Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তখন ভোর ৪ টে। নিউ ইয়র্কের মতো পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত নগরীতে তখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে কাতর। কিন্তু আপনি যদি জর্ডন বেলফোর্ট নামে এক পাগলাটে শেয়ার দালালের সেক্রেটারি হয়ে থাকেন, তাহলে ঘুমের কথা বেমালুম ভুলে যান। ঠিক ৪ টে বাজতেই কর্কশ কণ্ঠে বেজে ওঠে টেলিফোন। বেচারা সেক্রেটারি ঘুম থেকে উঠে রিসিভার কানে নিয়ে বললেন, ‘হ্যালো।’ ফোনের অপরপাশ থেকে তখন বেশ হাঁপিয়ে ওঠা কণ্ঠে ‘হ্যালো’ বলে উঠলেন তাঁর বস জর্ডন বেলফোর্ট। ‘জর্ডন? এখন তো ভোর ৪ টে? কী প্রয়োজনে ফোন করেছ?’ জর্ডন কিছু সময় নিলেন নিজেকে গুছিয়ে নিতে। এরপর যা বললেন, তা শুনে তাঁর সেক্রেটারি বাদে যে কারও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ত। জর্ডন তখন একটি বাণিজ্যিক সফরে অতলান্তিকের ওপারে লন্ডনে ছিলেন। লন্ডনে নিয়ে আসা কুয়েলুডস (মাদক) একদম ফুরিয়ে গিয়েছে। তাই এই মুহূর্তে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে কুয়েলুডস পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য ফোন। যেমন মালিক, তেমন তাঁর সেক্রেটারি। এই ঘটনা একদম নতুন নয় তাঁর কাছে। আধ ঘণ্টার মধ্যে জর্ডনের ব্যক্তিগত কনকর্ড বিমানে করে লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন কুয়েলুডস। জর্ডনের জন্য সবই সম্ভব!
নিজেকে ওয়াল স্ট্রিটের নেকড়ে ভাবা এই শেয়ার দালাল তাঁর জীবনে আরও অদ্ভুত অদ্ভুত সব কাজ করেছেন। একবার তো তিনি নেশা করার পর এক চোখ বন্ধ রেখে হেলিকপ্টার চালিয়ে নিজের বাড়ির উঠনে অবতরণ করেছিলেন। তিনি নাকি সবকিছু ‘দ্বিগুণ’ দেখছিলেন। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে এক চোখ দিয়েই পাইলট হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন! ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, জর্ডন ছিলেন রবিন হুডের বিকৃত সংস্করণ। যিনি কি না ধনীদের থেকে অর্থ চুরি করে নিজের কোষাগারে ভরতেন। ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’ খ্যাত এই জর্ডন বেলফোর্ট ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা প্রতারক।
৯ জুলাই, ১৯৬২। নিউ ইয়র্কের কুইন্সে জন্ম। বাবা পেশায় ছিলেন একজন হিসাবরক্ষক। স্থানীয় স্কুল থেকে পাশ করে জর্ডন সিদ্ধান্ত নিলেন একজন ডেন্টিস্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন। এই উদ্দেশ্যে বাল্টিমোরের ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হলেন। কিন্তু কেন যেন বেশিদিন সেখানে মন বসলো না তাঁর। ডেন্টাল কলেজের পড়া শেষ না করে তিনি নতুন করে ভর্তি হলেন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখান থেকে জীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পালা শেষ, এবার জীবিকা অর্জনের পালা শুরু। কিন্তু জর্ডনের নিজেকে কোনও বিজ্ঞানী বা শিক্ষক হিসেবে দেখতে পছন্দ নয়। তাই ডিগ্রি সরিয়ে রেখে তিনি ব্যবসায় নামলেন। শুরুতে সামুদ্রিক খাবার নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন। জর্ডনের এই যাত্রায় প্রথম সঙ্গী হিসেবে পেলেন বন্ধু কেনি গ্রিন ওরফে ব্লকহ্যাডকে। বয়স তখন তার মাত্র ১৮। ব্যবসা করার ইচ্ছে বোধহয় জর্ডনের