Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

কৃষির সঙ্কট কি নির্বাচনী ইস্যু ছিল না? 
শান্তনু বসু

নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয়বার লোকসভা নির্বাচন মোকাবিলায় নামার কিছু আগে সংবাদ মাধ্যমের একাংশের বক্তব্য ছিল, ‘‘খরকবলিত মারাঠাওয়াড়ার কৃষকরা মোদিকে আর একটি সুযোগ দিতে চান।’’ কিংবা একটি প্রখ্যাত ইংরেজি দৈনিক নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পরও লিখল, ‘‘নির্বাচনোত্তর সমীক্ষা: কৃষকদের সমস্যাগুলি এবার ভোটে প্রধান বিবেচ্য হয়ে ওঠেনি।’’ আবার এই প্রতিবেদনের সঙ্গে যে ছবিটি দেওয়া হয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে সারি সারি মহিলা বিশেষ করে মায়েরা, স্ত্রীয়েরা তাঁদের প্রিয়তমের ছবি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অথবা শতমাইলব্যাপী কৃষক লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ কৃষকেরা আত্মহত্যা করার পর সেই ফটোগুলি গণমাধ্যমে ভেসে উঠলেও গণমাধ্যমেরই একাংশ দাবি করছে যে কৃষির সংকট নির্বাচনের মূল ইস্যু ছিল না! ভারতের ৬০-৬৫ শতাংশ মানুষ কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। এখানে জিডিপি বহুলাংশে নির্ধারিত হয় কৃষিউৎপাদনের ভিত্তিতে। আর সেই কৃষিব্যবস্থাই তীব্র সংকটে। এই বিপদের কথা ভারতে তো বটেই গোটা বিশ্বেও আলোচিত হচ্ছে। আর একটি মহল থেকে বলা হচ্ছে যে সেটা নাকি ভারতে নির্বাচনের ইস্যু হয়নি! ব্যাপারটি বড় বিস্ময়কর নয় কি? স্বভাবতই গুরুত্ব হারাচ্ছে কৃষির এই তীব্র সংকটের কারণ নির্ধারণের বিষয়টি। এটাই পরিতাপের।
নামী গবেষণা সংস্থা লোকনীতি বলেছে, ‘‘The majority of farmers didn’t vote or issues that concern them most.’’ যেটা কৃষকের জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ সেটাই যদি নির্বাচনের ইস্যু না-হয় তাহলে প্রশ্ন থাকে নির্বাচনী ইস্যু কাকে বলে। এবারের লোকসভা নির্বাচনটা কি তাহলে কোনও ইস্যু ছাড়াই হল? মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়ার নান্দেদ, বিদ সহ আটটি জেলার ৭৬টি তালুকের ৫ হাজারের বেশি গ্রামে ভূগর্ভস্থ জলস্তর সাংঘাতিকভাবে নেমে গিয়েছে। বিদের যে কোথায় জল আছে এবং সেখানে কীভাবে ট্যাঙ্কার পাঠানো হবে সেটা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গত অক্টোবর থেকেই ১৪ হাজার গ্রামের জলস্তর নামতে থাকে। গোটা মারাঠাওয়াড়ায় সাধারণভাবে দেশান্তরী শ্রমিকের সংখ্যা থাকে প্রায় আট লক্ষ। এঁরা মূলত বিদ, আহমেদনগর, নাসিক থেকে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশের চিনিকলগুলিতে কাজ করবার জন্য যান। এবার তাঁদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কারণ খরা এতটাই তীব্র যে নিজেদের গ্রামে তাঁরা কোনও কাজ পাচ্ছেন না। অথচ, গত বছরই চিনিকল শ্রমিক পাওয়াটা ছিল নিদারুণ সমস্যার। এ বছরই বন্যার মতো ভুখা শ্রমিকের মিছিল চিনিকলগুলিতে।
বিদের গিওরাই তালুকের ৯০ শতাংশ কর্মক্ষম মানুষ গ্রাম ছেড়েছেন। জালনার ভোকরদান তালুক থেকে ট্রাকভর্তি শ্রমিকেরা কাজের খোঁজে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ঔরঙ্গবাদের খুলতাবাদ তালুকের বেশ কিছু কর্মহীন মানুষ মহারাষ্ট্র শিল্প উন্নয়ন নিগমে সাময়িক বা অস্থায়ী শ্রমিকের কাজ নিয়েছেন। কানাড়াগাঁও এবং মহম্মদপুর গ্রামের শ্রমিকেরা ওয়ালুজ শিল্প উন্নয়ন নিগমে কাজ নিয়েছেন। তাও অস্থায়ী। সুদূর মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়াতে