Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

পরিবারতান্ত্রিক সঙ্কট 
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ছবিটা খুব পরিচিত। নিজের দলের বিরুদ্ধেই ধর্নায় বসেছেন ইন্দিরা গান্ধী। ভাঙতে চলেছে কংগ্রেস। আর তার নেপথ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার সংঘাত। একদিকে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা। অন্যদিকে কামরাজ, মোরারজি দেশাই, তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি নিজলিঙ্গাপ্পা। ইন্দিরার উত্থান থেকে যে চাপা টেনশন তৈরি হয়েছিল, সেই চাপানউতোরের আগুনে ঘি ছড়ানোর কাজটা করেছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। ইন্দিরার পছন্দ ছিলেন উপ-রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি। অন্যদিকে কংগ্রেস চালানেওয়ালা, অর্থাৎ কামরাজ, নিজলিঙ্গাপ্পা, মোরারজি দেশাইদের প্রার্থী স্পিকার সঞ্জীব রেড্ডি। ইন্দিরা গান্ধী কখনওই চাননি সঞ্জীব রেড্ডি রাষ্ট্রপতি হোন। কারণ, সঞ্জীব রেড্ডি কংগ্রেস সভাপতি থাকার সময় থেকেই তাঁর সঙ্গে ইন্দিরার বরফ শীতল সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার সময় সঞ্জীব নেহরু-কন্যাকে দাঁড় করানোর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রবল আপত্তিও তুলেছিলেন। আসলে সঞ্জীব রেড্ডি মনে করতেন, জওহরলাল নেহরুর মেয়ে হওয়ার সুবাদে ইন্দিরা অযাচিতভাবে তাঁর উপর খবরদারি করেন। এমন এক ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি প্রজেক্ট করতে কখনওই চাননি ইন্দিরা। কিন্তু দলীয় চাপ এমন জায়গায় গিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী বাধ্য হয়েছিলেন সঞ্জীব রেড্ডির পক্ষে বিবৃতি জারি করতে। যদিও তলে তলে তিনি সমর্থন জুগিয়েছিলেন ভি ভি গিরিকে। শেষমেশ হয়েছিলও তাই। ইন্দিরার কলকাঠির জোরে হার স্বীকার করতে হয়েছিল সঞ্জীব রেড্ডিকে। আর সঙ্গে সঙ্গেই কংগ্রেসের অন্দরে ক্ষমতা প্রদর্শনের ইগোটা বেরিয়ে এল প্রকাশ্যে। আক্রমণ চলল খুল্লামখুল্লা। নিজলিঙ্গাপ্পার সভাপতিত্বে ইন্দিরা গান্ধীকে দল থেকে বহিষ্কার করল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি। ইন্দিরার অনুগামী কংগ্রেসিরাও পাল্টা সভা ডেকে দাবি তুললেন, আমাদের সঙ্গে অধিকাংশ আছেন। তাই আমরাই আসল কংগ্রেস। মানলেন না মোরারজি, কামরাজরা। সংসদীয় পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল প্রধানমন্ত্রীকে। দু’ভাগ হয়ে গেল কংগ্রেস। আদি কংগ্রেস এবং ইন্দিরা কংগ্রেস।
সেটা ছিল কংগ্রেসের আশাতীত এক সঙ্কট-মুহূর্ত। ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন এই রাজনৈতিক দলটিতে তখনও তাও একজন সভাপতি ছিল। কিন্তু আজ যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কংগ্রেস যাচ্ছে, তা অবশ্যই নজিরবিহীন। ইস্তফা দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। ওয়ার্কিং কমিটিকে তিনি জানিয়েছেন, আমার বদলি কাউকে খুঁজে বের করুন। দল অবশ্য প্রথমে দাবি করেছিল, সভাপতির ইস্তফা গ্রহণ করা হবে না। তাতে অবশ্য গোঁ ছাড়েননি রাহুল। লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় ফলাফলের দায় কাঁধে নিয়ে তিনি দায়িত্ব ছেড়েছেন। এবং সেটাও সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ এক পাতা লিখে।
