Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কলকাতা কি প্রবীণদের জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?
শুভা দত্ত

বুধবার ভোরের কাগজে চোখ রাখতেই এমন একটা প্রশ্ন যেন বুকের মধ্যে শেল হয়ে বিঁধল। এ কী কাণ্ড সব হচ্ছে! খুনের পর খুন! আর সেই খুনিদের টার্গেট কিনা নিরীহ সাধারণ প্রৌঢ় আর প্রবীণ! কী অপরাধ তাঁদের? অপরাধ তাঁরা বাড়িতে একলা থাকেন, তাঁদের ছেলেমেয়েরা হয়তো চাকরিসূত্রে দেশের অন্য রাজ্যে বা দূর বিদেশে। অপরাধ—তাঁদের একটা ছোট বড় জমি বাড়ি বাগান বা ফ্ল্যাট আছে, আছে সারাজীবন কষ্ট করে রোজগারের কিছু টাকা-পয়সা, ব্যাঙ্ক আমানত, গয়নাগাটি। ব্যাস, এই অপরাধেই তাঁরা অভিযুক্ত এবং টার্গেট! তাঁদের শাস্তি নির্মম নিষ্ঠুর মৃত্যুদণ্ড। কখনও গলা টিপে বা মুখে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে, কখনও পেছন থেকে মাথায় লোহার রডের বাড়ি মেরে, কখনও কুপিয়ে পুড়িয়ে বা সরাসরি গুলি করে কার্যকর হচ্ছে সে মৃত্যুদণ্ড! সাফল্যে উজ্জ্বল দিন মাস বছরের শেষে এসে চূড়ান্ত মর্মান্তিকভাবে যবনিকাপাত ঘটছে অসহায় প্রবীণ-প্রৌঢ় জীবনগুলিতে! তার চেয়েও দুর্ভাগ্যজনক হল এই যে, অনেক ক্ষেত্রেই হতভাগ্যদের করুণ পরিণতির কথা জানতে বেশ কয়েকদিন কেটে যাচ্ছে প্রতিবেশী প্রিয়জন পুলিসের। শেষে লাশপচা গন্ধে, নয়তো ঘটনাচক্রে জানা যাচ্ছে তাঁদের ভয়াবহ পরিণতির কথা—উদ্ধার হচ্ছে দণ্ডপ্রাপ্তদের বীভৎস পচাগলা দেহ!
কে দিচ্ছে এমন সব পৈশাচিক দণ্ড! কে আবার? সংশ্লিষ্টের জমিবাড়ি সম্পত্তি হাতাতে হতভাগ্যেরই চেনাশোনা কেউ—সে আত্মীয়পরিজন হতে পারে বা পরিবারের ঘনিষ্ঠ বাইরের লোক, বা তাদের কারও প্ররোচনায় কোনও জমি-হাঙর প্রমোটার বা বাড়িতে কাজ করে যাওয়া রাজমিস্ত্রি কি নিত্যদিনের ঠিকে কাজের মেয়ে-পুরুষ সাফাইওয়ালা, দারোয়ান কি ইস্ত্রিওয়ালা—যে কেউ! যে সুযোগ পাচ্ছে সে-ই দণ্ড দিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছে! অথচ, মজার ব্যাপারটা এই যে, এদের কাউকেই ওইসব নিহত প্রবীণেরা কোনওদিন সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখেননি, বরং গভীর আস্থায় হয়তো তাদের কাউকে কাউকে একান্ত আপনজন ভেবে বলে ফেলেছেন পারিবারিক গোপন কথা, জমিজমা, সম্পত্তির মান-পরিমাণের খবর। ব্যাস! আর যায় কোথায়! অপরাধী মন ছক কষতে শুরু করে দিয়েছে আর সেইসঙ্গেই শুরু হয়ে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রবীণ দম্পতি কি একাকী প্রৌঢ় কি অশক্ত কোনও বৃদ্ধ-বৃদ্ধার অন্তিম দিনগোনা, তাঁদের জন্য এক নারকীয় পরিণতির গোপন আয়োজন উদযোগ! পরিকল্পনা এমন সুচতুর এবং সাজানো-গোছানো যে, অতি পরিচিত হলেও আততায়ীর অভিসন্ধিও ঘুণাক্ষরে টের পাচ্ছেন না টার্গেট প্রবীণ প্রৌঢ়রা! যখন তা পাচ্ছেন তখন মরণদূত তার যাবতীয় বীভৎসা এবং কষ্টযন্ত্রণা নিয়ে চৌকাঠে এসে দাঁড়িয়েছে! তার কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ ছাড়া তখন ওই প্রবীণ প্রৌঢ়দের আর কিছুই করার থাকছে না।
