Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

চক্রব্যূহে জাতীয় কংগ্রেস: সোনিয়ার প্রত্যাবর্তন 

প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়: আগস্ট মাস জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় রাজনীতিতে স্মরণীয় মাস। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা হয়, আবার ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। মজার কথা, বিগত ১০ আগস্ট মধ্যরাত্রে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি নতুন কংগ্রেস সভাপতির নাম স্থির করার জন্য পাঁচটি কমিটি শলা-পরামর্শে বসে। শেষ পর্যন্ত ঠিক হল পদত্যাগী সভাপতি রাহুল গান্ধীর স্থলে অন্তর্বর্তী সভাপতি হবেন তাঁর মাতা সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়া গান্ধী ১৯৯৮ থেকে প্রায় বিশ বছর একটানা কংগ্রেস সভানেত্রী ছিলেন। তারপর ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধী সভাপতি হলেন। এ বছর লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর ২৫ মে তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় তিন মাস অচলাবস্থা চলার পর সোনিয়া গান্ধী অন্তর্বর্তী সভাপতি হলেন। নেতৃত্বহীন কংগ্রেসের নেতা হিসেবে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাজীব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী পুনরায় শীর্ষপদে বসলেন। জাতীয় আন্দোলনের প্রধান মঞ্চ জাতীয় কংগ্রেসের হাল কীরকম হয়েছে তা সবারই কাছে পরিষ্কার।
স্বাধীনতার পূর্বে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি হতেন বরেণ্য জাতীয় নেতারা। সে সময় কংগ্রেস সভাপতি রাষ্ট্রপতি নামে বন্দিত হতেন। তবে টানা বিশ বছর কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে সোনিয়া গান্ধী রেকর্ড স্থাপন করেছেন। অথচ মহাত্মা গান্ধী মাত্র এক বছর কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। নেতাজি সুভাষ দ্বিতীয়বার কংগ্রেস সভাপতি হওয়ায় কংগ্রেস হাইকমান্ডের বিরাগভাজন হন এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আবার গান্ধীজির নির্দেশমতো স্বাধীনতার পূর্বে কংগ্রেস সভাপতি হন তাঁর প্রিয় শিষ্য জওহরলাল নেহরু। অচিরেই তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হন।
স্বাধীনতার পর কংগ্রেস আর জাতীয় আন্দোলনের মঞ্চ রইল না। স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্র নির্মাণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কংগ্রেস একটি রাষ্ট্রবাদী দলে পরিণত হল। জওহরলাল নেহরু প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতি দুটি দায়িত্ব সামলেছেন। পরে কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। সংসদীয় গণতন্ত্র ও পরিকল্পিত অর্থনীতির ইমারত গড়ায় তিনি ছিলেন অগ্রণী। তবে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে তিনি সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেননি। চীন ও পাকিস্তান এই দুই প্রতিবেশী দেশের বৈরী আচরণে তিনি মর্মাহত হন। পাকিস্তান শুরু থেকেই ভারত-বিরোধী ভূমিকা নেয়, আর চীনের সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক স্থাপনে নেহরু সচেষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত চীন ভারত আক্রমণ করে (১৯৬২ সালে)। হতাশাগ্রস্ত হয়ে নেহরু আর দু’বছর বেঁচেছিলেন। তবে তাঁর সময়ে কংগ্রেস দল কেন্দ্রে ও অঙ্গরাজ্যগুলিতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়। তবে তিনি বুঝেছিলেন কংগ্রেস দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শক্তিতে চিড় ধরেছে। তাই কংগ্রেস সভাপতি কে. কামরাজকে দিয়ে ১৯৬৩ সালে কামরাজ পরিকল্পনা গ্রহণ করে দলীয় সংগঠনকে মজবুত করার চেষ্টা চালান।
কিন্তু ১৯৬৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর জন্মশতবর্ষে কংগ্রেস দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য সংঘাতে পরিণত হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কংগ্রেস দলের প্রার্থী সঞ্জীব রেড্ডিকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিরোধী প্রার্থী ভি ভি গিরিকে সমর্থন জানালেন। এরপরেই কংগ্রেসে বিভাজন হল। ইন্দিরা তাঁর সমর্থকদের নিয়ে কংগ্রেস (আর) গঠন করেন। আর কংগ্রেস সংগঠনের শীর্ষ নেতারা কংগ্রেস (সংগঠন) নামে পরিচিত হলেন। ১৯৭১ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়যুক্ত হয়ে ইন্দিরা গান্ধী সরকার গঠন করেন।
