Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

জাতির গঠনে জাতীয় শিক্ষানীতি
গৌরী বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিধান অনুসরণ করে বলা যায়, পঠন-পাঠন ক্রিয়াসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতালব্ধ মূল্যবোধের বিকাশ ঘটানোর প্রক্রিয়াই শিক্ষা। জ্ঞানকে বলা হচ্ছে অভিজ্ঞতালব্ধ প্রতীতি। শিক্ষা দ্বারা অর্জিত বিশেষ জ্ঞানকে আমরা বিদ্যা বলি। কালের কষ্টিপাথরে যাচাই করে মানুষ আবহমান কাল ধরে নিজ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানরাশিকে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য পুস্তকের মধ্যে লিখে সঞ্চিত করে গেছে। বিদ্যাশিক্ষা আমাদের সেই জ্ঞানের সঙ্গে পরিচিত করায়। আমাদের বুদ্ধি মন ইত্যাদিকে গড়ে তোলার সঙ্গে নানা ব্যবহারিক বিদ্যার জ্ঞান মানুষকে জীবিকা নির্বাহ করার উপযোগীও করে তোলে। প্রত্যেক দেশ তার প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অধিবাসীদের সামগ্রিক বিকাশের লক্ষ্যে নিজেদের শিক্ষানীতি স্থির করে।
শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়। তাই দেশের শিক্ষানীতি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে স্থির করতে হয়, যাতে জাতির সেই মেরুদণ্ড সবল ও ঋজু হয়। ভারতের মতো বহু ভাষাভাষীর দেশে, এক দেহে লীন হয়ে যাওয়া বহুজাতির দেশে সবার উপযোগী ও জনপ্রিয় এক শিক্ষানীতি স্থির করা অতি কঠিন ব্যাপার। শিক্ষার বিষয় নির্বাচনে তেমন জটিলতা না থাকলেও শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ভাষা নির্বাচনে সর্বভারতীয় শিক্ষানীতি বারবার নানা বাধার সম্মুখীন হয়ে আসছে। এই বিশ্বায়নের যুগে কীভাবে শিক্ষা পেয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা নিজেদের অস্মিতা রক্ষা করে, নিজেদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটিয়ে বিশ্বের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উঠতে পারবে তা স্থির করা এক দুরূহ ব্যাপার।
ভাষা মানুষকে যুক্ত করে, ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর পথে প্রেরিত করে। পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের সঙ্গে মাতৃভাষা ছাড়া অন্য সব ভাষারই গুরুত্বের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। যেমন শিক্ষিত ভারতীয়রা আর ফারসি পড়ে না। ভারতে ইংরেজির দাপট থাকলেও ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের দেশগুলিতে বা রাশিয়া, চীনসহ মধ্য এশিয়ায় ইংরেজির তেমন দাপট নেই। কথোপকথনের জন্য ভাষার ব্যবধান দূর করতে বর্তমানে নানা প্রযুক্তির উদ্ভব হয়েছে। ভারতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এখনও আমরা ইংরেজির দ্বারস্থ হই, তাই মাধ্যমিক পর্যায়ে এখনও ছাত্রছাত্রীদের এমনভাবে ইংরেজি শেখানো দরকার যাতে তারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময় ইংরেজিতে শেখার অসুবিধায় মাঝপথে পড়া ছেড়ে না দেয় বা হীনম্মন্যতায় ভুগে আত্মহত্যা না করে। ইংরেজি শিক্ষা কোন পর্যায়ে রাখা হবে তা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে স্থির করা দরকার। রবীন্দ্রনাথ লিখে গেছেন ইংরেজি কাজের ভাষা, ‘ভাবের ভাষা নয়’। তাঁর মতে সেই কাজের ভাষা বাল্যাবস্থায় শিখতে গিয়ে ‘শিশুরা সব কূল হারায়’। না হয় তাদের ‘প্রকৃতির সত্যরাজ্যে প্রবেশ করিবার অবকাশ’, না হয় তাদের ‘সাহিত্যের কল্পনা রাজ্যে প্রবেশ করার ক্ষমতা’। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন ‘বাঙালির ভাব ইংরেজের ভাষায় তেমন জীবন্তরূপে প্রকাশিত হয় না’। তার ধারণায় ভাষা শিক্ষার সঙ্গে ভাব যুক্ত হলে সমস্ত জীবনযাত্রাই নিয়মিত হতে পারে। সেই সঙ্গে বাংলা পাঠ্যগ্রন্থের মান সম্পর্কে বলেছেন ‘অনভিজ্ঞ ম্যাকমিলান কোম্পানির রচিত, অতি সংকীর্ণ, অতি দরিদ্র এবং বিকৃত বাংলা পাঠ্যগ্রন্থ পড়িয়া বাঙালি ছেলেকে মানুষ হইতে হইবে... যাহাতে নিরপেক্ষ উদার জ্ঞানচর্চা পলিটিক্যাল প্রয়োজন সিদ্ধির কাছে খণ্ডিত হইয়া যায়।’ উদ্ধৃত রবীন্দ্রনাথের সবকটি উপলব্ধিই এখনও সমভাবে সত্য।
বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পর্যায়কে রাখা উচিত প্রধানত মাতৃভাষার ভিত তৈরি করার জন্য। এই পর্যায়ে ইংরেজি অক্ষর পরিচয়, বহু ব্যবহৃত কিছু শব্দের অর্থ জানা ও ছড়ার মাধ্যমে বাক্য গঠনের জ্ঞান হলেই যথেষ্ট। প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষার পাঠ্য এমন হওয়া উচিত যা ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহ নিয়ে আনন্দের সঙ্গে পড়বে। ‘পলিটিক্যাল প্রয়োজন সিদ্ধির’ ব্যাপারটি যেন সেখানে কখনওই না আসে। মাতৃভাষার সঙ্গে মানুষের নাড়ির যোগ থাকে। সেই যোগকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করে তাকে বলিষ্ঠ করার শিক্ষার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এ প্রসঙ্গে আবার রবীন্দ্রনাথের শরণ নিলাম। তিনি লিখছেন বিদ্যার্থীরা যদি আনন্দের সঙ্গে কোনও কিছু পাঠ করে তবে তাঁদের ‘পড়িবার শক্তি অলক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে; গ্রহণশক্তি, ধারণশক্তি, চিন্তাশক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে বললাভ করে।’ রবীন্দ্রনাথের এই পর্যবেক্ষণ এক চিরকালীন সত্য।
প্রাচীন গুরুকুল, চতুষ্পাঠী ও টোলের শিক্ষাব্যবস্থাকে সরিয়ে রেখে বাংলায় আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার পথিকৃৎ ছিলেন পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়। এক অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী সেই মানুষটি মাত্র উনিশ বছর বয়সেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেছিলেন। একুশ বছর বয়সে তিনি ফোর্ট উইলিয়ামে হেড পণ্ডিতের পদে নিযুক্ত হন। তিনি বুঝতেন এবং সর্বত্র বলতেন সংস্কৃতের মাধ্যমেই ভারতীয়রা দেশের ঐতিহ্য, জাতিতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব ও প্রাচীন ইতিহাস নির্ভুলভাবে জানতে পারবে। আমার দেশ সম্বন্ধে অন্যের লেখা পড়ে সঠিক জ্ঞান হয় না। সংস্কৃত কলেজে অধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি সেই কলেজে প্রবেশাধিকার কেবলমাত্র উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষিত না রেখে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। সংস্কৃত ভাষার গুরুত্ব আধুনিক বিশ্বের অন্যত্রও পণ্ডিতেরা স্বীকার করেন। পৃথিবীর সকল ভাষার মধ্যে সংস্কৃত সর্বাধিক কম্প্যুটার ফ্রেন্ডলি বা সংগণক বান্ধব ভাষা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তাঁদের মতে একমাত্র এই ভাষার সাহায্যে মূল শব্দের সঙ্গে সম্বন্ধ রেখে অসংখ্য নতুন শব্দের সৃষ্টি করা সম্ভব।
ভারতে প্রায় সমস্ত ভাষারই মূল প্রোথিত রয়েছে সংস্কৃতে। শুধু তাই নয়, সংস্কৃতের সঙ্গে সম্বন্ধিত ভাষা হল গ্রিক, ল্যাটিন, আবেস্তীয় ও প্রাচীন পারসিক ভাষাও। বিন্ধ্য পর্বতের উত্তরে ও দক্ষিণে সমগ্র ভারতকে একাত্ম করতে সক্ষম অন্য কোনও ভাষা নয়—শুধুমাত্র সংস্কৃত। বলা হয় দাক্ষিণাত্যের সঙ্গে উত্তর ভারতের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের জনক ছিলেন মহামুনি অগস্ত্য। তাঁর দ্বারাই তাম্রপর্ণী নদীর তীরে তামিল ভাষার বিকাশ হয়। আধুনিক তামিল ভাষা দু’হাজার বছরেরও বেশি