Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল: কিছু আশঙ্কা 
বিষাণ বসু

চারদিকে বড় হইচই। বিষয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন বিল। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের মেডিক্যাল শিক্ষার ব্যাপারটা দেখছিলেন এমসিআই, অর্থাৎ মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। এমসিআই নিয়ে অভিযোগ ছিল বিস্তর—বিশেষত, তাঁদের কিছু কর্তাব্যক্তিকে নিয়ে। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হালটিও ঠিক পাঁচজনকে নেমন্তন্ন করে জানানোর মতো নয়। কিন্তু, দেশের মেডিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা থেকে উৎপাদিত চিকিৎসকদের জ্ঞানগম্যি বা দক্ষতার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন সেরকম ওঠেনি।
এইবার একেবারে বড়সড় রদবদল। এমসিআই বাতিল করে তার জায়গায় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন, সংক্ষেপে এনএমসি। দেশজুড়ে চিকিৎসকেরা প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এদেশে চিকিৎসকদের সর্ববৃহৎ সংগঠন আইএমএ প্রতিবাদে দেশজুড়ে কর্মবিরতি পালন করলেন। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে জুনিয়র ডাক্তারদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন চলছিল—রীতিমতো সরকারি হুমকির পরে কর্মবিরতি প্রত্যাহার হয়। ব্যাপারটা ঠিক কী?
চিকিৎসকদের প্রথম আপত্তি, ব্রিজ কোর্স নিয়ে। দেশে নাকি চিকিৎসকের আকাল। অতএব, তথাকথিত মডার্ন মেডিসিন বাদ দিয়ে চিকিৎসাবিদ্যার বাকি সব ধারা, যেমন আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি ইত্যাদি, যাদেরকে একসঙ্গে আয়ুশ বলা হয়ে থাকে, তাঁদের অল্পকিছুদিনের জন্যে ট্রেনিং দিয়ে মডার্ন মেডিসিনের চিকিৎসকে পরিণত করা হবে। যদিও বিলে সরাসরিভাবে এই ব্রিজ কোর্স চালুর কথা বলা নেই, কিন্তু পথটি খোলা রাখা আছে নিশ্চিত।
পাশাপাশি, তিন লক্ষের বেশি বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর কথা ভাবা হয়েছে, যাঁরা কিনা মুখ্যত প্রাথমিক ও নিবারণী চিকিৎসাটুকু দেবেন। অন্যান্য চিকিৎসা যদি তাঁদের করতে হয়, সেক্ষেত্রে তাঁদের থাকতে হবে মডার্ন মেডিসিনের পাশ করা ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে। প্রস্তাবটি আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ শুনতে লাগলেও, কিছু প্রশ্ন রয়ে যায়।
যেমন, দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যের হাল খারাপ। বিভিন্ন স্বাস্থ্যসূচকে আশপাশের বিভিন্ন দেশের তুলনায় আমরা পিছিয়েই চলেছি। বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কোনও কথা শোনা যাচ্ছে না। যেটুকু বরাদ্দ হচ্ছে, তার সিংহভাগই যাচ্ছে হাই-টেক হেল্‌থ- কেয়ারের পিছনে। দেশের হেল্‌থকেয়ার পুরোপুরিই ইলনেস-কেয়ার। সেইখানে, টিমটিম করে চলা প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে সঁপে দিলে আগামী দিনে ভালো কিছুর আশা কম। হ্যাঁ, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। কিন্তু, এই এনএমসি বিলের কিছুদিন আগেকার নয়া জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিতে যেভাবে ঢালাও বেসরকারি- করণের কথা বলা হয়েছে, তাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকে লাটে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে, এমন আশঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, যদি ডাক্তারের আকালই হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানের জন্যে যথেষ্ট চিকিৎসক আসবে কোত্থেকে? এই স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরিষেবা বাদ দিয়ে যদি অন্যান্য চিকিৎসা শুরু করেন, নজরদারি করবেন কে?
