Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে। কেউ কেউ আবার মোটা টাকার আশায় ওদের সঙ্গী হয়ে খুনোখুনি সন্ত্রাসে শামিল পর্যন্ত হয়ে পড়ছে! এদের বুঝিয়ে লাভ নেই। পেটের টান যে বড় টান। অভাব মেটান, পড়াশুনা, চাকরিবাকরির সুযোগসুবিধে বাড়িয়ে দিন— আপসে সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। জঙ্গিরা বর্ডার পেরবার সাহস পাবে না। আর পেরলেও সহজে লুকোবার জায়গা পাবে না। ফলে সন্ত্রাস ছড়ানোও তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। তখন আমরাও একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারব, আপনাদের শ্রীনগরও তার হারানো শ্রী ফিরে পাবে। কয়েক বছর আগে শ্রীনগরের পামপোরে তাঁর বাড়িতে বসে কথাগুলো বলেছিলেন ওয়ানিসাব, গুলাম নবি ওয়ানি— তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের পদস্থ অফিসার। এই শহরেই তাঁর সঙ্গে আলাপ এবং কয়েকবছর আগে তাঁর সোৎসাহ প্ররোচনায় কাশ্মীর বেড়াতে গিয়ে এই সজ্জন সুদর্শন দীর্ঘদেহী সর্বদা হাসিমুখ কাশ্মীরি মানুষটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গভীরতর হয়েছিল অনিবার্যভাবেই। সেই সুবাদে তাঁর বাড়িতে আমার নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে দেখেছিলাম কাশ্মীরি অতিথিপরায়ণতা কত আন্তরিক, কত সুন্দর, কত প্রীতিপ্রদ হতে পারে। পরিবারের শিশু থেকে প্রবীণ সকলের সঙ্গে মিলেমিশে আড্ডা দিতে দিতে (যেন কতকালের চেনা) কাশ্মীরি চা ‘কাওয়া’ থেকে টা থেকে বাড়িতে তৈরি অপূর্ব স্বাদ মেইন কোর্স— আজও ভুলতে পারিনি। সেদিন ওয়ানিসাবের বাড়ি থেকে হোটেলে ফেরার পথে মোগল বাদশাহের মতো আমারও মনে হয়েছিল, এই ধরাধামে স্বর্গ যদি কোথাও থাকে তো সে এইখানে, এইখানে, এইখানে।
আমরা যখন কাশ্মীরে তখন উপত্যকার সন্ত্রাসে একটু যেন ভাটার টান ধরেছিল। ফলে, পর্যটক ভিড় খুব বেশি না হলেও ছিল এবং বন্ধ হোটেল দোকানপাট হাউসবোটগুলোর একাংশও উদ্বেগ সংশয় কাটিয়ে জেগে ওঠার চেষ্টা করছিল। জঙ্গি দাপটে দিশেহারা প্রায় স্তব্ধ বিভ্রান্ত ত্রস্ত কাশ্মীরি জনজীবনে প্রাত্যহিকের স্বাভাবিক ছন্দও ফিরে এসেছিল অনেকটাই। কিন্তু, আমরা ফিরে আসার পরপরই ফের শুরু হয়ে গিয়েছিল জঙ্গি তাণ্ডব। বেশ মনে আছে তিনি এবং তাঁর পরিবারের খোঁজ নিতে যখনই ফোন করেছি তখনই ওয়ানিসাবের গলায় একটা জড়তার আভাস পেয়েছি। মুখে হয়তো তিনি বলেছেন, না না— চিন্তা করবেন না। আমরা ভালো আছি। পামপোরেতে গোলমাল নেই। অন্য জায়গায় হয়েছে— আমরা এখানে ঠিকঠাকই আছি। আপনাকে তো বলেইছি— এসব ততদিন যাবে না, যতদিন না...! ফোন কেটে গেছে লাইন বিভ্রাটে নাকি এক কথা বলার ক্লান্তি এড়াতে তিনিই সরে গেছেন বুঝতে পারিনি। আবার কখনও ফোনেই কিছুটা বিষণ্ণ শুনিয়েছে তাঁর কণ্ঠ— আমরা তো বন্দি, ভারতে থেকেও আমরা তো পুরোপুরি ভারতের নই! তাই আমাদের বিপদ আমাদের অসুবিধে আর পাঁচজনের চেয়ে অনেক বেশি।
