Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষে ভারত প্রান্তিক রাষ্ট্র থেকে প্রথম দশে, লক্ষ্য শীর্ষস্থান
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির মুখে উড্রো উইলসন সমেত বিশ্বের তাবড় নেতারা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে শঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধের রাহুর গ্রাস থেকে এই সুন্দর পৃথিবীকে কীভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে তাঁরা চিন্তিত ছিলেন। উইলসন বুঝতে পেরেছিলেন মানুষের মগজে রয়েছে যুদ্ধের অভিলাষ। যুদ্ধভাবনা মুছে ফেলে শান্তিভাবনা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শান্তির চর্চা জরুরি। এ থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জ্ঞানচর্চার বিষয় হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে ইংল্যান্ডের ওয়েলশ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চর্চা শুরু হয়েছিল। কালক্রমে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চর্চা শুরু হয়েছিল। রাশিয়া সমেত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চর্চা শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর।
২০১৯ হল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে জ্ঞানচর্চার বিষয় হিসাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদ্ভবের শতবর্ষ। একশো বছর আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চর্চায় বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় কতটুকু অগ্রগতি ঘটেছে? আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে? আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের গতিপথ বারবার কেন পরিবর্তিত হয়েছে? বিশ্বায়নের যুগে ভারতের বিদেশনীতির মূল লক্ষ্যগুলি কী কী? কেন্দ্রের মোদি সরকার ভারতকে আন্তর্জাতিক স্তরে মজবুত আসনে বসাতে কী ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে? এই সমস্ত প্রশ্নকে মাথায় রেখে জ্ঞানচর্চার বিষয় হিসাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান। যেমন আন্তর্জাতিক সেমিনার করছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, সহযোগিতায় বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অফ পলিটিক্যাল স্টাডিজ। দেশ-বিদেশ থেকে শতাধিক গবেষক, অধ্যাপক মিলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চর্চার শতবর্ষ উদ্‌যাপন করছে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা রাষ্ট্রনায়কদের বাধ্য করেছিল যুদ্ধ পরিহার করে নতুন করে শান্তির পথ খুঁজতে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসনের আদর্শবাদী চিন্তাভাবনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘লিগ অফ নেশন’। যদিও সংস্থাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। আমাদের দেশ তখন পরাধীন। ঔপনিবেশিক শাসনকালে ভারতের পররাষ্ট্র সম্পর্কিত চিন্তা-ভাবনা যে কয়েকজন জাতীয়তাবাদী নেতার মধ্যে লক্ষ করা গিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। কংগ্রেসের বিভিন্ন অধিবেশনগুলিতে নেহরুর উদ্যোগে বিশ্ব-রাজনীতি বিষয়ক প্রস্তাব গ্রহণ করতে দেখা গেছে। উড্রো উইলসনের ন্যায় নেহরুও ছিলেন আদর্শবাদী। বিশ্বশান্তি কামনায় আদর্শগত ভাবনার দ্বারা তাঁর সিদ্ধান্ত বারবার পরিচালিত হয়েছে।
আদর্শবাদী নেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তিস্থাপনের লক্ষ্যে ভারতের বিশ্বনীতিকে পরিচালনায় পাশাপাশি নেহরু ভারতের স্বাধীন অবস্থান বজায় রাখতে সর্বদাই সচেষ্ট ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উদ্ভূত আন্তর্জাতিক কাঠামো নেহরুকে জোট-নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে প্রভাবিত করেছিল বলা যায়। তবে, আন্তর্জাতিক তৎকালীন কাঠামোগত উপাদানের পাশাপাশি নেহরুর নিজস্ব ভাবনা-চিন্তাও ভারতের বিদেশনীতি নির্মাণে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছিল। কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থানে নেহরুর নিজস্ব চিন্তার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। পাকিস্তানের হানাদারদের অধিকৃত কাশ্মীর থেকে না-সরিয়ে রাষ্ট্রসংঘে চলে যাওয়া আদতেও উচিত ছিল কি না তা আজ বিতর্কের বিষয় নয়। আজ সংখ্যাধিক্য ভারতীয় ভাবনায় কাশ্মীর