Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অজানা ভবিষ্যৎ
সমৃদ্ধ দত্ত

অপেক্ষা থাকে কবে প্রোমোটার ফ্ল্যাটের পজেশন দেবে। প্রতি মাসের অন্তে সামান্য হলেও অপেক্ষায় মন উচাটন থাকে কখন হবে স্যালারি ট্র্যান্সফার, আসবে মেসেজ। অপেক্ষা থাকে মেয়েকে গত রবিবার দেখে যাওয়া পাত্রপক্ষের ফোনের। অপেক্ষা করি ছেলেমেয়ের রেজাল্টের। অপেক্ষায় দিন গুনি কবে হবে ডিএ কিংবা পে কমিশন। আর কতদিন পুজোর? অপেক্ষা। একটা আই ফোন কিনব কবে? অপেক্ষা। আমার প্রিয় দল কবে বসবে ক্ষমতায়? অপেক্ষা করি। এসব নয়। রামশংকর সিং-এর প্রিয় অপেক্ষার নাম লাঞ্চ ব্রেক এবং টি ব্রেক। অপেক্ষা থাকে তাঁর কখন একটু বসবেন! রামশংকর সিং অপেক্ষা করেন বসার। দিল্লি লাগোয়া উত্তরপ্রদেশের এক উজ্জ্বল জনপদ বৈশালীর একটি ঝকঝকে শপিং মলে ভারতবিখ্যাত ব্র্যাণ্ড ক্লোদিং আউটলেটের পুরুষদের ট্রায়াল রুমের বাইরে ডিউটি রামশংকর সিং-এর। পরপর চারটি কাঠে ঘেরা ট্রায়াল রুম। ঠিক মুখেই তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন। কোন কোন পোশাক নিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতারা ঢুকছে এবং বেরচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখা এবং তাঁদের পছন্দ বা ফিট না হওয়া হেলাফেলায় একটা টেবিলে রেখে যাওয়া পোশাকগুলি নিয়ে আবার স্টোর সুপারভাইজারকে দেওয়া। সকাল ১০ টা থেকে রাত ১০ টা। ডিউটি। একটাই শর্ত। বসা যাবে না।
উত্তরপ্রদেশের খুর্জার এক গ্রাম থেকে শহরে চলে আসা ৫৩ বছরের রামশংকর সিং নিচুগলায় বললেন, মেরুদণ্ডে একটা গোলমতো কি যেন হয়েছে। খুব ব্যথা করে। রাতে ফিরে ঘুমাতে পারি না যন্ত্রণায়। ডাক্তার কিছু পরীক্ষা দিয়েছেন। আর বলেছেন, দাঁড়ানো বন্ধ করতে হবে। ম্লান হেসে রামশংকর সিং বলেছিলেন, কোনওটাই তো হল না। কেন? জানা গেল আটমাস আগে এই স্টোর চারজন সিকিউরিটি গার্ডকে সরিয়ে দিয়েছে। আর তার পরিবর্তে রামশংকর সিং-এর মতো কয়েকজনের আর ছুটি নেই। সপ্তাহে সাতদিনই ডিউটি। তাই মেরুদণ্ডের পরীক্ষা করবেন কখন। সাতদিন ১২ ঘণ্টা একমাস। ১২ হাজার টাকা। রামশংকর সিং-এর তাই একটাই অপেক্ষা লাঞ্চ ব্রেক। ৩০ মিনিটের। খাওয়ার অপেক্ষা? না। বসার। টি ব্রেক। ১৫ মিনিট।
একটু বসার অপেক্ষা। ১২ ঘণ্টার মধ্যে ১১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যায় বলুন? অন্য কোথাও যাচ্ছেন না কেন? রামশংকর সিং সিসিটিভির দিকে ভয়ার্ত চোখে তাকিয়ে দৃষ্টি নামিয়ে বললেন, সব ছাঁটাই হচ্ছে জানেন তো। সর্বত্র। ছেলে রয়পুরে কনস্ট্রাকশনের কাজ করত। কিন্তু সে তো সেই নোটবন্দির পর থেকে আর কাজ নেই তেমন। তাই ছেলে গ্রামে ফিরে কোনওমতে চাষ করে। গ্রামে কাজ নেই। এই চাকরিটা দরকার বড়। তাই মেরুদণ্ডের ব্যথার কথাও বলিনি। রামশংকর সিং-এর প্রিয় মুদ্রাদোষ ঘনঘন ঘড়ির দিকে তাকানো। কখন দুপুর দুটো বাজবে। লাঞ্চ। একটু বসবেন। ওই যে অপেক্ষা করছেন ভারতের রামশংকর সিংরা। সামান্য চাহিদা নিয়ে। বসার।
মুম্বইয়ের মাহিমে ৪০০ স্কোয়ার ফিট ঘরে ৩৫ জন জরিশিল্পীর মধ্যে সারাদিন খুব বন্ধুত্ব। সন্ধ্যার পর সেই বন্ধুত্বে ফাটল ধরে। তখন প্রতিযোগী পরস্পরের। কে আগে রাতের খাওয়া সেরে আসতে পারবে। আর এসেই শুয়ে পড়বে কয়েকটি বিশেষ জায়গায়। ৪০০ স্কোয়ার ফুট ঘরে তিনটি ফ্যান। ৩৫ জনের প্রত্যেকেই চায় ফ্যানের নীচে শুতে। আর তা নিয়েই বাদানুবাদ, তর্কাতর্কি আর মতান্তর।
একটা রুটিন করে দিয়েছেন মালিক। সোম থেকে রবি। প্রত্যেকের নামের তালিকা করা হয়েছে যে কে কবে ফ্যানের নীচে। রোটেশন করে। যেখানে ১২ ঘণ্টা ধরে শাড়িতে মেটালিক থ্রেড, প্লাস্টিকের ফুল, পাতা লাগাতে হয় ছোট ছোট নিডল দিয়ে। মুম্বইয়ের জরি শিল্পের নিয়ম হল ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ৬ ঘণ্টার জন্য জরিশিল্পীরা পায় ২২৫ টাকা। পরবর্তী ৪ ঘণ্টার জন্য ২২৫ টাকা। আর একেবারে শেষে ২ ঘণ্টার জন্য ১০০ টাকা। একে বলে নাফরি। মাসে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা আয়। নিজেদের খরচ চালাতে ব্যয় হয় ৪ হাজার টাকা। বাকি টাকা আসে বিহারে, ঝাড়খণ্ডে, পশ্চিমবঙ্গে, উত্তরপ্রদেশে, দিল্লিতে। অর্থাৎ পরিবারের কাছে ৪৫০ টাকা নেওয়া সয় ১২ টা মিলের জন্য।
গত সাড়ে তিন বছরে এই মজুরি বহু ওয়ার্কশপে এক পয়সাও বাড়েনি। আর অন্যদিকে নাফরি কমে যাচ্ছে। কারণ অর্ডার নেই। জিএসটির কারণে সুরাত, দিল্লি, দেরাদুন, হায়দরাবাদ, আমেদাবাদ, কেরল, ভোপাল, বিলাসপুর সর্বত্র বাজার মন্দা হওয়ায় মুম্বইয়ের প্রতিটি ওয়ার্কশপে কমে যাচ্ছে অর্ডার। আর তাই এখন আর একজনকে ১২ ঘণ্টা ডিউটি দেওয়া যাচ্ছে না। হয়তো ৬ ঘণ্টা ডিউটি পাচ্ছে। অন্য কেউ পাচ্ছে বাকি ৬ ঘণ্টা। এক ধাক্কায় আয় কমেছে। কিন্তু জানা যাচ্ছে বিহার আর উত্তরপ্রদেশের কয়েকটি জেলা থেকে যাওয়া কর্মীরা উভয়সঙ্কটে। কারণ আয় অর্ধেক হয়ে গেলেও তাঁরা নিজেদের গ্রামে ফিরেও আসতে পারছেন না। কারণ গ্রামে ১০০ দিনের কাজ করলেও নাকি সেই টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।
সীতাপুর জেলায় গ্রামের পর গ্রামে গ্রামবাসীর কাছে ফোন এসেছিল এখনই আধার নম্বর মোবাইলে লিংক করো, তা না হলে সিম বন্ধ হয়ে যাবে। দেডোরিয়া গ্রামের প্রমোদ কুমার গ্রাম থেকে চার কিলোমিটার দূরে মোবাইল শপে সেকথা বললে, দোকানি একটা কালো মেশিনে প্রমোদ কুমারের আঙুল রাখতে বলে দুবার পুশ করেন এবং বলেন যাও, হয়ে গেল। প্রমোদকুমার ফিরে এলেন। চারমাস ধরে তিনটে পুকুর কাটার কাজ করেছেন। মোট প্রাপ্তি ৪২০০ টাকা। ব্যাঙ্কে সেই টাকা আর আসে না। ৬০ টাকা খরচ করে টেম্পোতে চেপে যেতে হয়েছিল শহরের দপ্তরে। সেখানে কম্পিউটার দেখে বলা হল তোমার টাকা তো ব্যাঙ্ক ট্র্যান্সফার হয়েছে। এই তো দেখাচ্ছে! প্রমোদকুমার মহা বিপদে পড়লেন।
