Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

স্বাধীনতা ৭৩ এবং ভূস্বর্গের মুক্তি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

গরিবি যতদিন না যাবে ততদিন এই উপত্যকায় শান্তি আসবে না। কারণ, কাশ্মীরি মানুষের গরিবিই ওদের একটা বড় হাতিয়ার। গরিব মানুষজনের অনেকেই ক’টা টাকার লোভে পড়ে সীমান্তর ওপার থেকে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিয়ে, লুকিয়ে রেখে, খাবারদাবারের ব্যবস্থা করে ভ্যালির বিপদ বাড়িয়ে তুলছে। কেউ কেউ আবার মোটা টাকার আশায় ওদের সঙ্গী হয়ে খুনোখুনি সন্ত্রাসে শামিল পর্যন্ত হয়ে পড়ছে! এদের বুঝিয়ে লাভ নেই। পেটের টান যে বড় টান। অভাব মেটান, পড়াশুনা, চাকরিবাকরির সুযোগসুবিধে বাড়িয়ে দিন— আপসে সব ঠান্ডা হয়ে যাবে। জঙ্গিরা বর্ডার পেরবার সাহস পাবে না। আর পেরলেও সহজে লুকোবার জায়গা পাবে না। ফলে সন্ত্রাস ছড়ানোও তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে। তখন আমরাও একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারব, আপনাদের শ্রীনগরও তার হারানো শ্রী ফিরে পাবে। কয়েক বছর আগে শ্রীনগরের পামপোরে তাঁর বাড়িতে বসে কথাগুলো বলেছিলেন ওয়ানিসাব, গুলাম নবি ওয়ানি— তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের পদস্থ অফিসার। এই শহরেই তাঁর সঙ্গে আলাপ এবং কয়েকবছর আগে তাঁর সোৎসাহ প্ররোচনায় কাশ্মীর বেড়াতে গিয়ে এই সজ্জন সুদর্শন দীর্ঘদেহী সর্বদা হাসিমুখ কাশ্মীরি মানুষটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গভীরতর হয়েছিল অনিবার্যভাবেই। সেই সুবাদে তাঁর বাড়িতে আমার নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে গিয়ে দেখেছিলাম কাশ্মীরি অতিথিপরায়ণতা কত আন্তরিক, কত সুন্দর, কত প্রীতিপ্রদ হতে পারে। পরিবারের শিশু থেকে প্রবীণ সকলের সঙ্গে মিলেমিশে আড্ডা দিতে দিতে (যেন কতকালের চেনা) কাশ্মীরি চা ‘কাওয়া’ থেকে টা থেকে বাড়িতে তৈরি অপূর্ব স্বাদ মেইন কোর্স— আজও ভুলতে পারিনি। সেদিন ওয়ানিসাবের বাড়ি থেকে হোটেলে ফেরার পথে মোগল বাদশাহের মতো আমারও মনে হয়েছিল, এই ধরাধামে স্বর্গ যদি কোথাও থাকে তো সে এইখানে, এইখানে, এইখানে।
আমরা যখন কাশ্মীরে তখন উপত্যকার সন্ত্রাসে একটু যেন ভাটার টান ধরেছিল। ফলে, পর্যটক ভিড় খুব বেশি না হলেও ছিল এবং বন্ধ হোটেল দোকানপাট হাউসবোটগুলোর একাংশও উদ্বেগ সংশয় কাটিয়ে জেগে ওঠার চেষ্টা করছিল। জঙ্গি দাপটে দিশেহারা প্রায় স্তব্ধ বিভ্রান্ত ত্রস্ত কাশ্মীরি জনজীবনে প্রাত্যহিকের স্বাভাবিক ছন্দও ফিরে এসেছিল অনেকটাই। কিন্তু, আমরা ফিরে আসার পরপরই ফের শুরু হয়ে গিয়েছিল জঙ্গি তাণ্ডব। বেশ মনে আছে তিনি এবং তাঁর পরিবারের খোঁজ নিতে যখনই ফোন করেছি তখনই ওয়ানিসাবের গলায় একটা জড়তার আভাস পেয়েছি। মুখে হয়তো তিনি বলেছেন, না