Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

নীতির অভাবে ডুবছে দেশের অর্থনীতি 

সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়: খুব কঠিন একটা পরিস্থিতির মুখে পড়েছে ভারতের অর্থনীতি। গত এক বছরের মধ্যে আর্থিক বৃদ্ধির হার কমেছে ৩ শতাংশ, যা অভূতপূর্ব ও অভাবনীয়। পরিস্থিতিটা এমনই যে গ্রামবাংলায় মানুষের বিস্কুট কেনার টাকাতেও টান পড়ছে। সংবাদে প্রকাশ, ভারতের সবচেয়ে বড় বিস্কুট কোম্পানি পার্লের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে পাঁচ টাকার বিস্কুট কেনার চাহিদা এত কমে গেছে যে হাজার দশেক কর্মী ছাঁটাই করতে হবে। একই ছবি ব্রিটানিয়াতেও। মানুষ গ্রামবাংলায় খুব কোণঠাসা অবস্থায়। উদ্বৃত্ত টাকা হাতে ক্রমশ কমছে। কৃষকরা ফসলের দাম পাচ্ছেন না বহুদিন। চাষ করার খরচ এতটাই বেড়ে গেছে এবং ফসল বিক্রির পর হাতে যা মার্জিন তা দিয়ে সংসার চলে না। সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি আর সহায়ক মূল্যের সাপোর্ট ছাড়া কৃষকরা চাষের কাজে খুব একটা সাহস পাচ্ছে না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নাভিশ্বাস। ব্যাঙ্কের ঋণ তারা প্রয়োজন মতো পায় না, সরকার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে কিন্তু পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না। কর্পোরেট সেক্টরে লগ্নি বাড়ছে না। ব্যাঙ্কের লক্ষ কোটি টাকার ঋণ এখন অনাদায়ী। এতে ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ঋণের দায়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে বহু কর্পোরেট। রিলায়েন্স অনিল আম্বানি থেকে ভিডিওকন, জেট এয়ারওয়েজ থেকে ছোট মাঝারি বহু শিল্প সংস্থা দেউলিয়া হওয়ার মুখে। ক্রমশ চাহিদা কমছে নির্মাণ শিল্পে, গাড়ি শিল্পেও। অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে ৩০ টি শহরে ১২ লাখ ৮০ হাজার ফ্ল্যাট পড়ে আছে। তার মধ্যে শুধু কলকাতায় ২০ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। দাম অনেক কমিয়েও বিক্রি করা যাচ্ছে না। একই অবস্থা গাড়ি শিল্পেও। সাপ্তাহিক উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে বিভিন্ন বড় বড় গাড়ি নির্মাতাদের কারখানায়। ব্যাঙ্কের টাকায় বড় বড় প্রজেক্ট নামানোর পর সেগুলি থেকে উদ্বৃত্ত তুলতে না-পারার ব্যর্থতায় কর্পোরেট ভারতের একটি বড় অংশ নতুন করে লগ্নিতে আর আগ্রহী নয়। এই সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সরকার দেশের চাহিদা বৃদ্ধি করার রাস্তাটাও খুঁজে পাচ্ছে না। সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমির তথ্য জানাচ্ছে, গত ২৫ বছরে এমন খারাপ অবস্থা এদেশের অর্থনীতিতে হয়নি।