বুধবারের খবরের কাগজে এমন পৈশাচিকতার একাধিক ঘটনা পড়তে পড়তে তাই ওই প্রশ্নটাই মন উঠে এল, বিঁধল বুকে—তাহলে কি কলকাতা প্রবীণদের জন্য ক্রমশ ক্রমশ আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে?! নাহলে একদিনে একজোড়া দম্পতির খুনের ঘটনা উঠে আসে কাগজের পাতায়! নাহলে বেহালার শিশিরবাগানের বৃদ্ধা শুভ্রা ঘোষদস্তিদার, কড়েয়ার বিশ্বজিৎ বসু, লেক থানা এলাকার শ্যামলী ঘোষের মতো প্রৌঢ় প্রবীণেরা পরের পর এভাবে এমন নৃশংসভাবে খুন হয়ে যান! গত বুধবার যে দুই দম্পতির মর্মান্তিক পরিণতির কথা খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে তাঁদের এক পক্ষ থাকতেন দক্ষিণ কলকাতার নেতাজিনগরে নিজের বাড়িতে এবং অন্য দু’জন ছিলেন নরেন্দ্রপুর পঞ্চায়েত এলাকায় একটি বাগানবাড়িতে! নেতাজিনগরে খুনের পরদিন সকালে কলের মিস্ত্রি এসে নিহত দুই প্রবীণ দিলীপ ও স্বপ্না মুখোপাধ্যায়ের নিথর দেহ আবিষ্কার করে। পরে পুলিস এসে দেহ নিয়ে যায়। আর নরেন্দ্রপুরে প্রৌঢ় প্রদীপ ও আলপনা বিশ্বাসের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয় খুনের বেশ কিছুদিন পরে! পুলিস এই দুই খুনের ঘটনাতেই কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে, হয়তো আগামী দিনে খুনিও ধরা পড়বে। নাও পড়তে পারে। যেমন বেহালা শিশিরবাগানের খুনি এখনও অধরা, কড়েয়ার বিশ্বজিৎ খুনেরও কিনারা হয়নি। তবে, ফ্ল্যাট হাতাতে লেক থানায় খুন শ্যামলীদেবীর আততায়ী কিন্তু ধরা পড়েছে, খুনের কিনারাও হয়েছে।
কিন্তু, সেটুকুতে কি আজ শহর মহানগর থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত কোথাও একা বসবাসকারী প্রবীণ-প্রবীণা, প্রৌঢ়-প্রৌঢ়ারা আর আশ্বস্ত হতে পারছেন? জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, সম্পত্তি, টাকাকড়ির জন্য লোভ যেভাবে বাড়ছে আর সেই লোভে নরকের কীটেরা যেভাবে সাধারণ গৃহস্থের বাড়িতে হানা দিয়ে অনর্থ ঘটাচ্ছে, নির্মমভাবে খুন করে দিচ্ছে, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিচ্ছে, যেভাবে পশুর মাংসকাটা কসাইদের লাগানো বাড়ছে এইসব খুনে, কেটে খণ্ডখণ্ড করে ব্যাগে পুরে যেভাবে দেহ লোপাটের চল শুরু হয়েছে, তাতে বৃদ্ধবৃদ্ধা কেন, কোনও মানুষই কি নিশ্চিন্তবোধ করতে পারেন!? পারেন না। এবং পারেন যে না সেটা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বেগই প্রমাণ করেছে গত বুধবার। সেদিন নবান্নে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এভাবে খুন করে জমি, বাড়ি, সম্পত্তি হাতানো যাবে না। যারা তা করতে যাবে পুলিস-প্রশাসন তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে।
শুধু তাই নয়, রাজ্যের প্রবীণদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেছেন তাঁর সরকার প্রবীণদের নিরাপত্তায় গাফিলতিও কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। বৃদ্ধবৃদ্ধার নিঃসঙ্গতা অসহায়তার সুযোগ নিয়ে কোনও প্রমোটার বা দুর্বুদ্ধি যদি চাপ দিয়ে জমিবাড়ি কব্জা করতে চায় তাহলেও কঠিন কঠোর পদক্ষেপ করবে পুলিস ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে কিছুটা হলেও হয়তো কলকাতা সহ রাজ্যের বয়স্কমহলে নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বাস ফিরবে।
অবশ্য, প্রবীণদের নিরাপত্তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এর আগেও সচেষ্ট হয়েছেন এবং তার ফলশ্রুতিতেই ‘প্রণাম’ বলে একটি প্রবীণ সেবা প্রকল্প অনেকদিন হল সক্রিয়। তাতে ১৪ হাজারের মতো প্রবীণ-প্রবীণা নথিভুক্ত। কিন্তু, কলকাতাতেই আজ নাকি বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে আর রাজ্যে সংখ্যাটা পৌনে এক কোটির কাছাকাছি। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে সামগ্রিকভাবে যদি প্রবীণ মানুষজনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয় তবে আরও বড় পরিকাঠামো এবং আধুনিক প্রযুক্তি লাগবে। এবার মহানগর-শহর-শহরতলির প্রবীণদের নাম, ঠিকানা ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য নিয়ে একটি ভাণ্ডার অর্থাৎ ডেটা-বেস গড়ে তোলার উদ্যোগ সেই লক্ষ্যেই মমতা সরকারের আরও একটি সময়োচিত পদক্ষেপ সন্দেহ নেই। তথ্যভিজ্ঞজনেদের মতে, প্রবীণদের জন্য ওই তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে পুলিস-প্রশাসনের পক্ষে নজরদারি যেমন সহজ হবে, তেমনি কোনও সমস্যা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রবীণ-প্রবীণার নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগেও বিশেষ সুবিধা হবে।
কিন্তু, কথা হল—কেবল নিরাপত্তা আঁটোসাঁটে করেই কি রাজ্যের প্রবীণদের এই ঘৃণ্য পিশাচদের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যাবে? সমাজবিজ্ঞানীরা কী বলবেন জানি না, তবে আমাদের মনে হয়—যতক্ষণ না মানুষজন, বিশেষত বয়স্ক নাগরিক তাঁদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আরও সচেতন হবেন, আপন আপন বিষয়সম্পত্তির খোঁজখবর কারও কাছে প্রকাশের আগে সতর্ক হবেন, ঘরে ঘরে সিসিটিভি’র ব্যবহার বাড়বে ততক্ষণ বিপদের ভয়টা থেকেই যাবে। কারণ, সরকার যত ব্যবস্থাই নিন, জনে জনে নিরাপত্তা দেওয়া তো সম্ভব নয়। সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুযোগ নিতেও প্রবীণ নাগরিকদের কিছু ভূমিকা থেকে যায়, যেমন বাড়িতে পরিচারিকা থাকলে তার সম্বন্ধে থানায় তথ্য ছবি দিয়ে রাখা ইত্যাদি।
আসলে, যেদিন থেকে আমরা গোটা বিশ্বের সঙ্গে মিলেমিশে গেছি, হাতের মুঠোয় পেয়ে গেছি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ভোগের চমকদার উপকরণ ও উপায়, যেদিন থেকে সরাসরি আমাদের চোখে মনে মায়াজাল ছড়াতে শুরু করেছে সেদিন থেকে আমাদের লোভ মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছে। সেই লোভ মেটাতে টাকা জোগাড়ে কেউ উদয়াস্ত খাটছে, আর কেউ এভাবে মেরেধরে পরের কষ্টার্জিত হাতিয়ে নিতে লেগেছে। প্রমোটারির মতো কাঁচা টাকার বাণিজ্য গেড়ে বসার পর পরের জমি, বাড়ি, ধনসম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার চক্র দিন দিন আরও সক্রিয় হয়েছে। খুন করে লাশ গুম করে কি আত্মহত্যায় বাধ্য করে সাধারণ নিরীহের সবকিছু কেড়েকুড়ে নেওয়ার ভয়াবহ কাণ্ডকারখানার রমরমা দেখা দিয়েছে। আজ সেজন্য একদিকে স্নেহ, মায়া, দয়ার যেমন আকাল পড়েছে, তেমনি বিশ্বাস করাটা হয়ে উঠেছে রীতিমতো বিপজ্জনক। একটু মন খুলে কথা বলা বা বিপদে-আপদে সহযোগিতা চাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠছে মারাত্মক প্রাণঘাতী।
বিগত বেশ কিছু বছর ধরে, বলা ভালো নতুন শতাব্দীর শুরু থেকেই পরিস্থিতি এমন নেতিবাচক বিপন্নতার দিকে মোড় নিয়েছে। দিনের পর দিন সেই বিপন্নতা বেড়েই চলেছে। নানান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েও সামলানো যাচ্ছে না। ফেরানো যাচ্ছে না আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসার সেই পুরনো জগৎ। আর সেজন্যই বাড়ছে প্রতারণা, হিংসা, বাড়ছে গুমখুন গণপ্রহারে খুনের ঘটনা এবং অবশ্যই ঘরে-বাইরে বয়স্ক নাগরিকের নির্যাতন নিগ্রহ নির্মম হত্যা। এই নির্বিবেক ভয়াবহতার হাত থেকে কবে মুক্তি মিলবে সেই চিন্তাতেই এখন আকুল বাংলা, বাংলার বয়স্ক নাগরিক সমাজ। উপায় কী!
04th  August, 2019
সোনিয়ার দলে অন্ধকার যুগ, মহারাষ্ট্র-হরিয়ানায় অ্যাডভান্টেজ মোদি বাহিনীই
শান্তনু দত্তগুপ্ত

যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৯৬। সর্বভারতীয় একটি ইংরেজি দৈনিকে মোহিত সেনের নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়বস্তু তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। তাঁর বিশ্লেষণ, সোনিয়া গান্ধীর সক্রিয় রাজনীতিতে এসে কংগ্রেসের হাল ধরা উচিত। এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন। অ্যানি বেসান্ত। বিশদ

15th  October, 2019
শেখ হাসিনার দিল্লি সফর: ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়
গৌরীশংকর নাগ 

দুঁদে কূটনীতিক মুচকুন্দ দুবের মতে, সামঞ্জস্যের প্রত্যাশা না করেও যদি এক্ষেত্রে ভারতকে তার স্বার্থ সামান্য বিসর্জন দিতেও হয় তাও ভেবে দেখা যেতে পারে। কারণ বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ স্থিরতা ভারতের সুরক্ষা তথা শক্তিকেই সুনিশ্চিত করবে। সুতরাং ভারতের উচিত অর্থনৈতিক বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে যথাসম্ভব তালমিল রেখে কাজ করা।
বিশদ

14th  October, 2019
বদলে যাচ্ছে পুজো
শুভময় মৈত্র

পুজো এখন এক লক্ষ কোটি টাকা কিংবা তার থেকেও বেশি অঙ্কের ব্যবসা। এমনটা সব ধর্মেই হয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যে বিভিন্ন সময় উৎসব করেন তারও একটা বাজার আছে। রোজার সময় সন্ধেবেলা জিভে জল আনা খাবারের গন্ধ বিনা পয়সায় শোঁকা যেতেই পারে, কিন্তু কিনে খেতে গেলে পয়সা লাগবেই। ফলে ব্যবসা সেখানে অবধারিত। 
বিশদ

12th  October, 2019
সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হওয়ার পাঠ শেখাচ্ছে সত্তর বছরের গণচীন
মৃণালকান্তি দাস

