Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ভাড়াটে সেনা নিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না, জয়ের জন্য লাগে আবেগ
তন্ময় মল্লিক

লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির সাফল্যকে অনেকেই সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন। গেরুয়া ঝড়ে আসমুদ্রহিমাচল বিরোধীরা কার্যত ধুয়েমুছে সাফ। জাতীয় রাজনীতিতে শাসক দলের এমন বিধ্বংসী চেহারা মানুষ বহুদিন প্রত্যক্ষ করেনি। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের ‘জোড়া ফলা’য় ছিন্নভিন্ন হয়েছে বিরোধীদের সব প্রতিরোধ। সুনামির চেয়েও ভয়ঙ্কর, আইলা, ফণীর চেয়েও বিধ্বংসী সেই দাপটে কেঁপেছে লড়াই ও আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তৈরি ‘মা মাটি মানুষে’র সরকারের ভিত। ঝড়ে পাওয়া ১৮টি আসনে বলীয়ান গেরুয়া শিবিরের চোখে সরকার বদলের স্বপ্ন—মিশন-২০২১। লক্ষ্য স্থির করা এবং টার্গেট হিট করা ‘জোড় ফলা’র অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে। তবে, সাফল্য লাভই যখন শেষ কথা হয়ে দাঁড়ায়, তখন পথ গুরুত্বহীন হয়। তখনই অনিবার্য হয়ে ওঠে দ্বন্দ্ব, সংঘাত। আর সেটাই বিজেপির ‘মিশন-২০২১’ এর পথে অন্তরায় হতে পারে।
ঝড় বিধ্বংসী হলেও তা ক্ষণস্থায়ী। তবে, থেকে যায় ঝড়ের প্রভাব ও স্মৃতি। যে কোনও বিধ্বংসী ঝড়ের পর মিস্ত্রির চাহিদা আকাশ ছোঁয়। ধ্বংসস্তূপ সরানো থেকে পুনর্নিমাণ সব ক্ষেত্রেই দরকার মিস্ত্রির। শুধু পার্থিব ঝড়ের ক্ষেত্রেই নয়, রাজনৈতিক ঝড়ঝঞ্ঝার পরও মিস্ত্রির চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড়ের পর রাজ্যজুড়ে মিস্ত্রি জোগাড়ে নেমেছে বিজেপি। শাসক দলের ‘নেগেটিভ ভোট’ আর জাতীয়তাবোধের ধাক্কায় সাফ঩ল্যের নৌকা তীরে ভিড়লেও ২০২১ সালে লড়াইটা বেশ কঠিন তা ‘কেশব ভবন’ খুব ভালো করেই জানে। কারণ ২০২১ সালের ভোটে বালাকোট থাকবে না। কাটমানি ইস্যুতে তৃণমূলের বহু মাতব্বরের গলায় লেগেছে ‘বকলেস’। তার উপর তৃণমূল যদি কৌশলে ‘কাটমানি নেতা’দের শোকেস থেকে গোডাউনে পাঠিয়ে দিতে পারে, তাহলে বিজেপির লড়াইটা আরও কঠিন হবে।
লড়াইটা কঠিন হবে বুঝেই সংগঠনে মন দিয়েছে বিজেপি। শুরু হয়েছে ‘সদস্যতা অভিযান’। দল না বাড়লে ক্ষমতা দখল করা যায় না। তাই শুরু হয়েছে ক্ষমতা দখলের প্রস্তুতি। আর সেখানেই বেধেছে বিপত্তি। তবে ক্ষমতা দখল, আর এলাকা দখল এক নয়। ক্ষমতা দখলে লাগে মানুষের সমর্থন, আর এলাকা দখলের হাতিয়ার বোমা, বন্দুক ও মস্তান। ক্ষমতা দখলের ক্ষেত্রে মানুষই সম্পদ। আর এলাকা দখলে দাগিরা হয়ে ওঠে ‘দলের সম্পদ’। ‘দলের সম্পদরা’ চটজলদি রেজাল্ট দেয় বলে দলে তাদের দাপটও মারাত্মক। ভোট রাজনীতিতে সাফল্যই শেষ কথা হওয়ায় ‘দলের সম্পদ’দের গুরুত্ব অসীম। ইতিহাস সেকথাই বলে। ২০০০ সালে সিপিএমের কেশপুর, গড়বেতা, চমকাইতলা পুনর্দখলের সময় অন্তত তেমনটাই দেখা গিয়েছিল। গ্রাম দখল অভিযানে
সামনে থাকত কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা দুষ্কৃতীরা। তাদের হাতে থাকত লং রেঞ্জের রাইফেল। সেই রাইফেলে অনেক দূর থেকে বিরোধীদের দখলে থাকা গ্রামের ‘যোদ্ধা’দের শুইয়ে দেওয়া যেত। লড়াইয়ের দিনগুলিতে মস্তানদের পিছনে পিছনে ঝাণ্ডা নিয়ে যেতেন ক্যাডার ও নেতারা। গ্রাম দখলের পর গাছের মগডালে বেঁধে দেওয়া হতো লাল ঝাণ্ডা। সেই ঝাণ্ডার আস্ফালনই বুঝিয়ে দিত, গ্রামের মালিক সিপিএম।