প্রথমে আসা যাক ওই খোলা চিঠি প্রসঙ্গে। রাহুল গান্ধী লিখেছেন, বিজেপি বা একটি নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই ছিল না। তিনি এবং তাঁর দল যুদ্ধে নেমেছিলেন রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মেশিনারির বিরুদ্ধে। যেখানে বিরোধীদের কোমর ভাঙতে সর্বোতভাবে সরকারি মেশিনারিকে কাজে লাগানো হয়েছিল। তিনি পাশাপাশি দায়ী করেছেন নির্বাচন কমিশনকে। প্রশ্ন তুলেছেন কমিশনের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা নিয়ে। এখানে বেশ কিছু প্রশ্ন আসে। বিজেপির বিরুদ্ধে না হলে রাহুল গান্ধীর লড়াই কার বিরুদ্ধে ছিল? তিনি বলেছেন, ভারতকে নরেন্দ্র মোদি যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন, সেই ধারণার বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই। গণতন্ত্রকে মোদি যেভাবে করায়ত্ত করছেন, দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করছেন, কংগ্রেসের লড়াই ছিল সেই প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে। কংগ্রেস যা মানে না। তাহলে ইন্দিরা গান্ধী ভারতে যে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, তা কি অন্য কোনও দলের প্রতিনিধি হিসেবে? কংগ্রেসের নয়? বছরের পর বছর কংগ্রেস তথা অন্য শাসক দল সরকারি মেশিনারি ব্যবহার করে ভোটে যে সব সুবিধা নিয়ে এসেছে, সেটা তাহলে কী? একটা কথা মনে রাখা খুব প্রয়োজন। নির্বাচনে অল্পবিস্তর সুবিধা সব শাসক দলই নিয়ে থাকে। কিন্তু তা কখনওই নির্ণায়ক হতে পারে না। রিগিং করে মার্জিনাল কিছু আসনের ভাগ্য ঘুরিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু ৩৫৩টি আসন দখল করা যায় না। আর বাকি রইল নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। ভোটে দলীয় ব্যর্থতার জন্য কমিশনকে দায়ী করার অর্থই হল সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করা। যদি সরকারি মেশিনারি কাজে লাগিয়েই বিজেপি জয়ের ধারা বজায় রাখত, তাহলে কয়েক মাস আগে রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস গেরুয়া শিবিরকে এমন ঝটকা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারত না। সেই সময় তো ইভিএম বা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি? বা একটা সময় যখন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা কংগ্রেসি নেতা-মন্ত্রীদের গাড়িতে ঘুরতেন, সেই সময়ের প্রসঙ্গও তো টানা হয়নি! রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেসের কেন এটা মেনে নিতে অসুবিধা হচ্ছে যে, নরেন্দ্র মোদির প্রতিপক্ষ হিসেবে সোনিয়া-তনয় মোটেই ধোপে টিকতে পারেননি। লোকসভা ভোট প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের। এই দু’জনের মধ্যে একজনকে যদি বেছে নেওয়ার দায়িত্ব ভোটারকে দেওয়া হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে মোদি এগিয়ে যাবেন। কংগ্রেস তথা বিরোধীদের আশা-ভরসা ছিল প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোট। মোদির মিসঅ্যাডভেঞ্চারমূলক সংস্কারের বিরুদ্ধে মানুষ যদি ভোট দেন। যদিও তা হয়নি। এবং তারপর থেকেই রাহুল গান্ধী দায় স্বীকার করে পালাতে পারলে বাঁচেন। তিনি যে আগে আঁচ পাননি, সেই দাবিও করা যায় না! কারণ, অতটাই নিশ্চিত হলে রাহুল আমেথির পাশাপাশি ওয়ানাড় থেকেও প্রার্থী হতেন না। স্মৃতি ইরানির কাছে আমেথিতে পর্যুদস্ত হয়েছেন রাহুল। আর সার্বিক বিপর্যয়ের পর দায়িত্ব থেকে ছুটি চাইছেন তিনি। এমন একটা সময়ে, যখন কংগ্রেসের একজন সত্যিকারের নেতা প্রয়োজন। যিনি দলকে এই ভরাডুবির পর তুলে ধরতে পারবেন।