টাকা কোথায় গেল? একের পর এক গ্রামবাসীর টাকা উধাও। তারা সকলে মিলে সেই অফিসে আবার গেলেন। তারা এবার ভালো করে কম্পিউটার চেক করে বললেন, তোমাদের আগে যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল সেটা তো চেঞ্জ হয়েছে। এখানে নতুন এক অ্যাকাউন্ট দেখাচ্ছে। ওখানেই গেছে টাকা। প্রমোদকুমাররা জানেই না কোথায় নতুন অ্যাকাউন্ট! এক সহৃদয় ব্যাঙ্ককর্মী আবিষ্কার করলেন মোবাইল সার্ভিস প্রভাইডার কোম্পানি পেমেন্ট ব্যাঙ্ক চালু করেছে। ওই যে ফোনে আধার নম্বর চাওয়া হল এবং প্রমোদকুমাররা গিয়ে লিংক করিয়ে এলেন, আসলে ওই আধার নম্বরের মাধ্যমে তাঁদের অজ্ঞাতেই তাঁদের নামে পেমেন্ট ব্যাঙ্ক ‌অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে গিয়ে সেই অ্যাকাউন্টই শো করতে শুরু করেছে সরকারি দপ্তরে। আর সব টাকা সেখানে যাচ্ছে।
কিন্তু সেই ব্যাঙ্কের তো কোনও অবয়ব নেই। সবটাই অনলাইন। সেই মোবাইল কোম্পানির আউটলেটে গেলে তারা বলল,এখন ২১০০ টাকা দেওয়া যাবে। বাকি টাকা একমাস পর। প্রমোদকুমার তাই নিলেন। এবং একমাস পর গিয়ে তাঁকে দেওয়া হল ২০৫০ টাকা। ৫০ টাকা তখনও রয়ে গেল। গ্রাম থেকে প্রত্যেকবার এখানে আসতে তাঁর খরচ ৬০ থেকে ৭০ টাকা। খাওয়া আলাদা। সারাদিনের ধাক্কা। আর পরের মাসে যখন আনতে গিয়েছিলেন তখন তাঁকে বলা হল ওই ৫০ টাকা তো তোলা যাবে না! কেন? কারণ ১০০ টাকার কমে টাকা উইথড্র হয় না। সুতরাং ওই ৫০ টাকা পেতে প্রমোদকুমারদের আবার ১০০ দিনের কাজ করতে হবে। সেই টাকা আবার জমা পড়তে হবে। কবে পাওয়া যাবে ঠিক নেই। সীতাপুর জেলার বহু গ্রামেব বাসিন্দারা তাই ১০০ দিনের কাজে আর অ্যাপ্লাই করছে না। কারণ টাকা পাওয়ার ঠিক নেই।
সাধারণত এইসব গ্রামের মানুষের একাংশ চলে যান মুম্বইয়ে কাজের খোঁজে। যেমন জরিশিল্প। অথবা দিল্লি নয়ডা গুরুগ্রাম। কনস্ট্রাকশন সাইটে। আর অন্যরা গ্রামেই কৃষি বা ১০০ দিনের কাজে থেকে যান। এখন উভয় সঙ্কট। গ্রামে ১০০ দিনের কাজে টাকার নিশ্চয়তা নেই। কৃষিতে লাভ নেই। আবার শহরের রিয়াল এস্টেট স্তব্ধ। মুম্বইয়ের জরি শিল্প সঙ্কটে। সুরাতের টেক্সটাইল মিলে কাজ নেই। গোটা দেশের সমান্তরাল ইকনমি আসলে চালায় মাইগ্রেটেড লেবাররা। ওড়িশা দলে দলে যায় গুজরাত। বাংলা যায় গোটা দেশেই। আজও ভদোদরা গেলে দেখা যাবে সেখানে গণেশ চতুর্থীর প্রতিমা নির্মাণের কারিগর হিসাবে সবথেকে বড় চাহিদা যাঁকে ঘিরে, তাঁর নাম তপন মণ্ডল। আর সবথেকে বড় ধাক্কা এই আর্থিক মন্দায় খেয়েছে এই মাইগ্রেটেড লেবাররাই।
এই কাহিনীগুলি উল্লেখের কারণ হল জিডিপি বৃদ্ধির হার বিগত ৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হয়ে কত পার্সেন্ট হল অথবা ম্যানুফাকচারিং রেট ১ শতাংশের নীচে নেমে গেল এগুলো অবশ্যই সাংঘাতিক উদ্বেগজনক। কিন্তু নেহাত এসব দিয়ে অর্থনীতির সঙ্কট যে কতটা গভীরে তা বোঝা যাবে না। আর্থিক মন্দার অন্যতম প্রধান কারণ একদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় ডুবে যাচ্ছে ভারতে, আবার অন্যদিকে শহরাঞ্চলে কাজের সুযোগ কমছে। আর এই দুটির জন্যই দায়ী দুটি অবিমৃশ্যকারী সিদ্ধান্ত। নোটবাতিল এবং সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত জিএসটি। ২০১৮ সালে তামিলনাড়ু সরকার বিধানসভায় বিবৃতি দিয়ে বলেছে ওই রাজ্যে নোটবাতিলের ফলে ৫০ হাজার ক্ষুদ্র শিল্প বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাড়ে ৬ লক্ষ মানুষ কর্মহীন হয়েছেন।