প্রাচীন। শুধু দ্রাবিড় গোষ্ঠীরই নয়, অধুনা বিকশিত সব ভারতীয় ভাষার মধ্যে তামিলই সর্বপ্রাচীন এক সমৃদ্ধ ভাষা। অধুনা ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্যের জন্য দ্রাবিড় গোষ্ঠীর ভাষাগুলিতে সংস্কৃত ও অন্যান্য প্রাকৃত ভাষাগুলির উপস্থিতি পরিচিতি লাগে না। তারা নিজেরাও অনেক সময়ে সংস্কৃত মূলের সঙ্গে নিজেদের যোগ বুঝতে পারে না। সংস্কৃত ভাষা সমগ্র ভারতকে একাত্ম করতে সক্ষম এ কথা বুঝেছিলেন আমাদের সংবিধানের রচয়িতা বাবাসাহেব আম্বেদকরও। তিনি বলেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত সংস্কৃত। সংস্কৃত শিক্ষার ব্যাপারে আমাদের শিক্ষানীতির নির্ধারকদের সজাগ থাকা প্রয়োজন। মাধ্যমিক পর্যায়ে সংস্কৃত সারা দেশে অবশ্যপাঠ্য হওয়া উচিত। এতৎ সঙ্গে দ্রাবিড় অস্মিতাকে উত্তর ভারতে মান্যতা দিয়ে দক্ষিণ ভারতে হিন্দির স্বীকৃতির পথও প্রশস্ত করা প্রয়োজন।
বর্তমানের প্রেক্ষিতে সর্বভারতীয় যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে হিন্দির প্রতিষ্ঠাকে অস্বীকার করা যায় না। সংস্কৃত শেখার সময়েই দেবনাগরী লিপির সঙ্গে পরিচয় হয়ে যায়। হিন্দিতে বার্তালাপের জন্য বিশেষ প্রয়াসের প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না। নানা মাধ্যমের সাহায্যে ভারতের সর্বত্র, এমনকী ঘোর হিন্দি বিরোধী রাজ্য যেমন তামিলনাড়ু বা মণিপুরেও লোকে হিন্দিতে কথা বলতে শিখে যায়। হিন্দি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। হিন্দি বুঝতে, পড়তে (সংস্কৃতের দৌলতে) বা বলতে অসুবিধা না থাকলেই রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হয়ে যায়। তার সঙ্গে হিন্দি সাহিত্যের পরিচয় থাকলে আরও ভালো। হিন্দি সাহিত্যের সর্বাধিক ঋদ্ধ ও কালজয়ী অংশ রয়েছে মধ্যযুগের কবিদের রচনায়। পাঠক্রমের কোনও একটা পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীদের সেই রচনাগুলির সঙ্গে পরিচয় হওয়া উচিত। বিদ্যাসাগর সম্পর্কিত একটি রচনায় জানতে পারি ফোর্ট উইলিয়ামে অধ্যাপনা করার সময়ে তিনি যত্নসহকারে হিন্দি ও ইংরেজি শিখেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথের উদাহরণ দিয়েই আরও একটি সর্বকালীন সত্যের কথা বলি। তিনি ছিলেন নোবেল পুরস্কারজয়ী, কলিকাতা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টরেট উপাধিপ্রাপ্ত। কিন্তু তিনি স্কুলের প্রথাগত পাঠ সম্পূর্ণ করতে পারেননি। তিনি পাঠে অমনোযোগী ছিলেন না বা তাঁর ধীশক্তিরও অভাব ছিল না। স্কুলের প্রতি তাঁর বিরাগের কারণ হিসাবে নিজের নানা রচনায় কখনও শিক্ষক, কখনও পাঠ্যপুস্তক আবার কখনও বা প্রতিষ্ঠানকে নিজের বিদ্যালয় বিমুখতার কারণ হিসাবে লিখেছেন। ছাত্রের মনোযোগকে ধরে রাখার জন্য শিক্ষকের ভূমিকা অসীম। বিদ্যালয়গুলি যেন ছাত্রদের মনে বিরাগ ও বিরক্তি উৎপাদন না করে সে ব্যাপারটিও গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি পাঠ্যবিষয় নির্বাচনের গুরুত্ব অসীম। নির্বাচকেরা ছাত্রছাত্রীদের জন্য মাতৃভাষা, সংস্কৃত, ইংরেজি ও হিন্দির মধ্যে কোন ভাষা কোন পর্যায়ে পড়ানো হবে তা স্থির করবেন ঠিকই কিন্তু কোনও স্তরেই যেন পাঠ্যবিষয়গুলি পলিটিক্যাল ডামাডোলে নষ্ট না হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষেই যেন শিক্ষকেরা নিঃশেষে বিদ্যা দান করেন, অসম্পূর্ণভাবে দেওয়া বিদ্যা প্রাইভেট টিউশনের ক্লাসের জন্য তুলে না রাখেন। কোথাও যেন অসম্পূর্ণভাবে বিদ্যাদানের কারণে শিক্ষা অসম্পূর্ণ না থাকে।
 লেখিকা যোগমায়া দেবী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপিকা
09th  September, 2019
সতর্ক প্রহরী
পি চিদম্বরম