না— চিন্তা করবেন না। আমরা ভালো আছি। পামপোরেতে গোলমাল নেই। অন্য জায়গায় হয়েছে— আমরা এখানে ঠিকঠাকই আছি। আপনাকে তো বলেইছি— এসব ততদিন যাবে না, যতদিন না...! ফোন কেটে গেছে লাইন বিভ্রাটে নাকি এক কথা বলার ক্লান্তি এড়াতে তিনিই সরে গেছেন বুঝতে পারিনি। আবার কখনও ফোনেই কিছুটা বিষণ্ণ শুনিয়েছে তাঁর কণ্ঠ— আমরা তো বন্দি, ভারতে থেকেও আমরা তো পুরোপুরি ভারতের নই! তাই আমাদের বিপদ আমাদের অসুবিধে আর পাঁচজনের চেয়ে অনেক বেশি।
মানে!? আপনারা তো ভারতের বিশেষ-অঞ্চল, বিশেষ সুবিধেভোগী! ওয়ানিসাব হেসেছেন— থ্রি সেভেন্টির কথা বলছেন? ৩৭০ ধারা? ওটাই তো একধরনের বন্ডেজ। গরিব মানুষজন সস্তায় চাল-ডাল কিছু পায় ব্যাস। আর কী? কিন্তু, লাস্ট সাড়ে ছয় দশকে এখানে উন্নয়ন কী হল, গরিব কাশ্মীরিদের জীবনমানে কতটা পরিবর্তন হল ওই ৩৭০ দিয়ে একটু খোঁজ করতে বলুন না আপনাদের জার্নালিস্টদের। কথাটার অন্তর্নিহিত ব্যঙ্গ বুঝতে অসুবিধে হয়নি। বরং, তাঁর কথায় মনে পড়ল শ্রীনগরের রেস্তরাঁর সেই বসিরের মন্তব্য, ওই ৩৭০টায় আমাদের পায়ের বেড়ি হয়ে আছে। হ্যাঁ, ওই ভাঙিয়ে কেউ কেউ আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছে সন্দেহ নেই, তবে আম পাবলিকের ওতে কোনও ফায়দা হয়নি। ফায়দা হয়েছে কটা পরিবারের। এই পরিবারগুলো শুরু থেকে এই ভ্যালিটাকে জমিদারি হিসেবে দেখেছে আর মানুষের দুঃখ-দারিদ্র্য ভাঙিয়ে রাজনীতি করে গেছে। এমনকী, এদের এক-আধজন প্রকারান্তরে সীমান্ত সন্ত্রাসেও পরোক্ষ মদত জুগিয়েছে আর উপত্যকায় অস্থিরতা তৈরি হলে তাকে সামনে রেখে গদি গুছিয়েছে। এদেরই একজনের মেয়েকে বাঁচাতে মারাত্মক জঙ্গিকে ছেড়ে দিতে হয়েছে— এমনও তো দেখেছি আমরা। দেখিনি? কাশ্মীরিদের এই কব্জা থেকে মুক্তি নেই। এবং এখানেই না থেমে সেদিন ওই বসির এবং তাঁর বন্ধুরা যা বলেছিলেন তার সারমর্ম মিলে গিয়েছিল ওয়ানিসাবের বক্তব্যের সঙ্গে। তাঁরাও বলছিলেন— যে যাই বলুক, এই ৩৭০টা আমাদের চারপাশে একটা বেরিয়ার, বাধার বেড়া দিয়ে রেখেছে। এটাকে হটিয়ে গোটা ভারতের সঙ্গে একাত্ম হতে না পারলে আমাদের মুক্তি নেই।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এবার কি সেই বহু প্রত্যাশিত মুক্তির আলো দেখা দিল ভূস্বর্গে? সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার সাত দশক পরে সত্যিই কি ভূস্বর্গের মুক্তি ঘটল? বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতবর্ষের মূল স্রোতে এসে মিশল ৭৩ বছর ‘বিশেষ সুবিধাভোগী’ হয়ে কার্যত বহুজনার ঈর্ষানজরে একঘরে আমাদের শ্রীনগর, কাশ্মীর, আমাদের স্বপ্নের সৌন্দর্যলোক? সেই অপরূপের রাজ্যে মানুষজন কি এবার সত্যিই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিষেবা, জীবন-জীবিকায় আধুনিক উন্নয়ন-উন্নতির সুযোগ-সুবিধা পাবেন, কাশ্মীরি তরুণ-তরুণী পাবেন মনমতো চাকরিবাকরি? এবার কি শান্তি ফিরবে ভূস্বর্গে, বন্ধ হবে সীমান্তপারের হানাদারদের সন্ত্রাস, হত্যালীলা? আরও আরও বহু অনিবার্য প্রশ্নও উঠে আসছে আগস্টের শুরুতে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণার পর। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে লাদাখকে পৃথক করে দুটি স্বতন্ত্র কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা এবং সেই সঙ্গে এই অঞ্চলে ৩৭০ ধারার বিশেষ সুবিধা রদের ঘোষণায় অনিবার্যভাবে দেশজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি বিরোধীদের অনেকেই, বিশেষত সিপিএম ৩৭০ রদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মুখর হয়েছে। তাদের তালে তাল মিলিয়েছেন অনেকেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব পেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে। কিন্তু ৩৭০ রদের সিদ্ধান্তে গোটা দেশের সাধারণ মহল তেমন বিরূপতা দেখাল কি? এই মহানগরীর পথঘাট অফিসকাছারি আড্ডা কিন্তু দেখায়নি। খুচখাচ বিতর্ক-তর্ক বেধেছে বটে, তবে শেষপর্যন্ত এক দেশ এক পতাকা এক আইন তত্ত্বকে সরাসরি খারিজ করার মতো জোরালো যুক্তি খুঁজে পায়নি কলকাতা। তবে গেরুয়া শিবির এই সিদ্ধান্তের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন সাকার হওয়ার যে কথা বলছে তাতে বঙ্গবাসীজনের অনেকেই হয়তো শামিল হচ্ছেন না। নাই হতে পারেন। কিন্তু, আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি— নরেন্দ্র মোদিজির সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক বলে চিহ্নিত করতে কিন্তু তাঁদেরও বাধছে না!
আসলে এখানে একটা সেন্টিমেন্ট একটা জাতীয়তাবাদী আবেগও হয়তো কাজ করছে। স্বাধীন ভারতে আসমুদ্রহিমাচল তেরঙা ছাড়া কেন বিশেষ একটি রাজ্যের জন্য বিশেষ পতাকা থাকবে— আবেগের মূল কথা এটাই। ৩৭০ ধারা রদের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর এই কথাটা অনেকের মুখে শুনেছি। কথাটাকে যুক্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় কি? অনেকে এদিক সেদিক সোশ্যাল মিডিয়া খবরের কাগজ ইত্যাদি ঘেঁটে পড়ে এখন কাশ্মীর বিশেষজ্ঞ— তাঁরা উপত্যকায় জমি-বাড়ি কেনা ব্যবসাপাতি করায় এতদিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সরব। অসভ্যতাও চলছে ভূস্বর্গের মানুষজন মহিলা পুরুষদের নিয়ে। নির্বোধ মূঢ় বিকৃতরুচি ছাড়া কে আর কাশ্মীরের তরুণীদের নিয়ে ওইসব ইতর চিন্তা প্রকাশ করতে পারে! এইসব পচা পাঁক নিয়ে আলোচনা যত কম করা যায় ততই ভালো। দুর্ভাগ্য এই যে, যে পদ্মদলের উদ্‌঩যোগে এমন ঐতিহাসিক একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হল সেই দলেরই এক অপোগণ্ড বিধায়কের নাম ওই ইতরভাষণে যুক্ত হয়ে গেছে! আমরা নিশ্চিত দেশ রাজ্যের সাধারণ রুচিমান মানুষ চাইছেন, উন্নাওকাণ্ডের পাষণ্ডটাকে