Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

চক্রব্যূহে জাতীয় কংগ্রেস: সোনিয়ার প্রত্যাবর্তন 

প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়: আগস্ট মাস জাতীয় কংগ্রেস ও ভারতীয় রাজনীতিতে স্মরণীয় মাস। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূচনা হয়, আবার ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা অর্জন করে। মজার কথা, বিগত ১০ আগস্ট মধ্যরাত্রে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি নতুন কংগ্রেস সভাপতির নাম স্থির করার জন্য পাঁচটি কমিটি শলা-পরামর্শে বসে। শেষ পর্যন্ত ঠিক হল পদত্যাগী সভাপতি রাহুল গান্ধীর স্থলে অন্তর্বর্তী সভাপতি হবেন তাঁর মাতা সোনিয়া গান্ধী। সোনিয়া গান্ধী ১৯৯৮ থেকে প্রায় বিশ বছর একটানা কংগ্রেস সভানেত্রী ছিলেন। তারপর ২০১৭ সালের অক্টোবরে তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধী সভাপতি হলেন। এ বছর লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর ২৫ মে তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় তিন মাস অচলাবস্থা চলার পর সোনিয়া গান্ধী অন্তর্বর্তী সভাপতি হলেন। নেতৃত্বহীন কংগ্রেসের নেতা হিসেবে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাজীব গান্ধীর স্ত্রী সোনিয়া গান্ধী পুনরায় শীর্ষপদে বসলেন। জাতীয় আন্দোলনের প্রধান মঞ্চ জাতীয় কংগ্রেসের হাল কীরকম হয়েছে তা সবারই কাছে পরিষ্কার।
স্বাধীনতার পূর্বে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি হতেন বরেণ্য জাতীয় নেতারা। সে সময় কংগ্রেস সভাপতি রাষ্ট্রপতি নামে বন্দিত হতেন। তবে টানা বিশ বছর কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে সোনিয়া গান্ধী রেকর্ড স্থাপন করেছেন। অথচ মহাত্মা গান্ধী মাত্র এক বছর কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন। নেতাজি সুভাষ দ্বিতীয়বার কংগ্রেস সভাপতি হওয়ায় কংগ্রেস হাইকমান্ডের বিরাগভাজন হন এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আবার গান্ধীজির নির্দেশমতো স্বাধীনতার পূর্বে কংগ্রেস সভাপতি হন তাঁর প্রিয় শিষ্য জওহরলাল নেহরু। অচিরেই তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পদে অভিষিক্ত হন।
স্বাধীনতার পর কংগ্রেস আর জাতীয় আন্দোলনের মঞ্চ রইল না। স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্র নির্মাণের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কংগ্রেস একটি রাষ্ট্রবাদী দলে পরিণত হল। জওহরলাল নেহরু প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতি দুটি দায়িত্ব সামলেছেন। পরে কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। সংসদীয় গণতন্ত্র ও পরিকল্পিত অর্থনীতির ইমারত গড়ায় তিনি ছিলেন অগ্রণী। তবে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে তিনি সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারেননি। চীন ও পাকিস্তান এই দুই প্রতিবেশী দেশের বৈরী আচরণে তিনি মর্মাহত হন। পাকিস্তান শুরু থেকেই ভারত-বিরোধী ভূমিকা নেয়, আর চীনের সঙ্গে মৈত্রীর সম্পর্ক স্থাপনে নেহরু সচেষ্ট হলেও শেষ পর্যন্ত চীন ভারত আক্রমণ করে (১৯৬২ সালে)। হতাশাগ্রস্ত হয়ে নেহরু আর দু’বছর বেঁচেছিলেন। তবে তাঁর সময়ে কংগ্রেস দল কেন্দ্রে ও অঙ্গরাজ্যগুলিতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়। তবে তিনি বুঝেছিলেন কংগ্রেস দলের ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শক্তিতে চিড় ধরেছে। তাই কংগ্রেস সভাপতি কে. কামরাজকে দিয়ে ১৯৬৩ সালে কামরাজ পরিকল্পনা গ্রহণ করে দলীয় সংগঠনকে মজবুত করার চেষ্টা চালান।
