Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

একশো পঁচিশে সংসদের বাঙালি পণ্ডিত
হারাধন চৌধুরী

কাটমানি আর ব্ল্যাকমানির তরজায় দেশের রাজনীতি আজ বিপন্নপ্রায়। রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধা ও আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষের, বিশেষত শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের। এ লক্ষণ সুখের নয়—মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য—কারও জন্যই নয়। উপযুক্ত নেতার সঙ্কট উপস্থিত হলেই দেশ এমন দুঃসময়ে পতিত হয়। স্বাধীনতাসংগ্রামের কাল, অর্থাৎ উনবিংশ-বিংশ শতকেই ভারতের রাজনীতির স্বর্ণযুগ গিয়েছে। শুধু মানুষের জন্য রাজনীতি কাকে বলে তা নিজেদের জীবন দিয়ে দেখিয়ে গিয়েছেন সে-যুগের বহু রাজনীতিক। ধ্রুব আদর্শের সুরে জীবনকে পরিচালিত করা সেই মানুষগুলিকে পরবর্তীকাল প্রণম্য মনীষী হিসেবে মেনে নিয়েছিল। সময়ের দাবি ছিল, স্বাধীন ভারত তাঁদেরই দেখানো পথে উন্নতির শিখর স্পর্শ করবে। কিন্তু, কথার খেলাপ-করা যে-জাতির মজ্জাগত, যে-জাতি ইতিহাসবিস্মৃত হিসেবেই খ্যাত, তার পক্ষে বিচ্যুতি বিস্ময়ের নয়। তবু প্রত্যাশা ছিল যে ভারতের রাজনীতি দ্রুত ভুল বুঝবে এবং নিজেকে শুধরে নেবে। কিন্তু, বাস্তবে তা হয়নি। তাই পঞ্চায়েত/পুরসভা থেকে বিধানসভা এবং সংসদ অবধি দীনতার ছাপ প্রকট হয়ে উঠেছে। অর্থলোভী ক্ষমতালোভী উচ্ছিষ্টলোভী আয়ারাম গয়ারামদেরই বিজয়নিশান পত পত করে উড়ছে! এটাকে নিজেদের ভাগ্য বলে মেনে নিয়ে যে যার ঘরে খিল এঁটে দিয়ে নিরাপদ থাকার কথা ভাবছি অনেকে। কিন্তু, এইভাবে সত্যিই কি ভালো থাকা সম্ভব? না। দেশের রাজনীতিকে রাজনীতির সংজ্ঞায় ফিরতে বাধ্য করাটা আমাদেরই দায়িত্ব। তার জন্য শিক্ষা নিতে হবে ইতিহাস এবং ঐতিহাসিক চরিত্রগুলি থেকে। তাঁদের অনেকেই আজ বিস্মৃতপ্রায় যদিও। স্মৃতির সরণি বেয়েই তাঁদের হাজির করতে হবে আজকের প্রেরণাহীন প্রেক্ষাপটে। তেমনই একজন প্রাসঙ্গিক পুরুষ হলেন পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র—ভারতের স্বাধীনতার গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক।
এবার পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্রের জন্মের ১২৫ বছর। ১৮৯৫ সালের ২৩ জুলাই পূর্ববঙ্গে পদ্মাপারের নারায়ণগঞ্জে তাঁর জন্ম। ১৯৫৩ সালের ২৫ জুলাই তাঁর মৃত্যু হয়। আর দু’দিন বাদে তাঁর প্রয়াণের ৬৭ বছর।
কে এই পণ্ডিত মৈত্র?
ভারতের সংসদে বাগ্মী হিসেবে তিনজন পণ্ডিত সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন—পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য এবং পণ্ডিত লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র। এই তিন পণ্ডিতের যেদিন ভাষণ থাকত সেদিন সংসদের চেহারা সর্বার্থে ঐতিহাসিক হয়ে উঠত। পণ্ডিত মৈত্র বয়সে নেতাজি সুভাষচন্দ্রের চেয়ে বছর দেড়েকের এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চেয়ে বছর ছয়ের বড় ছিলেন। দেশবরেণ্য এই দু’জনের সঙ্গেই তাঁর সখ্য ছিল উল্লেখযোগ্য। বিশেষ সম্পর্ক ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গান্ধীজি, সর্দার প্যাটেল, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু, মেঘনাদ সাহা, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষের সঙ্গেও।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ম্যাকডোনাল্ড ভারতকে সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভাঙার প্রস্তাব দিলেন। বাঁটোয়ারার চক্রান্ত মেনে নেওয়া নিয়ে কংগ্রেসের ভিতরে তখন দোলাচল—কংগ্রেস না-পক্ষে, না-বিপক্ষে! কংগ্রেস তখন কোনও রাজনৈতিক দল নয়, ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনের প্রধান মঞ্চ। তার ভিতরে ভবিষ্যতের সমাজবাদী, কমিউনিস্ট, কট্টর মুসলিম, কট্টর হিন্দু, মধ্যপন্থী সকলেই। কংগ্রেসের এই দোলাচলের ভিতরে মদনমোহন মালব্যরা ‘কংগ্রেস জাতীয় দল’ নামে একটি উপদল গড়েছিলেন। যাঁরা ভারতের অখণ্ডতার পক্ষে। ১৯৩৬ সালের নির্বাচনে সারা বাংলা থেকে কংগ্রেসের একজনমাত্র অফিসিয়াল প্রার্থী জয়ী হন। অন্যদিকে কংগ্রেসের বাকিরা পরাজিত হয়েছিলেন মালব্যের প্রার্থীদের কাছে। জয়ীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের ঘনিষ্ঠ পণ্ডিত মৈত্র।
