Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন
মৃণালকান্তি দাস

১৯৫৮ সালের ২৯ জুলাই।
‘ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাক্ট’-এ সই করলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার। আনুষ্ঠানিকভাবে নাসার জন্ম হল আরও দু’মাস পর। অক্টোবরের ১ তারিখে। জন্ম হল মানবসভ্যতার আধুনিক ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের।  ‘নাসা’র জন্মের জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাশ হল বিল। বলা হল, ‘পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভিতর ও বাইরে বিমান চালনার সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে গবেষণার জন্যই গড়া হচ্ছে নাসা।’  ভাবনাটা অবশ্য অনেক আগে থেকেই ছিল। মানুষ পাঠানো হবে চাঁদে। কিন্তু দুম করে তো আর মানুষ পাঠিয়ে দেওয়া যায় না চাঁদে! তার পিঠটা (সারফেস) ঠিক কেমন,  কতটা এবড়োখেবড়ো,  তা বুঝতে ১৯৬৪ সালে চাঁদে প্রথম একটি  ‘ল্যান্ডার’  মহাকাশযান পাঠাল নাসা। এই সেই  ‘ল্যান্ডার’  মহাকাশযানের নাম  ‘রেঞ্জার-৭’। চাঁদের মাটি ছোঁয়ার আগেই মার্কিন মহাকাশযানের পিঠে চেপে চাঁদের পিঠের মোট ৪ হাজার ৩১৬টি ছবি তুলেছিল  ‘রেঞ্জার-৭’। সেই সব ছবি বিশ্লেষণ করে নাসা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল চাঁদের পিঠের কোন দিকটায় নামানো হবে মানুষ। কোন দিকে মানুষ নামালে বিপদের আশঙ্কা কম।
ঐতিহাসিক অধ্যায়ের শুরু ১৯৬১ সালে। আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি একদিন তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনকে ডাকলেন। বললেন, ‘সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে মহাকাশ জয়ের প্রতিযোগিতায় আমরা হেরে যাচ্ছি। পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করা প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক। মহাকাশে যাওয়া প্রথম জীবিত প্রাণী লাইকা। চন্দ্রাভিযানে যাওয়া প্রথম রকেটে ছিল লাল পতাকা। চাঁদের দূরপ্রান্তের ছবি যে ক্যামেরায় তোলা হয়েছে, তা-ও সোভিয়েতের। আগে সমুদ্র নিয়ন্ত্রণকারীরা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করত। আগামী দশকে মহাকাশ হয়ে উঠবে গুরুত্বপূর্ণ। যার নিয়ন্ত্রণে মহাকাশ,  পৃথিবী তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় আমরা পিছিয়ে থাকতে পারি না।’  কেনেডির এই কথায় লিন্ডন জনসন উপযুক্ত মানুষ খোঁজা শুরু করলেন। একপর্যায়ে পেয়েও গেলেন। তিনি বিজ্ঞানী ভের্নার ফন ব্রাউন। তাঁকে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার মহাকাশ কর্মসূচির  ‘গডফাদার’  বলে অভিহিত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি বাহিনীর জন্য তিনি রকেট বানিয়ে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে তিনি মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। পরে যোগ দেন নাসায়। তিনি প্রেসিডেন্ট কেনেডিকে বলেছিলেন,  মহাকাশ জয়ের লড়াইয়ে আমেরিকা তখনই বিজয়ী হতে পারবে, যখন তারা চাঁদে মানুষ পাঠাতে পারবে। মূলত এরপরই শুরু হয় চন্দ্রজয়ের প্রস্তুতি।
