Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

রাষ্ট্রহীনতার যন্ত্রণা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভিক্টর নাভরস্কি নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে আবিষ্কার করলেন, তিনি আচমকাই ‘রাষ্ট্রহীন’ হয়ে পড়েছেন। কারণ, তাঁর দেশ ক্রাকোজিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলির কাছে মানবিকতার নিরিখে ক্রাকোজিয়ার আর কোনও ‘অস্তিত্ব’ নেই। তাই তাঁর পাসপোর্টটিও অবৈধ। ডিপোর্ট করার উপায় নেই। আবার নিউ ইয়র্ক শহরেও যেতে দেওয়া যাবে না ভিক্টরকে। ওই দিন থেকে পরবর্তী ন’মাস বিমানবন্দরের টার্মিনালই হয়ে উঠেছিল ভিক্টরের আস্তানা। টার্মিনালের একটা পরিত্যক্ত অংশে কোনওমতে বিছানা পেতে শোওয়া, ঘুরেফিরে খাবারের ব্যবস্থা করা... রাষ্ট্রহীন এক নাগরিকের ওই ন’মাসের জীবন নিয়েই স্টিভেন স্পিলবার্গ সিনেমা বানিয়েছিলেন ‘দ্য টার্মিনাল’। যা ছিল আসলে মেহরান করিমি নাসিরি নামে এক ব্যক্তির জীবনচিত্র অবলম্বনে। যদিও সিনেমা আর বাস্তবে জমিন-আসমানের ফারাক। আর সেই সংখ্যাটা যদি একের বদলে ১৯ লক্ষ হয়?
অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এমন হঠাৎ ‘রাষ্ট্রহীন’ মানুষের সংখ্যা ১৯ লক্ষ ছাড়িয়েছে। অপরাধ, তাঁরা কেউ এদেশের নাগরিক হওয়ার মতো যথাযথ কাগজপত্র এনআরসির দণ্ডমুণ্ডের কর্তাদের সামনে পেশ করতে পারেননি। আর তাই এই ১৯ লক্ষ মানুষ বলতে পারবেন না, তাঁরা ভারতীয়। উদ্যোগটা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সে নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। উঠতেও পারে না। কারণ, শীর্ষ আদালত এই প্রক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সীমান্তবর্তী ওই রাজ্যে ফাঁকতালে ঢুকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বসবাসকারী বহু ‘বিদেশি’কে চিহ্নিত করার জন্য। হয়তো তারা বাংলাদেশি। হয়তো নয়। মোদ্দা কথা হল, সীমান্তে কাঁটাতার পেরিয়ে চলে আসবে, আর এই নেতা ওই নেতাকে ধরে ভোটার বা আধার কার্ড বানিয়ে ভারতীয় হয়ে যাবে... এটা চলতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যাদের ‘ঘুসপেটিয়ো’ বলে থাকেন আর কী! তাই ক্যাম্প বানাও, বিদেশি হটাও। প্রশ্ন এখানে দু’টি, ১) যে পদ্ধতিতে নাগরিক বা অ-নাগরিক বাছাই হয়েছে সেটা কি ঠিক? এবং ২) যাঁরা চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেলেন না, অর্থাৎ এই ১৯ লক্ষ ‘রাতারাতি রাষ্ট্রহীনের’ ভবিষ্যৎ কী?
আসা যাক প্রথম প্রশ্নে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে খেদানোর পাইলট প্রজেক্ট কিন্তু মোদি জমানার নয়! অনুপ্রবেশকারী বলতে যাঁরা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের পর এদেশে এসেছেন। প্রক্রিয়াটির সূচনা হয়েছিল ২০১০ সালে। অসম থেকেই। তবে গোটা রাজ্য নয়। দু’টি মাত্র সার্কেলে। একটি কামরূপ জেলা, আর অন্যটি বরপেটা। চার সপ্তাহের
মধ্যেই সরকারকে পাততাড়ি গুটাতে হয়। কারণ, ভারতীয় বাছাই শুরু হওয়া মাত্র যেভাবে গোটা অসমে হিংসা ছড়িয়ে পড়ে, তা সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। উন্মত্ত জনতা বরপেটায় ডেপুটি কমিশনারের অফিসে হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায় পুলিস। তাতে চারজনের মৃত্যু হয়। মোটামুটি তালা ঝুলে যায় এনআরসি ক্যাম্পে। তিন বছর পর, ২০১৩
সালে প্রক্রিয়াটি ফের শুরু করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি রোহিংটন ফলি নরিম্যানের বেঞ্চ কেন্দ্র ও অসম সরকারকে এনআরসির ঝুলে থাকা প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেয়।
