Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়। উপযুক্ত নেতার সঙ্কট উপস্থিত হলেই দেশ এমন দুঃসময়ে পতিত হয়। স্বাধীনতাসংগ্রামের কাল, অর্থাৎ উনবিংশ-বিংশ শতকেই ভারতের রাজনীতির স্বর্ণযুগ গিয়েছে। শুধু মানুষের জন্য রাজনীতি কাকে বলে তা নিজেদের জীবন দিয়ে দেখিয়ে গিয়েছেন সে-যুগের বহু রাজনীতিক। ধ্রুব আদর্শের সুরে জীবনকে পরিচালিত করা সেই মানুষগুলিকে পরবর্তীকাল প্রণম্য মনীষী হিসেবে মেনে নিয়েছিল। সময়ের দাবি ছিল, স্বাধীন ভারত তাঁদেরই দেখানো পথে উন্নতির শিখর স্পর্শ করবে। কিন্তু, কথার খেলাপ-করা যে-জাতির মজ্জাগত, যে-জাতি ইতিহাসবিস্মৃত হিসেবেই খ্যাত, তার পক্ষে বিচ্যুতি বিস্ময়ের নয়। তবু প্রত্যাশা ছিল যে ভারতের রাজনীতি দ্রুত ভুল বুঝবে এবং নিজেকে শুধরে নেবে। কিন্তু, বাস্তবে তা হয়নি। তাই পঞ্চায়েত/পুরসভা থেকে বিধানসভা এবং সংসদ অবধি দীনতার ছাপ প্রকট হয়ে উঠেছে। অর্থলোভী ক্ষমতালোভী উচ্ছিষ্টলোভী আয়ারাম গয়ারামদেরই বিজয়নিশান পত পত করে উড়ছে! এটাকে নিজেদের ভাগ্য বলে মেনে নিয়ে যে যার ঘরে খিল এঁটে দিয়ে নিরাপদ থাকার কথা ভাবছি অনেকে। কিন্তু, এইভাবে সত্যিই কি ভালো থাকা সম্ভব? না। দেশের রাজনীতিকে রাজনীতির সংজ্ঞায় ফিরতে বাধ্য করাটা আমাদেরই দায়িত্ব। তার জন্য শিক্ষা নিতে হবে ইতিহাস এবং ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি থেকে। তাঁদের অনেকেই আজ বিস্মৃতপ্রায় যদিও। স্মৃতির সরণি বেয়েই তাঁদের হাজির করতে হবে আজকের প্রেরণাহীন প্রেক্ষাপটে। তেমনই একজন প্রাসঙ্গিক পুরুষ হলেন পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র—ভারতের স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক।
এবার পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্রের জন্মের ১২৫ বছর। ১৮৯৫ সালের ২৩ জুলাই পূর্ববঙ্গে পদ্মাপারের নারায়ণগঞ্জে তাঁর জন্ম। ১৯৫৩ সালের ২৫ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। আর দু’দিন বাদে তাঁর প্রয়াণের ৬৭ বছর।
কে এই পণ্ডিত মৈত্র?
ভারতের সংসদে বাগ্মী হিসেবে তিনজন পণ্ডিত সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন—পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য এবং পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র। এই তিন পণ্ডিতের যেদিন ভাষণ থাকত সেদিন সংসদের চেহারা সর্বার্থে ঐতিহাসিক হয়ে উঠত। পণ্ডিত মৈত্র বয়সে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের চেয়ে বছর দেড়েকের এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চেয়ে বছর ছয়ের বড় ছিলেন। দেশবরেণ্য এই দু’জনের সঙ্গেই তাঁর সখ্য ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ সম্পর্ক ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গান্ধীজি, সর্দার প্যাটেল, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষের সঙ্গেও।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ম্যাকডোনাল্ড ভারতকে সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভাঙার প্রস্তাব দিলেন। বাঁটোয়ারার চক্রান্ত মেনে নেওয়া নিয়ে কংগ্রেসের ভিতরে তখন দোলাচল—কংগ্রেস না-পক্ষে, না-বিপক্ষে! কংগ্রেস তখন কোনও রাজনৈতিক দল নয়, ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মঞ্চ। তার ভিতরে ভবিষ্যতের সমাজবাদী, কমিউনিস্ট, কট্টর মুসলিম, কট্টর হিন্দু, মধ্যপন্থী সকলেই। কংগ্রেসের এই দোলাচলের ভিতরে মদনমোহন মালব্যরা ‘কংগ্রেস জাতীয় দল’ নামে একটি উপদল গড়েছিলেন। যাঁরা ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে। ১৯৩৬ সালের নির্বাচনে সারা বাংলা থেকে কংগ্রেসের একজনমাত্র অফিসিয়াল প্রার্থী জয়ী হন। অন্যদিকে কংগ্রেসের বাকিরা পরাজিত হয়েছিলেন মালব্যের প্রার্থীদের কাছে। জয়ীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ঘনিষ্ঠ পণ্ডিত মৈত্র।
লক্ষ্মীকান্ত অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। রসায়ন, ইংরেজি, সংস্কৃত, দর্শন ও আইন শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অগাধ। শৈশব বাল্য কৈশোর এবং যৌবনের সন্ধিক্ষণ কেটেছিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার সরকারি জগন্নাথ কলেজে, কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইন কলেজে। ছিলেন দুঁদে আইনজীবী। তাঁর খ্যাতি কৃষ্ণনগরের গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতা ও দিল্লিতে ব্যাপ্ত হয়। তিনি ফেডারেল কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে আচমকা আইন পেশা থেকে সরে আসেন। স্বাধীনতা পূর্ব এবং স্বাধীনতা উত্তর ভারতের আইনসভা তাঁর ক্ষুরধার বাগ্মিতায় ঋদ্ধ হয়েছে। তাঁর বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রয়েছে স্বাধীন ভারতের জন্য প্রণীত সংবিধানে এবং শিক্ষা, খাদ্য, লবণ, স্বাস্থ্য, রেল, সড়ক ও পরিবহণ, ডাক ও তার, টেলিফোন প্রভৃতি বিষয়ক সেকালের সংসদীয় কমিটিগুলিতে। তৎকালীন বেঙ্গালোরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের পরিচালন পরিষদ, সেন্ট্রাল অ্যাডভাইজারি বোর্ড অফ এডুকেশন, দিল্লি ইউনিভার্সিটি কোর্ট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট, অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অফ টেকনিক্যাল এডুকেশনসহ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রিহ্যাবিলিটেশন ফিনান্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তিনি ছিলেন প্রথম চেয়ারম্যান।