কিন্তু ১৯৬৯ সালে মহাত্মা গান্ধীর জন্মশতবর্ষে কংগ্রেস দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য সংঘাতে পরিণত হয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কংগ্রেস দলের প্রার্থী সঞ্জীব রেড্ডিকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বিরোধী প্রার্থী ভি ভি গিরিকে সমর্থন জানালেন। এরপরেই কংগ্রেসে বিভাজন হল। ইন্দিরা তাঁর সমর্থকদের নিয়ে কংগ্রেস (আর) গঠন করেন। আর কংগ্রেস সংগঠনের শীর্ষ নেতারা কংগ্রেস (সংগঠন) নামে পরিচিত হলেন। ১৯৭১ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়যুক্ত হয়ে ইন্দিরা গান্ধী সরকার গঠন করেন।
১৯৭০-এর দশকে কংগ্রেস (আর) কার্যত কংগ্রেস (আই) বা ইন্দিরা কংগ্রেসে পরিণত হল। দলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষীণ হয়ে উঠল। কংগ্রেস দলের সভাপতি দেবকান্ত বড়ুয়া বললেন, ‘ইন্দিরাই ভারত’ (ইন্দিরা ইজ ইন্ডিয়া)। দলীয় গণতন্ত্রের বিনাশের পর দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর আঘাত নেমে এল জরুরি অবস্থা জারি করার পর (জুন ১৯৭৫)। ১৯৭৭ সালে কংগ্রেসের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ১৯৮০ সালে ইন্দিরা বিপুল সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে জিতে এলেন। ইতিমধ্যে পরিবারতন্ত্রের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সঞ্জয় গান্ধী দলে ও প্রশাসনে সক্রিয় হস্তক্ষেপ করতে লাগলেন। সঞ্জয়ের অকাল প্রয়াণের পর ইন্দিরার জ্যেষ্ঠপুত্র রাজীব গান্ধী রাজনীতিতে প্রবেশ করলেন। ১৯৮৪ সালে ইন্দিরার হত্যাকাণ্ডের দিনেই রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হলেন। একই সঙ্গে দলীয় সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী পদে রাজীব গান্ধী দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। এইভাবেই কংগ্রেসে নেহরু-গান্ধী পরিবারের প্রাধান্য কায়েম হল।
রাজীবের প্রয়াণের পর (১৯৯১ সালে) কংগ্রেসে পরিবারতন্ত্রের ইতিহাসে ছেদ ঘটল। পি ভি নরসিংহ রাও ছিলেন নেহরু-গান্ধী পরিবারের বাইরের একমাত্র ব্যক্তি, যিনি প্রধানমন্ত্রী ও কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। পাঁচ বছর পর কংগ্রেস লোকসভা নির্বাচনে বিপর্যস্ত হল। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দু’বছর কংগ্রেসের সমর্থনে অ-বিজেপি দলগুলি ক্ষমতায় বসে। এরপর এল বিজেপি’র নেতৃত্বে এনডিএ সরকার। ১৯৯৮-এর মার্চ মাসে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস সভানেত্রীর পদে আসীন হলেন। তাঁর নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেস জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়। কংগ্রেস দলের নেতৃত্বে দশ বছর ধরে ইউপিএ সরকার ক্ষমতাসীন ছিল। সোনিয়া গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃত হলেন। মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেন। তবে ইউপিএ সরকারে সোনিয়াই ছিলেন অন্তরাত্মা ও শেষ কথা। সঞ্জয় বারু রচিত ‘দি অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’ গ্রন্থে দেখা যায় কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপর দলীয় নিয়ন্ত্রণ বলবৎ করা হয়। সরকারের নীতি নির্ধারণে ইউপিএ-র চেয়ারপারসন তথা কংগ্রেস সভানেত্রী ছিলেন মূল পরিচালিকা শক্তি। এ যেন সিংহাসনের পশ্চাতে শক্তির আস্ফালন। কিন্তু ইউপিএ সরকারের আমলে দুর্নীতির চরম স্ফীতি সারা দেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। জাতীয় কংগ্রেসের ভাবমূর্তি বিপন্ন হল।