মানে!? আপনারা তো ভারতের বিশেষ-অঞ্চল, বিশেষ সুবিধেভোগী! ওয়ানিসাব হেসেছেন— থ্রি সেভেন্টির কথা বলছেন? ৩৭০ ধারা? ওটাই তো একধরনের বন্ডেজ। গরিব মানুষজন সস্তায় চাল-ডাল কিছু পায় ব্যাস। আর কী? কিন্তু, লাস্ট সাড়ে ছয় দশকে এখানে উন্নয়ন কী হল, গরিব কাশ্মীরিদের জীবনমানে কতটা পরিবর্তন হল ওই ৩৭০ দিয়ে একটু খোঁজ করতে বলুন না আপনাদের জার্নালিস্টদের। কথাটার অন্তর্নিহিত ব্যঙ্গ বুঝতে অসুবিধে হয়নি। বরং, তাঁর কথায় মনে পড়ল শ্রীনগরের রেস্তরাঁর সেই বসিরের মন্তব্য, ওই ৩৭০টায় আমাদের পায়ের বেড়ি হয়ে আছে। হ্যাঁ, ওই ভাঙিয়ে কেউ কেউ আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে সন্দেহ নেই, তবে আম পাবলিকের ওতে কোনও ফায়দা হয়নি। ফায়দা হয়েছে কটা পরিবারের। এই পরিবারগুলো শুরু থেকে এই ভ্যালিটাকে জমিদারি হিসেবে দেখেছে আর মানুষের দুঃখ-দারিদ্র্য ভাঙিয়ে রাজনীতি করে গেছে। এমনকী, এদের এক-আধজন প্রকারান্তরে সীমান্ত সন্ত্রাসেও পরোক্ষ মদত জুগিয়েছে আর উপত্যকায় অস্থিরতা তৈরি হলে তাকে সামনে রেখে গদি গুছিয়েছে। এদেরই একজনের মেয়েকে বাঁচাতে মারাত্মক জঙ্গিকে ছেড়ে দিতে হয়েছে— এমনও তো দেখেছি আমরা। দেখিনি? কাশ্মীরিদের এই কব্জা থেকে মুক্তি নেই। এবং এখানেই না থেমে সেদিন ওই বসির এবং তাঁর বন্ধুরা যা বলেছিলেন তার সারমর্ম মিলে গিয়েছিল ওয়ানিসাবের বক্তব্যের সঙ্গে। তাঁরাও বলছিলেন— যে যাই বলুক, এই ৩৭০টা আমাদের চারপাশে একটা বেরিয়ার, বাধার বেড়া দিয়ে রেখেছে। এটাকে হটিয়ে গোটা ভারতের সঙ্গে একাত্ম হতে না পারলে আমাদের মুক্তি নেই।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এবার কি সেই বহু প্রত্যাশিত মুক্তির আলো দেখা দিল ভূস্বর্গে? সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার সাত দশক পরে সত্যিই কি ভূস্বর্গের মুক্তি ঘটল? বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতবর্ষের মূল স্রোতে এসে মিশল ৭৩ বছর ‘বিশেষ সুবিধাভোগী’ হয়ে কার্যত বহুজনার ঈর্ষানজরে একঘরে আমাদের শ্রীনগর, কাশ্মীর, আমাদের স্বপ্নের সৌন্দর্যলোক? সেই অপরূপের রাজ্যে মানুষজন কি এবার সত্যিই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিষেবা, জীবন-জীবিকায় আধুনিক উন্নয়ন-উন্নতির সুযোগ-সুবিধা পাবেন, কাশ্মীরি তরুণ-তরুণী পাবেন মনমতো চাকরিবাকরি? এবার কি শান্তি ফিরবে ভূস্বর্গে, বন্ধ হবে সীমান্তপারের হানাদারদের সন্ত্রাস, হত্যালীলা? আরও আরও বহু অনিবার্য প্রশ্নও উঠে আসছে আগস্টের শুরুতে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণার পর। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লাদাখকে পৃথক করে দুটি স্বতন্ত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা এবং সেই সঙ্গে এই অঞ্চলে ৩৭০ ধারার বিশেষ সুবিধা রদের ঘোষণায় অনিবার্যভাবে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি বিরোধীদের অনেকেই, বিশেষত সিপিএম ৩৭০ রদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হয়েছে। তাদের তালে তাল মিলিয়েছেন অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে। কিন্তু ৩৭০ রদের সিদ্ধান্তে গোটা দেশের সাধারণ মহল তেমন বিরূপতা দেখাল কি? এই মহানগরীর পথঘাট অফিসকাছারি আড্ডা কিন্তু দেখায়নি। খুচখাচ বিতর্ক-তর্ক বেধেছে বটে, তবে শেষপর্যন্ত এক দেশ এক পতাকা এক আইন তত্ত্বকে সরাসরি খারিজ করার মতো জোরালো যুক্তি খুঁজে পায়নি কলকাতা। তবে গেরুয়া শিবির এই সিদ্ধান্তের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন সাকার হওয়ার যে কথা বলছে তাতে বঙ্গবাসীজনের অনেকেই হয়তো শামিল হচ্ছেন না। নাই হতে পারেন। কিন্তু, আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি— নরেন্দ্র মোদিজির সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে চিহ্নিত করতে কিন্তু তাঁদেরও বাধছে না!
আসলে এখানে একটা সেন্টিমেন্ট একটা জাতীয়তাবাদী আবেগও হয়তো কাজ করছে। স্বাধীন ভারতে আসমুদ্রহিমাচল তেরঙা ছাড়া কেন বিশেষ একটি রাজ্যের জন্য বিশেষ পতাকা থাকবে— আবেগের মূল কথা এটাই। ৩৭০ ধারা রদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর এই কথাটা অনেকের মুখে শুনেছি। কথাটাকে যুক্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় কি? অনেকে এদিক সেদিক সোশ্যাল মিডিয়া খবরের কাগজ ইত্যাদি ঘেঁটে পড়ে এখন কাশ্মীর বিশেষজ্ঞ— তাঁরা উপত্যকায় জমি-বাড়ি কেনা ব্যবসাপাতি করায় এতদিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরব। অসভ্যতাও চলছে ভূস্বর্গের মানুষজন মহিলা পুরুষদের নিয়ে। নির্বোধ মূঢ় বিকৃতরুচি ছাড়া কে আর কাশ্মীরের তরুণীদের নিয়ে ওইসব ইতর চিন্তা প্রকাশ করতে পারে! এইসব পচা পাঁক নিয়ে আলোচনা যত কম করা যায় ততই ভালো। দুর্ভাগ্য এই যে, যে পদ্মদলের উদ্‌঩যোগে এমন ঐতিহাসিক একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হল সেই দলেরই এক অপোগণ্ড বিধায়কের নাম ওই ইতরভাষণে যুক্ত হয়ে গেছে! আমরা নিশ্চিত দেশ রাজ্যের সাধারণ রুচিমান মানুষ চাইছেন, উন্নাওকাণ্ডের পাষণ্ডটাকে যেমন কড়া নজরে দেখেছেন দেশের শাসক এবং চরম শাস্তির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন— ভূস্বর্গের