Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

আত্মশক্তি ও আমরা
সমৃদ্ধ দত্ত

বীরভূমের এক গ্রামবাসী শান্তিনিকেতনে এসে সি এফ অ্যান্ড্রুজের হাতে চিঠি পাঠিয়েছেন মহাত্মা গান্ধীকে। ১৯৩৬ সালের ডিসেম্বর মাসে। সেই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন করেছেন, আপনার মতে একটি আদর্শ গ্রাম কাকে বলে? আর আজকের এই সামাজিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোনও একটি সাধারণ গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলাই বা কীভাবে সম্ভব? ১৯৩৭ সালের হরিজন পত্রিকার ৯ জানুয়ারি সংখ্যায় গান্ধীজি সেই চিঠির উল্লেখ করে লিখছেন, একটি আদর্শ গ্রামের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হল সবার আগে সেটির নিকাশি ব্যবস্থা আর পরিচ্ছন্নতা। এমন কুটির নির্মাণ করা যেটিতে যথেষ্ট আলোবাতাস আসে। সেই কুটিরের সামনে অথবা পিছনে জমি থাকে এবং সেই জমিতে প্রয়োজনীয় সব্জি বা ফল গ্রামবাসীরা নিজেরাই উৎপাদন করে নিজেদের চাহিদা মেটাতে পারেন। আদর্শ গ্রামে থাকা সরকারি একটি কমন প্রার্থনা স্থল, যেখানে সকলেই এসে প্রার্থনা করতে পারবেন। একটি সমবায় ডেয়ারি, একটি প্রাথমিক ও সেকেণ্ডারি স্কুল। নিজের খাদ্য নিজেরা উৎপন্ন করার পাশাপাশি সেগুলি বিক্রয়ের ব্যবস্থাও থাকবে। আর থাকবে খাদি সেন্টার। যাতে বাইরে শহরে গিয়ে কোনও পরিধান কিনতেই না হয়।
এসব থাকলে যেটা হবে তা হল সর্বদা সরকারের উপর নির্ভর করে থাকতে হবে না। আমার কাছে সবথেকে আদর্শ হল গ্রামবাসীরা যদি নিজেদের ভালোর জন্য পারস্পরিক সহায়তায় নিজেরাই জোট বাঁধে। ভেদাভেদ ভুলে কী করলে গোটা গ্রামের উন্নতি ও মঙ্গল হবে, সেটা উপলব্ধি করে নিজেরাই পরিশ্রম করলে দেখা যাবে উন্নতির আলো। গান্ধীজির ওই বার্তার ৮২ বছর পর আমাদের রাজনৈতিক দল কিংবা সরকার এরকম কোনও আদর্শ গ্রাম কি উপহার দিতে পেরেছে? গান্ধীজি এই নিবন্ধের শেষে লিখেছিলেন, সবথেকে হতাশার বিষয় হল মানুষের অগ্রবর্তী হয়ে কিছু করার প্রতি অনীহা। শহুরে গবেষক, রং বে-রং দলীয় সমর্থক, রিসার্চ স্কলার, নেতানেত্রীর ভক্ত এবং দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশোদ্ধার করা জাতি নয়, গান্ধীজির এসব বার্তার প্রকৃত অনুসরণকারী ভারতের অসংখ্য গ্রামের নিরক্ষর মানুষের দল। আমরা যখন তিন তালাক থেকে ৩৭০ নং নিয়ে প্রচুর মাতামাতি করছি তখন রাজস্থানের প্রত্যন্ত কয়েকটি গ্রামে একটি বিপ্লব চলছে।
২০১২ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ৬টি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন হীরা। রাজস্থানের বাঁশওয়াড়া জেলার সেওয়ানা গ্রামের হীরার সন্তানেরা প্রত্যেকেই কন্যা। বাঁশওয়াড়ার এইসব গ্রামের সবথেকে দুঃখজনক একটা প্রবণতা হল এখানে ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়স হওয়ার পরই গৃহবধূরা বৃদ্ধা হয়ে যান, মানসিক রোগীর লক্ষণ দেখা যায় এবং আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। কেউ সফল হন। কেউ হন না। স্থায়ী কোনও অসুস্থতায় ঘরের বাইরের খাটিয়ায় বাকি জীবন কেটে যায় শয্যাশায়ী হয়ে। যাই হোক। হীরার পরপর পাঁচটি কন্যাসন্তানের পর যখন গত ডিসেম্বর মাসে ষষ্ঠ সন্তান প্রসব হল, তখন তাঁকে বলা হয়নি কী সন্তান হয়েছে। তিনি কয়েকবার প্রশ্নও করেন। কিন্তু কারও কাছে জবাব না পেয়ে যখন শুনলেন শাশুড়ির কণ্ঠে উচ্চস্বরে কান্না, তখন বুঝলেন এবারও কন্যা। তিনিও কাঁদতে লাগলেন। স্বামীও। প্রতিটি সন্তানের পরই পাশের গ্রামের এক সাধুর কাছে যাওয়া হয়। তিনি পরবর্তী সন্তানধারণের সম্ভাবনা জানার পর একটি মন্ত্রঃপূত নারকেল দিয়ে থাকেন। সেটা ফাটিয়ে খেতে হয় নির্দিষ্ট দিনে।
সেই সাধু অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। বলেছেন, হীরা তুই তোর মায়ের থেকেও বেশি অভিশপ্ত। তোকে মনে হয় কিছু করা যাবে না। হীরার মায়ের চার মেয়ে। সুতরাং হীরার মাকে হীরা হারিয়ে দিয়েছে। এই কাহিনীগুলি এখানেই সমাপ্ত হয়ে যায় অথবা চলতে থাকে। কিন্তু রাজস্থানের ওয়াকা গ্রামের ক্লাস এইট পাশ কল্পনা নামের এক রাওয়াল জাতির মেয়ে অন্যরকম ভাবলো। বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে তিনটি মাটির কলসি মাথায় নিয়ে জল আনার সময় কুয়োর অদূরে বসে কাঁদছিল হীরা। তাঁকে সান্তনা দিচ্ছিলেন আরও কয়েকজন নারী, যাঁদের প্রত্যেকের কন্যাসন্তান হওয়ায় উপেক্ষা আর অত্যাচারই জোটে। এই মহিলাদের বলা হয় কৃষিমজুরি করে মেয়ের বিয়ের টাকা জমানো শুরু করতে। কারণ যে মা কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছে তাঁরই দায় সেই মেয়ের বিয়েতে খরচ করার। এভাবে পরিশ্রম, স্বল্প পুষ্টি, প্রতি বছর সন্তান গর্ভে ধারণ করা, পুত্রসন্তান জন্ম না দেওয়ার কারণে বদনাম এবং তারপর ডিপ্রেশন। এই চক্রে গ্রামের পর গ্রাম বধূরা অসুস্থ অথবা মানসিক রোগগ্রস্থ হয়ে যান। এই নারীরা সারাবছর কৃষি কিংবা ১০০ দিনের কাজে অমানুষিক পরিশ্রম করেন এবং প্রতি বছর নতুন করে গর্ভবতীও হন। কল্পনা এই মেয়েদের কাঁদতে দেখে একটি শপথ নিয়েছিল। ২৫ জন গ্রাম্য মহিলা একটি কুয়োর পাশে দাঁড়িয়ে গঠন করলেন ‘তাজো পরিবার’ নামক কর্মসূচি।
সেই থেকে এই মহিলারা সময় করে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন আর বিভিন্ন পরিবারের স্বামী শাশুড়িদের বোঝাচ্ছেন কেন কন্যা ও পুত্রসন্তানের মধ্যে বিভেদ না করে মেয়েদের সমানভাবে শিক্ষা দিলে কতটা লাভ। আর এভাবে পাঁচটি ছটি সাতটি সন্তানের জন্ম না দিয়ে একটি বা দুটিতেই সীমাবদ্ধ রাখলে সুখী সংসার হবে। সেই তাজো পরিবার কর্মসূচিকে আটকানোর বহু চেষ্টা হয়। বহু অত্যাচার হয় এঁদের উপর। কিন্তু পিছু না হটে এই গ্রাম্য মহিলারা শক্তি সঞ্চয় করেই চলেছেন। সরকারের দ্বারস্থ না হয়েই এঁরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দাঁতে দাঁত চেপে। তাঁরা দেখলেন একটি করে নতুন গ্রামে যাচ্ছেন, আর সেই গ্রামের দু তিনজন মেয়ে যোগ দিচ্ছেন এগিয়ে এসে। সম্প্রতি এঁদের একটি বৈঠকে জানতে চাওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকারের নানারকম সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের কী অভিমত? এইট পাশ কল্পনা ‘তাজো পরিবার’ কর্মসূচির প্রধান। তিনি হেসে বলেছেন, আমরা কেউ জানি না...জানার সময় নেই আসলে...এটা জানি আমাদের কাজ আমাদেরই করতে হবে।