অর্থাৎ এই ঘটনার পর অদ্ভুত একটা সঙ্কট তৈরি হয়েছে দলে। ওয়ার্কিং কমিটি থাকলেও যেহেতু কংগ্রেসে সভাপতি বলে এখন কেউ নেই, অনেক কিছুই এই জাঁতাকলে আটকে গিয়েছে। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, সোমেন মিত্ররা পদত্যাগ করার ইচ্ছে জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কাকে উদ্দেশ করে? সভাপতি? তাঁর চেয়ারই তো ফাঁকা! তাহলে সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করবে কে? ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক যতদিন না বসছে, ততদিন রাহুল গান্ধীকে সামনে রেখেই বিভিন্ন প্রদেশ কমিটি গঠন কিংবা নিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস। অবশ্যই তার প্রধান কারণ হল, উত্তরসূরির খোঁজ নেই। সোনিয়া গান্ধী অসুস্থতার জন্য আর দায়িত্ব নেবেন না। প্রিয়াঙ্কা উত্তরপ্রদেশে ভরাডুবির পর দায়িত্ব থেকে পালাতে পারলে বাঁচেন। আর তাই রাহুল গান্ধী নিজে বলছেন গান্ধী পরিবারের বাইরে কাউকে কংগ্রেস সভাপতি করার কথা। অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদি কিছুটা হলেও উল্লসিত হতে পারেন, কংগ্রেস পরিবারতন্ত্রের হাত থেকে বেরচ্ছে। রাহুল গান্ধী বলেছেন, রীতিমতো নির্বাচন করে যেন সভাপতি ঠিক করা হয়। কেমন নির্বাচন? যেমন ১৯৩৮ সালে হরিপুরা কংগ্রেসে হয়েছিল?
এখানেও কিন্তু একটা প্রশ্নচিহ্ন রয়েছে। সেই সময় মহাত্মা গান্ধী নিজেকে কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন। মন দিয়েছিলেন হরিজনদের উন্নতি সাধনে। আর কংগ্রেস ভাগ হয়ে গিয়েছিল নেহরুপন্থী এবং সুভাষপন্থীতে। জওহরলাল নেহরু রক্ষণশীল এবং সুভাষচন্দ্র বসু কট্টরপন্থী। কিন্তু সুভাষচন্দ্র বসু তাঁর জনপ্রিয়তায় ভর করেই কংগ্রেস সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। আর তারপরই সরাসরি ব্রিটিশ রাজত্বের বিরুদ্ধে আক্রমণে নেমে পড়েন। ব্রিটেন যেভাবে ভারতকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যে টেনে আনছিল, সুভাষ ছিলেন তার ঘোর বিরোধী। তিনি চেয়েছিলেন, ব্রিটেনে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তার সুযোগ নিতে। সেই কারণে ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়ার ব্যাপারে ব্রিটেনকে ছ’মাসের চূড়ান্ত সময়সীমা দিয়ে তিনি একটি রেজল্যুশন পাশ করিয়েছিলেন। যা গান্ধীজির পছন্দ হয়নি। এরপর ছিল ত্রিপুরি কংগ্রেস। সেখানে গান্ধীজি সুভাষ বসুর বিরুদ্ধে পট্টভি সীতারামাইয়াকে প্রার্থী দাঁড় করান। তার আগে গান্ধীজি অবশ্য জওহরলাল এবং মৌলানা আবুল কালাম আজাদকে সভাপতি পদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে বলেছিলেন। দু’জনেই গান্ধীজির সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। এতকিছু সত্ত্বেও সুভাষেরই জয় হয়। কিন্তু তারপরই গান্ধীজি বিবৃতি দেন, এই হার পট্টভি সীতারামাইয়ার নয়। এই পরাজয় তাঁর নিজের। এমনকী নিজের লোক দিয়ে যাতে সুভাষ বসু ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেন, সেই পরামর্শও দেন গান্ধীজি। কংগ্রেস দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়।
সুভাষ সভাপতি হয়তো হয়েছিলেন, কিন্তু সেই অর্থে তাঁর ক্ষমতা ছিল না। প্রবল সমালোচনা সহ্য করে যখন অসুস্থ সুভাষকে স্ট্রেচারে চেপে ত্রিপুরি অধিবেশনে আসতে হয়েছিল, তখন পাশ থেকে মন্তব্য ভেসে আসে... ‘বগলের নীচে পেঁয়াজ রেখে জ্বর বাধাননি তো?’ খুব বেশিদিন আর সভাপতি থাকেননি সুভাষ। পদত্যাগ করেছিলেন। বা ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