এমন পরিস্থিতি হল কেন? সর্বশেষ বাজেট এবং তার আগের বছরের বাজেটের মধ্যে বাস্তবিক রিয়াল ফিগার অনুযায়ী ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। সিএজির তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সত্য ধরা পড়ছে। এর বড় কারণ, যে-হারে জিএসটি নেওয়া উচিত তার রেশনালাইজেশন হয়নি। জিএসটির মাত্রাতিরিক্ত হার অনেক ক্ষেত্রেই চাহিদা কমানোর ফলে বিক্রিবাট্টাও কমে গেছে। সরকারের আয় কমে গেছে। কোষাগারে ঘাটতি মেটাতে লাভজনক রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু, এভাবে সম্পদ বিক্রি করে কতদিন চলবে? আগে বলা হতো, বেসরকারিকরণ করলে সরকারি সংস্থাগুলির পরিষেবা দেওয়ার ক্ষমতা ও মুনাফা দুটোই বাড়বে। কিন্তু, পরিষেবা এবং মুনাফায় যারা বেসরকারি সংস্থা থেকেও এগিয়ে সেই সমস্ত নবরত্ন ও মহামূল্যবান সরকারি সংস্থা বিক্রি করা হচ্ছে কেন?।
অর্থনীতির পরিচালনা দেশের আম জনতার স্বার্থে না কি একটি উচ্চবিত্ত শ্রেণী ও কতিপয় কর্পোরেটের স্বার্থে? একতরফা একচেটিয়া পুঁজির স্বার্থে মোদি এতটাই খুল্লামখুল্লা যে, নিজেই বলেছেন, চাষ করে লাভ না-পেলে দুর্বল কৃষক বড় বড় কোম্পানির কাছে জমিটা বিক্রি করে দিক। সেই কোম্পানির কাছে দুর্বল চাষি চাকরি করুক! অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটাই কিন্তু অর্থনীতি নিয়ে মোদির ভাবনা বা মোদি ভিশন। যে ভিশন এ আম জনতার ভালো থাকার উপায় হিসেবে তিনি মনে করেন, বেসরকারি লগ্নির নেতৃত্বে থাকাটাই শ্রেয়। রাষ্ট্র খুব বেশি হলে মাস কাবারি কিছু অর্থ দিতে পারে, ডাইরেক্ট ট্রান্সফার করে আম জনতার বাজারটি টিকিয়ে রাখতে চান কর্পোরেটের পণ্য বিক্রির স্বার্থে, কিন্তু আম জনতার অধিকার বিস্তৃতিতে তাঁর বিশ্বাস নেই। ফলে, আম জনতার জমি কিংবা সরকারি সম্পত্তিতে রাষ্ট্রীয় অধিকার—সবকিছুতেই তিনি গণ অধিকার ও জনস্বার্থ সংক্রান্ত অধিকারের বিষয়গুলি সঙ্কুচিত করতে চান। পরিবর্তে সেসব ক্ষেত্রে বেসরকারি লগ্নির প্রসার বাড়াবার জন্য তিনি গোটাতে চান সরকারি ভূমিকা। আদানি-আম্বানিদের হাত দিয়ে যে লগ্নিগুলো হচ্ছে, কার্যত সেটিও কিন্তু ঘুরপথে সরকারি ব্যাঙ্কের টাকা যাচ্ছে তাদের কর্পোরেটের নামে। এভাবেই কিং ফিশার তৈরি হয়েছিল। জেট এয়ারওয়েজ, ভিডিওকন প্রভৃতি আজ বিরাট আর্থিক সঙ্কটে। ব্যাঙ্কের লক্ষ কোটি টাকা চলে যাচ্ছে বেসরকারি পকেটে। এটাই আজকের ভারতীয় অর্থনীতির করুণ চিত্র ও পরিণতি।
সমস্যার গোড়াটা এইখানে। সরকার চেয়েছিল ৩০ কোটি উচ্চবিত্তের বাজারকে সামনে রেখে এদেশে ৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলবে। দেশের সর্বাধিক মানুষকে ভালো না-রেখে তাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখা! যে পরিকল্পিত পদক্ষেপ দরকার তার বিন্দুমাত্র কোনও লক্ষণ এই সরকারের আর্থিক কিংবা অর্থনৈতিক নীতিতে নেই। ভারতীয় পণ্যের রপ্তানি থেকে তাহলে অন্তত দেড় লাখ কোটি আয় হওয়া দরকার। বিদেশের বাজারে বহুদিন হল বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন এদেশের রপ্তানিকারকরা। তাঁদের দাবিগুলো বিশেষভাবে মেটাতে উদ্যোগী হওয়া দরকার ছিল। বিশেষত মার্কিন ও চীনের ট্যারিফ যুদ্ধে