যেমন কড়া নজরে দেখেছেন দেশের শাসক এবং চরম শাস্তির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছেন— ভূস্বর্গের তরুণীদের নিয়ে কদর্য মন্তব্য করা ওই লোকটার জন্যও একই পদক্ষেপ করবেন তাঁরা। কারণ, জাতীয় সংহতি যেখানে লক্ষ্য সেখানে এমন মন্তব্য যে তার পরিপন্থী তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকে হয়তো বলবেন, কোথাকার কোন অখ্যাত একটা লোক একটা বিধায়ক— তার বর্বর কথা উপেক্ষা করাই ঠিক। হয়তো ঠিক। কিন্তু, ঘোষিত উদ্দেশ্য যেখানে মহৎ, সারা ভারত এক হয়ে একাকার হয়ে এক পতাকাতলে থাকার মতো গরিমাময় সনাতন ঐতিহ্যের দিকে আমাদের টানছে সেখানে এক মন দুধে এক ফোঁটা চোনার মতো ওইসব কিড়েমাকোরে কেন থাকবে?
এরা জানে বিগত শতকের নব্বই দশকের প্রায় গোড়া থেকে কী অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে জম্মুর ক্যাম্পে দিনের পর দিন বছরের পর বছর কাটিয়েছেন কাটাচ্ছেন কাশ্মীরের লাখ লাখ পণ্ডিত পরিবার! এঁরাও তো কাশ্মীরি। আজও যাঁরা ভূস্বর্গের বাসিন্দাদের নিয়ে অসভ্য মশকরা করছেন তাঁরা একটু খোঁজখবর নিন। হুমকি নির্দেশে রাতারাতি সেদিন ঘর ছাড়তে হয়েছিল তাঁদের। সহায় সম্বলহীন সেই মানুষজনেদের জায়গা হয়েছিল জম্মুর খোলা মাঠে, অস্থায়ী ছাউনিতে। তাঁদের অনেকেই ছিলেন সম্পন্ন গৃহস্থ। হঠাৎ করে অমন অস্বচ্ছ অস্বাস্থ্যকর যাপনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কী যন্ত্রণা হয়েছিল তাঁদের, তা তখন ওই আশ্রয় শিবিরগুলোয় বসবাসকারীদের সঙ্গে কথা বলেই হাড়ে হাড়ে বুঝেছিলাম। অপরাধ কী ছিল তাঁদের? জানি না। যেটুকু জেনেছিলাম তার উল্লেখও আজ নিষ্প্রয়োজন। তাছাড়া, সেইসময় থেকে আজ অবধি আমরা কেউ কি জানতে চেয়েছি ওঁরা কেমন আছেন? জানতে চাইনি কোনওদিন, খোঁজও রাখিনি। তাই নামটা ভুলে গেছি সেই উচ্চশিক্ষার্থী (যতদূর মনে পড়ছে মেডিক্যাল ছাত্রী) তরুণীর যিনি ১৯৯৩ সালের শেষ ডিসেম্বরের কোনও এক বিকেলে ভেজা চোখ আকাশে রেখে শুধু বলেছিলেন, বলতে পারেন কবে ফিরব আমরা আমাদের বাড়ি? এখানে এই বেআব্রু নোংরায় কি থাকা যায় বলুন? বলতে পারিনি। আজ এত বছর পরে তিনি কোথায় জানি না। তাঁদের শ্রীনগরের বাড়িতে শেষপর্যন্ত ফিরতে পেরেছেন কি না তাও জানি না। হয়তো খুব ভালো একজন ডাক্তার হয়ে দেশের অন্য কোথাও অন্য কোনওখানে তিনি এখন রোগীর সেবায় রত।
কিন্তু যেখানেই থাকুন চাইলে এবার স্বাধীনতার ৭৩তম উৎসবটা তিনি মুক্ত ভূস্বর্গে ওয়ানিসাব কি বসিরের পরিবারের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে মানাতেই পারেন। ভারত সরকার ৩৭০ সরিয়ে যে বার্তাটি দিয়েছে তাতে এই আশ্বাস পরিষ্কার। ধর্মনিরপেক্ষ সংহতিকামী ভারতে স্বাধীনতা দিবসে এমন তোফা—এও কি নজিরবিহীন নয়?
15th  August, 2019
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে 
হারাধন চৌধুরী