রোহিলাগড় গ্রামের ৪০ বছরের চাষি বিলাস টাকলে তাঁর ৪০০টি মিষ্টি মোসাম্বি লেবু গাছে জল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। জালনা জেলাতে এই কৃষকের ৩০ একরের উপর তুলো চাষের জমি ছিল। তাঁর ৫৫০টি মোসাম্বি লেবুর গাছ এবং ১১৫০টি বেদানার গাছ ছিল। কিন্তু ২০১৮-র খরার পর থেকে এইসব ফলের গাছ পরিচর্যা করার আর কোনও উপায় তাঁর ছিল না। আরও এক মরিয়া চাষি প্রহ্লাদ পাতিল তার মুমূর্ষু অবস্থা বোঝাতে গিয়ে এক অত্যন্ত করুণ গল্পের অবতারণা করেছেন। এক বাঁদর তার একটি বাচ্চাকে নিয়ে নদী পেরচ্ছিল। বাচ্চাটিকে মাথায় নিয়ে নদীতে সাঁতার দিচ্ছিল। সবাই অবাক। ওঠার সময় বাঁদরটি সেই বাচ্চাটিকে পাড়ে তুলে আনার পরিবর্তে জলেই ফেলে দিল! লোকজনের অনুমান, বাঁদরটি হয়তো ভেবেছিল যদি বাচ্চাটি বেঁচে থাকে তাহলে হয়তো তার আরও একটি বাচ্চা হতে পারে। টাকলে নামে এক কৃষকের অবস্থা বোঝাতে গিয়ে পাতিল বলছেন, ২০০৪ সালে টাকলে অনেকগুলি জলের ট্যাঙ্কার কিনেছিলেন। সেগুলিতে করে ২০ কিলোমিটার দূর থেকে জল নিয়ে এসে তাঁর জমিতে জলসেচ করতেন। অর্থাৎ যদি তিনি জলসেচটুকু করতে পারেন তবে হয়তো তিনি বেঁচে যাবেন।
মরাঠাওয়াড়া রোহিলাগড়ের তুলোচাষ এবছর দারুণভাবে মার খায়। টাকলে বলছেন, যদি টাকাই না-থাকে তাহলে তোমার জলও থাকবে না। জালনা জেলার রোহিলাগড়ের আম্বাদ তালুক গোটা ভারতে মোসাম্বি লেবু চাষের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু এখন সেগুলি শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে গিয়েছে, যা আর কিছুদিনের মধ্যেই জ্বালানির জন্য কেটে ফেলা হবে। কিছু কৃষক অত্যন্ত চড়া সুদে মহাজনের কাছ থেকে ঋণ করে জলসেচ করে যাচ্ছেন কিছু গাছে। এই আশায় যে যদি আগামী বছর সেখানে কিছু ফল ধরে। রোজ চাষিরা নিজেদের আলোচনায় এটাই বলতে থাকেন যে তাঁরা কীভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছেন!
রোহিলাগড়ের প্রথম বেদানা চাষি আড়াই লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে আড়াই হাজার গাছ রুয়েছিলেন। তাঁকে রোজ ৯ হাজার টাকার জলসেচ দিতে হতো। কিন্তু জলসেচের পরেও ফলন হবে এমন কোনও নিশ্চয়তা ছিল না। তিনি বলেছেন, মাসের শেষ হলে জলও শুকিয়ে যায়, টাকাও শেষ হয়ে যায়। মধ্য মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়া অঞ্চলের আটটি জেলা ২০১২-১৩ সাল থেকে উপর্যুপরি খরায় জ্বলে যাচ্ছে। গান্ধীনগর আইআইটির গবেষকেরা দেখিয়েছেন, গোটা দেশের ৪১ শতাংশ অঞ্চল খরায় জ্বলছে।
নান্দেদ শহর থেকে ৩১ কিলোমিটার দূরের সায়েল গ্রামের সমস্ত নলকূপ গত পাঁচবছর ধরে শুকিয়ে গিয়েছে। শুকিয়ে গিয়েছে কুয়োও। প্রায় ৪০০ ফুট খুঁড়ে নলকূপ বসানোর কাজ চলছে। এখান থেকে তিন কিমি দূরে কিছুটা জলের খোঁজ আছে। সব বয়সি মহিলাকে সেখানে যেতে হয় জলের জন্য। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এক কিশোরী জল আনতে গিয়ে কড়া রোদে অজ্ঞান হয়ে যায়। তার জ্ঞান আর ফেরেনি। ট্যাঙ্কার দিয়ে জল দেওয়া হচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেগুলি খাওয়ার অযোগ্য। রান্নার জন্য বেশি দামে জল কিনতে হচ্ছে। তীব্র গরমে সমস্ত জলাধার শুকিয়ে গিয়েছে। কৃষকরা প্রশ্ন করছেন, এর পর কী? দু’-তিনদিন অন্তর স্নান। গোখাদ্যের নিদারুণ অভাব। মাসাধিক কাল যাবৎ গবাদি পশুদেরও স্নান নেই। জল টেনে আনার কারণে মহিলাদের শিরদাঁড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা। মারাঠাওয়াড়ার জলচিত্র এককথায় নিষ্ঠুর। কিন্তু, সব ছাপিয়ে আরও একটি ঘটনা। তীব্র খরাতেও বিদ থেকে পারভানি যাওয়ার পথে অন্তত ২০০ বছরের পুরনো কয়েকশো বটগাছ কেটে ফেলা হচ্ছে, শুধু রাস্তা চওড়া করার জন্য! কিন্তু কৃষির সংকট বা খরা কোনোটিই মারাঠাওয়াড়ার নির্বাচনী ফলাফলকে প্রভাবিত করেনি!
