫৫ গতে ৮/৪১ মধ্যে। বারবেলা ১০/৩৬ গতে ১/৮ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৭ গতে ৩/৬ মধ্যে। 
৪ মাঘ ১৪২৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার, নবমী ১/২৯/১৮ প্রাতঃ ৭/১/৩৬ পরে দশমী ৫৭/৪/৫ শেষরাত্রি ৫/১৫/৩১। বিশাখা ৪৯/৫১/৯ রাত্রি ২/২২/২১। সূ উ ৬/২৫/৫৩, অ ৫/১০/৩, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ গতে ১০/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪ গতে ৮/৪৮ মধ্যে। কালবেলা ১১/৪৭/৫৮ গতে ১/৮/৩০ মধ্যে, কালরাত্রি ১/২৭/২৭ গতে ৩/৬/৫৫ মধ্যে। 
মোসলেম: ২৩ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিশ্বভারতীর ছাত্রাবাসে পড়ুয়াদের মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার আরও ১ 
বিশ্বভারতীর বিদ্যাভবন ছাত্রাবাসে বাম সমর্থিত পড়ুয়াদের মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা ...বিশদ

01:43:56 PM

রায়গঞ্জে তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ 
রায়গঞ্জের গৌরী গ্রামপঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বাড়ি লক্ষ্য করে ...বিশদ

01:34:06 PM

তৃতীয় ওয়ান ডে: টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের 

01:18:24 PM

কোচবিহারে দুর্ঘটনার কবলে মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের গাড়ি
 

রবিবার সকালে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ কোচবিহার থেকে তুফানগঞ্জ পুলিসের ...বিশদ

01:12:33 PM

মধ্যমগ্রামে শুরু হল বিজেপির মিছিল 

01:09:00 PM

ইসলামপুরে ৩১ নং জাতীয় সড়ক অবরোধ বিজেপির 
রবিবার সকালে ইসলামপুরের শিবডাঙ্গী পাড়ায় বিজেপির কৃষাণ মোর্চা কর্মী-সমর্থকরা ৩১ ...বিশদ

01:02:30 PM