বিশ্ব-বাজারে চ্যালেঞ্জের মুখে রপ্তাতানিকারকরা এখন যেভাবে সমস্যায় পড়েছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও ভারতীয় পণ্যের অংশভাগ ক্রমশ কমছে। যে-সরকার নিজের দেশের অভ্যন্তরেই দেশীয় পুঁজির বিকাশ ঘটাতে পারে না, রপ্তানিকারকরা বিদেশের বাজার ধরতে পারে না শুধুমাত্র সরকারের নীতিগত ব্যর্থতায় তখন আশার আলো আসবে কোন দিক থেকে। শাসককুল দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে ও জনগণের সঞ্চয় বাড়ানোর দিকে নজর দেন না। খালি বেসরকারি লগ্নি বাড়িয়ে বৃদ্ধির ছবিটা দেখাতে চান। তাই একতরফা ঋণ দিয়ে দিয়ে প্রকল্প তৈরি হয়েছে, কিন্তু সেইসব প্রকল্পের পণ্য বাজার পাচ্ছে না ক্রেতার অভাবে। নতুন ক্রেতা বাড়াতে দরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জনসাধারণের আয় বৃদ্ধিমূলক কর্মকাণ্ড, খরচ কমানো এবং সঞ্চয় বৃদ্ধি। নোট বাতিলের ধাক্কাতেই অর্থনীতির এই বুনিয়াদি ব্যবস্থা ভেঙে যায়। সেই থেকে কর্মসংস্থান, সঞ্চয় ও বৃদ্ধির হার গিয়েছিল কমে। কমপক্ষে ৫০ লক্ষ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছে এর জন্য। আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটির গবেষণাপত্রে এ তথ্য প্রকাশিত। এরপর জিএসটি যেভাবে চালু করা হল তা ধাক্কা দিল কোষাগারে। সরকার এখন আর-এক বিপজ্জনক পদক্ষেপ নিচ্ছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের টাকায় বাজেট ঘাটতি মিটিয়ে অর্থনীতিতে টাকার জোগান বাড়িয়ে চাহিদা বাড়ানোর। এতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, টাকার দাম আরও পড়বে, কর্মসংস্থান আরও কমবে, সত্যিই এই সরকার বুঝতে পারছে না অর্থনীতির উন্নয়নের রোডম্যাপটা কী!
মুক্ত অর্থনীতিতে বিশেষ প্রয়োজন শক্তিশালী কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মাধ্যমে আর্থিক ক্ষেত্রের সুনিয়ন্ত্রণ। মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের উপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এমন পর্যায়ে গেছে যে রঘুরাম রাজন থেকে শুরু করে উর্জিত প্যাটেল ইস্তফা দিতে বাধ্য হলেন। সরকার ও দেশবাসী বাঁচাতে কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের রিজার্ভ ব্যবহার করা হয টাকার অবমূল্যায়ন রুখতে, দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যাবস্থাকে সুরক্ষা দিতে। সেই অর্থে সরকার চাইছে নিত্য খরচের বার্ষিক বাজেটের ঘাটতি কমাতে। এই অর্থ যদি পরিকাঠামো ক্ষেত্রে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবহার করে তাহলে অর্থনীতিতে কল্যাণমুখী বৃদ্ধি সম্ভব। মুশকিল হচ্ছে, এই সরকার অর্থনীতির বৃদ্ধির হার রাখতে পেরেছে ৬ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে, কিন্তু সামগ্রিক বেকারত্বের হার পৌঁছে গেছে সংসদে শ্রমমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ৬.১% এ, যা গত ৪৫ বছরে এই প্রথম। এর মধ্যে শিক্ষিত বেকারের হার ১১.