ব্যারিস্টার ভি জি রো মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি ছিলেন বাম-মনস্ক উদার। সমস্ত ধরনের বিজ্ঞানের ব্যবহারিক জ্ঞান, রাজনৈতিক শিক্ষা এবং শিল্প, সাহিত্য, নাটক প্রভৃতিকে জনপ্রিয় করে তুলতে তিনি পিপলস এডুকেশন সোসাইটি গড়েছিলেন।
বিশদ

একটু সময় দিন,
পাশে দাঁড়ান
হিমাংশু সিংহ

বামফ্রন্ট সরকার ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসার পরের বছরই ভয়াবহ বন্যার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলা। ভেসে গিয়েছিল একের পর এক জেলা, দক্ষিণবঙ্গের বড় বড় শহর। কলকাতাও রেহাই পায়নি সেই বিপর্যয়ের হাত থেকে।
বিশদ

31st  May, 2020
বিশ্বাসযোগ্যতা ও বলিষ্ঠ
পদক্ষেপের এক বছর
রাজনাথ সিং

যে কোনও দেশের ইতিহাসে পাহাড়প্রমাণ পরিবর্তন দেখার সুযোগ খুব কমই আসে। ২০১৪ সালে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরকমই একটি বিরাট পরিবর্তন এসেছিল। দেশের মানুষ দুর্বল এবং দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনের হাত থেকে রেহাই পেতে চেয়েছিলেন।
বিশদ

30th  May, 2020
বন্দি যখন শিশুমন
তন্ময় মল্লিক

 ‘উফ, আর পারা যাচ্ছে না। কবে যে মুক্তি পাব?’ ‘কতদিন বাজার যাইনি। এইভাবে দমবন্ধ অবস্থায় থাকা যায়?’ ‘দিনরাত গাধার খাটুনি খাটছি। তার উপর তোদের জ্বালাতন। এবার ঠাস ঠাস করে চড়িয়ে দেব।’ লকডাউনের গৃহবন্দি জীবনে এমন সংলাপ আজ প্রায় ঘরে ঘরে।
বিশদ

30th  May, 2020
বাংলার দুর্ভাগ্য
সমৃদ্ধ দত্ত

এত বড় একটা সাইক্লোনে একটি রাজ্যের বৃহৎ অংশ একপ্রকার বিধ্বস্ত হয়ে গেল, অথচ গোটা দেশের কোনও দোলাচল নেই? প্রথমদিন ট্যুইটারে সমবেদনা জানিয়েই সকলে যে যার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গেল? কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এই ধ্বংসস্তূপ থেকে রাজ্যটাকে পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ানোর কোনও দৃপ্ত সহায়তা প্রতিজ্ঞাও তো দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশদ

29th  May, 2020
ভাবুন, সুন্দরবন নেই আর উম-পুন
বয়ে গিয়েছে কলকাতার উপর দিয়ে!
হারাধন চৌধুরী

ভাঙা যায়নি অনুন্নয়নের ট্র্যাডিশন। সামান্য উন্নয়নেও তীব্র বৈষম্য। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা। চাকরিপ্রার্থীর সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। পরিণামে কোটি কোটি মানুষ কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন শত শত মাইল দূরে—চরম অনিশ্চয়তা আর বিপদকে সঙ্গী করে। অন্যদিকে, সঙ্কীর্ণ রাজনীতির বোড়ে হয়ে উঠেছেন দেশবাসীর প্রায় সকলে।
বিশদ