শাসক বদলায়, ক্ষমতা বদলায়, কিন্তু এলাকা দখলের কৌশল বদলায় না। তাই মানুষের ভোটে জিতেও শাসকদল ভিত শক্ত করতে প্রশ্রয় দেয় সেই ‘দলের সম্পদ’দেরই। মানুষ হয়ে যায় গৌণ। এই একই ভুল শাসকদল সর্বত্র করে। বারে বারে করে। কারণ ক্ষমতার দম্ভ মানুষের বিবেচনা শক্তিকে শুষে নেয়। তবে, ‘দলের সম্পদ’দের সঙ্গে ভোটারদের সম্পর্কটা অনেকেটা গণিতের ব্যস্তানুপাতিক সম্পর্কের মতোই। একজন বাড়লে, অন্যজন কমে। দলে মস্তানদের আধিপত্য বাড়লে জনগণ সরে যায়, আবার মস্তান নির্ভরতা কমলে জনসমর্থন বাড়ে। এর অন্যথা হয় না।
টানের বাজারে জোগাড়েও কর্নিক হাতে নিয়ে রাজমিস্ত্রি হয়ে যায়। আবার কেঁট আলু, দাগি আলু, এমনকী পচা আলুও বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। অনেকটা সেইভাবেই বিজেপির টানের বাজারে সিপিএম আর তৃণমূলের দাগি, পচারা গেরুয়া শিবিরের রাজা, উজির হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই মুহূর্তে বিজেপিতে সংগঠকের বড়ই প্রয়োজন। কারণ ‘আবেগের সমর্থন’ আর মেঘ অনেকটা একই রকম। যে কোনও সময় ভেসে ভেসে এদিক থেকে ওদিকে চলে যেতে পারে। তবে, মৌসুমী বায়ুর ছোঁয়া পেলে অবশ্য সেই মেঘই বৃষ্টি হয়ে ঝরে। আর বৃষ্টি হলে রুখাশুখা মাঠও সুজলা সুফলা হয়ে ওঠে। তাই সংগঠকদের বাজার এখন তুঙ্গে।
রাজনীতিতে মৌসুমী বায়ুর কাজটা করে সংগঠকরাই। সেই কারণেই সংগঠকদের এত চাহিদা। তাতে কেঁট হোক, পচা হোক বা দাগিই হোক, গায়ে সংগঠকের ছাপটা থাকলেই হল। সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না তৃণমূল ও সিপিএমের সুযোগ সন্ধানীরা। কারণ তাঁরা ভাবছেন, আকাশে যে মেঘ জমেছে তাতে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। সেই কারণেই লেগেছে হুড়োহুড়ি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা প্লেয়াররা তো পায়ে বল ছোঁয়ানোর জন্য মরিয়া। তবে বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে প্রকৃতি কেমন যেন খামখেয়ালিপনা শুরু করেছে। দামি দামি যন্ত্রের সাহায্য নিয়েও আবহাওয়াবিদদের দেওয়া পূর্বাভাস মিলছে না। আবহাওয়াবিদরা হয়তো বলছেন, সারাদিন বৃষ্টি হবে। অথচ সকাল থেকে রোদে কাঠ ফাটছে। আবার উল্টোটাও হচ্ছে। হঠাৎ ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নেমে যাচ্ছে। তাই পূর্বাভাসে মানুষ আর আগের মতো ভরসা রাখতে পারছে না। সব সময় যেন মনের মধ্যে কেমন একটা কিন্তু-কিন্তু ভাব থেকেই যাচ্ছে।
মেঘের সঙ্গে মৌসুমী বায়ুর সংযোগ স্থাপন হবে কি না, সেটা সময়ই বলবে। তবে মস্তান, দাগি, পচাদের ভিড় বাড়লে দলের ইমেজ যে কেরোসিন হতে পারে সেটা বিজেপির অনেকেই আশঙ্কা করছেন। আর তা হলে মুখ থুবড়ে পড়বে ‘মিশন-২০২১’। সেই জন্যই ‘সবারে করি আহ্বান’ গানে অনেকে আপত্তি জানিয়েছেন। তবে এব্যাপারে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছেন আসানসোলের সংসদ সদস্য তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সম্ভবত দলের মধ্যে আপত্তি জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না বুঝেই তিনি দুম করে বাজারে ছেড়ে দিয়েছেন একটি ‘ভয়েস মেসেজ’। দুর্গাপুরের ‘চিন্তন শিবিরে’র আগের দিন ওই ‘ভয়েস মেসেজে’ তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দল বাড়াতে হবে ঠিকই। তবে তৃণমূলের নেতাদের নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর ঘোর আপত্তি আছে। কারণ তৃণমূলের নেতারাই বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার চালিয়েছেন এবং চালাচ্ছেন। শুধু আপত্তির কথা জানিয়েই তিনি ক্ষান্ত হননি, তিনি যোগদান প্রক্রিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন।