২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারির পর প্রায় ছ’বছর লাগল অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত তালিকা তৈরিতে। খরচ হল ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। তারপরও বিতর্ক থামল না। কেন? কারণ, এমন অনেকেই চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পাননি, যাঁদের বাদ যাওয়াটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবারই তালিকায় জায়গা পায়নি। বাদ গিয়েছেন শহিদ কোনও সিআরপিএফ জওয়ানের বাড়ির লোক, আবার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীর পরিবারও। অসমের এক প্রান্তে যে নথি দেখে নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়েছে, অন্য প্রান্তে সেই ধরনের পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে মাথা কুটেও দেশের নাগরিক হয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। এই বৈষম্যের কারণটা কী? উত্তর একটাই হতে পারে—প্রক্রিয়া কার্যকর করাতেই বড়সড় গলদ থেকে গিয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা। অথচ জন্ম জন্মান্তর ভারতের মাটিকেই আঁকড়ে থাকা বহু মানুষ আজ অ-ভারতীয় হয়ে গিয়েছেন। অসমের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা পর্যন্ত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গোটা দেশে এনআরসি চালু করার জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকার ভোটের আগে যে হারে উঠেপড়ে নেমেছিল, সেই আগ্রাসন কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। হয়তো এবার পর্যালোচনা হবে! কিন্তু আসল কথাটা হল, পদ্ধতি মোটেও ঠিক ছিল না। বহু সত্যিকারের ভারতীয়ের নাগরিকত্ব চলে যাওয়াটাই যার প্রমাণ।
তাহলে কি ধর্মীয় মেরুকরণ কি কোনওভাবে এর জন্য দায়ী? এই প্রশ্ন কিন্তু বিজেপিকে তাড়া করতে শুরু করেছে। ধরে নেওয়া যাক কাছাড় এলাকার কথা। এখানে একটা সময় হিন্দু বাঙালিরাই সংখ্যাগুরু ছিল। কিন্তু ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর নামে শাসক দলের দিন কে রাত করার প্রবণতা এই এলাকার জনবিন্যাস গত কয়েক দশকে বদলে দিয়েছে। এই এলাকায় গেলে এখন বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিমদেরই বেশি দেখতে পাওয়া যাবে। যাঁদের বেশিরভাগই হয়তো আটের দশকে বা তারও পরে এখানে এসেছেন। এবং তৎকালীন রাজ্য সরকারের বদান্যতায় ভোটার কার্ড বা রেশন কার্ড বানিয়ে পাকাপাকিভাবে ভারতীয় হয়ে গিয়েছেন। বহু অঞ্চলের ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস এভাবে বদলে যাওয়ায় অতীতে অসমীয়া বনাম বাঙালি যে তীব্র জাতিবিদ্বেষ এবং আন্দোলন, তা ১০ বছরে পুরোপুরি স্তিমিত হয়ে গিয়েছে। ভাষা নয়, এভাবেই চোরাস্রোতের মতো অসমে বেড়ে গিয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণ। বিরোধীদের অভিযোগ, এর সুবিধা নিয়েছে বিজেপি এবং সঙ্ঘ পরিবার। এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় তার প্রভাব পড়ার অভিযোগও বহু বিরোধী দল করেছে।
এবার আসা যাক দ্বিতীয় প্রশ্নে। কী হবে এই ‘রাষ্ট্রহীন’দের? সরকারি উত্তর, ১২০ দিন সময় আছে। সোজা চলে যান ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। আবেদন করুন। ট্রাইব্যুনাল পর্যালোচনা করে দেখবে। বিচারকরা যদি মনে করেন, তালিকায় নাম চলে আসবে! আর না হলে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে যেতেই পারেন। মামলা চলবে। ১৯ লক্ষ ৬ হাজার ৬৫৭ জনকে প্রমাণ করতে হবে, তাঁর পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে থেকেই ভারতে রয়েছেন। কিন্তু ১৯ লক্ষ মানুষের আবেদন পর্যালোচনা করতে কত সময় লাগবে? নিশ্চয়ই ১২০ দিনে সবটা সেরে ফেলা সম্ভব নয়? আরও বড় প্রশ্ন হল, এই লক্ষ লক্ষ মানুষ কি ১২০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবেন? অসমে ১০০টি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আছে এবং সরকার আরও ২০০টি করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাতে কি সমস্যার সমাধান হবে? এতদিন ধরে তো সেই সব মানুষ