১৯৭০-এর দশকে কংগ্রেস (আর) কার্যত কংগ্রেস (আই) বা ইন্দিরা কংগ্রেসে পরিণত হল। দলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষীণ হয়ে উঠল। কংগ্রেস দলের সভাপতি দেবকান্ত বড়ুয়া বললেন, ‘ইন্দিরাই ভারত’ (ইন্দিরা ইজ ইন্ডিয়া)। দলীয় গণতন্ত্রের বিনাশের পর দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত নেমে এল জরুরি অবস্থা জারি করার পর (জুন ১৯৭৫)। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ১৯৮০ সালে ইন্দিরা বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে এলেন। ইতিমধ্যে পরিবারতন্ত্রের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সঞ্জয় গান্ধী দলে ও প্রশাসনে সক্রিয় হস্তক্ষেপ করতে লাগলেন। সঞ্জয়ের অকাল প্রয়াণের পর ইন্দিরার জ্যেষ্ঠপুত্র রাজীব গান্ধী রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরার হত্যাকাণ্ডের দিনেই রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হলেন। একই সঙ্গে দলীয় সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী পদে রাজীব গান্ধী দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। এইভাবেই কংগ্রেসে নেহরু-গান্ধী পরিবারের প্রাধান্য কায়েম হল।
রাজীবের প্রয়াণের পর (১৯৯১ সালে) কংগ্রেসে পরিবারতন্ত্রের ইতিহাসে ছেদ ঘটল। পি ভি নরসিংহ রাও ছিলেন নেহরু-গান্ধী পরিবারের বাইরের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পাঁচ বছর পর কংগ্রেস লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যস্ত হল। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দু’বছর কংগ্রেসের সমর্থনে অ-বিজেপি দলগুলি ক্ষমতায় বসে। এরপর এল বিজেপি’র নেতৃত্বে এনডিএ সরকার। ১৯৯৮-এর মার্চ মাসে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সভানেত্রীর পদে আসীন হলেন। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেস জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়। কংগ্রেস দলের নেতৃত্বে দশ বছর ধরে ইউপিএ সরকার ক্ষমতাসীন ছিল। সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃত হলেন। মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেন। তবে ইউপিএ সরকারে সোনিয়াই ছিলেন অন্তরাত্মা ও শেষ কথা। সঞ্জয় বারু রচিত ‘দি অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ গ্রন্থে দেখা যায় কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ বলবৎ করা হয়। সরকারের নীতি নির্ধারণে ইউপিএ-র চেয়ারপারসন তথা কংগ্রেস সভানেত্রী ছিলেন মূল পরিচালিকা শক্তি। এ যেন সিংহাসনের পশ্চাতে শক্তির আস্ফালন। কিন্তু ইউপিএ সরকারের আমলে দুর্নীতির চরম স্ফীতি সারা দেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। জাতীয় কংগ্রেসের ভাবমূর্তি বিপন্ন হল।
এই প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ বিপুলভাবে জয়যুক্ত হয়। বিজেপি একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল। বিগত ত্রিশ বছরে কোনও একটি দল একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কংগ্রেস দলের আসন সংখ্যা ৪৪-এ নেমে এল। ইতিপূর্বে আর কখনও এতটা ভরাডুবি হয়নি। লোকসভায় বিরোধী দলের তকমা জুটল না। ২০১৯-এর বিগত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস হৃতগৌরব ফেরাতে ব্যর্থ হল। ইতিমধ্যে ২০১৭ সালের অক্টোবরে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধীকে সরাসরি কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল। রাহুল প্রথম দিকে দলের শক্তি বৃদ্ধিতে তৎপর হলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন। রাজ্যস্তরে বিধানসভা নির্বাচনে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস সরকার গঠনে সক্ষম হল।
মনে হচ্ছিল বুঝি কংগ্রেস কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু সব কিছু ব্যর্থ হল। রাহুল দুটি আসনে দাঁড়িয়ে গান্ধী পরিবারের শক্ত ঘাঁটি নামে পরিচিত আমেথি কেন্দ্রে পরাজিত হলেন। রাহুল বুঝি এরকম বিপর্যয় হবে তা কল্পনাও করেননি। নির্বাচনে পরাজয়ের দায়-দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। শত অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় রইলেন। আড়াই মাস অচলাবস্থা চলার পর গত ২০ আগস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি রাহুলের পদত্যাগ গ্রহণে বাধ্য হলেন এবং অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে তাঁর মা প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়ার নাম গৃহীত হল।
পরিষ্কার হয়ে গেল পরিবারতন্ত্র ভিন্ন কংগ্রেসের কোনও গতি নেই। কংগ্রেসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, উপদলীয় সংঘাত ও কংগ্রেস থেকে অন্য দলে যোগদানের হিড়িক বন্ধ করে কংগ্রেসকে টিকিয়ে রাখতে পরিবারতন্ত্রই একমাত্র বিকল্প।
কিন্তু অন্তর্বর্তী সভানেত্রী কি কংগ্রেস দলের সজীবতা, শৃঙ্খলা ও সংহতি সুনিশ্চিত করতে পারবেন? গণভিত্তির উপর দলীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠিত না হলে দলের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। বিজেপির দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক শক্তি, দলীয় কর্মীদের উদ্যোগ ও সুদৃঢ় নেতৃত্বের পাশে কংগ্রেস তার অতীত ঐতিহ্যকে পুঁজি করে কত দূর এগবে সেই বিষয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায়।
 লেখক পশ্চিমবঙ্গ স্টেট আর্কাইভসের প্রাক্তন অধিকর্তা 
26th  August, 2019
এনআরসি দেশ গড়ার পথ, নাকি ক্ষমতায় পৌঁছনোর ইস্যু
তন্ময় মল্লিক