নিয়ে নেহরুর ভাবনা ভারতের জাতি গঠনে প্রধান অন্তরায় ছিল বলে প্রকাশ পাচ্ছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে সংসদে বিতর্কেও বার বার কাশ্মীর নিয়ে নেহরুর অবস্থান এমপি-রা (মূলত অকংগ্রেসি) সমালোচনা করেছেন। বিশ্বশান্তির প্রবক্তা হিসাবে চীন সমেত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পঞ্চশীল নীতির মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বন্ধনে বিদেশনীতিকে পরিচালিত করতে চেয়েছিলেন নেহরু। সেইসময় সংখ্যায় কম হলেও কেউ কেউ নেহরুর আদর্শবাদী বিদেশনীতির সমালোচনা করে ভারতকে বাস্তববাদের মাটিতে দাঁড় করিয়ে সামরিক শক্তি অর্জনের উপর জোর দেওয়ার কথা বারবার স্মরণ করেছিলেন। যদিও নেহরু সেই সময় বাস্তববাদীদের ভাবনাকে এক প্রকার উপেক্ষা করেছিলেন বলা যায়।
১৯৫০-এর দশকে নেহরুর প্রণীত বিদেশনীতিতে বিরাট ধাক্কা আসে ১৯৬২ সালে চীনের আক্রমণ এবং ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানের আক্রমণের মধ্য দিয়ে। ১৯৬২-এর যুদ্ধে চীনের একতরফা সামরিক আগ্রাসন নেহরুর অনুসৃত ভারতের বিদেশনীতির দুর্বলতাগুলিকে সামনে এনেছিল। ১৯৬২-র যুদ্ধ ছিল ভারতের বিদেশনীতিতে ‘জল বিভাজিকা’। এই প্রথম ভারতের বিদেশনীতিতে আদর্শবাদী ভাবনার পরিবর্তে বাস্তববাদী ভাবনার প্রভাব স্পষ্ট লক্ষ করা গিয়েছে।
ভারতীয় রাজনীতি থেকে নেহরুর বিদায়ের পর প্রথমে লালবাহাদুর শাস্ত্রীর ‘জয় জওয়ান জয় কিষাণ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে এবং পরে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ১৯৭১-এর যুদ্ধে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ভূমিকা, সিকিমের ভারত সংযুক্তিকরণ, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তিস্থাপনে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়েছিল। আদর্শবাদী ভাবনা থেকে সরে এসে ইন্দিরাজি ভারত-সোভিয়েত বিশেষ কৌশলগত সম্পর্ক, সামরিক ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ এবং পোখরানে পরমাণু বোমার পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে ভারতের বিদেশনীতিকে দৃঢ় বাস্তববাদের মাটিতে দাঁড় করিয়েছিলেন। নেহরুর জোট-নিরপেক্ষ নীতি ইন্দিরাজি অনুসরণ করলেও বাস্তববাদী দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের বিদেশনীতিকে পরিচালনা করতে গিয়ে সোভিয়েত দেশের সঙ্গে সামরিক, আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক জোরদার করেছিলেন। ৭০-৮০ দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিদেশনীতি বহুলাংশেই সোভিয়েতমুখী ছিল।
৮০-র দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে চলে আসা ঠান্ডাযুদ্ধের অবসান ঘটে। পাশাপাশি বিশ্ব-রাজনীতিতে মার্কিন প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। হঠাৎ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনে ভারতের বিদেশনীতির নীতি নির্ধারণকারীগণ কিছু সময়কালের জন্য দিশাহীন হয়ে পড়েছিলেন। কারণ, ওই পর্যায় পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমেত ভারতের সামরিক রসদ জোগানে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল ভারতের প্রধান ভরসাকেন্দ্র। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়লে এক মেরু কেন্দ্রিক বিশ্ব-ব্যবস্থায় ভারতের বিদেশনীতি কোন পথে পরিচালিত হবে সে বিষয়ে একাধিক মত উঠে এসেছিল। তবে একই সময়ে বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসাবে আমাদের দেশে শুরু হয়েছিল উদারীকরণ ও বেসরকারিকরণের উদ্যোগ।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বাস্তবসম্মত বিদেশনীতির দিশা দেওয়া ছিল ৯০-এর দশকে নীতিনির্ধারণকারীদের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিবর্তনগুলিকে মাথায় রেখে একটি বহুমুখী বিদেশনীতির অভিমুখ প্রস্তুত করা হয়েছিল। সোভিয়েত পতনের ফলে ভারতীয় বাণিজ্যে বিরাট ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। সেটা পূরণ করতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ‘পুবে তাকাও নীতি’ নেওয়া হয়েছিল। বহুমুখী বিদেশনীতির অভিমুখ হিসাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া ঠিকই, একইসঙ্গে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের উত্তরসূরি রাশিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রকুমার