তাহলে গোটা দেশের চিত্রটা কেমন? নোটবাতিল আর জিএসটি সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল এই প্রচারে অনড় থেকে কেন্দ্রীয় সরকার এই দুটির যে কোনও বিরুদ্ধমতকেই অসত্য বলে পাল্টা আক্রমণ করে এসেছে বরাবর। কিন্তু তাহলে এখন কেন দফায় দফায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে শুধুই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য হাজারো আর্থিক প্যাকেজ দিতে হচ্ছে? কেনই বা জিএসটির রেট বারংবার পরিবর্তন করে,পূর্বঘোষিত তাবৎ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হচ্ছে? সুতরাং সরকারও পরোক্ষে স্বীকার করছে ওই সিদ্ধান্তগুলি ভুল ছিল। ডঃ মনমোহন সিং অথবা নরেন্দ্র মোদি—কোনও প্রধানমন্ত্রীই তো কখনও চাইবেন না যে দেশের অর্থনীতির সর্বনাশ হোক! তিনি তো চাইবেন যাতে অর্থনীতির উন্নতি হয়, কর্মসংস্থান বেড়ে যায়। যাতে তিনি মানুষের সমর্থন পান। আবার ভোটে জেতেন। এটা তো স্বাভাবিক।
তাহলে তাঁরা কারা, যাঁরা এসব সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করতে বলেছিল মোদি সরকারকে? তাঁরা কী উপকার করেছে এই সরকারের? নাকি ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে শুধু দেশকে নয়, সরকারকেও বিপাকে ফেলেছে। তাঁদেরও কিন্তু চিহ্নিত করা দরকার। তাঁদের কী উদ্দেশ্য ছিল? এসবকে ছাপিয়ে যে প্রশ্নটা আরও বড় আকারে সামনে আসছে সেটি হল তাহলে এরপর কী? দুনিয়া জুড়ে অর্থনীতির সঙ্কট চলছে অনেকদিন হল। আমেরিকা, রাশিয়াতেও আর্থিক মন্দা। কিন্তু তাদের সুবিধা আছে। অস্ত্রবিক্রির ব্যবসা। অসংখ্য কর্পোরেট। আর তেল। এই তিনটি কর্পোরেশন ওই দুই দেশকে বাঁচিয়ে দেয়। যখনই আর্থিক মন্দা আসে তখনই এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা তৈরি হয়। আর আমেরিকা রাশিয়াদের অস্ত্রবিক্রির চুক্তি বেড়ে যায়। ব্যালান্স হয়ে যায় তাদের। কিন্তু ভারত কী করবে?
লক্ষ করা যাচ্ছে সবরকম প্যাকেজ, সবরকম উদার অর্থনীতির সুযোগ ঘোষণা করা সত্ত্বেও অর্থনীতির বেহাল দশা থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে না। কর্মীছাঁটাই হয়ে চলেছে, ক্রয়ক্ষমতা কমার ফলে পণ্য বিক্রি কমছে। মুদ্রার নিম্নমুখী প্রবণতা বিপজ্জনক। এ থেকে একটি প্রশ্ন বিশ্বজুড়ে তৈরি হচ্ছে। তাহলে কি অবশেষে ক্যাপিটালিজমের পথ এখানেই শেষ? নতুন কিছু উদ্ভাবনের আর ক্ষমতা নেই পুঁজিবাদের? প্রমাণিত হচ্ছে ক্যাপিটালিজম ব্যর্থ? সমাজতন্ত্রের পরীক্ষা তো আগেই ব্যর্থ। ক্যাপিটালিজম ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাচ্ছে ডেমোক্রেসিও ক্রমেই কমছে। বাড়ছে ধনীদরিদ্র বৈষম্য। তাহলে কোনদিকে যাচ্ছে নতুন পৃথিবী? এরপর কী?
06th  September, 2019
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে পুরভোট কার্যত সেমিফাইনাল
হিমাংশু সিংহ