ওড়িশার কোরাপুটের ৭১ বছর বয়সি কমলা পূজারি প্রতিদিন ভোরে উঠে স্নান করে উঠোনে পুজো সেরে আগের রাতের জলে ভেজানো ভাত খেয়ে বেরিয়ে পড়েন। এরপর হাঁটা। কমলার চোখ রাস্তায় থাকে না। থাকে রাস্তার পাশের ক্ষেতে, গ্রাম্য বাড়ির অঙ্গনে কিংবা একটুকরো রান্নাঘর সংলগ্ন বাগানে। রাসায়নিক আর পেস্টিসাইড ব্যবহার করে করে ভারতের গ্রামে গ্রামে ধান কিংবা অন্য ফসলের বহু বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কমলা পূজারির কাজ হল যখন যেখানে যে ফসল দেখলেন সেটারই বীজ জোগাড় করে নিলেন। আর সেটা জমিয়ে ফেললেন। এভাবে বীজ জমাচ্ছেন কমলা পূজারি। একটি থেকে দুটি বীজ। তিনটি থেকে কুড়িটা বীজ। কমলা পূজারির বাড়িতে হাজার হাজার বোতলে বীজ রাখা আছে। গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন আর বিরল প্রজাতির বীজ দিয়ে চাষিদের বলেন পেস্টিসাইড আর কেমিকেল ব্যবহার করলে সব বীজ একদিন নষ্ট হবে। শুধুই বীজ কিনতে হবে বড়লোক ব্যবসায়ী কোম্পানির থেকে। কমলা পূজারি হাঁটছেন এখনও। বীজ সংগ্রহ করতে। নেমে পড়ছেন কাদামাঠে, নেমে পড়ছেন অর্ধেক জলমগ্ন পুকুরে। কমলা পূজারি হেঁটে চলেছেন। ভারতের নিজস্ব বীজ বাঁচাতে। আজ গোটা ভারত থেকে বিদেশ থেকে বিজ্ঞানীরা আসেন কোরাপুটের গ্রামে। কমলা পূজারির কাছে বীজ দেখতে। কমলা পূজারির মাটির বাড়িতে এক অভিনব সম্ভার। ভারতের বীজব্যাঙ্ক! কমলা পূজারি কারও উপর ভরসা করে বসে নেই। তিনি নিজের কাজ নিজে করছেন।
ভারতের অর্থনীতি একটা সময় সবথেকে বেশি নির্ভরশীল ছিল কৃষির উপর। সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে সেই অর্থনীতি এখন নির্ভর করে ইণ্ডাস্ট্রি আর সার্ভিস সেক্টরের উপর। ভারতের জনসংখ্যার বিপুল অংশ একসময় গ্রামে থাকত। সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের জনসংখ্যা ক্রমেই এখন শহরমুখী। কেন? কারণ গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসের কিনারায় উপনীত হয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ফর এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট একটি সমীক্ষা করেছে। সেটির নাম অল ইন্ডিয়া রুরাল ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন।