গুজরালের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি সম্পর্কে ‘গুজরাল ডকট্রিন’ এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ির ‘সম্প্রসারিত প্রতিবেশী নীতি’র কথা। ভারতের বহুমাত্রিক বিদেশনীতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের ভূমিকাকে সবসময় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তেমনি উদ্ভূত আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলিকেও। যেমন সন্ত্রাসবাদ, পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবাধিকার প্রভৃতি। এগুলি বরং অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।
বিশ্বায়ন, উদারীকরণ ও বেসরকারিকরণের হাত ধরে ভারত আজ চতুর্থ বৃহত্ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। ৮০-র দশকে ভারতের অর্থনীতি যেখানে ছিল ফ্রান্সের অর্থনীতির চারভাগের একভাগ, ভারত আজ অর্থনীতির মানদণ্ডে ফ্রান্সকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। উৎপাদিত শিল্পের নিরিখে ভারতের স্থান নবম, মেধার বিচারে তৃতীয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমেত পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির কাছে ভারত আজ সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছে। জি-সেভেন থেকে শুরু করে পৃথিবীর সমস্ত বড় আর্থিক গোষ্ঠীগুলিতে ভারত আজ অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্য হওয়ার উল্লেখযোগ্য দাবিদার আজ ভারত। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, আশিয়ান, মুসলিম রাষ্ট্রগুলির বিভিন্ন সংগঠন সমেত আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার প্রায় সমস্ত আর্থিক সংগঠন ভারতকে নানাভাবে তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এশিয়ায় ভারতের অবস্থানটি চীনের প্রেক্ষিতেই বিচার করা হচ্ছে। ভারতের বিপুল বাজার পৃথিবীর সমস্ত প্রান্তের অর্থনৈতিক ভূমিকা পালনকারীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামরিক ক্ষেত্রে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্ব-রাজনীতিতে ভারত আজ স্বতন্ত্র মর্যাদা পাচ্ছে। প্রযুক্তিগত বিকাশে চন্দ্রযান-২-এর মতন অভিযান আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ভারত সমীহ আদায় করে নিতে পেরেছে। এরই ফলস্বরূপ সম্প্রতি কাশ্মীর ইস্যুতে শত চেষ্টা করেও পাকিস্তান চীন ছাড়া অন্য কোনও দেশের সমর্থন ভারতের বিরুদ্ধে আদায় করতে পারেনি। কাশ্মীর ইস্যুতে আজ কেবল রাশিয়া ফ্রান্স নয়, ইংল্যান্ড আমেরিকাও ভারতের সঙ্গে রয়েছে। এমনকী উল্লেখযোগ্য ইসলামিক রাষ্ট্রগুলিও পাকিস্তানের পক্ষ নেয়নি। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের যে গ্রহণযোগ্যতা শতগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকার আজকের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশনীতিকে চারটি লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিচালিত করছে। এগুলি হল: (ক) আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতা বজায় রাখা; (খ) ভারতের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা; (গ) জাতিগঠন প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসাবে বিদেশনীতিকে পরিচালিত করা এবং (ঘ) বিশ্বের অগ্রগণ্য দেশগুলির সমান মর্যাদা ও অধিকারের স্বীকৃতি সুনিশ্চিত করা। পরাধীন ভারতে নেহরুর যে আদর্শবাদী চিন্তার উপর ভারতের বিদেশনীতি একদিন গড়ে উঠেছিল, আজ সেটা দৃঢ় বাস্তববাদী ভাবনার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একশো বছর চর্চাকালের মধ্যে আমরা লক্ষ করছি—একদা যে-ভারত একটি প্রান্তিক রাষ্ট্রমাত্র ছিল, সেটাই আজ আন্তর্জাতিক আঙিনায় উঠে এসেছে প্রথম দশটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের মধ্যে একটি হিসেবে। এই সাফল্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বইকি। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরবর্তী ৫০ বছরে ভারতের লড়াইটা চলবে প্রথম স্থান অর্জনের জন্য। প্রত্যাশা থাকল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ১৫০ বছর পূর্তির চর্চায় ভারতই থাকবে কেন্দ্রবিন্দুতে।
 লেখক রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক
09th  September, 2019
হাঁটার গল্প
সমৃদ্ধ দত্ত 

