Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

পুজোর মুখে বিপর্যয়: ঘরে বাইরে

সামনের মাসে এই তারিখে দশমী, পুজো শেষ। মা দুর্গাকে গঙ্গায় বিসর্জন দিয়ে শুরু হয়ে যাবে আমাদের বছরভরের প্রতীক্ষা! আর মহামায়ার আরাধনায় মুখর উদ্বেল চার দিনের মহানন্দের রেশ প্রাণে নিয়ে ফের কাজের স্রোতে ফিরে আসতে শুরু করবে কলকাতা সমেত গোটা বঙ্গের মানুষজন। অবশ্য, শহর-মহানগর অফিস-কাছারি স্কুল-কলেজ দোকান-বাজার স্বাভাবিক চেনা ছন্দে ফিরতে লক্ষ্মীপুজো কালীপুজো ভাইফোঁটা পার হয়ে যাবে। পথেঘাটে সর্বত্র আলাপ-আলোচনায় ফিরে ফিরে আসবে সদ্যশেষ উৎসবের রিভিউ, উৎসব ফুরনো মন খারাপের কথা। প্রতিবছর এমনটাই হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না—এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। কিন্তু, এবার পুজোর এই মাসখানেক আগে ঘরে-বাইরে যেভাবে ছোট-বড় নানান বিপর্যয় ও বিপদ সংকেত দেখা দিচ্ছে তাতে আমবাঙালির চিন্তা যে উত্তরোত্তর বাড়ছে তাতে সন্দেহ কী? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে কদিন আগে বউবাজারে যে বিপর্যয় ঘটে গেল তাতে ভুক্তভোগীরা এবারের পুজোয় কতটুকু আনন্দ করতে পারবেন তা নিয়ে অনেকের মতো আমাদেরও যথেষ্ট সংশয় আছে।
তার কারণ, মধ্য কলকাতায় দশক দশক নিশ্চিন্তে নিরাপদে কাটানো মানুষগুলো ওই বিপর্যয়ে রাতারাতি কেবল ঘরছাড়াই হননি—খুইয়েছেন তাঁদের বহুমূল্য অমূল্য ঘরগেরস্তালির জিনিসপত্র, দলিলদস্তাবেজ জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, প্রাণাধিক প্রিয় পোষ্য পাখিপক্ষী গৃহপালিত—সর্বস্ব! মাত্র এক মাসে এমন সর্বস্ব হারানোর যন্ত্রণা ভোলা সহজ নয়—সম্ভবও না। অতএব ধরেই নেওয়া যায় এবারের পুজোর আনন্দ বউবাজারের ওই হতভাগ্য মানুষজনকে ছুঁয়ে গেলেও তাতে সাড়ম্বরে সাড়া দেওয়া তাঁদের অধিকাংশের পক্ষেই পুরোপুরি সম্ভব হবে না। এ কথা ঠিক, ঘটনা ঘটার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক তৎপরতা ও উদ্যোগের ফলে বউবাজারের ভেঙে পড়া বা হেলে-ফেটে বিপজ্জনক বাসের অযোগ্য বাড়িগুলোতে লুঠেরারা দাঁতনখ বসাতে পারেনি। তাঁর পুলিস প্রশাসন উদ্ধারযোগ্য সামগ্রী সংশ্লিষ্ট বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়ারও ব্যবস্থা করেছে। তবে, দুর্গা পিথুরি লেন ও সংলগ্ন এলাকায় যে বাড়িগুলো ভেঙে পড়ে ধ্বংসস্তূপের চেহারা নিয়েছে তার থেকে নথি ও জিনিসপত্র উদ্ধার তো খুব সোজা না। জানি না, সেই ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া জিনিসগুলো কীভাবে উদ্ধার হবে, আদৌ উদ্ধার করা যাবে কি না! না গেলে কত মানুষের যে কত অসুবিধে হবে তা আন্দাজ করা কঠিন নয়।
তবে কি দুর্ঘটনা বিপর্যয় তো আর জানান দিয়ে আসে না! নেপালের ভূমিকম্প কি আমাদের আয়েলার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে কত মানুষ ঘর-সংসার সব হারিয়ে রাতারাতি সর্বস্বান্ত হয়েছেন, কত সংসার উজাড় হয়ে গেছে—শত চেষ্টাতেও সেই ক্ষত পুরোটা পূরণ করা গিয়েছে কি? যায়নি। এই বউবাজারে রশিদ জমানার সেই ভয়ানক বিস্ফোরণের পর কত লোকের কত সর্বনাশ হয়েছিল—কজন তার বিহিত পেয়েছিলেন? মেট্রো রেলের সুড়ঙ্গ কাটতে গিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে বউবাজারে বাড়ি ধসে যে ক্ষতি বাসিন্দাদের হল তাতে তাই ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ বললে কিছুমাত্র ভুল হয় না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপে মেট্রো রেল হতভাগ্য পরিবার-পিছু আপাতত পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে স্বীকৃত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীও তাঁর তহবিল থেকে একই পরিমাণ টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। অর্থাৎ দশ লক্ষ। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তরা বাড়ির বদলে বাড়ি, দোকানের বদলে দোকান পাবেন অনতিবিলম্বেই। আর কী-ই বা করতে পারেন কর্তৃপক্ষ!