ধর্ম সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভারতভাগের বিরুদ্ধে তিনি বার বার সোচ্চার হয়েছেন। দেশভাগ অনিবার্য হয়ে উঠলে পূর্ববঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের দুর্দশা তাঁকে যন্ত্রণাকাতর করে তুলেছিল। শরণার্থীদের পুনর্বাসনের সমস্ত উদ্যোগে তাঁকে শামিল হতে দেখা গিয়েছে। বাঙালি শরণার্থীদের প্রতি বঞ্চনা বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র তাঁর দলের প্রধানমন্ত্রী নেহরুকে তুলোধনা করতেও কখনও ভয় পাননি। ১৯৪৮ সালের ১ মার্চ লোকসভায় অর্থ বিলের উপর ভাষণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘‘তাঁদের (পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তু) সম্পর্কে এখানে কেউ কিছু বলে না। কারণ তাঁদের দুর্দশা সম্পর্কে এখানে কোনও প্রচার নেই। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের অবস্থা এমনই যে সেখানে তাঁদের আত্মসম্মান নিয়ে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ... অর্থ বিলে পশ্চিম পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু, পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা মানুষের জন্য কোনও বরাদ্দ নেই! অর্থ বিলে ‘বাস্তুহারা’ কথাটির যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত মানুষগুলি তার বাইরে কি না পরিষ্কার জানতে চাই। ... এই সভার জানা দরকার যে পূর্ব পাকিস্তানে যে ১ কোটি ২০ লক্ষ হিন্দু আছেন তাঁরাও আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছেন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য তাঁরাও বিপুল ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অথচ, আজ তাঁরা নৈরাশ্যের সঙ্গে দেখছেন যে দেশের একটা অংশের মানুষ স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়ায় শ্বাস নিচ্ছেন আর অন্য অংশের মানুষ আঘাত অপমান নিপীড়ন ভোগ করছেন।’’
নেহরু মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেদিন এই বক্তৃতা মন দিয়ে শুনেছিলেন। আমরা জানি, পরে শ্যামাপ্রসাদ পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অবর্ণনীয় দুর্দশার প্রতিবাদ জানিয়ে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন। কলকাতায় ফিরে শরণার্থীত্রাণে ঝাঁপিয়ে পড়লে লক্ষ্মীকান্তও তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে তিনি এতটাই আঘাত পান যে তার মাত্র একমাস পরই লক্ষ্মীকান্তের মৃত্যু হয়।
কংগ্রেসে সুভাষ-বিরোধী চক্রান্তের কট্টর সমালোচক ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র। সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস ছেড়ে আসার পর তাঁর প্রস্তাবিত দলের নাম ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ রাখার পরামর্শ লক্ষ্মীকান্তই দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের মধ্যে যাঁরা প্রগতিশীল তাঁরাই নেতাজির নতুন দলে আসবেন ধরে নিয়ে তিনি ওইরকম নাম দিয়েছিলেন। জেলের ভিতর থেকে গভর্নরের উদ্দেশে লেখা নেতাজির ‘শেষ চিঠি’তেও লক্ষ্মীকান্ত মৈত্রের প্রস্তাবের উল্লেখ রয়েছে।
জন্ম পূর্ববঙ্গে হলেও পিতৃসূত্রে তিনি শান্তিপুরের ছেলে। সমাজসংস্কারে তাঁর ভূমিকা ছিল বিরাট। স্থানীয় এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তাঁর অবদান নদীয়া জেলাবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে আরও একটি কারণে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা ঘোষিত হলে নদীয়া জেলার একাংশে (যেমন শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ প্রভৃতি) পাকিস্তানের পতাকা উড়েছিল! আজকের নদীয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পাকিস্তানের ভাগে পড়েছিল। পণ্ডিত মৈত্র তা মেনে নিতে পারেননি। এই অন্যায় সিদ্ধান্ত রদের দাবি নিয়ে তিনি একাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলিষ্ঠভাবে দরবার করেছিলেন। সারা দেশ দেখল, দ্রুততার সঙ্গে নদীয়ার আলোচ্যমান অংশটি ভারতভুক্ত হয়ে গেল। সেই অনুযায়ী ১৮ আগস্ট শান্তিপুরসহ বাকি অংশে ভারতের জাতীয় পতাকা ওঠে।
১৯৪৯ সালের ১৮ নভেম্বর ভারতের সংবিধান চূড়ান্তরূপে গৃহীত হওয়ার দিন পণ্ডিত মৈত্র গণপরিষদের অধিবেশনে এক স্মরণীয় ভাষণ দেন। তার এক জায়গায় তিনি বলেছিলেন, ‘‘এই সংবিধান আমাদের লিবার্টি সুনিশ্চিত করেছে, কিন্তু লিবার্টিকে লাইসেন্সে পরিণত করার পথ বন্ধ করেছি। আজ আমাদের আত্মবিশ্নেষণ আত্মপরীক্ষার সময়। আজই, এখন থেকেই, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে সংবিধানে দেওয়া ব্যবস্থাগুলি কার্যকর করা যায়। যেমন আমরা প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার দিয়েছি। কিন্তু অশিক্ষা দূর না-হলে এই ভোটাধিকার আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপ হয়ে উঠবে।’’
পণ্ডিত মৈত্রের জন্মের এই পুণ্য মুহূর্তে ভাবতে হচ্ছে না কি তাঁর দূরদর্শিতা কতখানি ছিল! ভোটসর্বস্ব সংকীর্ণ রাজনীতিতেই আমাদের সমাজজীবন অভিশপ্ত হয়ে উঠছে না কি?
23rd  July, 2019
১৬০০ কোটি টাকায় কী হতে পারে?
মৃণালকান্তি দাস