অনেকবার আবেদন করেও আধার কার্ড পায়নি রতু লাল। রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড যুক্ত না করা হলে রেশনও পাওয়া যায় না। সুতরাং সে রেশন পায় না। তার খুব দুঃখ ছিল, সরকারের কোনও কাগজ তার কাছে নেই বলে। সেই কষ্ট ঘুচল। অবশেষে করোনা ভাইরাসের দৌলতে এই প্রথম সরকারিভাবে একটি স্বীকৃতি পেল রতু লাল। কোনও কাগজ, সার্টিফিকেট নয়। আরও স্পষ্ট, আরও সোজাসুজি।   বিশদ

তাল কেটে দিল দিল্লি একাই
হারাধন চৌধুরী

একটি মাত্র শব্দ। করোনা। সারা পৃথিবীর শিরোনাম দখল করেছে। খবরের কাগজের প্রথম পাতা। বিনোদনের পাতা। খেলার পাতা। টেলিভিশনের নিউজ চ্যানেল। সব রকম সোশ্যাল মিডিয়া। এমনকী সরকারি, বেসরকারি বিজ্ঞাপনগুলিও আজ করোনাময়! সকাল থেকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের কুশলাদি বিনিময়ের বিস্তৃত সংস্কৃতিতেও করোনা ভাগ বসিয়েছে পুরোমাত্রায়।  বিশদ

02nd  April, 2020
লকডাউনেই থামবে করোনার অশ্বমেধের ঘোড়া
সন্দীপন বিশ্বাস

 এ এক অন্য পৃথিবী। এই পৃথিবী দেখার জন্য আমরা কেউই প্রস্তুত ছিলাম না। কিন্তু হঠাৎই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো অতি দ্রুত আমরা মুখোমুখি হলাম এই অন্য পৃথিবীর। যেখানে গাছের পাতা ঝরার মতোই ঝরে পড়ছে মানুষের প্রাণ। বিশদ

01st  April, 2020
ঘরে থাকতে অক্ষম যে ভারত
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 রণবীর সিং। বয়স ৩৮ বছর। ডেলিভারি এজেন্টের কাজ করতেন দিল্লিতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণার পর হাঁটতে শুরু করেছিলেন তিনি। জাতীয় সড়ক ধরে। যেভাবে হোক গ্রামে পৌঁছতে হবে। গ্রাম মানে মধ্যপ্রদেশের কোথাও একটা... দিল্লি থেকে বহুদূর।
বিশদ