28th  May, 2020
‘আত্মসম্মান’ খ্যাত এক ভাঁড়ের রসিকতা
সন্দীপন বিশ্বাস 

অন্য দেশের রাজাদের মতো হবুরও আছে বিদূষক। অনেক বিদূষক তাঁর। তাঁদের তিনি ছড়িয়ে রেখেছেন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। তাঁরা সেই সব রাজ্যের প্রপালক। তাঁদের কাজ হল মহারাজ হবুর মুৎসুদ্দি করা। আর নানা ধরনের মন্তব্য করে অঙ্গরাজ্যের জনগণকে আনন্দ বিতরণ করা।  বিশদ

27th  May, 2020
মানবিকতার উপর
বিশ্বাসটা যেন রাখতে পারি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

একটা ঝড়... যা পথে বসিয়েছিল সরযূ মণ্ডলকে। জানতেও পারেননি, কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিল তাঁর ছাদটা। কিন্তু সে দুঃখ ছাপিয়ে গিয়েছিল এক অন্য আতঙ্ক... নির্জলা মরতে হবে না তো? জলেই তার বসত, অথচ সে জল মুখে দেওয়া যায় না... তেষ্টা মেটে না।   বিশদ

26th  May, 2020
ব্যয় করো, ঋণ করো, টাকার জোগান বাড়াও 

পি চিদম্বরম: প্রধানমন্ত্রী গত ১২ মে ২০ লক্ষ কোটি টাকার যে স্টিমুলাস প্যাকেজ ঘোষণা করেছিলেন, গত সপ্তাহে আমি সেটার বিশ্লেষণ করেছিলাম। বিগত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রী পাঁচ দফায় বিস্তারিতভাবে যে ঘোষণা করেছিলেন বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনীতিবিদরা পরে সেসব কাটাছেঁড়া করেছেন।   বিশদ

25th  May, 2020
মহামারীর সঙ্গে মহাপ্রলয়,
তবু বাংলা জিতবেই
হিমাংশু সিংহ

ইতিহাসের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলা। আমাদের বঙ্গভূমি। দেশভাগ, মন্বন্তর, বন্যা, মহামারী কিছুই আমাদের জীবনীশক্তিকে নিঃশেষ করতে পারেনি। ভেঙে গিয়েও আবার ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়েছি আমরা। নতুন ভোরের স্বপ্নে শুরু হয়েছে ফের পথ চলা।
বিশদ

24th  May, 2020
আত্মকেন্দ্রিক হোন,
কিন্তু স্বার্থপর নয়
তন্ময় মল্লিক

 করোনাকে নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে। হু-এর এই ঘোষণার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। চীন, জাপান, আমেরিকা, জার্মানি, ইতালি, ইজরায়েল যাই দাবি করুক না কেন, বাস্তবটা হল, করোনা ভ্যাকসিন নাগালের ধারেকাছে নেই।
বিশদ

23rd  May, 2020
করোনা প্যাকেজের অশ্বডিম্ব!
মৃণালকান্তি দাস

 প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটির বিলাসবহুল বিমানের খবরটাই গিলে খেয়ে নিয়েছে করোনা সঙ্কট! খবরটা কী? এতদিন বোয়িং ৭৪৭ বিমানে বিদেশ সফরে যেতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খুব শীঘ্রই এর জায়গা নিতে আসছে বোয়িং ৭৭৭।
বিশদ

22nd  May, 2020
একনজরে
জুরিখ, ৩১ মে: করোনা ভাইরাসের ওষুধ, ভ্যাকসিন ও পরীক্ষা করার কিট পাওয়া নিয়ে যাতে বৈষম্য তৈরি না হয়, তার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে একযোগে আর্জি জানাল ৩৭টি দেশ। মারণ এই ভাইরাসের ভ্যাকসিন বাজারে চলে এলে তার পেটেন্ট নিয়ে লড়াই ...

 সুখেন্দু পাল, বহরমপুর: সালাউদ্দিন পর্দার আড়ালে যেতেই রাজ্যে জেএমবির সংগঠন বিস্তারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল আব্দুল করিম। সামশেরগঞ্জে বসে সে বাংলাদেশেও জেএমবির সংগঠন মনিটরিং ...