বাঙালি বেড়াতে ভালোবাসে। বেড়ানোর সুযোগটা পাশপোর্ট ভিসা নিয়ে বিদেশে হলে তো কথাই নেই। কিন্তু গন্তব্য যদি বাংলাদেশ, আর দাবি করা হয় বিদেশ-ভ্রমণের, তবে অনেকেই মুখ টিপে হাসবেন। কারণ, বাংলাদেশকে ‘বিদেশ’ ভাবার মানসিকতা আমাদের গড়ে ওঠেনি। 
বিশদ

17th  January, 2020
হৃদয়জুড়ে মানবসেবা
মৃণালকান্তি দাস

সমকাল তাঁকে যথেষ্ট লজ্জা দিয়েছিল! নিজের দেশ ছেড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কপর্দকহীন এক সন্ন্যাসীকে নিগৃহীত করতে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিনিধি প্রতাপচন্দ্র মজুমদার।  স্বামীজির বিজয়কীর্তিকে ধূলিসাৎ করতে নিজের ‘ইউনিটি অ্যান্ড দি মিনিস্টার’ পত্রিকায় স্বামীজিকে ‘নবহিন্দু বাবু নরেন্দ্রনাথ দত্ত’ সম্বোধন করে বলা হয় যে, তিনি নাকি যুবাবয়সে ব্রাহ্মসমাজে আসেন  শুধুমাত্র  ‘নববৃন্দাবন’ থিয়েটারে অভিনয়ের জন্য।  
বিশদ

17th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে।  
বিশদ

16th  January, 2020
উপমহাদেশে সহিষ্ণুতার আন্দোলনের ক্ষতি হচ্ছে
হারাধন চৌধুরী

সিএএ, এনআরসি প্রভৃতি ভারতের মানুষ গ্রহণ করবেন কি করবেন না, তা নিশ্চিত করে বলার সময় এখনও হয়নি। তবে, এটুকু বলা যেতে পারে—এই ইস্যুতে ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিগুলি। অর্থনৈতিকভাবে আমরা দ্রুত পিছিয়ে পড়ছি। পাশাপাশি এই অধ্যায় বহির্ভারতে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। আমাদের এমন কিছু করা উচিত হবে না যার দ্বারা অন্তত বাংলাদেশে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উদ্বাহু নৃত্য করে পাকিস্তানের মৌলবাদী শক্তি। 
বিশদ

16th  January, 2020
রাজনীতির রঙের বাইরে
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যে পড়ুয়ারা আজ পথে নেমেছে, তারা তো শিক্ষিত! এঁটেল মাটির তালের মতো। যুক্তি দিয়ে বোঝালে তারা অবাধ্য হয় না। তা না করে নয়াদিল্লি বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে পাল্টা ধোলাই দেওয়ার রাস্তা নিয়েছিল পুলিস। আর বলা হয়েছে, মানতে না পারলে পাকিস্তানে চলে যাও। এটাই কি ভারতের মতো গণতন্ত্রের থেকে পাওনা? যুব সমাজ কিন্তু মানছে না। মানবেও না। দিন নেই, রাত নেই তারা কখনও ক্যাম্পাসে ধর্নায় বসছে, কখনও রাজপথে। তাদের লড়াই আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।
বিশদ

14th  January, 2020
হবু-গবুর রাজ্যে তৈরি হচ্ছে ভক্ততন্ত্র তালিকা
সন্দীপন বিশ্বাস

সকালবেলা মন্ত্রী গবু হন্তদন্ত হয়ে হবুরাজার ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখেন রাজামশাই কম্পিউটারের সামনে বসে ‘কমান্ডো এনকাউন্টার শ্যুটিং গেম’ খেলছেন। মহারাজা পুরোপুরি বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হয়ে কম্পিউটারের ভিতর যেন ঢুকে পড়েছেন। গেমটা খুব মজার এবং কঠিন। বন্দুক নিয়ে একজন কমান্ডার ঢুকে পড়েছে শত্রুদের ঘাঁটিতে। 
বিশদ