সহজাত গুণ। কারণ, দ্রুত তাঁর কোম্পানি লাভের মুখ দেখা শুরু করল। তবে অভিজ্ঞতা না থাকায় বেশিদিন এই লাভ ধরে রাখতে পারেননি। তাই এক বছর পরে তাঁর কোম্পানি বন্ধ করে দিতে হয়। ব্যবসায় সাময়িকভাবে ব্যর্থ হলেও থেমে যাননি জর্ডন। অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করলেন, খাবারের ব্যবসা আর করবেন না। এবার নতুন যাত্রা শুরু করা যাক। আর তার এই নতুন যাত্রার গন্তব্যস্থল ছিল বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজার। ওয়াল স্ট্রিট। ১৯৮৭ সালে জর্ডন শেয়ারের দালাল হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। কয়েকদিনের মধ্যে শেয়ার বাজারের আদ্যোপান্ত জেনে নেন জর্ডন। ওয়াল স্ট্রিটে আসার দু’বছরের মাথায় জর্ডন বেলফোর্ট নিজের উদ্যোগে একটি শেয়ার বিনিয়োগকেন্দ্র খুলে বসেন। নিজের হাতে গড়া এই ছোট কোম্পানির নাম দেন ‘স্ট্রেটন ওকমন্ট’।
নতুন কোম্পানিতে ধীরে ধীরে লোকবল নিয়োগ করতে থাকেন জর্ডন। তাঁর প্রধান সহযোগী ডেনি পরুশকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন শেয়ার বেচা-কেনার যজ্ঞ। স্ট্রেটন ওকমন্টের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ পদ্ধতি অনুসরণ করে রাতারাতি অঢেল অর্থের মালিক বনে যাওয়া। এই পদ্ধতি অনুযায়ী জর্ডনরা প্রথমে ক্রেতা নির্বাচন করতেন। এমন একজনকে ক্রেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হতো, যে জর্ডনদের শেয়ারের ফাঁকি ধরতে পারবে না। এরপর শুরু হতো দালালদের কেরামতি। ক্রেতাকে নানাভাবে মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কম মূল্যের শেয়ারকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য করতো তারা। এভাবে কম পুঁজিতে অতি মাত্রায় লাভ করতে থাকে স্ট্রেটন ওকমন্ট। আর রাতারাতি ধনকুবের বনে যান জর্ডন বেলফোর্ট। সকলের মুখে মুখে তখন বেলফোর্টের নাম। অনেকে তাকে ‘উলফ’ হিসেবে ডাকা শুরু করল। জর্ডন বনে গেলেন ওয়াল স্ট্রিটের এক ‘উলফ’।
জর্ডন তাঁর সহকর্মীদের একটি মন্ত্র বাতলে দেন, ‘ক্রেতা শেয়ার কিনবে, না হয় মরে যাবে। কিন্তু কোনওভাবেই এর আগে ফোন কেটে দেওয়া যাবে না।’ জর্ডন একবার নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছিলেন, ‘ধনী হওয়া খুব সহজ, যদি নিয়ম নীতি না মেনে ধনী হতে চাও।’ জর্ডন বেলফোর্ট তাঁর কোম্পানিতে এমন কাউকে নিয়োগ করতেন না, যাঁরা ইতিমধ্যে দালাল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর পছন্দের প্রার্থী ছিল মাধ্যমিক স্তরের ডিপ্লোমাধারী কিংবা উৎসাহী তরুণরা, যাঁরা প্রচুর অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন দেখতেন। স্ট্রেটন ওকমন্ট শেয়ার বাজারীদের মধ্যে একটি কাল্টে রূপান্তরিত হল। স্ট্রেটনিরা কাজ করতো মোষের মতো, আবার পার্টি করার সময় এদের উদযাপনের মাত্রা বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে যেত। অর্থ উপার্জন করলেই হয় না, এর জন্য খরচ করা জানতে হয়। এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন জর্ডন বেলফোর্ট। শেয়ার দালালিতে উপার্জন করা লক্ষ লক্ষ ডলার তিনি বেপরোয়াভাবে খরচ করতে থাকেন। ম্যানহ্যাটনে আকাশচুম্বী অট্টালিকা গড়লেন জর্ডন। কিন্তু তাতেও মন ভরলো না। তাই নিউ ইয়র্কের লং দ্বীপে একটি প্রকাণ্ড প্রাসাদ কিনে ফেললেন। সাগরে ভেসে আনন্দ করার জন্য কেনা হল ২৫৬ ফুট দীর্ঘ প্রমোদতরী। একটি ফেরারি টেস্টারোসা এবং হ্যাম্পটনের একটি বিলাসবহুল বাড়ি ছিল জর্ডনের অস্থায়ী খেলনার মতো। পছন্দ না হলে সোজা বদলে ফেলতেন সবকিছু। লক্ষ লক্ষ ডলারের আসবাবপত্র দিয়ে তাঁর আবাসস্থল সাজানো হয়েছিল, যা দেখলে চোখ ফেরানো যেত না।