৪%। বেকারত্ব কমাতে প্রয়োজনমতো ‘মুদ্রা ঋণ’ দিতেও ব্যর্থ হয়েছে সরকার। যে ১০০ দিনের কাজ গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি শক্তিশালী মাধ্যম, সরকার তাকেই সঙ্কুচিত করেছে। গত বছর কাজ সৃষ্টি হয় মাত্র ২৫৫ কোটি শ্রম দিবস, এর চাইতে অনেক বেশি হতে পারত। হয়নি শুধু অর্থাভাবে। বাজেটে অর্থ বরাদ্দ ছিল আগের বছরের থেকেও কম। ২০১৮-১৯ সালের বরাদ্দ শেষ হয় প্রথম তিন মাসেই। এরপর তাই প্রশ্ন ওঠে, সরকার সাধারণ মানুষের ক্রক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্থনীতির বিস্তার চায় না কি কিছু নির্দিষ্ট কর্পোরেটের মুনাফা ও তাদের দ্বারা অর্থনীতির পরিচালনা, সেটাই স্পষ্ট নয়।
সরকারের বোঝা উচিত, রাষ্ট্রায়ত্ত লগ্নি ও প্রকল্প ছাড়া কোনও পুঁজিবাদী অর্থনীতিতেও অর্থনীতির বুনিয়াদি কাঠামো, পরিষেবা ও উন্নয়নের প্রকরণ ধরে রাখা যায় না, আমেরিকা, ব্রিটেন, জার্মানি, সুইডেনের অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় লগ্নি ও প্রকল্পের গুরুত্ব কতটা তার তুলনামূলক আলোচনা করে দেখলে বোঝা যাবে এদেশের অর্থনীতির পরিচালকরা হাঁটছেন উল্টো পথে।
বেসরকারি লগ্নিকে অক্সিজেন জোগাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় অর্থে। পরে সেই বেসরকারি লগ্নি মুখ থুবড়ে পড়ছে, লোপাট হচ্ছে ব্যাঙ্কের টাকা। রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের বেসরকারিকরণের মধ্যে এর কোনও সুরাহা নেই। তবু লাভজনক অন্তত ১২টা সেরা সংস্থা বেসরকারি করে দেওয়ার প্রস্তাব আনা হয়েছে। এটা কোনও উন্নয়নের মডেল হতে পারে না। সরকার নিজেই যদি কর্মসংস্থান বাড়াতে না-চায়, তাহলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়বে কী করে? কী করে চাহিদা বাড়বে অর্থনীতিতে? কিনবেন যাঁরা তাঁদের সেই গ্রাম ভারত ধুঁকছে, শহরের মধ্যবিত্ত কোণঠাসা। তাই ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই সূচক আটকে ৫০-এর আশপাশে, যার অর্থ কোনও শিল্পেই জোর নেই অর্ডারে। রপ্তানি কমেছে সমতুল, গাড়ি, বস্ত্রসহ প্রধান শিল্পগুলো নতুন অর্ডারের অভাবে। বহু বস্ত্রকারখানা বন্ধ করে দিচ্ছেন মিল মালিকরা গুজরাতে। এদেশের শেয়ার বাজার থেকে হাত গোটাচ্ছে বিদেশি লগ্নি। এমন খারাপ অবস্থা যে সরকার এখন বাজেটের টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। ঘাটতিপূরণে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মহার্ঘ সঞ্চিত অর্থ লাগাতে চাইছে। নীতিহীন অর্থনীতির পরিচালনার এর চাইতে বড় উদাহরণ নেই, যা দুর্নীতির মতোই ভয়ঙ্কর। আর অর্থনীতির পরিচালনা যেখানে হয় রাজনীতির স্বার্থে, সেখানে কোনও অর্থনৈতিক উন্নয়ন টিকতে পারে না! সরকারকে ভাবতে হবে। নতুন নীতি চাই ঘুরে দাঁড়ানোর। নইলে আরও বড় বিপর্যয় অবশ্যম্ভাবী। 
02nd  September, 2019
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে পুরভোট কার্যত সেমিফাইনাল
হিমাংশু সিংহ