তরুণীদের নিয়ে কদর্য মন্তব্য করা ওই লোকটার জন্যও একই পদক্ষেপ করবেন তাঁরা। কারণ, জাতীয় সংহতি যেখানে লক্ষ্য সেখানে এমন মন্তব্য যে তার পরিপন্থী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকে হয়তো বলবেন, কোথাকার কোন অখ্যাত একটা লোক একটা বিধায়ক— তার বর্বর কথা উপেক্ষা করাই ঠিক। হয়তো ঠিক। কিন্তু, ঘোষিত উদ্দেশ্য যেখানে মহৎ, সারা ভারত এক হয়ে একাকার হয়ে এক পতাকাতলে থাকার মতো গরিমাময় সনাতন ঐতিহ্যের দিকে আমাদের টানছে সেখানে এক মন দুধে এক ফোঁটা চোনার মতো ওইসব কিড়েমাকোরে কেন থাকবে?
এরা জানে বিগত শতকের নব্বই দশকের প্রায় গোড়া থেকে কী অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে জম্মুর ক্যাম্পে দিনের পর দিন বছরের পর বছর কাটিয়েছেন কাটাচ্ছেন কাশ্মীরের লাখ লাখ পণ্ডিত পরিবার! এঁরাও তো কাশ্মীরি। আজও যাঁরা ভূস্বর্গের বাসিন্দাদের নিয়ে অসভ্য মশকরা করছেন তাঁরা একটু খোঁজখবর নিন। হুমকি নির্দেশে রাতারাতি সেদিন ঘর ছাড়তে হয়েছিল তাঁদের। সহায় সম্বলহীন সেই মানুষজনেদের জায়গা হয়েছিল জম্মুর খোলা মাঠে, অস্থায়ী ছাউনিতে। তাঁদের অনেকেই ছিলেন সম্পন্ন গৃহস্থ। হঠাৎ করে অমন অস্বচ্ছ অস্বাস্থ্যকর যাপনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কী যন্ত্রণা হয়েছিল তাঁদের, তা তখন ওই আশ্রয় শিবিরগুলোয় বসবাসকারীদের সঙ্গে কথা বলেই হাড়ে হাড়ে বুঝেছিলাম। অপরাধ কী ছিল তাঁদের? জানি না। যেটুকু জেনেছিলাম তার উল্লেখও আজ নিষ্প্রয়োজন। তাছাড়া, সেইসময় থেকে আজ অবধি আমরা কেউ কি জানতে চেয়েছি ওঁরা কেমন আছেন? জানতে চাইনি কোনওদিন, খোঁজও রাখিনি। তাই নামটা ভুলে গেছি সেই উচ্চশিক্ষার্থী (যতদূর মনে পড়ছে মেডিক্যাল ছাত্রী) তরুণীর যিনি ১৯৯৩ সালের শেষ ডিসেম্বরের কোনও এক বিকেলে ভেজা চোখ আকাশে রেখে শুধু বলেছিলেন, বলতে পারেন কবে ফিরব আমরা আমাদের বাড়ি? এখানে এই বেআব্রু নোংরায় কি থাকা যায় বলুন? বলতে পারিনি। আজ এত বছর পরে তিনি কোথায় জানি না। তাঁদের শ্রীনগরের বাড়িতে শেষপর্যন্ত ফিরতে পেরেছেন কি না তাও জানি না। হয়তো খুব ভালো একজন ডাক্তার হয়ে দেশের অন্য কোথাও অন্য কোনওখানে তিনি এখন রোগীর সেবায় রত।
কিন্তু যেখানেই থাকুন চাইলে এবার স্বাধীনতার ৭৩তম উৎসবটা তিনি মুক্ত ভূস্বর্গে ওয়ানিসাব কি বসিরের পরিবারের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে মানাতেই পারেন। ভারত সরকার ৩৭০ সরিয়ে যে বার্তাটি দিয়েছে তাতে এই আশ্বাস পরিষ্কার। ধর্মনিরপেক্ষ সংহতিকামী ভারতে স্বাধীনতা দিবসে এমন তোফা—এও কি নজিরবিহীন নয়?
15th  August, 2019
ক্রীড়া ও বিনোদন অর্থনীতি:
কী ভাবছে সরকার?
হারাধন চৌধুরী