দেশে ডাক্তারের আকালটা ঠিক কতখানি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলে, সুষ্ঠু স্বাস্থ্যপরিষেবার জন্যে প্রতি হাজার জনসংখ্যা পিছু একজন ডাক্তার থাকা জরুরি। বছর দুয়েক আগে লোকসভাকে সরকার তথ্য দিয়েছিল, দেশে রেজিস্টার্ড এমবিবিএস ডাক্তার রয়েছেন প্রায় সোয়া দশ লক্ষ। জনসংখ্যা কমবেশি একশো তিরিশ কোটি। হাজারে এক হিসেব করতে হলে, প্রয়োজন কমসেকম তেরো লক্ষ। বেশ কথা। তাহলে কি আয়ুশ ডাক্তারদের হিসেবের মধ্যেই আনব না? এঁরা পড়ছেন সরকারি কলেজে, এঁরা নিযুক্ত হচ্ছেন সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থায়—কিন্তু, সরকার যখন ডাক্তারের সংখ্যা গুনবেন, তাঁরা সেইখানে হিসেবে আসবেন না? এ কেমন দ্বিচারিতা!
প্রশ্ন এটাই, সরকার বাহাদুর স্বয়ং যখন আয়ুশ ব্যবস্থার উপর ভরসা রাখছে না, এবং যেন তেন প্রকারে এঁদের দিয়ে মডার্ন মেডিসিন প্র্যাকটিস করাতে চাইছেন, তাহলে সরকার সরাসরি এইসব চিকিৎসাপদ্ধতি, বিশেষত, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি তুলে দিয়ে সেই অর্থ মডার্ন মেডিসিনের কলেজ তৈরির পিছনে ঢালছেন না কেন? ব্রিজ কোর্সের প্রস্তাব বা সরকারি খতিয়ানে আয়ুশ চিকিৎসকদের অনুল্লেখ বা দায়সারা উল্লেখ যে এই চিকিৎসাপদ্ধতির প্রতি নিদারুণ অপমান, তা তো বলে দিতে হবে না!!
বিল অনুসারে মডার্ন মেডিসিনের উচ্চতর নিয়ামক কর্তৃপক্ষ নিয়মিত কথোপকথন চালু রাখবেন, বাকি সব ধারার চিকিৎসাপদ্ধতির নিয়ামক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। সেইখানে কিন্তু ঘুরপথে ব্রিজ কোর্স চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা এই বিল অনুসারে মেডিক্যাল কমিশনের দু’চারজন বাদ দিলে বেশিরভাগই হবেন সরকার মনোনীত এবং অনুমান করাই যায়, সরকার যেমন চাইছেন, তাঁরা তদনুযায়ী আচরণই করবেন।
বিল নিয়ে চিকিৎসকদের দ্বিতীয় বড় আপত্তির জায়গাটা এখানে। সাবেক এমসিআই নিয়ে হাজার অভিযোগের মধ্যেও একটা স্বস্তি ছিল—সেফটি ভাল্‌ভও বলতে পারেন, যে তার প্রতিনিধিরা নির্বাচিত, চিকিৎসকদের ভোটে নির্বাচিত। ঠিক যেমন, দেশের হাল নিয়ে যত আক্ষেপই করি না কেন, গণতন্ত্রের শক্তির উপর আমাদের আস্থা সদা অটুট। এনএমসি বিল সেই আস্থার জায়গাটাই ভেঙে দিয়েছে। প্রস্তাবিত কমিশনের বেশিরভাগ সদস্যই হবেন কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক মনোনীত। দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সত্ত্বেও সেই কমিশনে নিয়মিত ভিত্তিতে অধিকাংশ রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব থাকার অবকাশ নেই। রাজ্যের প্রতিনিধিরা যেখানে থাকবেন, তাঁদের ভূমিকা মূলত পরামর্শদাতা বা উপদেষ্টার—সেই পরামর্শ অনুসারে চলতেই হবে, কমিশনের এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
সুষ্ঠু পরিচালনার জন্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ যেখানে শ্রেয় বলে সর্বত্র মেনে নেওয়া হচ্ছে, সেইখানে এই বিল ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণের পক্ষে। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভাব-অভিযোগের চূড়ান্ত নিয়ামক এই কমিশন, এবং রাজ্যের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ কমিশনের সিদ্ধান্ত মানতে বাধ্য।