মাত্র এক বছর পরেই বিধানসভার ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে পরপর তিনবার বাংলায় ক্ষমতা দখলের সুবর্ণ সুযোগ। এই অবস্থায় শাসক তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের উচিত সংযত থাকা। সেইসঙ্গে গণ্ডগোল, রক্তপাত এড়ানোর সবরকম চেষ্টা করা। তাহলেই এরাজ্যের মানুষ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দ্বিধায় আরও একবার দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করবেন।
বিশদ

প্রার্থী নির্বাচনে সাহসী হলে পুরভোটে লাভ পাবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস
তন্ময় মল্লিক

নির্বাচন মানেই পরীক্ষা। রাজনৈতিক দলের পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষা পুরসভা বা পঞ্চায়েতের হলে বিষয়বস্তু হয় উন্নয়ন, পরিষেবা ও সমস্যা। কিন্তু, এই ধরনের পরীক্ষায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর মুখ। আর এবার পুরভোটে তৃণমূলের কাছে প্রার্থী নির্বাচনই অগ্নিপরীক্ষা। তার জন্য তৃণমূল সহ রাজ্যবাসী তাকিয়ে আছে টিম পিকের দিকে।  
বিশদ

22nd  February, 2020
বিশ্বাসের অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিগত তিন বছর ধরে ভারতের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা জমা রাখছে বেসরকারি ব্যাঙ্কে। সরকারি তথা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে নয়। দেশের আটটি সরকারি এবং আটটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গিয়েছে। যার ফলশ্রুতি হল সরকারি ব্যাঙ্কে যে টাকা জমা রয়েছে তার সিংহভাগই আগে থেকে জমা হয়ে থাকা ফিক্সড ডিপোজিট।
বিশদ

21st  February, 2020
মুখ চাই মুখ
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মুখ হয়তো অনেক আছে। কিন্তু, ঠিক সেই মুখটির দেখা এখনও মেলেনি। কোন মুখটি? যে মুখটি সৌজন্যে পরাক্রমে রাজনৈতিক কূটকৌশলে এবং অবশ্যই জনপ্রীতিতে পাল্লা দিতে পারে বাংলার একচ্ছত্র নেত্রীকে, ২০২১ বিধানসভার রণাঙ্গনে ছুঁড়ে দিতে পারে চ্যালেঞ্জ, জাগাতে পারে আর এক মহাবিজয়ের সম্ভাবনা। সেই মুখ কোথায় পদ্মশিবিরে? 
বিশদ

20th  February, 2020
বিপুল অভ্যর্থনা পেয়ে বিশ্বজয়ী বিবেকানন্দ
কলকাতায় বলেন, এ ঠাকুরেরই ‌জয়জয়কার
হারাধন চৌধুরী

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘নরেন শিক্ষে দেবে।’’ ঠাকুরের কথা ফলিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর মানসপুত্রটি বেছে নিয়েছিলেন পাশ্চাত্যের মাটি। কারণ, যে-কোনও জিনিস পাশ্চাত্যের মানুষ গ্রহণ করার পরেই যে ভারতের মানুষ তা গ্রহণে অভ্যস্ত! স্বামী বিবেকানন্দের সামনে সেই সুযোগ এনে দিয়েছিল শিকাগো বিশ্ব ধর্ম মহাসভা।
বিশদ