লক্ষ্মীকান্ত অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। রসায়ন, ইংরেজি, সংস্কৃত, দর্শন ও আইন শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অগাধ। শৈশব বাল্য কৈশোর এবং যৌবনের সন্ধিক্ষণ কেটেছিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন ঢাকার সরকারি জগন্নাথ কলেজে, কলকাতায় প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইন কলেজে। ছিলেন দুঁদে আইনজীবী। তাঁর খ্যাতি কৃষ্ণনগরের গণ্ডি পেরিয়ে কলকাতা ও দিল্লিতে ব্যাপ্ত হয়। তিনি ফেডারেল কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে আচমকা আইন পেশা থেকে সরে আসেন। স্বাধীনতা পূর্ব এবং স্বাধীনতা উত্তর ভারতের আইনসভা তাঁর ক্ষুরধার বাগ্মিতায় ঋদ্ধ হয়েছে। তাঁর বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রয়েছে স্বাধীন ভারতের জন্য প্রণীত সংবিধানে এবং শিক্ষা, খাদ্য, লবণ, স্বাস্থ্য, রেল, সড়ক ও পরিবহণ, ডাক ও তার, টেলিফোন প্রভৃতি বিষয়ক সেকালের সংসদীয় কমিটিগুলিতে। তৎকালীন বেঙ্গালোরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের পরিচালন পরিষদ, সেন্ট্রাল অ্যাডভাইজারি বোর্ড অফ এডুকেশন, দিল্লি ইউনিভার্সিটি কোর্ট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট, অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল অফ টেকনিক্যাল এডুকেশনসহ একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। রিহ্যাবিলিটেশন ফিনান্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তিনি ছিলেন প্রথম চেয়ারম্যান।
ধর্ম সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে ভারতভাগের বিরুদ্ধে তিনি বার বার সোচ্চার হয়েছেন। দেশভাগ অনিবার্য হয়ে উঠলে পূর্ববঙ্গ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের দুর্দশা তাঁকে যন্ত্রণাকাতর করে তুলেছিল। শরণার্থীদের পুনর্বাসনের সমস্ত উদ্যোগে তাঁকে শামিল হতে দেখা গিয়েছে। বাঙালি শরণার্থীদের প্রতি বঞ্চনা বৈষম্যের প্রতিবাদ জানাতে লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র তাঁর দলের প্রধানমন্ত্রী নেহরুকে তুলোধনা করতেও কখনও ভয় পাননি। ১৯৪৮ সালের ১ মার্চ লোকসভায় অর্থ বিলের উপর ভাষণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘‘তাঁদের (পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত উদ্বাস্তু) সম্পর্কে এখানে কেউ কিছু বলে না। কারণ তাঁদের দুর্দশা সম্পর্কে এখানে কোনও প্রচার নেই। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের হিন্দুদের অবস্থা এমনই যে সেখানে তাঁদের আত্মসম্মান নিয়ে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ... অর্থ বিলে পশ্চিম পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থেকে আগত উদ্বাস্তুদের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু, পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা মানুষের জন্য কোনও বরাদ্দ নেই! অর্থ বিলে ‘বাস্তুহারা’ কথাটির যে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আগত মানুষগুলি তার বাইরে কি না পরিষ্কার জানতে চাই। ... এই সভার জানা দরকার যে পূর্ব পাকিস্তানে যে ১ কোটি ২০ লক্ষ হিন্দু আছেন তাঁরাও আমাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রাম করেছেন। দেশকে স্বাধীন করার জন্য তাঁরাও বিপুল ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অথচ, আজ তাঁরা নৈরাশ্যের সঙ্গে দেখছেন যে দেশের একটা অংশের মানুষ স্বাধীনতার মুক্ত হাওয়ায় শ্বাস নিচ্ছেন আর অন্য অংশের মানুষ আঘাত অপমান নিপীড়ন ভোগ করছেন।’’