মৃণালকান্তি দাস, কলকাতা: চার্লস মিলারের গল্পটা জানেন তো? স্কটল্যান্ডে পড়াশোনা শেষে চার্লস ব্রাজিলে ফিরেছিলেনএকটি ফুটবল হাতে নিয়ে। সবাই জানতে চেয়েছিল, ‘ওই গোল জিনিসটা কী?’ উত্তর ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আজ, সোমবার থেকে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির খোলার কথা ঘোষণা করা হলেও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে সেই সিদ্ধান্ত বদল করল মন্দির কর্তৃপক্ষ। ভক্তদের জন্য এখনই মন্দির খোলা হবে না। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

কর্মপ্রার্থীদের কোনও সুখবর আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে পদন্নোতির সূচনা। গুপ্ত শত্রু থেকে সাবধান। নতুন কোনও প্রকল্পের ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব দুগ্ধ দিবস
১৮৭৪ - ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানি বিলুপ্ত হয়।
১৯২৬- আমেরিকার মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা মেরিলিন মনরোর জন্ম
১৯২৯- অভিনেত্রী নার্গিসের জন্ম
১৯৩৪ - কবি, নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৬৪- সঙ্গীত পরিচালক ইসমাইল দরবারের জন্ম
১৯৬৮- মার্কিন লেখিকা ও সমাজকর্মী হেলেন কেলারের মৃত্যু
১৯৭০- অভিনেতা আর মাধবনের জন্ম
১৯৮৫ - ভারতীয় ক্রিকেটার দিনেশ কার্তিকের জন্ম।
১৯৯৬-ভারতের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপতি নীলম সঞ্জীব রেড্ডির মৃত্যু
২০০১- নেপাল রাজপরিবারে হত্যাকাণ্ড। যুবরাজ দীপেন্দ্র গুলি করে হত্যা করে বাবা, মা, নেপালের রাজা বীরেন্দ্র এবং রানি ঐশ্বর্যসহ পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
২০০২ - দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হানসি ক্রোনিয়ের মৃত্যু,
২০০৯- রিও ডি জেনেইরো থেকে প্যারিস আসার পথে অতলান্তিক মহাসাগরে ভেঙে পড়ল এয়ার ফ্রান্সের এয়ারবাস এ ৪৪৭। মৃত ২২৮ আরোহী।



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৭৯ টাকা ৭৬.৫১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৭৩ টাকা ৯৫.০৩ টাকা
ইউরো ৮২.৪৬ টাকা ৮৫.৫০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
31st  May, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী ২৫/৫ দিবা ২/৫৮। হস্তা নক্ষত্র ৫০/১৮ রাত্রি ১/৩। সূর্যোদয় ৪/৫৫/৩৬, সূর্যাস্ত ৬/১২/৫৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/২৮ গতে ১০/১৪ মধ্যে। রাত্রি ৯/৫ গতে ১১/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১/২১ গতে ২/৪৭ মধ্যে। বারবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৫ মধ্যে পুনঃ ২/৫৩ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৩ গতে ১১/৩৪ মধ্যে।
১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১ জুন ২০২০, সোমবার, দশমী দিবা ১২/১৪। হস্তানক্ষত্র রাত্রি ১১/১। সূর্যোদয় ৪/৫৬, সূর্যাস্ত ৬/১৫। অমৃতযোগ দিবা ৮/৩০ গতে ১০/১৬ মধ্যে এবং রাত্রি ৯/৮ গতে ১১/৫৮ মধ্যে ও ১/২২ গতে ২/৫০ মধ্যে। কালবেলা ৬/৩৬ গতে ৮/১৬ মধ্যে ও ২/৫৫ গতে ৪/৩৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/১৫ গতে ১১/৩৫ মধ্যে।
৮ শওয়াল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
উত্তর প্রদেশে করোনা আক্রান্ত আরও ২৯৬, মৃত ৫ 
উত্তর প্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ২৯৬ জন। ...বিশদ

09:21:40 PM

মুম্বইয়ে করোনা আক্রান্ত আরও ১৪১৩, মৃত ৪০ 
মুম্বইয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত ১৪১৩ জন। মৃত ...বিশদ

09:12:55 PM

গুজরাটে করোনা আক্রান্ত আরও ৪২৩, মৃত ২৫ 
গুজরাটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪২৩ জন করোনা আক্রান্ত ...বিশদ

08:55:01 PM

বন্ধ কামাক্ষ্যা মন্দির, হচ্ছে না অম্বুবাচী মেলাও 
আগামী ৩০ জুন অবধি বন্ধ থাকছে কামাক্ষ্যা মন্দির। এজন্য এবছর ...বিশদ

08:46:05 PM

দিল্লিতে করোনা রোগীর আত্মহত্যা 
দিল্লির বাটরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধ আত্মঘাতী। ৬৩ বছর ...বিশদ

08:33:43 PM

দিল্লিতে আরও ৯৯০ জন করোনা আক্রান্ত 
দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৯৯০ জন করোনা আক্রান্ত ...বিশদ

08:22:23 PM