13th  January, 2020
নয়া স্থিতাবস্থা যুবসমাজকে রুষ্ট করছে
পি চিদম্বরম

এই ২০২০ সালের ভারতকে ১৯৬৮ সালের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেখাচ্ছে। ১৯৬৮-তে ফ্রান্সের পরিস্থিতিও অনুরূপ ছিল। আমার মনে আছে ১৯৬৮-তে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কাজকর্ম ভেঙে পড়েছিল। আর এই বিপর্যয় থেকে দেশকে উদ্ধারের দায়িত্ব বর্তেছিল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর। ১৯৬৮-র এই যে বিরাট সঙ্কট তার মূল কারণ ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ।  
বিশদ

13th  January, 2020
স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিতে মানুষের কথা বলাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম
হিমাংশু সিংহ

আজ ১২ জানুয়ারি। স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন। তারকাখচিত বাঙালি জাতির ইতিহাসে মহামানবের জন্মদিনের তালিকা কম দীর্ঘ নয়। তার মধ্যেও তিন শ্রেষ্ঠ ভারতসন্তানের জন্মদিনের মাহাত্ম্য শতবর্ষ পরেও প্রতিবছরই গোটা জাতিকে আবেগে শ্রদ্ধায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। প্রথমজন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।  
বিশদ

12th  January, 2020
সরকারি প্রকল্প বনাম ভোট মেরুকরণ
তন্ময় মল্লিক

বিজেপির ভোট মেরুকরণের রাজনীতি মোকাবিলার একমাত্র হাতিয়ার সামাজিক প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা বাড়ানো। সে কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে বেনিফিসিয়ারির সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির ফিডব্যাক বলছে, বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং বাংলা আবাস যোজনায় ঘরের চাহিদা প্রচুর।
বিশদ

11th  January, 2020
নতুন ভারত
সমৃদ্ধ দত্ত

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনধিকারীদের প্রবেশে কেউ আপত্তি করলে, বিরুদ্ধমতাবলম্বীদের বাছাই করে করে মারতে হবে। এবং মাথায় মারাই নিয়ম এক্ষেত্রে। কারণ দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাশক্তি এবং ভাবনায় ফারাক করে দেয় একটাই জিনিস, মাথা অর্থাৎ মস্তিষ্ক। মস্তিষ্কেই থাকে মেধা। সুতরাং মাথাকে সবরকম ভাবে টার্গেট করাই যুক্তিযুক্ত ভাবা হচ্ছে। এভাবে একটি প্রচ্ছন্ন বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে, হয় মগজ ধোলাইয়ের কোর্স চালু হোক অথবা মাথা ফাটানোর পারমিশন দেওয়া হোক। একান্তই যদি এগুলো সম্ভব না হয়, তা হলে যে সব মনীষী আধুনিক উন্নত চিন্তাশক্তির জনক, তাঁদের মূর্তি ভাঙতে হবে। যেমন কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে হয়েছে। ভাঙতে হলে বাঙালি মনীষীর মূর্তিই হয় টার্গেট। মাথায় মারতে হলেও বাঙালি ছাত্রী ও অধ্যাপিকাই টার্গেট হয়। বিশদ

10th  January, 2020
একনজরে
 আমেদাবাদ, ১৭ জানুয়ারি (পিটিআই): সমস্ত বিদেশি কোম্পানিকে আইন মেনে ভারতে বিনিয়োগ করতে হবে। আমাজনের লগ্নি নিয়ে মন্তব্যের পর শুক্রবার এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এনআরসি এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে এখন সরগরম গোটা রাজ্য। ডান-বাম উভয়েই আন্দোলনে শামিল হয়েছে। আর এই আবহে কলেজে কলেজে ছাত্রভোটের সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল। আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যেও এই ভোট না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ...

 সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি, ১৭ জানুয়ারি: মেগা ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করছে কেন্দ্র। কৃষক থেকে শ্রমিক। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী থেকে ক্ষুদ্র ঋণগ্রাহকের সংখ্যা। মোদি সরকার বিভিন্ন ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অন্যান্য পুরসভাগুলির সঙ্গে আগামী পুরভোটে উত্তর দমদম, দক্ষিম দমদম এবং দমদম পুরসভার আসন সংরক্ষণের খসড়া তালিকা শুক্রবার প্রকাশিত হল। সেই তালিকা অনুযায়ী কোথাও চেয়ারম্যান, কোথাও চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল এবার নিজের জেতা ওয়ার্ডে ভোটে দাঁড়াতে পারছেন না। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

উচ্চবিদ্যায় ভালো ফল হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে সুযোগ আসবে। কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৪৭: সঙ্গীতশিল্পী কে এল সায়গলের মৃত্যু
১৯৭২: ক্রিকেটার বিনোদ কাম্বলির জন্ম
১৯৯৬: রাজনীতিক ও অভিনেতা এন টি রামারাওয়ের মৃত্যু
২০০৩: কবি হরিবংশ রাই বচ্চনের মৃত্যু
২০১৮ – বিশিষ্ট বাঙালি সাংবাদিক ও কার্টুনিস্ট চন্ডী লাহিড়ীর মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.১৭ টাকা ৭১.৮৭ টাকা
পাউন্ড ৯১.২২ টাকা ৯৪.৫১ টাকা
ইউরো ৭৭.৬১ টাকা ৮০.৫৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৪৪৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৩৭০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৮,৯৪৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ মাঘ ১৪২৬, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, নবমী ৫৪/৫ দিবা ৪/১। স্বাতী ৪৪/৪১ রাত্রি ১২/১৬। সূ উ ৬/২৩/৪, অ ৫/১০/৩৪, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫০ মধ্যে। রাত্রি ৭/৪৮ গতে ১০/২৭ মধ্যে পুনঃ ১২/১২ গতে ১/৫৮ মধ্যে পুনঃ ২/৫১ গতে ৪/৩৬ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১/৭ গতে ২/২৭ মধ্যে পুনঃ ৩/৪৮ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৪ গতে উদয়াবধি। 
৩ মাঘ ১৪২৬, ১৮ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, অষ্টমী ৬/৩২/৩৮ দিবা ৯/২/৫৩। স্বাতী ৫২/৪১/৩১ রাত্রি ৩/৩০/২৬। সূ উ ৬/২৫/৫০, অ ৫/৯/৩২, অমৃতযোগ দিবা ১০/০ গতে ১২/৫৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫৭ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ২/০ মধ্যে ও ২/৫২ গতে ৪/৩৬ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৬/১৯ মধ্যে ও ৩/৪৯/৪ গতে ৫/৯/৩২ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৪৯/৪ মধ্যে ও ৪/৪৬/১৮ গতে ৬/২৫/৫৫ মধ্যে। 
২২ জমাদিয়ল আউয়ল 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পর্ণশ্রীতে মাথায় আঘাত করে লুঠ ৩ লক্ষ টাকা
দক্ষিণ কলকাতার পর্ণশ্রী এলাকায় মাথায় আঘাত করে লুঠ করা হল ...বিশদ

10:11:43 AM

শহরে ট্রাফিকের হাল
আজ, শনিবার সকালে শহরের রাস্তাঘাটে যান চলাচল মোটের উপর স্বাভাবিক। ...বিশদ

10:05:09 AM

একঘণ্টা বিনি পয়সার ভোজ রসগোল্লা, ফুচকা
দমদমে শুরু হল ‘নালেঝোলে’ খাদ্যমেলা। দমদম রোডে ৪ নম্বর দাগা ...বিশদ

09:30:00 AM

রাতেই পার্ক সার্কাস ময়দানে আন্দোলনকারীদের পাশে পি চিদম্বরম
কোনওরকম রাজনৈতিক পতাকা ছাড়াই গভীর রাতে পাক সার্কাসের অবস্থান মঞ্চে ...বিশদ

09:27:00 AM

অবাক কাণ্ড বড়িশার স্কুলে
বড়িশার স্কুলে অবাক কাণ্ড। এক প্রধান শিক্ষক থাকতেই ফের সেখানে ...বিশদ

09:24:43 AM

দাবিদাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সংগঠনের
ইউজিসি’র নয়া বেতনক্রম ঘোষণা হলেও সেই বকেয়া নিয়ে সরকার চুপ। ...বিশদ

09:16:38 AM