এখন সাধারণ পোশাক পরা মাও বা টায়ারের চপ্পল পায়ে হো চি মিনরা আর সমাজতান্ত্রিক নেতৃত্বে নেই। এখন স্যুট টাই পরা বিলাসী সাহেবরা নেতৃত্বে। কমিউনিস্ট নাম ধারণ করে আছে শুধু রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দলীয় একনায়কতন্ত্র অব্যাহত রাখার গরজে। ব্রিটিশরা যেমন বলে থাকেন আওয়ার কিং ইজ ডেড, লং লিভ আওয়ার কিং। ঠিক তেমনই। আগে ধনতন্ত্র পরে সমাজতন্ত্র। তার জন্য জানলা খুললে কিছু মাছি-মশা আসবে। কথাটা বলেছিলেন দেং নিজেই। অবশ্য এই মাছি-মশা নিয়ে তাঁদের কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কী করে সাচ্চা ক্যাপিটালিস্ট হতে হয় সেটাও শেখাচ্ছে চীন! 
বিশদ

11th  October, 2019
এক কাপ চায়ে 
অতনু বিশ্বাস

এক কাপ চা, কত গল্প বলে সকাল, বিকেল, সন্ধে বেলা...।
এ গানের লিরিকের মতোই চা নিয়ে এবং চায়ের টেবিলে গল্পেরও কোনও শেষ নেই। এক কাপ চায়ে আমেজ আছে নিশ্চয়ই। দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও।  
বিশদ

10th  October, 2019
জল সঙ্কট নিরসনে: শারদীয়া দুর্গোৎসবের বার্তা
জয়ন্ত কুশারী
 

শারদীয়া দুর্গোৎসব বাঙালির প্রধান উৎসব। বাঙালি দুর্গোৎসবকে কলিযুগের অশ্বমেধযজ্ঞ বলে মনে করেন। দেবীপুরাণের পুজো প্রকরণেও এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে—অশ্বমেধমবাপ্নোতি ভক্তিনা সুরসত্তমঃ, মহানবম্যাং পূজেয়ং সর্বকামপ্রদায়িকা।
বিশদ

05th  October, 2019
‘দিদিকে বলো’ কোনও ম্যাজিক নয়
তন্ময় মল্লিক
 

প্রশান্ত কিশোরের ‘দিদিকে বলো’ দাওয়াই তৃণমূল কংগ্রেসকে কতটা বেনিফিট দেবে, তা জানা যাবে ২০২১ সালে। কিন্তু বঙ্গ রাজনীতিতে ‘পিকে’ যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিধায়কদের দলীয় কর্মীর বাড়িতে নিশিযাপন, মানুষের মুখোমুখি হওয়ার টোটকায় অনেক বিধায়ক মাটিতে আছাড় খাচ্ছেন। কৃতকর্মের জবাবদিহি করতে না পারলেই অভিমান সীমা অতিক্রম করছে।  
বিশদ

05th  October, 2019
বাঙালির গল্প সম্প্রীতির গল্প
সুব্রত চট্টোপাধ্যায়

এই লেখায় হিন্দু-মুসলমান—শব্দ দুটি ব্যবহারের কোনও দরকারই পড়ল না। শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি-সত্তার ভাঙনের একটা গন্ধ। তাই ‘বাঙালি’ শব্দটি দিয়েই দিব্যি কাজ চলে যায়। উৎসব সমাসন্ন। তাই আবেগে ভেসে গিয়ে কথাটি বলছি এমন নয়, যা সত্যি তা-ই বলছি।  
বিশদ

04th  October, 2019
বাঙালির দ্বিচারিতা
সমৃদ্ধ দত্ত

মহাত্মা গান্ধীর সবথেকে বড় শক্তি হল, যারা তাঁকে মন থেকে অপছন্দ করে কিংবা তাঁর সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানকে আদর্শগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করে না, তারা নিজেরা কিন্তু আন্দোলনে নেমে অজান্তে সেই গান্ধীকেই অনুসরণ করে।  
বিশদ