কিন্তু, মুশকিলটা হল—ওই বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা যা হারিয়েছেন ওই ত্রাণের টাকা কি নতুন বাড়ি-দোকান যে তার সবটা ফিরিয়ে দিতে পারবে না, তা বলাই বাহুল্য। কারণ, দীর্ঘদিন সে মালিক হয়েই হোক কি ভাড়াটিয়া একটা বাড়িতে সংসার পেতে আত্মীয়পরিজন সমেত ভালোমন্দ আলো-অন্ধকার আনন্দ-দুঃখ সব নিয়ে বসবাস করলে সেই বাড়িঘরের প্রতি বাসিন্দাদের একটা মায়া পড়ে যায়। কোনও কারণে একঝটকায় সে মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে গেলে তার যন্ত্রণা যে কত মর্মান্তিক হতে পারে তা বউবাজারের মতো ঘটনায় রাতারাতি বাস্তুচ্যুতরাই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন। টিভিতে দেখা ভুক্তভোগী মহিলার বুকফাটা কান্না যে সেই যন্ত্রণারই বহিঃপ্রকাশ তা কি বলার অপেক্ষা রাখে!
এ তো গেল একদিক। অন্যদিকে পুজো-দশেরার মুখে দেশজুড়েও তো নানা বিপর্যয়ের ছবি ও খবর উঠে আসছে কাগজে মিডিয়ায়! মারুতি কোম্পানির মতো দারুণ সংস্থাও নাকি সঙ্কটে! গাড়ি বিক্রি এমন তলানিতে যে দু’দিন প্রোডাকশন বন্ধ রাখার মতো প্রায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা! শুধু তাই নয়, কর্মী সংকোচনের কথাও নাকি উঠছে! দেশে আর্থিক মন্দার ছায়া পড়ছে দেখে রেল, বিএসএনএলের মতো সরকারি সংস্থার সঙ্গে বেসরকারি বহু সংস্থাও নাকি ছাঁটাইয়ের পথ নিতে বাধ্য হচ্ছে! অপ্রয়োজনীয় বিবেচনায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলোর ব্রাঞ্চের সংখ্যা কমানো হচ্ছে, একাধিক ব্যাঙ্ককে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে একসঙ্গে। অবশ্য, দেশের অর্থমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন—এর জন্য ব্যাঙ্কে কোনও কর্মী ছাঁটাই হবে না। ব্যাঙ্ক পরিষেবা আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে, চলতি মন্দার বাজারে এই আশ্বাসও কতটা ফলপ্রসূ হচ্ছে তা নিয়ে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞমহলের কোনও কোনও অংশেই নাকি সংশয় আছে! বাড়ি বাজারেও কেনাবেচায় ভাটার টান। নানান লোভনীয় অফারেও নাকি মন গলছে না ক্রেতার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাকা নেই মানুষের হাতে, মন গললেই বা কী হবে? এসব নিয়ে কিছুদিন আগেই আলোচনা হয়েছে। তাই বিশদে যাচ্ছি না। বলতে চাইছি এটুকুই যে, বউবাজারে বিপর্যয়ে যেমন কিছু মানুষের পুজোর আনন্দ মাটি হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে, তেমনি দেশ জুড়ে আর্থিকক্ষেত্রে চলতি অস্বস্তি মন্দাভাব বাদবাকিদেরও পুজো উদ্‌যাপন নিয়ে চিন্তা বাড়াচ্ছে।