যাবতীয় কাগজপত্র পেশ করেই রেখেছেন। প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন, তিনি বা তাঁর পূর্বপুরুষরা উল্লিখিত ওই তারিখের আগেই ভারতে এসেছেন। তালিকা প্রস্তুতের সময় সেই কাগজপত্র মান্যতা পায়নি। ট্রাইব্যুনালে গিয়ে তো তাঁরা আর নতুন কোনও কাগজ তৈরি করতে পারবেন না! তাহলে লাভটা কী?
ততদিন কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি কোনও সুযোগ-সুবিধা পাবেন না ওই ‘অ-ভারতীয়’রা। অর্থাৎ, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না। খাদ্য সুরক্ষা বা শিক্ষার অধিকার আইনের ভিত্তিতে তাঁরা রাষ্ট্রের কাছে কিছু দাবি করতে পারবেন না। নরেন্দ্র মোদির আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডও পৌঁছবে না তাঁদের কাছে। ভবিতব্য? বাংলাদেশ বা অন্য কোনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে বললেই তো আর তারা এই ১৯ লক্ষ মানুষকে জামাই আদর করে নিয়ে যাবে না! অর্থাৎ, ঘাড় ধাক্কা দেওয়া অসম্ভব। কাজেই ডিটেনশন ক্যাম্প। রাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া নিয়মে, ওই শিবিরেই কাটবে দিন... রাত। থাকতে হবে সরকারের নজরদারিতে। গতিবিধি ঠিক করে দেবে সরকার।
ইতিমধ্যে ছ’টি ডিটেনশন ক্যাম্প রয়েছে অসমে। আরও একটি তৈরি করছে রাজ্য সরকার। তাতেও কিন্তু ১৯ লক্ষাধিক মানুষের ঠাঁই হবে না। তাঁরা তখন কোথায় যাবেন? হয়তো নিজের নিজের বাড়িতেই তাঁদের থাকার অনুমতি দিতে বাধ্য হবে সরকার। শুধু কেড়ে নেওয়া হবে সুবিধাগুলি। অন্য কোনও পথনির্দেশিকা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠছে, সরকার এই সমস্যা আসলে জিইয়ে রাখতে চায় না তো? পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যাবে যে, রাষ্ট্রের খবরদারি মেনে নিতে বাধ্য হবে মানুষ। ১২০ দিনের সময়সীমা বাড়বে। তালিকার বাইরে রয়ে যাওয়া এই ‘রাষ্ট্রহীন’দের জন্য ‘বিকল্প’ কিছুর ব্যবস্থাও করতে পারে রাষ্ট্র। একথা ঠিক যে তালিকায় যাঁদের স্থান হয়নি, তাঁদের অধিকাংশই তথাকথিত ‘ঘুসপেটিয়ো’। এই জাতীয় অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত এনআরসিতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিল। দেশের মানুষের প্রাপ্য সুবিধা খেয়ে যাবে অবাঞ্ছিত কিছু ‘অ-নাগরিক’, তা একজনও ভারতীয় মেনে নিতে পারবেন না। এই অনুপ্রবেশকারীদের ঘাড়ধাক্কাই ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত।
কিন্তু লক্ষাধিক এমন মানুষও তো রয়েছেন, যাঁরা সত্যিকারের ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও ভাগ্যের ফেরে আচমকাই আতান্তরে পড়েছেন! তাঁদেরও যে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া উপায় নেই! কারণ, যাঁরা তালিকাভুক্ত হয়ে গিয়েছেন, বাকিদের ব্যাপারে তাঁরা সম্পূর্ণ উদাসীন। প্রশ্ন করলে বলছেন, আমার নাম তো তালিকায় আছে! ব্যাস, তাহলেই হল। অসমের কিছু মানুষ, কিছু সংগঠন এখনও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে বা অন্য রাজ্যে। যেখানে শাসক অবশ্যই বিজেপি নয়। কিন্তু ভারতের মানচিত্রকে গেরুয়াকরণের লক্ষ্যে নেমেছেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ। রাজনীতি থেকে মুক্তি নেই এখানেও। বিচ্ছিন্নভাবে আওয়াজ তুলে বিরোধীরা কি কিছু করতে পারবেন? সম্ভব তখনই, যদি ভারতীয়রা এই ‘রাষ্ট্রহীন’দের পাশে দাঁড়ায় ...!
10th  September, 2019
‘বর্তমান’কে স্নেহের আঁচলে ঢেকে রেখেছিলেন আমাদের সবার শুভাদি
হিমাংশু সিংহ