31st  March, 2020
ভীরু এবং আধখেঁচড়া
ব্যবস্থা, তবু স্বাগত
পি চিদম্বরম

গত ১৯ মার্চ, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করলেন যে ২২ মার্চ, রবিবার দেশজুড়ে ‘জনতা কার্ফু’ পালন করা হবে। আমি ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রী জল মাপছেন, জনতা কার্ফুর শেষে তিনি নানা ধরনের লকডাউন ঘোষণা করবেন। কিন্তু রবিবার কোনও ঘোষণা শোনা গেল না। বিশদ

30th  March, 2020
 করোনা যুদ্ধের অক্লান্ত সৈনিক ডাক্তারবাবুরা,
দোহাই ওদের গায়ে আর কেউ হাত তুলবেন না
হিমাংশু সিংহ

পৃথিবীব্যাপী এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চলছে। অদৃশ্য জৈবযুদ্ধ। এলওসিতে দাঁড়িয়ে মেশিনগান হাতে কোনও সেনা নয়, রাফাল নিয়ে শত্রু ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও নয়। হাসপাতালের আইসিইউতে নিরস্ত্র ডাক্তারবাবুরা বুক চিতিয়ে এই নির্ণায়ক যুদ্ধ লড়ছেন রাতের পর রাত ক্লান্তিহীন। বিশদ

29th  March, 2020
এ লড়াই বাঁচার লড়াই,
এ লড়াই জিততে হবে
তন্ময় মল্লিক

 এখন দোষারোপের সময় নয়। এখন আঙুল তোলার সময় নয়। এখন সমালোচনার সময় নয়। এখন লড়াইয়ের সময়। এ এক কঠিন লড়াই। এ লড়াই বাঁচার লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।
বিশদ

28th  March, 2020
মিসাইল বানানোর চেয়ে ডাক্তার
তৈরি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ
মৃণালকান্তি দাস

লিউয়েনহুক যখন সাড়ে তিনশো বছর আগে আতশ কাঁচের নীচে কিলবিল করা প্রাণগুলোকে দেখতে পেয়েছিলেন, তখনও তিনি জানতেন না যে তিনি এক নতুন দুনিয়ার সন্ধান পেয়ে গিয়েছেন। তিনিই প্রথম আণুবীক্ষণিক প্রাণের দুনিয়াকে মানুষের সামনে উন্মোচিত করেন। ওই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণগুলোর নাম দেন ‘অ্যানিম্যালকুলস’। বিশদ

27th  March, 2020
করোনা ছুটছে গণিতের অঙ্ক মেনে,
থামাতে হবে ‘হাতুড়ি’র ঘা দিয়েই
ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ

 জানেন কি, গণিতের নিয়ম মেনেই ভারত সহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনা ভাইরাস? একজন আক্রান্ত থেকে গুণিতক হারে অন্যদের মধ্যে ছড়াচ্ছে এই মারণ ভাইরাস! আর অসতর্কতার কারণে মাত্র এক-দু’সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা এক ঝটকায় অনেকটা বাড়ছে। ঠিক যেমন হয়েছে চীন, ইতালি, স্পেনের মতো দেশগুলিতে।
বিশদ

27th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই এবং তারপর
পি চিদম্বরম

আপনি এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ভারত এগতে পারল না কি পিছনে পড়ে গেল। সরকার ব্যস্ত ভিডিও কনফারেন্সে, আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং করোনা থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশিকা (হাত জীবাণুমুক্ত করা, নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং মাস্ক পরা) জারিতে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনায় তটস্থ গোটা বিশ্ব। সংক্রমণ যাতে বেশি না ছড়ায়, তার জন্য দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। বিশ্বের অন্য বড় বড় দেশেও একই অবস্থা। এর প্রভাব বিশ্ব এবং দেশের অর্থনীতিতে পড়েছেই।  ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা মোকাবিলা করার জন্য রাজ্য সরকারের আপৎকালীন তহবিলে বহু ব্যক্তি, সংগঠন, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান তাদের সামর্থ্যমতো অর্থ সাহায্য করছে।   ...