শুধুমাত্র অসমে এনআরসি প্রক্রিয়া করতে গিয়েই সরকার খরচ করে ফেলেছে ১৬০০ কোটি টাকা! এত টাকা কীভাবে খরচ হল সেটা খতিয়ে দেখতে দাবি উঠেছে সিবিআই তদন্তের। শুধু তাই-ই নয়, এই এনআরসি করতে বিপুল আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, এই অভিযোগ তুলেছেন অসমের বিজেপি নেতা তথা অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেই দুর্নীতির কথা ধরা পড়েছে ক্যাগের প্রতিবেদনেও। এনআরসির মুখ্য সমন্বয়কারী প্রতীক হাজেলাকে মধ্যপ্রদেশে বদলি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছে না বিজেপি।
বিশদ

মুখ হয়ে ওঠার নিরন্তর প্রয়াস
তন্ময় মল্লিক

কথায় আছে, মুখ হচ্ছে মনের আয়না। আবার কেউ কেউ মনে করেন, সুন্দর মুখের জয় সর্বত্র। তাই অনেকেরই ধারণা, সাফল্য লাভের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানই হল মুখ। রাজনীতিতেও সেই মুখের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে রাজনীতিতে সৌন্দর্য অপেক্ষা অধিকতর প্রাধান্য পেয়ে থাকে মুখের কথা, ভাষাও।  
বিশদ