বাড়ি, গাড়ি, প্রমোদতরী ছাড়াও জর্ডনের টাকা ওড়ানোর আরও একটি সংস্থান ছিল। আর তা হচ্ছে মাদক। মারিজুয়ানা, কোকেন, গাঁজা, কুয়েলুডস এগুলো ছিল জর্ডনের নিত্যদিনের সঙ্গী। কাজের ফাঁকে কিংবা কাজের শেষে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কিংবা একাকী রুমে মাদক নিয়ে মত্ত হতেন জর্ডন। জর্ডন আত্মজীবনীতে তাঁর অধঃপতনের জন্য মাদককে দায়ী করেছেন। প্রায়ই মাদক সেবনের পর জর্ডন গাড়ি চালাতেন, বিমানে চড়তেন। এমনকী একবার মাদকাসক্ত অবস্থায় নিজের স্ত্রী নাদিনকে লাথি পর্যন্ত মেরেছিলেন। নাদিন ছিলেন জর্ডনের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী ডেনিসের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি মডেল নাদিনকে বিয়ে করেছিলেন। জর্ডন মহিলা, মাদক, পার্টি নিয়ে মেতে থাকলেও নাদিন কিছু বলতেন না। কিন্তু জর্ডন যেদিন তাঁকে লাথি মেরেছিলেন, সেদিন তিনি জর্ডনকে ছেড়ে চলে যান। নাদিন শেষ পর্যন্ত এক উকিলকে বিয়ে করে ক্যালিফোর্নিয়া চলে যান। জর্ডনের দুই সন্তান নাদিনের সঙ্গে চলে যায়।
জর্ডন বেলফোর্টের প্রতারণার কথা মার্কিন নিরাপত্তা ও বিনিময় কমিশনের কানে পৌঁছায়। ১৯৯২ সালে তারা জর্ডনের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। তখন জর্ডনের পিছনে লেগে গিয়েছে এফবিআইও। এফবিআই এজেন্ট কোলম্যান জর্ডন বেলফোর্টের প্রতিটি পদক্ষেপে নজরদারি চালাতে থাকেন। উন্মুক্ত নেকড়ে জর্ডনের আনন্দের দিন যেন শেষ হয়ে আসে। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে জর্ডনের এক বন্ধু সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে। জর্ডন একের পর এক দুঃসংবাদে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তিনি এতটাই অস্থির হয়ে যান যে, একবার কুয়েলুডস সেবন করে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফেরার পর নাদিন যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘জর্ডন, তোমার গাড়ি এরকম ভেঙে আছে কেন?’ তখন জর্ডন বুঝতে পারলেন, নেশার ঘোরে গাড়ি চালাতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন। এই ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় জর্ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে শুনানির পর জর্ডন বেলফোর্টকে ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ার বিক্রি করার উপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। স্ট্রেটন ওকমন্ট কোম্পানিকে বেশ বড় অঙ্কের জরিমানাও গুণতে হয়েছিল। জর্ডনের বিপদের মুখে ১৯৯৬ সালে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যায়। আদালত কোম্পানিকে অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা ক্রেতাদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একের পর এক অভিযোগ প্রমাণিত হতে থাকলে, ১৯৯৯ সালে জর্ডন বেলফোর্ট আদালতে নিজেকে দোষী দাবি করেন। ২০০৩ সালে জর্ডনকে ৪ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জেল খাটা ছাড়াও মোট ১১০ মিলিয়ন ডলার অর্থ জরিমানা করা হয়। দীর্ঘ চার বছর জেলে থাকার শাস্তি জর্ডনের মতো বিলাসিতায় কাটানো মানুষের জন্য মারাত্মক কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এজেন্ট কোলম্যান এবং তৎকালীন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জুয়েল কোয়েন এক শর্তের বিনিময়ে নেকড়ে জর্ডনের শাস্তি কমিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেন। সেটি হচ্ছে, জর্ডনকে এবার ওয়াল স্ট্রিটের ‘র‍্যাট’ বা ইঁদুর হতে হবে। ফাঁস করে দিতে হবে শেয়ার বাজারের অন্যান্য প্রতারক এবং অপরাধীদের নাম। ধরিয়ে দিতে হবে অর্থ জোগান দেওয়া এবং পাচারের পিছনের মূল হোতাদের।
শুরুতেই জর্ডন তাঁর নিজের হিসাবরক্ষককে ধরিয়ে দেন। এরপর একে একে ১০০ জনের মতো প্রতারক ধরিয়ে দিতে সাহায্য করেন তিনি। মার্কিন সরকারের প্রতি সহযোগিতার পুরষ্কার হিসেবে জর্ডন বেলফোর্টকে ৪ বছরের বদলে মাত্র ২২ মাস কারাবরণের পর মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি একবারও মাদক সেবন করেননি, যা তাঁর দেহকে মাদকাসক্ত থেকে দূরে রাখতে পরবর্তী জীবনে সাহায্য করেছে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এককালের ওয়াল স্ট্রিট নেকড়ে ঠিক করলেন, এবার মানুষের মতো বাঁচবেন। কিন্তু জর্ডন তাঁর অতীতকে ভুলে যেতে চান না। বরং অতীতের জর্ডন, ভবিষ্যতের জর্ডনের জন্য শিক্ষা ও নিদর্শন হিসেবে থাকুক, সেটা ছিল তাঁর সংকল্প। তাই অতীত জর্ডনকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি লেখালেখি শুরু করলেন। নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’। প্রকাশনার প্রথম বছরে বইটি নিউ ইয়র্ক বেস্ট সেলার হিসেবে নির্বাচিত হয়। সকলের মুখে মুখে তখন জর্ডন বেলফোর্টের নাম। তাঁর এই রোমাঞ্চকর জীবনকে সিনেমায় রূপ দিতে এগিয়ে আসেন বিখ্যাত পরিচালক মার্টিন স্করসেসে। তাঁর প্রিয় অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও’র জাদুকরি অভিনয়ে চিত্রায়িত হয় ‘উলফ’ জর্ডনের গল্প। ২০১৩ সালে হলিউডে মুক্তি পায় সিনেমা ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’।
নয়া জীবনের জর্ডন আর আগের মতো ধনী নেই। কিন্তু তিনি এক সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনের সূচনা করেন। জর্ডন তাঁর জীবনের গল্প নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৭টি সেমিনারের আয়োজন করেন। ব্যবসাপ্রেমী জর্ডন মোট ৫০টি বাণিজ্যিক সংস্থা এবং কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
নামকরা ম্যাগাজিন এবং পত্রিকাগুলোতে জর্ডনের কলাম ছাপা হতে থাকে। এদের মধ্যে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’, ‘দ্য লস এঞ্জেলস টাইমস’, ‘দ্য হেরাল্ড ট্রিবিউন’, ‘ফোর্বস’, ‘বিজনেস উইক’-এর মতো নামকরা ম্যাগাজিন তো আছেই। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠেছেন জর্ডন বেলফোর্ট। তার আগামীর পথ কোনদিকে, তা জানা নেই। তবে তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা ক্রিস্টাল আমেরিকানদের জীবনের শিক্ষা তো বটেই। হাসতে হাসতে বলেছিলেন এমিলি ব্রাউন।
17th  August, 2019
অর্থনীতিই নয়, ভয়াবহ বিপর্যয় বিদেশনীতিরও
হিমাংশু সিংহ