নান্দেদ লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী প্রতাপ রাও পাতিল ছিকালিকার জিতেছেন। অথচ, অনেকেরই ধারণা ছিল, এখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক চ্যবন জিতে যাবেন। ২০১৭ সালেই নান্দেদ ওয়াঘালা পুর নির্বাচনে অশোক চ্যবন জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। হিঙ্গোলিতেও শিবসেনা-বিজেপি জোট জয়লাভ করে। একমাত্র ঔরঙ্গাবাদেই প্রকাশ আম্বেদকরের সংগঠনের প্রার্থী সেনা বিজেপিকে হারায়। কিন্তু ব্যবধান ছিল মাত্র ছ’হাজারের। ২০১৮-র আগস্টে এই ঔরঙ্গাবাদেই মারাঠা এবং দলিতদের মধ্যেই তীব্র দাঙ্গা বেধে গিয়েছিল। ওসমানাবাদ এবং পারভানিতেও বিরোধীরা জিততে পারেনি। বিদ এবং জালনাতেও বিজেপি প্রার্থীরা তাঁদের জয়কে অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।
কাজেই প্রশ্ন হচ্ছে, জলের অভাবে কৃষিজমি ফুটিফাটা হয়ে গেলেও এইসব অঞ্চলে অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ভোট শক্তিশালী হওয়ার কথা। কিন্তু হচ্ছে প্রো-ইনকাম্বেন্সি ভোট! অস্বীকার করার উপায় নেই যে কেন্দ্রীয় সরকার পিএম কিষাণ সম্মান, পিএম আশা, ফসল বিমা যোজনা, কৃষিঋণ মকুব, কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি নগদ অর্থপ্রদান সহ অনেকগুলি কৃষকমুখী কর্মসূচি নিয়েছিল। এবারের ভোটে তারই প্রতিফলন দেখা গেল কি? কিন্তু খরাক্লিষ্ট কৃষকদের অভিজ্ঞতা অন্যকথা বলছে।
মারাঠাওয়াড়ার হাতনুরের কৃষক রামচন্দ্র কলের কথাই ধরা যাক। কেন্দ্রের ডিজিটাল ইন্ডিয়া স্লোগান তাঁর কাছে নিরর্থক। কৃষক পান্ধারিনাথ বির্ভের কথায়, ৭৫ শতাংশ কৃষক অনলাইন ফর্মফিলাপ করতে গিয়ে চরম নাজেহাল হচ্ছেন। ঋণমকুবের দরখাস্ত পূরণ করবার জন্য নিকটবর্তী সেবাকেন্দ্রে, যেটা অন্তত সাত কিমি দূরে, তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে দিনে চারবার ছোটাছুটি করতে হয়। কারণ আধার কার্ডের সঙ্গে তাঁদের আঙুলের ছাপের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রতিদিন অন্তত ৪০০ দরখাস্তকারী সেবাকেন্দ্রে ভিড় করায় হয় কম্পিউটার হ্যাং হয়ে গিয়েছিল অথবা সার্ভার কাজ করছিল না। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিমতো প্রতি মাসে দু’হাজার টাকাও তাঁরা পাননি।
এতদ্‌সত্ত্বেও খরাপীড়িত মারাঠাওয়াড়া থেকে বিজেপি জয়কে অক্ষুণ্ণ রেখে দিয়েছে! পলসওয়ারি গ্রামে (খুলদাবাদ তহসিল) প্রায় ৪০০ কৃষকের ব্যাঙ্কে ২০০০ করে টাকা ঢুকলেও কৃষি দপ্তর থেকে পাঠানো অ্যাকাউন্ট নম্বর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে না-মেলায় তাঁরা টাকাই তুলতে পারেনি। এরকম উদাহরণ অগুনতি। মূল কথা হচ্ছে, এসব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী মোদিজির দলের বিজয়রথ অব্যাহত। কিন্তু যে প্রশ্নটা অনিবার্যভাবে ওঠে, তা হল, নির্বাচনে ঠিক কোনটা মূল ইস্যু ছিল? কথাগুলি এই মরশুমেরও তীব্র খরা আর-একবার প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
 লেখক মালদহের চাঁচল কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক 
25th  July, 2019
৫, ১০, ২০ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে
পি চিদম্বরম