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক চেতনার অভাব
সমৃদ্ধ দত্ত

 আজকাল একটি বিশেষ শ্রেণীর কাছে দুটি শব্দ খুব অপছন্দের। সেকুলার এবং ইন্টেলেকচুয়াল। ওই লোকটিকে আমার পছন্দ নয়, কারণ লোকটি সেকুলার। ওই মানুষটি আসলে সুবিধাবাদী এবং খারাপ, কারণ তিনি ইন্টেলেকচুয়াল। সমাজের এই অংশের উচ্চকিত তর্জন গর্জন হাসি ঠাট্টা কটাক্ষ শুনলে মনে হবে, সেকুলার হওয়া বোধহয় সাংঘাতিক অপরাধ। বিশদ

24th  January, 2020
বাজেটের কোনও অঙ্কই মিলছে না, আসন্ন বাজেটে বৃদ্ধিতে গতি ফিরবে কীভাবে?
দেবনারায়ণ সরকার

বস্তুত, বর্তমান অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনীতির চিত্র যথেষ্ট বিবর্ণ। সমৃদ্ধির হার ক্রমশ কমে ৫ শতাংশে নামার ইঙ্গিত, যা ১১ বছরে সর্বনিম্ন। মুদ্রাস্ফীতি গত ৩ বছরে সর্বাধিক। শিল্পে সমৃদ্ধির হার ৮ বছরে সর্বনিম্ন। পরিকাঠামো শিল্পে বৃদ্ধির হার ১৪ বছরে সর্বনিম্ন। বিদ্যুতের চাহিদা ১২ বছরে সর্বনিম্ন। বেসরকারি লগ্নি ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। চাহিদা কমায় বাজারে ব্যাঙ্ক লগ্নি কমেছে, যা গত ৫৮ বছরে সর্বনিম্ন। রপ্তানিও যথেষ্ট ধাক্কা খাওয়ার ইঙ্গিত বর্তমান বছরে। এর উপর ভারতে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরে সর্বনিম্ন।
বিশদ

24th  January, 2020
ক্ষমা করো সুভাষ
জয়ন্ত চৌধুরী

মুক্তিপথের অগ্রদূত তিনি। অখণ্ড ভারত সাধনার নিভৃত পথিক সুভাষচন্দ্রের বৈপ্লবিক অভিঘাত বাধ্য করেছিল দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পটভূমি রচনা করতে। দেশি বিদেশি নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের লেখনীতে আজাদ হিন্দের অসামান্য আত্মত্যাগ স্বীকৃত হয়েছে। সর্বাধিনায়কের হঠাৎ হারিয়ে যাবার বেদনা তাঁর জন্মদিনেই বড় বেশি স্পর্শ করে যায়।  
বিশদ

23rd  January, 2020
স্বামীজি, বিশ্বকবি ও নেতাজির খিচুড়ি-বিলাস
বিকাশ মুখোপাধ্যায়

মঙ্গলকাব্য থেকে কাহিনীটা এভাবে শুরু করা যেতে পারে।
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই মা দুর্গা নন্দিকে তলব করেছেন, যাও ডাব পেড়ে নিয়ে এসো।
নন্দির তখনও গতরাতের গাঁজার খোঁয়ার ভাঙেনি। কোনওরকমে জড়ানো স্বরে বলল, ‘এত্তো সকালে মা?’  বিশদ

23rd  January, 2020
‘যে আপনকে পর করে...’
শান্তনু দত্তগুপ্ত

মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলতেন, মনপ্রাণ দিয়ে দেশের সেবা যিনি করেন, তিনিই সত্যিকারের নাগরিক। নাগরিক কাহারে কয়? বা নাগরিক কয় প্রকার ও কী কী? এই জাতীয় প্রশ্ন এখন দেশে সবচেয়ে বেশি চর্চিত। সবাই নিজেকে প্রমাণে ব্যস্ত। ভালো নাগরিক হওয়ার চেষ্টাচরিত্র নয়, নাগরিক হতে পারলেই হল। তার জন্য কাগজ লাগবে। এক টুকরো কাগজ প্রমাণ করবে, আপনি আমি ভারতের বাসিন্দা।   বিশদ