19th  February, 2020
ট্রাম্পের ভারত সফর এবং প্রাপ্তিযোগের অঙ্ক 

শান্তনু দত্তগুপ্ত: সফর মাত্র দু’ঘণ্টার। আর তাতে আয়োজন পাহাড়প্রমাণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে কথা! তাই এতটুকু ফাঁক রাখতে নারাজ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি (বা বেসরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি)।  বিশদ

18th  February, 2020
টুকরে টুকরে গ্যাং-ই জিতল
পি চিদম্বরম

 গত ১১ ফেব্রুয়ারি লোকসভার কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত নিম্নলিখিত প্রশ্নোত্তরগুলি আনন্দের কারণ হতে পারত যদি না বিষয়টি বিজেপি নেতাদের (এই পঙ্‌ক্তিতে আছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীরাও) দুঃখের ধারাবিবরণীতে পরিণত হতো: বিশদ

17th  February, 2020
স্বর্গলোকে মহাত্মা ও
গুরুদেবের সাক্ষাৎকার
সন্দীপন বিশ্বাস

 অনেকদিন পর আবার দেখা হল মহাত্মা এবং গুরুদেবের। মর্ত্যে দু’জনের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল শান্তিনিকেতনে ১৯১৫ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি। তারপর বেশ কয়েকবার তাঁদের দেখা হয়েছিল। কবিগুরু সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন ১৯২০ সালে। বিশদ

17th  February, 2020
এবার হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় অগ্নিকন্যা
হিমাংশু সিংহ

তবে কি দিল্লিতে হেরে বোধোদয় হল অমিত শাহদের? নাকি ভোট জেতার নামে ঘৃণা ছড়ানো ঠিক হয়নি বলাটা আরও বড় কোনও নাটকের মহড়ারই অংশ? বোঝা কঠিন, তুখোড় রাজনীতিকরা কোন উদ্দেশ্যে কখন কোন খেলাটা খেলেন! আর সেই তালে অসহায় জনগণকে তুর্কি নাচন নাচানো চলে অবলীলায়। 
বিশদ

16th  February, 2020
শাহিনবাগে যেসব কথা জানানো হয়নি

 ‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ’, যেখানে মহিলারা পূজিতা হন সেখানেই ভগবান অবস্থান করেন। ভারতবর্ষের মানুষ হাজার বছর ধরে এই শ্লোক আবৃত্তি করে এসেছে। গত একমাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির শাহিনবাগে শিশু থেকে বৃদ্ধা বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের কষ্ট দেওয়া হয়েছে। বিশদ

15th  February, 2020
মাফলার ম্যানের দিল্লি জয়
মৃণালকান্তি দাস 

ঠেকে শিখেছেন তিনি। ‌‌‌‌পদস্থ আমলা থেকে রাজনীতিক এবং প্রশাসক হিসেবে পরিণত হয়েছেন। বুঝেছেন, এ দেশের আমআদমি বাড়ির কাছে ভালো স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল চান। বাড়ির মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েই তাঁদের উদ্বেগ। 
বিশদ

14th  February, 2020
রাজনীতির কাছে মানুষের চাহিদাটাই
বদলে দিল দিল্লির এই ভোট-সংস্কৃতি
হারাধন চৌধুরী

 প্রতিমা গড়ে পুজো করা আর ভগবানকে লাভ করা এক নয়। প্রতিমা সাজিয়ে পুজো যে-কেউ করতে পারে। কিন্তু, ভগবান লাভ? মানুষ চিরদিন মনে করে এসেছে, সে শুধু সাচ্চা সাধকের পক্ষেই সম্ভব। কিন্তু, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এসে একেবারে অন্যকথা বললেন।
বিশদ

13th  February, 2020
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ)-এর টাকা নিয়ে অনিয়ম আটকাতে পুরো ব্যবস্থাটিকে অনলাইনে এইচআরএমএস পোর্টালে নিয়ে আসা হচ্ছে। অতীতে জিপিএফ নিয়ে সরকারি অফিসে একাধিক অনিয়মের ঘটনা ধরা পড়েছে। ...

ওয়েলিংটন, ২২ ফেব্রুয়ারি: অন্তিম সেশনে ইশান্ত-সামি-অশ্বিনরা যেভাবে লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন, তা ভারতের পক্ষে খুবই ইতিবাচক। বাইশ গজে দারুণ জমে যাওয়া কেন উইলিয়ামসন ও রস ...