১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই। আমেরিকার ফ্লোরিডায় কেনেডি স্পেস সেন্টারে সেদিন দমবন্ধ করা উত্তেজনা। অজানার পথে যাত্রা শুরু করলেন তিন দুঃসাহসী অভিযাত্রী নিল আর্মস্ট্রং, এডউইন (বাজ) অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্স। লক্ষ্য চন্দ্রজয়।  ‘স্যাটার্ন ৫’  রকেটে চেপে তাঁদের বাহন মহাকাশযান অ্যাপোলো–১১। যাত্রা শুরুর পর প্রথম চারদিন পরিকল্পনা অনুযায়ীই চলছিল সবকিছু। কিন্তু চাঁদের বুকে পা রাখার মিনিট বিশেক আগে হঠাৎই পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় নভোচারীদের। এরপর একের পর এক আসতে থাকে আরও বিপত্তি। তিন মহাকাশচারীর চন্দ্রজয়ের সাক্ষী হতে গোটা দুনিয়ার নজর তখন টেলিভিশন ও রেডিওতে আটকে। এমন মুহূর্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বিজ্ঞানীদের মধ্যে যেন আতঙ্কের স্রোত বইয়ে দেয়। নিয়ন্ত্রণকক্ষ বুঝতে পারে, মহাকাশ যান ইগলের কম্পিউটার–ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। কম্পিউটারটি ঠিক সময়ে সাড়া দিতে পারছে না।
এদিকে নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় ঈগলের গতিও কমাতে পারছিলেন না আর্মস্ট্রং। তিনি বুঝতে পারেন, চাঁদের বুকে যে জায়গায় তাঁদের অবতরণের কথা, সেখান থেকে কয়েক মাইল দূরে ছিটকে পড়তে চলেছেন। বাধ্য হয়েই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বন্ধ করে ইগলের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন আর্মস্ট্রং। এরপর অবতরণের নতুন জায়গা খুঁজতে শুরু করেন। কিন্তু চাঁদের পাথুরে পৃষ্ঠে তেমন কোনও জায়গাও পাচ্ছিলেন না। এদিকে ইগলের জ্বালানিও ফুরিয়ে আসছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মাথা ঠান্ডা রেখে কাজ করে যান স্বল্পভাষী আর্মস্ট্রং। অলড্রিন হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘কন্ট্যাক্ট লাইট’। অর্থাৎ চাঁদের বুকে অবতরণ করেছে ইগল। এরপরই
আর্মস্ট্রং বার্তা পাঠান হিউস্টনে। নিয়ন্ত্রণকক্ষে তখন খুশির জোয়ার। ফিরতি বার্তায় নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্তা চার্লি ডিউক বলেন, ‘আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছিল। ধন্যবাদ তোমাদের, আমরা আবার শ্বাস নিতে পারছি।’
১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই দুই মার্কিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং ও এডউইন অলড্রিন পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদের বুকে পা রাখেন। এই অভিযানের কমান্ডার ছিলেন আর্মস্ট্রং। অভিযানের ছবি তোলার দায়িত্বেও ছিলেন তিনি। এডউইন অলড্রিন ছিলেন মহাকাশযানের পাইলট। চাঁদের কক্ষপথে পৌঁছে এই দু’জন অ্যাপোলো–১১ মহাকাশযানের লুনার মডিউল ঈগলে চেপে রওনা হন। মূল মহাকাশযানে থেকে যান আরেক নভোচারী মাইকেল কলিন্স। ১৯৫৮-এ প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার যে দিন সই করেছিলেন  ‘ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যাক্ট’-এ,  তার ১৮ বছর পর চাঁদের মাটিতে প্রথম পা পড়ল মানুষের। ঐতিহাসিক সেই  ‘অ্যাপোলো মোমেন্ট’। যা নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই। নাসার দাবি,  ১৬ জুলাই যাত্রা শুরু করে ২৪-এ চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিলেন আর্মস্ট্রংরা। কিন্তু আদৌ এমনটা ঘটেছিল, নাকি পুরোটাই স্টুডিয়োয় সাজানো? গোড়া থেকেই তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এসেছে রাশিয়া। এখনও তারা প্রশ্ন তোলে— চাঁদে পতাকা ওড়ে কীভাবে?  ছবিতে এত ছায়াপাত কীসের?  চাঁদের মাটিতে ভারী বুটের ছাপই বা পড়ল কীভাবে?  