মাত্র এক বছর পরেই বিধানসভার ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে পরপর তিনবার বাংলায় ক্ষমতা দখলের সুবর্ণ সুযোগ। এই অবস্থায় শাসক তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী-সমর্থকদের উচিত সংযত থাকা। সেইসঙ্গে গণ্ডগোল, রক্তপাত এড়ানোর সবরকম চেষ্টা করা। তাহলেই এরাজ্যের মানুষ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দ্বিধায় আরও একবার দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করবেন।
বিশদ

প্রার্থী নির্বাচনে সাহসী হলে পুরভোটে লাভ পাবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস
তন্ময় মল্লিক

নির্বাচন মানেই পরীক্ষা। রাজনৈতিক দলের পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষা পুরসভা বা পঞ্চায়েতের হলে বিষয়বস্তু হয় উন্নয়ন, পরিষেবা ও সমস্যা। কিন্তু, এই ধরনের পরীক্ষায় ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থীর মুখ। আর এবার পুরভোটে তৃণমূলের কাছে প্রার্থী নির্বাচনই অগ্নিপরীক্ষা। তার জন্য তৃণমূল সহ রাজ্যবাসী তাকিয়ে আছে টিম পিকের দিকে।  
বিশদ

22nd  February, 2020
বিশ্বাসের অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 বিগত তিন বছর ধরে ভারতের সিংহভাগ সাধারণ মানুষ নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা জমা রাখছে বেসরকারি ব্যাঙ্কে। সরকারি তথা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে নয়। দেশের আটটি সরকারি এবং আটটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গিয়েছে। যার ফলশ্রুতি হল সরকারি ব্যাঙ্কে যে টাকা জমা রয়েছে তার সিংহভাগই আগে থেকে জমা হয়ে থাকা ফিক্সড ডিপোজিট।
বিশদ

21st  February, 2020
মুখ চাই মুখ
মেরুনীল দাশগুপ্ত

মুখ হয়তো অনেক আছে। কিন্তু, ঠিক সেই মুখটির দেখা এখনও মেলেনি। কোন মুখটি? যে মুখটি সৌজন্যে পরাক্রমে রাজনৈতিক কূটকৌশলে এবং অবশ্যই জনপ্রীতিতে পাল্লা দিতে পারে বাংলার একচ্ছত্র নেত্রীকে, ২০২১ বিধানসভার রণাঙ্গনে ছুঁড়ে দিতে পারে চ্যালেঞ্জ, জাগাতে পারে আর এক মহাবিজয়ের সম্ভাবনা। সেই মুখ কোথায় পদ্মশিবিরে? 
বিশদ

20th  February, 2020
বিপুল অভ্যর্থনা পেয়ে বিশ্বজয়ী বিবেকানন্দ
কলকাতায় বলেন, এ ঠাকুরেরই ‌জয়জয়কার
হারাধন চৌধুরী

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘নরেন শিক্ষে দেবে।’’ ঠাকুরের কথা ফলিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর মানসপুত্রটি বেছে নিয়েছিলেন পাশ্চাত্যের মাটি। কারণ, যে-কোনও জিনিস পাশ্চাত্যের মানুষ গ্রহণ করার পরেই যে ভারতের মানুষ তা গ্রহণে অভ্যস্ত! স্বামী বিবেকানন্দের সামনে সেই সুযোগ এনে দিয়েছিল শিকাগো বিশ্ব ধর্ম মহাসভা।
বিশদ

19th  February, 2020
ট্রাম্পের ভারত সফর এবং প্রাপ্তিযোগের অঙ্ক 

শান্তনু দত্তগুপ্ত: সফর মাত্র দু’ঘণ্টার। আর তাতে আয়োজন পাহাড়প্রমাণ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে কথা! তাই এতটুকু ফাঁক রাখতে নারাজ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি (বা বেসরকারিভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি)।  বিশদ

18th  February, 2020
টুকরে টুকরে গ্যাং-ই জিতল
পি চিদম্বরম

 গত ১১ ফেব্রুয়ারি লোকসভার কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত নিম্নলিখিত প্রশ্নোত্তরগুলি আনন্দের কারণ হতে পারত যদি না বিষয়টি বিজেপি নেতাদের (এই পঙ্‌ক্তিতে আছেন প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্য মন্ত্রীরাও) দুঃখের ধারাবিবরণীতে পরিণত হতো: বিশদ

17th  February, 2020
স্বর্গলোকে মহাত্মা ও
গুরুদেবের সাক্ষাৎকার
সন্দীপন বিশ্বাস

 অনেকদিন পর আবার দেখা হল মহাত্মা এবং গুরুদেবের। মর্ত্যে দু’জনের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল শান্তিনিকেতনে ১৯১৫ সালে আজকের দিনে অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি। তারপর বেশ কয়েকবার তাঁদের দেখা হয়েছিল। কবিগুরু সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন ১৯২০ সালে। বিশদ