রাজ্যসভায় ২০১৯-২০ বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বলেছিলাম, ‘‘যদি জিডিপির স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১২ শতাংশ হয় তবে প্রতি ছ’বছরে জিডিপির আকারটা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। আর বৃদ্ধির হারটা যদি নমিনাল ১১ শতাংশ হয় তবে জিডিপি দ্বিগুণ হতে সময় নেবে সাত বছর।
বিশদ

২১ জুলাই সমাবেশ: মমতা কী বার্তা দেন জানতে উৎসুক বাংলা
শুভা দত্ত

ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিনটিতে বড়সড় সমাবেশের আয়োজন করে তাঁর প্রয়াত সহযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
বিশদ

21st  July, 2019
ছোটদের বড় করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে
পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়

সব থেকে ভালো হয়, যদি আপনার ‘বাছা’কে নিজের মতো বেড়ে উঠতে দেন। আনন্দে বেড়ে উঠুক। আলো চিনিয়ে দিন, অন্ধকার চিনিয়ে দিন। লক্ষ্য রাখুন, ঠিকঠাক এগচ্ছে কি না! সামনে পিছনে কত ফাঁদ, চোরাবালি। আপনিই ঈশ্বর, ওকে রক্ষা করুন। ছোটদের ‘বড়’ করতে হলে আগে শুধরাতে হবে নিজেকে। দয়া করে ওর উপর মাতব্বরি করবেন না, হ্যাঁ আমরা মাতব্বরিই করি।
বিশদ