চিন্তন শিবির বিজেপি নেতাদের চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ চিন্তন শিবিরের দ্বিতীয় দিনে দুর্গাপুরে প্রকাশ্য সভায় তৃণমূল নেতার যোগদানকে কেন্দ্র করে তুমুল অশান্তি হয়। ‘সুশৃঙ্খল’ পার্টির কর্মী সমর্থকরা সভাস্থলে চেয়ার ভেঙে নেতাদের কাজের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের বক্তব্য, যারা এতদিন বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার করেছে, লুটপাট চালিয়েছে, তাদের দলে নিলে চলবে না। গেরুয়া শিবিরের আদি কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যাদের উপর রেগে মানুষ তাদের দলকে সমর্থন করেছে ফের তারাই যদি ‘বিজেপির মুখ’ হয়ে যায় তাহলে কেন বিজেপিকে চাইবে?
তবে ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীদের আশঙ্কার জায়গাটা আরও বড়। তাঁদের ধারণা, বিভিন্ন জায়গায় অন্য দলের যে সব নেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা বেশিরভাগই প্রচুর টাকার মালিক। টাকার জোরে একদিন তাঁরাই দলে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন। তারপর তাঁরাই সুযোগ বুঝে আমাদের উপর অত্যাচার চালাবেন। ঠিক এটাই হয়েছিল তৃণমূলে। তাহলে আমরা কি সব সময় পড়ে পড়ে মারই খাব? দুর্গাপুর বা আসানসোলের ঘটনা হয়তো খণ্ডচিত্র। তবে, প্রায় একই ঘটনা ঘটছে বর্ধমান, কেশপুর, গোঘাট, বীরভূম সহ রাজ্যের প্রায় সর্বত্র। সিপিএম এবং তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা বিভিন্ন জায়গায় বিজেপির হয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে।
দল বাড়ানোর জন্য একটা সময় তৃণমূল যে ভুল করেছিল, বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যের বহু জায়গায় সেই একই কাজ করে যাচ্ছে। এসব দেখে চিন্তন শিবিরের পর বিজেপির এক প্রবীণ কর্মী বলেন, নিজেদের লোককে তৈরি করে নেওয়ার আনন্দটা যে সন্তান মানুষ করার চেয়ে কম নয়, সেটা আমাদের কেউ কেউ বুঝতে পারছেন না। এই দেখুন, চন্দ্রযান-২ নিয়ে আমাদের এত আবেগ কেন? কারণ সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে, দেশের বিজ্ঞানীরা এই চন্দ্রযান তৈরি করেছেন। সেই জন্য চন্দ্রযান-২ এর সঙ্গে গোটা দেশের মানুষের আবেগ জড়িয়ে গিয়েছে। আজ যদি এটা আমেরিকার নাসার সঙ্গে যৌথভাবে করত তাহলে কি এই আবেগ থাকত? না, কিছুতেই থাকত না। দেখুন, চন্দ্রযান-১ চাঁদে নামতে পারেনি। সেই ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে মানুষ চন্দ্রযান-২’কে নিয়ে আবেগে ভেসেছে। কারণ নিজেদের তৈরি জিনিসের প্রতি মানুষের আবেগ অসীম। সেই জন্যই তো নিজের গাছের টক আমও সুস্বাদু লাগে।
ওই প্রবীণ বিজেপি কর্মী বলেন, আসলে আবেগ এক ভয়ঙ্কর শক্তি। আবেগ অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে। আবেগ ছিল বলেই মোহন বাগানের খেলোয়াড়রা খালি পায়ে ফুটবল খেলে বুট পরা ইংরেজদের হারাতে পেরেছিল। আবেগ ছিল বলেই এরাজ্যে প্রায় কোনও রকম সংগঠন ছাড়াই বিজেপি আজ ২ থেকে ১৮। আবেগ আছে বলেই তো মানুষ আর যন্ত্র আলাদা। তা না হলে সব এক হয়ে যেত। ভাড়াটে সৈনিকের মধ্যে আবেগ থাকে না। তাই ভাড়াটে সৈনিক এনে হয়তো সংখ্যা বাড়ানো যায়, বিরোধীদের চাপে রাখা যায়, কিন্তু যুদ্ধ জেতা যায় না। এই সহজ সত্যিটা আমাদের নেতারা যত তাড়াতাড়ি বোঝেন ততই মঙ্গল।
25th  August, 2019
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
একনজরে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডার্বি জয়ের পর অতীতে একাধিকবার মুখ থুবড়ে পড়েছে মোহন বাগান। বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, আত্মতুষ্টিই নাকি এর অন্যতম কারণ। দীর্ঘ কোচিং কেরিয়ারের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ...

