Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ওয়াল স্ট্রিটের ‘নেকড়ে’-র গল্প!
মৃণালকান্তি দাস

ওয়াশিংটনের অপরিচিত কোনও এক পথে হাঁটতে হাঁটতে গল্পটা শুনিয়েছিলেন এমিলি ব্রাউন। গল্প বলতে, এক অপরাধীর ঘুরে দাঁড়ানোর কাহিনী। জর্ডন বেলফোর্টের গল্প। যিনি জীবনে অপরাধের নেশায় পড়ে সবকিছু হারিয়েছিলেন। কে এই জর্ডন বেলফোর্ট, জানেন? যাঁর জীবন কাহিনী শুনলে মনে হবে, এ এই মার্কিন মুলুকেই সম্ভব!
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তখন ভোর ৪ টে। নিউ ইয়র্কের মতো পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ত নগরীতে তখন অধিকাংশ মানুষ ঘুমে কাতর। কিন্তু আপনি যদি জর্ডন বেলফোর্ট নামে এক পাগলাটে শেয়ার দালালের সেক্রেটারি হয়ে থাকেন, তাহলে ঘুমের কথা বেমালুম ভুলে যান। ঠিক ৪ টে বাজতেই কর্কশ কণ্ঠে বেজে ওঠে টেলিফোন। বেচারা সেক্রেটারি ঘুম থেকে উঠে রিসিভার কানে নিয়ে বললেন, ‘হ্যালো।’ ফোনের অপরপাশ থেকে তখন বেশ হাঁপিয়ে ওঠা কণ্ঠে ‘হ্যালো’ বলে উঠলেন তাঁর বস জর্ডন বেলফোর্ট। ‘জর্ডন? এখন তো ভোর ৪ টে? কী প্রয়োজনে ফোন করেছ?’ জর্ডন কিছু সময় নিলেন নিজেকে গুছিয়ে নিতে। এরপর যা বললেন, তা শুনে তাঁর সেক্রেটারি বাদে যে কারও মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ত। জর্ডন তখন একটি বাণিজ্যিক সফরে অতলান্তিকের ওপারে লন্ডনে ছিলেন। লন্ডনে নিয়ে আসা কুয়েলুডস (মাদক) একদম ফুরিয়ে গিয়েছে। তাই এই মুহূর্তে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে কুয়েলুডস পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য ফোন। যেমন মালিক, তেমন তাঁর সেক্রেটারি। এই ঘটনা একদম নতুন নয় তাঁর কাছে। আধ ঘণ্টার মধ্যে জর্ডনের ব্যক্তিগত কনকর্ড বিমানে করে লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন কুয়েলুডস। জর্ডনের জন্য সবই সম্ভব!
নিজেকে ওয়াল স্ট্রিটের নেকড়ে ভাবা এই শেয়ার দালাল তাঁর জীবনে আরও অদ্ভুত অদ্ভুত সব কাজ করেছেন। একবার তো তিনি নেশা করার পর এক চোখ বন্ধ রেখে হেলিকপ্টার চালিয়ে নিজের বাড়ির উঠনে অবতরণ করেছিলেন। তিনি নাকি সবকিছু ‘দ্বিগুণ’ দেখছিলেন। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে এক চোখ দিয়েই পাইলট হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন! ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, জর্ডন ছিলেন রবিন হুডের বিকৃত সংস্করণ। যিনি কি না ধনীদের থেকে অর্থ চুরি করে নিজের কোষাগারে ভরতেন। ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’ খ্যাত এই জর্ডন বেলফোর্ট ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম সেরা প্রতারক।
৯ জুলাই, ১৯৬২। নিউ ইয়র্কের কুইন্সে জন্ম। বাবা পেশায় ছিলেন একজন হিসাবরক্ষক। স্থানীয় স্কুল থেকে পাশ করে জর্ডন সিদ্ধান্ত নিলেন একজন ডেন্টিস্ট হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবেন। এই উদ্দেশ্যে বাল্টিমোরের ডেন্টাল কলেজে ভর্তি হলেন। কিন্তু কেন যেন বেশিদিন সেখানে মন বসলো না তাঁর। ডেন্টাল কলেজের পড়া শেষ না করে তিনি নতুন করে ভর্তি হলেন আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখান থেকে জীববিজ্ঞান বিভাগ থেকে ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনার পালা শেষ, এবার জীবিকা অর্জনের পালা শুরু। কিন্তু জর্ডনের নিজেকে কোনও