সবচেয়ে বড় কথা সপ্তাহ দুয়েক আগে পুজোর বাজার নিয়ে যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম এর মধ্যেই তার চাপ বাস্তবে স্পষ্ট! চড় চড় করে দৈনন্দিন আনাজপাতি থেকে মাছ-মাংস সব কিছুর দাম বেড়ে যাচ্ছে! সব স঩ব্জিই প্রায় ৪০/৫০-এর কোঠা ছাপিয়ে ৬০/৭০-এ উঠে গেছে। পেঁয়াজ ৬০ থেকে একটু নামলেও আলু ১৪/২০-তে স্থির। মাছের বাজারে সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদে সবেরই কেজি পাঁচশো ছাড়িয়ে! মুরগির মাংসের দাম বাড়তে বাড়তে কেজি দুশো টাকা ছাড়াতে বসেছে। আদা এবং রসুনও রীতিমতো মহার্ঘ! মোটামুটি চালের দর ৩৫/৪০ টাকার নীচে নামছে না! ডাল তেল মশলার দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে! তাহলে মানুষ খাবে কী? দৈনন্দিনের দাবি মেটাতেই তো সাধারণ মানুষের পকেট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, তাহলে আসন্ন উৎসবের দিনগুলোতে আনন্দ ভোগের টাকা আসবে কোথা থেকে! এই কথা ভেবেই এখন একরকম দিশেহারা গ্রামশহর, এমনকী মহানগরের সাধারণ মধ্যবিত্ত, গরিবজন।
আগেই লিখেছি, এই জন্যই হয়তো পুজোর বাজার এবার এখনও বেশ ফাঁকা ফাঁকা। কেনাকাটায় এখনও সেই হইহই ভাবটাই জাগেনি! বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বোনাস এক্সগ্রাসিয়ার বাড়তি টাকা হয়তো পুজোর মুখে বাজারের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে, পুজো বাজারের সেই চিরচেনা গমগমে ভাবটাও দেখা যাবে।
সে যাক না যাক, একথা মানতেই হবে এবার পুজোর মুখে নানাবিধ বিপর্যয় ঘরে-বাইরে মানুষকে যথেষ্ট বিব্রত করে রেখেছে। পুজোর উদ্যোক্তাদের একাংশের মধ্যেও নানা কারণে এই বিব্রত ভাব ছড়িয়েছে। তবে আমাদের বিশ্বাস এবারও শেষঅবধি পুজোর বাজারে মানুষের ঢল নামবে, যথাযথ আড়ম্বর সহযোগে মা দুর্গার পুজো হবে, আনন্দের বান ডাকবে আসমুদ্র হিমাচল বাংলায় এবং অভাব-অভিযোগ ভুলে বাংলার মানুষ সংবৎসরের সেই মহোৎসবে শামিল হবেন। কিন্তু, বউবাজারে যাঁরা আচমকা গৃহহীন হলেন, সর্বস্ব হারালেন তাঁদের কী হবে? তাঁরা কতটা শামিল হতে পারবেন আসন্ন শারদোৎসবের আনন্দযজ্ঞে? জানি না। কিন্তু একটা কথা অনেকেই বলছেন, মেট্রো রেল সুড়ঙ্গ খোঁড়ায় আর একটু সতর্ক হলে বিপর্যয় এমন ভয়াবহ আকার নিত না! আমরা বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার নই, কেউ তাই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা আমাদের পক্ষে অসমীচীন। তবে, মিডিয়া কাগজে সংবাদ পড়ে শুনে, বিশেষজ্ঞদের অভিমত জেনে মনে হয়েছে—একটা গাফিলতি কোথাও না কোথাও ছিলই। আসলে এই ধরনের বিপদ যখন আসে ভুল বা গাফিলতির ছিদ্রপথেই আসে।
কিন্তু, পাশাপাশি এটাও সত্যি যে, যে কোনও বিপর্যয়ই মানুষ তার শক্তি সাহস মনোবল দিয়ে সামলে নেয় শেষ পর্যন্ত। এবং সময় তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সেই বিপর্যয়ের ক্ষত, তা সে যত বড়ই হোক ধীরে ধীরে ঢেকেও দেয়। বউবাজারের ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হবে বলে মনে হয় না। পুজোর এখনও তো মাসখানেক বাকি। ততদিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যক্তিগত উদ্যোগ, তাঁর প্রশাসনের সক্রিয়তা, সহায়তা, মেট্রো রেলের তৎপরতা এবং সর্বোপরি সময়ের অসাধারণ শুশ্রূষায় আজকের সব হারানো মানুষগুলোর বুকের পাষাণভার হয়তো কিছুটা লাঘব হবে, হয়তো মহাপুজোর আনন্দটান বউবাজার বিপর্যয়ের ব্যথা-কষ্ট আরও খানিকটা ভুলিয়ে দেবে এবং তখন হয়তো হাজার লাখ উৎসবমুখর জনতার ভিড়ে ওঁরাও মিশে যাবেন। হয়তো বলছি বটে, তবে বিগত দিনে বহুবার তো এমন বিপর্যয়ের মুখে তুড়ি মেরে জিতে গেছে বাংলার মানুষের পুজোর আবেগ, উৎসবপ্রীতি। এবারই বা তার ব্যতিক্রম হবে কেন!
08th  September, 2019
নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
একনজরে
বিএনএ, তমলুক: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলে দেশজুড়ে এত বৈষম্য আজ থাকত না। দেশের ৯৮ ভাগ পুঁজি মাত্র দু’শতাংশ মানুষের হাতে। আর মধ্যবিত্ত, ...