গান্ধী-নেহরু পরিবারের বাইরের কেউ আজ যদি সভাপতি হন, তাহলে তাঁর অবস্থা সুভাষ বসুর মতো হবে না তো? এটাই হল লাখ টাকার প্রশ্ন। ইতিহাস বলছে, কংগ্রেসের যে সভাপতি গান্ধী-নেহরু পরিবারের ঘনিষ্ঠ নন, দলে তাঁর ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ অনায়াস হয়নি। বরং তাঁকে সরাসরি ‘যুদ্ধে’ অবতীর্ণ হতে হয়েছে। এবার প্রশ্ন হল, ‘পরিবারের’ বাইরে থেকে আসা সভাপতিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিলেই কি কংগ্রেস তার হৃত গৌরব ফিরে পাবে?
মোরারজি দেশাই, নিজলিঙ্গাপ্পা, কামরাজকে হার স্বীকার করতে হয়েছিল ইন্দিরা কংগ্রেসের কাছে। ইন্দিরা গান্ধী যে দাপট নিয়ে একের পর এক নির্বাচনে জয় পেয়েছিলেন, তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার দিকে ঠেলে দিয়েছিল আদি কংগ্রেসকে। ১৯৭১ সালের লোকসভা নির্বাচনে ‘সিন্ডিকেটের’ আদি কংগ্রেস পেয়েছিল মাত্র ১০ শতাংশ ভোট। আর ১৬টি আসন। সেখানে ইন্দিরা কংগ্রেসের দখলে ৩৫২টি আসন এবং ৪৪ শতাংশ ভোট। ’৭৭ সালের নির্বাচনে আদি কংগ্রেসের ভোট শতাংশ অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বছর তিনেকের মধ্যেই ইন্দিরা কংগ্রেস হয়ে উঠেছিল ‘আসল’ কংগ্রেস। এর দু’টি অর্থ। প্রথমত, কংগ্রেস নয়, নেহরু-গান্ধী পরিবারে আস্থা রেখেছিলেন ভোটাররা। এবং দ্বিতীয়ত, কংগ্রেসের যাঁরা পূর্ণ কর্মী এবং সমর্থক, তাঁরাও নেতৃত্বে এমন কাউকে চেয়েছিলেন, যাঁর ক্যারিশমায় মানুষ ভোটবাক্সে নিজেদের মতামত উজাড় করে দেবে। নয়ের দশকে যে সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে দল যাচ্ছিল, সোনিয়া গান্ধী দায়িত্ব নেওয়ার পরই কিন্তু ধীরে ধীরে তার থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে কংগ্রেস। ধীরে ধীরে কেন? বিদেশিনী সহ আরও বহু ইস্যুতে সেই মুহূর্তে বিদ্ধ ছিলেন সোনিয়া। তাঁকেও এই দেশের রাজনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবকিছু গুছিয়ে নিতে হয়েছে। সেই সময়টুকু নিয়েছিলেন সোনিয়া। তারপর অটলবিহারী বাজপেয়ির বিজেপি সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ক্ষমতায় এসেছিল ইউপিএ। ২০০৪ সালে। তখন কংগ্রেসের আসন সংখ্যা ছিল ১৪৫। শরিকদের ম্যানেজ করে ১০ বছর শাসন করেছিল কংগ্রেস।
নরেন্দ্র মোদি বিলক্ষণ জানেন, কংগ্রেসের জিয়নকাঠি লুকিয়ে আছে ওই পরিবারেরই অন্দরে। কাজেই যদি কংগ্রেস-মুক্ত ভারত গঠন করতে হয়, তাহলে সবার আগে শেষ করতে হবে ‘পরিবার’কে। রাহুল গান্ধী নিজেকে নেতৃত্বের সেই স্তরে নিয়ে যেতে পারেননি। মোদি তাই গুরুত্ব দিচ্ছেন নরসিমহা রাও, মনমোহন সিংদের। আজ বাদে কাল যদি মনমোহন সিংকে তিনি ভারতরত্নের জন্য মনোনীত করেন, তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অর্থাৎ শতাব্দীপ্রাচীন দলের ভিতে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা। কংগ্রেস কিন্তু এরপরও নেতা খুঁজবে সেই পরিবারের মধ্যে থেকেই। এবং কোনওদিন হয়তো ঘুরেও দাঁড়াবে। কারণ, কংগ্রেস কোনও সাদামাটা রাজনৈতিক দল নয়। কংগ্রেস একটা ব্র্যান্ড। যার কোনও বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন আজও নেই। 
16th  July, 2019
এনকাউন্টার, আইন এবং ন্যায়বিচার
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