বিজ্ঞানী বা শিক্ষক হিসেবে দেখতে পছন্দ নয়। তাই ডিগ্রি সরিয়ে রেখে তিনি ব্যবসায় নামলেন। শুরুতে সামুদ্রিক খাবার নিয়ে ব্যবসা শুরু করলেন। জর্ডনের এই যাত্রায় প্রথম সঙ্গী হিসেবে পেলেন বন্ধু কেনি গ্রিন ওরফে ব্লকহ্যাডকে। বয়স তখন তার মাত্র ১৮। ব্যবসা করার ইচ্ছে বোধহয় জর্ডনের সহজাত গুণ। কারণ, দ্রুত তাঁর কোম্পানি লাভের মুখ দেখা শুরু করল। তবে অভিজ্ঞতা না থাকায় বেশিদিন এই লাভ ধরে রাখতে পারেননি। তাই এক বছর পরে তাঁর কোম্পানি বন্ধ করে দিতে হয়। ব্যবসায় সাময়িকভাবে ব্যর্থ হলেও থেমে যাননি জর্ডন। অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করলেন, খাবারের ব্যবসা আর করবেন না। এবার নতুন যাত্রা শুরু করা যাক। আর তার এই নতুন যাত্রার গন্তব্যস্থল ছিল বিশ্বের বৃহত্তম শেয়ার বাজার। ওয়াল স্ট্রিট। ১৯৮৭ সালে জর্ডন শেয়ারের দালাল হিসেবে কাজ করা শুরু করেন। কয়েকদিনের মধ্যে শেয়ার বাজারের আদ্যোপান্ত জেনে নেন জর্ডন। ওয়াল স্ট্রিটে আসার দু’বছরের মাথায় জর্ডন বেলফোর্ট নিজের উদ্যোগে একটি শেয়ার বিনিয়োগকেন্দ্র খুলে বসেন। নিজের হাতে গড়া এই ছোট কোম্পানির নাম দেন ‘স্ট্রেটন ওকমন্ট’।
নতুন কোম্পানিতে ধীরে ধীরে লোকবল নিয়োগ করতে থাকেন জর্ডন। তাঁর প্রধান সহযোগী ডেনি পরুশকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন শেয়ার বেচা-কেনার যজ্ঞ। স্ট্রেটন ওকমন্টের প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘পাম্প অ্যান্ড ডাম্প’ পদ্ধতি অনুসরণ করে রাতারাতি অঢেল অর্থের মালিক বনে যাওয়া। এই পদ্ধতি অনুযায়ী জর্ডনরা প্রথমে ক্রেতা নির্বাচন করতেন। এমন একজনকে ক্রেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হতো, যে জর্ডনদের শেয়ারের ফাঁকি ধরতে পারবে না। এরপর শুরু হতো দালালদের কেরামতি। ক্রেতাকে নানাভাবে মিথ্যে প্রলোভন দেখিয়ে বেশ কম মূল্যের শেয়ারকে চড়া দামে কিনতে বাধ্য করতো তারা। এভাবে কম পুঁজিতে অতি মাত্রায় লাভ করতে থাকে স্ট্রেটন ওকমন্ট। আর রাতারাতি ধনকুবের বনে যান জর্ডন বেলফোর্ট। সকলের মুখে মুখে তখন বেলফোর্টের নাম। অনেকে তাকে ‘উলফ’ হিসেবে ডাকা শুরু করল। জর্ডন বনে গেলেন ওয়াল স্ট্রিটের এক ‘উলফ’।
জর্ডন তাঁর সহকর্মীদের একটি মন্ত্র বাতলে দেন, ‘ক্রেতা শেয়ার কিনবে, না হয় মরে যাবে। কিন্তু কোনওভাবেই এর আগে ফোন কেটে দেওয়া যাবে না।’ জর্ডন একবার নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছিলেন, ‘ধনী হওয়া খুব সহজ, যদি নিয়ম নীতি না মেনে ধনী হতে চাও।’ জর্ডন বেলফোর্ট তাঁর কোম্পানিতে এমন কাউকে নিয়োগ করতেন না, যাঁরা ইতিমধ্যে দালাল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর পছন্দের প্রার্থী ছিল মাধ্যমিক স্তরের ডিপ্লোমাধারী কিংবা উৎসাহী তরুণরা, যাঁরা প্রচুর অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন দেখতেন। স্ট্রেটন ওকমন্ট শেয়ার বাজারীদের মধ্যে একটি কাল্টে রূপান্তরিত হল। স্ট্রেটনিরা কাজ করতো মোষের মতো, আবার পার্টি করার সময় এদের উদযাপনের মাত্রা বাকি সবাইকে ছাড়িয়ে যেত। অর্থ উপার্জন করলেই হয় না, এর জন্য খরচ করা জানতে হয়। এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন জর্ডন বেলফোর্ট। শেয়ার দালালিতে উপার্জন করা লক্ষ লক্ষ ডলার তিনি বেপরোয়াভাবে খরচ করতে থাকেন। ম্যানহ্যাটনে আকাশচুম্বী অট্টালিকা গড়লেন জর্ডন। কিন্তু তাতেও মন ভরলো না। তাই নিউ ইয়র্কের লং দ্বীপে একটি প্রকাণ্ড প্রাসাদ কিনে ফেললেন। সাগরে ভেসে আনন্দ করার জন্য কেনা হল ২৫৬ ফুট দীর্ঘ প্রমোদতরী। একটি ফেরারি টেস্টারোসা এবং হ্যাম্পটনের একটি বিলাসবহুল বাড়ি ছিল জর্ডনের অস্থায়ী খেলনার মতো। পছন্দ না হলে সোজা বদলে ফেলতেন সবকিছু। লক্ষ লক্ষ ডলারের আসবাবপত্র দিয়ে তাঁর আবাসস্থল সাজানো হয়েছিল, যা দেখলে চোখ ফেরানো যেত না।