২০০৮ সালের ১৯ জুন ‘বর্তমান’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা প্রাণপুরুষ বরুণ সেনগুপ্ত আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এক লহমায় মনে হয়েছিল, যেন মাথার উপর থেকে বিশাল ছাদটা সরে গেল। বরুণবাবু ছিলেন পোড় খাওয়া অকুতোভয় এক বলিষ্ঠ সাংবাদিক, যিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে নিজের জীবনও বাজি রাখার অসামান্য ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।  
বিশদ

22nd  October, 2019
পশ্চাতে টানিছে সে
রঞ্জন সেন 

অপুষ্টি, অস্বাস্থ্য আর দারিদ্র্যে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের বৃদ্ধি। পাঁচ বছরের নীচে বয়স, দেশের প্রতি তিনজন শিশুর একজনের শরীর স্বাস্থ্যের এমনই হাল। বাড়ের বয়সেই আটকে গেছে এদের বৃদ্ধি। এমন শিশুরা জীবনের রাস্তায় কতটা এগতে পারবে বা আদৌ পারবে কিনা তা বলা সত্যিই খুব কঠিন।  বিশদ

21st  October, 2019
তিন নোবেলজয়ী বাঙালির প্রেসিডেন্সি
শুভময় মৈত্র

রবীন্দ্রনাথ খুব তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে পালিয়েছিলেন। বাকিদের ক্ষেত্রে তেমনটা নয়। অমর্ত্য সেন ঢাকায় সেন্ট গ্রেগরি স্কুলে পড়া শুরু করেছিলেন। তারপর ১৯৪১-এ ভর্তি হন শান্তিনিকেতনের পাঠভবনে।   বিশদ

21st  October, 2019
পুলিস ও আমরা
তন্ময় মল্লিক

 বহু বছর আগের কথা। এক আত্মীয়ের মালবাহী গাড়ির কেবিনে বসে কলকাতার দিকে যাচ্ছিলাম। গাড়িতে কাপড় ছিল। ড্রাইভার বড় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিসের হাতে টাকা দিচ্ছিলেন। টাকা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ড্রাইভার বললেন, ‘টাকা না দিলে ঝামেলা করবে।
বিশদ