নেহরু মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেদিন এই বক্তৃতা মন দিয়ে শুনেছিলেন। আমরা জানি, পরে শ্যামাপ্রসাদ পূর্ব পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর অবর্ণনীয় দুর্দশার প্রতিবাদ জানিয়ে মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন। কলকাতায় ফিরে শরণার্থীত্রাণে ঝাঁপিয়ে পড়লে লক্ষ্মীকান্তও তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যুতে তিনি এতটাই আঘাত পান যে তার মাত্র একমাস পরই লক্ষ্মীকান্তের মৃত্যু হয়।
কংগ্রেসে সুভাষ-বিরোধী চক্রান্তের কট্টর সমালোচক ছিলেন লক্ষ্মীকান্ত মৈত্র। সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস ছেড়ে আসার পর তাঁর প্রস্তাবিত দলের নাম ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ রাখার পরামর্শ লক্ষ্মীকান্তই দিয়েছিলেন। কংগ্রেসের মধ্যে যাঁরা প্রগতিশীল তাঁরাই নেতাজির নতুন দলে আসবেন ধরে নিয়ে তিনি ওইরকম নাম দিয়েছিলেন। জেলের ভিতর থেকে গভর্নরের উদ্দেশে লেখা নেতাজির ‘শেষ চিঠি’তেও লক্ষ্মীকান্ত মৈত্রের প্রস্তাবের উল্লেখ রয়েছে।
জন্ম পূর্ববঙ্গে হলেও পিতৃসূত্রে তিনি শান্তিপুরের ছেলে। সমাজসংস্কারে তাঁর ভূমিকা ছিল বিরাট। স্থানীয় এলাকার শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশে তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। তাঁর অবদান নদীয়া জেলাবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে আরও একটি কারণে। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা ঘোষিত হলে নদীয়া জেলার একাংশে (যেমন শান্তিপুর, কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ প্রভৃতি) পাকিস্তানের পতাকা উড়েছিল! আজকের নদীয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পাকিস্তানের ভাগে পড়েছিল। পণ্ডিত মৈত্র তা মেনে নিতে পারেননি। এই অন্যায় সিদ্ধান্ত রদের দাবি নিয়ে তিনি একাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলিষ্ঠভাবে দরবার করেছিলেন। সারা দেশ দেখল, দ্রুততার সঙ্গে নদীয়ার আলোচ্যমান অংশটি ভারতভুক্ত হয়ে গেল। সেই অনুযায়ী ১৮ আগস্ট শান্তিপুরসহ বাকি অংশে ভারতের জাতীয় পতাকা ওঠে।
১৯৪৯ সালের ১৮ নভেম্বর ভারতের সংবিধান চূড়ান্তরূপে গৃহীত হওয়ার দিন পণ্ডিত মৈত্র গণপরিষদের অধিবেশনে এক স্মরণীয় ভাষণ দেন। তার এক জায়গায় তিনি বলেছিলেন, ‘‘এই সংবিধান আমাদের লিবার্টি সুনিশ্চিত করেছে, কিন্তু লিবার্টিকে লাইসেন্সে পরিণত করার পথ বন্ধ করেছি। আজ আমাদের আত্মবিশ্নেষণ আত্মপরীক্ষার সময়। আজই, এখন থেকেই, এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যাতে সংবিধানে দেওয়া ব্যবস্থাগুলি কার্যকর করা যায়। যেমন আমরা প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার দিয়েছি। কিন্তু অশিক্ষা দূর না-হলে এই ভোটাধিকার আশীর্বাদের পরিবর্তে অভিশাপ হয়ে উঠবে।’’
পণ্ডিত মৈত্রের জন্মের এই পুণ্য মুহূর্তে ভাবতে হচ্ছে না কি তাঁর দূরদর্শিতা কতখানি ছিল! ভোটসর্বস্ব সংকীর্ণ রাজনীতিতেই আমাদের সমাজজীবন অভিশপ্ত হয়ে উঠছে না কি?
23rd  July, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
বিএনএ, আসানসোল: ডিসেম্বরের শুরুতে জাঁকিয়ে শীত না পড়লেও দুর্গাপুর ব্যারেজ সহ চিত্তরঞ্জনের নানা ঝিল ও মাইথন জলাধারে পরিযায়ী পাখির দল ভিড় জমাতে শুরু করেছে। বেশ কয়েক বছর আগে পরিযায়ী পাখির আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও ফের তাদের সংখ্যা বাড়ছে।   ...