বাড়ি, গাড়ি, প্রমোদতরী ছাড়াও জর্ডনের টাকা ওড়ানোর আরও একটি সংস্থান ছিল। আর তা হচ্ছে মাদক। মারিজুয়ানা, কোকেন, গাঁজা, কুয়েলুডস এগুলো ছিল জর্ডনের নিত্যদিনের সঙ্গী। কাজের ফাঁকে কিংবা কাজের শেষে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কিংবা একাকী রুমে মাদক নিয়ে মত্ত হতেন জর্ডন। জর্ডন আত্মজীবনীতে তাঁর অধঃপতনের জন্য মাদককে দায়ী করেছেন। প্রায়ই মাদক সেবনের পর জর্ডন গাড়ি চালাতেন, বিমানে চড়তেন। এমনকী একবার মাদকাসক্ত অবস্থায় নিজের স্ত্রী নাদিনকে লাথি পর্যন্ত মেরেছিলেন। নাদিন ছিলেন জর্ডনের দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী ডেনিসের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি মডেল নাদিনকে বিয়ে করেছিলেন। জর্ডন মহিলা, মাদক, পার্টি নিয়ে মেতে থাকলেও নাদিন কিছু বলতেন না। কিন্তু জর্ডন যেদিন তাঁকে লাথি মেরেছিলেন, সেদিন তিনি জর্ডনকে ছেড়ে চলে যান। নাদিন শেষ পর্যন্ত এক উকিলকে বিয়ে করে ক্যালিফোর্নিয়া চলে যান। জর্ডনের দুই সন্তান নাদিনের সঙ্গে চলে যায়।
জর্ডন বেলফোর্টের প্রতারণার কথা মার্কিন নিরাপত্তা ও বিনিময় কমিশনের কানে পৌঁছায়। ১৯৯২ সালে তারা জর্ডনের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। তখন জর্ডনের পিছনে লেগে গিয়েছে এফবিআইও। এফবিআই এজেন্ট কোলম্যান জর্ডন বেলফোর্টের প্রতিটি পদক্ষেপে নজরদারি চালাতে থাকেন। উন্মুক্ত নেকড়ে জর্ডনের আনন্দের দিন যেন শেষ হয়ে আসে। মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে জর্ডনের এক বন্ধু সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ে। জর্ডন একের পর এক দুঃসংবাদে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তিনি এতটাই অস্থির হয়ে যান যে, একবার কুয়েলুডস সেবন করে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফেরেন। বাড়ি ফেরার পর নাদিন যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘জর্ডন, তোমার গাড়ি এরকম ভেঙে আছে কেন?’ তখন জর্ডন বুঝতে পারলেন, নেশার ঘোরে গাড়ি চালাতে গিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন। এই ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় জর্ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতে শুনানির পর জর্ডন বেলফোর্টকে ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ার বিক্রি করার উপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। স্ট্রেটন ওকমন্ট কোম্পানিকে বেশ বড় অঙ্কের জরিমানাও গুণতে হয়েছিল। জর্ডনের বিপদের মুখে ১৯৯৬ সালে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে যায়। আদালত কোম্পানিকে অবৈধভাবে আত্মসাৎ করা ক্রেতাদের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। একের পর এক অভিযোগ প্রমাণিত হতে থাকলে, ১৯৯৯ সালে জর্ডন বেলফোর্ট আদালতে নিজেকে দোষী দাবি করেন। ২০০৩ সালে জর্ডনকে ৪ বছর কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। জেল খাটা ছাড়াও মোট ১১০ মিলিয়ন ডলার অর্থ জরিমানা করা হয়। দীর্ঘ চার বছর জেলে থাকার শাস্তি জর্ডনের মতো বিলাসিতায় কাটানো মানুষের জন্য মারাত্মক কষ্টের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এজেন্ট কোলম্যান এবং তৎকালীন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জুয়েল কোয়েন এক শর্তের বিনিময়ে নেকড়ে জর্ডনের শাস্তি কমিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেন। সেটি হচ্ছে, জর্ডনকে এবার ওয়াল স্ট্রিটের ‘র‍্যাট’ বা ইঁদুর হতে হবে। ফাঁস করে দিতে হবে শেয়ার বাজারের অন্যান্য প্রতারক এবং অপরাধীদের নাম। ধরিয়ে দিতে হবে অর্থ জোগান দেওয়া এবং পাচারের পিছনের মূল হোতাদের।
শুরুতেই জর্ডন তাঁর নিজের হিসাবরক্ষককে ধরিয়ে দেন। এরপর একে একে ১০০ জনের মতো প্রতারক ধরিয়ে দিতে সাহায্য করেন তিনি। মার্কিন সরকারের প্রতি সহযোগিতার পুরষ্কার হিসেবে জর্ডন বেলফোর্টকে ৪ বছরের বদলে মাত্র ২২ মাস কারাবরণের পর মুক্তি দেওয়া হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি একবারও মাদক সেবন করেননি, যা তাঁর দেহকে মাদকাসক্ত থেকে দূরে রাখতে পরবর্তী জীবনে সাহায্য করেছে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এককালের ওয়াল স্ট্রিট নেকড়ে ঠিক করলেন, এবার মানুষের মতো বাঁচবেন। কিন্তু জর্ডন তাঁর অতীতকে ভুলে যেতে চান না। বরং অতীতের জর্ডন, ভবিষ্যতের জর্ডনের জন্য শিক্ষা ও নিদর্শন হিসেবে থাকুক, সেটা ছিল তাঁর সংকল্প। তাই অতীত জর্ডনকে বাঁচিয়ে রাখতে তিনি লেখালেখি শুরু করলেন। নিজের আত্মজীবনী ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’। প্রকাশনার প্রথম বছরে বইটি নিউ ইয়র্ক বেস্ট সেলার হিসেবে নির্বাচিত হয়। সকলের মুখে মুখে তখন জর্ডন বেলফোর্টের নাম। তাঁর এই রোমাঞ্চকর জীবনকে সিনেমায় রূপ দিতে এগিয়ে আসেন বিখ্যাত পরিচালক মার্টিন স্করসেসে। তাঁর প্রিয় অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও’র জাদুকরি অভিনয়ে চিত্রায়িত হয় ‘উলফ’ জর্ডনের গল্প। ২০১৩ সালে হলিউডে মুক্তি পায় সিনেমা ‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’।
নয়া জীবনের জর্ডন আর আগের মতো ধনী নেই। কিন্তু তিনি এক সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনের সূচনা করেন। জর্ডন তাঁর জীবনের গল্প নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৭টি সেমিনারের আয়োজন করেন। ব্যবসাপ্রেমী জর্ডন মোট ৫০টি বাণিজ্যিক সংস্থা এবং কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।
নামকরা ম্যাগাজিন এবং পত্রিকাগুলোতে জর্ডনের কলাম ছাপা হতে থাকে। এদের মধ্যে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’, ‘দ্য লস এঞ্জেলস টাইমস’, ‘দ্য হেরাল্ড ট্রিবিউন’, ‘ফোর্বস’, ‘বিজনেস উইক’-এর মতো নামকরা ম্যাগাজিন তো আছেই। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভিন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠেছেন জর্ডন বেলফোর্ট। তার আগামীর পথ কোনদিকে, তা জানা নেই। তবে তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটা ক্রিস্টাল আমেরিকানদের জীবনের শিক্ষা তো বটেই। হাসতে হাসতে বলেছিলেন এমিলি ব্রাউন।
17th  August, 2019
‌বিমল গুরুংয়ের প্রত্যাবর্তন
ও পাহাড়ের রাজনীতি