17th  February, 2020
এবার হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় অগ্নিকন্যা
হিমাংশু সিংহ

তবে কি দিল্লিতে হেরে বোধোদয় হল অমিত শাহদের? নাকি ভোট জেতার নামে ঘৃণা ছড়ানো ঠিক হয়নি বলাটা আরও বড় কোনও নাটকের মহড়ারই অংশ? বোঝা কঠিন, তুখোড় রাজনীতিকরা কোন উদ্দেশ্যে কখন কোন খেলাটা খেলেন! আর সেই তালে অসহায় জনগণকে তুর্কি নাচন নাচানো চলে অবলীলায়। 
বিশদ

16th  February, 2020
শাহিনবাগে যেসব কথা জানানো হয়নি

 ‘যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে রমন্তে তত্র দেবতাঃ’, যেখানে মহিলারা পূজিতা হন সেখানেই ভগবান অবস্থান করেন। ভারতবর্ষের মানুষ হাজার বছর ধরে এই শ্লোক আবৃত্তি করে এসেছে। গত একমাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির শাহিনবাগে শিশু থেকে বৃদ্ধা বিভিন্ন বয়সের মহিলাদের কষ্ট দেওয়া হয়েছে। বিশদ

15th  February, 2020
মাফলার ম্যানের দিল্লি জয়
মৃণালকান্তি দাস 

ঠেকে শিখেছেন তিনি। ‌‌‌‌পদস্থ আমলা থেকে রাজনীতিক এবং প্রশাসক হিসেবে পরিণত হয়েছেন। বুঝেছেন, এ দেশের আমআদমি বাড়ির কাছে ভালো স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল চান। বাড়ির মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েই তাঁদের উদ্বেগ। 
বিশদ

14th  February, 2020
রাজনীতির কাছে মানুষের চাহিদাটাই
বদলে দিল দিল্লির এই ভোট-সংস্কৃতি
হারাধন চৌধুরী

 প্রতিমা গড়ে পুজো করা আর ভগবানকে লাভ করা এক নয়। প্রতিমা সাজিয়ে পুজো যে-কেউ করতে পারে। কিন্তু, ভগবান লাভ? মানুষ চিরদিন মনে করে এসেছে, সে শুধু সাচ্চা সাধকের পক্ষেই সম্ভব। কিন্তু, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এসে একেবারে অন্যকথা বললেন।
বিশদ

13th  February, 2020
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ)-এর টাকা নিয়ে অনিয়ম আটকাতে পুরো ব্যবস্থাটিকে অনলাইনে এইচআরএমএস পোর্টালে নিয়ে আসা হচ্ছে। অতীতে জিপিএফ নিয়ে সরকারি অফিসে একাধিক অনিয়মের ঘটনা ধরা পড়েছে। ...

 সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি, ২২ ফেব্রুয়ারি: স্টেজ হবে রিভলভিং। থাকবে দুটি পোডিয়াম। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের জন্য। ঠিক যেখানে ক্লাবহাউস প্যাভিলিয়ন তার নীচেই হবে মঞ্চ। আর মোট চারটি ...