 ১০০ বছর ধরে মাঠ কাঁপাচ্ছে যে দল, সেই লাল-হলুদ ঝড়ের নাম ইস্টবেঙ্গল। এই স্লোগানের সঙ্গে বাঙালি বহু পরিচিত। গত ১ আগস্ট, ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষ পূর্ণ হল। যে-কোনও ক্ষেত্রে সেঞ্চুরির গরিমা কতটা সবাই জানেন। ক্রীড়ামোদী বাঙালি মূলত দুই শিবিরে বিভক্ত—ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান।
বিশদ

সবুজ হচ্ছে জঙ্গলমহলের প্রকৃতি ও মানুষ
সন্দীপন বিশ্বাস

জঙ্গলমহল হাসছে। এই কথাটা একসময় বহু ব্যবহৃত শব্দবন্ধের মতো হয়ে গিয়েছিল। তারপর সেটা নিয়ে বিরোধীদের বিদ্রুপ করা শুরু হল। কিন্তু এটা ঠিক, ২০১১ সালের আগে যে জঙ্গলমহলের চোখে জল ছিল, তা আর ফিরে আসেনি।
বিশদ

05th  August, 2020
 সমাজ ব্যর্থ হলে অসহায় মানুষের
পাশে দাঁড়াবার রাজনীতিই কাম্য
শুভময় মৈত্র

কোভিডাক্রান্ত ফুসফুসে সাহস জোগাতে সরকারের সহযোগিতায় দলমত নির্বিশেষে আরও কিছুটা উদ্যোগ জরুরি। দ্রুততার সঙ্গে সে কাজ না-হলে আম জনতা বিপদে পড়বে। সমাজ অকৃতকার্য হলে অ্যাম্বুলেন্সে উঠতে না-পেরে অসুস্থের মৃত্যু রুখতে হবে নিঃসহায়ের রাজনীতিকেই।
বিশদ

05th  August, 2020
নয়া নীতিতে শিক্ষা
আমাদের ‘বাহন’ হবে তো?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

নরেন্দ্র মোদি সরকার নয়া শিক্ষানীতি ঘোষণা করার পর দিকে দিকে কেমন একটা হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। বিষয়ে নতুনত্ব আছে। আর তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। সরকারি স্কুলে প্লে-গ্রুপ ও কিন্ডারগার্টেন, ১০+২ এর ধারণা পিছনে ফেলে ফুটবলের মতো ৫+৩+৩+৪ ছকে স্কুলশিক্ষাকে সাজানো এবং সায়েন্স, আর্টস, কমার্স উঠে যাওয়া... নড়েচড়ে বসার মতো পরিস্থিতি বটে।
বিশদ

04th  August, 2020
রাজ্য-রাজনীতির বর্ণময় চরিত্র
সোমেন মিত্রের কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত 
প্রবীর ঘোষাল

২০০০ সালের মার্চ মাস। রাজ্য কংগ্রেস রাজনীতিতে ঘোর সঙ্কট। দু’বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করে ঝড় তুলে দিয়েছেন। দু’-দু’টি লোকসভা নির্বাচনে জোড়াফুলের সাফল্য গোটা দেশকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এই সময় এল পশ্চিমঙ্গে রাজ্যসভা নির্বাচন।  
বিশদ

03rd  August, 2020
করুণ কাহিনীতে কোনও ‘সমাপ্ত’ হয় না 
পি চিদম্বরম

গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করা হয়। তারপর থেকে লিখিত আদেশ ছাড়াই জম্মু ও কাশ্মীরের অনেক ব্যক্তিকে ‘গৃহবন্দি’ করা হয়েছে। এরকমই একজন গৃহবন্দি রাজনৈতিক নেতা বলেন যে, ‘জম্মু ও কাশ্মীর একটা বিরাট বন্দিশালা’। 
বিশদ

03rd  August, 2020
৫ আগস্ট ও নরেন্দ্র
মোদির ভোট অঙ্ক
হিমাংশু সিংহ 

২৯ বছর আগে ছবিটা তুলেছিলেন মহেন্দ্র ত্রিপাঠি। করোনা আবহে সেই ছবিই গোটা দেশে আজ হঠাৎ ভাইরাল। মহেন্দ্র পেশায় শখের ফটোগ্রাফার। ছোট্ট একটা স্টুডিও আছে অযোধ্যার প্রস্তাবিত রামমন্দির চত্বরের কাছেই।   বিশদ