এই প্রেক্ষাপটে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ বিপুলভাবে জয়যুক্ত হয়। বিজেপি একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল। বিগত ত্রিশ বছরে কোনও একটি দল একাই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। কংগ্রেস দলের আসন সংখ্যা ৪৪-এ নেমে এল। ইতিপূর্বে আর কখনও এতটা ভরাডুবি হয়নি। লোকসভায় বিরোধী দলের তকমা জুটল না। ২০১৯-এর বিগত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস হৃতগৌরব ফেরাতে ব্যর্থ হল। ইতিমধ্যে ২০১৭ সালের অক্টোবরে সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেস দলের সভানেত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন। তাঁর পুত্র রাহুল গান্ধীকে সরাসরি কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল। রাহুল প্রথম দিকে দলের শক্তি বৃদ্ধিতে তৎপর হলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন। রাজ্যস্তরে বিধানসভা নির্বাচনে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে কংগ্রেস সরকার গঠনে সক্ষম হল।
মনে হচ্ছিল বুঝি কংগ্রেস কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু সব কিছু ব্যর্থ হল। রাহুল দুটি আসনে দাঁড়িয়ে গান্ধী পরিবারের শক্ত ঘাঁটি নামে পরিচিত আমেথি কেন্দ্রে পরাজিত হলেন। রাহুল বুঝি এরকম বিপর্যয় হবে তা কল্পনাও করেননি। নির্বাচনে পরাজয়ের দায়-দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে চাপিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। শত অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তে অনড় রইলেন। আড়াই মাস অচলাবস্থা চলার পর গত ২০ আগস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি রাহুলের পদত্যাগ গ্রহণে বাধ্য হলেন এবং অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসেবে তাঁর মা প্রাক্তন সভানেত্রী সোনিয়ার নাম গৃহীত হল।
পরিষ্কার হয়ে গেল পরিবারতন্ত্র ভিন্ন কংগ্রেসের কোনও গতি নেই। কংগ্রেসে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, উপদলীয় সংঘাত ও কংগ্রেস থেকে অন্য দলে যোগদানের হিড়িক বন্ধ করে কংগ্রেসকে টিকিয়ে রাখতে পরিবারতন্ত্রই একমাত্র বিকল্প।
কিন্তু অন্তর্বর্তী সভানেত্রী কি কংগ্রেস দলের সজীবতা, শৃঙ্খলা ও সংহতি সুনিশ্চিত করতে পারবেন? গণভিত্তির উপর দলীয় সংগঠন প্রতিষ্ঠিত না হলে দলের ভাবমূর্তি ও গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। বিজেপির দলীয় শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক শক্তি, দলীয় কর্মীদের উদ্যোগ ও সুদৃঢ় নেতৃত্বের পাশে কংগ্রেস তার অতীত ঐতিহ্যকে পুঁজি করে কত দূর এগবে সেই বিষয়ে প্রশ্নচিহ্ন থেকে যায়।
 লেখক পশ্চিমবঙ্গ স্টেট আর্কাইভসের প্রাক্তন অধিকর্তা 
26th  August, 2019
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
নয়া স্থিতাবস্থা যুবসমাজকে রুষ্ট করছে
পি চিদম্বরম