চিকিৎসকদের তৃতীয় বড় আপত্তির জায়গা, চিকিৎসাশিক্ষার বেসরকারিকরণের ইঙ্গিতটি নিয়ে। প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ খোলার ব্যাপারে ঢালাও উৎসাহ দেওয়া হয়েছে—মাত্র একবার খতিয়ে দেখার পরেই বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাড়পত্র মিলবে। পরিকাঠামো ঠিকঠাক আছে কি না, বারবার খুঁটিয়ে যাচাই করা হবে না। কলেজ চালু হওয়ার বছর কয়েকের মধ্যেই কর্তৃপক্ষ সিট বাড়াতে পারবেন, খুলতে পারবেন নতুন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কোর্স—নতুন করে পরিদর্শন বা ছাড়পত্র লাগবে না। আসন সংখ্যার পঞ্চাশ শতাংশের ফিজ বেঁধে দেবেন কমিশন, বাকি পঞ্চাশ শতাংশের ক্ষেত্রে মালিক-কর্তৃপক্ষ যথেচ্ছ অর্থমূল্য ধার্য করতে পারেন।
দেখুন, নতুন এই যে এনএমসি বিল, তার প্রস্তাবগুলিকে যদি আলাদা আলাদা করে, একটি একটি করে দেখেন, খুব একটা অযৌক্তিক বলে হয়তো বোধ হবে না। প্রাথমিক স্বাস্থ্যে ডাক্তার পাওয়া যাচ্ছে না, তাই প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যবস্থা। তাই আরও বেশি ডাক্তার তৈরি করে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খোঁজা। বেশি ডাক্তার তৈরি করতে বেসরকারি উদ্যোগের দ্বারস্থ হওয়া, ‘লাইসেন্সরাজ’ এড়িয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কিন্তু, একটি একটি করে গাছের দিকে চেয়ে দেখতে থাকলে এই অরণ্যের ভয়াবহতার রূপটি আপনার চোখের আড়ালেই রয়ে যাবে।
দেশে ডাক্তারের অভাব কতখানি, সেটা তর্কযোগ্য হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাক্তারের অভাব নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ নেই কিন্তু সেসব অঞ্চলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হাল? প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে ক্ষতস্থানের মুখটা ব্যান্ডেজ দিয়ে লুকানো হয়তো যাবে। তারপর? সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ডাক্তারেরা দুর্গম জায়গায় পোস্টেড হলেও যেতে আপত্তি করেন না। কিন্তু, গ্রামে ডাক্তার অমিল কেন? শুধু ডাক্তারদের উপর দোষ চাপালে হবে? লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ করা ডাক্তারেরা প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যপরিষেবা জোগাবেন?
আপাতনিরীহ কিছু প্রস্তাবনার মাধ্যমেই খুলেছিল শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথ। তার সম্পূর্ণ সামাজিক অভিঘাত এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও অনেকখানি অনুভব করা যায়, দেখা যায় সরকারি স্কুলের বেহাল দশা। স্বাস্থ্যশিক্ষার বেসরকারিকরণের পথে হাঁটার অভিঘাত হবে আরও অনেক বেশি গভীর। পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় বেসরকারি কলেজ থেকে কৃতকার্য হওয়া ছাত্রের সংখ্যা ছিল লক্ষণীয়ভাবে কম—কারণ অনুমানযোগ্য। ডাক্তারি পাশ করার কমন এক্সিট টেস্ট-এর ফলের সঙ্গে পোস্টগ্র্যাজুয়েশনে ঢোকাকে জুড়ে দিয়ে সেই বাধা অতিক্রম করার প্রয়াস কেন?
এই এনএমসি বিল-এর কতখানি শেষমেশ লাগু হবে, আর কতখানি পুনর্বিবেচিত—দেখার বিষয়। কিন্তু, আপাতত যে বিলটি প্রস্তাবিত, তার অভিঘাত, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং বৃহত্তর সামাজিক ক্ষেত্রের পক্ষে সুবিধের হবে না, এমন আশঙ্কা অন্যায্য নয়।
 লেখক বিশিষ্ট চিকিৎসক 
20th  August, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
বিজেপির অহঙ্কারের পতন
হিমাংশু সিংহ