02nd  August, 2020
ভাবনা বদলালেই সহজ
হবে করোনা মোকাবিলা
তন্ময় মল্লিক 

‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে। আমি চোখ মেললুম আকাশে, জ্বলে উঠল আলো পুবে-পশ্চিমে।’—রবীন্দ্রনাথ। ‘শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে বিপ্লব, বিপ্লব আনে মুক্তি।’—লেনিন।   বিশদ

01st  August, 2020
বন্ধু চীনই এখন
আমেরিকার বড় শত্রু
মৃণালকান্তি দাস 

পঞ্চাশ বছরের ‘সম্পর্ক’ মাত্র চার বছরে উল্টে গিয়েছে! এই সেদিনও চীন-আমেরিকা নিজেদের বলত ‘কৌশলগত বন্ধু’। ১৯৭১ সালে বেজিং সফরে গিয়ে ধুরন্ধর মার্কিন বিদেশসচিব হেনরি কিসিঞ্জার সেই ‘বন্ধুত্বে’র চারা লাগিয়ে এসেছিলেন।   বিশদ

31st  July, 2020
মমতাকে স্বস্তি দিচ্ছে
বিজেপির এই রাজনীতি
হারাধন চৌধুরী 

যদি ক্যুইজে প্রশ্ন করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে? প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষের নাম ক’জনের মাথায় আসবে সংশয় রয়েছে। বেশিরভাগ উত্তরদাতার ঠোঁটের ডগায় তৈরি থাকবে বিধানচন্দ্র রায়ের নামটা।   বিশদ

30th  July, 2020
মোদিজি, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন
সন্দীপন বিশ্বাস 

কতটা লড়াইয়ের পর করোনার মতো এমন ভয়ঙ্কর ভাইরাসকে নিঃশেষ করা যাবে, আমরা জানি না। কতদিনে আমরা এর ওষুধ বের করতে পারব, তাও জানি না! কোভিড ওষুধ নিয়ে আমাদের দেশের ও বিশ্বের বিজ্ঞানীদের গবেষণা এখন ঠিক কোন পর্যায়ে, সেটাও আমরা জানি না।   বিশদ

29th  July, 2020
পাঁপড়ভাজা খেলে ভ্যাকসিন
বানানোর দরকারটা কী?
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ফিদেল কাস্ত্রোর ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছেন এক সাংবাদিক। শুরুতেই কাস্ত্রো পাল্টা একটা প্রশ্ন ছুঁড়লেন... ‘দ্য ফোর্থ ভার্টিব্রা পড়েছেন? ফিনিশ লেখক না?... দারুণ লেখা কিন্তু।’ মার্কিনিদের জীবনযাত্রা ছিল ‘দ্য ফোর্থ ভার্টিব্রা’র বিষয়বস্তু।   বিশদ

28th  July, 2020
একনজরে
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে, সেগুলির কয়েকটির বাজার বন্ধকালীন দর। ...

তুফানগঞ্জ পুরসভা তহবিলের অভাবে উন্নয়নমূলক কোনও কাজ করতে পারছে না। করোনা পরিস্থিতিতে মার্চ মাসের শেষসপ্তাহে লকডাউন শুরু হতেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।  ...

ভিসা ও অন্যান্য নথির মেয়াদ ফুরনোয় সৌদি আরবে এখন জেলবন্দি রয়েছেন প্রায় ৪৫০ জন ভারতীয়। তার মধ্যে অনেকেই এই বাংলার আদি বাসিন্দা। ...