তন্ময় মল্লিক

এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম চর্চিত চরিত্র বিমল গুরুং। রাজ্যে প্রত্যাবর্তন করেই গেরুয়া সঙ্গ ত্যাগ ও তৃণমূলকে সমর্থনে তাঁর ঘোষণা রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। বিধানসভা নির্বাচনের মুখে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রাক্তন সুপ্রিমোর এই ডিগবাজি গেরুয়া শিবিরে বিনা মেঘে বজ্রপাত। বিশদ

আমেরিকান কর্পোরেট ও ভারত
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারতকে বুঝতে হবে নিজেদের শক্তি। সেইমতো নতুন প্রেসিডেন্টের চোখে চোখ রেখে আদায় করতে হবে ভারতের স্বার্থ। এবার সিস্টেমটা বদলে যাক। আমরা আর মার্কিন কর্পোরেটের হাতে পুতুল হয়ে ব্যবহৃত হব না। বিশদ

30th  October, 2020
বিহারের ফল বাংলাতেও
প্রভাব ফেলবে
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

করোনা আবহে বিশ্বে সর্বাধিক ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে বিহার বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। প্রায় সাড়ে ৭ কোটি ভোটারের স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করা নির্বাচন কমিশনের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। গত ২০ বছর বিহারে ভোট মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই হচ্ছে। বিশদ