২০১৪ থেকে ২০২০। মাঝে মাত্র ৬ বছর। দুর্বল না হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী শক্তিশালী একনায়ক হলে রাষ্ট্রের বিপদ কী কী? এই ক’বছরেই তার মোক্ষম উত্তর পেয়ে গিয়েছে দেশ। এমনকী পরিস্থিতি আজ এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে যে, এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির সঙ্গে নরেন্দ্রনাথ দত্তের তুলনা টানছেন বুক ফুলিয়ে।  
বিশদ

কুকথায় হাততালি জুটলেও
দূরে সরে যায় মানুষ 
তন্ময় মল্লিক

রুটি সেঁকার জন্য তাওয়া গরম করতে হয়। আবার সেই তাওয়া বেশি তেতে গেলে রুটি যায় পুড়ে। তখন খাবারের থালার বদলে রুটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে। রাজনীতিতেও তেমনটাই। কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য নেতারা গরম গরম ভাষণ দেন। কিন্তু তা মাত্রা ছাড়ালে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়।  
বিশদ

19th  September, 2020
বাংলার সমাজ ও
রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ
সমৃদ্ধ দত্ত

সেদিন বিকেলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে নিয়ে যাওয়া হবে। কারণ, প্রবল শ্বাসকষ্ট। অক্সিজেন দিলেও কাজ হচ্ছে না তেমন। এইমস ডাক্তাররা বুঝলেন পরিস্থিতি ভালো নয়। অনেকদিন হয়ে গেল কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন।   বিশদ

18th  September, 2020
‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর
রূপকার নরেন্দ্র মোদি
যোগী আদিত্যনাথ

রাজা কালস্য কারণম্‌। মহাভারতের ‘শান্তিপর্ব’-এ যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দিতে গিয়ে পিতামহ ভীষ্ম এই কালজয়ী কথাটি বলেছিলেন। কথাটি পিতামহ নিজের লোকদের বলেছিলেন বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর ভিতরে এই ভারতের সবার জন্যই একটি জোরালো বার্তা তিনি রেখে গিয়েছেন।  বিশদ

17th  September, 2020
কাজ দাও, মুলতুবি রাখো
গ্রেট গেরুয়া সার্কাস
হারাধন চৌধুরী

দু’দশক যাবৎ ভারতীয় মিডিয়ায় সার্কাসের এলিজি বা শোকগাথা লেখা হচ্ছে। বেশিরভাগ লেখা ভারী হয়ে উঠছে জোকারদের জন্য সহমর্মিতায়। জোকারের জীবন কঠিন। কেউ শখ করে জোকার হয় না। কারও কারও জীবনখাতায় এই ভবিতব্যই লেখা থাকে।  বিশদ

17th  September, 2020
 কোনও প্রশ্ন নয়, নো কোয়েশ্চেনস!
সন্দীপন বিশ্বাস

 মোদি, অমিত শাহ তথা বিজেপি নেমে পড়েছে বিহার জয়ে। সেখানে অবশ্য নীতীশের হাত ধরে বিজেপিকে ভোট বৈতরণী পার হতে হবে। সেখানে রাজপুত ভোট আর ক্ষত্রিয় ভোট নিজেদের বাক্সে আনতে বিজেপিকে খেলতে হল দু’টি খেলা। একজনকে ডাইনি বানানো হল, অন্যজনকে দেবী বানানো হল।
বিশদ

16th  September, 2020
 সত্যিটা দেখলাম না... দেখানো হল না
শান্তনু দত্তগুপ্ত

এতকিছুর পরও আমেরিকার অর্থনীতি ধাক্কা খেল না। ট্রাম্প বুঝেছিলেন, ব্যবসাটা তিনি জানেন। করোনা ভাইরাসকে নয়। কাজেই শক্তিশালী অর্থনীতিকে বসিয়ে দেওয়ার মানে হয় না। করোনা আজ না হয় কাল কমবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে বছর লেগে যাবে। বিশদ

15th  September, 2020
ফেসবুক দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ
ছড়ালে কার লাভ হয়?