পরিবর্তনই জীবনের বৈশিষ্ট্য। তাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় সবকিছুই। কিন্তু পরিবর্তনের এই ধারায় সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে রাজনীতির অভিমুখ ও উপাদান। একটা সময় রাজনীতিতে সাফল্য লাভের প্রধান উপাদান ছিল উন্নয়ন। এখন রাজনীতিতে সাফল্য লাভের উপাদান জবরদস্ত ইস্যু। ইস্যু তৈরি করতে পারলেই কেল্লা ফতে। 
বিশদ

বৈধ-অবৈধ নাগরিক কথা
সমৃদ্ধ দত্ত

পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তান থেকে ভারতে চলে আসার পর মানুষদের কী অবস্থা সে সব আমরা খুব বেশি জানি না। আমরা বাঙালিরা জানি বাংলাদেশ সম্পর্কে। কারণ, বাংলাদেশ আমাদের পাশের দেশ। সুতরাং নয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে যে প্রশ্নগুলির উত্তর পাওয়া দরকার সেগুলি বাংলাদেশ সংক্রান্ত হওয়াই বাঞ্ছনীয়।  
বিশদ

13th  December, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
একনজরে
সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: নতুন বছরের গোড়াতেই দুটি নতুন থানা পেতে চলেছেন কলকাতাবাসী। এগুলি হল, কালীতলা ও গল্ফগ্রিন। কলকাতা পুলিস ইতিমধ্যেই এব্যাপারে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে। এখন চালু করার জন্য সবুজ সঙ্কেতের অপেক্ষায় লালবাজার। কলকাতা পুলিস সূত্রেই এই খবর জানা ...