19th  October, 2019
পশ্চাতে টানিছে সে
রঞ্জন সেন

 অপুষ্টি, অস্বাস্থ্য আর দারিদ্র্যে ব্যাহত হচ্ছে শিশুদের বৃদ্ধি। পাঁচ বছরের নীচে বয়স, দেশের প্রতি তিনজন শিশুর একজনের শরীর স্বাস্থ্যের এমনই হাল। বাড়ের বয়সেই আটকে গেছে এদের বৃদ্ধি। এমন শিশুরা জীবনের রাস্তায় কতটা এগতে পারবে বা আদৌ পারবে কিনা তা বলা সত্যিই খুব কঠিন। বিশদ

19th  October, 2019
রাজনৈতিক জুটি, অন্য সমীকরণ
সমৃদ্ধ দত্ত

গান্ধীজিকে রক্ষা করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সেই দায় এড়াতে পারে না। পুলিস এবং আর্মিও ব্যর্থ। অসংখ্য চিঠি আছড়ে পড়ছে গভর্নর জেনারেল মাউন্টব্যাটেনের অফিসে। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর দপ্তরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অফিসে।
বিশদ

18th  October, 2019
মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার ভোট: বিধ্বস্ত বিরোধী
বনাম দোর্দণ্ডপ্রতাপ মোদি-অমিত শাহ জুটি
বিশ্বনাথ চক্রবতী

 ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর চার মাসের মধ্যে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনের সম্মুখীন মোদি-অমিত শাহ জুটি। এই দুই রাজ্যে পাঁচ বছর শাসন করবার পরও মোদিই বিজেপির প্রধান ভরসার স্থল। বিশদ

17th  October, 2019
আফ্রিকায় ‘আবিম্যানিয়া’
মৃণালকান্তি দাস

 ইথিওপিয়ার মানুষ আজ মনে করেন, আবি আহমেদ আলি আর কেউ নন, স্বয়ং ভগবানের দূত! তাদের রক্ষাকর্তা! বিশদ

17th  October, 2019
সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। বিশদ

15th  October, 2019
শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা।
বিশদ

14th  October, 2019
বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। 
বিশদ

12th  October, 2019
সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হওয়ার পাঠ শেখাচ্ছে সত্তর বছরের গণচীন
মৃণালকান্তি দাস

এখন সাধারণ পোশাক পরা মাও বা টায়ারের চপ্পল পায়ে হো চি মিনরা আর সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেই। এখন স্যুট টাই পরা বিলাসী সাহেবরা নেতৃত্বে। কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে আছে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দলীয় একনায়কতন্ত্র অব্যাহত রাখার গরজে। ব্রিটিশরা যেমন বলে থাকেন আওয়ার কিং ইজ ডেড, লং লিভ আওয়ার কিং। ঠিক তেমনই। আগে ধনতন্ত্র পরে সমাজতন্ত্র। তার জন্য জানলা খুললে কিছু মাছি-মশা আসবে। কথাটা বলেছিলেন দেং নিজেই। অবশ্য এই মাছি-মশা নিয়ে তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কী করে সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হতে হয় সেটাও শেখাচ্ছে চীন! 
বিশদ

11th  October, 2019
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতায় ফের চালু হল ‘সোনি সেন্টার’। গোলপার্কে গড়িয়াহাট রোডের উপর ওই শো-রুমটি এক হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে খোলা হয়েছে, যেখানে সোনির ...