জাস্টিস ইজ ডান। নীচে একটা স্মাইলি... প্ল্যাকার্ডে লেখা বলতে শুধু এটাই। কোনও কায়দা নেই। নেই রাজনীতির রং। নেহাতই সাদা কাগজে মোরাদাবাদের স্কুলের ছাত্রীদের হাতে লেখা কাগজগুলো বলছে, এবার হয়তো আমরা নিরাপদ হব।
বিশদ

10th  December, 2019
আর ক’জন ধর্ষিতা হলে রামরাজ্য পাব
সন্দীপন বিশ্বাস 

রাত অনেক হল। মেয়েটি এখনো বাড়ি ফেরেনি। কোথাও আটকে গিয়েছে। অনেক লড়াই করে, পুরুষের সঙ্গে পাশাপাশি ঘাম ঝরিয়ে তাকে বেঁচে থাকতে হয়। বাড়িতে বাবা-মা অস্থির হয়ে ওঠেন।  বিশদ

09th  December, 2019
অর্থনীতিবিদদের ছাড়াই অর্থনীতি
পি চিদম্বরম

প্রত্যেকেই অর্থনীতিবিদ। যে গৃহবধূ পরিবার সামলানোর বাজেট তৈরি করেন, তাঁকে থেকে শুরু করে একজন ডেয়ারি মালিক যিনি দুধ বিক্রির জন্য গোদোহন করেন এবং একজন ছোট উদ্যোগী যিনি বড় নির্মাণ ব্যবসায়ীর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি করেন, সকলেই এই গোত্রে পড়েন।  বিশদ

09th  December, 2019
বাজার আগুন, বেকারত্ব লাগামছাড়া,
শিল্পে মন্দা, সরকার মেতে হিন্দুরাষ্ট্রে
হিমাংশু সিংহ

 দেশভাগ, শরণার্থীর ঢল, বার বার ভিটেমাটি ছাড়া হয়ে উদ্বাস্তু হওয়ার তীব্র যন্ত্রণা আর অভিশাপের মাশুল এই বাংলা বড় কম দেয়নি। ইতিহাস সাক্ষী, সাবেক পূর্ববঙ্গের শত শত নিরাশ্রয় মানুষকে নিজের বুকে টেনে নিতে গিয়ে প্রতি মুহূর্তে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন সঙ্কট। বদলে গিয়েছে গোটা রাজ্যের জনভিত্তি।
বিশদ

08th  December, 2019
বাঙালি হিন্দু উদ্বাস্তুর প্রাপ্য অধিকার
জিষ্ণু বসু

 কয়েকদিন আগেই রাজ্যসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কথা বলেছেন। চলতি অধিবেশনেই হয়তো পাশ হবে ঐতিহাসিক নাগরিকত্ব সংশোধনী। এটি আইনে রূপান্তরিত হলে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে আসা হিন্দু, জৈন, বৌদ্ধ, শিখ, খ্রিস্টান ও পারসিক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এদেশের পূর্ণ নাগরিকত্ব পাবেন।
বিশদ

08th  December, 2019
কর্পোরেটদের যথেষ্ট সুবিধা দিলেও অর্থনীতির বিপর্যয় রোধে চাহিদাবৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ
দেবনারায়ণ সরকার

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘ক্ষণিকা’ কাব্যগ্রন্থে ‘বোঝাপড়া’ কবিতায় লিখেছিলেন, ‘ভালো মন্দ যাহাই আসুক সত্যেরে লও সহজে।’ কিন্তু কেন্দ্রের অন্যান্য মন্ত্রীরা থেকে শুরু করে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ভারতীয় অর্থনীতির চরম বেহাল অবস্থার বাস্তবতা সর্বদা চাপা দিতে ব্যস্ত। 
বিশদ