20th  July, 2019
জন্ম এবং মৃত্যুর দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ
শুভময় মৈত্র

সম্প্রতি অকস্মাৎ আমার একটি বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। এই উপলক্ষে জগতে সকলের চেয়ে পরিচিত যে মৃত্যু তার সঙ্গে আর-একবার নূতন পরিচয় হল। জগৎটা গায়ের চামড়ার মতো আঁকড়ে ধরেছিল, মাঝখানে কোনো ফাঁক ছিল না। মৃত্যু যখন প্রত্যক্ষ হল তখন সেই জগৎটা যেন কিছু দূরে চলে গেল, আমার সঙ্গে আর যেন সে অত্যন্ত সংলগ্ন হয়ে রইল না।
——— রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বিশদ

20th  July, 2019
অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

 মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’ সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল।
বিশদ

19th  July, 2019
বাঙালির যে সংস্কৃতি হারিয়ে গেল
জিষ্ণু বসু

ইদানীং রাজ্যে একটা গেল গেল রব শোনা যাচ্ছে। বাঙালি তার সংস্কৃতি হারাচ্ছে। বিজেপি ও আরএসএসের দৌরাত্ম্যে বাংলা যে চেহারা নিচ্ছে সেটা এ রাজ্যের সংস্কৃতির পরিপন্থী। বাঙালি বড়জোর ‘জয়দুর্গা’ বলতে পারে, কিন্তু ‘জয় শ্রীরাম’ বলার প্রশ্নই ওঠে না।
বিশদ

18th  July, 2019
পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। 
বিশদ

16th  July, 2019
মোদি সরকারের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি দেশকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে
তরুণকান্তি নস্কর

নয়া শিক্ষানীতির কেন্দ্রবিন্দুই হল এই ভারতীয়ত্বের নাম করে মধ্যযুগীয় বাতিল চিন্তা ভাবনার জাবর কাটার প্রচেষ্টা। পঞ্চতন্ত্র, জাতক, হিতোপদেশের গল্পকে তাঁরা স্কুল পাঠ্য করতে চাইছেন, সংস্কৃত শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন অথচ ইংরেজি ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন। পাঠ্যতালিকায় বহু ব্যক্তির জীবনীচর্চার উল্লেখ আছে, কিন্তু সেই তালিকায় ভারতীয় নবজাগরণের পথিকৃৎ রামমোহন ও বিদ্যাসাগরের নাম সযত্নে বাদ দেওয়া হয়েছে। রামমোহন-বিদ্যাসাগরই যে এদেশে প্রথম ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাতিল করে আধুনিক শিক্ষা প্রচলনের জন্য লড়াই করেছিলেন তা কারোর অজানা নয়। ভারতীয় নবজাগরণের এই মনীষীরা যে আরএসএস-বিজেপির চক্ষুশূল তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।
বিশদ

15th  July, 2019
সাত শতাংশ বৃদ্ধির ফাঁদে
পি চিদম্বরম

 কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটগুলির মধ্যে ২০১৯-২০ সালের বাজেট স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত জট খুলল। মানুষের মধ্যে এই বাজেট নিয়ে কিংবা আগের বাজেট প্রস্তাবটি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই। অতিশয় ধনীরা (সুপার রিচ ৬৪৬৭) বিরক্ত, তবুও ভয়ে স্পিকটি নট। ধনীদের স্বস্তি এখানেই যে তাঁদের রেয়াত করা হয়ে থাকে।
বিশদ