21st  January, 2020
আইন ও বাস্তব
পি চিদম্বরম

আপনি যখন এই লেখা পড়ছেন তখন ইন্টারনেট, আন্দোলন, জনসমাবেশ, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ভাষণ ও লেখালেখি এবং কাশ্মীর উপত্যকার পর্যটকদের উপর নিয়ন্ত্রণ জারি রয়েছে। কোনোরকম ‘চার্জ’ ছাড়াই রাজনৈতিক নেতাদের হেপাজতবাসও চলছে যথারীতি। সুতরাং প্রশ্ন উঠছে—আদালতের রায়ের পরেও বাস্তবে কিছু পরিবর্তন হয়েছে কি?
বিশদ

20th  January, 2020
নেতাজি—আঁধারপথে অনন্ত আলোর দীপ্তি
সন্দীপন বিশ্বাস

স্বাধীনতার পর অতিক্রান্ত বাহাত্তর বছর। কিন্তু আজও যেন তার নাবালকত্ব ঘুচল না। আসলে দেশের যাঁরা হাল ধরেন, তাঁরাই যদি নাবালকের মতো আচরণ করেন, তাহলে দেশও নাবালকই থেকে যায়। এই নাবালকত্ব আসলে এক ধরনের অযোগ্যতা। সেই অযোগ্যতার পথ ধরেই দেশ ডুবে আছে অসংখ্য সঙ্কটে। দুর্নীতিই হল সেই সঙ্কটের মধ্যমণি।  
বিশদ

20th  January, 2020
মানুষকে সঙ্কটে ফেলা ছাড়া নোটবাতিলের
আর কোনও উদ্দেশ্যই সফল হয়নি 
হিমাংশু সিংহ

আর-একটা সাধারণ বাজেট পেশ হতে চলেছে দু’সপ্তাহের মধ্যে। নিঃসন্দেহে এবারের বাজেটের প্রধান লক্ষ্য, বেনজির আর্থিক মন্দার মোকাবিলা করা, নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং একইসঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করা। ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির নরেন্দ্র মোদি যতই নিজের ঢাক পেটান না কেন, দেশের অর্থনীতি এই মুহূর্তে ভয়ঙ্কর সঙ্কটে জর্জরিত। 
বিশদ

19th  January, 2020
প্রধানমন্ত্রীর সফর এবং হিন্দু ভোটের ভাগাভাগি
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি (১১-১২ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কলকাতা ভ্রমণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছিল। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) সংক্রান্ত বিতর্কে হইচই চলছে সারা দেশে। কলকাতার এক বড় অংশের বামমনা বুদ্ধিজীবী মানুষ এর বিরুদ্ধে পথে নেমেছেন। প্রথম থেকেই তৃণমূল সিএএ বিরোধী আন্দোলন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ: পুতুলনাচের ইতিকথা
জিষ্ণু বসু

নাচায় পুতুল যথা দক্ষ বাজিকরে/ নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে। —কবি নবীনচন্দ্র সেনের এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি আজ ভীষণ প্রাসঙ্গিক মনে হয়। গত মাসাধিক কাল সামান্য কিছু অতি বুদ্ধিমান আমাদের মতো অর্বাচীনদের পুতুলের মতো নাচাচ্ছেন। জাতীয় ও আঞ্চলিক প্রচার মাধ্যমও অতি যত্নসহকারে তা পরিবেশন করছে। 
বিশদ

18th  January, 2020
একনজরে
সংবাদদাতা, কান্দি: বৃহস্পতিবার রাতে খবর পেয়ে বড়ঞা থানার শ্রীরামপুর গ্রাম থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম সাদ্দাম শেখ। ওই গ্রামেই তার বাড়ি।   ...

সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: দক্ষিণবঙ্গ থেকে ভোজ্য তেল নিয়ে এসে কালিয়াচকের ডাঙা এলাকায় একটি গোডাইনে মজুত করেছিল পাচারকারীরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই তেল পাচারকারী লরির চালক ও খালাসিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।  ...