সেই সার্ভেতে দেখা যাচ্ছে ভারতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গ্রামীণ পরিবারের সংখ্যা ২২ কোটি। আর এই ২২ কোটি পরিবারের মধ্যে আয়ের ক্ষেত্রে কৃষির সঙ্গে সংযোগ রয়েছে এরকম পরিবার ১০ কোটি। বাকি ১২ কোটি পরিবার কৃষির সঙ্গে যুক্তই নয়। আর ওই সার্ভে অনুযায়ী গ্রামীণ পরিবারের মাসিক গড় আয় ৮০৫৯ টাকা। এর মধ্যে গড়ে ৩৫০৪ টাকাই আসে দিনমজুরি থেকে। ১৯০৬ টাকা গড় আয় হয় সরকার কিংবা বেসরকারি কোনও কাজ থেকে। আর মাত্র ১৮৩২ টাকা গড় আয় কৃষি থেকে। সুতরাং কৃষি থেকে আয় কমছে। গ্রাম থেকে মানুষ চলে যাচ্ছে সেমি আরবান শহরে। ভারতের গ্রামীণ চরিত্র বদলে যাচ্ছে। আর এই কারণেই আমাদের সরকার বেসিক বিষয়গুলি নিয়ে আর ভাবিত নয়। কৃষি উন্নয়নের একটা প্লাস্টিক প্লাস্টিক উন্নয়নের ভাবমূর্তি প্রকাশ করা হয় সাবসিডি বা সহায়ক মূল্য দিয়ে। যা সমস্যার সমাধান নয়। কারণ ভারতের কৃষিকে আসলে কিনে নিচ্ছে তাবৎ কর্পোরেট। ভারতজুড়ে ক্যাশ ক্রপ আর কর্পোরেট ফার্মিং চলছে। জলের সাপ্লাই কিনে নিয়েছে কর্পোরেট। নদী, পাহাড়, অরণ্যের অধিকার চলে যাচ্ছে মাল্টিন্যাশনালের কাছে। তামিলনাড়ুর থুটুকোড়ি জেলায় একটি বিখ্যাত মাল্টিন্যাশনাল সংস্থার ইউনিটের বিষবর্জ্য গোটা জেলার বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে সমস্ত ভূগর্ভস্থ জল ও মাটির উর্বরতা দূষিত করে দিয়েছিল। গ্রামবাসীদের বিশুদ্ধ পানীয় জল আনতে যেতে হয় ৫ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু আবার নতুন করে কপার ইউনিট করার অনুমতিও পেয়েছে সেই সংস্থা। প্রতিবাদে ২০ হাজার গ্রামবাসী দিনের পর দিন অবস্থানে বসেছিল জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে। আবেদন ছিল ওই কপার কারখানা যেন না হয়। তাহলে চাষবাস বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবর্তে গুলি চালায় পুলিস। ১৪ জন মারা যান।
সেই সংস্থাটি কত দামে জল পেয়েছে? ১০ টাকায় ১ হাজার লিটার। গ্রামবাসীকে কত দামে জল কিনতে হয়েছে? ১০ টাকার ২৫ লিটার। গ্রামবাসীরা ফেসবুকে প্রতিবাদ করেননি। রাস্তায় নেমেছেন, গুলি খেয়েছেন। আমরা কি একদিনও আলোচনা করেছি? এই মুহূর্তে ১৬টি রাজ্যের ১০ লক্ষ আদিবাসী যে আন্দোলনটি করছে নিজেদের ভিটেমাটি ও জঙ্গল বাঁচাতে আমরা কি আদৌ সেটা নিয়ে চিন্তিত? কেউ জানি না কোথায় কী কর্মসূচি চলছে কোল ভিল গোন্দ আদিবাসীদের? আমরা নিজেদের চারপাশে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করি না। ক্ষুদ্র গণ্ডিতে কোনও সমস্যা সমাধানে নিজেরা একটা কিছু করার শপথ নিয়ে অগ্রসরও হই না।
আমরা অনেক দূরের কাশ্মীর, অযোধ্যা, বালাকোট নিয়ে ভয়ানক উদ্বিগ্ন। কিন্তু কেন? রাষ্ট্রশক্তি ওটাই চায়। নিজেদের দৈনন্দিন সমস্যা ভুলে দূরের আলোছায়া মেশা ঘটনা নিয়ে যাতে জনগণ মেতে থাকে। রবীন্দ্রনাথ পল্লীপ্রকৃতি গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘‘বিধাতা তো তেত্রিশ কোটির ভার আমাদের হাতে দেননি? তিনি শুধু একটি প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কী করছ?’ যে কার্যক্ষেত্র তোমার, সেখানে তুমি নিজেকে সত্য করেছো কিনা?’’ রাজস্থানের কল্পনা, কোরাপুটের কমলা পূজারিরা সেটাই করছেন। আমরা নয়!
23rd  August, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ।
বিশদ