মুম্বই, ২২ অক্টোবর (পিটিআই): ডি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ রাখায় এনসিপি নেতা প্রফুল্ল প্যাটেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এবার সেই মামলায় জড়িত সন্দেহে গ্যাংস্টার ইকবাল মির্চির এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করল তারা। ধৃতের নাম হুমায়ূন মার্চেন্ট। সোমবার রাতে মুম্বই থেকে ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রোপা ২০১৯ কার্যকর হতে চলল। কিন্তু মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক পদে যোগ দিয়েও ইনক্রিমেন্ট থেকে বঞ্চিত অনেকে।  ...

অভিজিৎ চৌধুরী, চন্দননগর, বিএনএ: শুধু দর্শনীয় প্রতিমা বা মণ্ডপের থিম নয়, জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রার প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ আসন ছিনিয়ে নিতেও জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে চন্দননগরে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৭০৭— ব্রিটেনের প্রথম পার্লামেন্টে অধিবেশন শুরু হল
১৯১৭—অক্টোবর বিপ্লবের ডাক দিলেন লেনিন
১৯২৯—নিউ ইয়র্ক শেয়ার বাজারে মহামন্দার সূচনা
১৯৪৪—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: হাঙ্গেরি প্রবেশ করল সোভিয়েতের লাল ফৌজ
২০০২—মস্কোর থিয়েটারে হানা দিয়ে প্রায় ৭০০ দর্শককে পণবন্দি করল চেচেন জঙ্গিরা
২০১২—সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১২ টাকা ৭১.৮২ টাকা
পাউন্ড ৯০.৪৫ টাকা ৯৩.৭৬ টাকা
ইউরো ৭৭.৬৬ টাকা ৮০.৬২ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,৮৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৮৫৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৪১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৮৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৫,৯৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৫ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দশমী ৪৮/৪৩ রাত্রি ১/৯। অশ্লেষা ২৩/৫২ দিবা ৩/১৩। সূ উ ৫/৩৯/৫৭, অ ৫/২/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৫ মধ্যে পুনঃ ৭/১১ গতে ৭/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১০/১৩ গতে ১১/২৯ মধ্যে। রাত্রি ৫/৫৪ গতে ৬/৪৪ মধ্যে পুনঃ ৮/২৪ গতে ৩/৯ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩০ গতে ৯/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ১২/৪৭ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩১ গতে ৪/৬ মধ্যে। 
৫ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দশমী ৩৮/৩৫/৩১ রাত্রি ৯/৬/৫৪। অশ্লেষা ১৬/২৮/৪০ দিবা ১২/১৬/১০, সূ উ ৫/৪০/৪২, অ ৫/৩/৩২, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৩ মধ্যে ও ৭/১৮ গতে ৮/২ মধ্যে ও ১০/১৪ গতে ১২/২৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৩ গতে ৬/৩৫ মধ্যে ও ৮/১৯ গতে ৩/১৪ মধ্যে, বারবেলা ১১/২২/২ গতে ১২/৪৭/২২ মধ্যে, কালবেলা ৮/৩১/২২ গতে ৯/৫৬/২২ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩১/২২ গতে ৪/৬/২ মধ্যে। 
২৩ শফর 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
৩১ অক্টোবর ভারতে আসছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল 

03:48:10 PM

লালগড়ে পারিবারিক বিবাদের জেরে যুবক খুন 
জমি সংক্রান্ত বিবাদের জেরে গুলি করে ও গলার নলি কেটে ...বিশদ

02:15:39 PM

ডুয়ার্সে বেড়াতে গিয়ে মৃত্যু বারাসতের প্রৌঢ়ের 
ডুয়ার্স বেড়াতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক পর্যটকের। ...বিশদ

02:12:42 PM

কার্শিয়াংয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শুরু 

02:07:00 PM

খিদিরপুরে ৬২০ কেজি শব্দবাজি সহ ধৃত ২ 

01:22:54 PM

কল সেন্টার খুলে প্রতারণার অভিযোগ, ধৃত ৫ 
ভুয়ো কল সেন্টার খুলে বিদেশিদের প্রতারণার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করল ...বিশদ

01:03:35 PM