সবকিছুর একটা সীমা আছে। সেই সীমা অতিক্রম করলে অহঙ্কার আর দম্ভের পতন অনিবার্য। সভ্যতার ইতিহাস বারবার এই শিক্ষাই দিয়ে এসেছে। আজও দিচ্ছে। তবু ক্ষমতার চূড়ায় বসে অধিকাংশ শাসক ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই আপ্তবাক্যটা প্রায়শই ভুলে যায়।  বিশদ

01st  December, 2019
উপনির্বাচনের ফল ও বঙ্গ রাজনীতির অভিমুখ
তন্ময় মল্লিক

জনতা জনার্দন। ফের প্রমাণ হয়ে গেল। মাত্র মাস ছয়েক আগে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন দখল করে গেরুয়া শিবির মনে করেছিল, গোটা রাজ্যটাকেই তারা দখল করে নিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই বঙ্গেই তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে একেবারে উল্টো হওয়া বইয়ে দিল মানুষ।
বিশদ

30th  November, 2019
ওভার কনফিডেন্স
সমৃদ্ধ দত্ত

নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের সব থেকে প্রিয় হবি হল পরিবর্তন। তাঁরা স্থিতাবস্থায় বিশ্বাস করেন না। তাঁরা বদলের বন্দনাকারী। পরিবর্তন কি খারাপ জিনিস? মোটেই নয়। বরং পরিবর্তনই তো সভ্যতার স্থাণু হয়ে না থেকে এগিয়ে চলার প্রতীক।   বিশদ

29th  November, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: শনিবার দুপুরে চাকুলিয়া থানার শিকারপুরে পাটবোঝাই একটি চলন্ত ট্রাক্টরে হঠাৎ আগুন লেগে প্রায় তিন লক্ষ টাকার পাট ভস্মীভূত হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চাকুলিয়া হাট থেকে এক ব্যবসায়ী পাট কিনে ট্রাক্টরে চাপিয়ে নিয়ে বিহারের কিষাণগঞ্জে ...

 দোহা, ৭ ডিসেম্বর (এএফপি): আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে তালিবানদের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করল আমেরিকা। শনিবার, কাতারে দু’পক্ষের মধ্যে এক দফা আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। মাস তিনেক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাত্ করেই তালিবানদের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করে দিয়েছিলেন। ...

  মেলবোর্ন, ৭ ডিসেম্বর: বিপজ্জনক আচরণ করছিল পিচ। আর সেই কারণে খেলা বন্ধ হয়ে গেল ঐতিহ্যশালী মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার। শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ভিক্টোরিয়া এবং পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া। টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় ভিক্টোরিয়া। ...