04th  October, 2019
নয়ন ভুলানো এলে
মেরুনীল দাশগুপ্ত

এবার সব কিছুর পরও কোথায় যেন একটা কিন্তুর কাঁটা ফুটছে, ফুটেই চলেছে! ফলে, জমজমাট পুজোর মজার আবহটা যেন এখনও ঠিক জমাট বাঁধতেই পারছে না। কী সেই কাঁটা? এনআরসি? বাজারদর? কাজ হারানো? মাসের পর মাস বেতনবিহীনতা, অভাব? দেশ জুড়ে হাজার হাজার লাখ লাখের কাজ হারানোর আতঙ্ক? —তালিকা শেষ হবার নয়। ক’দিন আগে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ রাজ্যের পুজো উদ্বোধনে এসে ফের একবার এনআরসি লাগু করার সন্দেশ দিয়ে গেলেন। উদ্বাস্তু নয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধেই যে খড়্গহস্ত হবে এনআরসি সেটা অমিতজিরা বোঝানোর পরও বঙ্গজনের আতঙ্ক যে কাটছে না!  
বিশদ

03rd  October, 2019
মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন অনুসরণীয়
মোহন ভাগবত

ভারতের আধুনিক ইতিহাস তথা স্বাধীন ভারতের উত্থানের কাহিনীতে যেসব মহান ব্যক্তির নাম চিরকালের জন্য লেখা হয়ে আছে, যা সেই সনাতন কাল থেকে চলে আসা ভারতের ঐতিহাসিক গাথার এক একটি অধ্যায় হয়ে যাবে, পূজ্য মহাত্মা গান্ধীর নাম তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ভারতবর্ষ আধ্যাত্মিক দেশ এবং আধ্যাত্মিকতার ভিত্তিতেই তার উত্থান হবে।  
বিশদ

02nd  October, 2019
দুর্গাপুজোর আঙিনায় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ
চৈতন্যময় নন্দ 

বঙ্গাব্দ ১২৭৭। রানি রাসমণি নেই। পরিবারের কর্তা জামাতা মথুরমোহন বিশ্বাস। ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণদেব এসেছেন জানবাজারে দুর্গাপুজো উপলক্ষে। ঠাকুরের উপস্থিতিতে সেই বাড়ি তখন আনন্দস্রোতে প্রবাহিত হয়ে আনন্দধামে পরিণত।   বিশদ

01st  October, 2019
একনজরে
 সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা: পড়াশোনা চলাকালীন পড়ুয়াদের হাতে-কলমে কাজ শেখার জন্য ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করেছে এআইসিটিই। তবে দেখা যাচ্ছে, নিজেদের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে আগ্রহ কম পশ্চিমবঙ্গের ছাত্রছাত্রীদের। অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অব টেকনিক্যাল এডুকেশনের এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই তথ্য। ...

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মঙ্গলবার দুপুরে সূতি থানার সাজুরমোড়ে একটি বেসরকারি স্কুলের উদ্বোধনে আসেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহম্মদ আজহারউদ্দিন। আজাহার বলেন, ওঁর যথেষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। আশা করি সৌরভ ভারতীয় ক্রিকেটকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন।  ...

বিএনএ, সিউড়ি: বিজেপি নেতা ধ্রুব সাহা ও অতনু চট্টোপাধ্যায়কে ফের সিউড়ি আদালতে তোলা হল। পুরনো মামলায় তাঁরা মাসখানেক ধরে সংশোধনাগারেই ছিলেন। এদিন তাঁদের ফের সিউড়ি আদালতে তোলা হয়।  ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃদ্ধাকে বিমার টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা প্রতারণা করার অভিযোগে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর সাইবার থানার পুলিস। সোমবার সন্ধ্যায় সেক্টর ফাইভের ডিএন ব্লকের একটি অফিস থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চবিদ্যায় ভালো ফল হবে। কর্মপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে সুযোগ আসবে। কোনও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্য আসবে। ব্যবসায় যুক্ত ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