15th  July, 2019
একটু ভাবুন
শুভা দত্ত

 বিশ্বের চারদিক থেকে পানীয় জল নিয়ে গুরুতর অশনিসংকেত আসার পরও আমাদের এই কলকাতা শহরে তো বটেই, গোটা রাজ্যেই প্রতিদিন বিশাল পরিমাণ জল অপচয় হয়। আপাতত বেশিরভাগ জায়গায় জলের জোগান স্বাভাবিক আছে বলে সেটা গায়ে লাগছে না। তাই এখনও আসন্ন মহাবিপদের কথাটা ভাবছেন খুব সামান্যজনই। বাদবাকিরা এখনও নির্বিকার, ভয়ডরহীন—দু’জনের সংসারে আড়াই-তিন হাজার লিটার শেষ করে দিচ্ছে দিনে, বাড়ি গাড়ি ধোয়া চালাচ্ছে কর্পোরেশনের পানীয় জলে! আহাম্মক আর কাকে বলে।
বিশদ

14th  July, 2019
বেনোজলের রাজনীতি
তন্ময় মল্লিক

জেলায় জেলায় নব্যদের নিয়ে বিজেপির আদিদের ক্ষোভ রয়েছে। আর এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ যোগদানকারীদের বেশিরভাগই এক সময় হয় সিপিএমের হার্মাদ বাহিনীর সদস্য ছিলেন, অথবা তৃণমূলের ‘কাটমানি নেতা’। তাই এই সব নেতাকে নিয়ে স্বচ্ছ রাজনীতির স্লোগান মানুষ বিশ্বাস করবে না। উল্টে লোকসভা ভোটে যাঁরা নীরবে সমর্থন করেছিলেন, তাঁরা ফের নিঃশব্দেই মুখ ফিরিয়ে নেবেন।‘ফ্লোটিং ভোট’ যে মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে, সেটা বিজেপির পোড়খাওয়া নেতারা বুঝতে পারছেন। তাঁরা বলছেন, ভোটের ফল প্রকাশের পর যাঁরা আসছেন তাঁরা কেউই বিজেপির আদর্শের জন্য আসছেন না, আসছেন বাঁচার তাগিদে। কেউ কেউ লুটেপুটে খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখার আশায়।
বিশদ

13th  July, 2019
ঘোষণা ও বাস্তব
সমৃদ্ধ দত্ত

ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান একটি প্রকল্পই হল নদী সংযোগ প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন নদীকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হবে। যাতে উদ্বৃত্ত জলসম্পন্ন নদী থেকে বাড়তি জল শুকনো নদীতে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বারংবার এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। গোটা প্রকল্প রূপায়ণ করতে অন্তত ১ লক্ষ কোটি টাকা দরকার। এদিকে আবার বুলেট ট্রেন করতেও ১ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে! আধুনিক রাষ্ট্রে অবশ্যই দুটোই চাই। কিন্তু বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিচার করলে? কোনটা বেশি জরুরি? বিশদ

12th  July, 2019
একনজরে
কলম্বো, ২১ জুলাই: বিশ্বকাপের ফাইনালে ওভার থ্রোয়ে আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার ৬ রান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। তবে অবশেষে নিজের ভুল স্বীকার করলেন ধর্মসেনা। ঘনিষ্ঠ মহলে শ্রীলঙ্কার আম্পায়ারটি জানিয়েছেন, ‘ওই ওভার থ্রো-তে ৬ রান দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না। ...

 নয়াদিল্লি, ২১ জুলাই (পিটিআই): বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই অনুযায়ী নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তারা। এই প্রথম সিআরপিএফের মহিলাকর্মীদের জন্য কর্মক্ষেত্রে স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন বসতে চলেছে। ...

 ওয়াশিংটন, ২১ জুলাই (পিটিআই): ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে আসার পর থেকেই ক্রমশ ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছিল ওয়াশিংটনের। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, মূলত এই অভিযোগে তাদের সামরিক সাহায্য করাও বন্ধ করে দেয় আমেরিকা। ...