ওয়াশিংটন, ১৩ ডিসেম্বর (পিটিআই): ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই অসমে তিনজনের প্রাণ গিয়েছে। অসম ছাড়াও দেশের নানা রাজ্যে সাধারণ মানুষ ওই আইনের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ফের চাপ বাড়াল আমেরিকা।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজ্য সরকার শুধুমাত্র ২০১৯ সালেই ৪৫০ কোটি টাকা খরচ করেছে। শহর ও গ্রামাঞ্চলে এর মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা থেকে পরিকাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে।  ...

পানাজি, ১৩ ডিসেম্বর (পিটিআই): গোয়ায় বসবাসকারী পর্তুগিজ পাসপোর্টধারীদের উপর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের কোনও প্রভাব পড়বে না। শুক্রবার গোয়ার এনআরআই কমিশনের পক্ষ থেকে এই কথা জানানো হয়েছে।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

বিদ্যার্থীদের অধিক পরিশ্রম করতে হবে। অন্যথায় পরীক্ষার ফল ভালো হবে না। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ভালো ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯২৪: অভিনেতা ও পরিচালক রাজ কাপুরের জন্ম
১৯৩১: কুমিল্লায় বিপ্লবী শান্তি ঘোষ ও সুনীতি চৌধুরি ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেনসকে হত্যা করেন
১৯৩৪: পরিচালক শ্যাম বেনেগালের জন্ম
১৯৫৩: ভারতীয় টেনিস খেলোয়াড় বিজয় অমৃতরাজের জন্ম
১৯৫৭: হাওড়া এবং ব্যান্ডেলের মধ্যে প্রথম চালু হল বৈদ্যুতিক ট্রেন 





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৯.৮০ টাকা ৭১.৪৯ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৪৩ টাকা ৯৬.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.৪৪ টাকা ৮০.৪৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৭০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৪,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৪,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, দ্বিতীয়া ৬/২৯ দিবা ৮/৪৭। পুনর্বসু ৫৭/৮ শেষরাত্রি ৫/৩। সূ উ ৬/১১/৫৯, অ ৪/৪৯/৫৩, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৭/৩৬ গতে ৯/৪৪ মধ্যে পুনঃ ১১/৫২ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৫ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে, বারবেলা ৭/৩২ মধ্যে পুনঃ ১২/৫১ গতে ২/৩৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/৩২ গতে উদয়াবধি। 
২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার, দ্বিতীয়া ৮/৪৯/১৯ দিবা ৯/৪৫/২৯। আর্দ্রা ২/৫১/২২ দিবা ৭/২২/১৮, সূ উ ৬/১৩/৪৫, অ ৪/৫০/১০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩ মধ্যে ও ৭/৪৫ গতে ৯/৫২ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৪৯ মধ্যে ও ৩/৩১ গতে ৪/৫০ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/৪৬ মধ্যে, কালবেলা ৭/৩৩/১৮ মধ্যে ও ৩/৩০/৩৭ গতে ৪/৫০/১০ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৩০/৩৭ মধ্যে ও ৪/৩৩/১৮ গতে ৬/১৪/২৯ মধ্যে। 
১৬ রবিয়স সানি  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে বিক্ষোভকারীদের হটাতে লাঠিচার্জ পুলিসের, ফাটানো হল টিয়ার গ্যাসের শেল 

11:58:00 AM

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের একাধিক জায়গায় পথ অবরোধ  

11:58:00 AM

কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে বিক্ষোভকারীদের ইটের ঘায়ে জখম হাওড়া সিটি পুলিসের ডিসি সাউথ জোন 

11:38:53 AM

মুরারইতে রেল অবরোধের জেরে বাঁশলৈ স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়েছে ডাউন শতাব্দী এক্সপ্রেস 

11:26:10 AM

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে মুরারইতে রেল ও পথ অবরোধ

10:59:00 AM

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে অবরোধ

10:45:00 AM