30th  November, 2019
ওভার কনফিডেন্স
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সব থেকে প্রিয় হবি হল পরিবর্তন। তাঁরা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বদলের বন্দনাকারী। পরিবর্তন কি খারাপ জিনিস? মোটেই নয়। বরং পরিবর্তনই তো সভ্যতার স্থাণু হয়ে না থেকে এগিয়ে চলার প্রতীক।   বিশদ

29th  November, 2019
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় শর্তে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস চালানোর জন্য দ্বিতীয়বার টেন্ডার ডেকেও তেমন সাড়া মিলল না। রাজ্যের নানা জায়গায় চালাতে ১৫০টি ইলেকট্রিক বাসের জন্য ...

 দোহা, ৭ ডিসেম্বর (এএফপি): আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে তালিবানদের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করল আমেরিকা। শনিবার, কাতারে দু’পক্ষের মধ্যে এক দফা আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মাস তিনেক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাত্ করেই তালিবানদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করে দিয়েছিলেন। ...

  মেলবোর্ন, ৭ ডিসেম্বর: বিপজ্জনক আচরণ করছিল পিচ। আর সেই কারণে খেলা বন্ধ হয়ে গেল ঐতিহ্যশালী মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার। শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভিক্টোরিয়া এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভিক্টোরিয়া। ...

সংবাদদাতা, লালবাগ: লালগোলা ব্লকের বিলবোরা কোপরা গ্রাম পঞ্চায়েতের চিন্তামণি এবং বয়রা গ্রামে পদ্মা নদীর পাড় মেরামতির কাজ শুরুর আগে শনিবার সকালে নারকেল ফাটিয়ে পুজো দিলেন রাজ্যের শ্রম দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা। গুপ্ত শত্রুতার মোকাবিলায় সতর্কতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় বিলম্বিত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৫- অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর জন্ম
১৯৭১- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় করাচি বন্দরে হানা দিল ভারতীয় নৌবাহিনী
১৯৭৪- গণভোটের মাধ্যমে গ্রিসে রাজতন্ত্রের অবসান
১৯৮০- নিউইয়র্কে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ভক্তের হাতে খুন হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পপ গায়ক জন লেনন
১৯৯১- রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রনেতারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে কমনওয়েলথ গঠন করলেন
২০০৯- বাগদাদে বোমা হামলায় নিহত ১২৭ এবং আহত ৪৪৮ জন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৫/৫৩ দিবা ৮/৩০। অশ্বিনী ৫৩/২৫ রাত্রি ৩/৩০। সূ উ ৬/৮/১৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫১ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ মধ্যে পুনঃ ২/৪০ গতে ২/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ৯/১৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/৪২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/৮ গতে ১২/৪৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৮ গতে ২/৪৮ মধ্যে।
২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৩/১৫/৫২ দিবা ৭/২৭/৫৯। অশ্বিনী ৫৩/১০/৩০ রাত্রি ৩/২৫/৫০, সূ উ ৬/৯/৩৮, অ ৪/৪৮/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৬ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৩ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/৫০ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৬/১০ মধ্যে, কালবেলা ১১/২৯/১৪ গতে ১২/৪৯/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৯/২০ গতে ২/৪৯/২৭ মধ্যে।
১০ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আলিপুরে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান বাড়ির একাংশ 
আলিপুর রোডে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ বহুতলের একাংশ। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ...বিশদ

07-12-2019 - 05:05:00 PM

মালদহে মহিলার রহস্যমৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিস সুপারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ বিজেপির 

07-12-2019 - 03:51:00 PM

মালদা, বালুরঘাট, কোচবিহার বিমানবন্দর নবীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী 
মালদা, বালুরঘাট, কোচবিহারের মতো অব্যবহৃত বিমানবন্দর ও বিমান স্ট্রিপগুলির নবীকরণের ...বিশদ

07-12-2019 - 03:34:00 PM

একনজরে গতকালের ম্যাচের রেকর্ডগুলি 
গতকাল হায়দরাবাদে প্রথম টি-২০ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দারুণ জয় ...বিশদ

07-12-2019 - 02:35:02 PM

বাটানগরে জলের পাইপের স্তূপে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকল 
মহেশতলা পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাটা রিভারসাইড প্রোজেক্ট সংলগ্ন এলাকায় ...বিশদ

07-12-2019 - 12:41:00 PM

বি গার্ডেন লেনে ব্যক্তির দেহ উদ্ধার 
হাওড়ার বি গার্ডেন লেনে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হল। মৃতের ...বিশদ

07-12-2019 - 12:16:18 PM