 ওয়াশিংটন, ২২ ফেব্রুয়ারি (পিটিআই): নিজের ভূখণ্ডে থাকা জঙ্গি ও চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামলেই একমাত্র ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারবে পাকিস্তান। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের আগে সন্ত্রাস ইস্যুতে এভাবেই ইসলামাবাদের উপর চাপ বাড়াল আমেরিকা। ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: শনিবার থেকে রায়গঞ্জের আব্দুলঘাটা ফরেস্টে হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে শিশুদের নিয়ে দু’দিনের প্রকৃতি পাঠ শিবির শুরু হয়েছে। রায়গঞ্জ, ইটাহার, কালিয়াগঞ্জ, হেমতাবাদ সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চার থেকে ১৪ বছর বয়সের ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই শিবির শুরু হয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের মানসিক স্থিরতা রাখা দরকার। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। তবে নতুন বন্ধু লাভ হবে। সাবধানে পদক্ষেপ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস
১৮৪৮: কার্ল মার্ক্স প্রকাশ করেন কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো
১৮৭৮ - মিরা আলফাসা ভারতের পণ্ডিচেরি অরবিন্দ আশ্রমের শ্রীমার জন্ম
১৮৯৪: ডাঃ শান্তিস্বরূপ ভাটনগরের জন্ম
১৯৩৭: অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৫২: পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দিলেন চারজন
১৯৬১: নোবেলজয়ী ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৭০ - অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার মাইকেল স্লেটারের জন্ম
১৯৯১: অভিনেত্রী নূতনের মৃত্যু
১৯৯৩ - বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক ও কবি অখিল নিয়োগীর (যিনি স্বপনবুড়ো ছদ্মনামে পরিচিত) মৃত্যু
২০১৩: হায়দরাবাদে জোড়া বোমা বিস্ফোরণে ১৭জনের মৃত্যু

১৭৩২: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটনের জন্ম
১৯০৬: অভিনেতা পাহাড়ি সান্যালের জন্ম
১৯৪৪: মহাত্মা গান্ধীর স্ত্রী কস্তুরবা গান্ধীর মৃত্যু
১৯৫৮: স্বাধীনতা সংগ্রামী আবুল কালাম আজাদের মৃত্যু
২০১৫: বাংলাদেশে নৌকাডুবি, মৃত ৭০

21st  February, 2020




ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৯৪ টাকা ৭২.৬৫ টাকা
পাউন্ড ৯০.৯৮ টাকা ৯৪.৩০ টাকা
ইউরো ৭৬.০৫ টাকা ৭৯.০১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
21st  February, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪৩,১৬০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪০,৯৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪১,৫৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৮,৫০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৮,৬০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রবিবার, (মাঘ কৃষ্ণপক্ষ) অমাবস্যা ৩৭/১৭ রাত্রি ৯/২। ধনিষ্ঠা ১৮/৫৮ দিবা ১/৪৩। সূ উ ৬/৭/২৩, অ ৫/৩৩/৫, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৩ গতে ৯/৫৬ মধ্যে। রাত্রি ৭/১৩ গতে ৮/৫৪ মধ্যে। বারবেলা ১০/২৫ গতে ১/১৫ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৫ গতে ২/৫৮ মধ্যে। 
১০ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রবিবার, অমাবস্যা ৩৪/৪২/৪০ রাত্রি ৮/৩/৩৭। ধনিষ্ঠা ১৭/৩৭/৪৩ দিবা ১/১৩/৩৮। সূ উ ৬/১০/৩৩, অ ৫/৩১/৫৮। অমৃতযোগ দিবা ৬/৪০ গতে ৯/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/১৭ গতে ৮/৫৪ মধ্যে। কালবেলা ১১/৫১/১৬ গতে ১/১৬/২৬ মধ্যে। কালরাত্রি ১/২৬/৫ গতে ৩/০/৫৪ মধ্যে। 
২৮ জমাদিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ময়নাগুড়ির বালাসন এলাকায় চিতা বাঘের আতঙ্ক, ঘটনাস্থলে বনদপ্তরের কর্মীরা 

22-02-2020 - 02:10:59 PM

কোচবিহারে পথ দুর্ঘটনায় জখম ১০ 
কোচবিহারের বানেশ্বর শিব মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢেলে বাড়ি ফেরার ...বিশদ

22-02-2020 - 01:48:00 PM

জয়নগরে স্কুলের গেটে ট্রাকের ধাক্কায় জখম প্রহরী 

22-02-2020 - 01:02:00 PM

বারুইপুরে আত্মঘাতী কিশোরী 
বারুইপুরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী কিশোরী। গতকাল সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে ...বিশদ

22-02-2020 - 01:01:00 PM

কৃষ্ণা বসুর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 

22-02-2020 - 12:57:00 PM

উলুবেড়িয়ায় ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে উল্টাল গ্যাস ট্যাঙ্কার, ব্যাহত যান চলাচল 

22-02-2020 - 12:39:00 PM