জীবানন্দ বসু, কলকাতা: সংঘাতের আবহেই কি আগামীকাল রবিবার সাধারণতন্ত্র দিবসে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকার ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখোমুখি হতে চলেছেন? সাংবিধানিক রীতি ও সৌজন্যের কারণেই কি তাঁদের দু’জনকে কাল পাশাপাশি দেখা যাবে? ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বছরের শুরুতেই ফের বাস ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সুর চড়াচ্ছেন মালিক সংগঠনের নেতারা। একাধিক সংগঠন এ নিয়ে ইতিমধ্যেই নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেছে। কয়েকটি সংগঠন আবার আরও এগিয়ে পরিবহণ দপ্তরে চিঠিও দিয়েছে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

ব্যবসাসূত্রে উপার্জন বৃদ্ধি। বিদ্যায় মানসিক চঞ্চলতা বাধার কারণ হতে পারে। গুরুজনদের শরীর-স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

জাতীয় ভোটদাতা দিবস
১৮৫০: অভিনেতা অর্ধেন্দু শেখর মুস্তাফির জন্ম
১৮৫৬: সমাজসেবক ও লেখক অশ্বিনীকুমার দত্তের জন্ম
১৮৭৪: ইংরেজ লেখক সামারসেট মমের জন্ম  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.৫১ টাকা ৭২.২১ টাকা
পাউন্ড ৯১.৯৮ টাকা ৯৫.৩২ টাকা
ইউরো ৭৭.৩৮ টাকা ৮০.৩৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪০,৭১০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৮,৬২৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৯,২০৫ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৬,৪০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৬,৫০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫৫/২৪ রাত্রি ৪/৩২। শ্রবণা ৫৫/৩৩ রাত্রি ৪/৩৬। সূ উ ৬/২২/৭, অ ৫/১৫/৩১, অমৃতযোগ দিবা ১০/০ গতে ১২/৫৩ মধ্যে। রাত্রি ৭/৫২ গতে ১০/৩০ মধ্যে পুনঃ ১২/১৪ গতে ২/০ মধ্যে পুনঃ ২/৫২ গতে ৪/৩৭ মধ্যে। বারবেলা ৭/৪৩ মধ্যে পুনঃ ১/১০ গতে ২/৩২ মধ্যে পুনঃ ৩/৫৪ গতে অস্তাবধি। কালরাত্রি ৬/৫৪ মধ্যে পুনঃ ৪/৪৪ গতে উদয়াবধি। 
১০ মাঘ ১৪২৬, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার, প্রতিপদ ৫২/৪৫/৪২ রাত্রি ৩/৩১/৩১। শ্রবণা ৫৪/৮/১ শেষরাত্রি ৪/৪/২৬। সূ উ ৬/২৫/১৪, অ ৫/১৪/৮, অমৃতযোগ দিবা ৯/৫৮ গতে ১২/৫৭ মধ্যে ও রাত্রি ৭/৫৮ গতে ১০/৩৩ মধ্যে ও ১২/১৬ গতে ১/৫৮ মধ্যে ও ২/৫০ গতে ৪/৩৩ মধ্যে। কালবেলা ৭/৪৬/২১ মধ্যে ও ৩/৫৪/২ গতে ৫/১৪/৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৬/৫৪/১ মধ্যে ও ৪/৪৬/২০ গতে ৬/২৪/৫৫ মধ্যে। 
২৯ জমাদিয়ল আউয়ল  

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
পদ্মভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনহর পারিক্কর, ব্যবসায়ী আনন্দ মহিন্দ্রা ও ভেনু শ্রীনিবাসন, ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় পিভি সিন্ধু, নাগাল্যান্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এস সি জমির এবং জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুজাফ্ফর হোসেন বেগ 

09:18:00 PM

পদ্মবিভূষণ পাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অরুণ জেটলি, স্বরাজ, জর্জ ফার্ণান্ডেজ, বক্সার মেরি কম, মরিশাসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অনিরুদ্ধ জগন্নাথ 

09:13:00 PM

 পদ্মশ্রী পাচ্ছেন কঙ্গনা রানউত, একতা কাপুর, আদনান সামি এবং করণ জোহর

09:07:04 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
জোহানেসবার্গ টেস্ট চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের অপরাধে ইংল্যান্ডের খেলোয়ার বেন ...বিশদ

08:05:00 PM

ম্যাচ চলাকালীন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার, ম্যাচ ফি কাটা হল বেন স্টোকসের
আজ সিএএ, এনআরসি ইস্যু নিয়ে দলীয় বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ...বিশদ

06:32:00 PM

আলিপুরদুয়ারে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ সহ গ্রেপ্তার ২ 

03:32:34 PM