07th  December, 2019
অণুচক্রিকা বিভ্রাট
শুভময় মৈত্র

সরকারি হাসপাতালে ভিড় বেশি, বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় সুবিধে হয়তো কম। তবে নিম্নবিত্ত মানুষের তা ছাড়া অন্য কোনও পথ নেই। অন্যদিকে এটাও মাথায় রাখতে হবে যে রাজ্যে এখনও অত্যন্ত মেধাবী চিকিৎসকেরা সরকারি হাসপাতালে কাজ করেন। 
বিশদ

06th  December, 2019
সার্ভিল্যান্স যুগের প্রথম পরীক্ষাগার উইঘুর সমাজ
মৃণালকান্তি দাস

চীনের সংবাদ মানেই তো যেন সাফল্যের খবর। সমুদ্রের উপর ৩৪ মাইল লম্বা ব্রিজ, অতিকায় যাত্রী পরিবহণ বিমান তৈরি, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নয়া উদ্ভাবন, চাঁদের অপর পিঠে অবতরণ...। মিহিরগুল তুরসুনের ‘গল্প’ সেই তালিকায় খুঁজেও পাবেন না। ১৪১ কোটি জনসংখ্যার চীনে মিহিরগুল মাত্র সোয়া কোটি উইঘুরের প্রতিনিধি। 
বিশদ

06th  December, 2019
আর ঘৃণা নিতে পারছে না বাঙালি
হারাধন চৌধুরী

 এটাই বোধহয় আমার শোনা প্রথম কোনও ছড়া। আজও ভুলতে পারিনি। শ্রবণ। দর্শন। স্পর্শ। প্রথম অনেক জিনিসই ভোলা যায় না। জীবনের উপান্তে পৌঁছেও সেসব অনুভবে জেগে থাকে অনেকের। কোনোটা বয়ে বেড়ায় সুখানুভূতি, কোনোটা বেদনা। এই ছড়াটি আমার জীবনে তেমনই একটি। যখন প্রথম শুনেছি তখন নিতান্তই শিশু। বিশদ

05th  December, 2019
আগামী ভোটেও বিজেপির গলার কাঁটা এনআরসি
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী

রাজ্যের তিন বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির বিপর্যয় বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যখন ওই প্রার্থীদের পরাজয়ের ব্যাপারে সকলেই একবাক্যে এনআরসি ইস্যুকেই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তখনও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনআরসিতে অটল। তিন বিধানসভা কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পর আবারও অমিত শাহ এনআরসি কার্যকর করবার হুংকার ছেড়েছেন।  
বিশদ

03rd  December, 2019
সিঁদুরে মেঘ ঝাড়খণ্ডেও
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একটা কথা বেশ প্রচলিত... এদেশের ভোটাররা সাধারণত পছন্দের প্রার্থীকে নয়, অপছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে থাকেন। ২০১৪ সালে যখন নরেন্দ্র মোদিকে নির্বাচনী মুখ করে বিজেপি আসরে নামল, সেটা একটা বড়সড় চমক ছিল। 
বিশদ

03rd  December, 2019
আচ্ছে দিন আনবে তুমি এমন শক্তিমান!
সন্দীপন বিশ্বাস

আমাদের সঙ্গে কলেজে পড়ত ঘন্টেশ্বর বর্ধন। ওর ঠাকুর্দারা ছিলেন জমিদার। আমরা শুনেছিলাম ওদের মাঠভরা শস্য, প্রচুর জমিজমা, পুকুরভরা মাছ, গোয়ালভরা গোরু, ধানভরা গোলা সবই ছিল। দেউড়িতে ঘণ্টা বাজত। ছিল দ্বাররক্ষী। কিন্তু এখন সে সবের নামগন্ধ নেই। ভাঙাচোরা বাড়ি আর একটা তালপুকুর ওদের জমিদারির সাক্ষ্য বহন করত। 
বিশদ

02nd  December, 2019
একনজরে
ফতেপুর, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): উত্তরপ্রদেশে একের পর এক ধর্ষণ এবং সেই সংক্রান্ত অপরাধের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এবার সেই রাজ্যের ফতেপুর জেলার জাফরগঞ্জে ১৬ বছরের এক ধর্ষিতাকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিল অভিযুক্তদের পরিবার। শীর্ষস্থানীয় পুলিস অফিসারদের কাছে ওই নাবালিকা এমনটাই অভিযোগ ...

 রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ১১ ডিসেম্বর (পিটিআই): রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেইরেস চান, কোনও দেশের সরকারই যেন বিভেদমূলক আইন কার্যকর না করে। তবে, ভারতের লোকসভায় পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল সম্পর্কে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। ...

 ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা ক্রীড়াঙ্গণে অস্থায়ীভাবে ক্রিকেট পিচ করা হল। শহরের ক্রিকেট খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্যই অস্থায়ীভাবে এই পিচ করেছে শিলিগুড়ি মহকুমা ক্রীড়া পরিষদ। স্টেডিয়াম থেকে ক্রিকেট খেলা চাঁদমনির মাঠে স্থানান্তর করার পর অনেক অসুবিধায় পড়তে হয় শিলিগুড়ি ক্রিকেট খেলোয়াড়দের।   ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

আত্মবিশ্বাস এত বৃদ্ধি পাবে যে, কোনও কাজই কঠিন মনে হবে না। সঞ্চয় বেশ ভালো হবে। ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯১১: রদ হল বঙ্গভঙ্গ
১৯১১: নতুন রাজ্য হল বিহার ও ওড়িশা
১৯১১: কলকাতা থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হল দিল্লিতে
১৯৫০: অভিনেতা রজনীকান্তের জন্ম
১৯৫৭: পূর্ব রেলে ইএমইউ ট্রেনযাত্রা চালু
২০০৫: পরিচালক রামানন্দ সাগরের মূত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭০.০৪ টাকা ৭১.৭৪ টাকা
পাউন্ড ৯১.৪৭ টাকা ৯৪.৮০ টাকা
ইউরো ৭৭.১৫ টাকা ৮০.১৩ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৮,২৭৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৬,৩১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩৬,৮৬০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৪৩,৬০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৪৩,৭০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/১৯ দিবা ১০/৪২। রোহিণী ০/২৮ দিবা ৬/২২। সূ উ ৬/১০/৪৫, অ ৪/৪৯/১৯, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৫ মধ্যে পুনঃ ১/১৬ গতে ২/৪১ মধ্যে। রাত্রি ৫/৪২ গতে ৯/১৬ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৬ গতে ৩/৩০ মধ্যে পুনঃ ৪/২৪ গতে উদয়াবধি, বারবেলা ২/১০ গতে অস্তাবধি, কালরাত্রি ১১/২৯ গতে ১/৯ মধ্যে।
২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, পূর্ণিমা ১১/৫৬/৫১ দিবা ১০/৫৯/৫। রোহিণী ২/৩৮/১৪ দিবা ৭/১৫/৩৯, সূ উ ৬/১২/২১, অ ৪/৪৯/৪১, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪৭ মধ্যে ও ১/২৩ গতে ২/৪৮ মধ্যে এবং রাত্রি ৫/৪৮ গতে ৯/২৩ মধ্যে ও ১২/৪ গতে ৩/৩৯ মধ্যে ও ৪/৩৩ গতে ৬/১৩ মধ্যে, কালবেলা ২/১০/২১ গতে ৩/৩০/১ মধ্যে, কালরাত্রি ১১/৩১/১ গতে ১/১১/২১ মধ্যে।
১৪ রবিয়স সানি

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
অযোধ্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

04:54:33 PM

সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে গ্রেপ্তার যুব কং কর্মীরা 
ই-মলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হল যুব কং কর্মীদের। আজ, ...বিশদ

04:43:00 PM

সেক্টর ফাইভে ভুয়ো ডেটিং সাইট খুলে প্রতারণা, মুম্বইতে গ্রেপ্তার ৩ অভিযুক্ত 

04:26:00 PM

১৬৯ পয়েন্ট উঠল সেনসেক্স 

04:01:36 PM

 অনশন উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের
 অবশেষে উঠল পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন। টানা ৩২ দিন ধরে আন্দোলন, যার ...বিশদ

04:00:00 PM

ক্যাব ইস্যুতে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে ব্যাপক বিক্ষোভ এলাকাবাসীদের 

03:34:21 PM