মহাকাশ নিয়ে দুই দেশের প্রতিযোগিতা কোন পর্যায়ে উঠেছিল, এ থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই-ই নয়, অ্যাপোলো-১১ মিশনের উৎক্ষেপের দিন তিনেক আগে,  ১৩ জুলাই সোভিয়েত চাঁদের বিভিন্ন এলাকার মাটি খুঁড়ে সংগ্রহ করার ও পৃথিবীতে নিয়ে আসার জন্য পাঠায় লুনা-১৫। লুনা-১৫ কিন্তু ঈগলের আগেই চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে। তবে বৃহত্তর স্বার্থে এবং ঈগলের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য সোভিয়েত লুনা ১৫-এর পরিকল্পনা আমেরিকাকে আগাম জানিয়ে দেয়। সোভিয়েতের কপাল মন্দ ছিল। চাঁদে অবতরণের সময় যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে লুনার শেষপর্যন্ত আর চাঁদে অবতরণ করা হয়নি, তা বিধ্বস্ত হয়ে চাঁদের জমিতে ছড়িয়ে পড়ে। লুনার এই ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইংল্যান্ডের মানমন্দিরের রেডিও-টেলিস্কোপটি রের্কড করেছিল। ২০০৯ সালে অ্যাপোলো ১১-র ৪০তম বার্ষিকীর সময় তা প্রকাশ করা হয়। সোভিয়েত যাই প্রচার করুক না কেন, অ্যাপোলো ১১-র সাফল্য আমেরিকাকে মহাশূন্য প্রতিযোগিতায় প্রথম সারিতে নিয়ে আসে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পাঠানো ইউরি গ্যাগারিনের প্রথম মহাকাশ পরিভ্রমণ যে আত্মশ্লাঘার সৃষ্টি করেছিল,  আর্মস্ট্রংয়ের চাঁদের বুকের প্রথম ছাপটি তার অনেকখানিই মসৃণ করে দেয়।
মই বেয়ে লুনার মডিউল ঈগল থেকে চাঁদের বুকে নামতে নামতে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘একজন মানুষের এই একটি পদক্ষেপ হবে মানবজাতির জন্য এক বিরাট অগ্রযাত্রা।’  সেই ছিল চাঁদের বুকে মানুষের প্রথম পদচিহ্ন আর মানবজাতির সেদিনের প্রমিথিউস ছিলেন নিল আর্মস্ট্রং। চাঁদের বুকে নিলের পা ফেলার মাধ্যমে মানুষ চাঁদকে জয় করেছিল। রূপকথার চাঁদ এসেছিল মানবজাতির পদতলে। ঠাণ্ডা যুদ্ধের সেই সময় চাঁদের বুকে মার্কিন পতাকার ছবিটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে তাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। আমেরিকা চাঁদে তাদের পতাকা উড়িয়ে জানান দিয়েছিল সামনের দিনগুলোতে শুধু দুনিয়া নয়, মহাশূন্যের নিয়ন্ত্রণও তারা নিতে চলেছে। চন্দ্র বিজয়ের পিছনের কারিগরদের অন্যতম নাসার বিজ্ঞানী ক্রিস ক্রাফট বলেছিলেন, ‘১৯৬১ সালে প্রেসিডেন্ট কেনেডি যখন আমাদের চাঁদকে জয় করার কথা বলেছিলেন,  তখন সেটা ছিল একেবারে অসম্ভব। কিন্তু আমরা সেটা সম্ভব করেছি,  আমেরিকা সেটা সম্ভব করেছে।’  পৃথিবী থেকে উৎক্ষেপণ এবং ফের পৃথিবীতে অবতরণ— এই মিশনটা সম্পূর্ণ হতে মোট সময় লেগেছিল ৮ দিন ৩ ঘণ্টা এবং ১৮ মিনিট। মানুষের চন্দ্রজয়ের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ৫০ বছর পূর্তি হচ্ছে এই বছর। আক্ষেপ একটাই,  বছর সাতেক আগেই মারা গিয়েছেন মিশন কমান্ডার নিল আর্মস্ট্রং। ২০ জুলাই আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশেই নানা আয়োজনে উদ্‌যাপন করা হবে মুহূর্তটিকে। কেনেডি স্পেস সেন্টারও উৎসবের মেজাজে।