২০১৯। সাধারণ নির্বাচনের আগে একটি কাগজের হেডলাইন ছিল ‘গুগল কি ভারতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে?’ খবরটা বেরনোমাত্রই ‘গুগল’ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু অন্যকিছু সংস্থা টের পায়, গুগলে যেভাবে প্রার্থীদের সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে সেই তথ্য একটু সংশ্লেষণ করলে দ্বিধান্বিত ভোটারদের সহজেই প্রভাবিত করা সম্ভব।
বিশদ

15th  September, 2020
দমনমূলক ফেডারালিজম চলছে
পি চিদম্বরম

এটা পরিষ্কার যে মোদি সরকার এবার তার বিপুল গরিষ্ঠতাকে ব্যবহার করবে। রাজ্যগুলির মতামতের কোনও তোয়াক্কা করবে না। ইচ্ছেমতো সংশোধনী পাশ করিয়ে নেবে। ফেডারালজিমকে আরেকটি ধাক্কা দেবে। ‘এক জাতি, এক সবকিছু’ পরিণামে ‘এক জাতি’কে ধ্বংস করে ছাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
নতুন জাতীয় শিক্ষানীতিতে
স্কুলশিক্ষার সর্বনাশ হবে
প্রদীপকুমার দত্ত

 সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করে শিক্ষাকে সব মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা বরাদ্দের কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এই শিক্ষানীতিতে নেই। বরং এই শিক্ষানীতি শিক্ষার বেসরকারিকরণের পথকেই প্রশস্ত করবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ধনী-দরিদ্র বৈষম্য আরও বাড়বে।
বিশদ

14th  September, 2020
সন্তোষকুমার ঘোষ: অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, প্রচণ্ড
ক্ষমতাবান সাহিত্যিক ও যুগান্তকারী সাংবাদিক
বরুণ সেনগুপ্ত

খবরের কাগজ সাধারণ মানুষের জন্য। তাই সাধারণ মানুষ যেসব খবরে আগ্রহী সেইগুলিই বেশি করে লেখা উচিত। অথবা যেমন, খবরের কাগজে যা লেখার তা সোজাসুজি লেখা উচিত। ‘এটাও হয় ওটাও হয়’ গোছের ব্যাপার নয়। এই জিনিসগুলি হাতেকলমে শিখেছি সন্তোষকুমার ঘোষের কাছে।
বিশদ

13th  September, 2020
সিবিআইয়ের বন্দিদশা কাটবে কবে?
হিমাংশু সিংহ

 সুশান্তের মৃত্যু হয় ১৪ জুন। আর আজ ১৩ সেপ্টেম্বর। তাঁর আকস্মিক চলে যাওয়ার পর ঠিক তিন মাস অতিক্রান্ত। প্রতিভাবান অভিনেতার মৃত্যু রহস্যের তদন্তে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার তল খুঁজে পাচ্ছেন না তুখোড় সিবিআই গোয়েন্দারাও। কিংবা বলা ভালো, সত্যি তল খোঁজার চেষ্টা হচ্ছে কি?
বিশদ

13th  September, 2020
একনজরে
সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজেরও এবার পরীক্ষা হবে ‘গবেষণাগারে’! এমনই পরিকল্পনা নিল পঞ্চায়েত দপ্তর। লক্ষ্য মূলত দু’টি। এক, অসাধু ঠিকাদার কিংবা নির্মাণকারী সংস্থার ফাঁকিবাজি রুখে কাজের গুণগতমান বজায় রাখা।   ...

রোচেস্টার: ফের আমেরিকায় বন্দুকবাজের তাণ্ডব। নিউ ইয়র্ক শহরের রোচেস্টারে এক পার্টিতে এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। পুলিস জানিয়েছে, শনিবার ভোরের এই ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে এবং জখম হন ১৪ জন।  ...