সংবাদদাতা, লালবাগ: লালগোলা ব্লকের বিলবোরা কোপরা গ্রাম পঞ্চায়েতের চিন্তামণি এবং বয়রা গ্রামে পদ্মা নদীর পাড় মেরামতির কাজ শুরুর আগে শনিবার সকালে নারকেল ফাটিয়ে পুজো দিলেন রাজ্যের শ্রম দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা জঙ্গিপুরের তৃণমূল বিধায়ক জাকির হোসেন।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

শরীর-স্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা। গুপ্ত শত্রুতার মোকাবিলায় সতর্কতা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় বিলম্বিত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৫- অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর জন্ম
১৯৭১- ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় করাচি বন্দরে হানা দিল ভারতীয় নৌবাহিনী
১৯৭৪- গণভোটের মাধ্যমে গ্রিসে রাজতন্ত্রের অবসান
১৯৮০- নিউইয়র্কে এক মানসিক প্রতিবন্ধী ভক্তের হাতে খুন হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ পপ গায়ক জন লেনন
১৯৯১- রাশিয়া, বেলারুশ এবং ইউক্রেনের রাষ্ট্রনেতারা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং স্বাধীন রাষ্ট্রগুলিকে নিয়ে কমনওয়েলথ গঠন করলেন
২০০৯- বাগদাদে বোমা হামলায় নিহত ১২৭ এবং আহত ৪৪৮ জন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৯ টাকা ৭২.১৯ টাকা
পাউন্ড ৯২.২০ টাকা ৯৫.৫৪ টাকা
ইউরো ৭৭.৭৫ টাকা ৮০.৭৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
07th  December, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮, ৩৮৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬, ৪২০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬, ৯৬৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৫/৫৩ দিবা ৮/৩০। অশ্বিনী ৫৩/২৫ রাত্রি ৩/৩০। সূ উ ৬/৮/১৩, অ ৪/৪৮/১৭, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫১ গতে ৮/৫৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৯ মধ্যে পুনঃ ২/৪০ গতে ২/৪০ মধ্যে। রাত্রি ৭/২৮ গতে ৯/১৫ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৫ গতে ১/৪২ মধ্যে পুনঃ ২/৩৫ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ১০/৮ গতে ১২/৪৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৮ গতে ২/৪৮ মধ্যে।
২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯, রবিবার, একাদশী ৩/১৫/৫২ দিবা ৭/২৭/৫৯। অশ্বিনী ৫৩/১০/৩০ রাত্রি ৩/২৫/৫০, সূ উ ৬/৯/৩৮, অ ৪/৪৮/৪৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/১ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/৫৬ গতে ২/৪৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৩৩ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১২/২ গতে ১/৫০ মধ্যে ও ২/৪৮ গতে ৬/১০ মধ্যে, কালবেলা ১১/২৯/১৪ গতে ১২/৪৯/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ১/৯/২০ গতে ২/৪৯/২৭ মধ্যে।
১০ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আলিপুরে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মান বাড়ির একাংশ 
আলিপুর রোডে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ বহুতলের একাংশ। দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ...বিশদ

07-12-2019 - 05:05:00 PM

মালদহে মহিলার রহস্যমৃত্যুর ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিস সুপারকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ বিজেপির 

07-12-2019 - 03:51:00 PM

মালদা, বালুরঘাট, কোচবিহার বিমানবন্দর নবীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী 
মালদা, বালুরঘাট, কোচবিহারের মতো অব্যবহৃত বিমানবন্দর ও বিমান স্ট্রিপগুলির নবীকরণের ...বিশদ

07-12-2019 - 03:34:00 PM

একনজরে গতকালের ম্যাচের রেকর্ডগুলি 
গতকাল হায়দরাবাদে প্রথম টি-২০ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দারুণ জয় ...বিশদ

07-12-2019 - 02:35:02 PM

বাটানগরে জলের পাইপের স্তূপে আগুন, ঘটনাস্থলে দমকল 
মহেশতলা পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বাটা রিভারসাইড প্রোজেক্ট সংলগ্ন এলাকায় ...বিশদ

07-12-2019 - 12:41:00 PM

বি গার্ডেন লেনে ব্যক্তির দেহ উদ্ধার 
হাওড়ার বি গার্ডেন লেনে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হল। মৃতের ...বিশদ

07-12-2019 - 12:16:18 PM