 রাঁচি, ২২ জানুয়ারি (পিটিআই): ঝাড়খণ্ডে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল পাথালগড়ি আন্দোলন। মঙ্গলবার রাতে পাথালগড়ি সমর্থকদের হাতে খুন হলেন সাতজন গ্রামবাসী। তাঁদের মধ্যে একজন পঞ্চায়েতের সদস্যও রয়েছেন। পশ্চিম সিংভূম জেলার বুরুগুলিকেরা গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। ...

 বিএনএ, বারাসত: রসিদ দিয়ে ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ আদায়ের সংবাদ প্রকাশ্যে আসায় এবার রসিদ ছাড়াই তোলাবাজি শুরু হয়েছে ঘোজাডাঙা সীমান্তে। আগের তুলনায় আরও সতর্কভাবে ও সুচতুরভাবে তোলাবাজি শুরু করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ট্রাক চালক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলিসি মদতে এই তোলাবাজি চলায় ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ হলে ভারতে তার বিরাট প্রভাব পড়বে। আফগানিস্তান, ইরাকে আমেরিকার যুদ্ধের সময় যতটা হয়নি, তার চেয়ে অনেক বেশি হবে। ইরান ভারতের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ইরান থেকে ভারত তেল পায়। ভারতের চা সেখানে রপ্তানি হয়। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীরা শুভ ফল লাভ করবে। মাঝে মাঝে হঠকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় ক্ষতি হতে পারে। নতুন ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮৯৪- সাহিত্যিক জ্যোতির্ময়ীদেবীর জন্ম
১৮৯৭- মহাবিপ্লবী নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম
১৯০৯ - কবি নবীনচন্দ্র সেনের মৃত্যু
১৯২৬- শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল থ্যাকারের জন্ম
১৯৩৪- সাংবাদিক তথা ‘বর্তমান’ এর প্রাণপুরুষ বরুণ সেনগুপ্তর জন্ম
১৯৭৬- গায়ক পল রোবসনের মৃত্যু
১৯৮৪ – নেদারল্যান্ডের ফুটবল খেলোয়াড় আর্ইয়েন রবেনের জন্ম
১৯৮৯ - স্পেনীয় চিত্রকর সালভাদর দালির মৃত্যু
২০০২ - পাকিস্তানের করাচীতে সাংবাদিক ড্যানিয়েল পার্ল অপহৃত হন এবং পরবর্তীকালে নিহত হন।