30th  October, 2020
কৈলাসে ফিরতে
মন চাইবে না মা
হারাধন চৌধুরী

আমাদের পাশে থেকো মা। তোমাকে কথা দিচ্ছি, আগামীবার এসে দেখবে—আমাদের এই পৃথিবীর সমস্ত অসুখ সেরে গেছে। আমাদের কারও মধ্যে ছোঁয়াছুঁয়ির ভয় নেই, কোনওরকম ছুঁৎমার্গ নেই। বিশদ

29th  October, 2020
মূকরাই সরব হবেন যথাসময়ে
পি চিদম্বরম

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে পৃথিবী বিপুলভাবে সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠেছে সেখানে দরিদ্র বা গরিব রয়ে যাওয়াটা এক দুর্ভাগ্য। একটা দরিদ্র দেশে দরিদ্র থাকাটা গণতন্ত্রের ব্যর্থতা। আর একটা গরিব দেশের গরিব রাজ্যে দরিদ্র থেকে গেলে তাকে রাজনীতির অভিশাপ মানতে হবে।  বিশদ

28th  October, 2020
বিহারের ভোটে অনেক পাখি মারার ছক মোদির
সন্দীপন বিশ্বাস

২০১৫ সালে বিহার বিধানসভার নির্বাচনের খবর করতে গিয়ে দেখেছিলাম, বিজেপি সেখানে কী পরিমাণ টাকা ঢেলেছিল। সমস্তিপুর, বেগুসরাই, জামুই, ভাগলপুর, মুঙ্গের, খাগাড়িয়া, লক্ষ্মীসরাই ঘুরে দেখেছিলাম, পতাকা, ফেস্টুন, ফ্লেক্স দিয়ে বিজেপি শহর মুড়ে দিয়েছে। বিশদ

28th  October, 2020
উৎসব এবার চেতনার
মৃণালকান্তি দাস 

মন খারাপ। খুব মন খারাপ। সব আছে। অথচ কী যেন নেই! জীবনটা যেন এখন লুডোর গুটি। রোজ শুধু ওঠা-নামার খেলা। সবসময় মনে আতঙ্ক। যত না সংক্রমণে তার থেকে অনেক বেশি প্রিয়জনের থেকে দূরে চলে যাওয়ার। সেই নীলকণ্ঠ পাখিটা উড়ে গিয়েছে অজানা কোন অচিনপুরে। কিন্তু এই দুঃসময়েও মানুষ আগামীদিনের সুদিনের জন্য বুক বাঁধে। তাই তো এবারও মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল পুজোর তোড়জোড়।   বিশদ

23rd  October, 2020
বেদ, পুরাণে বন্দিতা মহামায়া দুর্গা
চৈতন্যময় নন্দ

 একদা দেবাসুর-সংগ্রামে ব্রহ্মশক্তির প্রেরণায় জয় হল দেবতাদের। একে বিজয় মহিমা মনে করে অগ্নি, বায়ু, বরুণ ও চন্দ্র এই চার দেবতা অহংকৃত ও গৌরবান্বিত হন। তাঁদের মুখমণ্ডলে কর্তৃত্বের পরিতৃপ্তি। বলদর্পে আচ্ছন্ন হয়ে সেই অমরবৃন্দ ভুলে গেলেন ব্রহ্মশক্তির কথা, যাঁর শক্তি ও অনুকম্পায় তাঁরা এতকাল শক্তিমান। বিশদ

22nd  October, 2020
বাৎসরিক আয়ু ক্রয়ের হাট
হারাধন চৌধুরী

 এবার পুজো হওয়াটা জরুরি। নিয়মরক্ষার হলেও। অন্যথায়, বাঙালি আরও বিষাদে ডুবে যাবে। উৎসব হলে মানুষের কেনাকাটা কিছুটা বাড়বে। যার ভিতরে অর্থনীতির জন্য সুখবর লুকিয়ে থাকে। বিশদ