বিশ্ব খাদ্য দিবস
১৯০৫: বঙ্গভঙ্গ হয়
১৯২৩: দি ওয়াল্ট ডিজনি সংস্থা প্রতিষ্ঠা হয়
১৯২৭: নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান সাহিত্যিক, চিত্রকর, ভাস্কর এবং নাট্যকার গুন্টার গ্রাসের জন্ম
১৯৪৮: অভিনেত্রী হেমা মালিনীর জন্ম
১৯৫১: রাওয়ালপিন্ডিতে খুন হন পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান
১৯৬৪: প্রথম পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটাল চীন





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৪৬ টাকা ৭২.১৬ টাকা
পাউন্ড ৮৮.৩২ টাকা ৯১.৬১ টাকা
ইউরো ৭৭.১৯ টাকা ৮০.১৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৯,১৭০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৭,১৬৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৭,৭২০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৫,৯০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,০০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, দ্বিতীয়া ০/২১ প্রাতঃ ৫/৪৫। ভরণী ২১/৫১ দিবা ২/২১। সূ উ ৫/৩৬/৫৪, অ ৫/৭/৫৮, অমৃতযোগ দিবা ৬/২৩ মধ্যে পুনঃ ৭/৯ গতে ৭/৫৫ মধ্যে পুনঃ ১০/১৩ গতে ১২/৩২ মধ্যে। রাত্রি ৫/৫৯ গতে ৬/৪৯ মধ্যে পুনঃ ৮/২৯ গতে ৩/৭ মধ্যে, বারবেলা ৮/৩০ গতে ৯/৫৬ মধ্যে পুনঃ ১১/২৩ গতে ১২/৪৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০ গতে ৪/৪ মধ্যে।
২৮ আশ্বিন ১৪২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, তৃতীয়া ৫৯/১০/৩৯ শেষরাত্রি ৫/১৭/৩৫। ভরণী ২১/৩৭/১৬ দিবা ২/১৬/১৩, সূ উ ৫/৩৭/১৯, অ ৫/৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৩০ মধ্যে ও ৭/১৫ গতে ৭/৫৯ মধ্যে ও ১০/১৩ গতে ১২/২৭ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৭ গতে ৬/৪৮ মধ্যে ও ৮/২১ গতে ৩/১১ মধ্যে, বারবেলা ১১/২৩/১৯ গতে ১২/৪৯/৪৯ মধ্যে, কালবেলা ৮/৩০/১৯ গতে ৯/৫৬/৪৯ মধ্যে, কালরাত্রি ২/৩০/১৯ গতে ৪/৩/৪৯ মধ্যে।
১৬ শফর

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
শিলিগুড়ি ও কলকাতা থেকে ৪.২ কোটি টাকার চোরাই সোনা সহ গ্রেপ্তার ৬ 

04:04:50 PM

সল্টলেক এসএসসি দপ্তরের সামনে চাকরি প্রার্থীদের অসন্তোষ 
সল্টলেকে এসএসসি দপ্তরের সামনে হাজার খানেক চাকরি প্রার্থীদের অসন্তোষ। অভিযোগ, ...বিশদ

03:26:00 PM

রায়গঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে মহিলাকে পাথর ছুঁড়ে মারার অভিযোগ 
রায়গঞ্জে ছেলেধরা সন্দেহে এক মহিলাকে পাথর ছুঁড়ে মারার অভিযোগ। ঘটনায় ...বিশদ

03:15:35 PM

কাটোয়ার দাঁইহাট স্টেশনের কাছে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার 
আজ সকালে কাটোয়া-ব্যাণ্ডেল শাখায় দাঁইহাট স্টেশনের কাছে এক ব্যক্তির ক্ষতবিক্ষত ...বিশদ

01:30:00 PM

কলকাতায় আসছেন কেন্দ্রীয় ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার 
ভোটার ভেরিফিকেশন কর্মসূচি ঠিক মতো হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ...বিশদ

01:29:39 PM

টালিগঞ্জে গোলমাল, একে অপরকে কোপাল দুজন মদ্যপ ব্যক্তি
টালিগঞ্জে মদ খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোলমাল। মদ্যপ অবস্থায় একে অপরকে ...বিশদ

01:17:19 PM