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৩৫ টাকা ৭২.০৫ টাকা
পাউন্ড ৯১.২১ টাকা ৯৪.৪৯ টাকা
ইউরো ৭৭.৪২ টাকা ৮০.৪১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৫৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৫০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,০৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,২০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৩০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৮ মাঘ ১৪২৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, চতুর্দশী ৪৯/৪৮ রাত্রি ২/১৮। পূর্বাষা‌ঢ়া ৪৭/২৫ রাত্রি ১/২১। সূ উ ৬/২২/৩১, অ ৫/১৪/৭, অমৃতযোগ রাত্রী ১/৭ গতে ৩/৪৪ মধ্যে। বারবেলা ২/৩১ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৪৮ গতে ১/২৭ মধ্যে। 
৮ মাঘ ১৪২৬, ২৩ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, চতুর্দশী ৪৯/১৬/২৩ রাত্রী ২/৮/২৩। পূর্বাষাঢ়া ৪৭/৫৬/৪৫ রাত্রি ১/৩৬/৩২। সূ উ ৬/২৫/৫০, অ ৫/১২/৩২, অমৃতযোগ দিবা ১/৭ গতে ৩/৪২ মধ্যে। কালবেলা ২/৩০/৫২ গতে ৩/৫১/৪২ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৪৯/১১ গতে ১/২৮/২১ মধ্যে। 
২৭ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য জবরদখল উচ্ছেদ, গায়ে আগুন লাগালেন মহিলা 
রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য জবর দখল উচ্ছেদের চেষ্টা পুলিস ও প্রশাসনের। ...বিশদ

22-01-2020 - 04:27:00 PM

কলকাতা বইমেলার জন্য শুরু হল অ্যাপ, রয়েছে স্টল খুঁজে পাওয়ার সুবিধাও 

22-01-2020 - 04:13:45 PM

কৃষ্ণনগরে এনআরসি বিরোধিতায় শুরু হল মিছিল, রয়েছেন রাজীব বন্দ্যেপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্র 

22-01-2020 - 04:02:00 PM

২০৮ পয়েন্ট পড়ল সেনসেক্স 

22-01-2020 - 03:58:42 PM

ইটাহারে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ 
ইটাহারের জয়হাট চেকপোষ্টে আদিবাসীদের জমি দখলের প্রতিবাদে পথ অবরোধ চলছে ...বিশদ

22-01-2020 - 03:48:00 PM

বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না: মমতা 

22-01-2020 - 03:43:31 PM