বিএনএ, তমলুক: বুধবার রাতে মেচেদায় ৪১নম্বর জাতীয় সড়কের ওভারব্রিজ এলাকায় ভাঙড়ের এক শিক্ষককে উদ্ধার করল কোলাঘাট থানার পুলিস। ওই শিক্ষকের দাবি, ওইদিনই বিকেল ৩টে নাগাদ ভাঙড় থানার কুলটি কলোনির বাড়ি থেকে তিনি বের হন। তখন তাঁর কাছে চার লক্ষ টাকা ...

  নয়াদিল্লি, ২৩ জানুয়ারি: এই প্রথম কোনও ভারতীয় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। পেশায় নার্স ওই মহিলা বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি কেরলের বাসিন্দা। ...

নয়াদিল্লি, ২৩ জানুয়ারি: সিএএ-এর বিরুদ্ধে আন্দোলনরত জেএনইউ এবং জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হুমকি দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ঠাৎ জেদ বা রাগের বশে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়াই শ্রেয়। প্রেম-প্রীতির যোগ বর্তমান। প্রীতির বন্ধন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮২৬: ব্যারিস্টার জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুরের জন্ম
১৮৫৭: প্রতিষ্ঠিত হল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৪৫: পরিচালক সুভাষ ঘাইয়ের জন্ম
১৯৫০: ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত হল ‘জনগণমন অধিনায়ক’
১৯৬৫ - ইংরেজ রাজনীতিবিদ ও লেখক উইন্স্টন চার্চিলের মৃত্যু
১৯৬৬: বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গির ভাবার মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪১ টাকা ৭২.১১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৬ টাকা ৯৫.২৬ টাকা
ইউরো ৭৭.৫২ টাকা ৮০.৪৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
23rd  January, 2020

দিন পঞ্জিকা

৯ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, অমাবস্যা ৫২/৪ রাত্রি ৩/১২। উত্তরাষা‌ঢ়া ৫০/৫৯ রাত্রি ২/৪৬। সূ উ ৬/২২/১৯, অ ৫/১৪/৪৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৮ মধ্যে পুনঃ ৮/৩২ গতে ১০/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১২/৫৩ গতে ২/২০ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৭ গতে অস্তাবধি। বারবেলা ৯/৫ গতে ১১/৪৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৮/৩১ গতে ১০/১০ মধ্যে।
৯ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার, অমাবস্যা ৫০/২১/৪৫ রাত্রি ২/৩৪/১৫। উত্তরাষাঢ়া ৫০/২৫/০ রাত্রি ২/৩৫/৩৩। সূ উ ৬/২৫/৩৩, অ ৫/১৩/২১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৬ মধ্যে ও ৮/৩১ গতে ১০/৪৪ মধ্যে ও ১২/৫৮ গতে ২/১৭ মধ্যে ও ৩/৫৭ গতে ৫/১৩ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৮ গতে ৮/৫১ মধ্যেও ৩/৪৩ গতে ৪/৩৪ মধ্যে। কালবেলা ১০/২৮/৩১ গতে ১১/৪৯/২৭ মধ্যে, কালরাত্রি ৮/৩১/২৪ গতে ১০/১০/২৫ মধ্যে।
 ২৮ জমাদিয়ল আউয়ল

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি ব্লকগুলিতে মানববন্ধন কর্মসূচি, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী 
আজ সিএএ, এনআরসি ইস্যু নিয়ে দলীয় বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ...বিশদ

06:32:00 PM

২২৬ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:16:17 PM

প্রথম টি-২০: নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতল ভারত 

03:48:28 PM

বিধাননগর পুরসভায় অভিযান বিজেপির
 

ডেঙ্গু রোধে খাল পরিষ্কার, বেআইনি পার্কিং বন্ধ সহ একাধিক দাবিতে ...বিশদ

03:39:00 PM

প্রথম টি-২০: ভারত ১৫১/৪ (১৫ ওভার) 

03:31:02 PM

প্রথম টি-২০: ভারত ১৪২/৩ (১৩ ওভার)
 

03:20:26 PM