সংবাদদাতা, কালনা: নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীর বিয়ে রুখলেন স্কুলের শিক্ষিকারা। ঘটনা ঘটেছে কালনার বৈদ্যপুর রাজরাজেশ্বর বালিকা বিদ্যালয়ে। নাবালিকাকে পুলিসের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়। নাবালিকার পরিবার মেয়ের ১৮বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবে না বলে মুচলেকা দেয়।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

বিদ্যার্থীদের বেশি শ্রম দিয়ে পঠন-পাঠন করা দরকার। কোনও সংস্থায় যুক্ত হলে বিদ্যায় বিস্তৃতি ঘটবে। কর্মপ্রার্থীরা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮১৪: সাহিত্যিক প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্ম
১৮৪৭: সাহিত্যিক ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯১৮: ভারতের প্রথম যুদ্ধবিমানের পাইলট ইন্দ্রলাল রায়ের মৃত্যু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে
১৯২৩: সঙ্গীতশিল্পী মুকেশের জন্ম
১৯৪৮: চিত্রশিল্পী হেমেন্দ্র মজুমদারের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৭.৯৫ টাকা ৬৯.৬৪ টাকা
পাউন্ড ৮৪.৭৭ টাকা ৮৭.৯২ টাকা
ইউরো ৭৬.১০ টাকা ৭৯.০৪ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
20th  July, 2019
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৫,৫২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৩,৭০৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৪,২১০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪০,৫৫০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪০,৬৫০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
21st  July, 2019

দিন পঞ্জিকা

৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার, পঞ্চমী ২২/২২ দিবা ২/৪। পূর্বভাদ্রপদ ১৩/১৩ দিবা ১০/২৪। সূ উ ৫/৭/১৮, অ ৬/১৮/৩৬, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৩ মধ্যে পুনঃ ১০/২৪ গতে ১/২ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ গতে ৯/১১ মধ্যে পুনঃ ১১/২১ গতে ২/১৪ মধ্যে, বারবেলা ৬/৪৬ গতে ৮/২৫ মধ্যে পুনঃ ৩/১ গতে ৪/৪০ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২২ গতে ১১/৪৩ মধ্যে। 
৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার, পঞ্চমী ১৪/২০/৫৯ দিবা ১০/৫০/২১। পূর্বভাদ্রপদনক্ষত্র ৮/২৮/৩৩ দিবা ৮/২৯/২২, সূ উ ৫/৫/৫৭, অ ৬/২১/৩৯, অমৃতযোগ দিবা ৬/৫৬ মধ্যে ও ১০/২৪ গতে ১/০ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/৫৬ গতে ৯/৮ মধ্যে ও ১১/২০ গতে ২/১৬ মধ্যে, বারবেলা ৩/২/৪৩ গতে ৪/৪২/১১ মধ্যে, কালবেলা ৬/৪৫/২৫ গতে ৮/২৪/৫২ মধ্যে, কালরাত্রি ১০/২৩/১৬ গতে ১১/৪৩/৪৮ মধ্যে। 
১৮ জেল্কদ 

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
  সল্টলেকের বিএসএনএল-এর অফিসে আগুন
সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের বিএসএন এল-এর নোভাল সেন্টারে আগুন লেগেছে। ...বিশদ

09:50:50 PM

বরানগর জুট মিলে আগুন, অকুস্থলে দমকলের ৪টি ইঞ্জিন 

07:18:32 PM

কালিকাপুরে সোনার গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার পরিচারিকা 

06:20:00 PM

মহেশতলায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষ, আহত ৬ 
অটো এবং ৪০৭ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ছ’জন। জানা গিয়েছে, ...বিশদ

06:18:00 PM

ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী গৃহবধু 
ফুলশয্যার দিনেই আত্মঘাতী হলেন এক গৃহবধু। মৃতার নাম প্রিয়াঙ্কা সর্দার ...বিশদ

06:05:00 PM

বজবজ ফাঁড়ির কাছে পচাগলা দেহ উদ্ধার
 

পচাগলা দেহ উদ্ধার হলো বজবজ ফাঁড়ির সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় ...বিশদ

05:34:26 PM