22nd  October, 2020
পুজো হোক, লকডাউনে থাকুক উৎসব
সন্দীপন বিশ্বাস

এবার আমাদের সামনে কঠিন পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় আমাদের জয়ী হতেই হবে। তাই এবারের পুজো হোক অন্য পরিবেশে, অন্য মানসিকতায়। বাড়িতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে একটু আড্ডা, খাওয়া দাওয়া এবং টিভিতেই হোক ঠাকুরদেখা। বিশদ

21st  October, 2020
প্রতিবাদে মাথা নোয়ায় পর্বতও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 নোট বাতিল কিংবা জিএসটির ক্ষেত্রে যে ডোন্ট কেয়ার দাপট মোদি সরকার দেখিয়েছিল, তা আপাতত উধাও। সব ইস্যুতেই এখন বিরোধীদের চরম বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে কেন্দ্রকে। যা তাদের ‘একচ্ছত্র’ ইমেজে বড়সড় একটা দাগ! বিশদ

20th  October, 2020
বৃদ্ধি ছাড়াই সংস্কার
পি চিদম্বরম

একটা ব্যাপারে সবাই একমত হতে পারি যে, নিজের মত, নীতি ও কাজের প্রচারে কোনও শাসক দল এবং সরকার—বিজেপি অথবা মোদি সরকারের মতো সফল হয়নি। এবং, এই উদ্দেশ্যে তারা যে-কোনও পরিমাণ টাকা খরচ করবে, যত দরকার কাউকে উৎপীড়ন করবে, যতটা প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে হুমকির মুখে রাখবে এবং যে-কোনও প্রতিষ্ঠানকে দমিয়ে রাখবে। অতিশয়োক্তিটা ওদের কাছে একটা স্বাভাবিক ব্যাপার।   বিশদ

19th  October, 2020
একনজরে
খুচরো বাজারে আলুর চড়া দাম অনেক দিন ধরে চলছে। পুজো শেষ হওয়ার পরেও অধিকাংশ বাজারে ৩৪-৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফাবাজির ...

শুক্রবার ভোরে পাঁচ দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করল সোনারপুর থানার পুলিস। সুভাষগ্রাম রেলগেটের কাছ থেকে তাদের ধরা হয়। তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে, দুষ্কৃতীরা এলাকায় চুরি করার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিল। ...

মেল-ইন-ব্যালট নিয়ে শীর্ষ আদালতে জোর ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প। প্রথম থেকেই এনিয়ে বেসুরো গেয়ে চলেছেন তিনি। কারচুপির অভিযোগও তুলেছেন বহুবার। লাভ হয়নি। শেষে দাবি করেছিলেন, ৩ ...

সংবাদদাতা, ইসলামপুর: উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের এরিয়ারের বিল আটকে প্রায় এক বছর ধরে। যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি টাকা। জেলা শিক্ষাদপ্তরের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, বকেয়া এরিয়ারের এস্টিমেট পাঠানো হয়েছে বিকাশ ভবনে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

বিদ্যার্থীদের ক্ষেত্রে ভাবনাচিন্তা করে বিষয় নির্বাচন করলে ভালো হবে। প্রেম-প্রণয়ে বাধাবিঘ্ন থাকবে। কারও সঙ্গে মতবিরোধ ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব মিতব্যয়িতা দিবস
১৭৯৫ - ইংরেজি সাহিত্যের রোম্যান্টিক কবি জন কিটসের জন্ম
১৮৭৫- লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্ম
১৮৮৩: ধর্মীয় গুরু স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর জন্ম
১৯৬৬- পানামা খাল অতিক্রম করেন বিশিষ্ট সাঁতারু মিহির সেন
১৯৭৫- সংগীতশিল্পী শচীন দেব বর্মনের মৃত্যু
১৯৮৪- আততায়ীর গুলিতে খুন হলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী
২০০০- নতুন রাজ্য হল ছত্তিশগড়
২০০৮- দাবায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেন বিশ্বনাথন আনন্দ  