চাঁদের বাতাস নেই, কিন্তু সেখানে নাকি একটা ঘ্রাণ আছে। মডিউলে ফেরার পর নিজের হেলমেট খুলে নিল আর্মস্ট্রং বলেছিলেন, ‘আমরা কেবিনে একটা নতুন ঘ্রাণ পাচ্ছিলাম। পরিষ্কারভাবেই বুঝতে পারছিলাম,  এটা আমাদের পোশাকে লেগে থাকা এবং নিয়ে আসা চাঁদের ধূলিকণার ঘ্রাণ।’  তাঁর কথায় এটা  ‘ভেজা ছাইয়ের গন্ধ’। আর তার সহযাত্রী বাজ অলড্রিনের মনে হয়েছিল এটা  ‘বাজি পোড়ানোর পর বাতাসে যে গন্ধ পাওয়া যায় সে রকম’। গত বছর চাঁদে মানুষের প্রথম পা রাখা, সেই অভিযানের ১৯ হাজার ঘণ্টার অডিও টেপ প্রকাশ করেছিল নাসা। মোট ১৯,০০০ ঘণ্টার এই কথোপকথন-কে ডিজিটালাইজড করে নিজেদের অনলাইন আর্কাইভে রেখেছে নাসা। যে কেউ সেই কথোপকথনের রেকর্ড শুনতে পারবেন। তাছাড়া চাঁদ থেকে যা কিছুই পৃথিবীতে আনা হয়েছিল তার সবই আমেরিকা সবাইকে গবেষণা করার সুযোগ করে দিয়েছে। একটি ব্যাগে নমুনা হিসেবে ২১.৫ কিলোগ্রাম চাঁদের মাটি এবং পাথর ভরে ফিরে এসেছিলেন তিন মহাকাশচারী। পরে জানা গিয়েছিল,  সেই ব্যাগটি হারিয়ে ফেলেছিল নাসা। তবে ২০১৩ সালে সেটির খোঁজ মেলে।
চন্দ্র বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে নাসা অ্যাপোলো মিশনের কন্ট্রোল সেন্টারটিকে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সেন্টার থেকেই অ্যাপোলো ১১-এর অভিযান নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। ১৯৯২ সালে এই সেন্টারটিকে নাসা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল। তারপর থেকে এখানে আর কোনও কাজ হয়নি। নাসার উদ্যোগে পাঁচ বছর ধরে এই সেন্টারটি সংস্কারের জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। দুই বছরের সংস্কার শেষে সাধারণ মানুষের জন্য সেন্টারটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। কেনেডি স্পেস সেন্টারে ১৭ মিনিটের শো। দেখানো হচ্ছে সে দিনের কাউন্ট ডাউন, ‘স্যাটার্ন ৫’-এর উৎক্ষেপণ, ‘অ্যাপোলো ১১’-এর দুষ্প্রাপ্য সব ছবি। মিউজ়িয়ামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,  গোটা উৎসব বিনামূল্যে দেখতে পাবেন সবাই। অনুষ্ঠানের নাম রাখা হয়েছে, ‘অ্যাপোলো ৫০: গো ফর দ্য মুন’। জনসন স্পেস সেন্টারের পরিচালক মার্ক গেয়ার বলেছেন, ‘৫০ বছর আগে আমাদের লক্ষ্য ছিল মানুষ চাঁদে যেতে পারে এবং নিরাপদে দুনিয়ায় ফিরতে পারে সেটা প্রমাণ করা। আর এখন আমাদের লক্ষ্য বসবাসের জন্য চাঁদে ফিরে যাওয়া।’
আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স গত মার্চেই নতুন চন্দ্রাভিযানের ঘোষণা করেছেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই মার্কিন মহাকাশচারীরা নতুন এই অভিযান সফল করে দেখাবেন বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। অনেকেই বলছেন, চাঁদ আসলে এখানে একটা উপলক্ষ্য। মূল লক্ষ্য, মহাকাশে আধিপত্য বিস্তার। পেন্সের কথাতেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়। গত ২৬ জানুয়ারি নতুন চন্দ্রাভিযানের কথা ঘোষণা করার সময় চীন ও রাশিয়াকে  ‘প্রতিপক্ষ’  আখ্যা দিয়ে পেন্স বলেছিলেন, ‘কোনও ভুল হওয়ার কথা নয় যে, আমরা মহাকাশে আজ লড়াইয়ে অবতীর্ণ, ঠিক যেমনটা ছিল ১৯৬০-এর দশকে।’
লড়াইটা এবার শুধু আমেরিকা-রাশিয়ার মধ্যেই নয়, চীনের সঙ্গেও!
19th  July, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
ফতেপুর, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): উত্তরপ্রদেশে একের পর এক ধর্ষণ এবং সেই সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবার সেই রাজ্যের ফতেপুর জেলার জাফরগঞ্জে ১৬ বছরের এক ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিল অভিযুক্তদের পরিবার। শীর্ষস্থানীয় পুলিস অফিসারদের কাছে ওই নাবালিকা এমনটাই অভিযোগ ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

 রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেইরেস চান, কোনও দেশের সরকারই যেন বিভেদমূলক আইন কার্যকর না করে। তবে, ভারতের লোকসভায় পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। ...

বিএনএ, আসানসোল: ডিসেম্বরের শুরুতে জাঁকিয়ে শীত না পড়লেও দুর্গাপুর ব্যারেজ সহ চিত্তরঞ্জনের নানা ঝিল ও মাইথন জলাধারে পরিযায়ী পাখির দল ভিড় জমাতে শুরু করেছে। বেশ কয়েক বছর আগে পরিযায়ী পাখির আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও ফের তাদের সংখ্যা বাড়ছে।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১১: রদ হল বঙ্গভঙ্গ
১৯১১: নতুন রাজ্য হল বিহার ও ওড়িশা
১৯১১: কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল দিল্লিতে
১৯৫০: অভিনেতা রজনীকান্তের জন্ম
১৯৫৭: পূর্ব রেলে ইএমইউ ট্রেনযাত্রা চালু
২০০৫: পরিচালক রামানন্দ সাগরের মূত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৪ টাকা ৭১.৭৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৭ টাকা ৯৪.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৫ টাকা ৮০.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/১৯ দিবা ১০/৪২। রোহিণী ০/২৮ দিবা ৬/২২। সূ উ ৬/১০/৪৫, অ ৪/৪৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪১ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৯ গতে ১/৯ মধ্যে।
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/৫৬/৫১ দিবা ১০/৫৯/৫। রোহিণী ২/৩৮/১৪ দিবা ৭/১৫/৩৯, সূ উ ৬/১২/২১, অ ৪/৪৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/২৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৪/৩৩ গতে ৬/১৩ মধ্যে, কালবেলা ২/১০/২১ গতে ৩/৩০/১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/১ গতে ১/১১/২১ মধ্যে।
১৪ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

04:54:33 PM

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে গ্রেপ্তার যুব কং কর্মীরা 
ই-মলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হল যুব কং কর্মীদের। আজ, ...বিশদ

04:43:00 PM

সেক্টর ফাইভে ভুয়ো ডেটিং সাইট খুলে প্রতারণা, মুম্বইতে গ্রেপ্তার ৩ অভিযুক্ত 

04:26:00 PM

১৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:01:36 PM

 অনশন উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের
 অবশেষে উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন। টানা ৩২ দিন ধরে আন্দোলন, যার ...বিশদ

04:00:00 PM

ক্যাব ইস্যুতে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে ব্যাপক বিক্ষোভ এলাকাবাসীদের 

03:34:21 PM