মাসে ১৫ হাজার টাকা ভাতা। সঙ্গে থাকা-খাওয়া ফ্রি। তবে, এই কাজের যোগ্যতার মাপকাঠি একটু অন্যরকম। শুধুমাত্র করোনা জয়ী হলেই মিলবে সুযোগ। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ হারানো মানুষের সংখ্যা বিপুল। তাই এমন অফার পেয়ে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য লাইন পড়ে যাওয়ার ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম ( মিত্র )
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যার ক্ষেত্রে বাধার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে শুভ যোগ। ব্যবসায় যুক্ত হলে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

হিরোশিমা দিবস
১৮৬৫ - চার্লি চ্যাপলিনের মা তথা ইংরেজ অভিনেত্রী, গায়িকা ও নৃত্যশিল্পী হান্নাহ চ্যাপলিনের জন্ম
১৮৮১- পেনিসিলিনের আবিষ্কারক ফ্লেমিংয়ের জন্ম
১৯০৫- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস প্রকাশ করলেন বন্দে মাতরম পত্রিকা
১৯০৬ - বিপিনচন্দ্র পালের সম্পাদনায় বন্দে মাতরম্ (সংবাদপত্র) প্রথম প্রকাশিত হয়।
১৯১৪ - কলকাতা থেকে দৈনিক বসুমতী প্রথম প্রকাশিত হয়।
১৯২৫ - বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী স্যার সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু
১৯৪৫-হিরোশিমায় পরমাণু বোমা ফেলল আমেরিকা



ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৪.১৪ টাকা ৭৫.৮৬ টাকা
পাউন্ড ৯৬.৪৬ টাকা ৯৯.৮৭ টাকা
ইউরো ৮৭.০৪ টাকা ৯০.২০ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৫৪,৬৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৫১,৮৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৫২,৬৫০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৬৫,০৮০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৬৫,১৮০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
05th  August, 2020

দিন পঞ্জিকা

২১ শ্রাবণ ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০, তৃতীয়া ৪৭/৩৪ রাত্রি ১২/১৫। শতভিষানক্ষত্র ১৫/১১ দিবা ১১/১৮। সূর্যোদয় ৫/১৩/৪৮, সূর্যাস্ত ৬/১১/৬। অমৃতযোগ দিবা ১২/৪৮ গতে ৩/১ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৬/৫৭ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১২/৫৯ মধ্যে। বারবেলা ২/৫৭ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ১১/৪২ গতে ১/৫ মধ্যে।
২১ শ্রাবণ ১৪২৭, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২০, তৃতীয়া রাত্রি ১১/২। শতভিষানক্ষত্র দিবা ১১/২১। সূর্যোদয় ৫/১৩, সূর্যাস্ত ৬/১৪। অমৃতযোগ রাত্রি ১২/৪৭ গতে ৩/৩ মধ্যে। মাহেন্দ্রযোগ দিবা ৭/০ মধ্যে ও ১০/২৩ গতে ১২/৫৫ মধ্যে। কালবেলা ২/৫৯ গতে ৬/১৪ মধ্যে। কালরাত্রি ১১/৪৩ গতে ১/৬ মধ্যে।
১৫ জেলহজ্জ

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
ফের এক অভিনেতার রহস্যমৃত্যু
সুশান্তের পর আরও এক অভিনেতা। রহস্যমৃত্যু ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তথা ...বিশদ

01:37:05 PM

মুর্শিদাবাদে রিভলবার দেখিয়ে পেট্রল ভরে গ্রেপ্তার ১
মুর্শিদাবাদে রিভলবার দেখিয়ে বাইকে পেট্রল ভরে গ্রেপ্তার হল এক দুষ্কৃতী। ...বিশদ

01:25:39 PM

করোনা: আপনার জেলার হাল কী, জানুন... 
রাজ্যে নতুন করে আরও ২,৮১৬ জনের শরীরে মিলেছে করোনা ভাইরাস। ...বিশদ

12:26:35 PM

রেপো রেট ও রিভার্স রেপো রেট অপরিবর্তিতই:আরবিআই
রেপো রেট (৪%)ও রিভার্স রেপো রেট (৩.৩%)অপরিবর্তিতই রাখল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ...বিশদ

12:13:21 PM

ট্রাম্পের ভিডিও ডিলিট করল ফেসবুক-ট্যুইটার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ভিডিও পোস্ট তাঁর পেজ থেকে ...বিশদ

12:02:14 PM

শঙ্করপুরে সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত গ্রাম 
নিম্নচাপ ও প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে যাচ্ছে শঙ্করপুরের সমুদ্রবাঁধ। জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ ...বিশদ

11:49:17 AM