এই ২০২০ সালের ভারতকে ১৯৬৮ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেখাচ্ছে। ১৯৬৮-তে ফ্রান্সের পরিস্থিতিও অনুরূপ ছিল। আমার মনে আছে ১৯৬৮-তে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজকর্ম ভেঙে পড়েছিল। আর এই বিপর্যয় থেকে দেশকে উদ্ধারের দায়িত্ব বর্তেছিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর। ১৯৬৮-র এই যে বিরাট সঙ্কট তার মূল কারণ ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ।  
বিশদ

13th  January, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোথাও নিত্য যানজট আবার কোথাও ফুটপাত দখল করে সার দিয়ে দোকান আর হকারদের পসরা। সেসব এড়িয়ে শিয়ালদহ স্টেশনে ঢুকতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়তে ...

  নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের জাহাজ মন্ত্রকের সাগরমালা প্রকল্পের আওতায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পণ্য পরিবহণ বছরে ৩৩ কোটি ৭০ লক্ষ টনে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আগামী জুনে পথ চলা শুরু হচ্ছে এটিকে-মোহন বাগানের। মোহন বাগান ফুটবল ক্লাব প্রাইভেট লিমিটেডের ৮০ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপ। রবিবার সল্টলেক স্টেডিয়ামে মোহন বাগান কর্তাদের আমন্ত্রণে ডার্বি দেখতে হাজির ছিলেন আইএসএলে এটিকে’র দল মালিক।  ...

নয়াদিল্লি ও ঢাকা, ১৯ জানুয়ারি: ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মুখ খুললেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করলেও, এই আইনের ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

উচ্চতর ও গবেষণামূলক বিদ্যার ক্ষেত্রে সাফল্য আসবে। ব্যবসায় যুক্ত হলে শুভ যোগাযোগ ঘটবে। ভ্রমণযোগ রয়েছে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮১৭: হিন্দু কলেজের (বর্তমান প্রেসিডেন্সি কলেজ) যাত্রা শুরু
১৯৩৪ - আলোকচিত্র এবং ইলেকট্রনিকস্ কোম্পানী হিসেবে ফুজিফিল্ম কোম্পানীর যাত্রা শুরু
১৯৭২: নতুন রাজ্য হল অরুণাচল প্রদেশ ও মেঘালয়
১৯৯৩: মার্কিন অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্নের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৭ টাকা ৭১.৮৭ টাকা
পাউন্ড ৯১.২২ টাকা ৯৪.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৬১ টাকা ৮০.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
18th  January, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
19th  January, 2020

দিন পঞ্জিকা

৫ মাঘ ১৪২৬, ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার, একাদশী ৪৯/১৮ রাত্রি ২/৬। অনুরাধা ৪২/৪৯ রাত্রি ১১/৩০। সূ উ ৬/২২/৫৪, অ ৫/১২/০, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৯ মধ্যে পুনঃ ১০/৪৩ গতে ১২/৫২ মধ্যে. রাত্রি ৬/৫ গতে ৮/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ২/৫২ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৪ গতে ৯/৫ মধ্যে পুনঃ ২/২৯ গতে ৩/৫০ মধ্যে। কালরাত্রি ১০/৯ গতে ১১/৪৮ মধ্যে। 
৫ মাঘ ১৪২৬, ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার, একাদশী ৫৩/২৯/৩৫ রাত্রি ৩/৪৯/৪৭। অনুরাধা ৪৯/৪৭/৫৬ রাত্রি ১/৩৩/৭। সূ উ ৬/২৫/৫৭, অ ৫/১০/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৮ মধ্যে ও ১০/৪৪ গতে ১২/৫২ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/১৪ গতে ৮/৫০ মধ্যে ও ১১/২৪ গতে ২/৫১ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৬/৩২ গতে ৯/৭/৭ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/৮/৫১ গতে ১১/৪৮/১৭ মধ্যে। 
২৪ জমাদিয়ল আউয়ল  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে নির্বাচিত হলেন  জগৎপ্রকাশ নাড্ডা

03:37:00 PM

সততার নজির হোমগার্ডের 
সততার নজির ময়নাগুড়ি থানার এক হোম গার্ডের। কুড়িয়ে পাওয়া একটি ...বিশদ

03:28:49 PM

নির্ভয়া কাণ্ড: পবন গুপ্তের নাবালক তত্ব খারিজ শীর্ষ আদালতে

 সোমবার নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলায় অন্যতম সাজাপ্রাপ্ত পবন গুপ্তার আবেদন আজ ...বিশদ

03:21:00 PM

রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কোচবিহারে
রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার কাণ্ড কোচবিহারের চকচকার একটি হাসপাতালে। ...বিশদ

03:16:24 PM

পরীক্ষার নম্বর সাফল্যের মাপকাঠি নয়: প্রধানমন্ত্রী
সাফল্য পেতে গেলে ব্যর্থ হতে হয়। ব্যর্থতা সফল হওয়ারই একটি ...বিশদ

01:06:00 PM

ঘুমের ঘোরে চালক, বাস উল্টে আহত ২০ যাত্রী
ভোররাতের দিকে গাড়ি চালাতে চালেতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন চালক। আর তার ...বিশদ

12:09:43 PM