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গণে অস্থায়ীভাবে ক্রিকেট পিচ করা হল। শহরের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্যই অস্থায়ীভাবে এই পিচ করেছে শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদ। স্টেডিয়াম থেকে ক্রিকেট খেলা চাঁদমনির মাঠে স্থানান্তর করার পর অনেক অসুবিধায় পড়তে হয় শিলিগুড়ি ক্রিকেট খেলোয়াড়দের।   ...

ফতেপুর, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): উত্তরপ্রদেশে একের পর এক ধর্ষণ এবং সেই সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবার সেই রাজ্যের ফতেপুর জেলার জাফরগঞ্জে ১৬ বছরের এক ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিল অভিযুক্তদের পরিবার। শীর্ষস্থানীয় পুলিস অফিসারদের কাছে ওই নাবালিকা এমনটাই অভিযোগ ...

বিএনএ, রায়গঞ্জ: কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপর্যয়ের পর উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব, লোকসভা নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের সমর্থন কয়েক মাসের মধ্যে অনেকটা হারিয়ে ফেলায় কার্যত দিশেহারা গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্ব।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১১: রদ হল বঙ্গভঙ্গ
১৯১১: নতুন রাজ্য হল বিহার ও ওড়িশা
১৯১১: কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল দিল্লিতে
১৯৫০: অভিনেতা রজনীকান্তের জন্ম
১৯৫৭: পূর্ব রেলে ইএমইউ ট্রেনযাত্রা চালু
২০০৫: পরিচালক রামানন্দ সাগরের মূত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৪ টাকা ৭১.৭৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৭ টাকা ৯৪.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৫ টাকা ৮০.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/১৯ দিবা ১০/৪২। রোহিণী ০/২৮ দিবা ৬/২২। সূ উ ৬/১০/৪৫, অ ৪/৪৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪১ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৯ গতে ১/৯ মধ্যে।
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/৫৬/৫১ দিবা ১০/৫৯/৫। রোহিণী ২/৩৮/১৪ দিবা ৭/১৫/৩৯, সূ উ ৬/১২/২১, অ ৪/৪৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/২৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৪/৩৩ গতে ৬/১৩ মধ্যে, কালবেলা ২/১০/২১ গতে ৩/৩০/১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/১ গতে ১/১১/২১ মধ্যে।
১৪ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

04:54:33 PM

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে গ্রেপ্তার যুব কং কর্মীরা 
ই-মলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হল যুব কং কর্মীদের। আজ, ...বিশদ

04:43:00 PM

সেক্টর ফাইভে ভুয়ো ডেটিং সাইট খুলে প্রতারণা, মুম্বইতে গ্রেপ্তার ৩ অভিযুক্ত 

04:26:00 PM

১৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:01:36 PM

 অনশন উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের
 অবশেষে উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন। টানা ৩২ দিন ধরে আন্দোলন, যার ...বিশদ

04:00:00 PM

ক্যাব ইস্যুতে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে ব্যাপক বিক্ষোভ এলাকাবাসীদের 

03:34:21 PM