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: কালচিনির ডিমা চা বাগানের বিচ লাইন থেকে শনিবার সকালে বনকর্মীরা একটি অজগর উদ্ধার করেন। এদিন সকালে বাগানের জমিতে প্রায় আট ফুট লম্বা অজগরটিকে দেখে শ্রমিকরা বনদপ্তরের নিমাতি রেঞ্জে খবর দেয়।   ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী পূর্বা দামের জীবনাবসান হল। শনিবার সকাল সাড়ে ছ’টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বেফাঁস মন্তব্যে বন্ধুর সঙ্গে মনোমালিন্য। সম্পত্তি নিয়ে ভ্রাতৃবিরোধ। সৃষ্টিশীল কাজে আনন্দ। কর্মসূত্রে দূর ভ্রমণের সুযোগ।প্রতিকার: ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৮: চিত্রপরিচালক মহেশ ভাটের জন্ম
২০০৪: চিত্রপরিচালক সলিল দত্তের মৃত্যু 



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭২.৮৯ টাকা ৭৪.৬০ টাকা
পাউন্ড ৯৩.৫৫ টাকা ৯৬.৯১ টাকা
ইউরো ৮৫.১০ টাকা ৮৮.২১ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
19th  September, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫২,৩৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৯,৭০০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫০,৪৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৬,৭৪০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৬,৮৪০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৪ আশ্বিন ১৪২৭, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, তৃতীয়া ০/২৮ প্রাতঃ ৫/৩৯ পরে চতুর্থী ৫২/২৮ রাত্রি ২/২৮। স্বাতীনক্ষত্র ৪৩/২৯ রাত্রি ১০/৫২। সূর্যোদয় ৫/২৮/১৮, সূর্যাস্ত ৫/৩১/৫৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/১৬ গতে ৮/৪১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ৩/৭ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫৫ গতে ৯/৩০ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৪ গতে ১/২৯ মধ্যে পুনঃ ২/১৭ গতে উদয়াবধি। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৩/৫৫ গতে ৪/৪৩ মধ্যে। বারবেলা ১০/০ গতে ১/১ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫৯ গতে ২/২৯ মধ্যে।  
৩ আশ্বিন ১৪২৭, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, তৃতীয়া দিবা ১০/২। চিত্রানক্ষত্র দিবা ৬/১৫ পরে স্বাতীনক্ষত্র শেষরাত্রি ৪/৩৫। সূর্যোদয় ৫/২৮, সূর্যাস্ত ৫/৩৪। অমৃতযোগ দিবা ৬/২০ গতে ৮/৪১ মধ্যে ও ১১/৪৭ গতে ২/৫৪ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৪২ গতে ৯/২১ মধ্যে ও ১১/৪৯ গতে ১/২৭ মধ্যে ও ২/১৭ গতে ৫/২৮ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৩/৪১ গতে ৪/২৮ মধ্যে। বারবেলা ১০/০ গতে ১/২ মধ্যে। কালরাত্রি ১২/৫১ গতে ২/২৯ মধ্যে।  
মোসলেম: ২ শফর। 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
আইপিএল: দিল্লি ৬ ওভারে ২৩/৩ 

08:01:43 PM

আইপিএল: টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পাঞ্জাবের 

07:13:06 PM

১২, ১৩ ও ১৪ অক্টোবর রাজ্যে ট্রাক ধর্মঘট 

05:37:00 PM

করোনা: কোন কোন দেশ বেশি আক্রান্ত?  
করোনায় আক্রান্তের বিচারে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আমেরিকা। এদেশে করোনায় আক্রান্ত ...বিশদ

04:45:13 PM

উত্তরপ্রদেশে করোনায় আক্রান্ত আরও ৫,৮০৯ জন, মৃত ৯৪ 

04:32:47 PM

নৈহাটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারিত অর্জুন সিং 
ভাটপাড়ার নৈহাটি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারিত হলেন বিজেপি ...বিশদ

04:19:31 PM