সংবাদদাতা, কাঁথি: পটাশপুর থানার কসবা এলাকায় এক বধূকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল। স্থানীয় দুই যুবকের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। ওই বধূ বুধবার সন্ধ্যায় থানায় এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছেন।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি, ২ এপ্রিল: জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ বকেয়া ২ হাজার ৮৭৫ কোটি এখনই রাজ্যকে দেওয়া হোক। আজ এই মর্মে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে চিঠি দিলেন পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

খরচের চাপ এত বেশি থাকবে যে সঞ্চয় তেমন একটা হবে না। কর্মক্ষেত্রে নানা সমস্যা দেখা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৬৮০: রায়গড় দুর্গে মৃত্যু হল শিবাজির
১৯৫৫: গায়ক হরিহরনের জন্ম
১৯৬২: অভিনেত্রী জয়াপ্রদার জন্ম
২০১০: প্রথম জেনারশনের আই প্যাড বাজারে আনে অ্যাপল 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.৬৪ টাকা ৭৬.৩৬ টাকা
পাউন্ড ৭৬.৩৬ টাকা ৯৪.৮৪ টাকা
ইউরো ৮১.৭৩ টাকা ৮৪.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
01st  April, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৮ চৈত্র ১৪২৬, ১ এপ্রিল ২০২০, বুধবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) অষ্টমী ৫৫/১৯ রাত্রি ৩/৪১। আর্দ্রা ৩৪/৫০ রাত্রি ৭/২৯। সূ উ ৫/৩৩/১, অ ৫/৪৮/১১, অমৃতযোগ দিবা ৭/১২ মধ্যে পুনঃ ৯/৩৮ গতে ১১/১৬ মধ্যে পুনঃ ৩/২১ গতে ৪/২৯ মধ্যে। রাত্রি ৬/৩৫ গতে ৮/৫৬ মধ্যে ১০/৩০ মধ্যে। বারবেলা ৮/৩৬ গতে ১০/৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪১ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ২/৩৬ গতে ৪/৪ মধ্যে।
১৮ চৈত্র ১৪২৬, ১ এপ্রিল ২০২০, বুধবার, অষ্টমী ৪১/১৫/৩৫ রাত্রি ১০/৪/৫৮। আর্দ্রা ২২/৩০/৫২ দিবা ২/৩৫/৫। সূ উ ৫/৩৪/৪৪, অ ৫/৪৮/৩১। অমৃতযোগ দিবা ৭/১২ মধ্যে ও ৯/৩২ গতে ১১/১২ মধ্যে ও ৩/২১ গতে ৫/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৫৫ মধ্যে ও ১/৩২ গতে ৫/৩৪ মধ্যে। কালবেলা ৮/৩৮/১১ গতে ১০/৯/৫৪ মধ্যে।
 ৭ শাবান

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
দিল্লিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯১ জনের শরীরে মিলল কোভিড-১৯, মোট আক্রান্ত ৩৮৪ 

05:13:10 PM

তামিলনাড়ুতে আরও ১০২ জনের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাস 

05:06:50 PM

করোনা: মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ লক্ষ ও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫ লক্ষ টাকা দান করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার 

04:53:01 PM

করোনা নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই, তবে সতর্ক থাকতে হবে: মমতা 

04:38:19 PM

করোনার চিকিৎসায় রাজ্যে ৫৯টি হাসপাতাল কাজ করছে: মমতা 

04:30:00 PM

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৩৩৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস মিলেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রক 

04:28:11 PM