 ওয়াশিংটন, ২২ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): নিজের ভূখণ্ডে থাকা জঙ্গি ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামলেই একমাত্র ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারবে পাকিস্তান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের আগে সন্ত্রাস ইস্যুতে এভাবেই ইসলামাবাদের উপর চাপ বাড়াল আমেরিকা। ...

 সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি, ২২ ফেব্রুয়ারি: স্টেজ হবে রিভলভিং। থাকবে দুটি পোডিয়াম। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য। ঠিক যেখানে ক্লাবহাউস প্যাভিলিয়ন তার নীচেই হবে মঞ্চ। আর মোট চারটি ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের মানসিক স্থিরতা রাখা দরকার। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। তবে নতুন বন্ধু লাভ হবে। সাবধানে পদক্ষেপ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস
১৮৪৮: কার্ল মার্ক্স প্রকাশ করেন কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো
১৮৭৮ - মিরা আলফাসা ভারতের পণ্ডিচেরি অরবিন্দ আশ্রমের শ্রীমার জন্ম
১৮৯৪: ডাঃ শান্তিস্বরূপ ভাটনগরের জন্ম
১৯৩৭: অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫২: পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিলেন চারজন
১৯৬১: নোবেলজয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৭০ - অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার মাইকেল স্লেটারের জন্ম
১৯৯১: অভিনেত্রী নূতনের মৃত্যু
১৯৯৩ - বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ও কবি অখিল নিয়োগীর (যিনি স্বপনবুড়ো ছদ্মনামে পরিচিত) মৃত্যু
২০১৩: হায়দরাবাদে জোড়া বোমা বিস্ফোরণে ১৭জনের মৃত্যু

১৭৩২: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটনের জন্ম
১৯০৬: অভিনেতা পাহাড়ি সান্যালের জন্ম
১৯৪৪: মহাত্মা গান্ধীর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধীর মৃত্যু
১৯৫৮: স্বাধীনতা সংগ্রামী আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু
২০১৫: বাংলাদেশে নৌকাডুবি, মৃত ৭০

21st  February, 2020




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৯৪ টাকা ৭২.৬৫ টাকা
পাউন্ড ৯০.৯৮ টাকা ৯৪.৩০ টাকা
ইউরো ৭৬.০৫ টাকা ৭৯.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  February, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৩,১৬০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪০,৯৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪১,৫৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রবিবার, (মাঘ কৃষ্ণপক্ষ) অমাবস্যা ৩৭/১৭ রাত্রি ৯/২। ধনিষ্ঠা ১৮/৫৮ দিবা ১/৪৩। সূ উ ৬/৭/২৩, অ ৫/৩৩/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৩ গতে ৯/৫৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১৩ গতে ৮/৫৪ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৫ গতে ১/১৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৫ গতে ২/৫৮ মধ্যে। 
১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রবিবার, অমাবস্যা ৩৪/৪২/৪০ রাত্রি ৮/৩/৩৭। ধনিষ্ঠা ১৭/৩৭/৪৩ দিবা ১/১৩/৩৮। সূ উ ৬/১০/৩৩, অ ৫/৩১/৫৮। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪০ গতে ৯/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৭ গতে ৮/৫৪ মধ্যে। কালবেলা ১১/৫১/১৬ গতে ১/১৬/২৬ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৬/৫ গতে ৩/০/৫৪ মধ্যে। 
২৮ জমাদিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ময়নাগুড়ির বালাসন এলাকায় চিতা বাঘের আতঙ্ক, ঘটনাস্থলে বনদপ্তরের কর্মীরা 

22-02-2020 - 02:10:59 PM

কোচবিহারে পথ দুর্ঘটনায় জখম ১০ 
কোচবিহারের বানেশ্বর শিব মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢেলে বাড়ি ফেরার ...বিশদ

22-02-2020 - 01:48:00 PM

জয়নগরে স্কুলের গেটে ট্রাকের ধাক্কায় জখম প্রহরী 

22-02-2020 - 01:02:00 PM

বারুইপুরে আত্মঘাতী কিশোরী 
বারুইপুরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী কিশোরী। গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে ...বিশদ

22-02-2020 - 01:01:00 PM

কৃষ্ণা বসুর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 

22-02-2020 - 12:57:00 PM

উলুবেড়িয়ায় ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে উল্টাল গ্যাস ট্যাঙ্কার, ব্যাহত যান চলাচল 

22-02-2020 - 12:39:00 PM