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৩.২৪ টাকা ৭৪.৯৫ টাকা
পাউন্ড ৯৪.৭০ টাকা ৯৮.০৩ টাকা
ইউরো ৮৫.৫৪ টাকা ৮৮.৬৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
30th  October, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫১, ৪৯০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৪৮, ৮৫০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪৯, ৫৮০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬০, ৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬০, ৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
30th  October, 2020

দিন পঞ্জিকা

১৪ কার্তিক, ১৪২৭, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, পূর্ণিমা ৩৬/২৭ রাত্রি ৮/১৯। অশ্বিনী নক্ষত্র ৩০/৩৪ সন্ধ্যা ৫/৫৮। সূর্যোদয় ৫/৪৪/২০, সূর্যাস্ত ৪/৫৬/১৮। অমৃতযোগ দিবা ৬/২৮ মধ্যে পুনঃ ৭/১৩ গতে ৯/২৮ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ২/৪২ মধ্যে পুনঃ ৩/২৭ গতে অস্তাবধি। রাত্রি ১২/৩৭ গতে ২/১৯ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ২/১৯ গতে ৩/১০ মধ্যে। বারবেলা ৭/৮ মধ্যে পুনঃ ১২/৪৪ গতে ২/৮ মধ্যে পুনঃ ৩/৩২ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৩৩ মধ্যে পুনঃ ৪/৯ গতে উদয়াবধি।
প্রাচীন পঞ্জিকা: ১৪ কার্তিক, ১৪২৭, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০, পূর্ণিমা রাত্রি ৭/২৮। অশ্বিনী নক্ষত্র রাত্রি ৬/১৬। সূর্যোদয় ৫/৪৫, সূর্যাস্ত ৪/৫৭। অমৃতযোগ দিবা ৬/৩৫ মধ্যে ও ৭/১৯ গতে ৯/৩১ মধ্যে ও ১১/৪৩ গতে ২/৩৮ মধ্যে ও ৩/২২ গতে ৪/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ১২/৩৯ গতে ২/২৩ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ রাত্রি ২/২৩ গতে ৩/১৫ মধ্যে। কালবেলা ৭/৯ মধ্যে ও ১২/৪৫ গতে ২/৯ মধ্যে ও ৩/৩৩ গতে ৪/৫৭ মধ্যে। কালরাত্রি ৬/৩৩ মধ্যে ও ৪/৯ গতে ৫/৪৬ মধ্যে।
১৩ রবিয়ল আউয়ল।

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
লক্ষ্মীপুজোয় অগ্নিদগ্ধ হয়ে যাদবপুরে গৃহবধূর মৃত্যু
বাড়িতে সে সময় চলছিল কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। জ্বলছিল প্রদীপ। আর সেই ...বিশদ

12:40:29 PM

৩ বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় চিহ্নিত অপরাধী
কুলগ্রামে ৩ জন বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় অপরাধীকে চিহ্নিত করা ...বিশদ

11:30:36 AM

লকডাউন বাড়ল ওড়িশায়
রাজ্যের কন্টেইনমেন্ট জোনগুলিতে আগামী ৩১ নভেম্বর অবধি লকডাউন বলবৎ রাখার ...বিশদ

11:28:10 AM

জাহাজ থেকে পড়ে তলিয়ে গেলেন নাবিক
জাহাজ থেকে পড়ে গিয়ে তলিয়ে গেলেন এক নাবিক। ঘটনাটি ঘটে ...বিশদ

11:16:34 AM

ফের চালু হচ্ছে রেলের শ্রী রাম পথ যাত্রা প্যাকেজ
তীর্থ যাত্রীদের জন্যে সুখবর। ফের চালু হতে চলেছে আই আর ...বিশদ

10:40:32 AM

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ৩৬ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য

10:39:00 AM